আকাইদে সাহাবাহ
আকাইদে সাহাবাহ
(সাহাবায়ে কিরামদের সাথে সুন্নি আক্বিদার সাদৃশ্য)
____________________
عقائد صحابہ
আকাইদে সাহাবাহ
(সাহাবায়ে কিরামদের সাথে সুন্নি আক্বিদার সাদৃশ্য)
মূল
আল্লামা আবুল হামিদ মুহাম্মদ যিয়াউল্লাহ
ক্বাদেরী আশরাফী (رحمة الله)
প্রকাশনায়
সাকলাইন প্রকাশন
عقائد صحابہ
আকাইদে সাহাবাহ
(সাহাবায়ে কিরামদের সাথে সুন্নি আক্বিদার সাদৃশ্য)
মূল: আল্লামা আবুল হামিদ যিয়াউল্লাহ ক্বাদেরী আশরাফী (رحمة الله)।
সিয়ালকোট, পাকিস্তান।
বঙ্গানুবাদ: মাওলানা হাফেয মুহাম্মদ আতিকুর রহমান
শিক্ষার্থী, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসা।
বি এ অনার্স (ইসলামিক স্টাডিজ) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ৪র্থ বর্ষ।
সার্বিক তত্ত্বাবধানে: মাওলানা মুহাম্মদ সাইফুর রহমান নোমানী
খতিব, রমজান আলী চৌধুরী জামে মসজিদ, বড় কবরস্থান, বাকলিয়া, চট্টগ্রাম।
সম্পাদনায়:
মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ আলাউদ্দিন জিহাদী, ঢাকা।
মাওলানা মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ বাহাদুর
টেক্সট রেডীঃ
মাসুম বিল্লাহ সানি, সিরাজুম মুনির তানভির।
পৃষ্ঠপোষকতায়: মাওলানা মুফতি জহিরুল ইসলাম ফরিদী
প্রতিষ্ঠাতা ও মহাপরিচালক, মাদানীয়া ওয়াইছিয়া দারুচ্ছুন্নাহ মাদরাসা, ঢাকা।
গ্রন্থস্বত্ব: প্রকাশক কৃর্তক সংরক্ষিত।
শুভেচ্ছা হাদিয়া: ২৪০/=
প্রকাশনায়:
সাকলাইন প্রকাশন, বাংলাদেশ।
০১৭২৩-৯৩৩৩৯৬
প্রথম প্রকাশ: ৩০ শে জানুয়ারী, ২০১৮ ইং।
যোগাযোগ: দেশ-বিদেশের যে কোন স্থানে বিভিন্ন সার্ভিসের মাধ্যমে কিতাবটি সংগ্রহ করতে যোগাযোগ - মোবাইল: ০১৮৪২-৯৩৩৩৯৬ , ০১৭২৩-৯৩৩৩৯৬
مَوْلَايَ صَلِّ وَسَلِّمْ دَائِمًا أَبَدًا
عَلىٰ حَبِيْبِكَ خَيْرِ الْخَلْقِ كُلِّهِم
مُحَمَّدٌ سَيِّدُ الْكَوْنَيْنِ وَالثَّقَلَيْنِ
وَالْفَرِيْقَيْنِ مِنْ عُرْبٍ وَّمِنْ عَجَمِ
صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلٰى آلِه وَصَحْبِه وَبَارِكْ وَسَلَّمَ
প্রকাশকের কথা
____________________
প্রকাশকের কথা
মহান আল্লাহ তা’য়ালার দরবারে শুকরিয়া ও সিজদা আদায়ের পর দরুদ ও সালামের অগণীত নাযরানা পেশ করছি মানবতার মুক্তির একমাত্র দূত হুযূর নাবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার বরকতময় চরণযুগলে। অতিব ভক্তি ও ভালোবাসার সাথে স্বরণ করি সেসব মহাত্মা সাহাবায়ে কিরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমদের যাঁদের প্রতিটি আকায়িদ ও আমাল আমাদের জন্যে মুক্তির পাথেয়।
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! সর্বপ্রথম ঈমান-আক্বিদা বিষয়ক জ্ঞান শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরযে আইন। অতঃপর দ্বীনের অন্যান্য জরুরী জ্ঞান শিক্ষা করা ফরয। মানুষ কতিপয় বিশ্বাসকে অন্তরে ধারণকেই আক্বিদা বলে।
❏ ড. ইবরাহিম আনীস বলেন-
(العَقِيْدَةُ) الحُكْمَ الَّذِي لَا يَقْبَلُ الشَّكَ فِيهِ لَدَىْ مُعْتَقِدِهِ وَ (فِي الدّين) مَا يُقْصَدُ بِهِ الِاعْتِقَاد دون الْعَمَل كعقيدة وجود الله وَبَعثه الرُّسُل (ج) عَقَائِدْ
-‘‘আক্বিদা অর্থ এমন বিধান বা নির্দেশ যা বিশ্বাসীর বিশ্বাস অনুসারে কোনরূপ সন্দেহের অবকাশ রাখে না....ধর্মীয় বিশ্বাস যা কর্ম থেকে পৃথক। যেমন- আল্লাহ তা‘য়ালার অস্তিত্ব, রাসূলদের প্রেরণ। এটির বহুবচন আকায়েদ।’’
(আল-মুজাম আল-ওয়াসীত, ২/৬১৪পৃ.)
আক্বিদা শুদ্ধ না হলে তার কোন ইবাদতই আল্লাহ কবুল করবেন না। হাশরে ময়দানে অসংখ্য ব্যক্তি এমন হবে যে তারা অনেক আমল করেছেন; কিন্তু আক্বিদা শুদ্ধ না থাকার কারণে তাদের আমলকে আল্লাহ বাতিল বলে ঘোষণা করবেন।
❏ যেমন মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন-
وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُورًا
-‘‘(আর) আমি (যখন) তাদের সে সব আমল (ইবাদতের) দিকে মনোনিবেশ করব, যা তারা (দুনিয়াতে) করে এসেছে, তখন আমি তা (তাদের সকল ইবাদত) উড়ন্ত ধুলিকণার মতই (ঈমান শূন্য হওয়ার কারণে) নিষ্ফল করে দিব।’’
(সূরা ফুরকান, আয়াত, ২৩)
তাই ঈমান-আক্বিদা যদি শুদ্ধ না থাকে বান্দার আমল হাশরের ময়দানে ধুলার মতই উড়ে যাবে। তাই এক মাত্র সঠিক দল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী না হলে কোন ব্যক্তির আমলই আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।
❏ হযরত হুযায়ফা (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন-
لَا يَقْبَلُ اللَّهُ لِصَاحِبِ بِدْعَةٍ صَوْمًا، وَلَا صَلَاةً، وَلَا صَدَقَةً، وَلَا حَجًّا، وَلَا عُمْرَةً، وَلَا جِهَادًا، وَلَا صَرْفًا، وَلَا عَدْلًا، يَخْرُجُ مِنَ الْإِسْلَامِ كَمَا تَخْرُجُ الشَّعَرَةُ مِنَ الْعَجِينِ
-‘‘আল্লাহ কোন বিদ‘আতীর (তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের বিপরীত কুফুরী-শিরকী আক্বিদা বিশ্বাসে নতুন বিশ্বাসী ব্যক্তির) কোনো রোযা, নামায, সদকা (যাকাত), হজ্জ, ওমরা, জিহাদ, ফরয ইবাদত, নফল ইবাদত কবুল করবেন না। সে (কুফুরী-শিরকী আক্বিদা পোষণের কারণে) ইসলাম থেকে বাহির হয়ে যাবে, যে ভাবে চুল (সহজে) আটার খমীরা থেকে বাহির হয়ে যায়।’’
(সুনানে ইবনে মাযাহ, ১/১৯পৃ. হা/৪৯, হাদিসটি ‘হাসান’।)
❏ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন-
أَبَى اللَّهُ أَنْ يَقْبَلَ عَمَلَ صَاحِبِ بِدْعَةٍ حَتَّى يَدَعَ بِدْعَتَهُ
-‘‘আল্লাহ বিদ‘আতির (আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের বিপরীত দলের অনুসারীর) কোনো ইবাদত কবুল করবেন না, যতক্ষণ না সে তার বিদ‘আত পরিত্যাগ করে।’’
(সুনানে ইবনে মাযাহ, ১/১৯পৃ. হা/৫০, হাদিসটি ‘হাসান’ পর্যায়ের।)
হাশরের ময়দানে যাদের ঈমান সঠিক বলে বিবেচিত হবে তারাই কেবল জান্নাতে যাবে। তাই জান্নাতে যাওয়ার জন্য সকলের পূর্বে আক্বিদা শুদ্ধ করা জরুরী।
❏ যেমন মহান আল্লাহ তা‘য়ালা ইরশাদ করেন-
وَمَنْ يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ نَقِيرًا
-‘‘যদি কোন পুরুষ বা মহিলা সৎকর্ম (ইবাদত) করে এমতাবস্থায় যে, সে মুমিন (অর্থাৎ ঈমানদার অবস্থায় ইবাদত করে)তাহলে সে (এবং তার মত ঈমানদার লোকেরাই শুধু মাত্র) জান্নাতে প্রবেশ করবে। (ইবাদতের পুরষ্কার দেওয়ার সময়) তাদের উপর বিন্দুমাত্র জুলুম, অবিচার করা হবে না।’’
(সূরা নিসা, ১২৪)
❏ হযরত উমর (رضي الله عنه) বলেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন-
يَا ابْنَ الْخَطَّابِ، اذْهَبْ فَنَادِ فِي النَّاسِ، أَنَّهُ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا الْمُؤْمِنُونَ، قَالَ: فَخَرَجْتُ فَنَادَيْتُ: أَلَا إِنَّهُ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا الْمُؤْمِنُونَ
-‘‘হে খাত্তাবের পুত্র! যাও লোকদের মাঝে ঘোষণা করে দাও যে, একমাত্র ঈমানদাররাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। হযরত ওমর (رضي الله عنه) বলেন, অতঃপর আমি বের হলাম এবং ঘোষণা করলাম: শুণ রাখো, ঈমানদার ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।’’
(সহীহ মুসলিম, ১/১০৭, হা/১১৪)
উপরের আলোচনা থেকে বুঝা গেল আক্বিদার গুরুত্ব অত্যাধিক। রাসূল (ﷺ) থেকে সর্বপ্রথম সাহাবায়ে কিরামই আক্বিদা শিখেছেন। তাই মহান রব তা‘আলাও আমাদের আক্বিদা (বিশ্বাস) সাহাবীদের মত হওয়ার আদেশ করেছেন।
❏ মহান রব ইরশাদ করেন-
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاءُ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلَكِنْ لَا يَعْلَمُونَ
-‘‘এবং যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘ঈমান আনো যেমন অপরাপর লোকেরা (সাহাবীরা) ঈমান এনেছে, তখন তারা বলে ‘আমরা কি নির্বোধদের মতো ঈমান নিয়ে আসবো? জেনে রাখুন! তারাই হলো নির্বোধ; কিন্তু তারা জানে না।’’
(কানযুল ঈমান, সূরা বাক্বারা, আয়াত নং-১৩)
আয়াতে آمَنَ النَّاسُ বলে অধিকাংশ মুফাসসিরগণ সম্মানিত সাহাবায়ে কিরাম বলেই অবহিত করেছেন। অতএব, বুঝা গেল কিয়ামত দিবসে ওইসমস্ত লোকের ঈমান আল্লাহর মহান দরবারে কবুল হবে, যাদের ঈমানের দৃঢ়তা সাহাবীদের সাথে মিল রয়েছে।
❏ নবীয়ে পাক সাহেবে লাওলাক হযরত মুহাম্মাদ (رحمة الله) এর ফরমান-
وَإِنَّ بني إسرائيل تَفَرَّقَتْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلاَّ مِلَّةً وَاحِدَةً، قَالُوا: وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي
-‘‘নিশ্চয় বনী ইসরাঈল বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে এবং আমার উম্মত তিয়াত্তার দলে বিভক্ত হবে। তাদের সকলেই জাহান্নামে যাবে তবে একটি দল ব্যতীত। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, তারা কারা? রাসূল (ﷺ) উত্তর দিলেন, আমি এবং আমার সাহাবার আদর্শের ওপর যারা প্রতিষ্ঠিত থাকবে।’’ ১
{১. খতিব তিবরিযি, মিশকাতুল মাসাবিহ, ১/৬১পৃ. কিতাবুল ই‘তিসাম বিস্-সুন্নাহ, হাদিস নং.১৬১, তিরমিযি, আস্-সুনান, ৫/২৬পৃ. হাদিস, ২৬৪১, আহলে হাদিস আলবানী সুনানে তিরমিযির তাহক্বীকে হাদিসটি ‘হাসান’ বলেছেন, তাবরানী, মু‘জামুল কাবীর, ১৩/৩০পৃ. হাদিস, ৬২, ১৪/৫২পৃ. হাদিস, ১৪৬৪৬, মাকতুবাতু ইবনে তাইমিয়া, কাহেরা, মিশর, প্রকাশ.১৪১৫হি. বায়হাকি, ই‘তিক্বাদ, ১/২৩৩পৃ. বাগভী, শরহে সুন্নাহ, ১/২১৩পৃ. হাদিস, ১০৪}
নবী পাক (ﷺ)‘র এই আলোকময় বর্ণনা সম্পর্কে প্রত্যেক মুসলমানদের জেনে রাখা প্রয়োজন। যাতে করে, সাহাবায়ে কিরামদের আক্বিদা-বিশ্বাস ও মুহাব্বতের অবিকল অনুকরণ করতে পারে।
প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন আল্লামা যিয়াউল্লাহ কাদেরী (رحمة الله)’র দরজাত বুলন্দির লক্ষে বিনম্র চিত্তে মাওলায়ে কায়িনাতের মহান দরবারে পাকে দোয়া করছি। যিনি অত্যন্ত চিন্তা-গবেষণার মাধ্যমে ‘আকাইদে সাহাবাহ’ নামক উর্দু কিতাবটি রচনার মাধ্যমে আমাদেরকে প্রজন্মের জন্য একটি জীবন্ত গাইড লাইন উপহার দিয়েছেন।
প্রিয়পাঠক! মুসলিম মিল্লাতের জন্য সর্বযুগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইসলামের সঠিক আকিদা। আকিদা ছাড়া কোনো ইবাদাত আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার আশা করা যায়না। তাই যুগ যুগ ধরে মুনাফিক-কাফিরদের সাথে পূণ্যবান মানুষগুলোর দ্ব›দ্ব একমাত্র আকিদা নিয়ে। ওসব বে-ইমান কাফিররা জানে যে, মুসলমানদের আকিদা যদি নষ্ট করে দিতে পারে, তাহলে তারা সব দিকে সফল। এই কু-মতলব অর্জনের জন্যে তারা মুসলিম সমাজে বিভিন্ন কৌশলে উঠে-পড়ে লেগেছে। অপরদিকে আকায়িদে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের অনুসারী বিজ্ঞ-আলিম-ওলামরাও দুরাচারদের স্বপ্ন যেনো বাস্তবায়ন করতে না পারে, সেই দিকে খেয়াল করে বিভিন্ন ভাবে জিহাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। বাতিল বা ভ্রান্ত মতবাদ বিরোধী সেই রকম মুজাহিদদের অন্যতম, আল্লামা আবুল হামিদ যিয়াউল্লাহ ক্বাদেরী (رحمة الله)।
অসংখ্য কিতাবের সম্মানিত রচয়িতা ও পাকিস্তান, শিয়ালকোটের অধিবাসী বিজ্ঞ-আলিম আল্লামা কাদেরীর অনেক কিতাব ইতিমধ্যে বিভিন্নজনে বাংলা অনুবাদ করেছেন; তৎমধ্যে ‘ওহাবি মাযহাব কি হাকিকাত’ অন্যতম। তাঁর ‘আকাইদে সাহাবাহ’ কিতাবটি আমার অনেক স্বপ্নের একটি চমৎকার কিতাব। এই কিতাবটি পড়লে যে কোনো মানুষ সুন্নিদের আকিদার সাথে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার সাহাবায়ে কিরামদের আকিদার মিলখুঁজে পাবে অনায়াসে।
আমি আগ্রহী হলাম কিতাবটি অনুবাদ প্রকাশ করার জন্য। যেহেতু আমি অনুবাদের প্রতি মনোনিবেশ করি না, তাই আমার স্নেহের ভাই মাওলানা হাফেয মুহাম্মদ আতিকুর রহমান কে কিতাবটি অনুবাদ করার জন্য অনুরোধ করি এবং সে শত ব্যস্ততার মধ্য দিয়েও এটির পান্ডুলিপি তৈরী করে আমাকে দেন। যদিও তিনি চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার ছাত্র, তবুও তার অনুবাদ ও শব্দ গাঁথুনির কারিশমা অসম্ভব সুন্দর। এ কিতাবটিতে মশহুর সাহাবীদের আক্বিদা তুলে ধরা হয়েছে, অনুবাদে যথাযত হুবহু ঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ফিতনা ফ্যাসাদের এ দুনিয়ায় যে সকল সাহাবায়ে কিরামের আক্বিদা মূল গ্রন্থকার (رحمة الله) লিপিবদ্ধ (কিতাব দীর্ঘায়িত হওয়ার আশংকায়) করেননি, কিন্তু ঐ সকল আক্বিদা না আনলেই নয় বিধায় এ ধরনের কতিপয় আক্বিদা সংযোজন করেছি। এ কিতাবের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট হলো তিনি সিহাহ সিত্তাহ ও মিশকাত এবং নির্ভরযোগ্য হাদিসের কিতাব থেকে দলিল চয়ন করেছেন। আমি অধম প্রত্যেকটি হাদিসের তাখরীজ (তথ্য সংযোজন) এবং সনদ পর্যালোচনার চেষ্টা করেছি।
আমার শ্রদ্ধেয় মাওলানা মুফতি আবদুল আজিজ রজভি বইটির দিকে নজর দেয়ার পাশাপাশি ‘আকাইদে সাহাবাহ’ কিতাবের বাংলা নামকরণ করেছেন ‘‘সাহাবায়ে কিরামদের সাথে সুন্নি আক্বিদার সাদৃশ্য’’। গ্রন্থাকারে রূপদেয়ার পর বইজুড়ে অনুপম নজর দিয়ে আমাকে চিরদিনের জন্য কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করে রেখেছেন, আল্লামা মুহাম্মদ সাইফুর রহমান নোমানী।
আমি একজন প্রকাশক ও সম্পাদকের ভূমিকায় কিতাবটি নিপূণতার লক্ষে বহু-চেষ্টা করেছি। অজানা বশত: গ্রন্থের কোনো জায়গায় যদি উল্লেখযোগ্য ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়ে তবে আমাকে জানাবেন। আপনার জন্যে দোয়া করবো। পরবর্তী প্রকাশের সময় বিশুদ্ধ করে দেবো। ইনশাআল্লাহ!
প্রিয় পাঠক! আশা করি, নাতিদীর্ঘ এই (অনূদিত) পুস্তকটি পরোপুরি পড়ে বিবেকের আদালতে মুখোমুখি হবেন। এতে আপনার অন্তর চক্ষু খোলে যাবে, ইনশাআল্লাহ! সফলতার মুখ দেখবে আমাদের পরিশ্রম।
আরজগুজার
মাওলানা মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ বাহাদুর
প্রকাশক
সাকলাইন প্রকাশন।
এ কিতাব লিখার সম্পর্ক
____________________
এ কিতাব লিখার সম্পর্ক
আমি অধম (গ্রন্থকার) ফকীর এ কিতাবখানা বারতানিয়াতেই লিখেছি। শিয়ালকুটস্ত ‘দু দরয়ায জামি‘আ হানাফিয়া’ এর সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আমার উস্তাদজি উস্তাজুল ‘উলামা আ-হলে সুন্নাতের সূর্য, মাহতাবে ত্বরীকত, শায়খূল উলামা, জ্ঞান তাপসদের পুরোধা, শায়খুল হাদীস ওয়াত তাফসীর, আল্লামা আলহাজ্জ হাফিয মুহাম্মদ ‘আলাম সাহিব নক্সবন্দী ঐ সময়ে বারতানিয়াতে তাশরীফ আনলেন।
১৪২০ হিজরী ১৪ রবিউল আখির অনুযায়ী ১৯৯৯ সালের জুলাই মাসের বুধবার বারতানিয়া শহরের পীরবরুতে তাঁর সভাপতিত্বে এক খানা মীলাদুন্নবী (ﷺ) কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমি অধমও সেখানে আমন্ত্রিত হয়েছিলাম। কিতাবটির রাফ কপি আমি হযরতের কাছে পেশ করেছি। তিনি এটা অধ্যয়ন পূর্বক খুশী হয়ে বলেছেনঃ এ রূপ কিতাবের অনেক প্রয়োজনীয়তা ছিল। এ বলে তিনি অনেক দু‘আ করলেন। কিন্তু ১৪২০ হিজরী ০৮ জুমাদুল উলা রোজ শুক্রবার মোতাবেক ১৯৯৯ সালের ২০ আগস্টে তিনি বারতানিয়াতেই ইন্তিকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজি‘উন।
অধম ফকীর এ কিতাবের সম্পর্ক ঐ ব্যক্তির সাথে করার প্রয়াস পাচ্ছি। কারণ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের যে খিদমাত-ই এ অধম করছিনা কেন সবই তাঁর দু‘আ ও দেখা শুনার কারনেই করতে পেরেছি।
দু‘আ করছি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন তাঁর প্রিয়তম মাহ্বুবের ওয়াসিলায় হযরত শায়খুল হাদীস (رضي الله عنه) এরম মর্যাদা বুলুন্দ করে দেন। আর তাঁর ফয়েয ও বারকাত যেন আমাদের উপর ব্যাপকভাবে দান করেন। সাথে সাথে এ অধমের সামান্য এ খিদমাতটুকু কবুল ও মানযুর করে নেন। আর একে যে আল্লাহ পাক আমার সম্মানিত বাবা-মায়ের মাগফিরাত (গুণাহ মাফ) ও সকল নিকটাত্মীয় একই বিশ্বাসে বিশ্বাসীদের গুণাহ মাফের মাধ্যম হিসেবে কবুল করে নেন।
ফকীর আবুল হামিদ যিয়াউল্লাহ ক্বাদেরী আশরাফী গুফিরালাহু।
সিয়ালকোটি।
মু খ ব ন্ধ
____________________
মু খ ব ন্ধ
কোন ব্যক্তি সভ্যতার মূলে তার ‘আকিদা ও আমলের বিশেষ বিবেচনা রয়েছে। এর আলোকেই তার সভ্যতার ভালো মন্দ বিবেচনা করা হয়ে থাকে। ইসলামী সভ্যতা অধ্যয়নকারী অবগত আছেন যে চলতি শতাব্দিগুলোতে বিস্তৃত বিশ্বময় সভ্যতার অনুশীলনকারী ও বিশ্বাসীগণ বিশ্বনবী ও সর্বশেষ নাবী হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ)‘র সাহাবায়ে কিরাম ও পবিত্র আহলে বায়তদের কে পুরোধা মনে করে চলেছেন।
❏ আল্লাহর বাণী-
فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا
-‘‘অর্থাৎ তারা যদি তোমাদের মতো ঈমান গ্রহণ করে তবে তারা অবশ্যই হিদায়াত প্রাপ্ত হবে।’’ ২
{২. সূরা বাক্বারা, আয়াত নং-১৩৭}
এটাই এ কথার উপর সাক্ষী। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হাকিমুল উম্মত আল্লামা মুফ্তি আহমদ ইয়ার খাঁন (رحمة الله) বলেছেনঃ এ থেকে বুঝা গেল যার আক্বিদা সাহাবীর ‘আক্বিদার অনুরূপ সে মু‘মিন, আর যার আক্বিদা তাদের অনুরূপ নয় তারা কাফির। তারা হলো ঈমানের স্তম্ভ।
(নুরুল ইরফান, পৃষ্ঠা-৩২)
❏ তাছাড়া আল্লাহর রাসূল (ﷺ)‘র পবিত্র বাণী-
مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي
-‘‘ঐ দল সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত যারা আমার এবং আমার সাহাবায়ে কিরাম এর পদাংক অনুসরণ করে চলে।’’ ৩
{৩.খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ১/৬১ পৃ. হা/১৭১, পরিচ্ছেদ: بَاب الِاعْتِصَام بِالْكتاب وَالسّنة , ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান, ৪/৩২৩ পৃ. হা/২৬৪১, ইমাম আবু নুয়াইম ইস্পাহানি, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৯/২৩৮ পৃ., ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল কাবীর, ১৩/৩০ পৃ. হা/৬২, ইমাম বাগভী, শরহে সুন্নাহ, ১/২১৩ পৃ. হা/১০৪, হাদিসটি ‘হাসান’।}
অর্থাৎ তারা আমার ও আমার সাহাবায়ে কিরামের আক্বিদা ও আমলে এর অনুসারী হবে।
উল্লেখিত আয়াতে কারিমা ও হাদিসে নববী (ﷺ)‘র প্রমাণাদীর ভিত্তিতে সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه)‘র বিশ্বাস ও আমলের গুরুত্বকে কোন মুসলমান অপছন্দ করেননি। যদি হুযুর কারিম (ﷺ)‘র সাহাবায়ে কিরামগণ থেকে সংঘটিত যে কোন ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়, দেখা যাবে সেটা নাবী কারীম (ﷺ)‘র দয়া, নির্দেশনা, স্বাধীনতা, সৌন্দর্য, পূর্ণাঙ্গতা, আল্লাহ প্রদত্ত ক্ষমতা ও পরিপূর্ণতার যে কোনো কিছুর সাথে মিলে যাবে।
ইশ্কে রাসূল (ﷺ)‘র উচ্চাঙ্গতার অমীয় তৃপ্তি ও সারকারে দুআলম (ﷺ)‘র শানে বেআদবির পরিমাণ যে কতটা ভয়াবহ তা উলামায়ে আহলে সুন্নাহ সব সময় অবহিত করেছেন। বিশেষত এ সম্পর্কে হযরত আল্লামা যিয়া উল্লাহ কাদেরী আশরাফী (رحمة الله)‘র লিখিত ‘আকাইদে সাহাবাহ’ নামক এ গ্রন্থটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কিতাবটির বৈশিষ্ট হলো অভিজ্ঞ রচয়িতা প্রত্যেক বিষয়াদি সম্পর্কে বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। অবশ্যয় এখানে রাসূল (ﷺ)‘র এমন কোনো শান মানের বর্ণনা নেই (নাউযুবিল্লাহ) যা সাহাবায়ে কিরামগণ হতে বর্ণিত হয়নি। কেননা, তাঁরা প্রত্যেকে সর্বোচ্চ নবী প্রমিক ছিলেন। তাদের হৃদয়ে ছিল নবী প্রেমে ভরপুর। অতএব, তাঁরা কখনও নবীজী (ﷺ)‘র মহত্ব গুণগান বর্ণনা করতে কার্পন্য বোধ করেননি।
সম্মানিত সুধী! সাহাবায়ে রাসূল (ﷺ) থেকে কেউ যদি ‘সিহাহ সিত্তা’ গ্রন্থে উক্ত মুক্তা ঝরা বর্ণনাগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করে তাহলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)‘র শান ও মান মহত্বের উপর এমন এমন তাত্তি¡ক বর্ণনা রয়েছে, যা পড়লে ঈমানের দৃঢ়তা আরো বেড়ে যাবে নিশ্চিত।
কেউ যদি ‘সিহাহ সিত্তাহ’ গ্রন্থ থেকে উক্ত মুক্তাঝরা বর্ণনাগুলোর একত্রিত করে তাহলে অগণীত হাদিস শরীফ নযরে চলে আসবে। অতএব, ওলামায়েদ্বীন ও সম্মানিত ওয়ায়েযদের প্রতি আরয যেহেতু নবিজি (ﷺ)‘র শান-মানেও উক্ত ‘সিহাহ সিত্তার’ গ্রহণযোগ্য বর্ণনার হাদিসে পাক রয়েছে, সেহেতু- ওইসব বর্ণনাগুলোকে প্রাধাণ্য দেয়া উচিত। এতে নিজের ও অপরের সর্বাধিক কল্যান সাধিত হবে। এরই ধারাবাহিকতায় অধম (মুজাদ্দেদী)‘র রচিত ‘শানে হাবিবুল বারি মিন রিওয়াইয়াতিল বুখারী’ গ্রন্থের আলোকে আল্লামা কাদিরী জটিলতা নিরসন মূলক কিতাবটি রচনা করেছেন। প্রকৃত আলিম-ওলামা ও গবেষকগণকে কিতাবাদির প্রতি উদ্বদ্ধ করছি।
উল্লেখ্য যে, এখানে আমি শুধু মাত্র ওলামায়ে দ্বীনের জন্য এ কথাটি বলছি না যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)‘র শান-মান ও মহত্বের উপর কেবল ‘সিহাহ সিত্তার’ বর্ণনায় হাদিস রয়েছে। বরং ইমাম বুখারী ও মুসলিমের পূর্ব কিতাব মুসনাদে ইমাম আযম আবু হানিফা, মুয়াত্তা ইমাম মালেকসহ নির্ভরযোগ্য বহু কিতাবে রয়েছে। বিশেষ করে, হযরত ইমাম আযম আবু হানিফা (رضي الله عنه) এমন এক সত্ত্বা যিনি সাহাবায়ে কিরাম ও তাবেয়ী (রা.) থেকে সরাসরি হাদিস বর্ণনার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। যেখানে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
