আমল কবুলের জন্য সহিহ আকিদার গুরুত্ব
আমল কবুলের জন্য সহিহ আকিদার গুরুত্ব
____________________
কিতাবঃ আমল কবুলের জন্য সহিহ আকিদার গুরুত্ব।
✍ গ্রন্থনায়ঃ মাসুম বিল্লাহ সানি
[লেখক, সংকলক, অনুবাদক]
স্টুডেন্টঃ MBBS, [🌎 ব্লগার, ইসলামী-বিশ্বকোষ]
(০১৭১০৩৫৫৩৪২)
প্রথম প্রকাশকালঃ ১০.০১.২০
প্রকাশনায়ঃ সাইবার টিম
কপিরাইট © লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত।
উৎসর্গঃ
পীরে কামেল, আওলাদে রাসূল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ (মা.জি.আ.)।
সূচীপত্রঃ
❏ প্রারম্ভিকা
❏ আক্বিদার পরিচিতি
❏ ইবাদত কবুলে আক্বাঈদের গুরুত্ব
❏ ঈমানবিহীন আমল মূল্যহীন
❏ যাদের ভক্তিতে মুক্তি মিলে
❏ আল-আউলিয়া
➥ আক্বিদা রক্ষায় অলীগণের সোহবত
➥ অলীগণের সান্নিধ্য লাভের নির্দেশ
➥ আল-কুরআনের আলোকে শানে আউলিয়া
➥ আউলিয়ায়ে কেরামের শান
➥ আল্লাহর অলীদের কিভাবে চেনা যায়?
➥ অলীগণের উসীলা ও ইস্তিগাসাঃ সাহায্য প্রার্থনার শরয়ী বিধান
➥ অলীগণের স্মরণ
➥ অলীগণের কোন ভয় নেই, তারা সফলকাম
➥ অলীগণের সুপারিশে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ
❏ আক্বিদা রক্ষায় বায়াতের তাৎপর্য
❏ আক্বিদা রক্ষায় ইলমের তাৎপর্য
❏ দ্বীনকে খন্ড-বিখন্ডিত না করা
❏ যা আঁকড়ে ধরলে পথভ্রষ্ট হবে না।
❏ যাদের প্রতি ভালবাসা ঈমানের অঙ্গ।
❏ আহলে বাইআত মুক্তির দিশারী, ইমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
লেখক পরিচিতি
____________________
লেখক পরিচিতিঃ
তরুণ লেখক মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ সানি, ২০১৫ সাল থেকে অনলাইন এক্টিভিটিস্ট হিসেবে সুন্নি-বিশ্বকোষ/ ইসলামী বিশ্বকোষ নামক ওয়েবসাইট চালু করেন। অতঃপর অনলাইনে আহলে সুন্নাতের সঠিক আকিদা প্রচারে সুন্নি সাইবার টিম গঠন করে এক ঝাঁক তরুণ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। সুন্নি সাইবার টিমের মাধ্যমে এপ্স, পি.ডি.এফ, ব্লগিংসহ অন্যান্য কাজ করে যাচ্ছেন। ধর্মীয় গবেষণার পাশাপাশি MBBS কোর্সে অধ্যয়ণরত আছেন।
মসলকে আ'লা হযরতের অনুসারী। পীরে কামেল, আওলাদে রাসূল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ (মা.জি.আ.) এর নিকট বায়াত গ্রহণ করে তরিকায়ে কাদরীয়াতে দাখিল হন।
————————————
প্রারম্ভিকা
____________________
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
কিতাবঃ আমল কবুলের জন্য সহিহ আকিদার গুরুত্ব।
প্রারম্ভিকাঃ
══════
❏ "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম।" ➠ [সূরা মায়িদাহ্ঃ আয়াত ৩]
দ্বীন ইসলাম হক্ব, পরিপূর্ণ। এর শরীয়ত সুস্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট। যাকিছু ছিল, যাকিছু বর্ধিত হবে তা সর্বদা শরীয়তের উপরই প্রতিষ্ঠিত। এতে সংযোজন কিংবা বিয়োজনের কোন উপায় নেই। ঈমান-আমল হল সফলতার সিঁড়ি।
❏ "আমি জ্বীন ও ইনসানকে সৃষ্টি করেছি শুধুমাত্র আমার ইবাদতের জন্য। ➠[সূরা আয-যারিয়াতঃ ৫১:৫৬]
আর সেই ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হল বিশুদ্ধ আক্বিদা।
❏ "দুনিয়া হল আখিরাতের শস্যক্ষেত্র।"
এই সারমর্মের সাথে মিল রেখে দুটি হাদিস।
i) “হজরত জারির (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
যারা দুনিয়াতে কঠোর পরিশ্রম করবে তারা আখেরাতে উপকার লাভ করবে।”
➠তথ্যসূত্রঃ
১.ইমাম তাবারানী: মুজামুল কবীর, হাদিস নং ২২৭১;
২.ইমাম বায়হাকী: আল আদাবু, হাদিস নং ৮১৩;
৩.ইমাম বায়হাক্বী: যুহুদুল কবীর, হাদিস নং ৪৬৬;
৪.ইমাম ছিয়তী: ফাতহুল কবীর, হাদিস নং ১২৪৩০;
৫.হাফিজ ইবনে কাছির: জামেউল মাসানিদ ওয়াস সুনান, হাদিস নং ১৭৮২;
৬.ইমাম হিন্দী: কানজুল উম্মাল, হাদিস নং ৪৩০৫২।
ii) অপর রেওয়াতে আছে,
হজরত ইবনে উমর (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত আছে:
"দুনিয়া আখেরাতের সেতু, তােমরা ইহা অতিক্রম কর।”
➠তথ্যসূত্রঃ
১.মুসনাদে ফেরদৌস, হাদিস নং ৩১০২;
২.হাফিজ ইরাকী: তাখরিজু আহাদিসুল এহইয়া, হাদিস নং ৩;
৩.ইমাম ছাখাবী: মাকাছিদুল হাছানাহ, হাদিস নং ৪৯৭;
৪.তাখরিজু আহাদিসে এহইয়ায়ে উলুমুদ্দিন, হাদিস নং ৭০
সুতরাং সে শস্যক্ষেত্রকে সুসজ্জিত করতে না পারলে সবকিছুই ব্যর্থতার গ্লানিতে পর্যবসিত হবে। কবির ভাষায়ঃ
"যেদিন তুমি এসেছিলে ভবে,
কেঁদেছিলে তুমি হেসেছিল সবে।
এমন জীবন তুমি করিবে গঠন,
মরণে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভূবন!
আক্বিদার পরিচিতি
____________________
আক্বিদার পরিচিতিঃ
════════════
আক্বিদা অর্থঃ
❏ "ধারণ করা, মজবুত করণ, দৃঢ়ভাবে বন্ধন, বহুবচন আকাঈদ।"
➠[ইবনে ফারিসঃ মু'জামু মাকায়িসিল লুগাহ, ৪/৮৬পৃ.]
আক্বিদার সংজ্ঞাঃ
❏ "আক্বিদা এমন বিধি-বিধান যা কোন বিশ্বাসী সন্দেহব্যতীত বিশ্বাস করে।"
➠[ড. ইবরাহিম আনীসঃ আল-মুজাম আল-ওয়াসীত, ২/৬১৪পৃ.]
❏ “ধর্ম হিসেবে মানুষের নিকট যা গৃহীত হয় তাই ‘আক্বিদা'।➠[আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-ফাউমীঃ আল-মিসবাহুল মুনীর, ২/৪২১পৃ]
ইবাদত কবুলে আক্বাঈদের গুরুত্ব
____________________
ইবাদত কবুলে আক্বাঈদের গুরুত্বঃ
═══════════════
ঈমান, আমল ও নিয়্যত পরিশুদ্ধ হলেই ইবাদত কবুল হবে, অন্যথ্যায় সব বৃথা।
❏ "তােমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করাে না।"
➠[সূরা আলে ইমরান, ৩:১০২]
❏ "তােমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ কর।"
➠[সূরা আল-বাকারা, ২:২০৮]
কিছু উপমার মাধ্যমে বুঝিয়ে দেয়া যাক। ➡
◾আহলুস-সুন্নাহর ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে সুদৃঢ় দুর্গের ন্যায়। যার হেফাযতকারী স্বয়ং আল্লাহ (ﷻ)। পক্ষান্তরে আকিদাভ্রষ্টের আমল হল ভিত্তিহীন কোন এক ইমারতের ন্যায়। যার কোন ভিত্তি নেই, তার মূলত অস্তিত্ব নেই। তা কেবল ধূসর মরুভূমির মরিচীকার ন্যায়।
◾অথবা, কোন ব্যক্তি তার সমগ্র জীবনে যাকিছু সঞ্চয় করল তা এমন এক প্রজ্জ্বলিত আগ্নেয়গিরিতে নিক্ষেপ করল, যেখানে সে কয়লা ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট পেল না।
"কোন তলাবিহীন থলি,
হয় কি কভু সঞ্চয়ের ঝুলি?"
✍ [এম.বি.সানি]
❏ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) সূত্রে বর্ণিত,
রাসূল (ﷺ) মুয়াজ বিন জাবাল (رضي الله عنه) কে দ্বীনের দাওয়াত দিতে ইয়ামেনে পাঠানোর সময় নির্দেশ দেন, "সর্বপ্রথম ঈমানের প্রতি তারপর আমলের প্রতি আহ্বান করবে।"
➠[[ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ৯/১১৪পূ, হা/৭৩৭]
যারা ইমান এনে আমল করেছে তারাই সফলকাম হবে।
এ মর্মে বর্ণিত আয়াত সমূহঃ
১.সূরা তীন : ৫-৭।
২.সূরা বাকারাহ : ২৫।
৩.সূরা বাকারা : ৮২।
❏ আল্লাহ তা’আলা মু'মিনদেরকে বলবেন।
"যাদের অন্তরে এক দীনার কিংবা অর্ধ দীনার কিংবা অণু পরিমাণ ঈমান থাকবে, তারাও জাহান্নাম থেকে মুক্ত পাবে।" ➠[সহিহ মুসলিম, হাদীস নং-৬৫৪৩,৬৫৫৪]
তাই তো যেকোন মৃত্যু পথযাত্রী ১মিনিট পূর্বেও অন্তিম স্বাদের স্বপ্ন বুনে শেষ মুহূর্তে যেন সে কালেমা পড়ে ইমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারে।
বিশুদ্ধ আক্বিদা ব্যতীত কোন কিছুই কবুল হবে না। ইহা কিছু উপমার মাধ্যমে বলা যেতে পারে।
"আর এসব দৃষ্টান্ত আমি মানুষের জন্য পেশ করি, জ্ঞানীরা ছাড়া কেউ তা উপলুব্ধি করে না।"
➠[সূরা আনকাবুত, আয়াত ৪৩]
এজন্যই আল্লাহ (ﷻ) কুরআনেও বিভিন্ন স্থানে উপমা দিয়েছেন। ➠ যেমনঃ
উপমা তুলে ধরার নির্দেশঃ
১.সূরা ইয়াসিন : ১৩
২.সূরা ইউনুস : ২৪
জ্ঞানীদের জন্যই উপমাঃ
১.আল আনকাবুত : ৪৩
২.সূরা ইবরাহীম : ২৫
৩.সূরা হাশর, আয়াত ২১
আল্লাহ ও রাসূল (ﷺ) এর নূরের উপমাঃ
[সুরা নূর : আয়াত ৩৫]
কাফিরদের উপমা অন্ধ, বধির, মূকঃ
১. সূরা রাদ : ১৬
২. সূরা আনফাল : ২২
৩. সূরা বনি ইসরাইল : ৭২
৪. সূরা আরাফ : ১৭৯
৫. সূরা হাজ্ব : ৪৬
৬. সূরা বাকারা, আয়াত ১৭-২০
৭.সূরা আনআম-৩৯
কাফিরদের ব্যপারে অন্যান্য উপমাঃ
১. ইশাইয়া ৪৫ : ৯-১০
২. সূরা আল-বাকারা: ১৭১
৩. সূরা ইবরাহীম : ১৮
৪. সূরা আল-আ’রাফ: ৪০
মুশরিকদের উপমাঃ
১.সূরা আল-হাজ্জ: ৩১
২.সূরা আল-আনকাবুত: ৪১
৩.সূরা আর-রা’দ: ১৪
বহু প্রভু থাকলে সব ধ্বংস হয়ে যেতঃ
১. সূরা বনি ইসরাইল : ৪২
২. সূরা আম্বিয়া : ২২
৩. সূরা নিসা : ৮২
ওয়াদা ভঙ্গকারীর উপমাঃ
[সূরা ইউনুস: ২২-১৩]
রিয়াকারীর উপমাঃ
[সূরা আল-বাকারা: ২৬৪]
বিপথগামীদের উপমাঃ
[সূরা আল-আনআ’ম: ৭১]
বৃক্ষের সাথে উত্তম ও মন্দ বাক্যের উপমাঃ
[সূরা ইব্রাহীম : ২৪-২৬]
মশার উপমাঃ
[সূরা বাকারা : ২৬]
উপমা সম্পর্কিত অন্যান্য আয়াতঃ
১.সুরা বাক্বারা : আয়াত ২৬
২.সূরা ইয়াসিন : ১৩
৩.সূরা ইউনুস : ২৪
ঈমানবিহীন আমল মূল্যহীন
____________________
ঈমানবিহীন আমল মূল্যহীনঃ
═══════════════
ঈমানহীন ব্যক্তির কঠোর সাধনার ইবাদত জাহান্নামের আগুনে দ্বগ্ধ হবে।
"পথভ্রষ্টদের কৃত আমল,
শত সাধনার জ্ঞানের ফসল-
দিনান্তে মরীচিকা কেবল,
নয়ন যুগল হেরিবে তপ্তানল।
✍ [এম.বি.সানি]
"ফীহি মা ফীহি" কিতাবে মওলানা জালালুদ্দীন রূমী (رحمة الله) এর উপদেশবাণী হিসেবে উল্লেখিত আছে,
"তোমার ভাই বা বোনের মাঝে দোষ তুমি খুঁজে পেলে তাদের মাঝে যে দোষ তুমি দেখতে পাও তা তোমার নিজের মধ্যেই নিহিত। প্রকৃত সূফী দরবেশ আয়নাসদৃশ যাতে তুমি তোমার নিজের চেহারা-ই দেখতে পাও। কেননা, “ঈমানদার ব্যক্তি হলেন তাঁর ঈমানদার ভাইয়ের জন্যে আয়নাস্বরূপ।” তোমার মাঝে ওই সব দোষত্রুটি দূর করো! কারণ তাদের মধ্যে যা দেখে তুমি তিক্ত-বিরক্ত, তা তোমার মধ্যেও তোমাকে বিরক্ত করে।
অপর স্থানে উল্লেখিত আছে, কেউ একজন (দরবারি মজলিশে) জিজ্ঞেস করেন: “নামাযের চেয়ে বড় কী?”
মওলানা জালালুদ্দিন রূমী (رحمة الله) বলেন: একটি উত্তর হলো, নামাযের রূহ (আত্মা) নামাযের চেয়ে বড়, যেমনটি আমি ব্যাখ্যা করেছি। দ্বিতীয় উত্তরটি হলো, ঈমান তথা বিশ্বাস আরও বড়।
নামায তথা প্রার্থনা হচ্ছে দৈনন্দিন কর্মের একটি ক্রম, অপরদিকে ঈমান চলমান (প্রক্রিয়া)। নামায কোনো বৈধ কারণে বাদ কিম্বা পিছিয়ে দেয়া যায়; কিন্তু কোনো অজুহাতেই ঈমানকে বাদ কিম্বা পিছিয়ে দেয়া সম্ভব নয়। আর যেখানে ঈমানবিহীন নামায-দোয়া নিষ্ফল, যেমনটি ঘটে থাকে মোনাফেকদের বেলায়, সেখানে নামাযহীন ঈমান কিন্তু মূল্যবান।
["ফীহি মা ফীহি" কিতাবে মওলানা জালালুদ্দীন রূমী (رحمة الله)]
❏ তাইতো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হুকুমে হযরত উমর (رضي الله عنه) এর ঘোষণা করলেন,
"শুনে রাখো, ঈমানদার ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।” ➠[সহীহ মুসলিম, ১/১০৭, হা/১১৪]
❏ এ সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে,
وَمَن يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءتْ مَصِيرًا
যে কেউ রসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে, তার কাছে সরল পথ প্রকাশিত হওয়ার পর এবং সব মুসলমানের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে, আমি তাকে ঐ দিকেই ফেরাব যে দিক সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্যস্থান।
➠[সূরা আন-নিসা, ৪:১১৫]
❏ "(যারা ঈমানহীন) তাদের আমলসমূহ মরুভূমির মরিচীকার ন্যায় (যা কেবল দৃশ্যমান কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অস্তিত্বহীন)।’➠[সুরা নূর : আয়াত ৩৯]
❏ "ঈমানহীন ব্যক্তির আমল হবে এমন যে আল্লাহ বলেন,
وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاء مَّنثُورًا
আমি তাদের কৃতকর্মের প্রতি মনোনিবেশ করব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধুলিকণারূপে (বরবাদ) করে দেব।
➠[সূরা আল ফুরকান, ২৫ : ২৩]
❏ "তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হলো দোযখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে।"➠[সূরা আল বাকারা, ২ : ২১৭]
❏ আকিদাভ্রষ্ট বিদআতীদের সম্পর্কে আছে,
হযরত হুযায়ফা (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন,
لَا يَقْبَلُ اللَّهُ لِصَاحِبِ بِدْعَةٍ صَوْمًا، وَلَا صَلَاةً، وَلَا صَدَقَةً، وَلَا حَجًّا، وَلَا عُمْرَةً، وَلَا جِهَادًا، وَلَا صَرْفًا، وَلَا عَدْلًا، يَخْرُجُ مِنَ الْإِسْلَامِ كَمَا تَخْرُجُ الشَّعَرَةُ مِنَ الْعَجِينِ
-“আল্লাহ কোন বিদ'আতীর (তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের বিপরীত কুফুরী-শিরকী আক্বিদা বিশ্বাসে নতুন বিশ্বাসী ব্যক্তির) কোনো রোযা, নামায, সদকা (যাকাত), হজ্জ, ওমরা, জিহাদ, ফরয ইবাদত, নফল ইবাদত কবুল করবেন না । সে (কুফুরী-শিরকী আকিদা পোষণের কারণে) ইসলাম থেকে বাহির হয়ে যাবে, যে ভাবে চুল (সহজে) আটার খমীরা থেকে বাহির হয়ে যায়।”
➠[সুনানে ইবনে মাযাহ, ১/১৯পৃ. হা/৪৯, হাদিসটি হাসান]
❏ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন,
أَبَى اللَّهُ أَنْ يَقْبَلَ عَمَلَ صَاحِبِ بِدْعَةٍ حَتَّى يَدَعَ بِدْعَتَهُ
-“আল্লাহ বিদআতির (আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের বিপরীত দলের অনুসারীর) কোনো ইবাদত কবুল করবেন না, যতক্ষণ না সে তার বিদ'আত পরিত্যাগ করে।
➠[সুনানে ইবনে মাযাহ, ১/১৯পৃ. হা/৫০, হাদিসটি হাসান পর্যায়ের]
যাদের অনুসরণে মিলবে সিরাত্বাল মুস্তাকিম
____________________
যাদের অনুসরণে মিলবে সিরাত্বাল মুস্তাকিমঃ
যাদের ভক্তিতে মুক্তি মিলেঃ
═══════════════
❏ "হে আল্লাহ আমাদেরকে সরলপথ প্রদর্শন করুন। তাঁদেরই পথে, যাদের উপর আপনি নিয়ামত দান করেছেন। তাদের পথ নয়, যাদের উপর আপনার গজব নাজিল হয়েছে। ➠[সূরা ফাতিহা, ১:৫-৭]
❏ "নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাগণ হলেন নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তিগণ (অলীগণ)।" ➠[সূরা নিসা, ৬৯]
❏ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমার উম্মতের সকল লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে কিন্তু যে অস্বীকার করেছে সে ব্যতীত। ➠[বুখারীঃ ৭২৮০]
❏ "হে মুমিনগণ! তােমরা আনুগত্য কর আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও উলিল আমরের।" ➠[সূরা আন-নিসা, ৪:৫৯]
❏ বলুন, ‘তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাস তবে আমাকে অনুসরণ কর, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন।➠[সূরা আল-ইমরান ৩১]
❏"যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে হাবীব), তাদের জন্য প্রহরী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।"➠[সূরা আন-নিসা, ৪:৮০]
আনুগত্য সম্পর্কিত অন্যান্য আয়াতঃ
১.[সূরা আন নুর ৪৭, ৫১, ৫২, ৫৪]
২.[সূরা মুহাম্মদ,আয়াতঃ৩৩]
৩.[সূরা আরাফ,আয়াতঃ৩]
৪.[সূরা আনফাল,আয়াতঃ১, ২৪]
৫.[আল আহযাব ২১, ৩৬]
৬.[আশ-শুয়ারা ১০৮, ১১০, ১২৬, ১৪৪, ১৬৩, ১৭৯]
৭.[সূরা ফাতহ ১০]
অতএব, "এটাই আমার সরল পথ তােমরা এ পথের অনুসরণ কর।" ➠[সূরা আনআম, ১৫৪]
আল-আউলিয়া
____________________
আল-আউলিয়াঃ
আক্বিদা রক্ষায় অলীগণের সোহবতঃ
═══════════════
পথভ্রষ্টতা থেকে মুক্তির জন্য অলীগণের অনুসরণ ব্যতীত বিকল্প কোন পন্থা নেই। কারণ তারাই আল্লাহর হেদায়াতপ্রাপ্ত বান্দা।
❏ শয়তানের শপথঃ "সকল মানুষকে আমি পথভ্রষ্ট করব, কিন্তু আপনার বিশিষ্ট বান্দাগণ ব্যতীত।
➠[সূরা হিজর ৩৯, ৪০]
❏ আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন: আল্লাহ্ তা’আলা বলেন: যে ব্যক্তি আমার অলীর সাথে শত্রুতা করে, আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করছি। আমার বান্দার প্রতি যা ফরয করেছি তা দ্বারাই সে আমার অধিক নৈকট্য লাভ করে। আমার বান্দা নফল কাজের মাধ্যমেও আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে। অবশেষে আমি তাকে ভালবেসে ফেলি। যখন আমি তাকে ভালবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাইযা দিয়ে সে শোনে, তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে ধরে এবং তার পা হয়ে যাই যা দিয়ে সে চলাফেরা করে। সে আমার কাছে কিছু চাইলে, আমি তাকে তা দেই। সে যদি আমার নিকট আশ্রয় কামনা করে, তাহলে আমি তাকে আশ্রয় দেই। আমি যা করার ইচ্ছা করি, সে ব্যাপারে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগি না কেবল মুমিনের আত্মার ব্যাপার ছাড়া। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তার মন্দকে অপছন্দ করি।
➠তথ্যসূত্রঃ
১.সহিহ বুখারী শরিফ, ২য় জি: ৯৬৩ পৃ হাদিস নং ৬৫০২।
২.সহিহ ইবনে হিব্বান, ১ম জি: ২১০ পৃ: হাদিস নং ৩৪৭।
৩.ইমাম বায়হাক্বী: আসমা ওয়াস সিফাত, হাদিস নং ১০২৯।
৪.ইমাম বাগভী: শরহে সুন্নাহ, হাদিস নং ১২৪৭।
৫.সুনানে ইবনে মাজাহ, ২৯৬ পৃ: হাদিস নং ৩৯৮৯।
৬.মুজামে ইবনে আসাকির, হাদিস নং ১৪৩৮।
৭.ইমাম বায়হাকী: সুনানে কুবরা, হাদিস নং ৬৩৯৫।
৮.মিশকাত শরীফ, ১৯৭ পৃষ্ঠা, হাদিস নং ২২৬৬।
৯.তাফছিরে রুহুল বয়ান, ২য় খন্ড, ৪৪৯ পৃ।
১০.তাফছিরে রুহুল মায়ানী, ১১ তম খন্ড, ১৯২ পৃ: ৬৫।
১১.আবু নাঈম ইস্পাহানী: হিলয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবকাতুল আছফিয়াহ” : ১খন্ড, পৃষ্টা নং- ১১-১২।
❏ "নিশ্চয়ই, আল্লাহর অলীদের কোন ভয় নেই।" ➠
১.সূরা ইউনুছ আয়াত : ৬২।
২.সুনানে আবু দাউদ,কিতাবুল ইজারা, হাদীস নং-৩৫২৭।
৩.হাকিম আল মুস্তাদরাক, হাদীস নং-৭৩৯৮,ইমাম হাকিম বলেন هذا حديث صحيح الإسناد।
❏ "আল্লাহ মুত্তাকীদের বন্ধু।"
➠[সূরা জাসিয়া ১৯,আল ইমরান ৬৮]
অলীগণের সান্নিধ্য লাভের নির্দেশ
____________________
অলীগণের সান্নিধ্য লাভের নির্দেশঃ
═══════════════
❏ "নিজেকে তাদের সাথে রাখুন যারা সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ করে।" ➠[সুরা কাহাফ, আয়াত-২৮]
উক্ত আয়াতের তফসীরঃ
❏ হজরতে আব্দুর রহমান বিন সহেল ইবনে হুনাইফ (رضي الله عنه) থেকে বর্নিত,
"রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের খোঁজে বেরিয়ে পড়লেন। তখন আল্লাহর যিকিরে মসগুল এমন কিছু লোককে পেলেন যারা জির্নশীর্ণ পোষাকে আবৃত ছিল। তাদের নিকট গিয়ে আল্লাহর রসুল বললেন, আমি সর্বদা তদের সঙ্গে থাকতে পছন্দ করি।"
➠[তাফসীরে ইবনে কাসীর, সুরা কাহাফ ২৮, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৮১]
❏ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ
"মুমিনের অন্তর্দৃষ্টি হতে তোমরা সাবাধান থাক। কারণ সে আল্লাহর নূর দ্বারা দেখে। তারপর তিনি পাঠ করেনঃ নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে, অন্তর্দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন লোকদের জন্য।" (সূরা হিজরঃ ৭৫)। ➠[1]
❏ হজরতে আনাস (رضي الله عنه) হতে বর্নিত,
"আমি [হযরত উমর (رضي الله عنه) কে] জিজ্ঞাসা করলাম রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর পরেও কি ওহী অবতীর্ণ হয়? তিনি উত্তর দিলেন না, তবে (মুমিনের) অন্তর্দৃষ্টি (কাশফ/ বাতেনী চক্ষু) ও দূরদর্শীতার মাধ্যমে (গায়েব) জানা যায়।" ➠[2]
═══════════════
[1].
➠ তথ্যসূত্রঃ আবূ সাঈদ খুদরী (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত।
১. সুনানে তিরমিযি, কিতাবুত তাফসীরে কুরান,হাদীস নং-৩১২৭ (সূরা হিজরঃ৭৫)
২. ইমাম তাবরানী,মাআজুমুল আউসাত,হাদীস নং-৭৮৩৯
৩. ইমাম কুরতুবীঃ তাফসীরে কুরতুবী, সুরা- হিজর, আয়াত- ৭৫, পৃষ্ঠা-১২১
৪. ইমাম ইবনে কাসীরঃ তাফসীরে ইবনে কাসীর, সুরা -হিজর,আয়াত-৭৫,পৃষ্ঠা-৫৪৭
৫. ইমাম তাবারীঃ তাফসীরে তাবারী, সুরা-হিজর, আয়াত-৭৫, পৃষ্ঠা-১২০
৬. ইমাম আলূসীঃ তাফসীরে রুহুল মাআনি,সুরা হিজর, আয়াত-৭৫
৭. সওকানী, ফাতহুল কাদীর,সুরা -হিজর,আয়াত-৭৫ পৃষ্ঠা-৭৬৭
[2].