বলতে গেলে বুখারী মুসলিমের সহীহ হাদিস সমূহের (কতিপয় রাবীর আলোচনায়) আসমাউর রিজালের মধ্যে অনেক রাবীর কড়া সমালোচনাও রয়েছে। তবুও আশ্চর্যের বিষয় হলো এই, সিহাহ সিত্তার বর্ণনার প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে, কিন্তু এর পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর প্রতি অনিহা বা অনাস্থা প্রকাশ করে। অথচ ওসব কিতাবগুলোতে এমন এমন বর্ণনা রয়েছে যা ইমাম বুখারী-মুসলিমের উস্তাযের উস্তাযগণের আমল।
অবশ্যয় ইমাম বুখারী সর্বজন স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি কিন্তু উনার চেয়ে উচ্চ সম্মানিত মর্যাদার অধীকারী হলেন, ইমাম আযম আবু হানিফা (رضي الله عنه)।
আমি অনেক খুশি হয়েছি যে, ‘কাদিমী কুতুবখানা’ সাহাবায়ে কিরামের ঈমানী আফরোজ সমৃদ্ধ কিতাব ‘আকাইদে সাহাবাহ’ কিতাব প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন; আল্লাহ পাক তাদেরকে এর উত্তম প্রতিদান এবং এ ধরনের কাজে আঞ্জাম দেয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন
ধন্যবাদান্তে-
আল্লামা মুজাদ্দেদী গুফিরালাহু।
লেখকের কথা
____________________
লেখকের কথা
نَحْمَدُه وَنُصَلِّى وَنُسَلِّمُ عَلٰى رَسُوْلِه الْكَرِيْم وَعَلٰى اٰلِهِ وَاصْحَابِهِ اَجْمَعِيْن اَمَّا بَعْدُ
فَاَعُوْذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ- بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ-وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاءُ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلَكِنْ لَا يَعْلَمُونَ
-‘‘এবং যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘ঈমান আনো যেমন অপরাপর লোকেরা ঈমান এনেছে, তখন তারা বলে ‘আমরা কি নির্বোধদের মতো ঈমান নিয়ে আসবো? শুন্ছো! তারাই হলো নির্বোধ; কিন্তু তারা জানে না।’’ (কানযুল ঈমান, সূরা বাক্বারা, আয়াত নং-১৩)
❏ নবীয়ে পাক সাহেবে লাওলাক হযরত মুহাম্মাদ (رحمة الله) এর ফরমান-
وَإِنَّ بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلاَّ مِلَّةً وَاحِدَةً، قَالُوا: وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي
-‘‘নিশ্চয় বনী ইসরাঈল বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে এবং আমার উম্মত তিয়াত্তার দলে বিভক্ত হবে। তাদের সকলেই জাহান্নামে যাবে তবে একটি দল ব্যতীত। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, তারা কারা? রাসূল (ﷺ) উত্তর দিলেন, আমি এবং আমার সাহাবার আদর্শের ওপর যারা প্রতিষ্ঠিত থাকবে।’’ ৪
{ ৪.খতিব তিবরিযি, মিশকাতুল মাসাবিহ, ১/৬১পৃ. কিতাবুল ই‘তিসাম বিস্-সুন্নাহ, হাদিস নং.১৬১, তিরমিযি, আস্-সুনান, ৫/২৬পৃ. হাদিস, ২৬৪১, আহলে হাদিস আলবানী সুনানে তিরমিযির তাহক্বীকে হাদিসটি ‘হাসান’ বলেছেন, তাবরানী, মু‘জামুল কাবীর, ১৩/৩০পৃ. হাদিস, ৬২, ১৪/৫২পৃ. হাদিস, ১৪৬৪৬, মাকতুবাতু ইবনে তাইমিয়া, কাহেরা, মিশর, প্রকাশ.১৪১৫হি. বায়হাকি, ই‘তিক্বাদ, ১/২৩৩পৃ. বাগভী, শরহে সুন্নাহ, ১/২১৩পৃ. হাদিস, ১০৪}
নবী পাক (ﷺ)‘র এই আলোকময় বর্ণনা সম্পর্কে প্রত্যেক মুসলমানদের জেনে রাখা প্রয়োজন। যাতে করে, সাহাবায়ে কিরামদের আক্বিদা-বিশ্বাস ও মুহাব্বতের অবিকল অনুকরণ করতে পারে।
এইসব বিষয়াদীর প্রতি দৃষ্টিপাত করে এই ফকির (রচয়িতা) কলম ধরার মনস্থির করেছি। যেনো চিন্তাশীল প্রজন্মের জন্য কিতাবটি চলার পাথেয় হিসেবে সহায়ক হয়।
অধম গ্রন্থটি রচনাকালে যেসব বিষয়ের প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি নিবন্ধ করেছি তা হলো-হাদিসের কিতাবগুলো থেকে প্রায় সিহা সিত্তাহর প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। আর হাদিস শাস্ত্রে সর্বজন পরিচিত গ্রন্থ মিশকাতুল মাসাবীহ নামক গ্রন্থ থেকে হাওয়ালা প্রদান করেছি। এরপরও নবী বিদ্বেষীদের নিকট আক্বিদাগুলো অবিশ্বাস্য মনে হবে, কেননা এটা তাদের একটা চরম অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। তবুও তাদেরকে বুঝানোর লক্ষে আমি প্রমাণ-পঞ্জির দিকে নিরেট খেয়াল দিয়েছি।
মনে রাখতে হবে, ইমান ও আক্বিদা একান্ত আন্তরিক বিষয়। যদি আক্বিদা বিশুদ্ধ না হয়, তবে কোনো আমল কবুল হওয়ার সম্ভবনাও নাই। এ জন্যেই মূলতঃ আমি আক্বিদার প্রতি বিশেষ খেয়াল দেই। আক্বিদার প্রতি মানুষের নম্রতার কারণে জাহান্নামে যেতে হবে। অতঃপর তখন বুঝতে পারলেও কোনো ফায়দা হবে না।
মুসলমানদের প্রয়োজন, মসজিদের ইমাম-খতিব ও ওয়ায-নসিহতে মুক্তির লক্ষে কেবল দান-খায়রাত-যাকাতের বিষয়ে আলোকপাত নয়; বরং ওইসব ওলামায়ে কিরামদের প্রতি সম্পর্ক রাখা যারা দ্বীনের সঠিক আলিম। যাদের আক্বিদা আমল নবিজি (ﷺ)‘র সম্মানিত আওলাদ ও সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه)‘র আওলিয়ায়ে কামেলিনদের সাথে মিলে।
❏ মহান আল্লাহ সাহাবায়ে কিরামদেরকে নৈকট্যলাভে ধন্য করেছেন। আর তাঁদের প্রতি অনুপম সন্তুষ্টি ও সফলতার ব্যাপারে কুর‘আনুল কারিমে ইরশাদ করেছেন-
رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ أُولَئِكَ حِزْبُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
-‘‘আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটা আল্লাহর দল। শুনছো! আল্লাহরই দল সফলকাম।’’
(সূরা মুযাদালাহ, আয়াত নং-২২)
❏ মহা গ্রন্থ কুর‘আন মাজিদে সাহাবায়ে কিরামগণের ঈমানে দৃঢ়তার ব্যাপারে উদাহরণ স্বরূপ আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন-
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ
-‘‘এবং যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘ঈমান আনো যেমন অপরাপর লোকেরা ঈমান এনেছে।’’
(সূরা বাক্বারা, আয়াত নং-১৩)
আয়াতে آمَنَ النَّاسُ বলে অধিকাংশ মুফাসসিরগণ সম্মানিত সাহাবায়ে কিরাম বলেই অবহিত করেছেন। অতএব, বুঝা গেল কিয়ামত দিবসে ওইসমস্ত লোকের ঈমান আল্লাহর মহান দরবারে কবুল হবে, যাদের ঈমানের দৃঢ়তা সাহাবীদের সাথে মিল রয়েছে। আয়াতে মহান আল্লাহ এটাই বুঝিয়েছেন। এ ব্যাপারে কোন প্রকার ছাড় নেই এজন্যে آمَنَ النَّاسُ বলে অবহিত করেছেন।
অতএব, সাহাবিদের আক্বিদার সাথে যাদের আক্বিদা মিলবে, তাদের যাবতীয় আক্বিদা-আমল প্রভুর দরবারে মকবুল হবে। তাই ঈমান হচ্ছে মূল; আর ইবাদত-আমল তার শাখা-প্রশাখা। বিশ্বাস ও জ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমান সময়ে আমরা যা দেখছি তা বড়োই নাজুক! পবিত্র দ্বীন ইসলামে বাঁচানোর প্রত্যেয় কারো নেই। আছে দ্বীন ধ্বংসের মনোভাব। অথচ অনেক তো এমনও রয়েছে- যারা ইসলামের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিতে পারবে; সবই লৌকিক।
প্রমাণ স্বরূপ, ইবাদত বা মসজিদগুলোতো দেখি, আহলে বায়তে রাসূলের নাম নেয় মুখে। সাহাবায়ে কিরামদের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতাও প্রকাশ করে। কিন্তু আক্বিদা ও আমলের ক্ষেত্রে এসব হযরাতে কিরামদের কাছা-কাছিও নেই। আছে মনগড়া ও বানোয়াট আমলের বহু ইতিবৃত্ত। মনে রাখতে হবে, যেসব আক্বিদা সর্বোপরি সাহাবায়ে কিরামগণের বিপরিত তা নিছক হারাম ও শিরক।
এইসকল সম্মানিত বুযূর্গ দ্বীনের প্রকৃত আলোকবর্তিকা। মুসলমানদের জন্য তাঁদের আক্বিদা-আমলের বিরোদ্ধে আচরণ করে অনেক দলের নাম দিয়েছে লশকরে তাযবাহ, আহলে হাদিস, হরকাতুল জিহাদ, হরকাতুল আনসার, জামাতে ইসলাম, (হিফাযত) ইত্যাদি।
এমন পরিস্থিতে সরলমনা মুসলমানদের ঈমান বাঁচানোর লক্ষ্যে, আমলের পথে প্রদিপ শিখা জ্বালানোর জন্যে সাহাবায়ে কিরামগণের আক্বিদা-আমলের সম্মানিত এই কিতাবটি রচনা করেছি। যাতে মুসলমানগণ কিয়ামত অবধি সঠিক দ্বীনের উপর অটল থাকার পাথেয় হয়।
মহান আল্লাহর দরবারে দু‘আ করছি প্রিয়তম রাসূলে কারিম (ﷺ)‘র উসিলায় অধমের এই মনোভাব কবুল করেন। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য যেনো কিতাবটি কল্যান বয়ে আনে। আমিন ছুম্মা আমিন।
صَلَّى اَللهُ تَعَالٰى عَلٰى حَبِيْبِه مُحَمَّدٍ وَاٰلِهِ وَاَصْحَابِهِ اَجْمَعِيْنَ بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ
ফক্বীর মুহাম্মদ যিয়াউল্লাহ ক্বাদিরী গুফিরালাহু
খতিব, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, আল্লামা আবদুল হাকীম (رحمة الله)
তাহসীল বাজার, সিয়ালকোট, পাকিস্তান।
জমিন কর্তৃক সুরাকার ঘোড়া গ্রাসকরণ
____________________
সায়্যিদুনা হযরত সিদ্দীকে আকবার (রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু)'র আক্বীদা
জমিন কর্তৃক সুরাকার ঘোড়া গ্রাসকরণ-
সায়্যিদুনা হযরত সিদ্দীকে আকবর (رضي الله عنه) বলেন, হিজরতকালে নবীজি (ﷺ) কিছুক্ষণ আরাম করে যখন নিদ্রা জাগ্রত হলেন এবং জিজ্ঞাস করলেন সাওর পর্বত ছেড়ে মদিনাপানে যাত্রার সময় হলো কিনা। তখন আমি বললাম- হ্যাঁ, হয়েছে তবে সূর্যের ঢলে গেলে আমরা যাত্রা করবো। এমন সময় দেখলাম সুরাকা পাশেই চলে এল। আমি নবীজি (ﷺ) কে বললাম-
ইয়া রাসূলাল্লাহ! শত্র“ তো এসে গেছে! আল্লাহর প্রিয় হাবীব (ﷺ) ইরশাদ করেন-
لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا
-“হে আবু বাকর, ব্যথিত হয়ো না মহান আল্লাহ তা‘আলা তো আমাদের সাথে আছেন।”
فَدَعَا عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَارْتَطَمَتْ بِهِ فَرَسُهُ إِلَى بَطْنِهَا فِي جَلَدٍ مِنَ الْأَرْضِ
-‘‘অতঃপর নবীজি (ﷺ) সুরাকার জন্য বদ্ দু‘আ করলেন, ফলে তার ঘোড়া শক্ত মাঠেতে পেট পর্যন্ত ধসে গেল!
এ করুণ দৃশ্য দেখে সুরাকা বলে উঠল-
إِنِّي أَرَاكُمَا دَعَوْتُمَا عَلَيَّ فَادْعُوَا لِي
আমি বুঝতে পেরেছি যে, আপনারা দুজন আমার জন্য বদদু‘আ করেছেন, এখন আমার পক্ষে একটু দো‘আ করুন।
আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি- সুরাকার সাথে পেছনে আসা অন্য কুরাইশরা এ ঘটনা দেখে পেছনেই পালিয়ে গেল।
فَدَعَا لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَجَا
-‘পরিশেষে নবীজি (ﷺ) তার জন্য দো‘আ করলেন। আর সুরাকার ঘোড়া মুক্তি পেল।’ তারপর সে গুহামুখ থেকে বিমুখ হয়ে ফিরে গেল। এবং তার সাথে যত আগন্তুকের সাক্ষাৎ হয়েছিল সবাইকে বলেছিল- আমি ঐ দিক (সাওরপর্বত) থেকে আসছি, ওখানে কেউ নেই। তার সাথে আসা সঙ্গীদের নিয়ে মক্কা ফেরত গেল। ৫
{৫. ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, ৪/২৩০৯ পৃ. হা/২০০৯, ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ৪/২০১ পৃ. হা/৩৬১৫, খতিব তিবরিযি, মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩/১৬৪২ পৃ. হা/৫৮৬৯}
‘আক্বীদা
ভূ-পৃষ্ঠেও নবীজি (ﷺ) এর রাজত্ব বিদ্যমান। আর ভূ-পৃষ্ঠও তাঁর (ﷺ) আদেশ মান্য করল আর সুরাকাও ঘটিত মহাকান্ড থেকে জানতে পারল যে, তিনি আল্লাহ প্রেরিত নবী। এজন্য সে বলেছিল (হে আল্লাহর নাবী!) আপনার দো‘আর কারণেই আমার ঘোড়া মাটিতে ধসে গেল। আর বলেছিল আমার এই বিপদ-বিপন্নতা থেকে পরিত্রাণের জন্য আপনি দো‘আ করুণ। তখন নবীজি (ﷺ) এর দো‘আর বদৌলতেই ভূ-পৃষ্ঠ তার ঘোড়া উদ্গিরণ করে দিয়েছে।
❏ ইমামে আহলে সুন্নাত আ‘লা হযরত শাহ আহমাদ রেযা খাঁন বেরলভী (رحمة الله) বলেন-
وهى نور حق وهى ظل رب هے انهيں كاسب ہے انهيں سےسب
نهيں ان كى ملك مي آسماں ك زمين نهيں كے زماں نهيں
-‘‘তিনিই খোদার জ্যোতি, ছায়া কুদরতি
সে তো সবার তরে, তারই তো সবি।
তিনি অতুল অতি, অনুরূপ নয় সৃজনরাজি
না আকাশ না ভুবনরাজি, না তো সময়াদি।’’ ৬
{ ৬. ইমাম আহমদ রেযা খাঁন বেরলভী, হাদায়েকে বখশীস,}
রাসূল (ﷺ)-এর ইলমে গায়বের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ
____________________
রাসূল (ﷺ)-এর ইলমে গায়বের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ-
❏ হযরত রাবী‘আ ইবনে কা‘ব (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
كَانَ إِسْلَامُ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ شَبِيهًا بِوَحْيٍ مِنَ السَّمَاءِ، وَذَلِكَ أَنَّهُ كَانَ تَاجِرًا بِالشَّامِ، فَرَأَى رُؤْيَا، فَقَصَّهَا عَلَى بَحِيرَا الرَّاهِبِ، فَقَالَ لَهُ: مَنْ أَيْنَ أَنْتَ؟ قَالَ: مِنْ مَكَّةَ، قَالَ: مِنْ أَيِّهَا؟ قَالَ: مِنْ قُرَيْشٍ، قَالَ: فَإِيشِ أَنْتَ؟ قَالَ: تَاجِرٌ، قَالَ: إِنْ صَدَّقَ اللَّهُ رُؤْيَاكَ فَإِنَّهُ سَيَبْعَثُ نَبِيًّا مِنْ قَوْمِكَ تَكُونُ وَزِيرَهُ فِي حَيَاتِهِ وَخَلِيفَتَهُ بَعْدَ مَوْتِهِ، فَأَسَرَّ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ هَذِهِ، حَتَّى بُعِثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءَهُ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَا الدَّلِيلُ عَلَى مَا تَدَّعِي؟ قَالَ: الرُّؤْيَا الَّتِي رَأَيْتَ بِالشَّامِ ، فَعَانَقَهُ، وَقَبَّلَ بَيْنَ عَيْنَيْهِ، وَقَالَ: أَشْهَدُ أَن لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ
-‘‘হযরত আবু বকর (رضي الله عنه) ওহীর মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ব্যবসার কাজে শাম দেশে ছিলেন। তিনি সেখানে একটি স্বপ্ন দেখেন। তিনি তার স্বপ্নের ঘটনা পাদরীর কাছে খুলে বললেন। অতঃপর তিনি তা শুনে বললেন, তুমি কোথায় থেকে এসেছো? তিনি বলেন, মক্কা হতে। তিনি আরও জিজ্ঞেস করলেন, মক্কার কোন গোত্রের? আবু বকর (رضي الله عنه) বললেন, কুরাইশ। পাদরী বললেন, তুমি কি কর? তিনি বললেন, আমি ব্যবস্যা করি। পাদরী বললেন, আপনাকে আল্লাহ তা‘আলা সত্য দেখিয়েছেন। নিশ্চয় তোমার কওমে একজন নবীর আবির্ভাব হচ্ছে এবং শীঘ্রই তার সাথে তোমার দেখা হবে এবং তাঁর ওফাতের পরে তুমি তাঁর খলিফা হবে। তিনি এ কথাটি রাসূল (ﷺ)-এর কাছে যাওয়ার আগ পর্যন্ত পরিবারের কাছে গোপন রাখলেন। অতঃপর তিনি রাসূল (ﷺ) এর কাছে গেলেন এবং তাকে বললেন, হে মুহাম্মদ ! আপনি যে নবী তার প্রমাণ পেশ করুন? রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করলেন, আমি নবী তার জলন্ত প্রমাণ হলো তোমার দেখা সিরিয়ার স্বপ্ন। অতঃপর তিনি রাসূল (ﷺ)-এর সাথে মু‘আনাকা করলেন এবং তাঁর দুচোখের মধ্যখানে চুমু খেলেন এবং বললেন-
أَشْهَدُ أَن لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ
-’’আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি আপনি আল্লাহর রাসূল।’’ ৭
{ ৭.ইমাম ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মদ ইস্পাহানী (ওফাত. ৫৩৫ হি.), সিরু সালফে সালেহীন, ১/৫১ পৃ., ইমাম ইবনে আসাকির, তারিখে দামেস্ক, ৩০/৩০ পৃ. ক্রমিক. ৩৩৯৮, মুহিবুদ্দীন তবারী, রিয়াদুন নাদ্বারা ফি মানাকিবে আশারা, ১/৮৪ পৃ., আল্লামা আব্দুর রহমান ছাফুরী, নুযহাতুল মাজালিস, ২/১৪৭ পৃ., ইমাম ইবনে সালেহ শামী, সবলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, ১/১২৪ পৃ. ইমাম সুয়ূতি, খাসায়েসুল কোবরা, ১/৫১ পৃ.}
আক্বিদা
সিদ্দীকে আকবর (رضي الله عنه) প্রথম খলিফা হওয়াটা আগে থেকে নির্ধারিত ছিল। তাওরাত ও ইনজিল বিশারদগণও এ ব্যাপারে অবহিত ছিলেন। এর পরও যারা তাঁর খিলাফতকে অস্বীকার করে, তারা বড় অজ্ঞ। এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হল যে, আমাদের হুযূর (ﷺ) আগ-পরের এবং দিন-রাতের সব বিষয় জানতেন, তাঁর কাছে কোন বিষয় অদৃশ্য ছিল না। ৮
{৮.সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
পিতা-মাতার ওফাতের পরে সন্তানের কর্তব্য
____________________
পিতা-মাতার ওফাতের পরে সন্তানের কর্তব্য-
❏ নবম শতাব্দির মুজাদ্দিদ, হাফেযুল হাদিস, ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি (رحمة الله) সংকলন করেন-
وَأَخْرَج اِبْنِ النَجَّار فِي تَارِيْخه عَنْ أَبِي بَكْر الصِّديق قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اَللهِ صَلَّى اَلله عَلَيْهِ وَسَلَّم مَنْ زَارَ قَبْر وَالِديْهِ أَو أَحَدِهُمَا فِي كُلِّ جُمُعَة فَقَرَأَ عِنْدَهَا (يس) غَفَرَ اَلله لَهُ بِعَدَد كُل حَرْف مِنْهَا
-‘‘ইমাম ইবনে নাজ্জার (رحمة الله) তার ‘তারিখে মাদিনা’ গ্রন্থে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (رضي الله عنه) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক জুম‘আর দিন তার পিতা-মাতার অথবা তাদের যে কোন একজনেরও কবর যিয়ারত করবে এবং তার কবরের নিকটে সূরা ইয়াসিন পাঠ করবে তাহলে তার প্রত্যেক হরফের পরিমান গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।’’ ৯
{৯.ইমাম সুয়ূতি, তাফসিরে আদ-দুররুল মানসূর, ৭/৪০ পৃ., ইমাম আইনি, উমদাতুল ক্বারী, ৩/১১৮ পৃ., এ হাদিসটির আরও দুটি যঈফ সূত্র রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমার লিখিত ‘প্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানোর স্বরূপ উন্মোচন’ ১ম খণ্ড দেখুন।}
আক্বিদা
এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হল যে জিবিত সন্তানরা মৃত পিতা-মাতার জন্য কোরআন তিলাওয়াত অথবা কোন নেক কাজ ঈসালে সাওয়াব হিসেবে পাঠালে পৌঁছে।
❏ এ প্রসঙ্গে আল্লামা মানাভী (رحمة الله) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় লিখেছেন-
وَفِيه أَن الْمَيِّت تَنْفَعهُ الْقِرَاءَة عِنْده وَكَذَا الدُّعَاء وَالصَّدَقَة
-‘‘এ হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, মায়্যিতের কবরের নিকট কিরাত পড়লে তার উপকার হয় এবং যেমনিভাবে দোয়া সাদকা করলে হয়।’’ ১০
{১০. আল্লামা মানাভী, তাইসির, ২/৪২০ পৃ.}
❏ বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা বদরুদ্দীন আইনি (رحمة الله) লিখেন-
فَذهب أَبُو حنيفَة وَأحمد، رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا، إِلَى وُصُول ثَوَاب قِرَاءَة الْقُرْآن إِلَى الْمَيِّت
-‘‘ইমাম আবু হানিফা (رضي الله عنه) এবং ইমাম আহমদ (رضي الله عنه) এ মত পোষণ করেছেন যে কোরআনের তিলাওয়াতের সাওয়াব মৃত্যু ব্যক্তির কাছে পৌঁছে।’’ ১১
{ ১১. আল্লামা আইনী, উমদাতুল ক্বারী, ৩/১১৮ পৃ.}
এ হাদিস থেকে ঈসালে সাওয়াব এবং নির্দিষ্ট দিনে কবর যিয়ারতের প্রমাণ পাওয়া গেল। ১২
{ ১২ . সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
রাসূলের নামের তা‘যিম
____________________
রাসূলের নামের তা‘যিম-
❏ ইমাম দায়লামি (رحمة الله) সংকলন করেন-
حَدِيثِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ أَنَّهُ لَمَّا سَمِعَ قول المؤذن أشهد أن محمد رَسُولُ اللَّه قَالَ هَذَا، وَقَبَّلَ بَاطِنَ الأُنْمُلَتَيْنِ السَّبَّابَتَيْنِ وَمَسَحَ عَيْنَيْهِ، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ فَعَلَ مِثْلَ مَا فَعَلَ خَلِيلِي فَقَدْ حَلَّتْ عَلَيْهِ شَفَاعَتِي- رواه الديلمى المسند الفردوس
-‘‘হযরত আবু বকর (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, তিনি মুয়ায্যিনকে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার’ রাসূলুল্লাহ বলতে শোনলেন, তখন তিনিও তা বললেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়ে চুমু খেয়ে তা চোখে বুলিয়ে নিলেন। তা দেখে রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন : যে ব্যক্তি আমার বন্ধুর ন্যায় আমল করবে, তার জন্য আমার সুপারিশ বৈধ হয়ে গেল।’’ ১৩
{১৩ .ইমাম আবদুর রহমান সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানা : ৩৮৩ পৃ. : হা/১০২১, আল্লামা আজলূনী, কাশফুল খাফা : ২/২৫৯ পৃ. হা/২২৯৬, আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী : আসরারুল মারফূ : ৩১২ পৃষ্ঠা : হাদিস : ৪৫৩, আল্লামা তাহতাভী : মারাকিল ফালাহ : ১৬৫ পৃ. : কিতাবুল আযান, আল্লামা শাওকানী : ফাওয়াইদুল মাজমু‘আত : ১/৩৯ পৃ., ইসমাঈল হাক্কী : তাফসীরে রুহুল বায়ান : ৭/২২৯ পৃ., তাহের পাটনী : তাযকিরাতুল মওদ্বুআত : ৩৪ পৃ., জালালুদ্দীন সূয়তী : লাআলীল মাসনূ আ : ১৬৮-১৭০ পৃ., আব্দুল হাই লাক্ষনৌভী : আছারুল মারফু‘আ: ১৮২ পৃ., শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী : সিল..দ্বঈফাহ : ১/১০২ পৃ. হাদিস : ৭৩}
বাতিলপন্থীদের একটি ধোঁকা
____________________
বাতিলপন্থীদের একটি ধোঁকা:
বাতিলপন্থীদের দাবি হল ইমাম সাখাভী (رحمة الله) হযরত আবু বকর (رضي الله عنه) এর বর্ণিত হাদিসটি সংকলন করে বলেন, لَايَصِحُّ ‘হাদিসটি সহীহ নয়।’ ১৪
{১৪. ইমাম সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানা : ৩৮৪ পৃ. : হাদিস : ১০২১}
সমস্ত মুহাদ্দিসগণ একমত যে হাদিসটি ‘সহীহ নয়’ শব্দ দ্বারা হাদিসটি ‘হাসান’ বুঝায়।
❏ আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) বলেন-
وَقَالَ ابْنُ الْهَمَّامِ: وَقَوْلُ مَنْ يَقُولُ فِي حَدِيثٍ أَنَّهُ لَمْ يَصِحَّ إِنْ سَلِمَ لَمْ يُقْدَحْ ; لِأَنَّ الْحُجَّةَ لَا تَتَوَقَّفُ عَلَى الصِّحَّةِ، بَلِ الْحَسَنُ كَافٍ،– فصل الثانى من باب: ما يجوز من العمل فى الصلاة
-‘‘ইমাম কামালুদ্দীন ইবনু হুমাম (رحمة الله) বলেন, কোন হাদিস সম্পর্কে কোন মুহাদ্দিস যদি বলেন যে এ হাদিসটি সহীহ (বিশুদ্ধ) নয়, তাদের কথা সত্য বলে মান্য করা হলেও কোন অসুবিধা নেই, যেহেতু (শরীয়তের) দলীল বা প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্ত হওয়ার জন্য শুধু (হাদিস) সহীহ বা বিশুদ্ধ হওয়া নির্ভরশীল নয়। সনদ বা সূত্রের দিক দিয়ে ‘হাসান’ হলেও (হাদিসটি শরীয়তের দলীল হিসেবে সাব্যস্ত হওয়ার জন্য) যথেষ্ট।’’ ১৫
{১৫ . আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী : মিরকাত : ৩/৭৭পৃ, হাদিস : ১০৮, দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন।}
❏ আল্লামা ইবনে হাজার মক্কী (رحمة الله) তার কিতাবে লিখেন-
وَقَول أَحْمد إِنَّه حَدِيث لَا يَصِحُّ أَيْ لِذَاتِه فَلَا يَنْفِي كَوْنه حَسْنًا لِغَيْرِه وَالْحَسَن لِغَيْرِه يَحْتَجُّ بِهِ كَمَا بَيْنَ فِي عِلْمِ الْحَدِيْث -(الصَّوَاعِقُ الْمُحْرِقَة عَلى أَهْل الرفض والضلال والزندقة: خاتمة الفصل الاول من الباب: الحادى عشر:২২৮)
-‘‘ইমাম ইবনে হাজার মাক্কী (رحمة الله) বলেন, ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (رحمة الله)‘র একটি হাদিস প্রসঙ্গে বক্তব্য হাদিসটি لَايَصِحُّবিশুদ্ধ নয় এর অর্থ হবে সহিহ লিজাতিহী তথা জাতি বা প্রকৃত অর্থে সহীহ নয় উক্ত হাদিসটি (সনদের দিক দিয়ে) হাসান লিজাতিহী বা অন্য সনদে হাসান লিগায়রিহী (জাতিগত সহীহ না হওয়া; সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সহীহ’র কারণে নিজে সহীহ হওয়া।) হওয়াকে মানা (নিষেধ) করে না। আর হাসান লিগায়রিহীও (শরিয়তের) প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যায়। যা ইলমে হাদিস তথা হাদিসশাস্ত্র হতে জানা যায়।’’ ১৬
{১৬. ইবনে হাজার মক্কী : আস-সাওয়ায়েকুল মুহরিকা, ২য় খণ্ড, পৃ-৫৩৬, মুয়াস্সাতুর রিসালা, বয়রুত, লেবানন।}
❏ আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) তাঁর গ্রন্থে ইমাম সাখাভী (رحمة الله)‘র রায় পেশ করে সমাধানের কথা বলেন যে-
قُلْتُ وَإِذَا ثَبَتَ رَفْعُهُ عَلَى الصَّدِّيقِ فَيَكْفِي الْعَمَلُ بِهِ لِقَوْلِهِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسِنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِين
-‘‘আমার কথা হলো, এ হাদিসটির সনদ যেহেতু হযরত আবু বকর সিদ্দিক (رضي الله عنه) পর্যন্ত প্রসারিত (মাওকুফ), সেহেতু আমলের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। কেননা হুযুর (ﷺ) ইরশাদ ১৭
{১৭ .ক. ইমাম আবু দাউদ : আস্-সুনান : হাদিস : ৪৬০৭, হযরত উমর (رضي الله عنه) এর সূত্রে, তিরমিযী : আস্-সুনান : হাদিস : ২৬৭৬, ইবনে মাজাহ : আস্-সুনান : হাদিস : ৪২, ইমাম ইবনুল র্বা : জামিউল বায়ান ওয়াল ইলমে বি ফাদ্বলিহী : ২/৯০ পৃ. ইমাম আহমদ : আল মুসনাদ : ৪/১২৭ পৃষ্ঠা হযরত ইরবায বিন সারিয়া (رضي الله عنه) এর সূত্রে।}
করেছেন, তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আকড়ে ধরো।’’ ১৮
{১৮. আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী : আসরারুল মারফ‘‚আ : ২১০ পৃ., হা/৮২৯, আল্লামা আজলূনী : কাশফুল খাফা : ২/২৭০ পৃ. : হা/২২৯৬}
আক্বিদা
এ হাদিস থেকে জানা গেল রাসূল (ﷺ)-এর নাম মুবারককে তা‘যিম করা ইসলামের প্রথম খলিফার সুন্নাত এবং রাসূল (ﷺ)-এর শাফায়াত লাভ করার মাধ্যম। ১৯
{১৯. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
খাবারে বারকাতের জন্য দো‘আ
____________________
আমিরুল মু’মিনীন সায়্যিদুনা ফারুকে আ‘যম (رضي الله عنه) এর আক্বিদা
খাবারে বারকাতের জন্য দো‘আ-
সায়্যিদুনা হযরত আবু হুরাইরা (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- দিনটি ছিল তাবূক যুদ্ধের। নবীজি (ﷺ) এর সাথে যুদ্ধ করতে যাওয়া সাহাবীদের প্রচন্ড খিদে পেয়েছে, তখন হযরত ওমর (رضي الله عنه) বলেন-
فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُهُمْ بِفَضْلِ أَزْوَادِهِمْ ثُمَّ ادْعُ اللَّهَ لَهُمْ عَلَيْهَا بِالْبَرَكَةِ فَقَالَ: نَعَمْ
-‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! সাহাবীগণের পক্ষ থেকে খাদ্য সম্ভারের আহ্বান করুন, আর বাকি অংশ আর তাতে প্রাচুর্যতার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করুন। নবীজি (ﷺ) ইরশাদ করেন হ্যাঁ, ঠিক আছে।’
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) দস্তরখানা বিছিয়ে খাদ্যাংশগুলো এতে রাখার নির্দেশ দিলেন। তাঁর আদেশে সাহাবীগণের মধ্য হতে কেউ শস্যের সামান্য অংশ, কেউ মুষ্টি খেজুর আবার কেউ রুটির টুকরো দস্তরখানতে রাখতে শুরু করেন। এভাবে করতে করতে ঐ দস্তরখানতে কিছু পরিমাণ খাদ্য সঞ্চিত হলো।
فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْبَرَكَةِ
-‘অতঃপর নবীজি (ﷺ)-এ খাদ্যে বারকাতের জন্য দো‘আ করেন।’ এবং সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বলেন- তোমাদের খাদ্যপাত্রগুলো ভর্র্তি করে নাও।
حَتَّى مَا تَرَكُوا فِي الْعَسْكَرِ وِعَاءً إِلَّا مَلَؤُوْهٌ قَالَ فَأَكَلُوْا حَتّٰى شَبِعُوا وَفَضَلَتْ فَضْلَةٌ
-‘সৈন্যদল তথা সাহাবীগণের মধ্যহতে খাদ্যপাত্র ভর্তি না করা কেউ ছিলেন না। অতঃপর নবীজি (ﷺ) (বললেন) অনুমতি দিলেন যে, এখন তোমরা ভক্ষণ করো। সবাই স্বাচ্ছন্দে খাবার গ্রহণ করার পরও খাদ্য অতিরিক্ত রয়ে গেল।’
খাবার শেষে হুযূর (ﷺ) ঘোষণা করলেন-
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ
-“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই আর আমি আল্লাহর রাসূূল।”
যে ব্যক্তি এই দুই সত্তাতে (আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসূল কে) সন্দেহাতীত ভাবে বিশ্বাস করে আল্লাহর নিকট আগমন করবে, তাকে বেহেশতে প্রবেশে বাঁধা দেয়া হবে না। ২০
{২০.খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৬৬০ পৃ. হা/৫৯১২, ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, ১/৫৬ পৃ. হা/২৭, আল্লামা ইবনে কাসির, বেদায়া ওয়ান নিহায়া, ৬/১১৮ পৃ. , ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, ১৭/১৪০ পৃ. হা/১১০৮০, মুসনাদে আবি ই‘য়ালা, হা/১১৯৯, ইবনে আছির, জামেউল উসূল, হা/৮৯০৮}
‘আক্বীদা
সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) এর আক্বিদা ছিল খাদ্য কম থাকা সত্তে¡ও হুযূর আঁক্বা (ﷺ) এর দো‘আর বদৌলতে খাবারে প্রাচুর্যতা আসবে এবং অল্প খাবার অসংখ্য উপস্থিতির জন্যও যথেষ্ট হবে।
অনুরূপভাবে খাবার সামনে রেখে দো‘আ করাটাও সাহাবায়ে কিরামের আক্বিদা। এজন্য আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর (رضي الله عنه) আবেদন করেছিলেন আর নবীজি (ﷺ) এ নিবেদন গ্রহণ করে দো‘আ করলেন। বাস্তবিকপক্ষে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের যতসব ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি হয়ে থাকে, তাতে কুর‘আন তিলাওয়াত করেই দো‘আ করা হয়। যা সম্পূর্ণ শরীয়াত সম্মত এবং বারকাতের অন্যতম ভিত্তি।
পৃথিবী সৃষ্টির সূচনা থেকে জান্নাত গমন পর্যন্ত সংবাদ দেয়া
____________________
পৃথিবী সৃষ্টির সূচনা থেকে জান্নাত গমন পর্যন্ত সংবাদ দেয়া-
❏ হযরত ফারুকে আ‘যাম (رضي الله عنه) বলেন-
قَامَ فِينَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقَامًا، فَأَخْبَرَنَا عَنْ بَدْءِ الخَلْقِ، حَتَّى دَخَلَ أَهْلُ الجَنَّةِ مَنَازِلَهُمْ، وَأَهْلُ النَّارِ مَنَازِلَهُمْ، حَفِظَ ذَلِكَ مَنْ حَفِظَهُ، وَنَسِيَهُ مَنْ نَسِيَهُ
-‘‘একদা নবীজি (ﷺ) আমাদের মাঝে একজায়গায় দণ্ডায়মান হয়ে সৃষ্টির সূচনা সম্পর্র্কে আলোচনা শুরু করেন। তাঁর আলোচনা এতটুকু হলো যে, বেহেশতবাসীরা তাদের অবস্থানে প্রবেশ করল আর জাহান্নামীরা তাদের আপনস্থানে। এ বর্ণনা যারা পেরেছেন সংরক্ষণ করেছেন। আর যারা পারেননি তারা ভুলে গেলেন।’’ ২১
{২১. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ৪/১০৬ পৃ. হা/৩১৯২, খতিব তিবরিযি, মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩/১৫৮৮ পৃ. হা/৫৬৯৯, তিরমিজীঃ আস-সুনানঃ ৪/৪১৯ হাদীসঃ ২১৯১, আবু দাউদঃ আস-সুনানঃ ৪/৪৪১পৃ. হাদীসঃ ৪২৪০, মুসলিমঃ আস-সহিহঃ কিতাবুল ফিতানঃ ২/৩৯০পৃ.}
‘আক্বিদা
মহান রাব্বুল ‘আলামীন তাঁর প্রিয় হাবীব হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) কে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ অবধির যাবতীয় জ্ঞান দান করেছেন। ২২
{২২ . উপরে উল্লেখিত সহীহ বুখারীর হযরত উমর (رضي الله عنه) এর হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা বদরুদ্দীন মাহমুদ আইনী (رحمة الله) {ওফাত.৮৫৫হি.} লিখেন-
فِيْهِ دَلاَلَةٌ عَلَى أَنَّهُ أَخْبَرَ فيِ الْمَجْلِسِ الْوَاحِدِ بِجَمِيْعِ أَحْوَالِ الْمَخْلُوقَاتِ مِنْ اِبْتِدَائِهَا إِلَى اِنْتِهَائِهَا وَفِي إِيْرَادِ ذَلِكَ كُلَّهُ فيِ مَجْلِسٍ وَاحِدٍ أَمْرٌ عَظِيْمٌ مِنْ خَوَارِقِ الْعَادَةِ وَكَيْفَ وَقَدْ أُعْطِيَ جَوَامِعُ الْكَلِمِ مَعَ ذَلِكَ.
-‘‘এ হাদিস দ্বারা বুঝা গেল, একই মজলিশ বা অবস্থানে রাসূল করীম (ﷺ) সৃষ্টিকুলের আদ্যোপান্ত যাবতীয় অবস্থার খবর দিয়েছিলেন। আর এক মসজলিশে সমস্ত কিছু বর্ণনা করা তাঁর একটি বড় মু’জিযা ছিল। তিনি পারবেন না কেন! তাকে جَوَامِعُ الْكَلِمِ (স্বল্প ভাষায় অধিক অর্থ) দ্বারা ভুষিত করা হয়েছে।’’ (আল্লামা আইনী : উমদাতুল ক্বারী: ১৫/১১০পৃ. দারু ইহইয়াউত্-তুরাসুল আরাবী, বয়রুত, লেবানন।) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় শুধু আইনী (رحمة الله) নয় যেমন আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (رحمة الله) বলেন,
أَيْ أَخْبَرَنَا عَنْ مُبْتَدَإِ الْخَلْقِ شَيْئًا بَعْدَ شَيْءٍ إِلَى أَنِ انْتَهَى الْإِخْبَارُ عَنْ حَالِ الِاسْتِقْرَارِ فِي الْجَنَّةِ وَالنَّارِ ----- إِيرَادِ ذَلِكَ كُلِّهِ فِي مَجْلِسٍ وَاحِدٍ مِنْ خَوَارِقِ الْعَادَةِ أَمْرٌ عَظِيمٌ
-‘‘নবী করীম (ﷺ) সৃষ্টির শুরু থেকে একটি একটি করে সর্বশেষ জান্নাত ও জাহান্নামে অবস্থান করা পর্যন্ত বিস্তারিত বিষয় আমাদেরকে অবহিত করেছেন এবং এ বিষয়টি তাঁর একটি বড় মু’জিযা ছিল।’’ (ইবনে হাজার আসকালানী: ফতহুল বারী শরহে বুখারী: ৬/৩৬৭ পৃ.) উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) বলেন,
أَيْ أَخْبَرَنَا عَنِ الْمَبْدَأِ شَيْئًا بَعْدَ شَيْءٍ إِلَى أَنِ انْتَهَى الْإِخْبَارُ عَنْ حَالِ الِاسْتِقْرَارِ فِي الْجَنَّةِ وَالنَّارِ، وَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّهُ أَخْبَرَ فِي الْمَجْلِسِ الْوَاحِدِ بِجَمِيعِ أَحْوَالِ الْمَخْلُوقَاتِ مِنَ الْمَبْدَأِ وَالْمَعَادِ وَالْمَعَاشِ، وَتَيْسِيرُ إِيرَادِ ذَلِكَ كُلِّهِ فِي مَجْلِسٍ وَاحِدٍ مِنْ خَوَارِقِ الْعَادَةِ أَمْرٌ عَظِيمٌ.
-‘‘এ হাদিস দ্বারা জানা যায় নবী করীম (ﷺ) একই অবস্থানে থেকে সমস্ত মাখলুকাতের সৃষ্টির শুরু, জীবন যাপন এবং মৃত্যুর পর পূণর্জীবিত হওয়া বা পরকাল ইত্যাদি বিষয়ে সংবাদ প্রদান করেছিলেন এবং এ বিষয়টি নবী করীম (ﷺ)-এর একটি বড় মু’জিযার অন্তর্ভূক্ত।’’(মোল্লা আলী ক্বারী: মেরকাত শরহে মিশকাত: ১১/৪ পৃ.)}
আর তিনি ঐসব জ্ঞানের কথা সাহাবায়ে কিরামের সামনে উপস্থাপনও করেছেন। যেমনটি-
❏ দারুল উলূম দেওবন্দ-এর প্রতিষ্ঠাতা মৌলভী কাশেম নানুতুবী স্বীয় গ্রন্থ ‘তাহযীরুন-নাস’ এ এ ধরণের একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, নবীজি (ﷺ) ইরশাদ করেছেন-
عَلِمْتُ عِلْمَ الأوَّلِيْنَ وَالْآخِرِيْنَ
-‘‘আমি সর্ব প্রাথমিকের এবং সর্বশেষের জ্ঞানে জ্ঞাত।’’ ২৩
{২৩.ইমাম ইবনে রযব হাম্বলী, তাফসিরে ইবনে রযব হাম্বলী, ২/৫৫৫ পৃ. }
خدا مطلع ساخت هر جمله غيب
على كل شىء خبر آمدى
“খোদা তা‘য়ালা দানিছে সবটুকু তাঁরে
সৃজনের লুকোচুরি বলে দিতে পারে।”
হযরত ওয়াইস ক্বারনি (رضي الله عنه) কে সনাক্তকরণ
____________________
হযরত ওয়াইস ক্বারনি (رضي الله عنه) কে সনাক্তকরণ-
হযরত ওমাইর ইবন জাবির (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ সৈয়্যিদুনা হযরত উমর ইব্ন খাত্তাব (رضي الله عنه)’র নিকট যদি ইয়েমেনবাসীদের কোনো প্রতিনিধিদল আসত তখন তিনি জিজ্ঞাসা করতেন-
তুমি কি ওয়াইস ইবনে আমির? এমনটি করতে করতে পরিশেষে একদিন হযরত ওয়াইস ক্বারনি (رضي الله عنه) তার নিকট উপনীত হলেন আর হযরত উমর (رضي الله عنه) জানতে চাইলেন- তুমি কি ওয়াইস ইবনু আমির? তিনি বলেন- হ্যাঁ। হযরত উমর (رضي الله عنه) জানতে চাইলেন- তুমি কি ‘মুরাদ’ গোত্রের? তিনি উত্তরে বললেন- হ্যাঁ!। হযরত উমার (رضي الله عنه) আরো জানতে চাইলেন- তোমার কি শ্বেত রোগ ছিল, যার এক দিরহাম পরিমাণ চিহ্ন এখনো রয়ে গেল? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, আছে। তখন হযরত উমার (رضي الله عنه) বলেন-
سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: يَأْتِي عَلَيْكُمْ أُوَيْسُ بْنُ عَامِرٍ مَعَ أَمْدَادِ أَهْلِ الْيَمَنِ مِنْ مُرَادٍ، ثُمَّ مِنْ قَرَنٍ، كَانَ بِهِ بَرَصٌ فَبَرَأَ مِنْهُ، إِلَّا مَوْضِعَ دِرْهَمٍ لَهُ وَالِدَةٌ هُوَ بِهَا بَرٌّ، لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللهِ لَأَبَرَّهُ، فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ يَسْتَغْفِرَ لَكَ فَافْعَلْ فَاسْتَغْفَرَ لَهُ
-‘আমি প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ (رضي الله عنه) কে বলতে শুনেছি যে, (হে উমার! তোমার নিকট) ইয়ামানের ক্বারণ প্রদেশ হতে মুরাদ গোত্রের একজন লোক সেখানকার কিছু সংখ্যক অধিবাসীর সহায়তা নিয়ে তোমার নিকট আগমন করবে, যার নাম হবে ‘ওয়াইস ইবনু আমির’। তার শ্বেত রোগ থাকবে। পুরো শরীর এক দিরহাম সমপরিমাণ জায়গা ব্যতিত সুস্থ হয়ে গিয়েছে। তার মা থাকবে, যাঁর সাথে সে অনেক কল্যাণকর কাজ সাধন করেছে (সেবা করেছে)। তার মায়ের সাথে করা কল্যাণময় কাজগুলো এমন যে, যার দোহাই দিয়ে সে আল্লাহর নিকট কিছু চাইলে আল্লাহ অবশ্য তা পূরণ করেন। হে উমর! যদি তোমার সুযোগ হয় তাহলে তার নিকট দো‘আ চাইবে। হযরত উমার (رضي الله عنه) তাই করলেন। আর হযরত ওয়াইস ক্বারনি (رضي الله عنه) তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন।’’ ২৪
{২৪. মুসলিম শরীফ, ৪/১৯৬৯ পৃ. হা/২৫৪২, পরিচ্ছেদ: بَابُ مِنْ فَضَائِلِ أُوَيْسٍ الْقَرَنِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , ইমাম হাকেম, আল-মুস্তাদরাক, ৩/৪৫৬ পৃ. হা/৫৭১৯, মুসনাদে বায্যার, ১/৪৭৯ পৃ. হা/৩৪২, ইমাম ইবনে আছির, জামেউল উসূল, হা/৬৮২৬, আল্লামা মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ১৪/৩ পৃ. হা/৩৭৮২৩}
‘আক্বীদা
নাবীয়ে পাক (ﷺ) রোগাক্রান্ত ব্যক্তির রোগ এবং তার নিরাময় সম্পর্কে ভবিষ্যবাণী করেছেন। কে কোন প্রান্ত থেকে এবং কোন অবস্থায় আগমন করবে- সে সম্পর্কেও অবগত। তার কার্যাবলিরও ভবিষ্যবাণী করেছেন। আর আউলিয়ায়ে কিরামের মধ্য হতে এমন কতিপয় ওলী আছেন, যাঁরা মহান আল্লাহর দরবারে যেমনটি করার নিবেদন করেন মহান আল্লাহ ঐরূপ করে দেন। আল্লাহ তা‘আলা তাদের আবেদন-নিবেদন গ্রহণ করে থাকেন। আর তাঁদের (ওলীদের) নিকট গমন করে তাঁর মাধ্যমে দো‘আ করাটাও রাসূলে খোদা (ﷺ) এর শিক্ষা। তবে যে ব্যক্তি এ দৃষ্টিভঙ্গি এবং আক্বিদার অস্বীকার করবে মূলত সে নবীজি (ﷺ) এর শিক্ষার অস্বীকার করল। ২৫
{২৫. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
বহু দূরের বস্তু অবলোকন এবং সাহায্য করা
____________________
বহু দূরের বস্তু অবলোকন এবং সাহায্য করা-
মিশকাত শরীফের ২য় খণ্ডের بَابُ الْكَرَامَاتْ শীর্ষক অধ্যায়ে হযরত আবদুল্লাহ ইবনু উমর (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত আছেঃ হযরত উমর (رضي الله عنه) হযরত সারিয়া (رضي الله عنه) কে এক সেনা বাহিনীর অধিনায়ক নিযুক্ত করে ‘নেহাওয়ানন্দ’ নামক স্থানে পাঠিয়েছিলেন। এরপর একদিন হযরত উমর ফারুক (رضي الله عنه) মদীনা মুনাওয়ারায় খুতবা পাঠের সময় চিৎকার করে উঠলেন।
❏ হাদিসের শব্দগুলো হলঃ
فَبَيْنَمَا عُمَرُ يَخْطُبُ، فَجَعَلَ يَصِيحُ: يَا سَارِيَ! الْجَبَلَ
-‘‘হযরত উমর (رضي الله عنه) মদীনা মুনাওয়ারায় খুতবা পড়ার সময় চিৎকার করে বলে উঠলেন, ‘ওহে সারিয়া! পাহাড়ের দিকে পিঠ দাও।’’ বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর উক্ত সেনাবাহিনী থেকে বার্তা বাহক এসে জানানঃ আমাদিগকে শত্রুরা প্রায় পরাস্ত করে ফেলেছিল। এমন সময় কোন এক আহ্বানকারীর ডাক শুনতে পেলাম। উক্ত অদৃশ্য আহ্বানকারী বলেছিলেন, ‘সারিয়া! পাহাড়ের শরণাপন্ন হও।’ তখন আমরা পাহাড়কে পিঠের পেছনে রেখে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলাম। এরপর আল্লাহ আমাদের সহায় হলেন, ওদেরকে পর্যুদস্ত করে দিলেন।’’ ২৬
{২৬. খতিব তিবরিযী, মিশকাতঃ ৪/৪৪৬ পৃ. হা/৫৯৫৪, এ গ্রন্থের তাহকীকে আহলে হাদিস আলবানী এটিকে ‘হাসান’ বলে অভিহিত করেছেন। ইমাম বায়হাকী, দালায়েলুল নবুয়ত, ৬/৩৭০ পৃ., শায়খ ইউসূফ নাবহানীঃ হুজ্জাতুল্লাহি আলাল আলামীনঃ ৬১২-৬১৩ পৃ., ইমাম আবু নাঈম ইস্পহানীঃ দালায়েলুল নবুয়তঃ পৃ. ৫১৮-৫১৯, মুত্তাকী হিন্দীঃ কানযুল উম্মালঃ ৫৭১ পৃ. হাদিসঃ ৩৫৭৮৮, ইমাম বায়হাকী, কিতাবুল ই’তিকাদঃ ২০৩ পৃ.}
আক্বিদা
সাহাবায়ে কেরামদের আক্বিদা ছিল আল্লাহর নৈকট্যবান বান্দারা অন্তরের দূরদৃষ্টি দ্বারা অনেক দূরের বস্তুকে চোখের সামনে দেখতে পেতেন এবং তারা কারামত দ্বারা বিপদে সাহায্যও করতে পারেন। যেমনটি যুদ্ধ ক্ষেত্রে জুম‘আর খুতবা চলাকালি সময়ে অসংখ্য মাইল দূর থেকে হযরত সারিয়া (رضي الله عنه) কে হযরত উমর (رضي الله عنه) করেছেন।
❏ আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় লিখেন-
فِيهِ أَنْوَاعٌ مِنَ الْكَرَامَةِ لِعُمَرَ: كَشْفُ الْمَعْرَكَةِ وَإِيصَالُ صَوْتِهِ وَسَمَاعُ كُلٍّ مِنْهُمْ لِصَيْحَتِهِ وَفَتْحُهُمْ وَنَصْرُهُمْ بِبَرَكَتِهِ
-‘‘এটি হযরত উমর (رضي الله عنه)-এর কারামতের একটি, মহান রব তাঁর কাছে যুদ্ধের রণক্ষেত্র উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, তাঁর আওয়াজকে তাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধ ক্ষেত্রের সকলেই খুব ভালভাবেই তাঁর আওয়াজ শুনেছেন, মুসলমানগণ যুদ্ধে বিজয় লাভ করেছেন এবং আর যুদ্ধে সাহায্য প্রাপ্ত হয়েছেন হযরত উমর (رضي الله عنه)-এর বারকতে।’’ ২৭
{২৭. খতিব মোল্লা আলী ক্বারী, মেরকাত শরহে মিশকাতঃ ৯/৩৮৪২পৃ. হা/৫৯৫৪}
বুঝা গেল ওলীদের কারামত এবং কাশ্ফ প্রমাণিত। ২৮
{ ২৮. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
সবচেয়ে বড় মুফাস্সির
____________________
সবচেয়ে বড় মুফাস্সির-
❏ ইমাম আহমদ (رحمة الله) সংকলন করেন-
عَنِ ابْنِ هُبَيْرَةَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ كَانَ يَقُولُ: مَنْ كَانَ سَائِلًا عَنْ شَيْءٍ مِنَ الْقُرْآنِ، فَلْيَسْأَلْ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ
-‘‘হযরত ইবনু হুবায়রা (رحمة الله) বলেন, নিশ্চয়ই আমিরুল মু‘মিনীন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (رضي الله عنه) বলতেন, তোমাদের কোরআনের বিষয়ে কারও কোন প্রশ্ন থাকলে তোমরা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (رضي الله عنه)-এর কাছ থেকে জিজ্ঞাস করে নাও।’’ ২৯
{২৯. ইমাম আহমদ, ফাযায়েলুস সাহাবা, ২/৯৬৭পৃ. হাদিস নং.১৮৯৩, ইমাম ইবনে আসেম, আহাদ ওয়াল মাসানী, ১/২৮৬পৃ. হাদিস/৩৬০}
আক্বিদা
তাই আমরা বুঝি সাহাবায়ে কিরামদের মাঝে এটা সুপ্রসিদ্ধ ছিল যে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (رضي الله عنه) হলেন সবচেয়ে বড় মুফাস্সির। ৩০
{ ৩০. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
শাফায়াত করার অধিকার যারা পাবেন
____________________
আমিরুল মু‘মিনীন হযরত ‘ওসমান যিন্নূরাইন (رضي الله عنه)এর আক্বীদা
শাফায়াত করার অধিকার যারা পাবেন-
❏ আমিরুল মু‘মিনীন হযরত ‘ওসমান ইবনে আফ্ফান (رضي الله عنه) বলেন, আল্লাহর প্রিয় হাবিব (ﷺ) ইরশাদ করেন-
يَشْفَعُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثَلَاثَةٌ: الْأَنْبِيَاءُ، ثُمَّ الْعُلَمَاءُ، ثُمَّ الشُّهَدَاءُ
-‘‘কিয়ামতের ময়দানে তিন ধরনের ব্যক্তিরা সুপারিশ করবে, প্রথমে নবীগণ, তারপর আলেমগণ, তারপর শহীদগণ।’’ ৩১
{৩১. ইমাম ইবনে মাযাহ, আস-সুনান, হা/৪৩১৩, পরিচ্ছেদ: بَابُ ذِكْرِ الشَّفَاعَةِ, ইমাম সুয়ূতি, জামেউস সগীর, হা/১৪৫৬৫, তিনি বলেন, এ হাদিসটি ‘হাসান’। ইমাম আজরী, আশ-শারিয়্যাহ, ৩/১২৪৬ পৃ. হা/৮১৫, ইমাম ইবনুল র্বা, জামিউল বায়ানুল ইলমি ওয়া ফাদ্বলিহি, ১/১৪৯ পৃ. হা/১৫২, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, হা/৫৬১১, শায়খ ইউসুফ নাবহানী, ফতহুল কাবীর, ৩/৩৯৮ পৃ. হা/১৪৪৩৭, ইমাম ইবনে আদি, আল-কামিল, ৬/৪৬১ পৃ. ক্রমিক. ১৪০৬, মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ১৪/৪০১ পৃ. হা/৩৯০৭২, আল্লামা আজলূনী, কাশফুল খাফা, ২/৩৯৮ পৃ. হা/৩২৫৯, মোল্লা আলী ক্বারী, মেরকাত, ৮/৩৫৭৪ পৃ. হা/৫৬১১, আল্লামা মানাভী (رحمة الله) এ হাদিস প্রসঙ্গে লিখেন- وَاِسْنَادَهُ حَسَنٌ -‘‘এ সনদটি ‘হাসান’ পর্যায়ের। (মানাভী, তাইসির, ২/৫০৮ পৃ.)}