➠ তথ্যসূত্রঃ হজরতে আনাস হতে বর্নিত।
১. ইমাম গাযালী, ইহয়াউ উলুমিদ্দীন-খন্ড-৩,পৃষ্ঠা-২৭
২. তাফসীরে নিশাপুরী, পৃষ্ঠা-১৭৪
৩. ইমাম ফাখরুদ্দিন রাযি,তাফসীরে কাবীর,পৃষ্ঠা-৪৪১
৪. ইবনে কাইয়্যুম, কিতাবুর রুহ, খন্ড-২ পৃষ্ঠা-৪৮২,দারুল কিতাব আরাবিয়া,
৫. ইবনে কাইয়াম,কিতাব-আল তুরকুল হাকমিয়াহ,পৃষ্ঠা-৬২
৬. ইমাম মানাভীঃ ফাইযুল কাদীর,খন্ড-১,পৃষ্ঠা-১৪১
৭. আব্দুল ওয়াহাব সুবকি, আত তাবকাত,পৃষ্ঠা-৩৬
৮. ইমাম মুল্লা আলী কারী,মুসনাদে আবু হানিফা, খন্ড-১,পৃষ্ঠা-৫৬১
৯. ইমাম কুরতুবীঃ তাফসীরে কুরতুবী,খন্ড-১২,পৃষ্ঠা-২৭২
যাদের সূত্রে উক্ত হাদীসটি বর্ণিত হয়েছেঃ
1.হযরত আবু সাঈদ খুদরী (رضي الله عنه)
2.হযরত সাওবান (رضي الله عنه)
3.হযরত আবু উমামা (رضي الله عنه)
4.হযরত ইবনে ওমর (رضي الله عنه)
5.হযরত আবু হুরাইরাহ (رضي الله عنه)
6.হযরত আবু দারদা (رضي الله عنه)
7.হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه)
8.তাবেঈ হযরত হাসান বসরী (رحمة الله)
আল-কুরআনের আলোকে শানে আউলিয়া
____________________
আল-কুরআনের আলোকে শানে আউলিয়াঃ
❏ আয়াত ১:
"হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ্ পাককে ভয় কর এবং তাঁর নৈকট্য লাভের উপায় বা ওসিলা তালাশ কর।
➠[সুরা মায়েদা: ৩৫]।
[বহু সহিহ হাদিসে আসছে যে সাহাবীগণ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর উসিলা নিতেন অথবা ওনারা একে অন্যের উসিলা নিতেন। এখন আমরা নবী-রাসুলগণ, সাহাবীগণ, সলফে সালেহীনগণ ও আউলিয়ায়ে কেরামের উসিলা নিয়ে দোয়া প্রার্থনা করি।]
❏ আয়াত ২-৪:
এ আয়াতে কারীমায় সুষ্পষ্টভাবে আল্লাহর হেদায়াতপ্রাপ্ত বুযুর্গদের সাহচর্যে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ
"হে আল্লাহ আমাদেরকে সরলপথ প্রদর্শন করুন। তাঁদেরই পথে, যাদের উপর আপনি নিয়ামত দান করেছেন। তাদের পথ নয়, যাদের উপর আপনার গজব নাজিল হয়েছে। ➠[সূরা ফাতিহা, ১:৫-৭]
❏ আয়াত ৫:
আর তাঁর নিয়ামত প্রাপ্ত বান্দা কারা?
الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ
"আর যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে তারা তাদের সাথে থাকবে। আল্লাহ যাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন তারা হলেন নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তিগণ আর তাদের সান্নিধ্যই হল উত্তম।" ➠[সূরা নিসা, ৬৯]
❏ আয়াত ৬:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাকের রহমত (মুহসিনিন) আউলিয়া কিরামগনের নিকটবর্তী।" ➠[সুরা ৭ আরাফ: ৫৬]
❏ আয়াত ৭:
"হে মুমিনগণ! তােমরা আনুগত্য কর আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও উলিল আমরের।" ➠[সূরা আন-নিসা, ৪:৫৯]
❏ আয়াত ৮:
বলুন, ‘তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাস তবে আমাকে অনুসরণ কর, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন।➠[সূরা আল-ইমরান ৩১]
❏ আয়াত ৯:
আল্লাহ পাক বলেন, “তোমরা সব আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও। ➠[সূরা ইমরান-৭৯]
❏ আয়াত ১০-১১:
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা আরো বলেন,
إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُواْ الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلاَةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ
''নিশ্চয়ই তোমাদের ওলি (বন্ধু) হলেন আল্লাহ এবং তাঁর রসুল আর ঈমানদার লোকেরা- যারা সালাত কায়েম করে, যাকাত দিয়ে দেয়, এবং আল্লাহর প্রতি অনুগত বাধ্যগত থাকে।
وَمَن يَتَوَلَّ اللّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُواْ فَإِنَّ حِزْبَ اللّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ
আর যারা ওলি (বন্ধু) মানে আল্লাহকে এবং আল্লাহর রাসূলকে আর ঈমানদারদেরকে, তারাই আল্লাহর দল এবং আল্লাহর দলই থাকবে বিজয়ী ''
➠[সূরা আল মায়িদা,আয়াত-৫৫-৫৬]
❏ আয়াত ১২:
আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,
أَلا إِنَّ أَوْلِيَاء اللّهِ لاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ
মনে রেখো যারা আল্লাহর (ওলি) বন্ধু, তাদের না কোন ভয় ভীতি আছে, না তারা চিন্তান্বিত হবে।
➠[সুরা ইউনুছ আয়াত ৬২]
❏ আয়াত ১৩:
"নিশ্চয় আল্লাহ্ মুহসিনদের ভালবাসেন।’’
➠[সূরা বাকারা:১৯৫]
❏ আয়াত ১৪:
আল্লাহ বলেন,
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাওবাকারী ও পবিত্রতা অবলম্বন কারীদেরকে ভালবাসেন।’’➠[সূরা আল-বাকারা ২২২]
❏ আয়াত ১৫:
তাকওয়া সকল কল্যাণের মূল। তাই আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে খুবই ভালবাসেন। তিনি বলেন,
فَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِين
‘‘আর নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে ভালবাসেন।’’
➠[সূরা আল ইমরান:৭৬]
❏ আয়াত ১৬:
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে আরো বলেন,
وَاللَّهُ وَلِيُّ الْمُتَّقِينَ
"ওয়াল্লাহু ওয়ালীউল মুত্তাকীন "
অর্থ - আর আল্লাহ্ মুত্তাকীদের (পরহেজগারদের) বন্ধু।
➠[সূরা জাসিয়া ৪৫:১৯]
❏ আয়াত ১৭:
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন,"তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদা সম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী।''➠[সূরা হুজুরাত ১৩]
❏ আয়াত ১৮:
"যারা (প্রকৃত ভাবে) ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক।" ➠[সূরা বাকারা ২৫৭]
❏ আয়াত ১৯:
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন-
وَاللّهُ وَلِيُّ الْمُؤْمِنِينَ
"ওয়াল্লাহু ওয়ালীউল মু'মিনীন"
অর্থ - আর আল্লাহ মুমিনদের বন্ধু (অভিভাবক)।
➠[সূরা আলে ইমরান ৩ : ৬৮]
❏ আয়াত ২০:
"আল্লাহর ওলীরা মুত্তাকী ছাড়া কেও নয়।"
➠[সুরা আনফাল, আয়াত-৩৪]
❏ আয়াত ২১:
''সকল মুমিনই দয়াময় আল্লাহর অলী।''
➠[ইমাম তাহাবী ''আল আকীদা'' গ্রন্থ]
❏ আয়াত ২২:
শয়তান আল্লাহর সাথে চ্যালেঞ্জ করেছ, "সকল মানুষকে আমি পথভ্রষ্ঠ করব, কিন্তু আপনার সে সমস্ত বান্দাদের ব্যতীত যারা তাদের মধ্যে বিশিষ্ট।➠[সূরা হিজর ৪০]
❏ আয়াত ২৩:
আল্লাহ পাক জবাবে বলেন, "বাস্তবিক আমার সে বান্দাদের উপর তোমার কোন কর্তৃত্ব চলবে না।"
➠[সূরা হিজর ৪৩]
আউলিয়ায়ে কেরামের শান
____________________
আউলিয়ায়ে কেরামের শানঃ
═══════════════
❏ "যে নফসকে চিনেছে সে প্রভুকে চিনেছে।” ➠[1]
উক্ত বর্ণনার পর্যালোচনা,
"কেউ কেউ বলেছেন, উক্ত রেওয়াতটি মুলতঃ
❏ হযরত আলী (رضي الله عنه) এর বাণী, অথবা হযরত হাসান বসরী (رحمة الله) এর বাণী।"
[ড. ফকির আব্দুর রশিদঃ সুফী দর্শন : ৩০-৩২]
❏ "উক্ত বর্ণনাটি অধিকাংশ সুফীয়ে কেরাম বলে থাকেন।" [মোল্লা আলী কারী (رحمة الله) : মওদ্বুয়াতুল কবীর : ৩৫১ পৃ]
❏ "এটা মুলত বিখ্যাত সুফী ইমাম ইয়াহহিয়া ইবনে আয়ায আর-রাযি (رحمة الله) [ওফাত ২৫১/২৬০ হি] এর বানী।" ➠[2]
"মুমিনের ক্বলব আল্লাহর আরশ।"
এ বর্ণনার সমর্থনে দুটি হাদিস,
❏“আল্লাহ তায়ালা বলেন, আসমান ও জমিন আমাকে সংকুলান করে না। কিন্তু একমাত্র আমার মুমিন বান্দার কলব আমাকে সংকুলান করে।” ➠[3]
❏“হযরত আবি ইনাবাতাল খােলানী (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, রাসূলে খােদা (ﷺ) বলেন, "যমিনবাসীদের মধ্য থেকে আল্লাহ পাক রয়েছেন নেককার বান্দাগনের অন্তর সমূহে।" ➠[4]
আল্লাহর অলীদের কিভাবে চেনা যায়?
____________________
আল্লাহর অলীদের কিভাবে চেনা যায়?
❏ হযরত সাঈদ (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত,
"রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করা হলো আউলিয়া আল্লাহ কারা? ইরশাদ করলেন-"যাদের দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণে এসে যায়।"➠ [5]
❏ হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (رضي الله عنه) ও ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) সহ অনেক সাহাবায় কেরাম বলেছেন-
উচ্চারণঃ আউলিয়া আল্লাহিল্লাযিনা ইজা রুয়ুযা জুকিরাল্লাহ।"
অর্থঃ "তারাই আউলিয়া আল্লাহ যাদের কে দেখলে খোদার কথা স্মরণ হয়।"
➠[ইমাম তাবারানী : মুজামুল কবীর : ১২৩২৫]
উক্ত হাদিসের সূত্রসমূহঃ
☛ হযরত সাঈদ (رضي الله عنه) হতে।
☛ হযরত আবু দোহা (رضي الله عنه) হতে।
☛ হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে।
☛ হযরত আবু মালিক আশআরী (رضي الله عنه) হতে।
☛ হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (رضي الله عنه) হতে।
তথ্যসূত্রঃ
[1].
১.আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী: তাফছিরে রুহুল বয়ান, ১ম খন্ড, ২৭১ পৃ: ও ৩০৮ পৃ:, ৫ম খন্ড, ২২৭ পৃ:, ৬ষ্ঠ খন্ড, ৩৯৩ পৃষ্টাতে হযরত আলী (رضي الله عنه) হতে।
২.ইমাম ফখরুদ্দিন রাজী: তাফছিরে কবীর শরীফ, ৩০তম খন্ড, ২০১ পৃ: সূরা কিয়ামা’র শুরুতে, ৯ম খন্ড, ১১৭ পৃ:।
৩.তাফছিরে ছালাবী, ১ম খন্ড, ২৭৯ প।
৪.তাফছিরে ওয়াছিত লিল ওয়াহেদী, ১ম খন্ড, ২১৪ পৃ:।
৫.তাফছিরে রাগেব ইস্পাহানী, ১ম খন্ড, ৫৫ পৃ।
৬.তাফছিরে বাগবী, ১ম খন্ড, ১৬৯ পৃ:।
৭.তাফছিরে খাজেন, ১ম খন্ড, ৮৩ পৃঃ। আল ভাব ফি উলুমিল কিতাব, ২য় খন্ড, ৪৯৮ পৃ:।
৮.তাফছিরে নিছাপুরী, ২য় খন্ড, ১৭৫ পৃঃ।
৯.তাফছিরে সিরাজুম মুনীর, ১ম খন্ড, ৯৪ পৃ:।
১০.তাফছিরে আবু সাউদ, ৯ম খন্ড, ১৭৫ পৃ:।
১১.তাফছিরে মাজহারী, ১ম খন্ড, ১৩২ পৃ:।
১২.ইমাম গাজ্জালী: এহইয়াউল উলুমুদ্দিন, ৩য় খন্ড, ২২৪ পৃ:।
১৩.শায়েখ আব্দুল কাদির জিলানী: সিররুল আছরার, ৫৯ পৃ:।
১৪.হাজী এমদাদুল্লাহ মােহাজেরে মক্কী: যিয়াউল কুলুব, ৭১ পৃ:।
১৫.ইমাম মােল্লা আলী ক্বারী: মওজুয়াতুল কবীর, ১২২ পৃঃ।
১৬.ইমাম আজলুন: কাশফুল বকা, ২য় খন্ড, ২৩৪ পৃ:।
১৭.তাফছিরে বায়দ্বাবী, ২য় খন্ড, ২৮০ পৃ:।
১৮.আল-হাভীলিন ফতোয়া ২/৪১২ পৃ :
১৯.ইবনে হাজর হাইতামী : ফতোয়ায়ে হাদীসিয়্যাহ : ২১১ পৃ:
[2].
১. ইমাম সুয়ুতী : আল-হাবী লিল ফতোয়া ২/২৮৮ পৃ :
২. ইবনে হাজর আল হায়তামী আল মক্কী : ফতোয়ায়ে হাদীসিয়্যাহ : ১/২০৬ পৃ:
৩. দরবেশহুত, আস-সুনানুল মুত্তালিব ১/২৭৭ পৃ : হাদিস ১৪৩৫
৪. ইরাকী, তাখরীজে আহদিসুল ইহইয়াউল উলুম, ৪/১৫৩৫ পৃ: হাদিস ২৩৫৪
৫. সাখাবী, মাকাসিদুল হাসান, ১/৬৫৭ পৃ: হাদিস ১১৪৯
৬. সুয়ুতী, আদ্দরুল মুনতাসিরাহ : ১/১৮৫ পৃ: হাদিস ৩৯৩
৭. ইমাম যাহাবী, তারিখুল ইসলামী, ৬/২৩১ পৃ:, ক্রমিক ৫৯৯।
৮. ইমাম আবু নুঈম ইস্পাহানী, ১০/৫১-৭০ পৃ:
৯. খতিবে বাগদাদী ১১/৩১ পৃ:
১০. ইবনে কাসীর, বিদায়া ওয়ান নেহায়া ১৪/২০৮-২১২ পৃ:
[3].
১.ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল : কিতাবুত যুহুদ যুহুদে ইউসূফ (عليه السلام) অধ্যায়, ১/৬৯ পৃষ্ঠা।
২.ইমাম সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানা : ৪২৯ পৃ. হাদিস : ৯৮৮ গ.
৩.ইমাম আযলূনী : কাশফুল খাফা : ২/১৯৫ হাদিস।
৪.ইমাম মানাবী : ফয়জুল কাদীর ১/২৮২ পৃ. হাদিস
৫.আল্লামা তাহের পাটনী : তাযকিরাতুল মওযুআত : ১/১৩০ পৃ.
৬.আব্দুল হাই লাক্ষনৌভি : আসারুল মারফুআ : ৩১০
৭.কিরমানী, ফাওয়াইদুল মাওদুআত, ৭৮পৃ.
৮.ইমাম ইবনুল ইরাকী,তানযিহুশ শরীয়াহ,১/১৪৮পৃ.
৯.ইমাম সুয়ূতি, লা-আলিল মাসনু,২৯৩পৃ.
১০.ইমাম মােল্লা আলী ক্বারী,আসারুল মারআ,৩১০পৃ.
১১.আল্লামা শায়খ ইউসূফ বিন নাবহানী, যাওয়াহিরুল বিহার : ১/২৮৩ পৃষ্ঠা
১২.ইমাম শায়খ আব্দুল করীম জালিলী আশ-শাফেয়ী : (ইনসানে কামিল)।
[4].
১.ইমাম তাবরানী : মুসনাদে ছামীন : ২/১৯ পৃ, হাদিস-৮৪০।
২.আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি : জামেউস সগীর, ১/৩৬৪ পৃ : হাদিস নং - ২৩৭৫।
৩.আল্লামা ইমাম আবদুর রহমান সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানা : পৃষ্ঠা নং ৩৮০, হাদিস : ৯৯০।
৪.আল্লামা আযলূনী : কাশফুল খাফা : ২/১৭৫ পৃষ্ঠা, হাদিস : ২২৫৪।
৫.আলবানী : সিলসিলাতুল আহাদিসুস সহীহা: হাদিস ১৬৯১, সহিহুল জামে,হাদিস : ২১৬৩।
৬.আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি : জামেউল আহাদিস : ৯/১৯৬পৃ.হাদিস: ৮২৩৩।
৭.ইউসূফ নাবহানী,ফতহুল কাবীর, ১/৩৭৭পৃ.হাদিস,৪০৯১।
৮.ঝনাবিল সাদুদ্দীন সালিম জারুরার,ইমাঈ ইলা যাওয়াইদ,৬/২১১পু, হাদিস,৫৫০৩।
৯.ইরাকী, তাখরীজে ইহইয়া,১৮৯০পৃ.।
১০.মানাভী, ফয়যুল কাদীর,২/৬২৯ প।
১১.ছুয়াইব আব্দুল জাব্বার,আল-জামেউস সহিহ লিল সহিহ লিল সুনান ওয়াল মাসানীদ, ২৭৮৬পুও ৩/১৬২পৃ.।
[প্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানোর স্বরূপ উন্মোচনঃ মাওলানা শহিদুল্লাহ বাহাদুর]
[5].
তথ্যসূত্রঃ
হযরত সাঈদ (رضي الله عنه) হতে।
১. মাজুমুল কাবীর, হাদীস নং ১২৩২৫
২. মাজমাউজ যাওয়াইদ, হাদীস নং-১৬৭৭৯
৩. মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস নং ৫০৫০,হজরতে আবু দোহা (رضي الله عنه) হতে বর্নিত।
৪. তাফসীর ইবনে কাসীর, পৃষ্ঠা-২৭৮,ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্নিত।
৫. তাফসীরে কুরতুবী, পৃষ্ঠা-২৬৭
৬. তাফসীরে তাবরী, হাদীস নং -১৭৭০৩
৭. তাফসীরে বাগভী, আবু মালিক আশআরী (رضي الله عنه) হতে বর্নিত, সুরা ইউনুসের আয়াত -৬২ তাফসীরে
৮. তাফসীরে কাবীর, সুরা -ইউনুস, আয়াত-৬২
৯. তাফসীরে দুররে মান্সুর,পৃষ্ঠা-৬৭৪, সুরা-ইউনুস,আয়াত-৬২
১০. তাফসীরে ইবনে হাতিম,হাদীস নং-১০৪৫৪, হজরতে ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্নিত।
অলীগণের উসীলা ও ইস্তিগাসাঃ সাহায্য প্রার্থনার শরয়ী বিধান
____________________
অলীগণের উসীলা ও ইস্তিগাসাঃ সাহায্য প্রার্থনার শরয়ী বিধানঃ
❏ হাদিস ১ :
ইমাম তাবরানী (رحمة الله) একটি হাদীস সংকলন করেন-
حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْحَاقَ التُّسْتَرِيُّ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى الصُّوفِيُّ، ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عِيسَى، عَنْ زَيْدِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ عُتْبَةَ بْنِ غَزْوَانَ، عَنْ نَبِيِّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا أَضَلَّ أَحَدُكُمْ شَيْئًا أَوْ أَرَادَ أَحَدُكُمْ عَوْنًا وَهُوَ بِأَرْضٍ لَيْسَ بِهَا أَنِيسٌ، فَلْيَقُلْ: يَا عِبَادَ اللهِ أَغِيثُونِي، يَا عِبَادَ اللهِ أَغِيثُونِي، فَإِنَّ لِلَّهِ عِبَادًا لَا نَرَاهُمْ وَقَدْ جُرِّبَ ذَلِكَ
-“ইমাম তাবরানী যথাক্রমে..............আলে রাসূল (ﷺ) ইমাম জয়নাল আবেদীনের সন্তান যায়েদ বিন আলি (رحمة الله) হতে তিনি সাহাবী উতবাতা ইবনে গাযওয়ান (رضي الله عنه) হতে তিনি আল্লাহর নবী হতে তিনি বলেন, যখন কোন স্থানে তোমরা পথহারা হয়ে যাও অথবা কোন এমন অঞ্চলে অবস্থান হল যেখানে তোমাদের কোন সাহায্যকারী সাথী নেই। অতঃপর তোমরা বলবে: হে আল্লাহর মহান বান্দাগণ (ওলীরা) সাহায্য করুন! হে আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্ত বান্দাগণ সাহায্য করুন!......অতঃপর তোমার সমস্যা দূর হয়ে যাবে।”
[তাবরানী, মু’জামুল কাবীর, ১৭/১১৭ পৃ. হা/ ২৯০, শায়খ ইউসুফ নাবহানী, ফতহুল কাবীর, ১/৭৮ পৃ. হা/ ৭৩৪, মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ৬/৭০৬ পৃ. হা/১৭৪৯৮, ইমাম হাইছামী, মাযমাউয যাওয়াইদ, ১০/১৩২ পৃ., মোল্লা আলী ক্বারী, মেরকাত, ৪/১৬৯৩ পৃ. হা/২৪৪১, আকাঈদে সাহাবাঃ জিয়াউল্লাহ আল কাদেরী রহ., সাকাইলন প্রকাশন]
❏ হাদিসদের ইমাম নওয়াব সিদ্দিক হাসান খাঁন ভূপালি লিখেন- رجاله ثقات -“এই হাদিসের সমস্ত রাবী সিকাহ।” (নাযলুল আবরার, ৩৩৫ পৃষ্ঠা)
❏ অনেকে এই সনদের সমস্ত রাবীই সিকাহ অনেকে আলে রাসুল (ﷺ) যায়েদ বিন আলীকে প্রশ্ন বিদ্ধ করতে চান, ইমাম যাহাবী তার জবাব তার জীবনীতে উল্লেখ করেছেন।
(যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/৩৮৯ পৃ. ক্রমিক নং ১৭৮, তারিখুল ইসলাম, ৩/৪১৫ পৃ. ক্রমিক নং ১১৫)
❏ আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) এই হাদিসের সনদ প্রসঙ্গে লিখেন-
قَالَ بَعْضُ الْعُلَمَاءِ الثِّقَاتِ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ يَحْتَاجُ إِلَيْهِ الْمُسَافِرُونَ
-‘‘বিশ্বস্ত উলামাগণ বলেছেন, এই হাদিসটি ‘হাসান’ এবং মুসাফিরদের জন্য দলিল।’’ (মোল্লা আলী ক্বারী, মেরকাত, ৪/১৬৯৩ পৃ. হা/২৪৪১)
❏ হাদিস ২ :
ইমাম বাযযার (رحمة الله) সংকলন করেন যে, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত সূত্রে সেখানে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - قَالَ: ....فَإِذَا أَصَابَ أَحَدَكُمْ عَرْجَةٌ بِأَرْضِ فَلَاةٍ فَلْيُنَادِ: أَعِينُوا عِبَادَ اللَّهِ
-“যখন ভূলে মসিবতে পড়ে যাবে, যখন কোন আল্লাহর বান্দা যমীনের কোন ভুল স্থানে চলে গেল এই দূরাবস্থায় সময় সে এ বলে আহবান করবে, হে আল্লাহর বান্দাহ (ওলীগণ) সাহায্য করুন।’’
[ইমাম বাযযার, আল-মুসনাদ, ১১/১৮১, হা/৪৯২২, ইমাম হাইছামি, মাযমাউত-যাওয়াহিদ, ১০/১৩২ পৃ. হা/১৭১০৪, ইমাম বায়হাকি, আদাব, ১/২৬৯ পৃ. হা/৬৫৭, এবং শুয়াবুল ঈমান, ১/৩২৫ পৃ. হা/১৬৫, ইমাম ইবনে আবি শায়বাহ, আল-মুসান্নাফ, ৬/৯১ পৃ. হা/২৯৭২১, ইমাম নুরুদ্দীন হাইছামি, কাশফুল আশতার, ৪/৩৪ পৃ. হা/৩১২৯]
❏ হাফেজুল হাদিস ইমাম নুরুদ্দিন ইবনে হাজার হাইছামী (رحمة الله) এই সনদ সম্পর্কে বলেন-
رَوَاهُ الْبَزَّارُ، وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ.
-“ইমাম বাযযার (رحمة الله) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন আর সনদের সমস্ত রাবী সিকাহ।” (ইমাম হাইছামী, মাযমাউদ-যাওয়াইদ, ১০/১৩২পৃ. হা/ ১৭১০৪),
❏ আল্লামা ইমাম খাযেন আশ শাফেয়ী (ওফাত.৭৪১হি.) আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বিদা প্রসঙ্গে এ স্থানে লিখেন-
فَإِنَّ اَلإِسْتِعَانَةُ بِالمَخْلُوْقِ فِي دَفْعِ الضَّرَرِ جَائِزة
-‘‘দুঃখ কষ্ট দূর করার জন্য আল্লাহর মাখলুকের কাছ থেকে সাহায্য চাওয়া বৈধ।’’ (খাযিন, লুবাবুত তাভিল ফি মা‘আনিত তানযিল, ২/৫৩০ পৃ.)