আক্বিদা
এ হাদিস থেকে জানতে পারলাম যে হাশরের ময়দানে আমাদের নবী (ﷺ)ই শুধু নন বরং তাঁর উম্মাত থেকে অনেকেও শাফায়াত করার অধিকার লাভ করবেন।
❏ আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) লিখেন-
وَفِي الْعَطْفِ بِثُمَّ دَلَالَةٌ صَرِيحَةٌ عَلَى تَفْضِيلِ الْعُلَمَاءِ عَلَى الشُّهَدَاءِ
-‘‘এখানে প্রিয় নবী (ﷺ) আলেমদের পরে আতফ করে শহীদগণের কথা বলেছেন, এর দ্বারা এ বিষয়টি প্রমাণিত হয় যে আলেমদের মর্যাদা শহীদগণের উপরে।’’ ৩২
{ ৩২. মোল্লা আলী ক্বারী, মেরকাত, ৮/৩৫৭৪ পৃ. হা/৫৬১১}
বুঝা গেল শাফায়াত প্রমাণিত বিষয়। ৩৩
{৩৩. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
ইসলামে ঈদ শুধু দুটিতেই সীমাবদ্ধ নয়
____________________
ইসলামে ঈদ শুধু দুটিতেই সীমাবদ্ধ নয়-
❏ ইমাম বুখারী (رحمة الله) সংকলন করেন-
قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: ثُمَّ شَهِدْتُ العِيدَ مَعَ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، فَكَانَ ذَلِكَ يَوْمَ الجُمُعَةِ، فَصَلَّى قَبْلَ الخُطْبَةِ، ثُمَّ خَطَبَ فَقَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ هَذَا يَوْمٌ قَدِ اجْتَمَعَ لَكُمْ فِيهِ عِيدَانِ
-‘‘তাবেয়ী আবূ উবায়দা (رحمة الله) বলেন, তারপর আমি ‘ওসমান ইবনে আফ্ফান (رضي الله عنه)-এর সাথে ঈদের দিন ঈদের নামাযে উপস্থিত হলাম, আর সে দিনটি ছিল জুম‘আর দিন। অতঃপর তিনি খুতবার পূর্বে জুম‘আর নামায পড়ালেন। তারপর খুতবা শুরু করলেন, অতঃপর বললেন, হে মানুষ সকল! নিশ্চয় মহান রব আজকে আমাদের জন্য দুটি ঈদকে একত্রিত করেছেন।’’ ৩৪
{৩৪. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ৭/১০৩ পৃ. হা/৫৫৭২, ইমাম তাহাভী, শরহে মাশকালুল আছার, ৩/১৯২ পৃ. হা/১১৫৬, ইমাম বায়হাকী, আস-সুনানুল কোবরা, ৩/৪৪৫ পৃ. হা/৬২৯২, ইমাম যায়লাঈ, নাসবুর রায়্যাহ, ২/২২৫ পৃ.}
আক্বিদা
বুঝা গেল, ইসলামে দুটি ঈদই সীমাবদ্ধ নয়, জুম‘আর দিনসহ আরও অনেক ঈদ রয়েছে। তাই যারা বলে থাকেন ইসলামে দুটি ঈদ ছাড়া আর কোন ঈদ নেই তারা জাহেল বা অজ্ঞ। ৩৫
{৩৫. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
উম্মতে মুহাম্মাদীর মর্যাদা
____________________
উম্মতে মুহাম্মাদীর মর্যাদা-
❏ ইমাম আবু দাউদ (رحمة الله)সহ আরও অনেকে সংকলন করেন-
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ كَقِيَامِ نِصْفِ لَيْلَةٍ، وَمَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ وَالْفَجْرَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ كَقِيَامِ لَيْلَةٍ
-‘‘হযরত ‘ওসমান ইবনু আফ্ফান (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ইশার নামায জামা‘আতের সাথে আদায় করলো সে যেন অর্ধ রাত্রি ইবাদত করলো। আর যে ব্যক্তি ইশা এবং ফজরের নামায জামা‘আতের সাথে আদায় করলো সে যেন সারা রাত ইবাদত করলো।’’ ৩৬
{৩৬. ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান, ১/১৫২ পৃ. হা/৫৫৫, সহীহ ইবনে খুজায়মা, হা/১৪৭৩, সুনানে দারেমী, ২/৭৮০ পৃ. হা/১২৬০, ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, ১/৪৫৪ পৃ. হা/৬৫৬, পরিচ্ছেদ: بَابُ فَضْلِ صَلَاةِ الْعِشَاءِ وَالصُّبْحِ فِي جَمَاعَةٍ , ইমাম খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ১/১৯৮ পৃ. হা/৬৩০, ইমাম বাগভী, শরহে সুন্নাহ, ২/২৩১ পৃ. হা/৩৮৫}
আক্বিদা
আমাদের নবীর পূর্বের সকল নবীর শরীয়ত ছিল যে, যে যতটুকু সময় বা বছর ইবাদত করবে সে ততটুকু সময় বা বছরই ইবাদতের সাওয়াব পাবে, কিন্তু উম্মাতে মুহাম্মাদীর বেলায় ভিন্ন। তারা অল্প ইবাদতেও অধিক সাওয়াব লাভ করে থাকেন, তার কারণ তারা সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর উম্মত। ৩৭
{৩৭. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
জানাযা ‘নামায’ এবং তার তাকবীরের সঠিক সংখ্যা
____________________
জানাযা ‘নামায’ এবং তার তাকবীরের সঠিক সংখ্যা-
❏ ইমাম ইবনে মাযাহ (رحمة الله) সংকলন করেন-
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ: أَنَّ النَّبِيَّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - صَلَّى عَلَى عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُونٍ وَكَبَّرَ عَلَيْهِ أَرْبَعًا
-‘‘হযরত উসমান ইবনে আফ্ফান (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় নবী কারিম (ﷺ) সাহাবী উসমান ইবনে মাযউন (رضي الله عنه)-এর জানাযার নামায চার তাকবীরে আদায় করেন।’’ ৩৮
{৩৮. ইমাম ইবনে মাযাহ, আস-সুনান, ১/৪৮১ পৃ. হা/১৫০২, হাদিসটির সনদ ‘হাসান’।}
আক্বিদা
সাহাবায়ে কিরামগণের আক্বিদা ছিল জানাযা দোয়া নয় বরং নামায, এজন্যই হযরত ওসমান (رضي الله عنه) (صَلَّى) শব্দ ব্যবহার করেছেন। তাই যারা সাহাবিদের বিরোদ্ধে আক্বিদা পোষণ করেন তারা সবাই জাহান্নামী ৭২ দলের অর্ন্তভুক্ত। এ হাদিস থেকে আরও বুঝতে পারলাম যে, জানাযার নামাযের তাকবিরের সংখ্যা চারটি। ৩৯
{৩৯. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
পূণ্য কর্ম দ্বারা গুণাহ মিটিয়ে দেয়া
____________________
পূণ্য কর্ম দ্বারা গুণাহ মিটিয়ে দেয়া-
❏ হযরত ‘ওসমান ইবনু আফ্ফান (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রিয় নবী রাসূলে আরাবী (ﷺ) বলেন-
مَنْ تَوَضَّأَ لِلصَّلَاةِ فَأَسْبَغَ الْوُضُوءَ، ثُمَّ مَشَى إِلَى الصَّلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ فَصَلَّاهَا مَعَ النَّاسِ أَوْ مَعَ الْجَمَاعَةِ أَوْ فِي الْمَسْجِدِ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ ذُنُوبَهُ
-‘‘যে ব্যক্তি নামাযের জন্য উত্তমভাবে ওযূ করবে তারপর ফরজ নামাযের জন্য মানুষের সাথে বা জামা‘আতের সাথে অথবা মসজিদে হেটে যাবে মহান প্রতিপালক তার গুণাহ (ছগীরা) মাফ করে দিবেন।’’ ৪০
{ ৪০. ইমাম নাসাঈ, আস-সুনান, ২/১১১ পৃ. হা/৮৫৬ এবং আস-সুনানুল কোবরা, ১/৪৪৯ পৃ. হা/৯৩১, ইমাম বায়হাকী, আস-সুনানুল কোবরা, ১/১৩১ হা/৩৮৫, ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, ১/২০৮ পৃ. হা/২৩২}
আক্বিদা
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বিদা হল নেক আমল গুণাহকে মিটিয়ে দেয়; কিন্তু কবীরা গুণাহ এর জন্য তাওবা করা শর্ত। ৪১
{৪১. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
দাফনের পরে দোয়া এবং ঈসালে সাওয়াব
____________________
দাফনের পরে দোয়া এবং ঈসালে সাওয়াব-
❏ ইমাম আবু দাউদ (رحمة الله)সহ আরও অনেকে সংকলন করেন-
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذَا فَرَغَ مِنْ دَفْنِ الْمَيِّتِ وَقَفَ عَلَيْهِ، فَقَالَ: اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ، وَسَلُوا لَهُ بِالتَّثْبِيتِ، فَإِنَّهُ الْآنَ يُسْأَلُ
-‘‘হযরত ‘ওসমান ইবনু আফ্ফান (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) কোন এক মায়্যিতের দাফন কার্য শেষ করে সেখানে দাঁড়িয়ে অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং দোয়া কর যেন আল্লাহ এখন তাকে (ফিরিশতাদের প্রশ্নের জবাবে) ঈমানের উপরে অটল রাখেন, কেননা এখনই তাকে প্রশ্ন করা হবে।’’ ৪২
{৪২. সুনানে আবি দাউদ, ৩/২১৫ পৃ. হা/৩২২১, ইমাম বায়হাকী, আল-মা‘রিফাতুল সুনানি ওয়াল আছার, ৫/৩৩৩ পৃ. হা/৭৭৪৭ এবং আস-সুনানুল কোবরা, ৪/৯৩ পৃ. হা/৭০৬৪ এবং আস-সুনানুস সুগরা, হা/১১২২ এবং ইসবাতু আযিবিল কুবুর, ৪৭ পৃ. হা/৪০ এবং দাওয়াতুল কাবীর, ২/২৯৪ পৃ. হা/৬৩৬, ইমাম ইবনে আবদিল র্বা, আল-ইস্তিযকার, ৩/৬২ পৃ. ইমাম হাকেম, আল-মুস্তাদরাক, ১/৫২৬ পৃ. হা/১৩৭২, তিনি বলেন-
هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الْإِسْنَادِ، وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ
-‘‘ইমাম ইবনে সুন্নী, আমালুল ইয়াউম ওয়াল লাইলা, ৫৩৭ পৃ. হা/৫৮৫, ইমাম আহমদ, ফাযায়েলুস সাহাবা, ১/৪৭৫ পৃ. হা/৭৭৩, ইমাম মুকাদ্দাসী, আহাদিসুল মুখতার, ১/৫২২ পৃ. হা/৩৮৮, ইমাম বাগভী, শরহে সুন্নাহ, ৫/৪১৮ পৃ. হা/১৫২৩, ইবনে হাজার আসকালানী, তালখিসুল হবীর, ২/৩১০ পৃ. হা/৭৯৬, শায়খ ইউসুফ নাবহানী, ফতহুল কাবীর, হা/১৭৬০ এবং হা/৯১৫৮, ইমাম ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ১১/১৪৯ পৃ. হা/৮৬৫৮, মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ৭/১৫৮ পৃ. হা/১৮৫১৪ এবং ১৫/৫৫৭ পৃ. হা/৪২১৬০, ইমাম নববী, খুলাসাতুল আহকাম, ২/১০২৮ পৃ. হা/৩৬৭৪, তিনি বলেন- رَوَاهُ أَبُو دَاوُد بِإِسْنَاد حسن. -‘‘ইমাম আবু দাউদ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, আর সনদটি ‘হাসান’।’’ ইমাম মুনযিরী, তারগীব ওয়াত তারহীব, ৪/১৮০ পৃ. হা/৫৩৩৪, আল্লামা মানাভী (رحمة الله) লিখেন- بِإِسْنَاد حسن -‘‘এ সনদটি ‘হাসান’।’’ (মানাভী, তাইসির, ২/২৫৪ পৃ.) }
আক্বিদা
এ হাদিস থেকে বুঝা গেল দাফনের পরে দোয়া করা সুন্নাত, আর এটাই ছিল সাহাবীগণের আক্বিদা।
❏ আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় লিখেন-
وَفِيهِ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ دُعَاءَ الْأَحْيَاءِ يَنْفَعُ الْأَمْوَاتَ خِلَافًا لِلْمُعْتَزِلَةِ
-‘‘এই হাদিস শরীফ হলো এ বিষয়ের দলিল যে, জীবিত ব্যক্তিগণের দোয়া মৃত ব্যক্তিগণের জন্য উপকারী, (এটাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের অভিমত) মুতাযিলারা এর বিপরীত মত পোষণ করে।’’ ৪৩
{৪৩ . আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী, মেরকাত, ১/২১৬ পৃ. হা/১৩৩ এর ব্যাখ্যা।}
❏ আল্লামা সান‘আনী (رحمة الله) লিখেন-
فِيْه دَلِيْل عَلى أَنَّ الدُّعَاء نَافِع لِلْمَيِّتْ
-‘‘এ হাদিস এই বিষয়ের দলিল যে জীবিত ব্যক্তিগণের দোয়া মৃত ব্যক্তিগণের জন্য উপকার করে থাকে।’’
(সান‘আনী, তানভীর শরহে জামেউস সগীর, ৮/৪২৯ পৃ.)
❏ ইমাম তাহাভী (رحمة الله) লিখেন-
(سَلُوْا)) مَعْنَى الدُّعَاءِ
-‘‘তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা কর এর মমার্থ হলো তার জন্য দোয়া।’’
(শরহে তাহাভী, ২/৫৯৮ পৃ.)
উপরের হাদিসে পাক থেকে বুঝা গেল কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দু‘আ করা রাসূল (ﷺ) এবং সাহাবায়ে কিরামের সুন্নাত; এ বিষয়ে আরও অনেক হাদিসে পাক দেখতে পাই। ইমাম তাবরানী (رحمة الله)সহ আরও অনেক ইমাম সংকলন করেন যে হুছাইন ইবনে ওয়াহওয়াহ (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ত্বালহা ইবনু বারা (رضي الله عنه) একদা অসুস্থ হলে রাসূল (ﷺ) তাকে দেখতে এসে বলেছিলেন, ত্বালহা মৃত্যুর রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। অতঃপর তিনি রাতে মারা গেলে তাকে তাড়াহুড়া করে দাফন করে দিলেন। রাসূল (ﷺ) কে ইয়াহুদীদের ভয়ে জানালেন না এই ভয়ে যাতে তার কোন ক্ষতি করে না বসে।
فَأُخْبِرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ أَصْبَحَ فَجَاءَ حَتَّى وَقَفَ عَلَى قَبْرِهِ فَصَفَّ النَّاسَ مَعَهُ ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ فَقَالَ اللَّهُمَّ الْقَ طَلْحَةَ يَضْحَكُ إِلَيْكَ وَتَضْحَكُ إِلَيْهِ
-‘‘অতঃপর সকাল হলে রাসূল (ﷺ) এ সংবাদ শুনতে পান। ফলে তিনি এসে তাঁর কবরের পাশে দাঁড়ান এবং লোকেরাও তাঁর সাথে কাতারবন্দি হয়ে দাঁড়ায়। তারপর তিনি তাঁর দু‘হাত তুললেন এবং দু‘আ করলেন, হে আল্লাহ! ত্বালহার জন্য বংশধর অবশিষ্ট রাখুন, যার জন্য সে আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে আর আপনিও তার প্রতি সন্তষ্ট হবেন।’’ ৪৪
{ ৪৪.ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল কাবীর, ৪/২৮পৃ. হা/৩৫৫৪, ইবনে হাজার আসকালানী, ফতহুল বারী, ৩/১১৮পৃ. }
❏ বিখ্যাত হাফেজুল হাদিস ইমাম নুরুদ্দীন ইবনে হাজার হাইছামী (رحمة الله) এই সনদ প্রসঙ্গে বলেন-
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَإِسْنَادُهُ حَسَنٌ.
-‘‘ইমাম তাবরানী (رحمة الله) এই সনদটি সংকলন করেছেন, আর এর সনদ ‘হাসান’ পর্যায়ের।’’ ৪৫
{৪৫ .ইমাম হাইছামী, মাযমাউয-যাওয়াইদ, ৩/৩৭পৃ. হা/৪১৯৪}
তাই যারা দোয়ার বিরোধীতা করছেন তারা রাসূল (ﷺ) এবং সাহাবীদের বিরোধী। ৪৬
{৪৬. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
হাফিযে কুরআনের সুপারিশ
____________________
হযরত শেরে খোদা, আমিরুল মু‘মিনীন ‘আলী (رضي الله عنه) এর আক্বিদা
হাফিযে কুরআনের সুপারিশ-
❏ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আলী মুরতাদ্বা (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- আল্লাহর প্রিয় রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন-
مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ وَحَفِظَهٌ، أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ، وَشَفَّعَهُ فِي عَشَرَةٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِه، كُلُّهُمْ قَدِ اسْتوْجَبَ النَّارُ
-“যে ব্যক্তি পবিত্র কুর‘আনের তিলাওয়াত করে এবং মুখস্ত রাখে, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করবেন এবং তার পরিবার বর্গ হতে এমন দশজনের পক্ষে তার সুপারিশ গ্রহণ করবেন, যারা জাহান্নামের সম্পূর্ণ উপযুক্ত হয়েছিল।” ৪৭
{৪৭ . ইমাম ইবনে মাজাহ, আস-সুনান, ১/৭৮ পৃ. হা/২১৬, ইমাম মিয্যী, তাহযিবুল কামাল, ২৪/১১১ পৃ. ক্রমিক. ইমাম মুনযিরী, তারগীব ওয়াত, ২/২৩১ পৃ. হা/২২১২, এ হাদিসটি ‘হাসান’ পর্যায়ের; কিন্তু আলবানী এটিকে অত্যন্ত যঈফ বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। আমি অধম এর জবাব আমার লিখিত ‘প্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানোর স্বরূপ উন্মোচন’ তৃতীয় খণ্ডে এ উল্লেখ করেছি।}
‘আক্বিদা
মহান আল্লাহ হাফিযে কুর‘আনকে অনুমতি দেবেন যে, সে ঐসব ব্যক্তিকে বেহেশতে নিয়ে যাওয়ার, যারাই জাহান্নামি হবে। একজন হাফিযে কুর‘আনের যদি এ মর্যাদা, তাহলে সাহিবে কুরআন (কুর‘আন যাঁর উপর অবতারিত) নাবীয়ে দোজাহাঁ আক্বা হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) এর কী মর্যাদা এবং উচ্চতা; তা লিপিবদ্ধ করে ইতি টানার মত না।
❏ ইমামে আহলে সুন্নাত মুজাদ্দিদে দ্বীন ও মিল্লাত মাওলানা শাহ আহমদ রেযা খাঁন ফাযিলে বেরলভী (رحمة الله) বলেনঃ
غمزدوں كو رضا مثرده ديبئ كے ہے
بيكسوں كا سهارا همارا نبى (ﷺ)
‘হে রেযা, অভাগা-দুর্ভাগারে দাওতো বলি
নিঃস্ব অভাবীর সহায় মোদের নবী (ﷺ)।’
শবে বরাতের রোযা
____________________
শবে বরাতের রোযা-
❏ হযরত আলী (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন-
إِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، فَقُومُوا لَيْلَهَا وَصُومُوا نَهَارَهَا، فَإِنَّ اللَّهَ يَنْزِلُ فِيهَا لِغُرُوبِ الشَّمْسِ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا، فَيَقُولُ: أَلَا مِنْ مُسْتَغْفِرٍ لِي فَأَغْفِرَ لَهُ أَلَا مُسْتَرْزِقٌ فَأَرْزُقَهُ أَلَا مُبْتَلًى فَأُعَافِيَهُ أَلَا كَذَا أَلَا كَذَا، حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ
-‘‘যখন শাবানের ১৫ তারিখ আসবে তখন রাতে তোমরা সালাত আদায় করবে এবং দিনে রোযা রাখবে। আল্লাহর রহমত এ রাতে সূর্যাস্তের সাথে সাথে প্রথম আকাশে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন কেউ আছ কি? ক্ষমা চাইলে আমি গুনাহ ক্ষমা করে দেব। কেউ রোগাগ্রস্ত আছ কি? (রোগ মুক্তি প্রার্থনা করলে) আমি আরোগ্য দান করবো। কেউ রিযিক চাওয়ার আছ কি? আমি তোমাদেরকে রিযিক (জীবন উপকরণ) দেব। কেউ আছ কি? কেউ আছ কি? এভাবে ফজর পর্যন্ত ঘোষণা আসতে থাকে।’’ ৪৮
{৪৮. সুনানে ইবনে মাযাহ, ১/৪৪৪ পৃ. হা/১৩৮৮, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ১/৪০৯ পৃ. হা/১৩০৮, ইমাম মুনযিরী, তারগীব ওয়াত তারহীব, ২/৭৪ পৃ. হা/১৫৫০, এ হাদিস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমার লিখিত ‘প্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানোর স্বরূপ উন্মোচন’ ১ম খণ্ড দেখুন।}
আক্বিদা
এ হাদিস থেকে বুঝতে পারলাম শবে বরাতে রোজা রাখা প্রিয় নবীর আদেশ, আর এটি বর্ণনা করেছেন খুলাফায়ে রাশেদীনের একজন। এ হাদিস থেকে বুঝা গেল ঐ সময়ে আল্লাহর এক বিশেষ রহমতের দৃষ্টি বান্দার উপরে দান করা হয়। ৪৯
{৪৯. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
শরীয়ত প্রণেতা এবং উম্মতের দরদি
____________________
শরীয়ত প্রণেতা এবং উম্মতের দরদি-
❏ ইমাম বুখারী, তাবরানী (رحمة الله)সহ আরও অনেকে সংকলন করেন-
عَنْ عَلِيٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ مَعَ كُلِّ وُضُوءٍ
-‘‘হযরত আলী (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, আমি যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টের খেয়াল না করতাম, তাহলে আমি তাদের প্রত্যেক ওযূর সাথে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’’ ৫০
{৫০ . ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল আওসাত, ২/৫৭ পৃ. হা/১২৩৮, ইমাম মুনযিরী, তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/১০০ পৃ. হা/৩২০, তিনি বলেন- بِإِسْنَاد حسن -‘‘এ সনদটি ‘হাসান’।}
আক্বিদা
এ হাদিস থেকে বুঝা গেল শরিয়তের যে কোন ফরজ, ওয়াজিব, হালাল, হারাম ইত্যাদি বিষয়ের আদেশ দেওয়ার ইখতিয়ার রাসূল (ﷺ)-এর রয়েছে, আর এ কারনেই তিনি উম্মতের জন্য কঠিন হবে বলে প্রত্যেক ওযূর সাথে মিসওয়াককে আবশ্যক করেননি। ৫১
{৫১ . সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
জানাযার নামাযের পর দোয়া করা
____________________
জানাযার নামাযের পর দোয়া করা-
❏ ইমাম বায়হাকী (رحمة الله) সংকলন করেন-
عَنِ الْمُسْتَظِلِّ، أَنَّ عَلِيًّا رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: صَلَّى عَلَى جِنَازَةٍ بَعْدَ مَا صُلِّيَ عَلَيْهَا
-‘‘হযরত মুসতাযিল ইবনে হুসাইন (رحمة الله) বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই আলী (رضي الله عنه) এক জানাযার নামায আদায় করেন অতঃপর আবার তার জন্যে দোয়া করেন।’’ ৫২
{৫২. ইমাম বায়হাকী, আস-সুনানিল কোবরা, ৪/৭৪ পৃ. হা/৬৯৯৬।}
আক্বিদা
এ হাদিস থেকে বুঝা গেল খুলাফায়ে রাশেদীনগণ জানাযার পর দোয়া করতেন ও এটাকে উত্তম মনে করতেন এবং মৃত ব্যক্তির জন্য উপকারি মনে করতেন। ৫৩
{৫৩ . সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
গায়বে সংবাদের মাধ্যমে মুনাফিক মহিলার পরিচয় প্রদান
____________________
গায়বে সংবাদের মাধ্যমে মুনাফিক মহিলার পরিচয় প্রদান-
❏ ইমাম বুখারী (رحمة الله)সহ আরও অনেকে সংকলন করেন-
عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبَا مَرْثَدٍ الغَنَوِيَّ، وَالزُّبَيْرَ بْنَ العَوَّامِ، وَكُلُّنَا فَارِسٌ، قَالَ: انْطَلِقُوا حَتَّى تَأْتُوا رَوْضَةَ خَاخٍ، فَإِنَّ بِهَا امْرَأَةً مِنَ المُشْرِكِينَ، مَعَهَا كِتَابٌ مِنْ حَاطِبِ بْنِ أَبِي بَلْتَعَةَ إِلَى المُشْرِكِينَ فَأَدْرَكْنَاهَا تَسِيرُ عَلَى بَعِيرٍ لَهَا، حَيْثُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقُلْنَا: الكِتَابُ، فَقَالَتْ: مَا مَعَنَا كِتَابٌ، فَأَنَخْنَاهَا فَالْتَمَسْنَا فَلَمْ نَرَ كِتَابًا، فَقُلْنَا: مَا كَذَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لَتُخْرِجِنَّ الكِتَابَ أَوْ لَنُجَرِّدَنَّكِ، فَلَمَّا رَأَتِ الجِدَّ أَهْوَتِ الى حُجْزَتِهَا، وَهِيَ مُحْتَجِزَةٌ بِكِسَاءٍ، فَأَخْرَجَتْهُ
-“হযরত আলী (رضي الله عنه) বলেন, রাসূল (ﷺ) আমাকে ও যুবায়ের ইবনে আওয়াম এবং মিকদাদ (رضي الله عنه) কে কোথাও পাঠয়েছিলেন এবং আমরা সকলেই ছিলাম অশ্বারোহী। তিনি আমাদেরকে বললেন, তোমরা যাও। তোমরা যেতে যেতে ‘রওজায়ে খাখ’ নামক স্থানে পৌঁছে একজন মহিলাকে দেখতে পাবে। তার নিকট (মক্কায়) মুশরিকদের কাছে লিখিত হাতিব ইবন আবূ বালতার একটি পত্র আছে (সে পত্রখানা ছিনিয়ে আনবে)। হযরত আলী (رضي الله عنه) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশিত স্থানে গিয়ে তাকে ধরে ফেললাম। তখন সে একটি উটের উপর আরোহন করে পথ অতিক্রম করছিল। আমরা বললাম, পত্রখানা আমাদের নিকট অর্পন কর। সে বলল, আমার কাছে কোন পত্র নেই। আমরা তখন তার উটটিকে বসিয়ে তার তল্লাশী নিলাম। কিন্তু পত্রখানা উদ্ধার করতে পারলাম না। আমরা বললাম, রাসূল (ﷺ) মিথ্যা বলেননি। তোমাকে পত্রখানা বের করতেই হবে। নতুবা আমরা তোমাকে উলঙ্গ করে ছাড়বো। যখন আমাদের কঠোর মনোভাব লক্ষ্য করলো তখন স্ত্রীলোকটি তার কোমরের পরিধেয় বস্ত্রের গিঁটে কাপড়ের পুঁটলির মধ্য থেকে পত্রখানা বের করে দিল।” ৫৪
{৫৪. সহীহ বুখারী, ৫/৭৭ পৃ. হা/৩৯৮৩, পরিচ্ছেদ: بَابُ فَضْلِ مَنْ شَهِدَ بَدْرًا এবং হা/৬২৫৯, ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, ৪/১৯৯২ পৃ. হা/২৪৯৪, ইমাম বায়হাকী, মা‘রিফাতুল সুনানি ওয়াল আছার, ১৩/৩৪৭ পৃ. হা/১৮৪৪৭ এবং আস-সুনানুল কোবরা, ৯/২৪৬ পৃ. হা/১৮৪৩৪, ইমাম তাহাভী, শরহে মুশকিলুল আছার, হা/৪৪৩৭, ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, ২/৩৭ পৃ. হা/৬০০, ইমাম নাসাঈ, আস-সুনানুল কোবরা, হা/১১৫২১, ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান, ৫/২৬৪ পৃ. হা/৩৩০৫, মুসনাদে আবি ই‘য়ালা, হা/৩৯৪, মুসনাদে বায্যার, হা/৫৩০, সুনানি আবি দাউদ, ৩/৪৭ পৃ. হা/২৬৫০}
আক্বিদা
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! এ হাদিস থেকে বুঝা যায়, রাসূল (ﷺ) মহিলাটিকে কোথায় পাওয়া যাবে, কিসের উপর পাওয়া যাবে, তার কাছে পত্র আছে, সেটা কার লিখিত পত্র এবং এটা কাদের উদ্দেশ্যে লিখিত তা সব বিস্তারিত বলে দিলেন। মহিলাটি অস্বীকার করার পর সাহাবায়ে কিরামের মজবুত ঈমানী কন্ঠে বললেন-
فَقُلْنَا: مَا كَذَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
-‘‘রাসূল (ﷺ) মিথ্যা বলেননি।’’ পঞ্চ ইন্দিয়ের বাহিরে থাকা স্বত্তে¡ও সমস্ত সাহাবায়ে কিরাম বলেননি যে, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এটিতো ইলমে গায়ব আপনি বলছেন কিভাবে! এটাই ছিল সাহাবায়ে কিরামের আক্বিদা। ৫৫
{৫৫ . সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
পর্বতমালায় রাজত্ব ও অদৃশ্য জ্ঞান-
____________________
হযরত সিদ্দিকে আকবর, ফারুকে আযম, ‘ওসমান যিন্নূরাইন (রা.) এর আক্বীদা
পর্বতমালায় রাজত্ব ও অদৃশ্য জ্ঞান-
বিশিষ্ট সাহাবিয়ে রাসূল (ﷺ), খাদেমুর রাসূল (ﷺ) সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবন মালিক (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- একদিন রাসূলে পাক (ﷺ) হযরত আবু বকর, হযরত উমর (رضي الله عنه) এবং হযরত ওসমান (رضي الله عنه) কে সাথে নিয়ে উহুদ পর্বতে চড়ে বসলে পাহাড় কম্পন শুরু করে। তখন নবীজি (ﷺ) তাঁর পা মুবারক পাহাড়ে মেরে ইরশাদ করেন-
اثْبُتْ أُحُدُ فَإِنَّمَا عَلَيْكَ نَبِيٌّ، وَصِدِّيقٌ، وَشَهِيدَانِ
-‘‘হে ওহুদ শৃঙ্গধর, থাম! তোমার উপর একজন নবী, একজন সিদ্দিক, আর দু’জন শহীদ আরোহিত।’’ ৫৬
{৫৬. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ৫/৯ পৃ. হা/৩৬৭৫, হা/৩৬৮৬, খতিব তিবরিযি, মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩/১৭১৭পৃ. হা/৬০৮৩, ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, ৩৭/৪৮৬ পৃ. হা/২২৮১১, ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান, ৬/৬৫ পৃ. হা/৩৬৯৭, মুসনাদে আবি ই‘য়ালা, হা/২৯১০, সুনানি আবি দাউদ, ৪/২১২ পৃ. হা/৪৬৫১, সহীহ ইবনে হিব্বান, ১৪/৪১৬ পৃ. হা/৬৪৯২}
‘আক্বীদা
হুযুর আক্বা আলাইহিস সালামের কর্তৃত্ব পর্বতমালার উপর এবং পাহাড়ও তাঁর নির্দেশ পালন করে থাকে। আর সাহাবায়ে কিরামও এই ‘আক্বিদা পোষণ করতেন যে, তিনি (ﷺ) উম্মাতের অন্তিম অবস্থা কীরূপ হবে সে ব্যাপারে সম্যক অবগত। শহিদকে তখনই শহিদ নামে আখ্যায়িত করা হয়, যখন তার শরীর থেকে প্রাণকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। আর যদি যুদ্ধক্ষেত্রে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং চিকিৎসার মাধ্যমে নিরোগ হয়, তাহলে তাঁকে শহিদ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় না; বরং ‘গাযি’ হিসেবে। আর যুদ্ধ সম্পর্কীয় কোনো অবদানে শারীরিক বন্দিশালা হতে রূহ যখন উড্ডয়ন করে, তখনই তাকে শহিদ নামে আখ্যায়িত করা হয়। তিনজন খলিফা পাশে দণ্ডায়মান আর নবীজি (ﷺ) হযরত উমর এবং ‘ওসমান (رضي الله عنه) কে শহিদ বলে সম্বোধন করে বসলেন। তাঁরা উভয়ের মধ্য হতে কেউ জানতে চাননি যে, হে আল্লাহর হাবীব! আপনি কীভাবে শহিদ বলে আখ্যায়িত করলেন? তাঁদের জিজ্ঞাসা না করাটা এ কথা প্রমাণ করে যে, তাঁদের আক্বিদা ছিল যে, নবীজি (ﷺ) জানেন- উম্মতের তিরোধান কীরূপ হবে।
সফরের উদ্দেশ্যে মাজার যিয়ারতের বৈধতা
____________________
সফরের উদ্দেশ্যে মাজার যিয়ারতের বৈধতা-
❏ ইমাম আব্দুর রায্যাক (رحمة الله)সহ আরও অনেকে সংকলন করেন-
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْتِي قُبُورَ الشُّهَدَاءِ عِنْدَ رَأْسِ الْحَوْلِ، فَيَقُولُ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ. قَالَ: وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ يَفْعَلُونَ ذَلِكَ
-“হযরত মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত্-তায়মী (رحمة الله) বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) প্রতি বছরের শুরুতে উহুদের যুদ্ধে শহিদগণের মাজারে আসতেন। অতঃপর বলতেন, ‘আস্-সালামু আলাইকুম বিমা ছাবারতুম ফানি‘মা উকবাদ্ দারি’। তিনি বলেন, হযরত আবু বকর সিদ্দিক (رضي الله عنه), হযরত উমর (رضي الله عنه) এবং হযরত উসমান (رضي الله عنه) অনুরূপ করতেন।” ৫৭
{৫৭ . ইমাম ইবনে জারির আত-তাবারী, তাফসিরে তাবারী, হা/২০৩৪৫, সূরা রা’দ এর ২৪ নং আয়াতের ব্যাখ্যায়; মুসান্নাফে আব্দুর রায্যাক, ৩য় খণ্ড, হা/৬৭১৬; তাফসিরে ছা’লাভী, ৫/২৮৭ পৃ:; তাফসিরে নিছাপুরী, ২/২২৭ পৃ:; তাফসিরে কুরতবী, ৯/৩১২ পৃ:; তাফসিরে আবুস সাউদ, ৫/১৮ পৃ:; তাখরিজু আহাদিছুল কাশ্শাফ, হা/৬৫১}
এই হাদিসের রাবী হযরত মুহাম্মদ ইবনু ইব্রাহিম আত-তায়মী (رحمة الله) একজন নির্ভরযোগ্য তাবেয়ী।
❏ ইমাম সামসুদ্দিন যাহাবী (رحمة الله) তার সম্পর্কে লিখেন-
مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم التَّيْمِيّ من ثِقَات التَّابِعين
-“মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত তায়মী তিনি বিশ্বস্ত তাবেয়ীগণের একজন।” ৫৮
{৫৮. ইমাম যাহাবী, আল মুগনী ফিদ-দোয়াফা, ২/৫৪৪ পৃ. ক্রমিক. ৫২০৩}
❏ আল্লামা হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (رحمة الله) বলেন-
قلت: وثقة الناس واحتج به الشيخان
-“আমি (ইবনে হাজার আসকালানী) বলছি, লোকেরা তাকে বিশ্বস্ত বলেছেন। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম (رحمة الله) তার উপর নির্ভর করেছেন।” ৫৯
{৫৯ . ইমাম আসকালানী, লিসানুল মিযান, ৫/২০ পৃ:}
❏ ইমাম ইজলী (رحمة الله) {ওফাত ২৬১ হিজরী} তদীয় কিতাবে বলেন-
محمد بن إبراهيم التيمي: مدني ثقة.
-“মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত্-তায়মী মাদানী’ বিশ্বস্ত রাবী।” ৬০
{৬০. ইমাম ইজলী, তারিখুস সিক্বাত, ক্রমিক. ১৪৩২}
সুতরাং ‘মুহাম্মদ ইব্রাহিম আত্ তায়মী (رحمة الله)’ এর এ হাদিসটি মুরসাল সহীহ।
আক্বিদা
এ সহীহ্ রেওয়াত হতে জানা যায় যে, প্রিয় নবীজি (ﷺ) প্রতি বছরের শুরুতে নির্দিষ্ট দিনে উহুদের যুদ্ধের শহিদগণের মাজার যিয়ারত করতেন, এমনকি হযরত আবু বকর সিদ্দিক (رضي الله عنه), হযরত উমর (رضي الله عنه) ও হযরত উসমান (رضي الله عنه) এরূপ আমল করেছেন। সুতরাং নির্দিষ্ট দিনে কবর যিয়ারতে যাওয়া স্বয়ং রাসূলে পাক (ﷺ) ও তিন খলিফার মুস্তাহাব পর্যায়ের সুন্নাত। ৬১
{৬১. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
দান ও বদান্যতা
____________________
হযরত ‘আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আব্বাস (رضي الله عنه) এর আক্বীদা
দান ও বদান্যতা-
হযরত ‘আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- হুযূর আঁক্বা (ﷺ) কল্যাণের পথে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। তাঁর দানশীলতার দিকটি সর্বাধিক প্রকাশিত হতো রমযান মাসে। হযরত জিবরা‘ঈল (عليه السلام) প্রতি বছর মাহে রমযানের শেষ অবধি তাঁর সাথে সাক্ষাতে আসতেন। রাসূলে কারীম (ﷺ) তাঁকে [হযরত জিবরা‘ঈল আ. কে] পবিত্র কুরআন পাঠ করে শুনাতেন।
فَإِذَا لَقِيَهُ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ، كَانَ أَجْوَدَ بِالخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ المُرْسَلَةِ
-“হযরত জিবরাঈল (عليه السلام) যখন নবীজি (ﷺ) এর সাথে সাক্ষাতে মিলিত হতেন, তখন তিনি বৃষ্টি বর্ষণের ন্যায় কল্যাণমুখী বড় দানবীর হিসেবে থাকেন।” ৬২
{৬২. ইমাম মুসলিম, আস-সাহীহ, ৪/১৯৯৫ পৃ. হা/২৫০১, পরিচ্ছেদ: بَابُ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدَ النَّاسِ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ , ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, হা/১৯০২, সহীহ ইবনে খুজায়মা, হা/১৮৮৯, ইমাম হাকেম, আল-মুস্তাদরাক, ২/৬৭০ পৃ. হা/৪২২৩, মুসনাদে আহমদ, হা/২০৪২, ইমাম বায়হাকী, আস-সুনানুল কোবরা, ৪/৫০৩ পৃ. হা/৮৫১৫, সুনানে নাসাঈ, ৪/১২৫ পৃ. হা/২০৯৫ এবং আস-সুনানুল কোবরা, হা/২৪১৬, মুসনাদে আবি ই‘য়ালা, হা/২৫৫২, ইমাম আবু নুয়াইম ইস্পাহানী, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৫/৩৬২ পৃ. , ইমাম বুখারী, আদাবুল মুফরাদ, হা/২৯২}
‘আক্বীদা:
বাতাসের অবস্থান সমগ্র জায়গাজুড়ে। আর নবীয়ে কায়েনাতের (ﷺ) দানশীলতা বাতাস অপেক্ষা ঢের বেশিই তেজোদ্দীপ্ত। তাই তাঁর অনুদান-অনুগ্রহ সমগ্র সৃষ্টির প্রান্তে প্রান্তে বিদ্যমান। দানশীলতা একটি গুণ। যে স্বত্তাধিকারির জন্য এটি একটি গুণের স্তর। আর যাঁর গুণের এই মর্যাদা তাহলে ঐ গুণসমৃদ্ধ সত্ত্বার প্রাচুর্যতার মর্যাদা কী পাবে!
جس طرف اٹہ گئ دم مي دم آگيا
اس نگاه عنايت پہ لاكهوں سلام
هاتہ جس سمت اٹها تو غنى كر ديا
موج بحر سماحت پہ لاكهوں سلام
উঠে যার তবে দয়া, হয় মুহুর্তে আগাম
আনুকূল্য চাহনীর ধারে ঐ, লাখো সালাম।
যেদিকে উঠে হাত করে ধনবান
সে সায়র ঢেউয়ে ঢেউয়ে লাখো সালাম।
দানশীলতা ও অনুদান
____________________
দানশীলতা ও অনুদান-
❏ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবীজি (ﷺ) এর অতুলনীয় অভ্যাস ছিল-
لِأَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يُسْأَلُ شَيْئًا إِلَّا قَالَ: نَعَمْ
-‘‘তিনি কোনো প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা (কিছু তালাশ) কে ফেরত দিতেন না।’’ ৬৩
{৬৩.ইমাম বুখারী, আস-সাহীহ, ৩/২৬ পৃ. হা/১৯০২, ইমাম মুসলিম, আস-সাহীহ, ৪/১৮০৩ পৃ. হা/২৩০৮, ইমাম বায়হাকী, আস-সুনানুল কোবরা, ৭/২২৬ পৃ. হা/১৩৮০০, ইমাম ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ৯/১০৬ পৃ. হা/৬৬৫৫}
‘আক্বিদা
নবীয়েপাক সাহেবে লাওলা-ক (ﷺ) এর রাজ দরবার থেকে কেউ রিক্তহস্তে বিমুখ হয়নি। তাঁর বাদশাহী দ্বার সমগ্র বছরজুড়ে সবার জন্য উন্মুক্ত। বাস্তবিকপক্ষে তাঁর নিকট কোনো কিছুরই স্বল্পতা নেই।
زمانہ نے زمانہ ميں سخى ايسا كهيں ديكها
زباں جس كے سائل نےنهيں آ تے نهيں ديكها
কাল তার মহাকালে দেখেছে বদান্য এমনি কোথা
দেখেনি দানপ্রার্থী মুখবলিতে তাঁর ‘না’ যথার্থতা।
বিকৃত মস্তিস্ক শিশু
____________________
বিকৃত মস্তিস্ক শিশু-
হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক মহিলা তার এক বিকৃত মস্তিসস্ক শিশু সন্তানকে নিয়ে বারেগাহে রিসালাত-এ উপস্থিত হয়ে নিবেদন করল- হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), আমার এই সন্তান জ্ঞানহারা। সকাল-গৌধুলি সে জ্ঞানলুপ্ত হয়ে পড়ে, অতিশয় উন্মাদনা করে।
فَمَسَحَ رَسُولُ اللَّهِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدْرَهُ وَدَعَا
-‘‘তখন নবীজি (ﷺ) ঐ সন্তানের বক্ষ মর্দন করলেন এবং তার জন্য দু‘আ করলেন।’’ এমন মুহুর্তে ঐ ছেলেটি বমি করে দিল এবং তার পিট থেকে কুকুর ছানা জাতীয় কিছু পেছনের দিকে বের হয়ে পালিয়ে গেল। সাথে সাথে সে সুস্থতা বোধ করল। ৬৪
{৬৪.খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ৩/১৬৬৫ পৃ. হা/৫৯২৩, ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৪/৩৭ পৃ. হা/২১৩৩, ইমাম দারেমী, আস-সুনান, ১/১৭০ পৃ. হা/১৯, ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল কাবীর, ১২/৫৭ পৃ. হা/১২৪৬০, ইমাম ইবনে আবি শায়বাহ, আল-মুসান্নাফ, ৫/৪৭ পৃ. হা/২৩৫৮০}
আক্বিদা
সাহাবায়ে কিরাম আলাইহিমুর রিদ্বওয়ান দুঃখ ও হতাশার নিরসনে রাসূলে খোদা (ﷺ) এর দরবারে উপস্থিতি দিতেন। তিনি (ﷺ) তাদের পক্ষে দু‘আ করতেন। সমস্যা বিদূরিত হয়ে যেত। নবীজি (ﷺ) এর হাত মুবারক-এ আরোগ্যদান নিহিত। তাঁর দোয়ার বদৌলতেই সমূহ বালা মুসিবত দূরীভূত হয়।
বৃক্ষগুচ্ছ কর্তৃক নবীজির হুকুম মান্য করণ
____________________
বৃক্ষগুচ্ছ কর্তৃক নবীজির হুকুম মান্য করণ-
সাহাবিয়ে রাসূল (ﷺ) হযরত ইবনু ‘আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- রাসূলে খোদা (ﷺ) এর রাজদরবারে এক গেঁয়োলোক এসে জিজ্ঞেস করল-
بِمَ أَعْرِفُ أَنَّكَ نَبِيٌّ؟
-‘‘আপনি যে আল্লাহর নাবী, তা তা আমি কীভাবে সত্যায়িত হব?’’ তদুত্তরে নবীজি (ﷺ) ইরশাদ করলেন- এই খেজুর বৃক্ষগুচ্ছকে আহ্বান কর, সেই সাক্ষ্য দেবে যে, আমি আল্লাহর প্রেরিত নাবী কিনা।
فَدَعَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَجَعَلَ يَنْزِلُ مِنَ النَّخْلَةِ حَتَّى سَقَطَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
-আল্লাহর প্রিয়নবী (ﷺ) পার্শ্বে থাকা খেজুর বৃক্ষগুচ্ছকে আহ্বান করলে ঐবৃক্ষ সমূলে দরবারে মোস্তফায় (ﷺ) হাজিরা দিতে সমূহ প্রস্তুতি গ্রহণ করল। নবীজি (ﷺ) বললেন-
قَالَ: ارْجِعْ فَعَادَ، فَأَسْلَمَ الأَعْرَابِيُّ
-“হে বৃক্ষগুচ্ছ, তুমি ফিরে যাও। তখন খেজুরের ঐ বৃক্ষগুচ্ছ আপন অবস্থায় ফিরে এল আর ঐ বেদুইন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ফেললেন।’’ ৬৫
{৬৫. ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান, ৫/৫৯৪ পৃ. হা/৩৬২৮, ইমাম তিরমিযি (رحمة الله) এটিকে সংকলন করে বলেন- هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ -‘‘এই হাদিসটি হাসান, গরীব, সহীহ।’’ ইমাম খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৬৬৬ পৃ. হা/৫৯২৬}
‘আক্বিদা
রাসূলে আকরাম (ﷺ) সমগ্র জাহানের নবী। আর তাঁরই হুকুম সমগ্র পৃথিবীব্যাপী। গাছপালা এবং পাথরাদি তাঁকে চিনেন, জানেন এবং তাঁর নির্দেশনা মান্য করেন। আর যে হতভাগা নিজেকে মুসলিম দাবি করে সরওয়ারে কায়েনাত (ﷺ) কে আদেশ ও নির্দেশদাতা (حَاكِمْ) হিসেবে অমান্য করে তারা হলো বড়ই দুর্ভাগা।
❏ আ‘লা হযরত আযীমুল বরকাত শাহ ইমাম আহমাদ রেযা খাঁন ফাযেলে বেরলভী (رحمة الله) বলেন-
وصلى الله على نور كزوشد نور ہا پيدا
زمين از حب او ساكن فلك در عشق اوشيدا
তিনিই খোদার জ্যোতি, ছায়া কুদরতি
সে তো সবার তরে, তারই তো সবি।
তিনি অতুল অতি, নয় মত তার সৃজনরাজি
না আকাশ না ভুবনরাজি, না তো সময়াদি। ৬৬
{৬৬. হাদাইক্বে বখশিশ।}
দন্ত মোবারকে দীপ্তের হাতছানি
____________________
দন্ত মোবারকে দীপ্তের হাতছানি-
❏ হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-
إِذَا تَكَلَّمَ رُئِيَ كَالنُّورِ يَخْرُجُ مِنْ بَيْنِ ثَنَايَاهُ
-‘‘হুযুর আক্বা ‘আলাইহিমুস সালাম যখনই কথা বলতেন, তাঁর দাঁত মোবারাক হতে আলোকরশ্মি প্রকাশ পেত।’’ ৬৭
{ ৬৭. ইমাম দারিমী, আস-সুনান, ১/২০৩ পৃ. হা/৫৯, ইমাম তিরমিযি, শামায়েলে তিরমিযি, হা/১৪, খাতিব তিবরিযি, মিশকাতুল মাসাবীহ্, ৩/১৬১৪ পৃ. হা/৫৭৯৭}
‘আক্বীদা
রাসূলে খোদা (ﷺ) এর আপাদমস্তক মুবারাক এমন মু‘জিযাসমৃদ্ধ ছিল যে, কথা বলার সময় তার দাঁত মোবারক হতে নুরের ঝলক দীপ্ত হত। অপরাপর বর্ণনামতে- হুযুর (ﷺ) এর মুচকি হাসিতে প্রাচীর বেষ্ঠিত বদ্ধ এলাকাও আলোকিত হয়ে উঠত। ৬৮
{৬৮. ইমাম কাযি আয়াজ, শিফা শরীফ, ১/৩৯ পৃ.}
আল্লামা আব্দুর রহমান জামী (رحمة الله) বলেন-
وصلى الله على نور كزوشد نور ہا پيدا
زمين از حب او ساكن فلك در عشق او شيدا
প্রীতি তাঁর নির্ঝর আলো উদগিরণ
ধরণি প্রেমাকুল আকাশ প্রবণ।
নামাযান্তে উঁচুস্বরে যিকির
____________________
নামাযান্তে উঁচুস্বরে যিকির-
❏ হযরত ইবনু ‘আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন-
أَنَّ رَفْعَ الصَّوْتِ، بِالذِّكْرِ حِينَ يَنْصَرِفُ النَّاسُ مِنَ المَكْتُوبَةِ كَانَ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
-‘‘নবীযুগে ফরয নামাযান্তে উঁচু আওয়াজে যিকিরের প্রচলন ছিল।’’ ৬৯
{৬৯. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ১/১৬৮ পৃ. হা/৮৪১, পরিচ্ছেদ: بَابُ الذِّكْرِ بَعْدَ الصَّلاَةِ , ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, ১/৪১০ পৃ. হা/৫৮৩, মুসনাদে আহমদ, ৫/৪৩৩ পৃ. হা/৩৪৭৮, ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান, ১/২৬৩ পৃ. হা/১০০৩, ইবনে আছির, জামেউল উসূল, হা/৪৩৬৭, মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ৮/২২৮ পৃ. হা/২২৬৭৮}
আক্বিদা
ফরয নামাযের পর আওয়াজের উচ্চতায় যিকির করা বৈধ। এ হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবন হাজার আসকালানি (رحمة الله) বলেন-
وَفِيهِ دَلِيلٌ عَلَى جَوَازِ الْجَهْرِ بِالذِّكْرِ عَقِبَ الصَّلَاةِ
-‘‘এ হাদিসে নামায শেষে যিকির করার বৈধতার বিষয়টি সমুজ্জল।’’ ৭০
{৭০. ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী, ফাতহুল বারী ফী শারহিল বুখারী, ২/৩২৫ পৃ.}
বেহেশতি রমণী
____________________
বেহেশতি রমণী-
হযরত ‘আত্বা ইবন আবু রিবাহ (রাদ্বি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- একদা হযরত ইবনু ‘আব্বাস (رضي الله عنه) আমাকে প্রশ্ন করে বসলেন-
أَلَا أُرِيكَ امْرَأَةً مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ؟
‘আমি কি তোমায় কোন এক জান্নাতি রমণীর দেখিয়ে দেব?’ আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন- ঐ কালো বর্ণের মহিলা সাহাবি, যিনি দরবারে মুস্তফায় এসে প্রার্থনা করেছেন-‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), আমার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে আর আমার অন্তরাত্মা বিষাদগ্রস্থ।’
فَادْعُ اللهَ لِي
-‘আপনি বারেগাহে ইলাহিতে আমার পক্ষে দু‘আ করুন।’
প্রত্তুত্তরে নবীজি (ﷺ) ইরশাদ করলেন-
إِنْ شِئْتِ صَبَرْتِ وَلَكِ الْجَنَّةُ، وَإِنْ شِئْتِ دَعَوْتُ اللهَ أَنْ يُعَافِيَكِ
-‘যদি তুমি চাও ধৈর্য্যধারণ করে জান্নাতে গমন করতে পার নতুবা তোমার পক্ষে আল্লাহর দরবারে দু‘আ করছি, তোমাকে আরোগ্য দান করবেন।’ মহিলা সাহাবি বললেন- আমি ধৈর্য্যধারণ করব তবে আমার অন্তরাত্মা বিষাদগ্রস্থ। এতটুকু দু‘আ করুণ যেন বিষাদগ্রস্থ না হয়। রাসূলে মাকবুল (ﷺ) তার অন্তরাত্মার জন্য দু‘আ করলেন। ৭১
{৭১ .ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, ৪/১৯৯৪ পৃ. হা/২৫৭৬, ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ৭/১১৬ পৃ. হা/৫৬৫২, খতিব তিবরিযি, মিশকাতুল মাসাবীহ, ১/৪৯৬ পৃ. হা/১৫৭৭}
‘আক্বিদা
সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) কে যখন কোনো দুঃখ-দুর্দশা পেয়ে বসত, তখন তাঁরা দরবার মুস্তফায় (ﷺ) এসে উত্তরণের জন্য প্রার্থনা করতেন। আর হুযুর (ﷺ) তাঁদের পক্ষে দু‘আ করলে তাঁদের সমূহ দুঃখ-দুর্দশা দূরীভূত হয়ে যেত। যেহেতু মহান আল্লাহ তাঁকে মুখ্তারে কুল (সমগ্র জাহানের অধিকারপ্রাপ্ত) হিসেবে নির্বাচন করেছেন। ফলে কখনো তিনি জান্নাতও দান করতেন।
كس چيز كى كمى ہے آقا تيرى گلى ميں
دنيا تيرى گلى ميں عقبى تيرى گلى ميں
কী আশীষ কমতি তব গলি ঘিরে
ইই-পর সবটুকু গলি ঘুরে ফিরে।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত এক মাত্র নাজাত প্রাপ্ত দল
____________________
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত এক মাত্র নাজাত প্রাপ্ত দল-
❏ আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কোরআনের সূরা আলে-ইমরানের ১০৬ নং আয়াতে বলেছেন-
يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ
-‘‘সেদিন (কিয়ামতের দিন) কোন কোন মুখ উজ্জ্বল হবে, আর কোন কোন মুখ হবে কালো।’’
❏ সকল দেওবন্দী ও আহলে হাদিসদের মান্যবড় আল্লামা ইবনে কাসির (رحمة الله) পবিত্র কোরআনের এ আয়াতের ব্যাখ্যায় সাহাবি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه)‘র উক্তি বর্ণনা করেন-
وَتَبْيَضُّ وُجُوهُ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ
-‘‘কিয়ামতের দিন যাদের মুখ উজ্জল হবে তারা হল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের অনুসারী।’’ ৭২
{ ৭২. ইবনে কাসির, তাফসীরে ইবনে কাসীর, ২/৭৯পৃ. দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন, প্রকাশ. ১৪১৯হি.}
❏ এছাড়া ইমাম ইবনে আবি হাতেম (رحمة الله) (ওফাত.৩২৭হি.) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় সনদ সহ উল্লেখ করেন এভাবে-
عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ: يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ قَالَ: تَبْيَضُّ وُجُوهُ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ.