[আকাঈদে সাহাবাঃ জিয়াউল্লাহ আল কাদেরী রহ., সাকাইলন প্রকাশন, সম্পাদনাঃ মাওলানা শহিদুল্লাহ বাহাদুর]
অলীগণের স্মরণ
____________________
অলীগণের স্মরণঃ
❏ আবি মানসুর মওলা আল আনসার (رضي الله عنه) হতে বর্নিত, তিনি শুনেছেন উমার বিন জামুহ (رضي الله عنه) থেকে তিনি বলেন... তিনি রসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছেন,
ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺳﻠﻴﻤﺎﻥ ﺑﻦ ﺃﺣﻤﺪ ، ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺃﺣﻤﺪ ﺑﻦ ﻋﻠﻲ ﺍﻷﺑﺎﺭ ، ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺍﻟﻬﻴﺜﻢ ﺑﻦ ﺧﺎﺭﺟﺔ ، ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺭﺷﺪﻳﻦ ﺑﻦ ﺳﻌﺪ ، ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺍﻟﻮﻟﻴﺪ ﺍﻟﺘﺠﻴﺒﻲ ، ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻣﻨﺼﻮﺭ ﻣﻮﻟﻰ ﺍﻷﻧﺼﺎﺭ ، ﺃﻧﻪ ﺳﻤﻊ ﻋﻤﺮﻭ ﺑﻦ ﺍﻟﺠﻤﻮﺡ ، ﻳﻘﻮﻝ : ﺃﻧﻪ ﺳﻤﻊ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻳﻘﻮﻝ : ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ : ﺇﻥ ﺃﻭﻟﻴﺎﺋﻲ ﻣﻦ ﻋﺒﺎﺩﻱ ، ﻭﺃﺣﺒﺎﺋﻲ ﻣﻦ ﺧﻠﻘﻲ ، ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻳﺬﻛﺮﻭﻥ ﺑﺬﻛﺮﻱ ، ﻭﺃﺫﻛﺮ ﺑﺬﻛﺮﻫﻢ
রসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আল্লাহ আজওয়াজাল ফরমান, নিশ্চই আমার বান্দার মধ্যে থেকে আউলিয়া এবং আমার সৃষ্টি থেকে আমার মাহবুব নবী (ﷺ), যাদের জিকির আমার জিকির এবং আমার জিকির তাদের জিকির হিসাবে পরিগনিত হয়।
➠ তথ্যসূত্রঃ
১. মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং -১৫১২১
২. ইবনে হাজার আল হাইতমি, মাজাউজ
৩. জাউয়াইদ, হাদীস নং- ৩০৪
৪. মাআজমুল আউসাত, হাদীস নং- ৬৫৫
অলীগণের কোন ভয় নেই, তারা সফলকাম
____________________
অলীগণের কোন ভয় নেই, তারা সফলকামঃ
❏ ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (رضي الله عنه) সূত্রে বর্ণিত।
ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺯُﻫَﻴْﺮُ ﺑْﻦُ ﺣَﺮْﺏٍ، ﻭَﻋُﺜْﻤَﺎﻥُ ﺑْﻦُ ﺃَﺑِﻲ ﺷَﻴْﺒَﺔَ، ﻗَﺎﻟَﺎ : ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺟَﺮِﻳﺮٌ، ﻋَﻦْ ﻋُﻤَﺎﺭَﺓَ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﻘَﻌْﻘَﺎﻉِ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺯُﺭْﻋَﺔَ ﺑْﻦِ ﻋَﻤْﺮِﻭ ﺑْﻦِ ﺟَﺮِﻳﺮٍ، ﺃَﻥَّ ﻋُﻤَﺮَ ﺑْﻦَ ﺍﻟْﺨَﻄَّﺎﺏِ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ﺇِﻥَّ ﻣِﻦْ ﻋِﺒَﺎﺩِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟَﺄُﻧَﺎﺳًﺎ ﻣَﺎ ﻫُﻢْ ﺑِﺄَﻧْﺒِﻴَﺎﺀَ، ﻭَﻟَﺎ ﺷُﻬَﺪَﺍﺀَ ﻳَﻐْﺒِﻄُﻬُﻢُ ﺍﻟْﺄَﻧْﺒِﻴَﺎﺀُ ﻭَﺍﻟﺸُّﻬَﺪَﺍﺀُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ، ﺑِﻤَﻜَﺎﻧِﻬِﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﺗُﺨْﺒِﺮُﻧَﺎ ﻣَﻦْ ﻫُﻢْ، ﻗَﺎﻝَ : ﻫُﻢْ ﻗَﻮْﻡٌ ﺗَﺤَﺎﺑُّﻮﺍ ﺑِﺮُﻭﺡِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋَﻠَﻰ ﻏَﻴْﺮِ ﺃَﺭْﺣَﺎﻡٍ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻢْ، ﻭَﻟَﺎ ﺃَﻣْﻮَﺍﻝٍ ﻳَﺘَﻌَﺎﻃَﻮْﻧَﻬَﺎ، ﻓَﻮَﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻥَّ ﻭُﺟُﻮﻫَﻬُﻢْ ﻟَﻨُﻮﺭٌ، ﻭَﺇِﻧَّﻬُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﻧُﻮﺭٍ ﻟَﺎ ﻳَﺨَﺎﻓُﻮﻥَ ﺇِﺫَﺍ ﺧَﺎﻑَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ، ﻭَﻟَﺎ ﻳَﺤْﺰَﻧُﻮﻥَ ﺇِﺫَﺍ ﺣَﺰِﻥَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻭَﻗَﺮَﺃَ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟْﺂﻳَﺔَ } ﺃَﻟَﺎ ﺇِﻥَّ ﺃَﻭْﻟِﻴَﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟَﺎ ﺧَﻮْﻑٌ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﻫُﻢْ ﻳَﺤْﺰَﻧُﻮﻥَ { [ ﻳﻮﻧﺲ : ٦٢ ]
ﺻﺤﻴﺢ ﺑَﺎﺏٌ ﻓِﻲ ﺍﻟﺮَّﻫْﻦِ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মাঝে এমন কিছু লোক আছে যারা নবী নন এবং শহীদও নয়। কিয়ামাতের দিন মহান আল্লাহর দরবারে তাদের মর্যাদার কারণে নবীগণ ও শহীদগণ তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হবেন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর আমাদের অবহিত করুন, তারা কারা? তিনি বলেন, তারা ঐ সব লোক যারা আল্লাহর মহানুভবতায় পরস্পরকে ভালোবাসে, অথচ তারা পরস্পর আত্মীয়ও নয় এবং পরস্পরকে সম্পদও দেয়নি। আল্লাহর শপথ! তাদের মুখমন্ডল যেমন নূর এবং তারা নূরের আসনে উপবেশন করবে। তারা ভীত হবে না, যখন মানুষ ভীত থাকবে। তারা দুশ্চিন্তায় পড়বে না, যখন মানুষ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকবে। তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ ‘‘জেনে রাখো! আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে না।’’ (সূরা ইউনুসঃ ৬২)
➠[সুনানে আবু দাউদ,কিতাবুল ইজারা, হাদীস নং-৩৫২৭]
❏ ‘হজরতে ইবনে উমর (رضي الله عنه) হতে বর্নিত,
- حدثنا أبو عبد الله محمد بن عبد الله الزاهد الأصبهاني ، ثنا أحمد بن يونس الضبي ، بأصبهان ، ثنا أبو بدر شجاع بن الوليد ، قال : سمعت زياد بن خيثمة ، يحدث عن أبيه ، عن ابن عمر رضي الله عنهما قال : قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم : " إن لله عبادا ليسوا بأنبياء ولا شهداء يغبطهم الشهداء والنبيون يوم القيامة لقربهم من الله تعالى ومجلسهم منه " فجثا أعرابي على ركبتيه ، فقال : يا رسول الله ، صفهم لنا وحلهم لنا . قال : " قوم من أقناء الناس من نزاع القبائل تصادقوا في الله وتحابوا فيه ، يضع الله عز وجل لهم يوم القيامة منابر من نور يخاف الناس ولا يخافون ، هم أولياء الله عز وجل الذين لا خوف عليهم ولا هم يحزنون
নবীজী (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মাঝে এমন কিছু লোক আছে যারা নবী নন এবং শহীদও নয়। কিয়ামাতের দিন মহান আল্লাহর দরবারে তাদের মর্যদার ও সেখানে তাদের মজলিশের কারণে নবীগণ ও শহীদগণ তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হবেন অতঃপর একজন বেদুইন আদবের সহিত হাটুগেড়ে বসলেন এবং বললেন ইয়া রসুলুল্লাহ (ﷺ)! আমাদেরকে তাদের কিছু বর্ণনা দিন এবং আমাদেরকে তাদের পরিচয় দান করুন। ইরশাদ করেন, সংগ্রামী গোষ্ঠী গুলির ভরসা প্রাপ্ত জনগনের মধ্যে থেকে এক দল আল্লাহর সাথে ঘনিষ্টতা স্থাপন করে ও তাঁর সাথে মুহাব্বত করে। আল্লাহ আযযাওয়াজাল কিয়ামতের দিনের তাদের জন্য নূরের মিম্বার স্থাপন করবেন। তারা ভীত হবে না, যখন মানুষ ভীত থাকবে। আল্লাহর অলীদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত নন।"
➠[হাকিম আল মুস্তাদরাক, হাদীস নং-৭৩৯৮,ইমাম হাকিম বলেন, هذا حديث صحيح الإسناد] (বর্ণনাটি সত্য)
অলীগণের সুপারিশে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ
____________________
অলীগণের সুপারিশে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভঃ
❏ যখন মু'মিন (ওলীগণ) এই দৃশ্যটি অবলোকন করবে যে, তাদের ভাইদেরকে রেখে একমাত্র তারাই নাজাত পেয়েছে, তখন তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমাদের সেসব ভাই কোথায়, যারা আমাদের সঙ্গে সালাত আদায় করত, রোযা পালন করত, নেক কাজ করত। তখন আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে বলবেনঃ তোমরা যাও, যাদের অন্তরে এক দীনার বরাবর ঈমান পাবে, তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে আন। আল্লাহ তাআলা তাদের মুখমন্ডল জাহান্নামের ওপর হারাম করে দিয়েছেন। এদের কেউ কেউ দু'পা ও দু'পায়ের গোরালীর অধিক পর্যন্ত জাহান্নামের মধ্যে থাকবে। তারা যাদেরকে চিনতে পারে, তাদেরকে বের করবে। তারপর এরা আবার প্রত্যাবর্তন করবে (আবার সুপারিশ করবেন)।
আল্লাহ তাদেরকে আবার বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে অর্ধ দীনার পরিমাণ ঈমান পাবে তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। তারা গিয়ে তাদেরকেই বের করে নিয়ে আসবে যাদেরকে তারা চিনতে পারবে। তারপর আবার প্রত্যাবর্তন করবে। আল্লাহ তাদেরকে আবার বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে অনু পরিমাণ ঈমান পাবে, তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। তারা যাদেরকে চিনতে পাবে তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। বর্ণনাকারী সাঈদ খুদরী (رضي الله عنه) বলেনঃ তোমরা যদি আমাকে বিশ্বাস না কর, তাহলে আল্লাহর এ বানীটি পড়ঃ
"আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না। এবং অণু পরিমান পূণ্য কাজ হলেও আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ করেন (সূরা ৪ : আয়াত ৪০)।
❏ সাহল ইবনু সা‘দ (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِيْ بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِيْ حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَيَدْخُلَنَّ مِنْ أُمَّتِيْ سَبْعُوْنَ أَلْفًا أَوْ سَبْعُ مِائَةِ أَلْفٍ لَا يَدْخُلُ أَوَّلُهُمْ حَتَّى يَدْخُلَ آخِرُهُمْ وُجُوْهُهُمْ عَلَى صُوْرَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ
নবী করিম (ﷺ) বলেছেন, আমার উম্মতের সত্তর হাজার লোক অথবা সাত লক্ষ লোক একই সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের কেউ আগে কেউ পরে এভাবে নয়, আর তাদের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জ্বল থাকবে।
➠[সহিহ মুসলিম, কিতাব বাদআল খালক, হাদীস নং-৬৫৪৩,৬৫৫৪]
আক্বিদা রক্ষায় বায়াতের তাৎপর্য
____________________
আক্বিদা রক্ষায় বায়াতের তাৎপর্যঃ
═══════════════
"এক যামানা সোহবতে বা আউলিয়া,
বেহ্তের আযসাদ সালাহ তায়াতে বেরীয়া।
✍ [মাওলানা রূমী (رحمة الله)]
মুর্শিদ বিনে শয়তান যেকোন মুহূর্তে কাউকে পথভ্রষ্ট করতে পারে।
"পাঞ্জেরী তব বিনা, দিশা না মিলায়;
ভবঘুরে জীবন মোর, ঘোর অমানিশায় !"
✍ [এম.বি.সানি]
একজন হক্কানী ওলীয়ে কামেলের সােহবতে না থাকলে শয়তান তাকে বেঈমান পথভ্রষ্ট করতে পারে যে কোন মূহুর্তে।
❏ "যে ব্যক্তি তার গলায় বায়আতের বন্ধন ব্যতীত মৃত্যবরণ করল, সে যেন অজ্ঞতার (জাহেলীয়্যাতের) উপর মৃত্যুবরণ করল।"
➠ তথ্যসূত্রঃ
(১) ইমাম মুসলিম : আস্ সহীহ, বাবু ওজুবি মুলাজামাতি জামা'আতিল মুসলিমীন, ৯:৩৯৩, হাদিস নং : ৩৪৪১।
(২) ইমাম খতিব তাবরিযী : মিশকাতুল মাসাবীহ, কিতাবুল ইমারতি ওয়াল কৃঘাআ, ১ম পরিচ্ছেদ পৃ. ৩৩৬, হাদিস নং : ৩৬৭৪।
(৩) ইমাম বায়হাকী : সুনানুল কুবরা, ৮:১৫৬।
(৪) ইমাম ইবনে বাত্তা : আলি ইবনাতুল কুবরা, বাবু মান খলায় ইয়াদাহু মিন তা'আতি, ১:১৪৯, হাদিস নং : ১৪৪।
(৫) ইমাম হাকেম : মুসতাদরাক আলাস্ সহীহাইন, বাবু ওয়া আম্মা হাদিসী আশ'আস ইবনে জাবের, ১:২৫০, হাদিস নং : ২৩৯।
❏ বিশ্ববিখ্যাত আলেম ইবনুল হাজ্জ আল মালেকী (রহঃ )ওফাত,৭৩৭হি, তার "আল মাদখাল" গ্রন্থে বলেন,
“মুরিদের জন্য এও অবকাশ রয়েছে যে, সে স্বীয় যুগের সমস্ত শায়খ বা পীরের প্রতি ভাল ধারণা পােষণ করবে এবং একজন পীরের দামানের সাথে সম্পৃক্ত থাকবে আর স্বীয় সকল কাজে তার উপরই নির্ভর করবে। অনর্থক সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকবে।"
➠ তথ্যসূত্রঃ
(১) আল্লামা ইমাম শায়খ ইবনুল হাজ্ব : আল মাদখাল : ৩/১৫৫প,
(২) ইমাম আহমদ রেযা খান : আহকামে বায়আত আওর খিলাফত : পৃষ্ঠা নং : ২৫
❏ সূফী কুল সম্রাট ইমাম শা’রানী (رحمة الله) তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ “মিযানুশ শরীয়্যাতুল কুবরা”-এ উল্লেখ করেন,
“আমি (আমার পীর) হযরত আলী খাওয়াছ (رحمة الله) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি শরীয়তের অনুসারীকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন মাযহাব চারটা থেকে নির্দিষ্ট একটি মাযহাবের তাকলীদকে নিজের জন্য অপরিহার্য করে নেয়। আর তরীকতের আলিম মুরিদকে বলেছেন, তারা যেন একজন পীরকে অপরিহার্য করে নেয়।
➠ তথ্যসূত্রঃ
(১) আল্লামা ইমাম শা'রানী : আল মিযানুল কোবরা : ১/২৩ পৃ, মােত্তফা আল বাবা, প্রকাশিত।
(২) ইমাম আহমদ রেযা খান : আহকামে বায়আত আওর খিলাফত : ২৫ পৃ.
আক্বিদা রক্ষায় ইলমের তাৎপর্য
____________________
আক্বিদা রক্ষায় ইলমের তাৎপর্যঃ
═══════════════
ইলম কারো জন্য আশির্বাদ কারো জন্য অভিশাপ। এই নূর হেদায়াত প্রাপ্ত বান্দার ক্বলবকে ঈমান ও আমলের জ্যোতি দ্বারা আলোকিত করে। যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে তাদেরকে অন্ধ করে।
❏ রাসূল (ﷺ) বলেছেন, "ইলমে দ্বীন অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ।"➡ [1]
ইলম দুই প্রকার। যথাঃ
(i) ইলমে শরীয়ত।
(ii) ইলমে মারিফত।
এই দুই প্রকার ইলমই আমাদের মানতে হবে। আল্লাহ পাক বলেন,
❏ "তবে কি তােমরা কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশকে প্রত্যাখান কর? [সূরা বাকারা, ২:৮৫]
❏ ইমাম মালেক (رحمة الله) বলেন,
"শরীয়তের জ্ঞানই শুধু অর্জন করবে যেজন,
কবীরা গুনাহে লিপ্ত হবে সে জন।
শুধু তাসাউফের জ্ঞানই যার সাধন,
কুফরী তারই বন্ধন।
[ইমাম মালেক (رحمة الله) এর বাণী। মােল্লা আলী কারী : মিরকাতুল মাফাতীহ, কিতাবুল ইলম, ১:৩৩৫।]
❏ হাসান বসরী (رحمة الله) বলেন, "যদি ওলামায়ে কেরাম না থাকতেন তবে মানুষ চতুষ্পদ জন্তুর কাতারে নেমে যেত। [হাসান বসরী (رحمة الله) এর বাণী]
❏ "আলেমের কলমের কালিকে শহীদের রক্তের সঙ্গে ওজন করা হবে, তা শহীদের রক্ত অপেক্ষা ভারি হবে।"
[হাসান বসরী (رحمة الله) এর বাণী।]
❏ আল-মুসিলী (رحمة الله) বলেন,
"অন্তরকে যদি ইলম থেকে বঞ্চিত করা হয় তবে তার মৃত্যু ঘটবে। [ফাতহ আল-মুসিলী (رحمة الله) এর বাণী।]
❏ "বেশি বেশি বর্ণনা ও আক্ষরিক জ্ঞান হাসিল করার নাম ইলম নয়।" [আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (رضي الله عنه) এর বাণী]
❏ "বেশি বেশি মাসআলা জানার নাম ইলম নয়।
[ইমাম মালেক (رحمة الله) এর বাণী।]
ফিত্না বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হল ইলমহীন, অপরিপক্ক যুবকদের বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা। অথচ ইলম সম্পর্কে বলা হয়েছে,
❏ "এই ইলম দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত সুতরাং কার থেকে দ্বীন শিখতে যাচ্ছ তাকে আগে দেখে নাও।"➡ [2]
❏ "হাদিস জানার চেয়ে তার ব্যাখ্যা জানা আগে জরুরি। [ইমাম ইবনে সীরীন (رحمة الله) এর বাণী]
ইলম হেদায়াতপ্রাপ্ত বান্দার জন্য আশির্বাদ আর পথভ্রষ্টদের জন্য অভিশাপ।
❏ "হক্কানী আলিমগণ নবীগণের উত্তরাধিকারী।”➡ [3]
❏আর, "পথভ্রষ্ট আলিমগণ দাজ্জাল অপেক্ষা ভয়ংকর।"➡[4]
❏ "তারা ইলম ছাড়া ফাতওয়া দিয়ে নিজেও পথভ্রষ্ট হবে, অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।"➡ [5]
অথচ ইলম ও আলেমের এতই ফজিলত যে, রোজদার ব্যক্তির ঘুম যেমন ইবাদত তেমনি আলেমের ঘুমও ইবাদত বলে গন্য করা হয়েছে।
❏ হযরত সালমান ফারছী (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আলিমের ঘুম অজ্ঞ লোকের নফল নামাজের চেয়েও উত্তম।” ➡ [6]
═══════════════
তথ্যসূত্রঃ
[1]
হযরত আনাস (رضي الله عنه) সূত্রে।
১.ইমাম বায়হাক্বী: শুয়াইবুল ঈমান, ২য় খন্ড,৭২৪ পৃ: হজরত আনাস (رضي الله عنه) থেকে ৬টি সনদে উল্লেখ আছে।
২.মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদিস নং ২৮৪৭।
৩.ইমাম তাবারানী তাঁর ‘আওছাতে আনাস (رضي الله عنه) থেকে, ২য় খন্ড, ৪৮ পৃ: ও ৬ষ্ঠ খন্ড, ২১৯, ২৯৮ ও ২৩১ পৃ।
৪.খতিবে বাগদাদী : তারিখে বাগদাদ, ১ম খন্ড, ৪০৭ পৃঃ।
৫.সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২২৪।
৬.মুসনাদে বাজ্জার, হাদিস নং ৬৭৪৬।
৭.মিসকাত শরীফ : ইলিম অধ্যায়ে হাদিস নং ২১৮।
৮.ইমাম ইবনে আদী তার কামিলে' ৫ম খন্ড, ২৪২ পৃ
৯.ইমাম তাবারানী: মুজামুল আওসাত, হাদিস/৯; হজরত আনাস (رضي الله عنه) থেকে।
১০.ইমাম হিন্দী: কানজুল উম্মাল, ১০ম খন্ড, ৫৭-৬০ পৃ: এরূপ মােট ৮টি হাদিস বিভিন্ন সাহাবী থেকে বর্ণিত রয়েছে।
১১.হাফিজ ইমাম উকাইলী (رحمة الله) তাঁর কিতাবুদ দ্বোয়াফায়’ ইবনে উমর (رضي الله عنه) থেকে।
১২.ইমাম আবু নুয়াইম তাঁর হুলিয়াতে’ ৮ম খন্ড, ৩২৩ পৃঃ।
১৩.ইমাম আজলুনী: কাশফুল খফা, ২য় খন্ড, ৫৬ পৃঃ; হা: নং ১৬৬৫।
হযরত আনাস (رضي الله عنه) থেকে বর্নিত হাদিসটির বিভিন্ন সূত্রঃ
☛ ইমাম ইবনে সিরিন (رحمة الله) সূত্রে।
☛ মুছান্না ইবনে দিনার (رحمة الله) সূত্রে।
[মুজমায়ে ইবনে আরাবী, হাদিস নং ২০৯৫]
☛ আছিম আহওয়াছ (رحمة الله) সূত্রে।
[ইমাম তাবারানী: মুজামুল আওছাত, হাদিস নং ২০০৮]
☛ যিয়াদ ইবনে মায়মুন (رحمة الله) সূত্রে।
[ইমাম তাবারানী: মুজামুল আওছাত, হাদিস নং ২৪৬২]
☛ ইমাম যুহুরী (رحمة الله) সূত্রে।
[ইমাম তাবারানা: মুজামুল আওছত, হাদিস নং ৮৩৮১]
☛ ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবী ত্বলহা (رحمة الله) সূত্রে।
[ইমাম তাবারানী: মুজামুল কবীর, হাদিস নং ২০৮৪]
☛ মাকহুল (رحمة الله) এর সূত্রে।
[ইমাম তাবারানী: মুসনাদে শামেঈন, হাদিস নং ৩৩৭৫]
[2]
ইমাম ইবনে সীরীন (رحمة الله) সূত্রে।
[মুসলিম ১/১৪ পৃঃ]
[3].
১.সুনানে আবী দাউদ, হা: নং ৩৬৪১।
২.তিরমিজি শরিফ, ২৬৮২ নং হা।
৩.সুনানে ইবনে মাজাহ, হা: নং ২২৩।
৪.মুসনাদে আহমদ, ৫ম খন্ড, ১৯৬ পৃ:।
৫.ইমাম তাহাবী: শরহে মুশকিলুল আছার, হাদিস নং ৯৮২।
৬.মুজামে ইবনে আরাবী, হাদিস নং ১৬০৯।
৭.ছহীহ্ ইবনে হিব্বান, ১ম খন্ড, ২৮৯ পৃ:।
৮.ইমাম তাবারানী: মুসনাদে শামেঈন, হাদিস নং ১২৩১।
৯.মুসনাদে শিহাব, হাদিস নং ৯৭৫।
১০.ইমাম বায়হাক্বী: আল আদাব, হাদিস নং ৮৬২।
১১.ইমাম বায়হাকী: মাদখাল, হাদিস নং ৩৪৭।
১২.তাফছিরে রুহুল মায়ানী, ১৬ তম খন্ড, ৬২৭ পৃ:।
১৩.তাফছিরে রুহুল বয়ান, ৫ম খন্ড, ৫৮৫ পৃ।
১৪.ইমাম গাজ্জালী: মুকাশাফাতুর কুলুব, ১ম খন্ড।
[4].
আবূ যর (رضي الله عنه) সূত্রে, রাসূল (ﷺ) থেকে।
[মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২০৩৩৫]
[5].
১.সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং-৪৫৭১,
২.বুখারী শরীফ, হাদিস নং-১০০,
৩.সহীহ মুসলিম শরীফ, হাদিস নং-৬৯৭১,
৪.মুসনাদুস শিহাব, হাদিস নং-৫৮১
[6].
উক্ত হাদিসের সূত্রসমূহঃ
☛ হযরত সালমান ফারছী (رضي الله عنه) সূত্রে।
☛ হযরত আলী (رضي الله عنه) সূত্রে।
☛ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আওফা (رضي الله عنه) সূত্রে।
(i)
১.ইমাম আবু নুয়াইম: হিলিয়াতুল আউলিয়া, ৪র্থ খন্ড, ৩৮৫ পৃঃ।
২.আল্লামা মানাভী: ফায়জুল কাদির, হদিস নং ১২৭৪১।
৩.আত তানভীর শরহে জামেউছ ছাগীর, হাদিস নং ৯২৭৫।
৪.ইমাম সুয়ূতী, ফাতহুল কবীর, হাদিস নং ২৩।
৫.ইমাম হিন্দী: কানজুল উম্মাল, হাদিস নং ২৮৭১১।
৬.ইমাম আযলুনী; কাশফুল খাফা, হাদিস নং ২৮৬৭।
(ii)
উক্ত হাদিসের অন্যান্য রেফারেন্স।
১.মুসনাদে ফেরদৌস, হাদিস নং ৬৭৩১।
২.ইমাম গাজ্জালী: এহইয়ায়ে উলুমুদ্দিন, ১ম খন্ড, ৩৪৩ পৃ:।
৩.ইমাম মােল্লা আলী: আসরারুল মারফুয়া, হাদিস নং ৫৬৭।
৪.গাউছে পাক: সিররুল আছরার, ৬০ পৃ।
৫.তাফছিরে রুহুল বয়ান, সূরা যারিয়াতের ১৫-১৯ নং আয়াতের তাফছিরে।
৬.বাহরুল মাদিদ ফি তাফছিরিল কুরআনিল মাজিদ, ৫ম খন্ড, ৫৬৯ পৃ:।
৭.তাফছিরে মাজহারী, ৬ষ্ঠ, খন্ড, ১৮৯ পৃঃ।
৮.ইমাম সূয়ূতী: শরহু সুনানু ইবনুে মাজাহ, ১ম খন্ড, ৯৮ পৃঃ।
৯.ইমাম মােল্লা আলী কারী : মেরকাত শরহে মেসকাত, ৬০৩৪ নং হাদিসের ব্যাখ্যায়।
১০.আল্লামা মানাভী: আত, তাইছির বি’শরহে জামেইছ ছাগীর, ২য় খন্ড, ৪৬২ পৃ:।
১১.আত তানভীর শরহে জামেউছ ছাগীর, ২য় খন্ড, ৫৪৫ পৃ:।
১২.তাখরিজু আহাদিসুল এহইয়া, হাদিস নং ৫।
১৩.ইমাম আজলুনী: কাশফুল খফা, হাদিস নং ২৮৩৯।
১৪.মাজমুয়ায়ে ফাতওয়া, ৭ম খন্ড, ৪৪ পৃঃ।
১৫.কুওয়াতুল কুলুবে ফি মুয়ামালাতিল মাহবুব, ১ম খন্ড, ৬৭ পৃ:।
১৬.তাফছিরে কবীরের” ২য় জি: ১৮৯ পৃ:
(iii)
“হজরত আলী (رضي الله عنه) সূত্রে।
(ইমাম হিন্দী: কানজুল উম্মাল, হাদিস নং ২৯৩৮৬)।
(iv)
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আওফা (رضي الله عنه) থেকে জয়ীফ সনদে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম অজিলুনী (رحمة الله) তিনি ইমাম বায়হাকী (رحمة الله) সূত্রে : কাশফুল খফা।
দ্বীনকে খন্ড-বিখন্ডিত না করা
____________________
দ্বীনকে খন্ড-বিখন্ডিত না করাঃ
═══════════════
আল্লাহ সুবহানু তা'য়ালা আল-কুরআনে বলেন,
"তোমরা সকলে আল্লাহর রুজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধর, পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যেওনা।" ➠[আল ইমরান: ১০৩]
‘নিশ্চয়ই যারা তাদের দ্বীনকে বিভিন্ন দলে ও উপদলে খন্ড-বিখন্ড করেছে।"
➠[সূরা রুম ৩১, মুমিনূন ২৩/৫৩, আন‘আম ৬/১৫৯]
"প্রত্যেক দলই নিজেরটা নিয়েই সন্তুষ্ট।"
➠[সূরা রুম,আয়াত ৩১, মুমিনূন ২৩/৫৩]
"এইভাবে আমি প্রত্যেক জাতির দৃষ্টিতে তাদের কার্যকলাপ সুশােভন করেছি।”➠[আল-আন'আম ১০৮]
"তাদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই।"
➠[আন‘আম ১৫৯]
"অতএব কিছুকাল তাদেরকে তাদের বিভ্রান্তির মধ্যে নিমজ্জিত থাকতে দিন।" ➠[মুমিনূন ২৩/৫৩]
দ্বীনকে খন্ড-বিখন্ডিত না করা
____________________
দ্বীনকে খন্ড-বিখন্ডিত না করাঃ
═══════════════
আল্লাহ সুবহানু তা'য়ালা আল-কুরআনে বলেন,
"তোমরা সকলে আল্লাহর রুজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধর, পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যেওনা।" ➠[আল ইমরান: ১০৩]
‘নিশ্চয়ই যারা তাদের দ্বীনকে বিভিন্ন দলে ও উপদলে খন্ড-বিখন্ড করেছে।"
➠[সূরা রুম ৩১, মুমিনূন ২৩/৫৩, আন‘আম ৬/১৫৯]
"প্রত্যেক দলই নিজেরটা নিয়েই সন্তুষ্ট।"
➠[সূরা রুম,আয়াত ৩১, মুমিনূন ২৩/৫৩]
"এইভাবে আমি প্রত্যেক জাতির দৃষ্টিতে তাদের কার্যকলাপ সুশােভন করেছি।”➠[আল-আন'আম ১০৮]
"তাদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই।"
➠[আন‘আম ১৫৯]
"অতএব কিছুকাল তাদেরকে তাদের বিভ্রান্তির মধ্যে নিমজ্জিত থাকতে দিন।" ➠[মুমিনূন ২৩/৫৩]
যা আঁকড়ে ধরলে পথভ্রষ্ট হবে না
____________________
যা আঁকড়ে ধরলে পথভ্রষ্ট হবে নাঃ
═══════════════
❏ "তোমরা আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরষ্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।" ➠ [আল ইমরান ৩/১০৩]
❏ হযরত মালেক বিন আনাস (رضي الله عنه) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন,
"আমি তোমাদের মধ্যে দুটি মূল্যবান ভারী বস্তু রেখে যাচ্ছি, যা তোমরা আঁকড়ে ধরলে কখনও পথভ্রষ্ট হবে না। তা হলঃ "আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাত।
➠ [মুয়াত্তা ইমাম মালেক, মিশকাত শরীফ-৩১ পৃঃ]
❏ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন,
"আমি তোমাদের মধ্যে দুটি মূল্যবান ভারী বস্তু রেখে যাচ্ছি, যা তোমরা আঁকড়ে ধরলে কখনও পথভ্রষ্ট হবে না। তা হলঃ "আল-কুরআন ও আমার আহলে বাইআত।"
➠ [ইমাম আহমদঃ আল মুসনাদ- ৩: ৩৯৩ (১০৭৪৭), আবু ইয়ালা-২:৬ (১০১৭)/ ৯:(১০২৩)/ ৪৭:(১১৩৫)]
❏ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন,
"তোমরা আমার এবং আমার খোলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে অাঁকড়ে ধর।"
➠ সূত্রঃ
১.সুনানু আবি দাউদ, খ ৪, পৃঃ ২০১, হাদিস নং ৪৬০৮;
২.মিশকাত হা/১৬৫।
৩.সুনানু ইবনে মাজাহ, খ ১, পৃঃ ১৫, হাদিস নং ৪২;
৪.সুনানু তিরমিযি, খ ৪, পৃঃ ৩৪১, হাদিস নং ২৬৭৬
❏ আল্লাহ তায়ালা বলেন,
"রাসুল তোমাদের জন্য যা নিয়ে এসেছেন, তা আঁকড়ে ধর এবং যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাক।
➠ [সূরা হাশর ৭]
যাদের প্রতি ভালবাসা ঈমানের অঙ্গ
____________________
যাদের প্রতি ভালবাসা ঈমানের অঙ্গঃ
➖➖➖➖➖➖➖➖➖
আল্লাহ ও রাসূলের[ﷺ] প্রতি ভালবাসা ঈমানের অঙ্গঃ
"অবলুন্ঠিত, অবিমিশ্র মায়া,
ঘেঁচড়া নিহীত ক্ষীণ অন্তর-কায়া!
হে রাসূল (ﷺ) -
তব প্রেমের ক্ষুরধার খঞ্জরে,
বিলীন এ সফরনামা।
✍ [এম.বি.সানি]
❏ "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তোমাদের মাতা-পিতা, সন্তান-সন্ততি ও সমস্ত মানুষ থেকে অধিকতর প্রিয় না হব। [33]
❏ "তার জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয় না হব।" [34]
"মগযে কুরআ, রূহে ঈমা, জানে দ্বী;
হাস্তে হুব্বে রাহমাতুল্লিল আলামীন।"
✍ [আল্লামা ইকবাল (رحمة الله)]
❏ "হে ঈমাণদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অগ্রবর্তী হইওনা। তোমরা নবীজীর কন্ঠস্বরের উপর নিজেদের কন্ঠস্বরকে উঁচু করোনা। এতে তোমাদের সমুদয় কর্মফল নিষ্ফল হয়ে যাবে, তোমরা টেরও পাবেনা। [35]
আহলে বাইয়াতের প্রতি ভালবাসা ঈমানের অঙ্গ। [36]
"ইশকের নহরে, জীবন প্রহরে,
ভালবাসার শাখা-শৃঙ্খলে,
বিন্দু ফোঁটায় সিন্ধু বইছে।"
✍ [এম.বি.সানি]
আহলে বাইআত মুক্তির দিশারী, ইমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ
____________________
আহলে বাইআত মুক্তির দিশারী, ইমানের অবিচ্ছেদ্য অংশঃ
❏ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত,
أخرج البزار عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول اللهﷺ مثل أهل بیتی مثل سفينة نوح، من ركبها نجا، ومن تركها غرق ؛
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, “আমার পরিবারবর্গ (আহলে বাইত) এর উদাহরণ হচ্ছে হযরত নূহ (عليه السلام) এর নৌকার মত, যে তাতে আরােহণ করল সে মুক্তি পেল। আর যে তাকে ছেড়ে দিল (আরােহণ করলনা) সে ডুবে গেল”। ➠[1]
❏ হযরত আবু সাইদ খুদরী (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত,
أخرج ابن عدي في الإكليل عن أبي سعيد الخدری رضي الله عنه قال: قال رسول اللهﷺ: من أبغضنا أهل البيت، فهو منافق ؛
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, "যারা আহলে বায়আতের সাথে বিদ্বেষ রাখে তারা মুনাফিক।" ➠[2]
❏ ইমাম আহমদ, ইমাম তিরমিজী (তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন) ইমাম নাসায়ী এবং হাকেম প্রমূখ হযরত মুত্তালিব ইবনে রাবীয়াহ্ (رضي الله عنه) হতে বর্ণনা করেন,
أخرج أحمد، والترمذي وصححه، والنسائی، والحاکم عن المطلب بن ربيعة رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (والله لا يدخل قلب امریء مسلم إيمان، حتى يحبكم للهولقرابتی)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরশাদ করেছেন, আল্লাহর শপথ! ততক্ষণ পর্যন্ত কোন মুসলিমের ক্বলবে ঈমান প্রবেশ করবেনা, যতক্ষন সে তােমাদেরকে আল্লাহ ও আমার নিকটাত্মীয়দের কারণে (ওয়াস্তে) ভালবাসবেনা।➠[3]
❏ হযরত সালমা ইবনে আকওয়া' (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
أخرج ابن أبي شيبة، ومسدد فی مسنديهما، والحكيم الترمذي في نوادر الأصول، وأبو يعلى، والطبراني عن سلمة بن الأكوع رضي الله عنه قال: قال رسول الله ﷺ النجوم أمان لأهل السماء وأهل بیتی أمان لأمتی؛
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, ‘তারকারজি হচ্ছে আসমানের অধিবাসীদের জন্য নিরাপত্তা আর আমার পরিবারবর্গ (আহলে বাইত) হচ্ছে, আমার উম্মতের জন্য নিরাপত্তা। ➠[4]
❏ ইমাম আহমদ, আবু ই'য়ালা প্রমূখ হযরত আবু সাঈদ খুদরী (رضي الله عنه) থেকে বর্ণনা করেন যে,
أخرج أحمد وأبو يعلى، عن أبي سعيد الخدری رضی الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إنی أوشك أن أدعى فأجيب، وإني تارك فيكم الثقلين كتاب الله و عترتی أهل بیتی. وإن اللطيف الخبير خبرنی، أنهما لن يتفرقا حتى یردا على الحوض، فانظروا كيف تخلفونی فيهما؛
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, "নিশ্চয় আমি তােমাদের জন্য দুটি খুবই গুরুত্বপুর্ণ জিনিস রেখে যাচ্ছি, (তা হচ্ছে) কিতাবুল্লাহ (কুরআন) এবং আমার পরিবার পরিজন তথা আহলে বায়ত। আর সুক্ষ্ম দ্রষ্টা (আল্লাহ) আমাকে খবর দিয়েছেন যে, তারা উভয়ে (কুরআন এবং আমার আহলে বায়ত) কখনাে পৃথক হবেনা যতক্ষণ না উভয়ে আমার নিকট হাউজে কাউছারের নিকট মিলিত হয়। সুতরাং আমার পরে তােমরা তাদের সাথে কেমন ব্যবহার করছ তা লক্ষ্য রেখ।➠[5]
❏ ইমাম তিরমিজী (তিনি হাদীছটিকে হাসান বলেছেন) ও ইমাম তাবরানী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
أخرج الترمذي وحسنه، والطبراني عن ابن عباس رضی الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أحبوا الله لما يغذوكم به من نعمه، وأحبونی لحب الله، وأحبوا أهل بیتی لحبی۔
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, “আল্লাহ তা'আলা তার নেয়ামতরাজি দ্বারা তােমাদেরকে যেভাবে পানাহার করান তার জন্য তাকে ভালবাস। আর আল্লাহর ভালবাসা পেতে আমাকে ভালবাস, আর আমার ভালবাসা পেতে আমার পরিবার-পরিজনকে ভালবাস।➠[6]
❏ ইবনে হিব্বান তার 'সহীহ'তে এবং ইমাম হাকেম প্রমূখ হযরত আবু সাঈদ (رضي الله عنه) থেকে বর্ণনা করেন,
أخرج ابن حبان في صحيحه والحاكم عن أبی سعید رضی الله عنه قال: قال رسول اللهﷺ والذي نفسي بيده، لا يبغضنا أهل البيت رجل، إلأ أدخله الله النار؛
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, “শপথ তার, যার হাতে আমার প্রাণ! যে ব্যক্তিই আমার পরিবারবর্গের (আহলে বাইত) প্রতি ঘৃণা পােষণ করবে তাকে আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।➠[7]
❏ ইমাম তাবরানী ‘আল আওসাত’ এ হযরত হাসান ইবনে আলী (رضي الله عنه) থেকে বর্ণনা করেন যে,
أخرج الطبراني في الأوسط عن الحسن بن علی رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: الزموا مودتنا أهل البيت، فإنه من القى الله وهو يودنا، دخل الجنة بشفاعتنا. والذي نفسي بيده، لا ينفع عبدا عمل عمله، إلا بمعرفته حقنا؛
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, আমার আহলে বাইত বা পরিবারবর্গের সাথে ভালবাসাকে আবশ্যক করে নাও। কেননা, যে ব্যক্তিই আল্লাহর সাথে এ অবস্থায় সাক্ষাত করবে যে, সে আমাদেরকে ভালবাসে, সে আমাদের শাফায়াত বা সুপারিশের দ্বারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহর কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, কোন বান্দার আমল ততক্ষন কাজে আসবে না, যতক্ষন না সে আমাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে (রক্ষা করবে)।➠[8]
═══════════════
➠[1] তথ্যসূত্রঃ
❏ হাদিস ১:
ইমাম বাযযার (رحمة الله) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) এর সূত্রে।
সূত্রঃ
১. কাশফুল আসতার-হাইছামী, ৩:২২২ (২৬১৫)।
২. মাজমাউয যাওয়ায়েদ -৯:১৬৮।
৩. মু'জামুল কাবীর- তাবরানী, ৩:৪৬ (২৬৩৮)।
৪. আল-হুলিয়্যাহ- আবু নঈম, ৪:৩০৬।
হাদিসটির অন্যান্য সূত্রঃ
❏ হাদিস ২:
ইমাম বাযযার (رحمة الله) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (رضي الله عنه)'র সূত্রে।
সূত্রঃ
১. কাশফুল আসতার-হাইছামী, ৩:২২২ (২৬২৩)।
২. মাজমাউয যাওয়ায়েদ-৯:১৬৮।
❏ হাদিস ৩:
ইমাম তাবরানী (رحمة الله) হযরত আবু যর (رضي الله عنه) এর সূত্রে বর্ণনা করেন।
সূত্রঃ
১. আল-মু'জামুল আওসাত-৪:২৮৩ (৩৫০২)/৬:২৫১ ৫৫৩২)।
২. আল-মু'জামুস সাগীর, ১:১৩৯।
৩. আল মুসতারিক, ইমাম হাকেম, ২:৩৭৩ (৩৩১২)।
৪. মুখতাসারু ইত্তিহাফুল খাইর, ৫:২১১ (৭৫৪০)।
৫. কাশফুল আসতার, হইছামী, ৩:২২২ (২৬১৪)।
৬. মুসনাদে ইমাম আহমদ
৭. মিশকাত শরীফ ৫৭০ পৃষ্ঠা
❏ হাদিস ৪:
ইমাম তাবরানী (رحمة الله) আরেকটি সূত্রে সংকলন করেন।
সূত্রঃ
১. আল-মুজামুল আওসাত-৬:৪০৬ (৮৫৬৬)।
২. আল মু'জামুস সাগীর-২:২২।
➠[2] তথ্যসূত্রঃ
১. ফাযায়িলুস সাহাবা : ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল , ২য় খন্ড:৬৬১, হাদিস-১১২৬ ।
২. মুহিব্বে তাবারী : যখায়েরুল উকবা , পৃষ্টা-৫১।
৩. তাফসীরে আদ-দুররুল মুনসুর: আল্লামা সুয়ুতী , ৭ম:৩৪৯ ।
৪. শেত্ব মুক্তা নবী তনয়া ফাতেমাতুয যোহরা : শায়েখুল ইসলাম ড: তাহের আল কাদেরী, পাকিস্তান, পৃষ্টা-৪৪
৫. ‘জাওয়াহেরুল ইকদিয়্যীন- ইমাম সামহুদি-২:২৫।
৬. আহমদ মুসনাদ এ ইমাম দায়লামী কর্তৃক বর্ণিত হযরত জাবের (رضي الله عنه) এর এই হাদীসটির পক্ষেও স্বাক্ষ্য দেন।
ما کنا نعرفُه المنافقین الاببغضهم علیا رضی الله عنه
অর্থ: আমরা এমন কোন মুনাফিক দেখিনি যে আলী (رضي الله عنه) কে ঘৃণা করতনা।
৭. হাদীসটি ইমাম আহমদ ও তিরমীজি বর্ণনা করেছেন। তবে শব্দগত বর্ণনা ইমাম আহমদের।
৮. ইবনে আদি ‘আল ইক্বলীল' গ্রন্থে বর্ণনা করেন।
➠[3] তথ্যসূত্রঃ
১. মুসনাদ এ ইমাম আহমদ ১:৩৪২ (১৭৮০)/৫:১৭২ (১৭০৬১)।
২. তিরমীজি- ৫: ৬১০ (৩৭৫৮)।
৩. নাসায়ী-৫:৫১ (৮১৭৫)।
৪. আল মুসতাদরিক- ৪:৮৫:৬৯৬০।
৫. তিবরিযিঃ মিশকাত পৃঃ ৫৭০।
➠[4] তথ্যসূত্রঃ
হযরত ইবনে আবিশ শায়বা এবং মুসাদ্দাদ উভয়ে তাদের ‘মুসনাদ'-এ হাকীম তিরমিজী ‘নাওয়াদেরুল উসূল’-এ আবু ইয়ালা এবং তাবরানী প্রমূখ হযরত সালমা ইবনে আকওয়া' (رضي الله عنه) থেকে বর্ণনা করেন।
১. আল-মাতালিবুল আলিয়া-ইবনে হাজর আল আসকালানী - ৪:২৬২ (৩৯৭২)।
২. মুখতাসারু ইত্তিহাফুস সাদাতিল মাহরা-বুসিরী-৫:২১০ (৭৫৩৬)।
৩. নাওয়াদিরুল উসূল, ২:১৯৯।
৪. আল মু'জামুল কাবীর- তাবরানী ৭:২২ (৬২৬০)।
৫. আল মারিফাতু ওয়াত তারীখু-আল ফাসভী- ১:৫৩৮।
৬. যাবায়েরুল উকবা- আত্বাবারী, পৃষ্ঠা- ৪৯।
৭. কানযুল উম্মাল- আল মুত্তাকি আল হিন্দ-১২:১০১।
৮.আল-মসনদ-আর রুয়ানী -২:২৫৩ (১১৫২)/২৫৮(১১৬৪/১১৬৫)।
➠[5] তথ্যসূত্রঃ
➠সূত্র ১:
হযরত আবু সাঈদ খুদরী (رضي الله عنه) সূত্রেঃ
১.ইমাম আহমদঃ আল মুসনাদ- ৩: ৩৯৩ (১০৭৪৭)।
২.আবু ইয়ালা-২:৬ (১০১৭)/ ৯:(১০২৩)/ ৪৭:(১১৩৫)।
৩.ইবনে আবি শাইবাহ, ইবনে সা'দ।
৪.ইমাম মুত্তাকি আল হিন্দীঃ কাঞ্জুল উম্মাল ১ম খন্ডের ৪৭ পৃষ্ঠা, হাদিস নং ৯৪৫।
➠সূত্র ২:
হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) সূত্রে।
১.হায়সামীঃ কাশফুল আসতার, ৩:২২৩ (২৬১৭),
২.হায়সামীঃ মাজমাউজ জাওয়ায়েদ-৯:১৬৩।
৩.ইমাম বাযযারঃ মুসনাদে বাযযার।
➠সূত্র ৩:
হযরত আলী (رضي الله عنه)'র সূত্রে বর্ণনা করেন।
১.হায়সামীঃ কাশফুল আসতার-৩:২২১ (২৬১২)।
২.হায়সামীঃ মাজমাউজ জাওয়ায়েদ - ৯:১৬৩।
৩.ইমাম বাযযারঃ মুসনাদে বাযযার।
➠সূত্র ৪:
হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম (رضي الله عنه) সূত্রে।
১.মুসলিম শরীফ হাদিস নং- ৬০০৯
২.কাঞ্জুল উম্মালঃ ১ম খন্ড ৪৪ পৃষ্ঠা।
৩.সূনান আত তিরমিজী, অধ্যায়ঃ ৪৬/ রাসূলুল্লাহ ﷺ ও তার সাহাবীগণের মর্যাদা। হাদিস নম্বরঃ ৩৭৮৮ | পরিচ্ছদঃ ৩২. আহলে বাইত-এর মর্যাদা।
৪.সহীহঃ মিশকাত (৬১৪৪),
৫.রাওযুন নায়ীর (৯৭৭, ৯৭৮),
৬.সহীহাহ (৪/৩৫৬-৩৫৭)।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
➠সূত্র ৫:
হযরত ইয়জিদ বিন হাইয়্যান (رضي الله عنه) সূত্রে।
১.সহিহ মুসলিম : ২য় খন্ড, পৃ. ৩৭৯, ৭ম খণ্ড,পৃ. ১২২; হাদিস নং ৫৯২০, ৫৯২৩। অধ্যায়ঃ হযরত আলী (رضي الله عنه) এর জ্ঞান।
২.সুনানে দারেমীঃ ২য় খণ্ড, পৃ. ৪৩১-৪৩২।
৩.মুসনাদে আহমাদ,৩য় খণ্ড,পৃ. ১৪,১৭,২৬,৫৯; ৪র্থ খণ্ড,পৃ. ৩৬৬,৩৭১; ৫ম খণ্ড,পৃ: ১৮২,১৮৯;
৪.মুসতাদরাকে হাকেম,৩য় খণ্ড,পৃ. ১০৯,১৪৮,৫৩৩
➠সূত্র ৬:
যায়দ ইবনে সাবিত (رضي الله عنه) সূত্রে।
১. মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল: ১ম খন্ড, ৫ম অধ্যায়, হাদিস-২, পৃষ্টা-১৫৬, ৫ খন্ডের ১৮২ পৃষ্ঠা, ৫ খন্ডের ১৮৯ পৃষ্ঠা, ১৭তম খ-, পৃ. ২১১, হাদীস ১১১৩১।
২. তিরমিজি ; আস সহীহ, ৬ খন্ড, হাদিস নং-৩৭৮৬, ৩৭৮৮।
৩. মুসলিম; আস-সহীহ, ৬ খন্ড, হাদিস নং-৬০০৭, ৬০১০।
৪. নাসাঈঃ আল-খাসায়িস, পৃ. ১১২, হাদীস ৭৮;
৫. মিশকাত, ১১ খন্ড, হাদিস নং-৫৮৯২, ৫৮৯৩ ।
৬. আবু ইয়ালাঃ আল-মুসনাদ, ২য় খ-, পৃ. ২৯৭, হাদীস ১০২১;
৭. ইবনে আবি আসিম, কিতাবুস সুন্নাহ, পৃ. ৬৩০, হাদীস ১৫৫৫;
৮. তাবারানী, সুলাইমান, ৫ম খ-, পৃ. ১৬৯, হাদীস ৯৮০ ও ৪৯৮১।
৯. ইমাম হাকিম নিশাপুরিঃ মুস্তাদরাক আল হাকিমঃ ৩য় খন্ড, ১৪৮ পৃষ্ঠা। ইমাম হাকিম বলেন,''বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
ইমাম যাহাবিও তাঁর তালখিসে মুস্তাদরাক' গ্রন্থে তা স্বীকার করেছেন।
১০. কাঞ্জুল উম্মাল, হাদিস নম্বর-৮৭৩।
নাসায়ী,
১১. ইবনে মাগাযিলী, মানাকিব, পৃ. ২৩০, হাদীস ২৮৩;
১২. ইমাম সুয়ূতীঃ আল জামেউস সাগীরঃ ৩য় খন্ডঃ ১৪ পৃ। (সহিহ বলেছেন)
১৩. ইমাম হায়তামীঃ মাজমাউয-যাওয়াঈদঃ ৯ম খন্ড, ১৬৫ পৃ। (বর্ণনাকারীগণ বিশ্বাসযোগ্য)
১৪. মাদারেজুন নাবুয়াত: আব্দুল হক মুহাদ্দেস দেহলভী, ৩খন্ড, পৃঃ-১০৫ ।
১৫. ইযাযাতুল খিফাঃ শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী, খঃ-১, পৃঃ-৫৬৬।
➠সূত্র ৭:
হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আল আনসারী (رضي الله عنه) সূত্রে।
১.সূনান আত তিরমিজী / অধ্যায়ঃ ৪৬/ রাসূলুল্লাহ ﷺ ও তাঁর সাহাবীগণের মর্যাদা।পরিচ্ছদঃ ৩২. আহলে বাইআত-এর মর্যাদা,
হাদিস নম্বরঃ ৩৭৮৬।
২.মিশকাত শরীফ - ৫৬৫ পৃঃ
৩.সুনানে নাসায়ী।
৪.ইমাম মুত্তাকী হিন্দীঃ কাঞ্জুল উম্মাল, ১ম খন্ড ৪৪ পৃষ্ঠা।
➠[6] তথ্যসূত্রঃ
১. তিরমীজি- ৫:৬৩৩ (৩৭৮৯), আর তিনি বলেছেন, হাদীছটি হাসান গরীব।
২. আল মুজামুল কবীর-ইমাম তাবরানী-৩:৪৬ (২৬৩৮)।
৩. আল মুসতাদরিক- ইমাম হাকেম- ৩: ১৬২ (৪৭১৬), আর তিনি বলেছেন, হাদীছটি সনদের দিক দিয়ে সহীহ, তবে তারা হাদীছটি বর্ণনা করেননি।
অনুরূপ বলেছেন, ইমাম যাহাবী এবং ইমাম বায়হাকী তার শুয়াবুল ঈমানে (২:১৩০/১৩৭৮)।
➠[7] তথ্যসূত্রঃ
১. সহীহ ইবনে হিব্বান (আল ইহসান) ১৫:৪৩৫ (৬৯৭৮)।
২. আল মুসতাদরিক-৩:১৬২ (৪৭১৭) এবং তিনি বলেন, এই হাদিসটি ইমাম মুসলিমের শর্ত মতে সহীহ বা বিশুদ্ধ। তবে তারা উভয়ে এ হাদীছটিকে বর্ণনা করেননি। আর ইমাম যাহাবী এ হাদিছের ব্যাপারে চুপ থেকেছেন।
➠[8] তথ্যসূত্রঃ
১. আর মু'জামুল আওসাত, ৩:২২ (২২৫১)।
২. কাজী আয়াজ (রাহমাতুল্লাহি তা'আলা আলাইহি) তাঁর শেফা -(৩:৪৮) কিতাবে বলেছেন, কোন কোন আলেম বলেন, معرفتهم অর্থ হচ্ছে নবী করীম (ﷺ) এর মর্যাদা সম্পর্কে জানা। আর যখন তারা (উম্মত) এ সম্পর্কে জানবে তখন তারা তার (নবী করীম (ﷺ)) কারণে তাদের (আহলে বাইতে) অধিকার ও সম্মান সম্পর্কে জানবে।
আক্বাঈদে আহলুস-সুন্নাহ পরিচিতি
____________________
আক্বাঈদে আহলুস-সুন্নাহ পরিচিতিঃ
➖➖➖➖➖➖➖➖➖
আয়াতঃ
“সেদিন কোন মুখ উজ্জ্বল হবে, আর কোনটা কালো। যাদের মুখ কালো হবে, তাদরেকে বলা হবেঃ "তোমরা কি ঈমান আনার পর কাফির হয়ে গিয়েছিলে?"
[সূরা আল-ইমরান ১০৬]
🕋 তফসীরঃ
"কিয়ামতের দিন যাদের মুখ উজ্জ্বল হবে তারা হল "আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত" আর যাদের মুখ কালো হবে তারাই আহলুল বিদআত। ➠[1]
🕋 হাদিসঃ
"আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। ১টি দল ব্যতীত সকলেই জাহান্নামে যাবে। প্রশ্নোত্তরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, “আমি এবং আমার সাহাবাগণের আদর্শের ওপর যারা প্রতিষ্ঠিত থাকবে।” ➠[2]
🕋 ব্যাখ্যাঃ
❏ “নিঃসন্দেহে, একমাত্র নাজাতপ্রাপ্ত দলটি হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত।"➠[3]
❏ "এই উম্মাহ পথভ্রষ্টতার উপর কখনও একত্রিত হবে না এবং আল্লাহর (ﷻ) সাহায্য রয়েছে সেই জামআতের সাথে।" ➠[4]
❏ “আমার উম্মতের মাঝে একদল কিয়ামত পর্যন্ত সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত থাকবে। কেউ তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।”➠[5]
🕋 আহলুস-সুন্নাহ কারা?