-‘‘হযরত সাঈদ ইবনে যুবাইর (رحمة الله) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণনা করেন...কিয়ামতের দিন যাদের মুখ উজ্জ্বল হবে তারাই হলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত।’’ ৭৩
{ ৭৩. ইমাম আবি হাতেম, আত্-তাফসীর, ৩/৭২৯পৃ. হাদিস, ৩৯৫০, ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী, তাফসীরে আদ্-দুররুল মানসূর, ২/২৯১পৃ. দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন।}
❏ আয়াতের ব্যাখ্যায় হাফেযুল হাদিস ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ূতী (رحمة الله) (ওফাত.৯১১হি.) বলেন-
وَأخرج ابْن أبي حَاتِم وَأَبُو نصر فِي الْإِبَانَة وَالْخَطِيْب فِي تَارِيْخه وَالْلَالْكَائِي فِي السُّنَّة عَنْ اِبْنِ عَبَّاسْ فِي هَذِه الْآيَة قَالَ {تبيض وُجُوه وَتسود وُجُوه} قَالَ تَبْيَضُّ وُجُوْه أَهْلِ السُّنَّة وَالْجَمَاعَة وَتَسُوَدُّ وُجُوْهٌ أَهْلِ الْبِدْعِ وَالْضَلَالَةِ
-‘‘ইমাম আবু হাতেম (رحمة الله) তার তাফসীরে, আবু নছর (رحمة الله) তার ইবানাত গ্রন্থে, খতিবে বাগদাদী (رحمة الله) তাঁর তারিখে বাগদাদে, ইমাম লালকায়ী (رحمة الله) তাঁর সুন্নাহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, কিয়ামতের দিন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের মুখ উজ্জ্বল হবে এবং আহলে বিদআতি বা দ্বীন থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মুখ কালো হবে।’’ ৭৪
{৭৪.ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী, তাফসীরে আদ্-দুররুল মানসূর, ২/২৯১পৃ. দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন।}
আক্বিদা
বুঝা গেল সাহাবিদের যুগ থেকেই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আলোচনা ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে এবং যে দলের সফলতার ইঙ্গিত বহন করে মহান আল্লাহর বাণী পবিত্র কোরআন। বুঝা গেল রঈসুল মুফাসসিরীন, মুজতাহিদ ফকিহ হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (رضي الله عنه) সহ সাহাবায়ে কিরামদের আক্বিদা ছিল হাশরের ময়দানে খারিজী, আহলে হাদিসসহ, ৭২ দলের কোন দলের লোকেরই চেহাড়া উজ্জল হবে না, উজ্জল হবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের অনুসারীদের। মাযহাবকে অস্বীকারকারীরা আহলে সুন্নাহ থেকে খারিজ।
❏ হাফেযুল হাদিস আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী (رحمة الله) বলেন-
هُوَ مَذْهَب الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة وَغَيرهم من أهل السّنة وَالْجَمَاعَة
-‘‘চার মাযহাবের মুজতাহিদ ইমামগণ এবং অন্য মুজতাহিদ ফকিহ ইমামগণের মাযহাব হলো আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত।’’ ৭৫
{৭৫ .আইনী, উমদাতুল ক্বারী, ২/২৩৮পৃ.}
তাই যারা মাযহাব মানেন না তারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম‘আত থেকে বহু দূরে। ৭৬
{৭৬ . সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
রাসূল (ﷺ)‘র আগমনের দিনকে কেন্দ্র করে ঈদ উদযাপন
____________________
রাসূল (ﷺ)‘র আগমনের দিনকে কেন্দ্র করে ঈদ উদযাপন-
মহান আল্লাহ তা‘আলা নিয়ামত প্রাপ্তির পর তার শোকরিয়া আদায়ের জন্য মহান রব কুরআনে বহুবার তাগিদ দিয়েছেন। আর আল্লাহর বড় অনুগ্রহ বা নিয়ামত হলো রাসূল (ﷺ)। মহান আল্লাহ কুরআনে ইরশাদ করেন-
قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ
-‘‘হে হাবিব! আপনি বলে দিন আল্লাহর অনুগ্রহ (ইলম) ও তার রহমত (রহমাতাল্লিল আলামিন) প্রাপ্তিতে তাদের মু‘মিনদের খুশি উদ্যাপন করা উচিত এবং তা তাদের জমাকৃত ধন সম্পদ অপেক্ষা শ্রেয়।’’ ৭৭
{৭৭ .সুরা ইউনূছ, আয়াত, ৫৮}
❏ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম সুয়ূতী (رحمة الله) বলেন-
وَأخرج أَبُو الشَّيْخ عَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا فِي الْآيَة قَالَ: فضل الله الْعلم وَرَحمته مُحَمَّد صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ الله تَعَالَى- وَمَا أَرْسَلْنَاك إِلَّا رَحْمَة للْعَالمين
-‘‘সাহাবি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (رضي الله عنه) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, এখানে আল্লাহর (ফদ্বল) বা অনুগ্রহ দ্বারা ইলম তথা জ্ঞানকে এবং (রহমত) দ্বারা নাবি কারিম (ﷺ) কে বুঝানো হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- ‘হে হাবিব আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্ব-জগতের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া, ১০৭)।’’ ৭৮
{৭৮. সুয়ূতী, তাফসীরে দুররুল মানসূর, ৪/৩৬৭পৃ. দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন।}
আক্বিদা
বুঝা গেল মুজতাহিদ ফকিহ সাহাবীদের আক্বিদা ছিল আল্লাহর নবীকে রহমত স্বরূপ পেয়ে আনন্দ উদ্যাপন করা মহান প্রতিপালকের আদেশ। নবীয়ে পাকের হাদিস মুতাবেক সাহাবীদের বিরোদ্ধে অবস্থানকারী ৭২ জাহান্নামী দলের নিশানা। ৭৯
{৭৯ . সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
লক্ষণীয় একটি বিষয়
সাহাবীদের কুরআনের তাফসীর মারফূ হাদিসের ন্যায়। কেননা তারা নিজ থেকে কোরআনের কোন ব্যাখ্যা দেননা, তাদের কোরআনের সকল ব্যাখ্যাই রাসূল (ﷺ) থেকে শিখা।
❏ ইমাম হাকেম নিশাপুরী (رحمة الله) (ওফাত. ৪০৫হি.) বলেন-
وَتَفْسِيرُ الصَّحَابِيِّ عِنْدَهُمَا مُسْنَدٌ
-‘‘ইমাম বুখারী মুসলিমের নিকট সাহাবীদের তাফসীর মারফূ হাদিসের ন্যায়।’’ ৮০
{৮০ . ইমাম হাকেম নিশাপুরী : আল-মুস্তাদরাক : ১/২১১পৃ. কিতাবুল ইলম, হাদিস/৪২২, দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন, প্রথম প্রকাশ. ১৪১১হি.}
❏ ইমাম নববী আশ্-শাফেয়ী (رحمة الله) (ওফাত. ৬৭৬হি.) বলেন-
وَأَمَّا قَوْلُ مَنْ قَالَ: تَفْسِيرُ الصَّحَابِيِّ مَرْفُوعٌ
-‘‘সাহাবীদের কোরআনের কোন ব্যাখ্যা মারফূ হাদিসের ন্যায়।’’ ৮১
{৮১ .ইমাম নববী : আল-তাক্বরীব ওয়াল তাইসীর : ৩৪পৃ. দারুল কিতাব আরাবী, বয়রুত, লেবানন, প্রথম প্রকাশ. ১৪০৫হি.}
কোরআন সুন্নাহের বাহিরেও মুজতাহিদদের মানা
____________________
কোরআন সুন্নাহের বাহিরেও মুজতাহিদদের মানা-
❏ ইমাম হাকেম নিশাপুরী (رحمة الله) তার মুস্তাদরাকে ও ইমাম তবারী (رحمة الله) তার তাফসীরে সূরা নিসার ৫৯ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় রঈসুল মুফাস্সির হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে একটি ব্যাখ্যা সংকলন করেন-
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ} [النساء: ৫৯] يَعْنِي: أَهْلَ الْفِقْهِ وَالدَّيْنِ
-‘‘হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) বলেন, (وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ) এ আয়াতের আদেশ দাতা হল দ্বীনের মুজতাহিদ ফকীহগণ।’’ ৮২
{৮২. ইমাম হাকেম নিশাপুরী, আল-মুস্তাদরাক, ১/২১১ পৃ. হাদীসঃ ৪২৩, প্রাগুক্ত. ইমাম জারীর তবারী : তাফসীরে তবারী : ৪/১৫১পৃ., আল্ল¬ামা ইবনে কাসীর : তাফসীরে কুরআনুল আজীম : ২/২৪৫ পৃ. ইমাম ফখরুদ্দিন রাজী : তাফসীরে কাবীর : ৪/১১৩ পৃ. শাওকানী : ফতহুল কাদীর : ১/৩৮০পৃ. }
❏ ইমাম বাগভী (رحمة الله) তার তাফসিরে লিখেন-
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَجَابِرٌ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ: هُمُ الْفُقَهَاءُ وَالْعُلَمَاءُ الَّذِينَ يُعَلِّمُونَ النَّاسَ مَعَالِمَ دِينِهِمْ
-‘‘হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) ও হযরত জাবির বিন আব্দুল্লাহ (رضي الله عنه) বলেন, উক্ত আয়াতের (وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ) দ্বারা দ্বীনের ফকিহ এবং উলামাদের কথা বুঝিয়েছেন যারা মানুষকে দ্বীন শিক্ষা দিবেন।’’
(ইমাম বাগভী, শরহে সুন্নাহ, ১/৬৫০ পৃ.)
আক্বিদা
উপরের আয়াত এবং সাহাবায়ে কেরামদের তাফসির দ্বারা প্রমাণিত হয়ে গেল যে কোরআন ও সুন্নাহের পড়েও দ্বীনের মুজতাহিদ ফকিহদেরকে অনুসরণ করতে হবে, এটাই মহান রব তা‘য়ালার নির্দেশ। ৮৩
{৮৩ . সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
আল্লাহর নৈকট্যশীল বান্দা ওলীরা তাদের স্বীয় মাজারে জীবিত
____________________
আল্লাহর নৈকট্যশীল বান্দা ওলীরা তাদের স্বীয় মাজারে জীবিত-
❏ ইমাম সুয়ূতি (رحمة الله) সংকলন করেন-
عَنْ عِكْرِمَة قَالَ قَالَ إِبْنِ عَبَّاس الْمُؤْمِن يَعْطِى مُصحفًا فِي قَبْرِه يَقْرَأ فِيهِ
-‘‘বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত ইকরামা (رحمة الله) তিনি মুজতাহিদ সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মু‘মিনকে (ওলীদেরকে) তাঁর কবরে কুরআন শরীফ দেয়া হয়। তথায় সে পাঠ করে।’’ ৮৪
{৮৪. ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতিঃ শরহুস সুদুরঃ ২৪০পৃ, তিনি ইমাম খাল্লালের “কিতাবুস সুন্নাহ” এর সূত্রে বর্ণনা করেন। এ বিষয়ে তিনি আরও অনেক হাদিস এনেছেন।}
তাই বলতে চাই, একজন মু‘মিনের যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে ওলীদের অবস্থা কিরূপ হবে?
❏ ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি (رحمة الله) সংকলন করেন-
وَأخرج التِّرْمِذِيّ وَحسنه وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: ضَرَبَ بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خِبَاءَهُ عَلَى قَبْرٍ وَهُوَ لاَ يَحْسِبُ أَنَّهُ قَبْرٌ، فَإِذَا فِيهِ إِنْسَانٌ يَقْرَأُ سُورَةَ تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ حَتَّى خَتَمَهَا، فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي ضَرَبْتُ خِبَائِي عَلَى قَبْرٍ وَأَنَا لاَ أَحْسِبُ أَنَّهُ قَبْرٌ، فَإِذَا فِيهِ إِنْسَانٌ يَقْرَأُ سُورَةَ تَبَارَكَ الْمُلْكِ حَتَّى خَتَمَهَا. فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: هِيَ الْمَانِعَةُ، هِيَ الْمُنْجِيَةُ، تُنْجِيهِ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ
-‘‘ইমাম তিরিমিযি (رحمة الله) ‘হাসান’ সনদে, ইমাম হাকেম (رحمة الله), ইমাম বায়হাকী (رحمة الله) সংকলন করেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, জনৈক সাহাবী এক কবরের উপর তাবু স্থাপন করেন। তিনি জানতেন না এখানে কবর রয়েছে। তিনি শুনতে পেলেন কবর থেকে কোন মানুষ সূরা মুলক তিলাওয়াত করছেন এবং তিনি পরিপূর্ণ সূরাই তিলাওয়াত করলেন। সাহাবী হুযুর (ﷺ) কে এ ঘটনা অবগত করলে তিনি ইরশাদ করেন, এ সূরাটি আযাব প্রতিরোধক ও মুক্তিদাতা।’’ ৮৫
{ ৮৫. ইমাম তিরমিযী, আস-সুনান, ফাযায়েলে তিলাওয়াতে কুরআন, ৫/১৪পৃ, হা/২৮৯০, তিনি বলেন, হাদিসটি হাসান, গরীব। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) এর সূত্রে হাদিস বর্ণিত হয়েছে (২). ইমাম হাকিম নিশাপুরী, আল-মুস্তাদরাক, ২/৪৯৮পৃ, (৩) ইমাম বায়হাকীঃ শুয়াবুল ঈমানঃ ৪/১২৫পৃ.হাদিস : ২২৮০, ইমাম সুয়ূতিঃ আল-খাসায়েসুল কোবরাঃ ১/৩৮৯ পৃ, হা/১২১৯, সুয়ূতি বলেন, ইমাম হাকেম সহীহ সনদে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন (৫) ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতীঃ শরহে সুদুরঃ ২৩৯পৃঃ (৬) আলবানীঃ সিলসিলাতুল..সহীহাহঃ হা/১১৪০, তিনি বলেন, হাদিসটি সহীহ, ইমাম হায়সামীঃ মাযমাউয যাওয়াইদঃ ৩/৮৫পৃ. হা/৬৭৫৬, ইমাম বায়হাকী : এছবাতে আযাবিল কুবুর : ১/৯৯পৃ. হাদিস/১৫০, খতিব তিবরিযী : মিশকাত, ১/৬৬৩পৃ. হাদিস :২১৫৪}
আক্বিদা
হযরত ইবনে আব্বাস (ﷺ)‘র উপরের দুটি হাদিস থেকে প্রমাণিত যে সাহাবায়ে কেরামের মাঝে এটি সুপ্রসিদ্ধ ছিল একমাত্র নবীরাই নয় বরং আল্লাহর নৈকট্যশীল বান্দারাও তাদের মাজারে জীবিত এবং সেখানে তারা ইবাদতে রত থাকেন, আর এটি তাঁরা রাসূল (ﷺ) থেকেই সত্যায়ন করলেন। ৮৬
{৮৬ . সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
মি‘রাজে আল্লাহর দিদার
____________________
মি‘রাজে আল্লাহর দিদার-
❏ ইমাম আহমদ (رحمة الله)সহ আরও অনেকে সংকলন করেন-
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: رَأَيْتُ رَبِّي تَبَارَكَ وَتَعَالَى
-‘‘হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, আমি আমার রব তা‘আলাকে (চর্ম চোখে) দেখেছি।’’ ৮৭
{৮৭ . ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, ৪/৩৫১ পৃ. হা/২৫৮০, ইমাম সুয়ূতি, জামেউস সগীর, হা/৫৭৭৯, তিনি বলেন, সনদটি সহীহ। মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ১৪/৪৪৮ পৃ. হা/৩৯২০৯, আল্লামা মানাভী (رحمة الله) বলেন- بِإِسْنَاد صَحِيح -‘‘এ সনদটি ‘হাসান’ পর্যায়ের।’’ (মানাভী, তাইসির, ২/২৫ পৃ.) ইমাম হাইসামী (رحمة الله) বলেন- رَوَاهُ أَحْمَدُ، وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ. -‘‘এ হাদিসটির সনদের সমস্ত রাবী সহীহ বুখারীর ন্যায়।’’ (হাইসামী, মাযমাউয-যাওয়াইদ, ১/৭৮ পৃ. হা/২৪৭) ইমাম সুয়ূতি (رحمة الله) লিখেন-
وَأخرج احْمَد بِسَنَد صَحِيح عَن ابْن عَبَّاس
-‘‘ইমাম আহমদ (رحمة الله) এটি সহীহ সনদে হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণনা করেছেন।’’ (সুয়ূতি, আল-খাসায়েসুল কোবরা, ১/২৬৭ পৃ.)}
আক্বিদা
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আক্বিদা হল যে রাসূল (ﷺ) মি‘রাজে চর্ম চোখ দ্বারা মহান প্রতিপালককে দেখেছেন। ৮৮
{ ৮৮. তবে এ বিষয়ে আরেকটি বর্ণনা রয়েছে যা ইমাম তাবরানী (رحمة الله)সহ আরও অনেকে সংকলন করেছেন-
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: إِنَّ مُحَمَّدًا - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - رَأَى رَبَّهُ مَرَّتَيْنِ: مَرَّةً بِبَصَرِهِ، وَمَرَّةً بِفُؤَادِهِ
-‘‘হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় রাসূল (ﷺ) তাঁর রব তা‘আলাকে দুই বার দেখেছেন। একবার চর্ম চোখে, আরেকবার হৃদয় দ্বারা দেখেছেন।’’ (ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল আওসাত, হা/, হাইসামী, মাযমাউয-যাওয়াইদ, ১/৭৯ পৃ. হা/২৪৯) ইমাম সুয়ূতি (رحمة الله) বলেন-
وَأخرج الطَّبَرَانِيّ فِي الاوسط بِسَنَد صَحِيح
-‘‘ইমাম তাবরানী (رحمة الله) তার মু‘জামুল আওসাত গ্রন্থে এটি সহীহ সনদে হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণনা করেছেন।’’ (ইমাম সুয়ূতি, আল-খাসায়েসুল কোবরা, ১/২৬৭ পৃ.) ইমাম হাইসামী (رحمة الله) বলেন-
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ، وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ، خَلَا جَهْوَرِ بْنِ مَنْصُورٍ الْكُوفِيِّ، وَجَهْوَرُ بْنُ مَنْصُورٍ ذَكَرَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي الثِّقَاتِ.
-‘‘ইমাম তাবরানী (رحمة الله) তাঁর মু‘জামুল আওসাত গ্রন্থে এটি সংকলন করেছেন। এ হাদিসের সমস্ত রাবী সহীহ বুখারীর শুধু ‘জাহওয়ার ইবনে মানছুর’ ব্যতিত; তবে ইমাম ইবনে হিব্বান (رحمة الله) তাকে সিকাহ রাবীর তালিকায় স্থান দিয়েছেন।’’ (হাইসামী, মাযমাউয-যাওয়াইদ, ১/৭৯ পৃ. হা/২৪৯, ইমাম ইবনে হিব্বান, কিতাবুস সিকাত, ৮/১৬৭ পৃ. ক্রমিক.১২৭৮৩) ইমাম হাইসামী (رحمة الله) আরেক স্থানে এ রাবী সম্পর্কে লিখেন-
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ، وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ، غَيْرَ جَهْوَرِ بْنِ مَنْصُورٍ وَهُوَ ثِقَةٌ.
-‘‘তাবরানী হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, এ হাদিসের সমস্ত রাবী সহীহ বুখারীর শুধু ‘জাহওয়ার ইবনে মানছুর’ ব্যতিত; তবে তিনিও সিকাহ।’’ (হাইসামী, মাযমাউয-যাওয়াইদ, ৮/৫ পৃ. হা/১২৫৬৭)}
❏ ইমাম কাযি আয়্যায (رحمة الله) লিখেন-
وَقَالَ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ إِسْمَاعِيل الْأَشْعَرِي رَضِيَ اللَّه عَنْهُ وَجَمَاعَةٌ مِنْ أَصْحَابِهِ أنَّهُ رَأَى اللَّه تعالى ببصره وعيسى رَأسِهِ وَقَالَ كُلّ آيةٍ أُوتِيهَا نَبِيّ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ فَقَدْ أُوتِي مِثْلَهَا نَبِيُّنا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَخُصَّ مِنْ بَيْنِهِمْ بِتَفْضِيلِ الرُّؤْيَةِ-
-“আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকায়েদের ইমাম আবুল হাসান আলী আশ‘আরী (رحمة الله) ও তাঁর এক জামাত সঙ্গী-সাথী বলেন হুযুর (ﷺ) আল্লাহ তা‘য়ালাকে কপালের চোখ দ্বারা অবলোকন করেছেন। তাঁরা আরও বলেন, অন্যান্য আম্বিয়ায়ে কেরামকে যত মু‘যিজা দেওয়া হয়েছে অনুরূপ মু‘যিজা হুযুর (ﷺ) কে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু হুযুর (ﷺ) কে অগ্রবর্তী করে দিদারে এলাহী মু‘যিজা দেওয়া হয়েছে।’’ ৮৯
{ ৮৯ .কাজী আয়াজ : শিফা শরীফ : ১/১১৮ পৃ. আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী : শরহে শিফা : ১/৪২৯ পৃ.}
বুঝা গেল, কেউ যদি রাসূল (ﷺ)‘র মি‘রাজে আল্লাহ দেখার বিষয়টি অস্বীকার করে তাহলে সে নিঃসন্দেহে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বহির্ভূত এবং পথভ্রষ্ট বাতিল ফিরকা হিসেবে গণ্য। এ বিষয়ে সমাধান তুলে ধরেন ইমাম নববী (رحمة الله) এভাবে-
فَالْحَاصِلُ أَنَّ الرَّاجِحَ عِنْدَ أَكْثَرِ الْعُلَمَاءِ إن رسول الله صلى الله عليه وسلم رَأَى رَبَّهُ بِعَيْنَيْ رَأْسِهِ لَيْلَةَ الْإِسْرَاءِ لِحَدِيثِ بن عَبَّاسٍ وَغَيْرِهِ مِمَّا تَقَدَّمَ وَإِثْبَاتُ هَذَا لَا يَأْخُذُونَهُ إِلَّا بِالسَّمَاعِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
-‘‘পরিশেষে বলা যায়, অধিকাংশ উলামার নিকট এই মতই প্রাধান্য পেয়েছে যে, নাবী কারীম (ﷺ) মি‘রাজের রজনীতে স্বীয় প্রতিপালককে তাঁর কপালের চক্ষু দ্বারা দেখছেন। যেমনটি ইবনু আব্বাস (رضي الله عنه) এর হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। এই বিষয়ে যারা (সাহাবীরা) রাসূল (ﷺ) হতে মি‘রাজের সময় (মি‘রাজের ঘটনা) শ্রবণ করেছেন কেবল তাদের অভিমত ছাড়া বাকি অভিমত (যেমন মা আয়েশার অভিমত; কেননা তিনি তখন খুব ছোট ছিলেন) গ্রহণ করা হবে না।’’ ৯০
{ ৯০ . ইমাম নববী : শরহে মুসলিম : ৩/৫পৃ. দারু ইহ্ইয়াউত তুরাসুল আরাবী, বয়রুত, লেবানন, ইমাম যুরকানী : শরহে মাওয়াহেব : ৬/১১৬পৃ, মোল্লা আলী ক্বারী : শরহে শিফা : ১/৪২৫ পৃ., শায়খ ইউসুফ নাবহানী, যাওয়াহিরুল বিহার : ৩/৩২২ পৃ.}
তাই বুঝা গেল বিশুদ্ধ মত এটাই যে রাসূল (ﷺ) মি‘রাজে মহান রবকে স্বচক্ষে দেখেছেন। ৯১
{ ৯১. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
১২ই রবিউল আউয়াল রাসূল (ﷺ)-এর শুভাগমন
____________________
১২ই রবিউল আউয়াল রাসূল (ﷺ)-এর শুভাগমন-
❏ পৃথিবী বিখ্যাত ইতিহাসবিদ, হাফেযুল হাদিস, আল্লামা ইবনে কাসির (رحمة الله) উল্লেখ করেন-
وَقَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ مِينَا عَنْ جَابِرٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ. قَالَا: وُلِدَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيلِ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ الثَّانِيَ عَشَرَ مِنْ رَبِيعٍ الْأَوَّلِ
-‘‘ইমাম আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ (رحمة الله) তিনি বলেন, আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, উসমান (رحمة الله) তিনি সাঈদ ইবনে মীনা (رحمة الله) হতে তিনি হযরত জাবের (رضي الله عنه) এবং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণনা করেন, তাঁরা উভয়েই বলেন, রাসূল (ﷺ) ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার জন্মগ্রহণ (শুভাগমন) করেন।’’
(আল্লামা ইবনে কাসির, বেদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩/১৩৫ পৃ. দারু ইহ্ইয়াউত তুরাসুল আরাবী, বয়রুত, লেবানন)
আক্বিদা:
এ হাদিসে পাক থেকে জানতে পারলাম যে রাসূল (ﷺ)-এর শুভাগমন সম্পর্কে সাহাবীদের আক্বিদা ছিল যে তিনি ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবারে পৃথিবীতে এসেছিলেন। আর এটি সকল মুসলমানেরই জানা যে সাহাবায়ে কিরামগণই রাসূল (ﷺ) সম্পর্কে সবচেয়ে ভালভাবে অবগত। ৯২
{৯২ . সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।
সাহাবীদের উত্তম চরিত্র এবং আল্লাহর সন্তুষ
____________________
সায়্যিদুনা হযরত আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه)’র আক্বিদা
সাহাবীদের উত্তম চরিত্র এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির সংবাদ প্রদান করা-
সায়্যিদুনা আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলে কারিম (ﷺ)’র কাছে এসে আরয করল যে, ‘আমি ক্ষুধার্ত’। তখন রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, যে এ ব্যক্তিকে মেহমান বানাবে আল্লাহ তার উপর দয়া করবেন।
তখন আনসারী সাহাবীদের থেকে একব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), আমি এ ব্যক্তির মেহমানদারি করব।’
তিনি মেহমানকে নিয়ে তাঁর ঘরে গিয়ে স্ত্রীকে বললেনঃ ‘ঘরে খাবার কিছু আছে?’ স্ত্রী বললেন, ‘ঘরে কেবল বাচ্চাদের খাবার আছে।’ তিনি বললেন, ‘বাচ্চাদেরকে কোন কিছু দিয়ে তুষ্ট কর।’ যখন আমাদের মেহমান আসবেন, তুমি চেরাগ নিভিয়ে দেবে এবং মেহমানের কাছে প্রকাশ করবে যে, আমরা খাবার খেয়েছি।
যখন মেহমান খানা শুরু করবে, তুমি তার কাছে গিয়ে প্রদীপটি নিভিয়ে দেবে। অতঃপর তারা সকলে বসে পড়লেন এবং মেহমান খানা খেলেন। সকালে যখন তিনি (আপ্যায়নকারী) নাবী কারীম (ﷺ)’র কাছে উপস্থিত হলেন, তখন রাসূল (ﷺ) বললেনঃ
عَجِبَ اللهُ مِنْ صَنِيعِكُمَا بِضَيْفِكُمَا اللَّيْلَةَ
-“তোমরা আজ রাত মেহমানের সাথে উপর যে আচরণ করেছো আল্লাহ তা‘আলা তার উপর অনেক খুশি হয়েছেন।” ৯৩
{৯৩. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৩/১৬২৪ পৃ. হা/২০৫৪, بَابُ إِكْرَامِ الضَّيْفِ وَفَضْلِ إِيثَارِهِ, ইমাম ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ৯/৭৩ পৃ. হা/৬৬১৫}
আক্বিদা
নাবী করীম (ﷺ) জানতেন যে, তাঁর সাহাবী (رضي الله عنه) মেহমানের সাথে যে উত্তম আচরণ করেছেন তা। এবং এটাও জানতেন যে, আল্লাহ তা‘আলা এই উত্তম আচরণের উপর সন্তুষ্টি হয়েছেন।
অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টির কথা জেনেই ইরশাদ করেছেন যে, মেহমানের সাথে তোমরা যে উত্তম আচরণ করেছো আল্লাহ এর উপর অনেক খুশি হয়েছেন।
পোষাক পরিধান করা অবস্থায় বিবস্ত্র
____________________
পোষাক পরিধান করা অবস্থায় বিবস্ত্র-
সায়্যিদুনা হযরত আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) (বেপর্দা পাতলা কাপড় পরা নারীদের অবস্থা বলতে গিয়ে) ইরশাদ করেন, জাহান্নামীদের এমন দু‘টি দল, যাদের আমি দেখিনি। তাদের এক দলের হাতে গরুর লেজের মত চাবুক থাকবে।
وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلَاتٌ مَائِلَاتٌ
‘তারা তা দিয়ে লোকদেরকে মারবে। আর একদল হবে নারীদের। তাদের পোষাক পরিধান করা সত্তে¡ও উলঙ্গ দেখাবে।’ তারা গর্বের সাথে নৃত্যের ভঙ্গিতে বাহু দুলিয়ে পথ চলবে। তারা বুখ্তী উটের উঁচু কূঁজের মত করে খোপা বাঁধবে। এমন নারীরা কখনো জান্নাতে প্রবেশ লাভ করবে না এবং তারা জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধি অনেক অনেক দূর থেকে পাওয়া যাবে।’’ ৯৪
{৯৪. খতিব তিবরিযি, মিশকাতুল মাসাবীহ, ২/১০৪৫ পৃ. হা/৩৫২৪, সহীহ মুসলিম শরীফ, ৩/১৬৮০ পৃ. হা/২১২৮, بَابُ النِّسَاءِ الْكَاسِيَاتِ الْعَارِيَاتِ الْمَائِلَاتِ الْمُمِيلَاتِ, ইমাম মুনযিরী, তারগীব ওয়াত তারহীব, ৩/৬৯ পৃ. হা/৩১১০}
আক্বিদা
বর্তমান যুগে এই পরিবেশ এবং পোষাক মানুষের সামনেই বিদ্যমান। প্রিয় নবী অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী রাসূল (ﷺ) আজ থেকে সাড়ে চৌদ্দশত বছর পূর্বে যার সংবাদ দিয়েছেন।
বুঝা গেল আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয় হাবীব (ﷺ) কে অদৃশ্যের জ্ঞান করেছেন। যারা বলে নাবী (ﷺ)’র ইলমে গায়ব নেই, তারা মূলত নাবী কারীম (ﷺ)’র বাণীকে অস্বীকারকারী। আল্লাহ আমাদেরকে এসব ভ্রষ্ট লোকদের থেকে হিফাজত করুণ, আমিন।
উপমাহীন নবী (ﷺ)
____________________
উপমাহীন নবী (ﷺ)-
❏ সায়্যিদুনা আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) বলেন, নাবী কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেন-
مَنْ رَآنِي فِي الْمَنَامِ فَقَدْ رَآنِي، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لَا يَتَمَثَّلُ بِي
-‘‘যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখল, সে মূলত আমাকেই দেখল, কেননা শায়তান আমার রূপ ধারণ করতে পারে না।’’ ৯৫
{৯৫. ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, ৪/১৭৭৫ পৃ. হা/২২৬৬ , كتاب الروياء , ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল আওসাত, হা/৬০৮ এবং মু‘জামুল কাবীর, ১২/৩৮ পৃ. হা/১২৪০৩, হাকেম, আল-মুস্তাদরাক, ৪/৪৩৫ পৃ. হা/৮১৮৬, ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, ১২/৮৮ পৃ. হা/৭১৬৮, সুনানে তিরমিযি, ৪/১০৫ পৃ. হা/২২৭৬, মুসনাদে আবি ই‘য়ালা, হা/৩২৮৫, ইমাম বাগভী, শরহে সুন্নাহ, ১২/২২৬ পৃ. হা/৩২৮৬}
আক্বীদা
শয়তান প্রত্যেকের রূপ ও ছুরত ধারণ করতে পারে। কিন্তু শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ)’র রূপ ধরতে পারে না। সুতরাং যে সব মানুষ নিজেদেরকে তার মত বলে, অথবা নাবী (ﷺ) কে তাদের মত বলে এবং এ নিয়ে তর্ক করে তবে তারা তো শয়তান থেকেও মারাত্মক।
আল্লাহ আমাদেরকে এসব মানুষ থেকে হেফাজত করুণ। আমিন!
❏ দেওবন্দীদের মওলভী হুসাইন আহমদ মাদানী বলেন যে,
وہابيہ ا اپنے كومماثل ذات سروركائنات خيال كر تے ہيں
-‘‘ওয়াহাবিরা নিজেরা নিজেদেরকে রাসূলে কায়েনাত (ﷺ) এর সমকক্ষ মনে করে থাকে।’’
(হুসাইন আহমদ মাদানী, আস-সিহাবুস সাকিব, ৪৭ পৃ.)
❏ দেওবন্দীদের মাওলানা খালিল আহমাদ আম্বিটুবী লেখেন যে,
نفس بشريت ميں مماثل آپ جملہ بنى آدم ہيں
-‘‘মানব হওয়ার দৃষ্টিতে তিনি সমস্ত আদম সন্তানের মত।’’
(বারাহিনে কাতীয়া, ৩ পৃষ্ঠা)
আক্বিদা
এর থেকে নাবী (ﷺ)’র জীবিত, হাজির-নাজির হওয়াটা পরিস্কার হল। তিনি যখন চান, যেখানে চান এবং যে সময় চান উপস্থিত হতে পারেন।
❏ বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইবনু হাজার আসকালানী (رحمة الله) বলেন-
وَنُقِلَ عَنْ جَمَاعَةٍ مِنَ الصَّالِحِينَ أَنَّهُمْ رَأَوُا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَنَامِ ثُمَّ رَأَوْهُ بَعْدَ ذَلِكَ فِي الْيَقَظَةِ وَسَأَلُوهُ عَنْ أَشْيَاءَ كَانُوا مِنْهَا مُتَخَوِّفِينَ فَأَرْشَدَهُمْ إِلَى طَرِيقِ تَفْرِيجِهَا فَجَاءَ الْأَمْرُ كَذَلِكَ
-“আল্লাহর মকবুল বান্দাদের একটি দল থেকে বর্ণিত আছে, যে তারা স্বপ্নে নাবী করীম (ﷺ)’র দিদার লাভ করেছেন। অতঃপর জাগ্রত অবস্থায়ও দেখেছেন। আর তাদের যেসব বিষয়ে সমস্যা ছিল সে ব্যাপারে তারা রাসূল (ﷺ)’র পবিত্র দরবারে প্রশ্ন করেছেন। এবং নাবী করিম (ﷺ) এসব বিষয়ের সমস্যা দূর করে দিয়েছেন।’’ ৯৬
{৯৬. ইবনু হাজার আসকালানী, ফাতহুল বারী, খণ্ড- ১২, পৃ: ৩৮৫, দারুল মা‘রিফ, বয়রুত, লেবানন।
৯৭. ইমাম আলূসী, তাফসীরে রুহুল মাআনী, খণ্ড- ৬, পৃ: ১৯০, দারুল কুতব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন থেকে প্রকাশিত।}
❏ আল্লামা মাহমুদ আলূসী (رحمة الله) লিখেছেন যে, ‘পূর্ববর্তীদের থেকে পরবর্তী আলিমদের মধ্যে যারা স্বপ্নে নবীজি (ﷺ)’র দিদার লাভ করেছেন, তারা যে সব বিষয়ে সন্দেহ পরায়ন ছিলেন, সে বিষয়ে তারা নবী করিম (ﷺ)’র নিকট জানতে চাইলেন। নাবী করিম (ﷺ) এসব বিষয়ের সংবাদ প্রদান করে তাদের সন্দেহ দূর করে দিয়েছেন।’ ৯৭
{৯৭. সাহীহ মুসলিম শরীফ, খণ্ড- ৪, পৃ: ১৭৮১, হা/২২৭৪, কিতাবু আর রু‘ইয়া}
গুপ্ত ধনভান্ডারের মালিক
____________________
গুপ্ত ধনভান্ডারের মালিক-
❏ সায়্যিদুনা হযরত আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন-
أَنَا نَائِمٌ أُتِيتُ خَزَائِنَ الْأَرْضِ
-‘‘আমি শয়ন অবস্থায় ছিলাম তখন আমাকে জমিনের গুপ্ত ধনভান্ডার সমূহ প্রাপ্ত হয়েছি।’’ ৯৮
{সহীহ মুসলিম শরীফ,খন্ড-৪, পৃঃ১৭৮২, হা/২২৭৪, কিতাবু রু'ইয়া}
আক্বিদা
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয় হাবীব (ﷺ) কে জমিনের ধনভান্ডার সমূহের চাবি দান করেছেন। আর যাকে চাবি দেয়া হয় তাকে তার মালিক এবং মুখতার বানানো হয়। এজন্য আমাদের প্রিয় নবী (ﷺ) কে আল্লাহ তা‘আলা মালিক ও মুখতার বানিয়েছেন।
সবার উর্ধ্বে
____________________
সবার উর্ধ্বে-
❏ সায়্যিদুনা হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) বলেন, নাবী কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন-
أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَأَوَّلُ مَنْ يَنْشَقُّ عَنْهُ الْقَبْرُ، وَأَوَّلُ شَافِعٍ وَأَوَّلُ مُشَفَّعٍ
-“কিয়ামাত দিবসে আমি আদম সন্তানের সর্দার হবো, সর্বপ্রথম আমি কবর থেকে উঠব, সর্বপ্রথম আমি সুপারিশ করবো এবং সর্বপ্রথম আমার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।” ৯৯
{৯৯. সাহীহ মুসলিম শরীফ, খণ্ড- ৪, পৃ: ১৭৮২, হা/২২৭৮, ইমাম বায়হাকী, শুয়াবুল ঈমান, ৩/৭০ পৃ. হা/১৪০৬, ইমাম বাগভী, শরহে সুন্নাহ, ১৩/২০৪ পৃ. হা/৩৬২৫, মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ১১/৪০৪ পৃ. হা/৩১৮৮১}
সমস্ত নাবীদের ইমাম, মহান হাবীব হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা (ﷺ) সমস্ত নবী ও রাসূলদের পর সর্দার। এটাও প্রকাশ হয় যে, সমস্ত নবী রাসূলগণকে আল্লাহ তা’য়ালা যে মর্যাদা দান করেছেন এর সবগুলোই সরকারে দু‘আলাম (ﷺ)’র নিকট রয়েছে। কেননা সর্দারের জন্য আবশ্যক যে, যাদের সর্দার হবেন, তাদের থেকে প্রত্যেক মর্যাদায় বড় হওয়া।
❏ মাওলানা রুমী (رحمة الله) এ জন্যই বলেন-
سيد و سرود محمد نور جہاں
بہتر و بہتر شفيع مجرماں
-‘‘সৃষ্টির সেরা নূরে মুহাম্মাদ (ﷺ) দু’জাহানের সর্দার
সর্বোত্তম থেকে সর্বোত্তম তিনি অপরাধীদের সুপারিশকারী।’’
❏ বিশ্ব কবি শায়খ সা‘দী (رحمة الله) বলেন-
آنكہ آمد نہ فلك معراج رو
انبياء و اولياء محتاج او
-“তিনিই ঐ রাসূল যাঁর মি‘রাজগমন নবম আসমান পর্যন্ত হয়েছে। সকল নাবী ও ওলীগণ তাঁরই মুখাপেক্ষী।
এ হাদীস থেকে এটাও প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামত দিবসে তাকে যে সম্মান ও মর্যাদা দান করবেন, তা তিনি জানতেন।
এটাও তাঁর জানা ছিল যে, কবর মুবারক থেকে তিনিই প্রথম উঠবেন। সুতরাং লোকের আক্বীদা এটা যে, নবীয়ে পাক (ﷺ)’র নিকট কী ইলমে গায়ব আছে? স্পষ্টত তারা (বাতিলপন্থীগণ) ভ্রষ্টতার মধ্যে নিমজ্জিত।
তাঁর (ﷺ)’র পবিত্র বাণী যে, সর্বপ্রথম আমি সুপারিশ করবো এবং আমার শাফা‘আত গ্রহণ করা হবে।
আর শাফায়াতের সম্পর্ক কিয়ামতের সাথে। যে সব লোক এ আক্বীদা পোষণ করে যে, সমস্ত নবী এবং আওলিয়াগণ জানেন না যে, কিয়ামত দিবসে তাদের সাথে কিরূপ আচরণ করা হবে। তারা মূলতঃ হাদিসের বিপরীত আক্বীদা পোষণ করে। এবং প্রিয় নবী (ﷺ)’র পবিত্র বাণী থেকে গর্দান ফিরিয়ে নেয়।
❏ মৌলভী ইসমাঈল দেহলভী “তাকভিয়াতুল ঈমান”-এ লিখেছেন যে,
جو كہ الله اپنے بندوں سےمعاملہ كر ے گا خواه دنيا ميں خواه قبر ميىں خواه آخرت ميں- سو اس كى حقيقت كسى كو معلوم نهيں- نہ نبى كو نہ ولى كو نہ اپنا حال نہ دوسر كا
-“আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দার সাথে যে আচরণ করবেন, চাই তা দুনিয়াতে হোক, চাই কবরে বা আখেরাতে হোক, তার প্রকৃত অবস্থা কেউ জানে না। নবী-ওলী কেউ জানেন না। নিজের অবস্থাও জানে না, অপরের অবস্থাও না।” ১০০
{১০০.তাকভিয়াতুল ঈমান, পৃ: ২৭, দিল্লি থেকে প্রকাশিত।}
নবীগণের ইখতিয়ার
____________________
নবীগণের ইখতিয়ার-
সৈয়্যিদুনা হযরত আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, হযরত মূসা (عليه السلام)’র কাছে মালাকুল মাউত এসে বলতে লাগলেন, ‘আপনার প্রভুর কাছে চলুন’।
তখন হযরত মূসা (عليه السلام) থাপ্পর মেরে তাঁর চোখ উঠিয়ে নিলেন। মালাকুল মাউত পুণরায় মহান আল্লাহর দরবারে এসে বললেন-
إِنَّكَ أَرْسَلْتَنِي إِلَى عَبْدٍ لَكَ لَا يُرِيدُ الْمَوْتَ، وَقَدْ فَقَأَ عَيْنِي
-‘‘হে আল্লাহ আমাকে এমন এক বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন যিনি মৃত্যুর ইচ্ছা করেন না এবং আমার চোখ উঠিয়ে নিয়েছেন।’’
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর চোখ পুণরায় দিলেন এবং বললেন, পুণরায় আমার বান্দার কাছে যাও এবং বল, “আপনি কি জীবিত থাকতে চান”?
যদি জীবিত থাকতে চান তবে আপনার হাত এই ছাগলের পিঠের উপর রাখুন, ছাগলের যত লোম আপনার হাতের নীচে থাকবে এত বছর হায়াত বাড়িয়ে দেয়া হবে। হযরত মূসা (عليه السلام) বললেন, পুণরায় কী হল? তিনি (মালাকুল মাউত) বললেন, পুণরায় আপনার মাউত এসেছে।
তখন হযরত মূসা (عليه السلام) বললেন, “হে আমার রব, এখনই এই পবিত্র ভূমি থেকে একটি পাথর নিক্ষেপ করে আমার রূহ কবজ করুণ।” ১০১
{ ১০১. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮৪৩পৃ: হা/২৩৭২, অধ্যায়: بَابُ مِنْ فَضَائِلِ مُوسَى صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
খ. ইমাম খতিব তিবরিযি, মিশ্কাতুল মাসাবীহ, ৩/১৫৯২ পৃ. হা/৫৭১৩, অধ্যায়: بَاب بدءالخلق وَذِكْرِ الْأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ}
আক্বিদা
আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত নবী (عليه السلام) গণকে হায়াত-মাউতের ইখতিয়ার দিয়েছেন। যখন তারা চান দুনিয়া থেকে ইন্তেকাল করেন। অনুরূপভাবে যে সময় এবং যেখানে চান তাদের রূহ মুবারক কবজ করা হয়।
আল্লামা আদরুদ্দীন আইনী (رحمة الله) বলেন, হযরত মূসা (عليه السلام) বায়তুল মুকাদ্দাসের পাশে দাফন হতে ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। কেননা সেখানে অনেক নবী এবং ওলীদের কবর রয়েছে।
❏ আল্লামা বাদরুদ্দীন আইনী (رحمة الله) ও মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাকার ইমাম নববী (رحمة الله) এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, ওলী এবং আল্লাহর মকবুল বান্দাদের কাছে দাফন করা মুস্তাহাব এবং জায়েজ। আর ওলী আল্লাহদের কবরের স্থান বারকাত ও মর্যাদাবান।
(আল্লামা আইনী, উমদাতুল ক্বারী, ৮/১৪৯ পৃ.)
খায়বার বিজয়ী
____________________
খায়বার বিজয়ী-
❏ সৈয়্যিদুনা হযরত আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) বলেন, রাসূল (ﷺ) খায়বার বিজয়ের দিন ইরশাদ করেন-
لَأُعْطِيَنَّ هَذِهِ الرَّايَةَ رَجُلًا يُحِبُّ اللهَ وَرَسُولَه، يَفْتَحُ اللهُ عَلَى يَدَيْهِ
-‘‘আগামীকাল আমি ঐ ব্যক্তির হাতে বিজয়ের পতাকা দেব, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) কে ভালবাসে। আর আল্লাহ তাঁর হাতে বিজয় দান করবেন।’’
❏ হযরত আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) বলেন-
فَدَعَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، فَأَعْطَاهُ إِيَّاهَا، وَقَالَ: امْشِ، وَلَا تَلْتَفِتْ، حَتَّى يَفْتَحَ اللهُ عَلَيْكَ
-‘‘তখন রাসূল (ﷺ) হযরত আলী বিন আবি তালিব (رضي الله عنه) কে ডেকে তাঁর হাতে পতাকা দিলেন। আর বললেন, আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে বিজয় দান না করা পর্যন্ত এদিক সেদিক তাকাবে না।’’ ১০২
{১০২. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮৭১ পৃ. হা/২৪০৫-২৪০৬, পরিচ্ছেদ: بَابُ مِنْ فَضَائِلِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ}
আক্বিদা
হুযূর পুরনূর (ﷺ) জানেন যে, খায়বার বিজয়ী কে? এজন্য হযরত আলী (رضي الله عنه) কে ডেকে তাঁর হাতে পতাকা দিয়েছেন।
এটাও বুঝা গেল যে, সমস্ত সাহাবায়ে কিরামগণের এই আক্বীদা ছিল যে, হুযূর (ﷺ) অবগত যে, খায়বার বিজয়ী কে। এজন্যই সবাই চুপ ছিলেন।
সুতরাং যে সব লোক বলে বেড়ায় যে, নবী (ﷺ) আগামীকালের খবর জানেন না এবং নবী (ﷺ) গায়ব জানেন না। তারা সাহাবায়ে কিরামগণের আক্বীদার বিরোধিতা করে।
পাহাড়ের উপর শাসন এবং রাসূল (ﷺ)’র ইলম
____________________
পাহাড়ের উপর শাসন এবং রাসূল (ﷺ)’র ইলম-
সায়্যিদুনা হযরত আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) বলেন, রাসূল (ﷺ) যখন হেরা গুহায় ছিলেন, তা দুলতে লাগল, তখন রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন-
اسْكُنْ حِرَاءُ فَمَا عَلَيْكَ إِلَّا نَبِيٌّ، أَوْ صِدِّيقٌ، أَوْ شَهِيدٌ
-‘‘হে পাহাড় স্থির হও, তোমার উপর তো নাবী (ﷺ) অথবা সিদ্দিক অথবা শহীদ রয়েছেন।’’ ১০৩
{১০৩. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮৮০ পৃ. হা/২৪১৭, পরিচ্ছেদ: بَابُ مِنْ فَضَائِلِ طَلْحَةَ، وَالزُّبَيْرِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا}
আক্বিদা
নাবী পাক (ﷺ) পাহাড়ের উপর শাসন করেছেন এবং তাঁর উম্মতদের ব্যাপারে জানতেন যে, কোন কোন অবস্থায় তাদের ইন্তিকাল হবে।
দূর এবং কাছ থেকে শুনা
____________________
দূর এবং কাছ থেকে শুনা-
সায়্যিদুনা হযরত আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) বলেন, আমরা রাসূল (ﷺ)’র পবিত্র খেদমতে উপস্থিত হলাম। হঠাৎ করে একটি মৃদু শব্দ শুনলাম, নাবী (ﷺ) বললেন-
أَتُدْرُونَ مَا هَذَا؟
‘তোমরা কি জান এই মৃদু শব্দ কিসের?’
তখন আমরা বললাম-
اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ
-‘আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন।’
রাসূল (ﷺ) বলেন-
هَذَا حَجَرٌ رُمِيَ بِهِ فِي النَّارِ مُنْذُ سَبْعِينَ خَرِيفًا، فَهُوَ يَهْوِي فِي النَّارِ الْآنَ، حَتَّى انْتَهَى إِلَى قَعْرِهَا
-‘এটি পাথরের শব্দ, যেটি আজ থেকে ৭০ বছর পূর্বে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, এখন এটি জাহান্নামের নিচে পৌঁছেছে।’ ১০৪
{১০৪. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/২১৮৪ পৃ. হা/২৮৪৪, পরিচ্ছেদ: بَابٌ فِي شِدَّةِ حَرِّ نَارِ جَهَنَّمَ وَبُعْدِ قَعْرِهَا وَمَا تَأْخُذُ مِنَ الْمُعَذَّبِينَ}
আক্বিদা
নাবি পাক (ﷺ)’র শ্রবণশক্তি এত বেশি যে, দূর-নিকট এর কোন পার্থক্য নেই। সত্তর বছর ধরে নিচে পাথর পড়ছে। এটা কত কোটি মাইল দূরে তা আন্দাজ করা যায়। হুযূর পাক (ﷺ) এই পাথর জাহান্নামের নীচে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট আওয়াজ মাদিনা শরীফে বসে শুনেছেন। অনুরূপ রাসূল (ﷺ) তাঁর উম্মাত ও গোলামদের দরুদ ও সালাম শুনেন। তারা যেখান থেকে পড়–কনা কেন?
❏ ইমামে আহলে সুন্নাত শাহ্ আহমাদ রেযা খাঁন বেরলভী (رحمة الله) এজন্যই বলেছেন-
دور ونيزد يك كے سننے والے وه كان
كان لعل كرامت پہ لاكوں سلام
“দূর এবং নিকট থেকে শ্রবণকারী ওই কান মোবারক
মনি মুক্তাময় ওই কান মোবারকের মর্যাদার উপর লাখো সালাম।’’
নেকড়ে বাঘ কর্তৃক বলা যে, নবী (ﷺ)’র নিকট অতীত-ভবিষ্যতের
____________________
নেকড়ে বাঘ কর্তৃক বলা যে, নবী (ﷺ)’র নিকট অতীত-ভবিষ্যতের জ্ঞান রয়েছে-
সায়্যিদুনা হযযরত আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) বলেন, একটি নেকড়ে বাঘ কতগুলো বকরীর কাছে গিয়ে একটি বকরি পাকড়াও করল। রাখাল বাঘ থেকে বকরিকে ছিনিয়ে আনল। নেকড়ে টিলার উপর উঠে বলতে লাগল “আমি এটাকে খাওয়ার ইচ্ছা করেছি, যেটি আল্লাহ তা‘আলা আমাকে দিয়েছেন। অথচ তুমি সেটি আমার থেকে ছিনিয়ে নিলে। রাখাল নেকড়ের কথা বলতে দেখে বলল- “আল্লাহর শপথ! আজ আমি যে ঘটনা দেখলাম তা কখনো দেখিনি। যে, নেকড়ে কিভাবে কথা বলে?”