“যে তরিকা রাসূলুল্লাহ (ﷺ), সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাবে-তাবেয়ীগণের আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সেটাই হল আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত।"
➠[উবায়দুল্লাহ ইবনে মাসউদঃ আত-তাওযীহ, ৩/৩৮পৃ, ইমাম মোল্লা আলী কারীঃ মিরকাত, ৯/৪০৪৪, ইমাম মায়দানীঃ শরহে আকিদাতুত তাহাবী, পৃ.৪৪]
তথ্যসূত্রঃ আক্বাঈদে আহলুস-সুন্নাহ পরিচিতিঃ
[1].
উক্ত হাদিসের বর্ণনাকারীগণঃ
☛ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه)
☛ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম (رضي الله عنه)
☛ হযরত আবু সাঈদ খুদরী (رضي الله عنه)
তথ্যসূত্রঃ
১. ইমাম আবু হাতিম : তাফসীরে আবি হাতিম।
২. ইমাম আবু নছর (رحمة الله) : ইবানাত।
৩. ইমাম খতিবে বাগদাদী (رحمة الله) : তারিখে বাগদাদ।
৪. ইমাম লালকায়ী (رحمة الله) : আস-সুন্নাহ।
৫. ইমাম সুয়ূতী (رحمة الله) : তাফসীরে আদ-দুররুল মানসূর, ২/২৯১পৃ.।
৬. শাওকানীঃ ফতহুল ক্বদীর, ১/৪২৫।
৭. ইমাম মালেক (رحمة الله) ও ইমাম দায়লামী (رحمة الله) তারা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (رضي الله عنه) সূত্রে।
i) ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী, তাফসীরে দুররুল মানসূর, ২/২৯১পৃ.।
ii) তাহের পাটনী, তাযকিরাতুল মাওদুআত, ১/৮৪ পৃ।
৮. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (رضي الله عنه) সূত্রে।
[ইমাম দায়লামী, আল-ফিরদাউস, ৫/৫২৯পৃ. হাদিস, ৮৯৮৬]
৯.হযরত আবু সাঈদ খুদরী (رضي الله عنه) সূত্রে।
i) ইমাম আবু নছর আল-সাযি (رحمة الله) : আল-ইবানাত গ্রন্থে।
ii) ইমাম অাবি হাতিম, তাফসীরে আবি হাতিম ৩/৭২৯।
iii) ইমাম সুয়ূতী, তাফসীরে দুররুল মানসূর, ২/২৯১পৃ.।
১০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) সূত্রে।
[ইবনে কাসিরঃ তাফসীরে ইবনে কাসীর, ২/৭৯পৃ.]
১১. হযরত সাঈদ ইবনে যুবাইর (رحمة الله), হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) সূত্রে।
i) ইমাম আবি হাতেম, আত-তাফসীর, ৩/৭২৯, হাদিস, ৩৯৫০,
ii) ইমাম সুয়ুতী, তাফসীরে আদ্দুররুল মানসূর, ২/২৯১পৃ.।
[আক্বাঈদে আহলে সুন্নাতঃ মাওলানা শহিদুল্লাহ বাহাদুর]
[2].
হযরত ইবনে আমর (رضي الله عنه) সূত্রে।
(মানঃ হাসান)
১.খতিব তিবরিযী : মিশকাতুল মাসাবিহ, ১/৬১পৃ., কিতাবুল ই'তিসাম বিস্-সুন্নাহ, হাদিস নং.১৬১।
২.সুনানে তিরমিযী : হাদীস নং-২৬৪১।
৩.তাবরানী : আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-৭৬৫৯।
৪.তাবরানী : আল মু’জামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৮৮৯।
৫.বায়হাকি : ই'তিত্বাদ, ১/২৩৩পৃ.।
৬.বাগভী : শরহে সুন্নাহ, ১/২১৩, হাদিস, ১০৪ ।
৭.ইমাম আবু লাইস সমরকন্দী : তাফসীরে বাহারুল উলুম, ১/৪৫৬পৃ.।
৮.ইমাম হিন্দী : কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-১০৬০।
[আক্বাঈদে আহলে সুন্নাতঃ মাওলানা শহিদুল্লাহ বাহাদুর]
[3].
১.ইমাম মােল্লা আলী কারী, মিরকাত, ১/ ২৫৯।
২.আহলে হাদিস মােবারকপুরী, মিরআতুল মাফাতিহ, ১/ ২৭৫পৃ.।
৩.ইমাম ইরাকী, তাখরীজে ইহইয়াউল উলুম, ১/১১৩৩পৃ.।
৪.ইমাম ইসমাঈল হাক্কী, তাফসীরে রূহুল বায়ান, ১/১৩পৃ. সুরা ফাতেহার ব্যাখ্যা।
৫.ইমাম মানাভী, ফয়যুল কাদীর, ২/২৩, হাদিস : ১২২৩।
৬.আহলে হাদিস আযিমাবাদী, শরহে সুনানে আবি দাউদ, ১২/২২৩পৃ.।
৭.বড়পীর আব্দুল কাদীর জিলানী (رحمة الله) : গুনিয়াতুত তালেবীন।
৮.মোবারকপুরী, তুহফাতুল আহওয়ার্যি, ৭৩৩২৭পৃ,
[4].
(হাদিসের মানঃ সহিহ)
১. ইবনে মাজাহ ৩২৪০ (সহীহ)
২. তিরমিযী: কিতাবুল ফিতান ২০৯৩
৩. আবু দাউদ ৩৭১১
৪. নাসাঈ: সুনান কুবরা, ৩৪৮৩
৫. বায়হাকি: আসমা ওয়া ওয়াফফাত (পৃঃ 322 সহীহ)
৬. বায়হাকি শুয়াবুল-ইমান (6:67 # 7517)
৭. আবু নুআইম ইস্পাহানীঃ হিলিয়াতুল আউলিয়া, 3:37, 9: 238।
৮. মোস্তাদরাক আল হাকিম (1: 115-16, 4: 556 সহিহ)
৯. আবদ ইবনে হুমায়দ (আল মুসনাদ, # 1218)
১০. ইমাম আহমাদ (আল মুসনাদ, # 25966)
১১. দারিমি: আস-সুনান (# 54, দুর্বল),
১২. দিয়া আল-মকদসি (7: 129)
১৩. কুদাই (1: 167 # 239),
১৪. সুনানে দারকুতনি (4: 245)
১৫. ইবনে আবি শাইবা (8: 604, 627, 683)
১৬. তাবারানীঃ মু'জাম আল-ক্ববির (1: 153, 1: 186, 3: 209, 12: 447, এবং 17: 23-9-40, সহিহ)
১৭. হায়তামীঃ আল-মাজমা '5: 21-8-19
১৮. মু'জাম আল-আওসাত (5: 122, 6: 277, 7: 193)
১৯. ইবনে আবি আসিমঃ কিতাবুস সুন্নাহ (পৃ। 39-41 # 80-85, পৃ .9 9 # 92)
২০. সুয়ূতী: জামিউস সগীর ২২২১
[5].
হযরত মুয়াবিয়া বিন কুররাতা (رحمة الله) তিনি তাঁর পিতার সূত্রে।
১.ইমাম ইবনে মাযাহ, আস-সুনান, ১/৪ পূ, হাদিস ৪৬,
২.ইমাম আবু নুয়াইম ইস্পাহানী, হুলিয়াতুল আউলিয়া, ৯/৩০৭পৃ, (সহিহ)
৩.ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৬৮৩৫,
৪.মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৮২৭৪
════════════════
আল্লাহ্ (ﷻ) সম্পর্কিত আক্বিদা
____________________
আল্লাহ্ (ﷻ) সম্পর্কিত আক্বিদাঃ
➖➖➖➖➖➖➖➖➖
❏ আল্লাহ্ (ﷻ) স্থান, দিক [1] গতি, কাল, স্থিতি এবং যাবতীয় দুর্ঘটনা [2] সকল প্রকার দোষ-ত্রুটি [3] আকার-আকৃতি [4] রং-গন্ধ হতে পবিত্র। [5]
❏ তিনি (ﷻ) কোন সৃষ্টির অনুরূপ নন, সৃষ্টির কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়।” [6] সৃষ্টির সাথে তাঁর তুলনাকারী কাফির।[7]
❏ তিনি (ﷻ) কোনো নির্দিষ্ট স্থানে নন।’’ [8]
তিনি সর্বস্থানে আছেন এই ধারণা রাখাও কুফর।’’ [9] এটা মুতাযিলা ও কাদারিয়াদের আক্বিদা।” [10]
❏ আল্লাহর (ﷻ) জ্ঞান সর্বত্র উপস্থিত। [11]
❏ সৃষ্টিকুল তাঁকে পরিবেষ্টন করতে অক্ষম বরং প্রত্যেক বস্তুই তাঁর পরিবেষ্টনে।” [12]
তথ্যসূত্রঃ আল্লাহ পাক সম্পর্কিত আক্বিদা।
[1].
১.ইমাম জুরজানী, শরহুল মাওয়াকিফ, ২/৫১-৫২পৃ.,
২.সাফর বিন আবদুর রাহমান আল-হাওলী, মিনহাজুল আশাইরাহ, ৭৯পৃ.।
৩.ইমাম ইবনে জারীর আত্-তবারীঃ তফসীরে তাবারী : ৬/২১০ পৃ
৪.শায়খ আহমাদ বিন উমর মাসআদ হাযামী তার شَرْحِ كِتَابُ الْتَوْحِيْد কিতাবের ৫৩/৮ পৃষ্ঠায়।
[2].
১.মুসামের, ৩১পৃ.
২.মাসায়েরা, ৩৯৩ পৃ.
৩.বাহারে শরীয়ত প্রথম খণ্ড।
[3].
১. ইমাম ফখরুদ্দিন রাযী : তাফসীরে কাবীর : ১৩/১২৫পৃ.।
২. ইমাম রাজী, তাফসীরে কাবির : ১৮৫২১পৃ.।
৩. ইমাম বায়যাভী, তাফসীরে বায়যাভী, ২৮৮পৃ.।
৪. আল্লামা শরবীনী, তাফসীরে সিরাজুম মুনীর: পৃ. ৭০।
৫. ইমাম খাজিন : তাফসীরে লুবাবুত তা'ভীল: ১/৪২১পৃ.
৬. ইমাম আবুস সাউদ: তাফসীরে আবিস সাউদ: ২/২১২পৃ.
৭. মোল্লা মুঈন উদ্দিন কাশেফী : তাফসীরে হুসাইনী: ১/.১২৭
৮. ইমাম নাসাফী, তাহলীরে মাদারিক, সূরা নিসা, আয়াত ৮৭
[4].
১.ইমাম বায়হাকী, কিতাবুল আসমা ওয়াল সিফাত, ২/৬৬পৃ. হাদিস ও ৬৪১।
২.ইমাম বায়হাকী, কিতাবুল আসমা ওয়াল সিফাত, ২/৬০পৃ.।
৩.ইমাম নববী, শরহে সহীহ মুসলিম, ১৫/২৫পৃ.
[5
৩.ইমাম কামালুদ্দীন ইবনুল হুমাম, আল-মুসাইরাত, ২১৮পৃ।
৪.ইমাম মাতুরীদি, তাফসীরে মাতুরীদি, ১/১৩৫পৃ।
৫.ইমাম বায়হাকী, কিতাবুল আসমা ওয়াল সিফাত, ২/৬৬পূ, হাদিস : ৬৪১।
[6].
১.সুরা আশ-শুরা, আয়াত, ১১
২. ইমাম মাতুরীদি, তাফসীরে মাতুরীদি, ৮/২৬৭পৃ.
৩. ইমাম কুরতুবী, তাফসীরে কুরতুবী, ১৬৮পৃ.।
৪. ইবনে কাসির, তাফসীরে ইবনে কাসির, ৩/৪
৫. ইমাম আবু হানিফা, আল-ফিকহুল আকবার, ১৪ পৃ.।
৬. দায়লামী, আল-ফিরদাউস, ২/২৫৪পৃ. হাদিস ৩১৮৩ ।
৭. তাহবী, আকিদাতুত তাহাভী, ৪১ পৃ, আকিদা নং ৩৪।
[7].
১.তাহাবী, আকিদাতুত তাহাবী, ৪১ পৃ, আকিদা নং ৩৪।
২.ইবনে কাসির, তাফসীরে ইবনে কাসির, ৩/৪
[8].
ইমাম ইবনে জারীর আত্-তবারীঃ তফসীরে তাবারী : ৬/২১০ প
[9].
১.মুফতি আহমদ ইয়ার খান, জ্বা'আল হক, ১/১৫৩পৃ. (উর্দূ)
২.শায়খ আহমাদ বিন উমর মাসআদ হাযামীঃ شَرْحِ كِتَابُ الْتَوْحِيْد কিতাবের ৫৩/৮ পৃঃ।
[10].
ইমাম মাতুরিদী, শরহুল ফিকহুল আকবার, ১৯পৃ
[11].
১ . ইমাম তাবারী, জামিউল বায়ান ফী তা'ভীলিল কুরআন, ২২/৪ ৬৮পৃ.।
২. ইমাম সুয়ুতি, আদ-দুররুল মানছুর, ৮/৭৯পৃ.।
৩. ইমাম বায়হাকী, আল-ই'তিকাদ, ১১৪ পৃ.।
৪. ইমাম লালকায়ী, ই'তিকাদে আহলে সুন্নাহ, ৩/৪ ০১পৃ.।
[12].
১.সূরা ফুস্সিলাত, আয়াত ৫৪
২.ইমাম তাহাবী, আকিদাতুল তাহাবী ৫৬, ক্রমিক ৫১।
নবীগণ ও অলীগণ সম্পর্কে আক্বিদা
____________________
নবীগণ ও অলীগণ সম্পর্কে আক্বিদাঃ
➖➖➖➖➖➖➖➖➖
❏ আল্লাহ্ (ﷻ) নবীগণ [আলাইহিমুস সালাম] কে ইলমে গায়েব দান করেছেন। [সূরা জ্বীন ২৬,২৭, সুরা নিসা ১১৩, সুরা আল-ইমরান-১৭৯, সুরা তাকবীর ২৪]
❏ নবীগণ সকলেই পুরুষ ছিলেন।
[সূরা জ্বীন, শরহে আকায়েদ, ২৯পৃ. ইবনে কাসির, তাফসিরে ইবনে কাসির, ৪/৩৬২পৃ.]
❏ তাঁরা ওহীর অনুসারী ছিলেন।[তামহিদে ইমান, ১২৬পৃ]
❏ নবুয়ত কভু বিলুপ্ত হয় না। [আরবাঈন, ৩২৯পৃ.]
❏ নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) নিষ্পাপ [1] কিন্তু অলীগণের জন্য নিষ্পাপ হওয়া জরুরি নয়। একজন নবীর মর্যাদা সমস্ত অলীগণ থেকেও উর্ধ্বে।
[আ'লা হযরতঃ আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআত এর আক্বিদা, শরহে আক্বাইদে নাসাফী, আকিদাতুত তাহাবী]
❏ সমস্ত নবীগণ তাঁদের কবরে জীবিত, তাঁরা সেখানে রিজিকপ্রাপ্ত ও সালাত আদায় করেন। [2]
❏ এমনকি অলীগণও জিবীত।
[সূরা বাকারা ১৫৪, সূরা আল-ইমরান ১৬৯, আলী ক্বারী : মিরকাত চতুর্থ খন্ড, পৃ- ১০১ হাদিস নং-১৬৩২]
[1].নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) নিষ্পাপঃ
১.আরবাঈন, ৩২৯পৃ.
২.উসূলে বাযদবী, ১৬৭পৃ.
৩. সূরা হিজর, আয়াত ৩৯-৪০
৪. সুরা ইউসুফ, আয়াত.৫৩
৫. মোল্লা জিওন, তাফসীরে আহমদিয়া, ২১২,
৬. মোল্লা জিওঁন, তাফসীরে আহমদিয়া ২১৩
৭. ইসমাঈল হাক্কী, তাফসীরে রুহুল বায়ান, ৮/৩৪৭পৃ.।
৮.ইসমাঈল হাক্কী, তাফসীরে রুহুল বায়ান, ৫/৩৫৮পৃ. ও ৮/৭৫পৃ.প্রাগুক্ত,
৯.মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ১২/৪৮৭পৃ : হাদিস : ৩৫৫৯৮
১০. মুফতি ইয়াঁর খান নঈমী ‘জা'আল হক : ২য় খণ্ডের (বাংলা) ২৮৬-৩১৪পৃষ্ঠা।
[2].হায়াতুন্নবীঃ
[i].
সূত্রঃ হযরত আবু দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।
عن أبي الدرداء قال قال رسول الله صلىالله عليه و سلم أكثروا الصلاة علي يوم الجمعة . فإنه مشهود تشهده الملائكة . وإن أحدا لن يصلي علي إلا عرضت علي صلاته حتى يفرغ منها ) قال قلت وبعد الموت ؟ قال ( وبعد الموت . إن الله حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء (سنن ابن ماجه، كتاب الجنائز، باب ذكر وفاته صلى الله عليهو سلم، رقم الحديث-1637
রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেন-তোমরা জুমআর দিন বেশি বেশি করে দুরুদ পড়। নিশ্চয় ফেরেস্তারা এর উপর স্বাক্ষ্যি থাকে। আর যখন কেউ আমার উপর দুরুদ পড়ে তখনই তা আমার নিকট পেশ করা হয়। আবু দারদা রাঃ বলেন-আমি জিজ্ঞাসা করলাম - মৃত্যুর পরেও কি তা পেশ করা হবে? উত্তরে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন,
"হ্যাঁ! আল্লাহ্ পাক নবীগণের শরীর মোবারাককে ভক্ষণ করা জমিনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। তাই নবীগণ (কবরে) জীবিত আছেন এবং নিয়মিতভাবে তারা রিজিকও পেয়ে থাকেন।"
১. ইবনে মাজাহ্ঃ কিতাবুল জানাযা, খন্ড- ১/৫২৪পৃ, হাদিস: ১৬৩৬,
২. ইবনে মাজাহ্ঃ কিতাবুল জানাযা, খন্ড- ১/৫২৪পৃ, হাদিস: ১৬৩৭
৩. ইবনে মাজাহ্ঃ ইকামাতুস সালাহ ওয়াস সুন্নাহ ফিহা : অধ্যায় ৭৯, ১/৩৪৫, হা- ১০৮৫
৪. মুনজারীঃ আত্ তারগীব ওয়াত তারহীব, খন্ড- ২/২২৮পৃ, হাদিস: ২৫৮২;
৫. ইবনে কাসীরঃ তাফসীরু কুরআনিল আযীম, খন্ড- ৩/৫১৫পৃ, খন্ড- ৪/৪৯৩পৃ;
৬. মুনাবীঃ ফয়যুল কদীর, খন্ড- ২/৮২পৃ;
৭. আযুলুনীঃ কাশফুল খিফা, খন্ড- ১/১৯০পৃ, হাদিস: ৫০১
৮. সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৪৬৯,
৯. আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৭৮০,
১০. সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৫৭২,
১১. মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩৪৮৫,
১২. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৫৭৫৯
১৩. আবু দাউদ : আস সুনান, কিতাবুস সালাত : ১:২৭৫, হাদিস ১০৪৭
১৪. নাসাঈ : আস সুনান, অধ্যায় : জুমুয়া ৩:৯২
১৫. ইমাম আহমদ বিন হাম্বল : আল মুসনাদ (৪:৮)
১৬. ইমাম ইবনে হিব্বান : আস সহীহ : (৩:১৯১, হাদিস ৯১০)
১৭. ইবনে খুজায়মাহ : আস সহীহ : (৩:১১৮, হাদিস ১৭৩৩)
১৮. ইমাম হাকিম : আল মুস্তাদরাক (১:২৭৮)
১৯. ইমাম তাবারানী : আল মুজমাউল কবীর (১:২১৭, হাদিস ৫৮৯)
২০. বায়হাকী : আস সুনান আল কুবরা : (৩:২৪৯).
[ii].
সূত্রঃ হযরত আউস ইবনে আউস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।
عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ رضي الله عنه قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اﷲِ صلي الله عليه وآله وسلم. إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَامِکُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فِيْهِ خُلِقَ آدَمُ، وَفِيْهِ قُبِضَ وَفِيْهِ النَّفْخَةُ، وَفِيْهِ الصَّعْقَةُ فَأَکْثِرُوْا عَلَيَّ مِنَالصَّلَاةِ فِيْهِ، فَإِنَّ صَلَاتَکُمْ مَعْرُوْضَةٌ عَلَيَّ، قَالَ : قَالُوْا : يَا رَسُوْلَ اﷲِ! کَيْفَ تُعْرَضُ صَلَاتُنَا عَلَيْکَ وَقَدْ أَرِمْتَ؟ يَقُوْلُوْنَ : بَلِيْتَ قَالَ صلي الله عليه وآله وسلم : إِنَّ اﷲَ حَرَّمَ عَلَي الْأَرْضِ أَجْسَادَالْأَنْبِيَاءِ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে জুমুয়ার দিন সর্বাধিক সেরা । কারণ ঐ দিন আদম (আঃ) সৃষ্টি করা হয়েছিল ঐ দিনই ওনার ওফাত হয়েছিল ।ঐ দিন সিঙ্গায় ফুত্কার দেয়া হবে আর ঐ দিনই (কিয়ামতের) চিত্কার শুরু হবে !তাই ঐ দিন বেশি বেশি করে আমার প্রতি দুরুদ পাঠাও। তোমাদের দুরুদ আমার নিকট (নিশ্চই) পৌছাঁনো হবে ।
তাঁরা (সাহাবীগণ) জিজ্ঞাসা করলেন -
আমাদের দরুদ আপনার ওফাতের পর আপনার উপরে কিরুপে পেশ করা হবে? আপনার বরকতময় মোবারক দেহ কি মাটিতে মিশে যাবে না?
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,আল্লাহ তায়ালা জমিনের জন্য নবীগণের দেহকে ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন।"
১. আবূ দাউদ: আস্ সুনান, কিতাবুস সালাত, ১/২৭৫, হা-১০৪৭ এবং কিতাবুস সালাত, ২/৮৮, হা-১৫৩১;
২. নাসাঈ: আস্ সুনান, কিতাবুল সালাহ : অধ্যায়: জুমু'আ, ৩/৯১, হা-১৩৭৪;
এবং আস্ সুনানুল কুবরা, ১/৫১৯, হা-১৬৬৬;
৩.ইবনু মাজাহ্: আস্ সুনান, কিতাবু ইকামাতিস সালাত, ১/৩৪৫, হা-১০৮৫;
৪.দারেমী: আস্ সুনান, বই : জুমা, অধ্যায় : ফি ফদ্বল ইয়াওমাল জুমা ১/৪৪৫, হা-১৫৭২;
৫.আহমদ ইবনে হাম্বল: আল মুসনাদ, ৪/৮, হা-১৬২০৭; ২৬/৮৪, হা- ১৬১৬২
৬.ইবনে আবি শায়বাহ্: আল মুসান্নাফ, আস-সালাহ ২/২৫৩, হা-৭৬৯৭, ৬/৪০, হা- ৮৭৮৯
৭.ইবনে খুজায়মা: আস্ সহীহ, ৩/১১৮, হা-১৭৩৩-১৭৩৪;
৮.ইবনে হিব্বান: আস্ সহীহ, বই : আর-রাকাইক, অধ্যায় : আদিয়্যাহ : ৩/১৯০, হা-৯১০;
৯.হাকেম: আল মুসতাদরাক, ১/৪১৩, হা-১০২৯;
১০.বাযযার: আল মুসনাদ, ৮/৪১১, হা-৩৪৮৫
১১.তাবরানী: আল মু'জামুল আওসাত, ৫/৯৭, হা-৪৭৮০;
১২.তাবরানী: মু'জামুল কবীর, ১/২৬১, হা-৫৮৯;
১৩.বায়হাকী: আস্ সুনানুস সগীর, ১/৩৭১, হা-৬৩৪;
১৪.বায়হাকী: আস্ সুনানুল কুবরা, ৩/২৪৮, হা-৫৭৮৯; Or, অধ্যায় : আল- জুমুয়া : ৩/৩৫৩, হা-৫৯৯৩
১৫.বায়হাকী: শু'আবুল ঈমান, ৩/১০৯, হা-৩০২৯; Or অধ্যায় : ফাজাইলুস সালাতুন্নবী (ﷺ) ৪/৪৩২, হা-২৭৬৮
১৬. যাহদ্বামী: ফাদ্বলুস্ সালাতি আলান্ নবী, হা-২২;
১৭.ওয়াদীয়াশী: তুহফাতুল মুহতাজ, ১/৫২৪, হা-৬৬১;
১৮.আসকালানী: ফাতহুল বারী, ১১/৩৭০;
১৯.আযলূনী: কাশফুল খিফা, ১/১৯০, হা-৫০১;
২০.ইবনে কাসীর, তাফসীরিল কুরআনিল আযীম, ৩/৫১৫ সুরা আল-আহজাব ৫৬
[iii].
সূত্রঃ হযরত আনাস ইবনে মালিক (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: الْأَنْبِيَاءُ أَحْيَاءٌ فِي قُبُورِهِمْ يُصَلُّونَ-
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, নিশ্চয় আম্বিয়া (আলাইহিমুস সালাম) তাঁদের নিজ নিজ কবরে জীবিত এবং তারা সেখানে নামায আদায় করেন।
১. আবু ইয়ালা(২১০-৩০৮ হি.): আল মুসনাদ, খন্ড ৬/১৪৭ পৃ, হাদিস: ৩৪২৫;
২. ইবনে আদী(২৭৭-৩৮৫হি.):আল কামেল, ২/৩২৭, হাদিস: ৪৬০;
৩. বায়হাকী : হায়াতুল আম্বিয়া, ৩ পৃ
৪. দায়লামী(৪৪৫-৫০৯হি.): মুসনাদুল ফিরদাউস, ১/১১৯, হাদিস: ৪০৩;
৫. আস্কালানী(৭৭৩-৮৫২হি.): ফতহুল বারী, ৬/৪৮৭,
৬. লিসানুল মিযান, ২/১৭৫, ২৪৬, হাদিস: ৭৮৭, ১০৩৪;
৭. হায়ছামী(৭৩৫-৮০৭হি.): মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ৮/২১১;
৮. সুয়ূতী(৮৪৯-৯১১): শরহু আলা সুনানিন নাসায়ী, ৪/১১০;
৯. ইমাম সুয়ূতী : আনবা আল আজকিয়া (৫)
১০. সহীহ কুনুযুস সুন্নাতির নববিয়্যাহ, হাদীসনং-২২
১০. আযীমাবাদীঃ আওনুল মা'বুদ, ৬/১৯, (তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি 'আল ইনতিবাহিল আযকিরা বি হায়াতি আম্বিয়া' নামে পুস্তক রচনা করেছি।)
১১. মানাভী(৯৫২-১০৩১হি.): ফয়যূল কাদীর শরহে জামেউস সগীর;
১২. শাওকানী(জন্ম-১২৫৫হি.): নায়লুল আওতার, ৫/১৭৮;
১৩. যুরকানী(১০৫৫-১১২২হি.): শরহু আল মুয়াত্তায়ে লিল ইমামিল মালেক, ৪/৩৫৭]
১৪. ইমাম হায়তামী : মাজমাউল যাওয়ায়িদ : ৮ম খন্ড, ৩৮৭ পৃ, অধ্যায় : জিকরুল আম্বিয়া, হাদিস ১৩৮১২
ইমাম হায়তামী বলেন, ইমাম আবু ইয়ালা এবং ইমাম বাজ্জার এ হাদিসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন।
১৫. আলবানী : সিলসিলাতুল আহাদিসুস সহীহাহ, ২য় খন্ড, ১৮৭ পৃ, হাদিস ৬২১
(iv) হাদিসঃ আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُوْلَ اﷲِ صلي الله عليه وآله وسلم قَالَ : مَا مِنْ أَحَدٍ يُسَلِّمُ عَلَيَّ إِلَّا رَدَّ اﷲُ عَلَيَّ رُوْحِي، حَتَّي أَرُدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ
রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه و آله وسلم বলেন, যদি তোমাদের মধ্যে কেউ আমার প্রতি সালাম জানায় আল্লাহ আমার রুহ আমাকে ফিরিয়ে দেন এবং আমি ঐ লোকের সালামের জবাব দেই ।
১.আবু দাউদ,হাদিস নম্বর ২০৩৬,সনদঃ সহিহ
২.আল-নাসা’ই তাঁর কিতাব আল-দু‘ফা ’ওয়া’ ই-মাতরুকিন, পৃষ্ঠা -১৬৮।
৩.আল দারিমির আল-তারিখ, পৃষ্ঠা ২৬০।
৪.ইমাম আহমাদ মুসনাদে হাদীসটিও বর্ণনা করেছেন, ২/৫২; ১০৮২৭।
৫.ইবনে ইসহাক আল রাহূইয়াহ তার মুসনাদে, ১/৪৫৩ (৫২৬ & ২০৪১);
৬.ইবনে ‘আসাকির’ মুক্ততাসার তারিক দিমশাক, ২/৪০;;
৭.আবু নু'আয়াম আল-ইস্পাহানী তাঁর আখবার আল-আসবাহান, 2/353;
৮.মুজাম আল-আসাতেঃ আল-তাবারানী, 3/262 (# 3092, 9329);
৯.আল-বায়হাকী আল-সুনান আল-কুবরা, 1/519: হাদীস 1666
১০.আল-বায়হাকী আল-সুনানে আল-কুবরা 3/249: হাদীস 5789
১১.আল-বায়হাকী: শুয়াবুল-ইমান: (# 4161);
১২.আল-হাওই লিল ফাতওয়া, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা নং ২৭১-২৭২
১৩.ইমাম আন নওয়াবী (رحمة الله) এই হাদীস সম্পর্কে বলেছেন: رَوَاهُ أبُو دَاوُدَ بإسناد صحيح অনুবাদ: এটি আবু দাউদ (رضي الله عنه) "সহীহ সনদ" দ্বারা বর্ণনা করেছেন।
১৪.নাওয়াইল আল আওতার ৫/১৬৪।
১৫.রিয়াদ উস সালিহীন ১/২৫৫, হাদীস ১৪০২।
১৬.কিতাব আল মানাসিক (# 97)
১৭.আলবানীর সংস্করণ জিয়ারাতুল কুবুরের অধীনে (# 2041) এটিকে "হাসান" বলেছে।
১৮.আলবানীঃ সিলসিলাহ আহাদিস আল-সহিহাহ [২২৬৬]
১৯.ইবনে হাজার আল-আসকালানী, তাকরিব-আল তাহযিব, ১/২০০।
২০.হাফিজ আল-দারাকুতনী ইবন হিব্বান তাঁর আল-স্বিকা, ১৮৮ তে উদ্ধৃত করেছেন।
২১.আল-মিয্যিঃ তাহযিব আল-কামাল, 7/366।
২২.ইবনে আল-নাজ্জার, আখবার আল-মদীনা, পৃ .১৪৪।
২৩.তফসীরে ইবনে কাসীর, 6: 464;
-আল-মুন্ধিরি আল-তারগীব ওয়াল তারহীব, ২/৪৯৯
২৪.আল-‘আসকালানির তালখিস আল-হাবির, 2/267;
২৫.হায়ছামীঃ আল মাজমাউল জাওয়ায়েদ, 1/162;
২৬.আল-তাবরিজী, মিশকাতুল-মাসাবিহ ৯২৭ & ২/৪৯৯।
২৭.আল-মুত্তাকী আল হিন্দি,কাঞ্জুল উম্মাল, 6/464
২৮.মুরতদা আল-জাবেদী, ইতাফ আল-সাদাত আল-মুত্তাকিন, 4/419 এবং 10/365।
২৯.ইবনে রাহবীয়া: আল মুসনাদ, ১/৪৫৩, হাদিস: ৫২৬;
৩০.হায়ছামী: মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ১০/১৬২]
হাদিসটির মান ও সনদ পর্যালোচনা :
▶এ হাদিসকে ইমাম আবূ দাউদ, আহমদ, তাবরানী এবং বায়হাকী বর্ণনা করেছেন।
▶ইমাম আসক্বালানীও বলেন,
ইহাকে ইমাম আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং ইহার বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।
▶ইমাম হায়ছমীও বলেন, ইহার সনদে আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াজিদ আল- ইস্কান্দারানী বর্ণনাকারীকে আমি চিনি না, যখন মাহদী ইবনু জাফর এবং অপরাপর সমস্ত বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্পর্কিত আক্বিদা
____________________
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্পর্কিত আক্বিদাঃ
➖➖➖➖➖➖➖➖➖
❏ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আদম (আঃ) এর পূর্বেই সৃষ্ট এবং তখনও তিনি নবী ছিলেন। [1]
❏ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সমগ্র সৃষ্টিকুলের নবী, [2] তাঁদের সত্যায়নকারী[3] সর্দার [4]
❏ তিনি (ﷺ) সমবেতকারী, পুনরুত্থিত প্রথম মানব।[5]
❏ তিনি (ﷺ) নবুওয়াতের পরিসমাপ্তকারী। [6]
❏ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিরক্ষর নন, তাঁর শিক্ষক স্বয়ং আল্লাহ।[7]
❏ তাঁর শাফায়াত ফাসিকদের জন্য। [আবু দাউদ,হাদিস ৪৭৩৯] অতঃপর মুমিনগণ করবেন।[8]
❏ তিনি (ﷺ) বেনজীর, বেমিসাল। [9]
"লামইয়াতি নাযীরুকা ফী নাযারিন,
মিছলে তো না শোদ পয়দা জানা!"
✍ [আ'লা হযরত (رحمة الله)]
❏ সর্বপ্রথম আল্লাহর (ﷻ) নূর থেকে নূরে মুহাম্মাদী (ﷺ) সৃষ্ট। [10]
❏ মিলাদুন্নবী (ﷺ) উদযাপন হারাম নয় বরং সুন্নাহ।[11]
❏ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উসীলায় সমগ্র বিশ্ব-ভ্রাম্যান্ড সৃষ্টি। তিনি না হলে কিছুই সৃষ্টি হত না। [12]
"সৃষ্টিকূলের উৎসমূলের তিনিই উপাদান,
এক হতে আধিক্যে তিনি বেষ্টিত সমান।"
✍ [আলা হযরত (رحمة الله)]
══════════════════
তথ্যসূত্রঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্পর্কিত আক্বিদাঃ
➖➖➖➖➖➖➖➖➖
[1]
রাসূল (ﷺ) আদম (আঃ) এর পূর্বেই সৃষ্ট এবং তখনও নবী ছিলেন।
হযরত আল-ইরবাদ্ব ইবনে সারিয়া (رضي الله عنه) সূত্রে।
১.সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৬৪০৪,
২.মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৭১৬৩,
৩.মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৪১৯৯,
৪.মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-১৪৫৫,
৫.শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৩২২২,
৬.মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদীস নং-৫৭৫৯,
৭.আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-৬৩১
৮.ইমাম হাকিমঃ আল-মুস্তাদরাক এ এই হাদিসটিকে "সহিহ" বলেছেন।
[2]
আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) সূত্রে।
[সহিহ মুসলিম, খন্ড ৪, হাদীস নং- ১০৬২]
[3]
১. বাক্বারাহ ২/৪১, ৯১, ৯৭;
২. আল ইমরান ৩/৩, ৫০;
৩. নিসা ৪/৪৭;
৪. মায়েদাহ ৫/৪৮;
৫. ফাত্বির ৩৫/৩১;
৬ আহক্বাফ ৪৬/৩০।
[4]
হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (رضي الله عنه) সূত্রে।
[সুনানে দারিমীঃ হাদিস # 50]
[5]
তিনি সমবেতকারী, পুনরুত্থিত প্রথম মানব।
═══════
(i)
হযরত জুবাইর ইবনুল মুতয়িম (رضي الله عنه) সূত্রে।
১. সহিহ মুসলিমঃ ৪:১৮২৮, কিতাবুল ফাজায়েল, হাঃ ২৩৫৪
২. সহিহ বুখারীঃ ৩:১২৯৯, কিতাবুল মানাকিব, হাঃ ৩৩৩৯
৩. সহিহ তিরমিযীঃ ৫:১৩৫, কিতাবুল আদব, হাঃ ২৮৪০
৪. ইবনে আবী শায়বাঃ আল মুসান্নাফ, ৬:৩১১, হাঃ ৩১৬৯১
৫. নাসাঈ, ইমাম মালেক, ইমাম আহমদ, আবু দাউদ, তায়ালসী, ইবনে সা'দ, তাবরানী, ইমাম বায়হাকী, ইমাম আবু নাঈম প্রমুখ ইমামগন এই হাদিসটি বর্ননা করেছেন।
(ii)
হযরত আবু বকর (رضي الله عنه) সূত্রে।
[সহিহ বুখারী : খন্ড 4, অধ্যায় 56, হাদিস 732]
(iii)
হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) সূত্রে।
১. ইমাম তবরানীঃ , মও'জমা আস সগীর হাদিস # 152
26.
২. বুখারী ও মুসলিমঃ কিতাব - উল - ফাজায়েল , বাব: আসমাউন-নবী,
৩. তিরমিযীঃ কিতাব-উল-আদব, বাব: আসমাউন নবী ',
৪. মুয়াত্তায়ে ইমাম মালেকঃ কিতাবু আসমাউন নবী
৫. আল মুস্তাদ্রাক হাকিমঃ কিতাব-উত-তারিখ, বাব: আসমা-উন-নবী।
(iv)
হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) সূত্রে।
১. আ'লা হযরতঃ খতমে নবুয়াতঃ ৩২ পৃষ্ঠা।
২. ইবনে আসাকির।
[6]
(I) আল-কুরআনে খতমে নবুয়াতঃ
_________________________
১. সূরা আহজাব ৩৩:৪০
২. সূরা ছাফ ৬১/৬
৩. আল ইমরান ৩/৮১
৪. আ‘রাফ ৭/১৫৭
(II) হাদিসে পাকে খতমে নবুয়াতঃ
_________________________
বর্ণিত হাদিসের সূত্রসমূহঃ
☛ হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنه)
☛ হযরত আনাস বিন মালেক (رضي الله عنه)
☛ হযরত সা'দ (رضي الله عنه)
☛ হযরত উকবা ইবনে আমির (رضي الله عنه)
☛ হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه)
☛ হযরত জুবাইর ইবনুল মুতয়িম (رضي الله عنه)
☛ হযরত ছাওবান (رضي الله عنه)
☛ হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (رضي الله عنه)
☛ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (رضي الله عنه)
☛ হযরত আবু যর (رضي الله عنه)
☛ হযরত ইসমাঈল (رضي الله عنه)
☛ হযরত কাতাদা (رضي الله عنه)
☛ হযরত আয়েশা (رضي الله عنه)
☛ হযরত আবু উমামা বাহেলী (رضي الله عنه)
☛ হযরত ইবনে মাসউদ আমের শা'বী (رضي الله عنه)
__________________
বর্ণিত সূত্র ও রেফারেন্সঃ
হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) সূত্রে।
হযরত আনাস বিন মালেক (رضي الله عنه) সূত্রে।
হযরত সা'দ (رضي الله عنه) সূত্রে।
◾হযরত সা'দ (رضي الله عنه) সূত্রে।
"আমার পরে কোন নবী নেই।”
১. সহিহ বুখারীঃ ৪:১৬০২, কিতাবুল মাগাযীঃ হাদিস নং ৪১৫৪
২. সহিহ বুখারীঃ ৩:১৩৫৯, কিতাবুল মানাকিব,হাঃ ৩৫০৩
৩. সহিহ মুসলিমঃ ৪:১৮৭০, কিতাবু ফাজায়িলুস সাহাবাঃ হাদীস নং ২৪০৪
৪. ইমাম আবু দাউদ , ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, ইমাম মুহাম্মাদ ইসহাক এটা বর্ননা করেছেন।
৫. সহিহ তিরমিযীঃ ৫:৬৪০, আবওয়াবুল মানাকিব, হাদিসঃ ৩৭৩০, ৩৭৩১
৬. ইবনে মাজাহঃ ১:৪২,৪৫, আল-মুকাদ্দামাহ, হাঃ ১১৫, ১২১
৭. মুসনাদে আহমদ বিন হাম্বলঃ ১:১৭০, ১৭৩, ১৭৫, ১৭৭, ১৭৯, ১৮২, ১৮৪, ১৮৫, ৩৩০
৮. মুসনাদে আহমদ বিন হাম্বলঃ ৩: ৩২, ৩৩৮
৯. মুসনাদে আহমদ বিন হাম্বলঃ ৬:৩৬৯, ৪৩৮
১০. তাবারানীঃ আল মুজমাউল কবীরঃ ১: ১৪৬,১৪৮, হাদিসঃ ৩২৮, ৩৩৩
═══════
[7]
═══════
(i)
আল্লামা ইসমাঈল হাক্কীঃ তাফসীরে রূহুল বায়ান : ৬/৬১০ পৃ.
এ বিষয়ে অন্যান্য প্রমাণের দলিলঃ
১. মোল্লা আলী ক্বারীঃ শরহে কাসীদায়ে বুরাদা ও ১১০ পৃ.
২. সূরা আর-রহমান, আয়াত ১-৪
৩. মোল্লা মুঈন কাশেফী : তাফসীরে হুসাইনী ও সূরা : ইউসুফ, আয়াতঃ ১১১
৪. ইমাম খাযিনঃ তাফসীরে খাযিন : ৪/২০৮ পৃ.
(ii)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (رضي الله عنه) সূত্রে।
১.খতিব তিবরিয়ী : মিশকাতুল মাসাবিহঃ কিতাবুল ইলাম : ১/৮৫পূ, হাদিস ২৫৭।
২.দারেমী, আসুসুনান, ১/৩৬ পূ, হাদিস, ৩৬১।
৩.সুয়ূতী, জামেউস সগীর, হাদিস : ৪২৪২।
৪.আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক, আয-যহুদ, ১/৪৮৮পূ, হাদিস : ১৩৮৮।
৫.আবু দাউদ তায়লসী, আল-মুসনাদ,৪/১১পু, হাদিস ২৩৬৫।
৬.ইবনে ওয়াহহাব, আল-মুসনাদ।
৭.আলবানী, সিলসিলাতুল আহাদিসুদ্-দ্বঈফাহ, ১/৬৭পৃ.হাদিস ১১।
৮.ইবনে মাজাহ, আস্-সুনান, ১/৮৩, হাদিস, ২২৯।
৯.হারিস, আল-মুসনাদ, ১/১৮৫পৃ, হাদিস, ৪০।
১০.বাযযার, ৬/৪ ২৮, হাদিস, ২৪৫৮।
১১.তাবরানী, মু'জামুল কাবীর, ১৩/৫১, হাদিস ১২৫, ও ১৪/৯৪ পূ, হাদিস ৭০৯।
১২.বায়হাকী, আল-মাদখাল, ১/৩০৬পৃ. হাদিস, ৪৬২।
১৩.বাগাভী, শরহে সুন্নাহ, ১/২৭৫পৃ. হাদিস, ১২৮।
_______________________________
[8]
হযরত উসমান (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত (মানঃ হাসান)
১.ইমাম ইবনে মাজাহ : আস-সুনান : ২/১৪৪৩ পূ, হাদিস : ৪৩১৩,
২.ইমাম জালালুদ্দীন সুয়তী : জামেউস-সগীর : ২/৭১৪ পূ, হাদিস : ১০০১১,
৩.আযলুনী : কাশফুল খাফা ; ২/৩৬৫ পৃ. হাদিস :৩২৫৯।
[9]
রাসূল (ﷺ) বেনজীর, বেমিসাল।
সহীহ বুখারীঃ হাদিস নং : 3.182
সহীহ বুখারীঃ হাদিস নং : 3.183
সহীহ বুখারীঃ হাদিস নং : 3.184
সহীহ বুখারীঃ হাদিস নং : 3.185
সহীহ বুখারীঃ হাদিস নং : 3.187
সহীহ বুখারীঃ হাদিস নং : 3.188
সহীহ বুখারীঃ হাদিস নং : 9 : 348
সহীহ বুখারীঃ হাদিস নং : 9 : 347
[10]
নূরনবী ﷺ
═══════════
(A)
হযরত জাবির (رضي الله عنه) সূত্রে।
[হে জাবির সর্বপ্রথম আল্লাহ পাক তাঁর স্বীয় নূর থেকে আমার নূর সৃষ্টি করেছেন]
১. ইমাম আব্দুর রাজ্জাকঃ মুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকঃ যুযউল মাফকুদ, ৬৩ পৃ:।
২. আল্লামা ইবনুল হাজঃ আল মাদখাল, ১ম খন্ড, ৩২ পৃ:।
৩. ইমাম কুস্তালানীঃ মাওয়াহেবুল্লাদুন্নিয়া, ১ম খন্ড, ৭১ পৃ:
৪. ইমাম কাস্তালানীঃ শারহে বুখারী
৫. ইমাম যুরকানীঃ শরহে মাওয়াহেব লিয যুরকানী, ১ম খন্ড, ৮৯ পৃ:।
৬. শাহ ওয়ালী উল্লাহ মােহাদ্দিসে দেহলবীঃ তাফহিমাতে ইলাহিয়্যা, ১৯।
৭. মাওলানা আশরাফ আলী থানভীঃ নশরুত্তিব, ৫ পৃ:।
৮. আল্লামা নুরউদ্দিন হালাভী রঃ ছিরাতে হালাভিয়া, ১ম খন্ড, ৪৭ পৃ:।
৯. আল্লামা মাহমুদ আলুসী আগদাদীঃ তাফছিরে রুহুল মায়ানী, ১ম জিঃ ৯০ পৃ:।
১০. ইমাম আলুনী রঃ কাশফুল খাফা, ১ম খন্ড, ২৩৭ পৃ:।
১১. আব্দুল হাই লাখনভীঃ আছারুল মরফুয়া, ৪২-৪৩ পৃ:।
১২. মােল্লা আলী কারীঃ আল মাউরিদুর রাভী, ২২ পৃ:।
১৩. ইবনে হাজার হায়তামী মক্কীঃ ফাওয়ায়ে হাদিছিয়া, ৪৪।
১৪. ইমাম ছিয়তী (رحمة الله) : আলহাবী লিল যাওয়া, ১ম খন্ড, ৩৮৪ পৃ:।
১৫. আল্লামা নববী রঃ আদ দুরারুল বাহিয়্যাহ, ৪-৮।
১৬. ইমাম ইয়াদরুসি (رحمة الله) : তারিখ আন নূর আস সাফিরঃ ১/৮ পৃ
১৭. ইমাম আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী (رحمة الله) : মাদারিজুন নবুওয়াতঃ ২য় খন্ড, ১৩ পৃ। তিনি বলেন, "এই হাদিস বিশুদ্ধ এবং সহিহ।
১৮. ইমাম ইবনে আবেদীন শামী (رحمة الله) এর পুত্র ইমাম আহমদ শামী (رحمة الله) : ইমাম ইবনে হাজর হাইতামী (رحمة الله) এর আন'মাতুল কুবরার কিতাবের কবিতার ব্যখ্যায়ঃ পৃষ্ট ২।
১৯. ইমাম নাবহানী (رحمة الله) : জওয়াহিরুল বিহার : ৩য় খন্ড : পৃ ৩৫৪
২০. ইমাম বায়হাকীঃ দালায়েলুন নবুওয়াত ১৩/৬৩
২১. মাতালেউল মাসাররাত ২৬৫ পৃ
২২. হাদ্বীকায়ে নদীয়া ২/৩৭৫
২৩. দাইলামী শরীফ ২/১৯১
২৪. মাকতুবাত শরীফ ৩ খন্ড ১০০ নং
২৫. মোল্লা আলী কারীঃ মওজুয়াতুল কবীর ৮৩ পৃ
২৬. ইনছানুল উয়ুন ১/২৯
২৭. নূরে মুহম্মদী ৪৭ পৃ
২৮. আল আনোয়ার ফি মাওলিদিন নবী ৫ পৃ
২৯. আফদ্বালুল ক্বোরা
৩০. ইমাম আব্দুর রহমান ছাফুরীঃ নুজহাতুল মাজালিস ১ খন্ড
৩১. দুররুল মুনাজ্জাম ৩২ পৃ
৩২. আনোয়ারে মুহম্মদীয়া ১/৭৮
৩৩. আল মাওয়ারিদে রাবী ফী মাওলীদিন নবী ৪০ পৃষ্ঠা ।
৩৪. তাওয়ারীখে মুহম্মদ
৩৫. আনফাসে রহীমিয়া
৩৬. মা’ য়ারিফে মুহম্মদী
৩৭. মজমুয়ায়ে ফতোয়া ২/২৬০
৩৮. আপকা মাসায়েল আওর উনকা হাল ৩/৮৩
৩৯. শিহাবুছ ছাকিব ৫০
৪০. মুনছিবে ইছমত ১৬ পৃ
৪১. রেসালায়ে নূর ২ পৃ
৪২. হাদীয়াতুল মাহদী ৫৬পৃ
৪৩. দেওবন্দী আজিজুল হক অনুবাদ কৃত বুখারী শরীফ ৫/৩
(B)
❏’ইরবাদ ইবনে সারিয়া (رضي الله عنه) ও আবু এমামা (رضي الله عنه) বলেন যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরশাদ করেন,
قَالَ دَعْوَةُ أَبِي إِبْرَاهِيمَ وَبُشْرَى عِيسَى وَرَأَتْ أُمِّي أَنَّهُ يَخْرُجُ مِنْهَا نُورٌ أَضَاءَتْ مِنْهَا قُصُورُ الشَّامِ.
“আমি হলাম আমার পিতা (পূর্বপুরুষ) ইবরাহীম আলাহিমুস সালাম’এর দোয়া, এবং আমার ভাই ঈসা আলাহিমুস সালাম’এর দেয়া শুভসংবাদ। যে রাতে ধরাধামে আমার শুভাগমন হয়, আমার মা এমনই এক নূর দেখতে পেয়েছিলেন যা দামেশ্কের দুর্গগুলো আলোকিত করেছিল এবং আমার মা ওই আলোর রৌশনিতে সেগুলো দেখেছিলেন।”
● আহমদ : আল মুসনাদ, ৪৫:২২৬ হাদীস নং ২১২৩১।
❏ ওপরের এই হাদীস বর্ণনা করেছেন
● আল্ হাকিম (رحمة الله) তাঁর ‘মুস্তাদরাক’ পুস্তকে (২:৬১৬-১৭),
● ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (رحمة الله) নিজ ‘মুসনাদ’ কেতাবে (৪:১৮৪), এবং
● ইমাম বায়হাকী (رحمة الله) স্বরচিত ‘দালাইল আল-নবুওয়া’ গ্রন্থে (১:১১০, ২:৮)।
● ইবনুল জওযী এটি উদ্ধৃত করেন ‘আল ওয়াফা’ কেতাবে (পৃষ্ঠা ৯১, বেদায়াত নাবিই-ইনা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২১তম অধ্যায়) এবং
● ইবনে কাসীর ‘মাওলিদে রাসূলিল্লাহ’ ও ’তাফসীরে কাসীর’ (৪:৩৬০) গ্রন্থগুলোতে।
● ইমাম ইবনে হাজর হায়তামী মক্কী শাফেয়ী (رحمة الله) এই বর্ণনা নিজ ‘মজমা’ আল-যাওয়াইদ (৮:২২১) কেতাবে উদ্ধৃত করে বলেন যে,
● ইমাম তাবারানী (رحمة الله) এবং ইমাম আহমদ হাম্বল (رحمة الله)-ও এটি বর্ণনা করেছেন; আর ইমাম আহমদ (رحمة الله)-এর সনদ ‘হাসান’ (উত্তম)।
[উক্ত হাদিসের সুত্রসমূহঃ
১. হযরত কা'ব আল আহবার (رضي الله عنه)
২. হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ (رضي الله عنه) এর মাতা শিফা বিনতে আমর ইবনে আউফ (رضي الله عنه)
৩. হযরত ইরবাদ ইবনে সারিয়া (رضي الله عنه)
৪. হযরত মু'য়াজ বিন জাবাল (رضي الله عنه)
৫. হযরত আবু উমামা (رضي الله عنه)
৬. হযরত উসমান ইবনে আবিল আস (رضي الله عنه)
৭. হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه)
৮. হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (رضي الله عنه)
৯. হযরত ইকরামা (رضي الله عنه)]
উক্ত হাদিসের রেফারেন্সঃ
-----------------------
১.ইমাম তাবারী : তফসীরে তাবারী : খ ১ : প ৫৫৬
২.ইমাম তাবারী : তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক : খ ১ : প ৪৫৮
৩.ইমাম কুরতুবী : তফসীরে কুরতুবী : খ ২ : প ১৩১
৪.ইমাম ইবনে কাসীর : তফসীরে ইবনে কাসীর : খ ৪ : প ৩৬০
[11]
মিলাদুন্নবী (ﷺ) উদযাপন হারাম নয় বরং সুন্নাহ।
═══════════
A)
১.সুরা ইউনুস, আয়াত, ৫৮।
২. সুয়ূতী, তাফসীরে দুররুল মানসূর, ৪/৩৬৭পৃ।
৩. সুয়ূতী, তাফসীরে দুররুল মানসূর, ৪/৩৬৭.।
৪.ইমাম আলুসী, তাফসীরে রুহুল মায়ানী, ১১/১৮৩পৃ.।
৫.ইমাম তিরমিজী, মাজমাউল বায়ান, ৫/১৭৭-১৭৮পৃ.।
৬.হাইয়্যান, তাফসীরে বাহারে মুহিত, ৫/১৭১।
৭.ইমাম জওজী, তাফসীরে যাদুল মাইসীর, ৪/৪০পৃ.।
B)
কাফির আবু লাহাবের সোমবার দিন আযাব হালকা হওয়া সম্পর্কিত বর্ণনা।
১.সহিহ বুখারী : ২৬৪৪, ২৬৪৫, ২৬৪৬, ৩১০৫, ৪৭৯৬, ৫০৯৯, ৫১০০, ৫১০১, ৫১০৩, ৫১০৬, ৫১০৭, ৫১২৪, ৫১৩৩, ৫২৩৯, ৫৩৭২, ৬১৫৬
২.ইমাম আহমদ : মুসনাদে আহমদ : হাদিস ২৫৯৫৩ উক্ত শিরোনামে لو كانت تحل لي لما تزوجتها قد أرضعتني وأباها ثويبة مولاة بني هاشم فلا تعرضن علي أخواتكن ولا بناتكن
পুনরায় হাদিস ২৬৮৬৫, মতন :
ابنة أخي من الرضاعة وأرضعتني وأبا سلمة ثويبة فلا تعرضن علي بناتكن ولا أخواتكن
৩.ইমাম নাসাঈ : আস সুনানুল কুবরা : হাদিস ৫৩৯৪, ৫৩৯৫
৪.ইমাম নাসাঈ : আস সুনান আস-সুগরা : হাদিস ৩২৮৪, ৩২৮৫, ৩২৮৬, ৩২৮৭
৫.ইবনে মাজাহ : হাদিস ১৯৩৯ শিরোনাম
( ابنة أخي من الرضاعة أرضعتني وأباها ثويبة فلا تعرضن علي أخواتكن ولا بناتكن)
৬. মুসলিম : হাদিস ২৬৩৪, ২৬৩৫
৭. সহিহ ইবনে হিব্বান : ৪১১০, ৪১১১ হাদিসের মতন :
إن زينب تحرم علي وإنها في حجري وأرضعتني وإياها ثويبة فلا تعرضن علي بناتكن ولا أخواتكن ولا عماتكن ولا خالاتكن ولا أمهاتكن
اطراف الحدیث
৮.ইমাম বায়হাকী : সুনান আল কুবরা : বিবাহ অধ্যায়
৯.জামেউল হাদিস : মাসানিদুস সাহাবা : হাদিস ৪৩৫৪৫
১০.ইমাম বাগবি : শরহুস সুন্নাহ : ৯ম খন্ড : ৭৫ পৃ
১১.ইমাম হিন্দি : কাঞ্জুল উম্মাল : ৬ খন্ড, হাদিস ১৫৭২৫
১২.মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, ৭ম খন্ড, হাদিস ১৩৫৪৬
১৩.ইমাম আঈনী : উমদাতুল কারী শরহে বুখারী : ১৪ খন্ড, পৃ ৪৫
১৪.ইমাম ইবনে কাসীর : সিরাত আন নববিয়্যাহ : ১ম খন্ড , পৃ ২২৪
১৫.শরহে যুরকানী, ১ম খন্ড, ২৬১ পৃ
১৬.সুবলুল হুয়া ওয়ার রশদ : ১ম খন্ড, ৩৬৭ পৃ
১৭.ইবনে হাজর আসকালানী : ফতহুল বারী : ৭ম জিলদের ১২৫
১৮.ইবনুল কাইয়্যুম : তোহফাতুল মাওদুদ বি আহকাম আল মাওলুদ, ১৯ পৃ
১৯.ইবনে আব্দুল ওহাব, মুখতাসার সিরাতুর রাসূল, মাওলিদুন্নবী।]
২০. ইমাম কুস্তালানীঃ মাওয়াহিবে লাদুনিয়া ১ম জিল্দ, ২৭ পৃঃ।
২১. ইমাম জুরকানীঃ জুরকানী ১ম জিল্দ ১৩৭ পৃঃ।
২২. ইমাম ইবনে হাজর আসকালানী : ফতহুল বারী শরহে বুখারী ৯ম খন্ড ১১৮ পৃষ্ঠা
২৩. ইমাম বদরুদ্দীন আঈনী : ওমদাতুল ক্বারী লি শরহে বুখারী ২০ খন্ড ৯৫ পৃষ্ঠা !
২৪. ইমাম কাস্তালানী : মাওয়াহেবুল লাদুননিয়াহ ১ম খন্ড!
২৫. শরহুয যারকানী ১ম খন্ড ২৬০ পৃষ্ঠা !
═════
[12]. যার উসীলায় জগৎ সৃজন।
═════
☛হযরত আলী (رضي الله عنه) সূত্রে।
☛হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) সূত্রে।
☛হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (رضي الله عنه) এর সূত্রে ও অন্যান্য সূত্রে।
যার উসীলায় জগৎ সৃজন।
A.
হযরত আলী (رضي الله عنه) সূত্রে।
১. ইমাম বুরহানুদ্দীন হালবী : সিরাতে হালবিয়াঃ ১/৩৭৫ পৃ.
২. আল্লামা ফকীহ খতিব আবু রবীঈ : আল মুখতাসার : ১/১১৫
৩. আল্লামা ইবনে হাজর হায়সামী : শরহে শামায়েল : ১/১১৫
৪. আল্লামা শায়খ ইউসূফ বিন ইসমাঈল নাবহানী : যাওয়াহিরুল বিহার : ২/১১৫ পৃ:
৫. আল্লামা বুরহান উদ্দিন হালবী : ইনসানুল উয়ূন : ১/৩৭৫ পৃ:
৬. শিফাউস সুদূর
B.
হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (رضي الله عنه) সূত্রে।
(মানঃ সহিহ)
১. ইমাম বায়হাকী (رحمة الله) : দালায়েলুন-নবুওয়াত : ৫/৪৮৯ পৃ
২. ইমাম হাকেম নিশাপুরী (رحمة الله) : মুসতাদরাকে হাকেম : ২/৪৮৬ পৃ : হাদিস : ৪২২৮
৩. ইমাম হাকেম নিশাপুরী (رحمة الله) : আল মাদখাল : ১/১৫৪
৪. ইমাম তাবরানী (رحمة الله) : আল মুজামুল আওসাত : ৬/৩১৩ : হাদীস নং-৬৫০২
৫. ইমাম তাবরানী (رحمة الله) : আল মুজামুস সগীর : ২/১৮২ : হাদীস নং-৯৯২,
৬. ইমাম তাবরানী (رحمة الله) : মুজমায়ে কবীর’
৭. ইমাম দায়লামী (رحمة الله) : আল মুসনাদিল ফেরদাউস : ৫/২২৭
৮. ইমাম আজলুনী (رحمة الله) : কাশফুল কাফা : ১/৪৬ ও ২/২১৪
৯. ইমাম আবূ নুয়াইম ইস্পাহানী (رحمة الله) : ‘হিলইয়াতুল আউলিয়া।
১০. ইমাম তকিউদ্দীন সুবকী (رحمة الله) : শিফাউস সিকাম, পৃ-১২০
১১. ইমাম ইবনে আসাকির (رحمة الله) : ‘তারিখে দামিষ্ক’: ৭/৪৩৭ পৃ
১২. ইমাম ইবনুল জাওজী (رحمة الله) : আল ওয়াফা বি আহওয়ালিল মোস্তফা (ﷺ) : ৩৩
১৩. ইমাম ইবনুল জাওজী (رحمة الله) : বয়ানুল মীলাদুন্নবী (ﷺ) : ১৫৮
১৪. ইমাম ইবনে কাসীর (رحمة الله) : আল বিদায়া ওয়ান নেহায়া : ১/১৮ পৃ
১৫. ইবনে হাজর হায়সামী (رحمة الله) : মাযমাউজ যাওয়ায়েদ : ৮/২৫৩
১৬. শিহাবউদ্দীন খাফাজী (رحمة الله) : ‘নাসীম আর-রিয়াদ’
১৭. ইমাম সুয়ুতী (رحمة الله) : খাসায়েসুল কুবরা : ১/১২ : হাদিস ১২
১৮. ইমাম সুয়ুতী (رحمة الله) : আদ দুররে মানসুর : ১/১৪২
১৯. আল্লামা কাসতাল্লানী (رحمة الله) : আল মাওয়াহেবুল লাদুনিয়্যাহ : ১/ ৮২ ও ২/৫২৫
২০. ইমাম যুরকানী (رحمة الله) : শরহে মাওয়াহিব : ১/১৭২
২১. ইমাম হালাবী (رحمة الله) : সীরাতে হালাবিয়্যাহ : ১/৩৫৫
২২. মুহাদ্দিসে শাহ আব্দুল আজিজ দেহলভী (رحمة الله) : তফসীরে আজিযী : ১/১৮৩
২৩. ইমাম নাবহানী (رحمة الله) : শাওয়াহিদুল হক : ১৩৭
২৪. ইমাম নাবহানী (رحمة الله) : আনোয়ার-ই-মোহাম্মাদীয়া : ৯-১০
২৫. ইমাম নাবহানী (رحمة الله) : জাওয়াহিরুল বিহার : ২/১১৪
২৬. ইমাম নাবহানী (رحمة الله) : হুজ্জাতুল্লাহি আলাল আলামিন : ৩১ পৃ ও ৭৯৫ পৃ
(মাকতুবাত এ তাওফিক হিয়্যাহ, কাহেরা,মিশর)
২৭. ইমাম তকী উদ্দীন (رحمة الله) : দাফউ শুবহাহঃ ১/৭২
২৮. ইমাম সামহুদী (رحمة الله) : ওয়াফাউল ওয়াফাঃ২/৪১৯
২৯. ইবনু তাইমিয়্যাহঃ মাজমাউল ফাতাওয়াঃ২/১৫৯
৩০. ইমাম ইবনু কাসীর (رحمة الله) : আস সীরাতুন নাবাওইয়্যাহ- ১/১৯৫
৩১. ইমাম সুলতান মোল্লা আলী কারী (رحمة الله) : আল আসরারুল মারফুআহ- ১/২৯৫
৩২. আল্লামা শফী উকারবী (رحمة الله) : যিকরে হাসীন : ৩৭
৩৩. আশরাফ আলী থানবীঃ নুশরাত্বীব ২৮
৩৪. আশরাফ আলী থানবী : শরীয়তের দৃষ্টিতে ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) : প্রথম অধ্যায়।
৩৫. ফাযায়েলে আমাল, ৪৯৭, উর্দু এডিশন
৩৬. আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী : তাফসীরে রুহুল বায়ান: ২/৩৭০ পৃ. সূরা মায়েদা: আয়াত নং-১৫
৩৭. আল্লামা ইবনে হাজার হায়সামী : শরহে শামায়েল : ১/১১৫ পৃ:
C.
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) সূত্রে।
(মানঃ হাসান)
১. ইমাম হাকিম নিশাপুরী : আল মোসতাদরেক’ : ২/৬৭১ : হাদিস ৪২২৭
২. ইমাম দায়লামী : আল মুসনাদিল ফেরদাউস : ৫/২৪২
৩. ইমাম ইবনে সাদ : তানাকাতুল কোবরা
৪. ইমাম তাকিউদ্দীন সুবকী : ‘শিফাউস্ সিকাম ৪৫
৫. শায়খুল ইসলাম আল-বুলকিনী : ফতোওয়ায়ে সিরাজিয়া ১/১৪০
৬. ইবনে হাজর রচিত ‘আফদ্বালুল কোরা।
৭. আবূ নুয়াইম : ‘হিলইয়াতুল আউলিয়া,
৮. ইমাম নাবহানী : জাওয়াহিরুল বিহার : ২/১১৪ ও ৪/১৬০
৯. ইবনে কাসীর : কাসাসুল আম্বিয়া : ১/২৯ পৃ
১০. ইবনে কাসীর : সিরাতে নববিয়্যাহ (ﷺ) ১/৩২০
১১. ইবনে কাসীর : মুজিজাতুন্নবী (ﷺ) : ১/৪৪১
১২. ইবনে হাজর আসকালানি : লিসানুল মিযান : ৪/৩৫৪
১৩. ইমাম যাহাবী : মিজানুল ইতিদাল : ৫/২৯৯, রাবী নং ৬৩৩৬
১৪. ইমাম শামী : সুবলুল হুদা ওয়ার রাশাদ : ১২/৪০৩
১৫. ইবনে হাজর হায়সামী : শরহে শামায়েল : ১/৪২
১৬. ইমাম যুরকানী : শরহে মাওয়াহিব : ১/১২/২২০
১৭. আবু সাদ ইব্রাহীম নিশাপুরী : শরহে মোস্তফা : ১/১৬৫
১৮. ইমাম সুয়ুতী : কাসায়েসুল কুবরা : ১/১৪ : হাদিস ২১
১৯. ইমাম ইবনে হাইয়্যান : ‘তাবকাত আল-ইসফাহানী : ৩/২৮৭
২০. কানযুল উম্মাল- হাদীস ৩২০২২
২১. মোল্লা আলী কারী : মাওজুয়াতুল কবীর : ১০১
২২. মোল্লা আলী কারী : মাওজুয়াতুল কবীর : ১/২৯৫, হাদিস : ৩৮৫
D.
হযরত সালমান ফারসী (رضي الله عنه) সূত্রে।
১. ইমাম ইবনে আসাকীর ও তারীখে দামেস্ক ৩/৫১৭ পৃষ্ঠা।
২. আল্লামা মােল্লা আলী ক্বারী হানাফী : মওদুআতুল কবীর : ১০১ পৃষ্ঠা
৩. আল্লামা ইমাম যুরকানী : শরহে মাওয়াহেব : ১/১৮২ পৃ
৪. শায়খ ইউসূফ নাবহানী : যাওয়াহিরুল বিহার : ১/২৮৯ পৃষ্ঠা
৫. ইমাম কাজী আয়াজ : শিফা শরীফঃ ১০৫ পৃ.
E)
তাবেয়ী হযরত কাবুল আহবার (رضي الله عنه) সূত্রে।
১. ইমাম কুস্তালানী : আল মাওয়াহেব : ১/৩৩
২. ইমাম নাবহানী : জাওয়াহিরুল বিহার : ৩/৩৫২
৩. ইমাম যুরকানী : শরহে মাওয়াহিব : ১/৭৮
৪. আল্লামা শফী উকারবী : যিকরে হাসীন : ৩১
৫. ইমাম তুগরিব : আল মাওলুদ শরীফ : ১৪২
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শাফায়াতে কুবরার অধিকারী
____________________
❏ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শাফায়াতে কুবরার অধিকারী।
তাঁর শাফায়াত নসীব হবে গোনাহগার উম্মতের জন্য। যারা ইমানদার নয় তাদের জন্য শাফায়াত নসীব হবে না।
❏ হাদিস ১-২:
☞ ইমাম আহমদ নির্ভরযোগ্য সূত্র দ্বারা তার প্রসিদ্ধ কিতাব মুসনদে আহমদে- হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে ওমর (رضي الله عنه) থেকে,
☞ হযরত ইবনে মাজাহ (رحمة الله) হযরত আবু মূসা আল আশয়ারী (رضي الله عنه) থেকে বর্ণনা করেন, হুজুর শাফিউল মুযনেবীন (ﷺ) এরশাদ করেন,
خيرت بين الشفاعة وبين ان يدجل شطر امتی الجنة فاخترت الشفاعة لانها اعم واکفی اترونها للمٶمنين المتقين لا ولکنها للمذنبين الخطاٸين
অর্থাৎ আল্লাহতায়ালা আমাকে দু'টি বিষয়ে ইখতিয়ার প্রদান করেছেন, শাফায়াত করা অথবা অর্ধেক উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করান। আমি শাফায়াত করার অধিকার গ্রহণ করলাম। কেননা, সেটা সর্বাধিক ব্যাপক ও সঠিক কাজে আসার উপযােগী। (হে সাহাবীগণ! তোমরা কি এটা মনে করেছ যে, আমার শাফায়াত পরহেজগারি মুসলমানদের জন্য ? ‘না’, আমার শাফায়াত ঐ সমস্ত পাপীদের জন্যে যারা পাপে জর্জরিত।
➥ [কিতাবঃ কুরআন হাদিসের আলোকে শাফায়াত। মূলঃ ইমাম আ'লা হযরত (رحمة الله)]
আমার শাফায়াত আমার পাপী উম্মতদের জন্য
____________________
আমার শাফায়াত আমার পাপী উম্মতদের জন্যঃ
❏ হাদিস ৩-৮:
ইবনে আদী হযরত উম্মুল মােমেনীন উম্মে সালমা (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত।
হযরত আবু বকর, আহমদ বিন আলী বাগদাদী (رحمة الله) হযরত আবু দারদা (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত।
☞ আবু দাউদ, তিরমিযি, ইবনে হাব্বান, হাকেম ও বায়হাকী (رحمة الله) প্রমুখ হযরত আনাস ইবনে মালেক (رضي الله عنه) থেকে এবং
☞ ইমাম তিরমিযি, ইবনে মাজাহ, ইবনে হাব্বান ও হাকেম (رحمة الله) হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (رضي الله عنه) থেকে এবং
☞ ইমাম তাবরানী তার মুজামুল কবীরে, হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) থেকে এবং
☞ খতীবে বাগদাদী (رحمة الله) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ফারুক (رضي الله عنه) এবং হযরত কা'ব ইবনে আজরাহ (رضي الله عنه) থেকে বর্ণনা করেন,
হুজুর শাফিউল মুযনেবীন (ﷺ) এরশাদ করছেন,
شفاعتی لاهل الکباٸر من امتی
"অর্থাৎ আমার শাফায়াত আমার উম্মতের মধ্যে তাদেরই জন্যে, যারা কবীরা গুনাহে অভিযুক্ত।"
➥ [কিতাবঃ কুরআন হাদিসের আলোকে শাফায়াত। মূলঃ ইমাম আ'লা হযরত (رحمة الله)]
❏ হাদিস ৯-১০:
☞ ইমাম আহমদ, তাবরানী এবং বাজ্জার رحمة الله হযরত মায়াজ ইবনে জবল (رضي الله عنه) এবং হযরত আবু মুসা আশআরী (رضي الله عنه) থেকে বর্ণনা করেন, হুজুর শফিউল মুযনেবীন (ﷺ) এরশাদ করেন,
انها اوسع لهم هی لمن مات ولا يشرك بالله شيٸا
অর্থাৎ: শাফায়াতে উম্মতদের জন্যে অধিক প্রশস্থতা রয়েছে। যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্যই হবে, যার মৃত্যু ঈমানের উপর হয়েছে।
➥ [কিতাবঃ কুরআন হাদিসের আলোকে শাফায়াত। মূলঃ ইমাম আ'লা হযরত (رحمة الله)]
❏ হাদিস ১১:
☞ হযরত ইবনে মুনিয়া, হযরত সায়দ ইবনে আরকাম (رضي الله عنه) প্রমুখ সর্বমোট ১৪জন উল্লেখযোগ্য সাহাবা কেরাম (رضي الله عنه) থেকে বর্ণনা করেন শাফীউল মুযনেবীন (ﷺ) এরশাদ করেন,
شفاعتی يوم القيامة حق فمن لم يٶمن بها لم يکن من اهلها
অর্থাৎ কিয়ামত দিবসে আমার শাফায়াত সত্য, যারা এর উপর ইমান বা বিশ্বাস করবেন, তারা এ সৌভাগ্য অর্জন করবেন।"
➥ [কিতাবঃ কুরআন হাদিসের আলোকে শাফায়াত। মূলঃ ইমাম আ'লা হযরত (رحمة الله)]
❏ হাদিস ১২:
☞ তাবরানী, বায়হাকী, হযরত বুরায়দাহ এবং তাবরানী ‘মু’জামে আউসত’এ হযরত আনাস (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, হুজুর শাফিউল মুযনেবীন (ﷺ) এরশাদ করেন,
انی لاشفع يوم القيامة لاکثر مما علی وجه الارض من شجر وحجر ومدر
অর্থাৎ : ভূপৃষ্ঠে যত বৃক্ষ, পাথর ও ঢিলা আছে, কিয়ামত দিবসে আমি ততােধিক ব্যক্তির জন্য শাফায়াত করবাে।
➥ [কিতাবঃ কুরআন হাদিসের আলোকে শাফায়াত। মূলঃ ইমাম আ'লা হযরত (رحمة الله)]
❏ হাদিস ১৩:
হযরত উসমান (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত রাসূল (ﷺ) ইরশাদ ফরমান,
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَشْفَعُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثَلَاثَةٌ: الْأَنْبِيَاءُ، ثُمَّ الْعُلَمَاءُ، ثُمَّ الشُّهَدَاءُ
“কিয়ামতের ময়দানে তিন ধরনের মানুষ সুপারিশ করবে, নবীগণ, তারপর আলেমগণ এবং তারপর আল্লাহর রাস্তায় শহীদগণ।”
১.ইমাম ইবনে মাজাহ : আস-সুনান : ২/১৪৪৩ পূ, হাদিস : ৪৩১৩,
২.ইমাম জালালুদ্দীন সুয়তী : জামেউস-সগীর : ২/৭১৪ পূ, হাদিস : ১০০১১,
৩.আযলুনী : কাশফুল খাফা ; ২/৩৬৫ পৃ. হাদিস :৩২৫৯,
৪.খতিব তিবরিযী : মেশকাত : বাবুল হাওজওয়া শাফায়াত : ৩/৩১৮ পূ, হাদিস নং : ৫৬১১,
৫.বায়হাকী : শুয়াবুল ঈমান : ২/২৬৫ পূ, হাদিস :১৭০৭,
৬.মুত্তাকী হিন্দী : কানযুল উম্মাল : ১০/১৫৯ পূ, হাদিস : ২৮৭৭০।
হক্ব-বাতিল সুস্পষ্টরূপে পৃথক
____________________
হক্ব-বাতিল সুস্পষ্টরূপে পৃথকঃ
➖➖➖➖➖➖➖➖➖
❏ "সত্য সমাগত হয়েছে, মিথ্যা অপসৃত হয়েছে। অবশ্য মিথ্যা তো অপসৃত হওয়ারই ছিল।"[সূরা বনী ইসরাঈল ১৭/৮১]
❏ "তোমরা হক্বকে বাতিলের সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে-বুঝে সত্য গোপন করো না।" [সূরা বাকারা ২:৪২]
❏ "হেদায়েতের পথ গোমরাহী থেকে সুস্পষ্টরূপে পৃথক হয়ে গেছে।" [সূরা বাকারা ২ : ২৫৬]
হক্ব-বাতিলের হাক্বিকত
____________________
হক্ব-বাতিলের হাক্বিকতঃ
➖➖➖➖➖➖➖➖
"এ (কিতাব) দ্বারা তিনি কাউকে বিপথগামী করেন আবার কাউকে সঠিক পথ দেখান। শুধুমাত্র চরম অবাধ্যকারীদের কেই তিনি বিপথগামী করেন।" ➠[বাকারাহ ২৬]
"তিনি যাকে চান বিপদগামী করেন এবং যাকে চান সঠিক পথে পরিচালিত করেন।”
➠[সূরা আল আনয়াম ৩৯]
কারা হেদায়াত বঞ্চিত?
"আল্লাহ কখনো জালেমদের হেদায়াত করেন না।
➠[সুরা কাসাস, আয়াত : ৫০]
"সীমা লংঘনকারীদেরকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেন।"
➠[সূরা ইব্রাহীম : ২৭]
কারা হেদায়াত লব্ধ?
“যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করবে, আমি তাদেরকে অবশ্যই হেদায়াতের পথে পরিচালিত করবো।➠[সুরা আনকাবুত-৬৯]
হেদায়াত বঞ্চিতদের কোন পথপ্রদর্শক নেই, তারা অভিশপ্ত, চিরলাঞ্চিত। তাদের জন্য আফসোস ব্যতীত কিছু অবশিষ্ট থাকবে না।
"আল্লাহ্ যাদেরকে বিপদগামী করেন, তাদের কোন পথ প্রদর্শক নেই। আর তাদেরকে তিনি অবাধ্যতায় উৎভ্রান্তের ন্যায় ঘুরে বেড়াতে দেন।"
➠[সূরা আরাফ, ৭:১৮৬।
এ বিষয়ে অন্যান্য আয়াতঃ
[১.সূরা আর-রাদ, ১৩:৩৩। ২.সূরা বনি ইসরাঈল, ১৭:৯৭।৩.সূরা আল-কাহাফ, ১৮:১৭।৪. সূরা আয-যুমার, ৩৯:২৩।৫. সূরা আয-যুমার, ৩৯:৩৬। ৬. সূরা আল-মুমিন, ৪০:৩৩। ৭. সূরা আশ-শুরা, ৪২:৪৪। ৮. সূরা আশ-শুরা, ৪২:৪৬।]
"আর যেই ব্যক্তি এইখানে অন্ধ, সে আখিরাতেও অন্ধ এবং অধিকতর পথভ্রষ্ট।"➠[সূরা বনী ইসরাঈল, ১৭:৭২]
"আমার নিদর্শনের প্রতি যাদের চক্ষু ছিল অন্ধ, তারা শুনতেও অক্ষম।" ➠[সূরা আল-কাহাফ, ১৮:১০১]
"বস্তুত চক্ষু তাে অন্ধ নয়, বরং অন্ধ হচ্ছে বক্ষস্থিত হৃদয়।" ➠[সূরা হজ্ব, ২২:৪৬]
"(পথভ্রষ্টদের) ক্বলবে রয়েছে অসুখ তাই তারা আল্লাহকে চিনে না।" ➠[সূরা আল-বাকারা, ২:১০]
"যাদের অন্তরে রয়েছে সত্যবিমুখতার প্রবণতা, তারাই কেবল ফিতনা ও ভুল ব্যাখ্যার অনুসন্ধানে মুতাশাবিহাতের অনুসরণ করে।"➠[সূরা আল-ইমরান-৭]
হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত,
“তারা ঈমান আনবে কুরআনের মুহকাম আয়াতসমূহের উপর। আর তারা ধ্বংস হয়ে যাবে মুতাশাবিহ্ আয়াতসমূহের কারণে।”
➠[তাবারী : জামেউ বায়ানি ফী তাফসীরুল কুরআন, ৩/১৮১; আসকালানী : ফতহুল বারী, ১২/৩০০]
"তাদেরকে ফুটন্ত পানি পান করানো হবে, ফলে তা তাদের নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দেবে!"
➠[সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত ১৫]
ঈমানদার বনাম বেঈমান
____________________
ঈমানদার বনাম বেঈমানঃ
(i) তাদের বন্ধু-অভিভাবক ভিন্নঃ
"মুমিনদের বন্ধু-অভিভাবক স্বয়ং আল্লাহ।"
➠[সূরা আল-ইমরান, ৩/৬৮, সূরা জাসিয়া ৪৫:১৯, সূরা ইউনুস ১০:৬২-৬৩, সূরা আরাফ ৭:১৯৬, সূরা মুহাম্মদ ৪৭:১১]
"কাফিরদের বন্ধু-অভিভাবক হল শয়তান।"
➠[সূরা বাকারা ২: ২৫৭, সূরা আরাফ ৭ : ২৭, ৩০, সূরা নাহল ১৬ : ৯৯-১০০, সূরা আন-নিসা ৪ : ১১৯-১২০]
(ii) তাদের ঈমান আনয়নের হাক্বিকত ভিন্নঃ
"কিছু লােক বলে, আমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের উপর ঈমান এনেছি অথচ আধৌ তারা ঈমানদার নয়।"
➠[সূরা বাকারা:আয়াত-৮, সূরা মুনাফিকুনঃ আয়াত-১]
(iii) তাদের আমলের হাক্বিকত ভিন্নঃ
আবূ মূসা আল আশ্‘আরী (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত,
কুরআন পাঠকারী মুমিনের দৃষ্টান্ত হলো,
কমলা লেবুর ন্যায়। যার স্বাদ-গন্ধ উভয়ই উত্তম।
কুরআন পাঠকারী মুনাফিকের দৃষ্টান্ত,
ঐ ফুলের মতো, যার গন্ধ আছে কিন্তু স্বাদ তিক্ত।"
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
১.বুখারী ৫৪২৭, ৫০৫৯,
২.মুসলিম ৭৯৭,
৩.তিরমিযী ২৮৬৫,
৪.নাসায়ী ৫০৩৮,
৫.ইবনু মাজাহ ২১৪,
৬.আহমাদ ১৯৫৪৯,
৭.সহীহ ইবনু হিব্বান ৭৭০,
৮.সহীহ আত্ তারগীব ১৪১৯।
৯.মিশকাতুল মাসাবীহ : ২১১৪
অধ্যায়ঃ কুরআনের মর্যাদা (كتاب فضائل القراٰن)
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি
আকিদাভ্রষ্টদের শেষ পরিনতি মুরতাদ
____________________
আকিদাভ্রষ্টদের শেষ পরিনতি মুরতাদঃ
➖➖➖➖➖➖➖➖➖
সীমালংঘনকারীরা মাত্রা অতিক্রম করে শেষ পর্যায়ে "মুরতাদের" উপর মৃত্যুবরণ করে।
মুখে যদিও ঈমানের ফুলঝুরি কিন্তু আদৌ তারা ঈমানদার নয়।
❏ "যারা আল্লাহ্ (ﷻ) ও রাসূল (ﷺ) এর বিরুদ্ধে দুশমনিতে লিপ্ত হয়, তাদের শাস্তি কেবল মৃত্যুদন্ড।"
➠[সূরা মায়েদা ৩৩]
❏ মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড। [সূরা আহযাব ৬১-৬২]
❏ তাদের সাথে যুদ্ধের ঘোষণা।[সূরা তওবা ১১-১৩]
❏ ইমাম কাজী আয়াজ (رحمة الله) বলেন,
"ইসলাম বা কুরআনের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্যকারী, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে নিয়ে কটুক্তিকারী কিংবা তাঁর শানে গোস্তাখীকারী মুরতাদ হয়ে যাবে। তাদের শাস্তি হল মৃত্যুদন্ড।"➠[ইমাম কাজী আয়াজঃ আশ শিফা-২/২১১]
এমনিভাবে একই মতের উপর ইমামগণের এক বিশাল জামাত ঐক্যমত পোষণ করেছেন।
☛ ইমাম মালেক বিন আনাস (رحمة الله)
☛ ইমাম আবুল লাইস (رحمة الله)
☛ ইমাম আহমাদ (رحمة الله) ইমাম ইসহাক এ বক্তব্যের প্রবক্তা।
☛ আর এটাই ইমাম শাফেয়ী (رحمة الله) এর মাজহাব।
☛ আল্লামা কাজী ইয়াজ (رحمة الله)
☛ ইমাম আবু হানীফা (رحمة الله) হানাফী ফুক্বাহাবৃন্দ।
☛ ইমাম সাওরী (رحمة الله),
☛ আহলে কুফা ও ইমাম আওজায়ী (رحمة الله)
☛ ইমাম ইবনে আবেদীন শামী (رحمة الله)
☛ ইমাম তক্বীউদ্দীন সুবকী (رحمة الله)
☛ ইমাম তাক্বীউদ্দীন আবুল হাসান আলী (رحمة الله)
☛ আবু বকর ইবনুল মুনজির (رحمة الله)
তথ্যসূত্রঃ
১.ইমাম কাজী আয়াজঃ আশ শিফা-২/২১১
২.আস-সারিমুল মাসলূলঃ ১/৯
৩.আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীরঃ মুয়াসসার
৪.ইমাম সুয়ুতীঃ মাহাসিনুত তাওয়ীল-৫/১৪২, সূরা তওবা ১১-১৩ এর ব্যখ্যায়
৫.সুবুলু হুদা ওয়ার রাশাদ-১২/২১,
৬.ইমাম তক্বীউদ্দীন সুবকীঃ “আসসাইফুল মাসলূল আলা মান সাব্বার রাসূল (ﷺ)"
৭.ইমাম ইবনে আবেদীন শামীঃ তাম্বীহুল ওলাত ওয়াল আহকাম
৮.ইমাম ইবনে আবেদীন শামীঃ রাসায়েলে ইবনে আবেদীন-১/৩১৬
৯.আ'লা হযরতঃ ইরশাদে আ'লা হযরত।
১০.আ'লা হযরতঃ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আক্বিদা।
১১.ইমাম কিরদারীঃ আল-ওয়াজীয।
১২.ইমাম ইবনে আবেদীন শামীঃ দুররে মুখতার’।
সকল ধর্মগ্রন্থে মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড
____________________
সকল ধর্মগ্রন্থে মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ডঃ
══════════════
i) ইহুদী ও খ্রিস্টান ধর্মে মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডঃ
১.[বাংলা কিতাবুল মুকাদ্দাস-২৪২, তৌরাত, দ্বিতীয় বিবরণ, ১৩: ৬-১]
২.[এনসাইক্লোপেডিয়া, রিলিজিওন অধ্যায়, ইন্ডিয়া এডিশন, ৬ নং খন্ড]
ii) আল-কুরআনে মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডঃ
সূরা মুহাম্মাদ : ২৫-২৮
সূরা বাকারা ২ : ২১৭
iii) আল-হাদিসে মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডঃ
হাদিসের সকল সূত্র সমূহঃ
☛হযরত আলী (رضي الله عنه) সূত্রে।
☛হযরত ইকরিমা (رضي الله عنه) সূত্রে।
☛আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (رضي الله عنه) সূত্রে।
☛আবু মুসা আশআরী (رضي الله عنه) সূত্রে।
☛হযরত উসমান (رضي الله عنه) সূত্রে।
☛হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) সূত্রে।
☛হযরত আয়শা সিদ্দিকা (رضي الله عنه) সূত্রে।
☛হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ (رضي الله عنه) সূত্রে।
☛হযরত আনাস (رضي الله عنه) সূত্রে।
☛হযরত বারা ইবনে আজেব (رضي الله عنه) সূত্রে।
☛হযরত সাঈদ বিন আব্দুল আজীজ (رضي الله عنه) সূত্রে।
☛হযরত আমর বিন আস (رضي الله عنه) সূত্রে।
☛অন্যান্য হাদিস।
_________________________
(i)
হযরত আলী (رضي الله عنه) সূত্রে।
১.সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪৩৬৪,
২.সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১৩১৫৪
৩.হায়াতুস সাহাবা-২/৩৫১, উর্দূ।
হযরত আলী (رضي الله عنه) সূত্রে অপর হাদিস।
১.জামেউল আহাদীস, হাদীস নং-২২৩৬৬,
২.জমউল জাওয়ামে, হাদীস নং-৫০৯৭,
৩.দায়লামী, ৩/৫৪১, হাদীস নং-৫৬৮৮,
৪.আস সারেমুল মাসলূল-৯২
(ii)
আবু মুসা আশআরী (رضي الله عنه) সূত্রে।
১.সুনানে আবু দাউদ : হাদীস ৪৩৫৪
২.সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-৩৫২৯
(iii)
হযরত আনাস (رضي الله عنه) সূত্রে।
১.সহীহ বুখারী, হাদীস নং-১৭৪৯
২.ফাতহুল বারী-২/২৪৮,
৩.আস সারেমুল মাসলূল-১৩৫
(iv)
হযরত বারা ইবনে আজেব (رضي الله عنه) সূত্রে।
(সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৩৮১৩)
(v)
হযরত ইকরিমা (رضي الله عنه) সূত্রে অপর হাদিস।
(আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৫/৩৬৩)
(vi)
হযরত সাঈদ বিন আব্দুল আজীজ (رضي الله عنه) সূত্রে।
১.সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১১০,
২.সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১৬৬৪৯
ফিতনা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ভবিষ্যৎবাণী
____________________
ফিতনা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ভবিষ্যৎবাণীঃ
➖➖➖➖➖➖➖➖➖
❏ "নিশ্চয় কিয়ামতের পূর্বে অন্ধকারাচ্ছন্ন রাত্রির ন্যায়, অবিরাম বৃষ্টির ন্যায় এই ফিতনা বর্ষণ হবে। ➠[1]
❏ "তখন লোক সকালে মুমিন থাকলে, বিকালে কাফের হয়ে যাবে। আর বিকালে মুমিন থাকলে, সকালে কাফের হয়ে যাবে। একদল লোক পার্থিব স্বার্থসিদ্ধির জন্য স্বীয় দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে।"➠[2]
❏ "তাদের মধ্যে প্রবৃত্তিপূজা এমনভাবে অনুপ্রবেশ করবে, যেমন পাগল কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক রোগ হয়। যা তাদের শিরা-উপশিরা গ্রাস করে।" ➠[3]
❏ "তারা মসজিদসমুহে সমবেত হবে, অথচ তাদের মধ্যে একজনও মু'মিন থাকবে না।”➠[4]
ফিত্না সম্পর্কে রাসূলের (ﷺ) ভবিষ্যৎবাণী।
➖➖➖➖➖➖➖➖
➠[1].(i)
১.হযরত ইবনে মাসউদ (رضي الله عنه) সূত্রে।
[নুয়াইম বিন হাম্মাদঃ আল ফিতানঃ হাদিস ১২১]
২.হযরত হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (رضي الله عنه) সূত্রে।
[নুয়াইম বিন হাম্মাদঃ আল-ফিতানঃ হাদিস ৪]
৩.হযরত মুজাহিদ (رحمة الله) সূত্রে।
[নুয়াইম বিন হাম্মাদঃ আল-ফিতানঃ হাদিস ১৩]
৪.হযরত আবু মুসা আশআরী (رضي الله عنه) সূত্রে।
[নুয়াইম বিন হাম্মাদঃ আল-ফিতানঃ হাদিস ১২ ]
৫.হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (رضي الله عنه) সূত্রে। [নুয়াইম বিন হাম্মাদঃ আল-ফিতানঃ হাদিস ১৪ ]
৬.হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) সূত্রে।
[আত-তাবরানী, খন্ড : ১১, পৃষ্ঠা : ৫৮]
➠[1](ii)
ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদঃ আল-ফিতানঃ
১.আবু তামীম জায়শানী (رضي الله عنه) সূত্রে।
[হাদিস ২৪]
২.কায়েস ইবনে আবু হোসেন (رضي الله عنه) সূত্রে।
[হাদিস ২১]
হযরত উসামা ইবনে যায়েদ (رضي الله عنه) সূত্রে।
[হাদিস ২৫]
➠[2]
ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদঃ আল-ফিতানঃ
১.হযরত মুজাহিদ (رحمة الله) সূত্রে।
[ হাদিস ১৩ ]
২.হযরত আবু মুসা আশআরী (رضي الله عنه) সূত্রে।
[ হাদিস ১২ ]
৩.হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (رضي الله عنه) সূত্রে।
[ হাদিস ১৪ ]
৪.হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) সূত্রে।
[ইমাম তাবরানীঃ আত-তাবরানী
খন্ড : ১১, পৃষ্ঠা : ৫৮]
➠[3]
হযরত মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (رضي الله عنه) সূত্রে।
১.খতিব তিবরিযি, মিশকাতুল মাসাবিহ, ১/৬১পূ, কিতাবুল ই'তিসাম বিস্-সুন্নাহ, হাদিস নং. ১৬২,
২.মুসনাদে আহমদ,আবু দাউদ, আস-সুনান, ৪/১৯৮পৃ. কিতাবুস-সুন্নাহ, হাদিস, ৪৫৯৭
➠[4]
হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর (رضي الله عنه) সূত্রে।
১. ইবনে আবু শায়বাহ : আল-মুসান্নাফ, ৬/১৬৩, হাদিস : ৩০৩৫৫, ৭/৫০৫, হাদিস : ৩৭৫৮৬।
২. হাকেম : আল-মুসতাদরক, ৪/৪৮৯, হাদিস : ৮৩৬৫
৩. দায়লামীঃ আল-ফেরদৌস বি মা’সুরিল খিতাব, ৫/৪৪১, হাদিস : ৮০৮৬
৪. আবুল মাহাসিনঃ মু'তাসিরুল মুখতাসার, ২/২৬৬
৫. ফিরয়াবীঃ সিফাতুল মুনাফিক ২/৩ হাদিস : ১০৮, ১১০।
বাতিল ফির্কার বৈশিষ্ট্যসমূহ
____________________
বাতিল ফির্কার বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
➖➖➖➖➖➖➖➖➖
❏ "তারা সুন্দর সুন্দর কথা বলবে।”
➠[বুখারী : আস্ সহীহ, ৬/২৫৩৯, হাদিস : ৬৫৩১।, মুসলিম: আস্ সহীহ, ২/৭৪৬, হাদিস ১০৬৬। তাবারানী : আল মুজামুল আওসাত, ৬/১৮৬, হাদিস : ৬১৪২]
❏ "কিন্তু অন্তরসমূহ হবে হিংস্র বাঘের অনুরূপ।"➠[1]
❏ "দ্বীনচর্চায় মাত্রাতিরিক্ত করবে।”
➠[আবু ইয়ালা : আল মুসনাদ, ১/৯০, হাদিস : ৯০, আবদুর রাযযাক : আল মুসান্নাফ,১০/১৫৫, ১৮৬৭৩]
❏ "ঘন ঘন মাথা মুন্ডন করবে৷"
➠[সহীহ বোখারীঃ খন্ড-২ : পৃ- ৬২৪]
❏ "দাঁড়ি ঘন করবে, পায়জামা দৃষ্টিকটুভাবে উঁচু করে পরিধান করবে।”➠[বুখারী : আস্ সহীহ, ৪/১৫৮১, হাদিস : ৪০৯৪, মুসলিম : আস্ সহীহ, ২/৭৪২, হাদিস ১০৬৪]
❏ "তারা হবে অল্প বয়স্ক যুবক। বিবেক-বুদ্ধিতে অপরিপক্ক এবং চরম কট্টরপন্থী।" ➠[2]
❏ "কুরআন ও হাদীস থেকে বক্তব্য উপস্থাপন করবে।" ➠[সহীহ আল বুখারী, হাদীস নং-৩৪১৫]
❏ "তাদের সম্মুখে তােমাদের সালাত, সাওম, কুরআন তেলাওয়াত (আমলগুলোকে) তুচ্ছ মনে হবে।”
➠[বুখারী, ৬/২৫৩৯, হাদিস : ৬৫৩১, মুসলিম, ২/৭৪৬, হাদিস ১০৬৬।]
❏ "ঈমানের কথা বলবে অথচ ঈমানের লেশ মাত্র থাকবে না।"➠[সহীহ আল বুখারী, হাদীস নং-৩৪১৫]
❏ "ঈমান তাদের গলদেশের নিচে (ক্বলবে) পৌঁছাবে না।” ➠[3]
❏ "তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বহিষ্কৃত হবে যেমন তীর ধনুক/শিকার থেকে বেরিয়ে যায়।"
➠[বুখারী ৬/২৫৩৯, হাদিস : ৬৫৩১, মুসলিম ২/৭৪৬, হাদিস : ১০৬৬]
❏ "তারা সমগ্র সৃষ্টিজগতের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট।”
➠[মুসলিম : আস্ সহীহ, ২/৭৫০, হাদিস : ১০৬৭।]
❏ "এদের সর্বশেষ দাজ্জালের সাথে মিলিত হবে।” ➠[নাসায়ী : আস্ সুনান, ৭/১১৯, হাদিস : ৪১০৩]
❏ "কাফেরদের উদ্দেশ্যে নাযিলকৃত আয়াতগুলাে, মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দিবে।”
➠[বুখারী : আস্ সহীহ, ৬/২৫৩৯]
❏ "তারা মুসলমানদের মুশরিক বলে হত্যা করবে আর মুর্তিপূজারকদের ছেড়ে দিবে।”➠[4]
বাতিল ফির্কার বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
➖➖➖➖➖➖➖➖
➠[1]
হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) সূত্রে।
১. তিরমিযী : আস-সুনান, কিতাবুয যুহুদ, (৩৭) ৩৬ ৪/৬০৪, হাদিস : ২৪০৪, ২৪০৫
২. ইবনে আবু শায়বাহ : আল-মুসান্নাফ, ৭/২৩৫, হাদিস : ৩৫৬২৪ ৯
৩. বায়হাকী : অবুিল ঈমান, ৫/৩৬২, হাদিস : ৬৯৫৬৩
৪. তাবরানী : আল-মু'জামুল আওসাত, ৮/৩৭৯
৫. ইবনুল মুবারক : কিতাবুয যুহুদ, ১/১৭, হাদিস : ৫০
৬. দায়লমী : আল-ফেরদৌস বি মা’সুরিল খিতাব, ৫/৫১০, হাদিস : ৮৯১৯
৭. মুনযিরী আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/৩২, হাদিস : ৪১
৮. ইবনে হান্নাদ : কিতাবুয যুহুদ, ২/৪৩৭, হাদিস : ৮৬০
➠[2]
১. বুখারী : আস্ সহীহ, ৬/২৫৩৯, হাদিস : ৬৫৩১।
২. মুসলিম : আস্ সহীহ, ২/৭৪৬, হাদিস : ১০৬৬।
৩. আহমদ ইবনে হাম্বল : আল মুসনাদ, ৫/৩৬, ৪৪।
৪. হাকেম : আল মুসতাদরাক, হাদিস : ২৬৪৫।
৫. ইবনে আবী আসেম : আস সুন্নাহ, ২/৪৫৬, হাদিস : ৯৩৭|
৬. আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ : আস সুন্নাহ, ২/৬৩৭, হাদিস : ১৫১৯
৭. বায়হাকী : আল সুনানুল কুবরা, ৮/১৮৭।
➠[3]
১. বুখারী : আস্ সহীহ, ৬/২৫৩৯, হাদিস : ৬৫৩১।
২. মুসলিম : আস্ সহীহ, ২/৭৪৬, হাদিস : ১০৬৬।
৩. আহমদ ইবনে হাম্বল : আল মুসনাদ, ৫/৩৬, ৪৪।
৪. হাকেম : আল মুসতাদরাক, হাদিস : ২৬৪৫।
৫. ইবনে আবী আসেম : আস সুন্নাহ, ২/৪৫৬, হাদিস : ৯৩৭|
৬. আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ : আস সুন্নাহ, ২/৬৩৭, হাদিস : ১৫১৯
৭. বায়হাকী : আল সুনানুল কুবরা, ৮/১৮৭।
➠[4]
হযরত ইবনে উমর (رضي الله عنه) সূত্রে।
১. তাফসীরে ইবনে কাসীর, সুরা- আ’রাফ, আয়াত নং- ১৭৫।
২. বুখারী : আস্ সহীহ, কিতাবুত তাওহীদ, বাবু কাওলিল্লাহি তাআলা: তুয়াররিজুল মালায়িকাতি, ৬/২৭০২, হাদিস : ৬৯৯৫।
৩. মুসলিম : আস্ সহীহ, ২/৭৪১, হাদিস ১০৬৪।
৪. সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪৭৬৬
ক্বলবের পরিশুদ্ধিতাই ঈমানের পরিপক্কতা
____________________
ক্বলবের পরিশুদ্ধিতাই ঈমানের পরিপক্কতাঃ
➖➖➖➖➖➖➖➖➖
"গিরিশৃঙ্গে মানুষ তুমি, নিচে চতুষ্পদ।
পক্ক বেশে, নগ্ন হয়ে, অথর্ব তুমি বদ!
✍ [এম.বি.সানি]
যে ব্যক্তি ক্বলবকে পরিশুদ্ধ করতে পেরেছে সেই সফলকাম হয়েছে, যে অপবিত্র করেছে সে ব্যর্থ হয়েছে। সে মানুষ হয়েও চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়।
❏“বিবেকের কসম, যিনি বিবেককে নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করেছেন, যিনি অন্তরকে সৎ ও অসৎ কাজ সম্পর্কে অবগত করেছেন। সেই ব্যক্তি সফল, যে অন্তরকে পবিত্র রাখে এবং সেই ব্যর্থ যে অন্তরকে অপবিত্র করে।
➠[সূরা আস-শামস্ ৭-১০]
❏"বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে আল্লাহ্র সম্মুখে হাযির না হলে ধন-সম্পদ, পুত্র (কোন কিছু) কোন কাজে আসবে না। ➠[সূরা শুয়ারা ৮৮-৮৯]
❏হযরত নুমান ইবনে বাশির (رضي الله عنه) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন,
"নিশ্চয় মানব দেহে এক টুকরা মাংসপিন্ড আছে, যা পবিত্র হলে সমস্থ দেহ পবিত্র হয়ে যায় আর তা অপবিত্র হলে সমস্থ দেহ অপবিত্র হয়ে যায়। তােমরা শুনে রাখ ইহা হল ক্বলব।”
➠[সহীহ বুখারী, ১ম খন্ড, ১৩ পৃ: হাদিস নং ৫২; সহীহ মুসলীম, ২য় খন্ড, ২৮ পৃ: হাদিস নং ১৫৯৯; মুসনাদে আহমদ, ৪র্থ খন্ড, ২৭০ পৃ:, হাদিস নং ১৮৩৭৪; মিশকাত, ২৪১ পৃ: হাদিস নং ২৭৬২; সুনানে ইবনে মাজাহ, কিতাবুল ফিতানে, হাদিস নং ৩৯৮৪; তাবারানী : মুজামুল কবীর, হাদিস নং ৫৩; বায়হাক্বী : শুয়াইবুল ঈমান, ১ম খন্ড, ৪১৩ পৃ: হাদিস নং ৫৩৫৬; দারেমী শরিফ, ২য় খন্ড, ৩১৯ পৃ: হাদিস নং ২৫৭৩;ইমাম সুলতান মোল্লা আলী কারীঃ মিরকাত শরহে মিশকাত, ৬ষ্ঠ খন্ড, ৯ পৃ:]
❏"তাদের ক্বলব রয়েছে, কিন্তু তারা অনুধাবন করে না, চোখ রয়েছে কিন্তু দেখে না, কান রয়েছে কিন্তু তা দিয়ে শুনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত বরং তার চেয়েও নিকৃষ্টতর।" ➠[আ‘রাফ ১৭৯]
ঈমান হেফাযতের জন্য প্রিয়নবী (ﷺ) আমাদেরকে উত্তমপন্থা শিক্ষা দিয়েছেন।
❏"হে হৃদয়সমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের উপর অবিচল রাখুন।
➠[উম্মু সালামা (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত। তিরমিযী হা/২১৪০, ৩৫২২। ইবনে মাজাহ হা/৩৮৩৪, (সহীহ)]
❏"পথ-প্রদর্শনের পর আমাদের অন্তরসমূহকে পুনরায় বক্রপথে পরিচালিত করবেন না।" ➠[আল-ইমরান ৮]
❏"হে আল্লাহ! আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি আমার শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, বাকশক্তি, লজ্জাস্থান এবং আমার ক্বলবের অনিষ্ট থেকে।"
➠[শাকল ইবনে হুমাইদ (رضي الله عنه) সূত্রে বর্ণিত। তিরমিযী, হা/৩৪৯২, (হাদীসটি সহীহ), বুখারীঃ আল-আদাবুল মুফরাদ - ৬৬৮, আবু দাউদ, নাসাঈ, হাকিম]
আ'লা হযরতের দৃষ্টিতে আকিদার পরিশুদ্ধিতা
____________________
আ'লা হযরতের দৃষ্টিতে আকিদার পরিশুদ্ধিতাঃ
হক আক্বীদার উপর সুদৃঢ় হতে হবে, সাথে ঈমান হারানোরও ভয় থাকবে।
সাইয়্যেদুনা ওমর (رضي الله عنه) এর উক্তি,
“যদি আসমান থেকে আহবান আসে, একজন ব্যতীত সমস্ত যমীনবাসী ক্ষমাপ্রাপ্ত হল, তখন আমি আশঙ্কা করবাে যে, ঐ ব্যক্তি হয়তাে আমিই। অথবা, একজন ব্যতীত পৃথিবীর সবাই জাহান্নামী, তবে আমি আশা করবাে, ঐ ব্যক্তি আমি। ভয় ও আশার স্থান এমনি মাঝামাঝি হওয়া চাই।" ➠[আল-মালফুজাত ও ৪র্থ খণ্ড : পৃষ্ঠা ৫৫]
আহলে কেবলাকে কাফির বলা নিষিদ্ধ। কিন্তু পথভ্রষ্টরা ভুল ব্যাখ্যা করে পথভ্রষ্টদের কাফির বলার পথ বন্ধ করতে চায়। অথচ, "যে ব্যক্তি এমন লােকের কুফর ও তার আযাবে সন্দেহ করে, সেও কাফির হয়ে যায়।" ➠[ইমাম কাজী আয়াজঃ আশ শিফা-২/২১১, আস-সারিমুল মাসলূলঃ ১/৯, আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীরঃ মুয়াসসার, ইমাম সুয়ুতীঃ মাহাসিনুত তাওয়ীল-৫/১৪২, সূরা তওবা ১১-১৩ এর ব্যখ্যায়, সুবুলু হুদা ওয়ার রাশাদ-১২/২১, ইমাম তক্বীউদ্দীন সুবকীঃ “আসসাইফুল মাসলূল আলা মান সাব্বার রাসূল (ﷺ)", ইমাম ইবনে আবেদীন শামীঃ তাম্বীহুল ওলাত ওয়াল আহকাম, ইমাম ইবনে আবেদীন শামীঃ রাসায়েলে ইবনে আবেদীন-১/৩১৬, আ'লা হযরতঃ ইরশাদে আ'লা হযরত, আ'লা হযরতঃ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আক্বিদা, ইমাম কিরদারীঃ আল-ওয়াজীয, ইমাম ইবনে আবেদীন শামীঃ দুররে মুখতার’]
১টি কথা ইসলামের, ৯৯টি কুফরেরঃ
এর অর্থ এ নয় যে, কোন ব্যক্তি ৯৯টি কুফর করবে, আর ১টি হবে ইসলামের। অবশ্যই এটা কোন মুসলমানের ধর্ম হতে পারে না।
অনুরূপ, ইমামগণ বলেছেন,
‘আহলে কেবলা মানে ওইসব লােক, যারা দ্বীনের সমস্ত অপরিহার্য বিষয়ের উপর ঈমান রাখে। অন্যথ্যায়, সে আহলে কেবলাই নয়।
➠[শরহে মাওয়াকিফ, হাশিয়া-ই চিলপী, শরহে ফিহে আকবার এবং দুররে মুখতারের হাশিয়া]
ইমাম আবু ইয়ুসুফ ও ইমাম আবু হানীফা (رحمة الله) ৬ মাস মুনাজারার পর সিদ্ধান্তে উপনিত হন,
"আল্লাহর গুণাবলী অনাদি, সৃষ্ট নয়। আল-কুরআন মাখলূক নয়। সুতরাং এর বিপরীত আক্বিদাধারী, সন্দেহ ও সমর্থনকারী কাফির।
➠[ইমাম আবু হানিফাঃ ফিক্বহে আকবার]
মুসলমান এমন নয় যে, ৯৯টি সিজদা আল্লাহকে আর ১টি মহাদেবকে করবে। এ আকিদাধারী কাফির। গােলাব জলে এক ফোঁটা প্রস্রাব মিশ্রিত হলে তা কি পাক থাকবে? অবশ্যই নাপাক।”
উটনী হারানোর ঘটনা প্রসঙ্গে এক মুনাফিক বললাে, “মুহাম্মদ (ﷺ) বলছেন, উটনী অমুক জঙ্গলে আছে। তিনি কি অদৃশ্যের সংবাদ জানেন নাকি?"
"আপনি বলুন! তােমরা কি আল্লাহর নিদর্শনসমূহ ও তাঁর রাসুলকে বিদ্রুপ করছিলে? মিথ্যা অজুহাত দিওনা! তােমরা মুসলমান হওয়ার পর কাফির হয়ে গেছাে।"
➠[হাকিমুল উম্মাহ মুফতি ইয়ার খান নঈমীঃ তাফসীরে নুরুল ইরফান: সুরা তাওবা : আয়াত ৬৫, ইমাম নঈমুদ্দীন মুরাদাবাদীঃ তাফসীরে খাজাইনুল ইরফান: সুরা তাওবা : আয়াত ৬৫, ইমাম তাবারীঃ তাফসীরে তাবারী, ১০ম খণ্ড : পৃষ্ঠা ১০৫, সুরা তাওবা : আয়াত ৬৫, ইমাম সুয়ূতীঃ তাফসীরে দুররে মানসূর, ৩য় খণ্ড : পৃষ্ঠা ২৫৪ : সুরা তাওবা : আয়াত ৬৫]
(এখানে) আল্লাহ্ তা'আলা ৯৯ গণনা করেননি, একটিই গণনা করেছেন।
[সংকলিত হয়েছে 'ইরশাদে আ'লা হযরত (رحمة الله) কিতাব থেকে]
পরিশেষ
____________________
পরিশেষঃ
➖➖➖
"আবিরাম আক্বাঈদের লড়াই,
ঈমান বাঁচানো বড় দায়।
মুহূর্ত্বকাল হুশ খোয়ালে,
হারাবে সব কৃষ্ণ-বিবরে (Black Hole)।"
✍ [এম.বি.সানি]
ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হল আকিদার বিশুদ্ধতা। এর তাৎপর্য এই স্বল্প পরিসরে বর্ণনাতীত। রূহের জগৎ থেকে শুরু করে কিয়ামত পর্যন্ত যার বিস্তৃতি। এজন্যই আজ অবধি হক-বাতিলের যে লড়াই চলছে, কিয়ামত পর্যন্ত চলবে।
__________ সমাপ্ত __________
Comments
Post a Comment