তখন নেকড়ে বাঘ বলতে লাগল-
أَعْجَبُ مِنْ هَذَا رَجُلٌ فِي النَّخَلَاتِ بَيْنَ الْحَرَّتَيْنِ يُخْبِرُكُمْ بِمَا مَضَى وَبِمَا هُوَ كَائِن بَعَدَكُمْ
এর থেকে আরো আশ্চর্য বিষয় হল যে, এক মহান সাহেব দু’পাহাড়ের মাঝে খেজুরের পতাকার মধ্যে (মদিনা শরীফ) রয়েছেন, যিনি পূর্ব-পরের সংবাদ দেন। ঐ ব্যক্তি (রাখাল) ছিল ইহুদী।
فجَاءَ الرَّجُلُ إِلَى النَّبِي صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَسْلَمَ وَخَبَّرَهُ
-‘ওই ব্যক্তি নবী করিম (ﷺ)’র দরবারে আসলেন নেকড়ে বাঘের ঘটনা বললেন এবং মুসলমান হয়ে গেলেন।’ ১০৫
{১০৫. ইমাম বাগভী, শরহে সুন্নাহ, ১৫/৮৭ পৃ. হা/৪২৮২, পরিচ্ছেদ: بَابُ كَلامِ السِّبَاعِ খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ৩/১৬৬৬পৃ. হা/৫৯২৭, আহলে হাদিস আলবানীও মিশকাতের তাহকীকে একে সহীহ বলেছেন। পরিচ্ছেদ: بَاب فِي المعجزات}
আক্বিদা
নাবীয়ে পাক (ﷺ) পূর্ব-পর সব বিষয়ে খবর রাখতেন। নেকড়ে বাঘ একটি হিংস্র জন্তু সেও এ বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। কিন্তু যেসব মৌলভী বা আলিম দ্বীনের মুবালিগ সেজে এই সত্যকে অস্বীকার করে, তারাতো এই হিংস্র জন্তু থেকেও নিঃকৃষ্ট। মহান আল্লাহ এসব লোকদের ব্যাপারে বলেন-
أُولَئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ
-‘তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো, বরং তারা এসব হতেও অধিক ভ্রষ্ট।’ ১০৬
{১০৬.সূরা আ‘রাফ: ১৭৯}
কবি বলেন-
تو دانا ئے ما كان و ما يكوں ہے
مگر بے خبر بے خبر ديكهتے ہيں
‘‘আপনি পূর্ব-পর সব বিষয়ে জ্ঞাত
কিন্তু যারা অজ্ঞ, তারা এটার ব্যাপারে কোন খবর রাখে না।”
শয়তান কর্তৃক ওযীফা বলে দেয়া
____________________
শয়তান কর্তৃক ওযীফা বলে দেয়া-
সায়্যিদুনা হযরত আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) বলেন, রাসূলে পাক (ﷺ) আমাকে রামাদানের ফিতরা দেখাশুনার জন্য নিযুক্ত করেছেন। আমার কাছে এক ব্যক্তি এসে খাদ্য শস্য হতে মুষ্টি ভরে ভরে নিতে লাগল। আমি তাকে পাকড়াও করে বললাম, তোমাকে আমি রাসূল (ﷺ)’র কাছে নিয়ে যাব।
সে বলতে লাগলোঃ আমি অভাবি আমার পরিবার আছে, আমি অক্ষম। এটি শুনে তাকে আমি ছেড়ে দিলাম। যখন সকাল হল নবীয়ে পাক (ﷺ) বললেন-
يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، مَا فَعَلَ أَسِيرُكَ البَارِحَةَ؟
হে আবূ হোরায়রা, গত রাত চুর তোমার সাথে কিরূপ আচরণ করেছে? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ), যখন অনেক অনুনয়-বিনয় করল, তার উপর আমার দয়া চলে আসল, তাই তাকে ছেড়ে দিয়েছি। তখন
রাসূল (ﷺ) বললেন-
أَمَا إِنَّهُ قَدْ كَذَبَكَ، وَسَيَعُودُ
সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে এবং অচিরেই সে পুনরায় আসবে।
فَعَرَفْتُ أَنَّهُ سَيَعُودُ، لِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّهُ سَيَعُودُ، فَرَصَدْتُهُ
সুতরাং এখন আমার পূর্ণ ইয়াকিন হল যে, সে পুনরায় আসবে কেননা, এটা রাসূল (ﷺ) বলেছেন। তাই আমি তার অপেক্ষায় রইলাম। হঠাৎ সে আসল পুনরায় আমি তাকে পাকড়াও করে বললাম, তোমাকে রাসূল (ﷺ)’র কাছে নিয়ে যাব। সে বলল, আমাকে ছেড়ে দিন, আমি অভাবী, আমার উপর ছেলে সন্তানের বোঝা রয়েছে। আমি আর আসব না। তখন তার প্রতি আমার দয়া চলে আসল এবং তাকে ছেড়ে দিলাম। সকালে রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন-
يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، مَا فَعَلَ أَسِيرُكَ
হে আবূ হুরায়রা তোমার বন্দি কী করেছে? আমি আরয করলাম, হে রাসূল (ﷺ), সে আমার কাছে বেশি দরিদ্রতা প্রকাশ করে ছেলে সন্তানদের উযর পেশ করেছে। তার উপর আমার দয়া হয়েছে, তাই তাকে ছেড়ে দিয়েছি। রাসূল (ﷺ) বললেন-
أَمَا إِنَّهُ قَدْ كَذَبَكَ وَسَيَعُودُ
-‘সাবধান! সে মিথ্যা বলেছে, অচিরেই সে আবার আসবে।’
আমি তৃতীয়বার তার জন্য অপেক্ষা করলাম। সে এসে ঘুরতে লাগল। তাকে আমি পাকড়াও করলাম এবং বললাম তোমাকে রাসূূল (ﷺ)’র কাছে নিয়ে যাব। তুমি আসবে না বলে পুনরায় এসেছ। সে বলল, আমাকে ছেড়ে দাও।
أُعَلِّمْكَ كَلِمَاتٍ يَنْفَعُكَ اللَّهُ بِهَا
এমন কিছু কালিমা শিখিয়ে দেব, যেগুুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে উপকৃত করবেন। আমি বললাম, সেগুলো কি? সে (শয়তান) বলল-
إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ، فَاقْرَأْ آيَةَ الكُرْسِيِّ: {اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلَّا هُوَ الحَيُّ القَيُّومُ} [البقرة: ২৫৫]، حَتَّى تَخْتِمَ الآيَةَ، فَإِنَّكَ لَنْ يَزَالَ عَلَيْكَ مِنَ اللَّهِ حَافِظٌ، وَلاَ يَقْرَبَنَّكَ شَيْطَانٌ حَتَّى تُصْبِحَ
-‘‘রাত্রিবেলা আপনি যখন বিছানায় আসবেন, তখন আয়াতুল কুরছি শেষ পর্যন্ত তেলাওয়াত করবেন। তাহলে আল্লাহ তা’য়ালা আপনার হেফাজতের জন্য একজন ফেরেশতা পাঠাবেন। অতঃপর সকাল পর্যন্ত শয়তান আপনার কাছে আসবেনা।’’
আমি তাকে ছেড়ে দিলাম, রাসূল (ﷺ) বললেন-
مَا فَعَلَ أَسِيرُكَ البَارِحَةَ
‘হে আবূ হুরায়রা! তোমার কয়েদি কী বলেছে?’ আমি আরয করলাম, সে আমাকে এমন কিছু শব্দ শিখিয়েছে যার মাধ্যমে আল্লাহ তা’য়ালা আমাকে উপকার দেবেন।
তখন নবী করিম (ﷺ) বললেন-
أَمَا إِنَّهُ قَدْ صَدَقَكَ وَهُوَ كَذُوبٌ
সাবধান! সে বড় মিথ্যুক কিন্তু সে যা বলেছে তা সত্য।
রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করলেন, হে আবূ হুরায়রা, তুমি জান তিন দিন কার সাথে কথা বলেছো? হযরত আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) বললেন, জানিনা। রাসূল (ﷺ) বললেন, সে শয়তান। ১০৭
{১০৭. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ৩/১০১ পৃ. হা/২৩১১, খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ১/৬৫৫পৃ: হা/২১২৩, পরিচ্ছেদ: كتاب فَضَائِل الْقُرْآن, ইমাম বায়হাকী, শুয়াবুল ঈমান, ৪/৫৩ পৃ. হা/২১৭০ এবং দাওয়াতুল কাবীর, হা/৪০৬, ইমাম বাগভী, শরহে সুন্নাহ, ৪/৪৬২ পৃ. হা/১১৯৬, ইবনে আছির, জামেউল উসূল, হা/৬২৪৯, ইমাম মুনযিরী, তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/২৩৭ পৃ. হা/৯০০}
আক্বীদা:
নাবী করিম (ﷺ) সাহাবাকে অতীত ও ভবিষ্যতের ঘটনার সংবাদ দিয়েছেন এবং সাহাবাও এসব ঘটনার সত্যায়ন করেছেন। অনুরূপভাবে শয়তান মানুষের ছুরতে আসতে পারে এবং ওজীফাও বর্ণনা করে। এজন্য মুসলমানদের উচিৎ এসব লোকদের থেকে বাঁচা। এবং ওয়ায়েজ ও ওযীফা এমন হাযারাত থেকে শিক্ষা করা যাদের আক্বীদার মধ্যে রাসূল (ﷺ)’র মহত্ব ও ভালবাসা প্রকাশ পায়।
❏ আল্লামা জালালুদ্দীন রুমী (رحمة الله) বলেন-
اے بسا ابليس آدم روئ ہست
-‘‘অনেক সময় ইবলিসও আদাম সন্তানের সূরাতে দেখা দেয়।’’
স্মরণশক্তি দান করা
____________________
স্মরণশক্তি দান করা-
সায়্যিদুনা হযরত আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) বলেন, একদা নবী করিম (ﷺ) ইরশাদ করেন যে, তোমাদের যে ব্যক্তি তার কাপড় বিছিয়ে দেবে অতঃপর একে নিজ বক্ষের সাথে মিলিয়ে নিবে তাতে সে হাদিসকে স্মরণ রাখতে পারবে।
فَإِنَّهُ لَمْ يَنْسَ شَيْئًا سَمِعَهُ
-‘তবে সে কোন শোনা কথাই ভুলবে না।’
فَبَسَطْتُ بُرْدَةً عَلَيَّ، حَتَّى فَرَغَ مِنْ حَدِيثِهِ، ثُمَّ جَمَعْتُهَا إِلَى صَدْرِي، فَمَا نَسِيتُ بَعْدَ ذَلِكَ الْيَوْمِ شَيْئًا حَدَّثَنِي بِهِ
-‘‘অতঃপর আমি চাদর বিছিয়ে দিলাম। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত নবী করিম (ﷺ)’র বর্ণনাকৃত কোন হাদিস ভুলিনি।’’ ১০৮
{১০৮ . সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৯৪০ পৃ. হা/২৪৯৩, পরিচ্ছেদ: بَابُ مِنْ فَضَائِلِ أَبِي هُرَيْرَةَ الدَّوْسِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ}
আক্বিদা
স্মরণশক্তি মানুষের একটি গুণ। যেটি মানুষ কুদরতিভাবে পেয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের রাসূলে মাকবুল (ﷺ) কে আল্লাহ তা‘আলা এই ক্ষমতা দান করেছেন যে, তিনি যে কোন মানুষকে এই গুন দান করতে পারেন। কোন জিনিস কম হলে তা হাত পেতে নেয়া যায়, কিন্তু জিনিস যখন বেশি হয় তবে তা নেয়ার জন্য কাপড় বা চাদরের প্রয়োজন হয়। হুযূরে কারিম (ﷺ) তখন রাহমাতের সাগরের জোয়ারের মধ্যে ছিলেন। তাই বললেন-
أَيُّكُمْ يَبْسُطُ ثَوْبَهُ
তোমাদের মধ্যে কে আছ যে তার কাপড় বিছাবে? বুঝা গেল এটি বড় কোন দান। হযরত আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) তৎক্ষণাৎ চাদর বিছিয়ে দিলেন।
এই বিশ্বাসের উপর হুযুর (ﷺ) হিফয শক্তি দান করেছেন। হযরত আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) বলেন, সেদিন হতে আজ পর্যন্ত আমি কোন হাদিস ভুলিনি।
❏ হাকিমুল উম্মত মুফতি আহমাদ ইয়ারখাঁন গুজরাটি (رحمة الله) বলেন-
مالك ہي خزانہ قدرت كے جو جس كوچا ہيں ڈ اليں
دى خلد جناب ربيعہ بگڈ ى لاكهوں كى بنائ ہے
-‘‘তিনি কুদরতে খাজিনার (ধনভাণ্ডারের) মালিক যাকে চান দিয়ে দেন,
হযরত রবাঈকে জান্নাত দান করেছেন, লক্ষ বঞ্চিতকে তিনি করেছেন সৌভাগ্যবান।’’
নেক আমল দ্বারা গুনাহ মাফ হওয়া
____________________
নেক আমল দ্বারা গুনাহ মাফ হওয়া-
সায়্যিদুনা হযরত আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) বলেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন- একব্যক্তি রাস্তায় হাঁটছিল, রাস্তায় সে একটি কাটাযুুক্ত গাছের ডাল দেখতে পেল। ডালটি নিয়ে একপাশে রেখে দিল।
فَشَكَرَ اللهُ لَهُ، فَغَفَرَ لَهُ
-“অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তার এ নেক আমাল কবূল করেছেন এবং তাকে ক্ষমা করে দিলেন।”
(ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, ৩/১৫২১ পৃ. হা/১৯১৪)
আক্বিদা
নেক কাজের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা গুনাহ ক্ষমা করে দেন। এ কারণে আহলে সুন্নাত ওয়াল জা‘আমাত মুসলমানদের জন্য ঈসালে সাওয়াব করেন। কেননা মৃত ব্যক্তিদের জন্য কুরআন তিলাওয়াত করে ইসালে সাওয়াব করলে আল্লাহ তা‘আলা গুনাহ ক্ষমা করে দেন।
আল্লাহর ওলীদের স্থান
____________________
আল্লাহর ওলীদের স্থান-
হযরত আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) ইরশাদ করেন, রাসূল (ﷺ) তাঁর নূরাণী জবানে বলেছেন-
رُبَّ أَشْعَثَ، مَدْفُوعٍ بِالْأَبْوَابِ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللهِ لَأَبَرَّهُ
-‘‘ধূলায় মিশ্রিত চুলবান এবং দরজা সমূহ থেকে তাড়িতদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে, তারা যদি আল্লাহর উপর ভরসা করে শপথ করেন তবে আল্লাহ তা‘আলা তাদের শপথকে সত্য হিসেবে পরিণত করেন।’’ ১০৯
{১০৯ . সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/২০২৪ পৃ. হা/২৬২২, পরিচ্ছেদ: بَابُ فَضْلِ الضُّعَفَاءِ وَالْخَامِلِينَ}
আক্বিদা
আল্লাহর ওলীগণ আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর প্রিয় রাসূল (ﷺ)’র আদেশ এবং আহকাম সমূহ পালন করার মাধ্যমে এমন মাক্বাম অর্জিত হয় যে, তারা যেরূপ বলেন আল্লাহ তা‘আলা তার বাস্তবায়ন করেন। এই মাক্বাম ও মর্যাদাটি মহান আল্লাহ তাদেরকে দান করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন-
ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ
-‘‘এটা মহান আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করেন।’’ ১১০
{১১০ . সূরা মায়িদা: ৫৪। }
আল্লাহর ওলীদের “হ্যাঁ” সূচক বা বাস্তবিক মক্বাম
____________________
আল্লাহর ওলীদের “হ্যাঁ” সূচক বা বাস্তবিক মক্বাম-
সৈয়্যদুনা হযরত আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলে কারিম (ﷺ) ইরশাদ করেন-
إِنَّ اللهَ إِذَا أَحَبَّ عَبْدًا دَعَا جِبْرِيلَ فَقَالَ: إِنِّي أُحِبُّ فُلَانًا فَأَحِبَّهُ، قَالَ: فَيُحِبُّهُ جِبْرِيلُ، ثُمَّ يُنَادِي فِي السَّمَاءِ فَيَقُولُ: إِنَّ اللهَ يُحِبُّ فُلَانًا فَأَحِبُّوهُ، فَيُحِبُّهُ أَهْلُ السَّمَاءِ، قَالَ ثُمَّ يُوضَعُ لَهُ الْقَبُولُ فِي الْأَرْضِ
-‘‘নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন বান্দাকে মুহাব্বাত করেন, তখন জিব্রা‘ঈল (عليه السلام) কে ডেকে বলেন, আমি অমুক বান্দাকে ভালবাসি তুমিও তাকে ভালবাস। জিবরাঈল (عليه السلام) তাকে ভালবাসেন। অতঃপর জিবরাঈল (عليه السلام) আসমানে ঘোষণা করে বলেন, আল্লাহ তা‘আলা অমুক ব্যক্তিকে ভালবাসেন তোমরাও তাকে ভালবাস। সুতরাং আসমান বাসিরা তাকে ভালবাসেন এবং তিনি বলেন, অতঃপর তাকে যমীনে গ্রহণযোগ্যতা দান করা হয়। ১১১
{১১১ . সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/২০৩০ পৃ. হা/২৬৩৭, পরিচ্ছেদ: بَابُ إِذَا أَحَبَّ اللهُ عَبْدًا حَبَّبَهُ لِعَبَادِهِ , ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল আওসাত, ৫/১৭৯ পৃ. হা/৫০০১, ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, ১৩/৬৩ পৃ. হা/৭৬২৫, মুসনাদি আবি ই‘য়ালা, ১২/৩৯ পৃ. হা/৬৬৮৫, ইমাম আবু নুয়াইম ইস্পাহানী, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৩/২৫৮ পৃ., মুসনাদে বায্যার, হা/৮৩৯২, ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ৪/১১ পৃ. হা/৩২০৯, সহীহ ইবনে হিব্বান, ২/৮৫ পৃ. হা/৩৬৪}
আক্বিদা
আল্লাহর ওলীদের সাথে মুহাব্বাত রাখা আল্লাহর সুন্নত তাঁদেরকে যারা ভালবাসেন, আল্লাহ তা‘আলা তাঁদের উপর খুশি হন। আল্লাহর ওলীদের প্রসিদ্ধতা এবং গ্রহণযোগ্যতা আল্লাহ তা‘আলা নিজেই করেছেন এবং আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে বড় মর্যাদা ও সম্মানের মাধ্যমে প্রতিপালন করেন। তাদেরকে বড় ক্ষমতা এবং ইখতিয়ার দান করেন।
❏ হাদীসে কুদসীর মধ্যে আছে-
كُنْتُ سَمْعَهُ الَّذِي يَسْمَعُ بِهِ، وَبَصَرَهُ الَّذِي يُبْصِرُ بِهِ، وَيَدَهُ الَّتِي يَبْطِشُ بِهَا، وَرِجْلَهُ الَّتِي يَمْشِي بِهَا، وَإِنْ سَأَلَنِي لَأُعْطِيَنَّهُ، وَلَئِنِ اسْتَعَاذَنِي لَأُعِيذَنَّهُ
-‘‘মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, আমি তাদের কান হয়ে যাই যা দ্বারা তারা শুনেন, তাদের চোখ হয়ে যাই, যা দ্বারা তারা দেখেন, তাদের পা হয়ে যাই, যা দ্বারা তারা চলেন, তাদের হাত হয়ে যাই, যা দ্বারা তারা ধরেন। তারা যদি আমার কাছে কিছু প্রার্থনা করে অবশ্যই আমি তা কবুল করি।’’ ১১২
{১১২ . সহীহ বুখারী শরীফ, ৮/১০৫ পৃ. হা/৬৫০২, পরিচ্ছেদ: بَابُ التَّوَاضُعِ , ইমাম বায়হাকী, আস-সুনানুল কোবরা, ৩/৪৮২ পৃ. হা/৬৩৯৫, মুসনাদে বায্যার, হা/৮৭৫০, ইমাম বাগভী, শরহে সুন্নাহ, ৫/১৯ পৃ. হা/১২৪৭, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, হা/২২৬৬}
রাসূল (ﷺ) সর্বপ্রথম সৃষ্টি এবং শাফা‘আতক
____________________
রাসূল (ﷺ) সর্বপ্রথম সৃষ্টি এবং শাফা‘আতকারী-
❏ ইমাম বায়হাকী (رحمة الله) বর্ণনা করেন-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَمَّا خَلَقَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ آدَمَ خَيَّرَ لِآدَمَ بَنِيهِ، فَجَعَلَ يَرَى فَضَائِلَ بَعْضِهِمْ عَلَى بَعْضٍ، قَالَ: فَرَآنِي نُورًا سَاطِعًا فِي أَسْفَلِهِمْ، فَقَالَ: يَا رَبِّ مَنْ هَذَا؟ قَالَ: هَذَا ابْنُكَ أَحْمَدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخَرُ وَهُوَ أَوَّلُ شَافِعٍ
-‘‘হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, যখন আল্লাহ তা‘আলা হযরত আদম () কে সৃষ্টি করলেন, তখন তাকে তাঁর সন্তান-সন্ততি দেখালেন। হযরত আদম () তাদের পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব নিরীক্ষা করতে থাকেন। অবশেষে তিনি একটি চমকদার (উজ্জল) নূর দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসা করলেন : হে পরওয়ারদিগার! এ কার নূর? আল্লাহ তা‘আলা বললেন, এ তোমার আওলাদ, তাঁর নাম (আসমানে) আহমদ (ﷺ)। তিনি (সৃষ্টিতে) প্রথম ও তিনি প্রেরণে (নবীদের) সবার শেষ, তিনি সর্বপ্রথম শাফায়াতকারী।’’ ১১৩
{১১৩ .
ক. ইমাম বায়হাকী : দালায়েলুল নবুয়ত : ৫/৪৮৩ পৃ. দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন।
খ. ইমাম সুয়ূতি : খাসায়েসুল কোবরা : ১/৭০ পৃ. হাদিস : ১৭৩
গ. আল্লামা ইমাম ইবনে আসাকির : তারিখে দামেস্ক : ৭/৩৯৪-৩৯৫ পৃ. দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন।
ঘ. ইমাম যুরকানী : শরহুল মাওয়াহেব, ১/৪৩ পৃ., দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন।
ঙ. মুত্তাকী হিন্দী : কানযুল উম্মাল : ১১/৪৩৭ পৃ. হা/৩২০৫৬, মুয়াস্সাতুর রিসালা, বয়রুত, লেবানন।
চ. আবু সা‘দ নিশাপুরী, শরফুল মুস্তফা, ৪/২৮৫পৃ.
ছ. কাস্তাল্লানী, মাওয়াহেবে লাদুন্নীয়া, ১/৪৯পৃ.
জ. দিয়ার বকরী, তারীখুল খামীস, ১/৪৫পৃ.
ঝ. র্সারাজ, হাদিসাহ, হাদিস নং.২৬২৮
ঞ. ইবনে হাজার আসকালানী, আল-মুখাল্লিসিয়্যাত, ৩/২০৭পৃ. হাদিসঃ ২৩৪০,
ট. সালিম র্জারার, আল-ইমা ইলা যাওয়াইদ, ৬/৪৭৮পৃ. হা/৬০৮৩
ঠ. ইবনে সালেহ শামী, সবলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, ১/৭১পৃ. দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন।
ড. ইফরাকী, মুখতাসারে তারীখে দামেস্ক, ২/১১১পৃ.}
আক্বিদা
এ হাদিস থেকে বুঝা যায় যে হযরত সায়্যিদিনা আদম (عليه السلام) রাসূল (ﷺ) কে নূর রূপেই দেখে ছিলেন, আর তিনি মহান রবের কাছে পরিচয় জানতে চাইলে আহমদ (ﷺ) বলেছেন রুহে আহমদ (ﷺ) বলেননি। সকলেরই জানা যে রুহকে বান্দা বলা হয় না। তাই এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হল যে সর্ব প্রথম রাসূল (ﷺ)-এর নূরানী জিসম মোবারককে সৃষ্টি করা হয়েছে। ১১৪
{১১৪. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
নবীয়ে পাক (ﷺ)’র প্রিয় বস্তুকে ভালবাসা
____________________
সায়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিআল্লাহু তা‘আলা আনহু’র আক্বীদা
নবীয়ে পাক (ﷺ)’র প্রিয় বস্তুকে ভালবাসা-
❏ সায়্যিদুনা হযরত আনাস (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে,
إِنَّ خَيَّاطًا دَعَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِطَعَامٍ صَنَعَهُ، قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ: فَذَهَبْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى ذَلِكَ الطَّعَامِ، فَقَرَّبَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُبْزًا مِنْ شَعِيرٍ وَمَرَقًا فِيهِ دُبَّاءٌ وَقَدِيدٌ، قَالَ أَنَسٌ: فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَتَبَّعُ الدُّبَّاءَ مِنْ حَوَالَيِ الصَّحْفَةِ، قَالَ: فَلَمْ أَزَلْ أُحِبُّ الدُّبَّاءَ مُنْذُ يَوْمَئِذٍ
এক দর্জী রাসূলে করিম (ﷺ) কে দাওয়াত দিয়েছেন, সে কিছু খাবার তৈরি করল। এই দাওয়াতে আমি (আনাস ইবনে মালিক) রাসূূল (ﷺ)’র সাথে যাই। এর পর খাওয়ার জন্য দর্জি রাসূল (ﷺ)’র সামনে যবের রুটি, লাউয়ের সুরয়া এবং ভুনা গোশত আনা হয়। তখন আমি দেখতে পাই যে, রাসূল (ﷺ) লাউয়ের টুকরা তালাশ করছেন। এই দিন থেকে আজ পর্যন্ত আমিও লাউকে ভালবাসি।’’ ১১৫
{১১৫. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৩/১৬১৫ পৃ. হা/২০৪১, পরিচ্ছেদ: بَابُ جَوَازِ أَكْلِ الْمَرَقِ, ইমাম বায়হাকী, আস-সুনানুল কোবরা, ৭/৪৪৬ পৃ. হা/১৪৫৯৫ এবং শুয়াবুল ঈমান, ৮/৪৫ পৃ. হা/৫৪৭৭, সুনানে আবি দাউদ, ৩/৩৫০ পৃ. হা/৩৭৮২, ইমাম খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ২/১২১৩ পৃ. হা/৪১৮০, পরিচ্ছেদ: كتاب الْأَطْعِمَة}
আক্বীদা
নবী করিম (ﷺ)’র পছন্দনীয় বস্তুকে ভালবাসা মুস্তাহাব এবং এই বস্তু সমূূহ খোঁজ করা বৈধ। এ কারণে রাসূল (ﷺ)’র তাবাররুককে সাহাবায়ে কেরাম ভালবাসতেন। রাসূল (ﷺ)’র চুল মুবারক এবং তাঁর ওজুর পানি সাহাবায়ে কিরাম শরীরে মালিশ করতেন।
আঙ্গুলের মধ্যে ফয়েজ
____________________
আঙ্গুলের মধ্যে ফয়েজ-
সায়্যিদুনা আনাস (رضي الله عنه) বলেন, আমি রাসূল (ﷺ) কে দেখেছি যে, আসরের নামাযের সময় হল, লোকেরা পানি খুঁজতেছে, কিন্তু পানি পাওয়া গেল না। অতঃপর রাসূল (ﷺ)’র কাছে কিছু পানি আনা হল।
فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ذَلِكَ الإِنَاءِ يَدَهُ
তখন রাসূল (ﷺ) তাঁর বরকতময় হাত মুবারক পানির পাত্রে রাখলেন এবং সাহাবায়ে কিরামগণকে ওযূ করার নির্র্দেশ দিলেন।
فَرَأَيْتُ المَاءَ يَنْبُعُ مِنْ تَحْتِ أَصَابِعِهِ حَتَّى تَوَضَّئُوا مِنْ عِنْدِ آخِرِهِمْ
আমি দেখলাম যে, রাসূল (ﷺ)’র আঙ্গুুল মুবারকের নীচ থেকে পানি বের হচ্ছে এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত সাহাবায়ে কেরাম (رضي الله عنه) ওজু করলেন। হযরত আবূ হামজাহ (رضي الله عنه) বলেন, এ সময় প্রায় তিন শত সাহাবা ছিলেন। ১১৬
{১১৬. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ১/৪৫ পৃ. হা/১৬৯, পরিচ্ছেদ: بَابُ التِمَاسِ الوَضُوءِ إِذَا حَانَتِ الصَّلاَةُ , সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৭৮৩ পৃ. হা/২২৭৯, পরিচ্ছেদ: بَابٌ فِي مُعْجِزَاتِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ}
আক্বিদা
নবী পাক (ﷺ) ছিলেন উপমাহীন, বরং তাঁর পবিত্র শরীর মোবারকের প্রতিটি অঙ্গ ছিল দৃষ্টান্তহীন। এটার দ্বারা বুঝা গেল যে, কম জিনিসকে বেশি করার ক্ষমতা আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর প্রিয় হাবীব (ﷺ) কে দান করেছেন। আর সাহাবায়ে কেরাম (رضي الله عنه) হুজুর পুরনূর (ﷺ)’র ফয়েয দ্বারা ধন্য হতেন।
❏ কবি বলেন-
انگلياں ہيں فيض پر ٹو ٹے ہيں پيا سے چہوم كر
ندياں پنجاب رحمت كى ہيں جارى واه واه
-‘‘তাঁর আঙুল মুবারক ছিল দান দক্ষিণায়, পিপাসার্তরা এসে ভীড় জমালো,
(তিনি) তাঁর রহমতের তালু হতে নদী যারী (প্রবাহিত) করলেন।’’
তারকারাজীর সংখ্যার জ্ঞান
____________________
তারকারাজীর সংখ্যার জ্ঞান-
সায়্যিদুনা হযরত আনাস (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন যে, আমার হাউযের পরিমাণ এতটুকু যে, ইয়ামান এবং সান‘আর মধ্যে যতটুকু দূরত্ব বিদ্যমান। তিনি আরও বলেন-
وَإِنَّ فِيهِ مِنَ الأَبَارِيقِ كَعَدَدِ نُجُومِ السَّمَاءِ
-‘‘এবং এর পাত্র সংখ্যা আসমানের তারকার সমপরিমাণ।’’ ১১৭
{১১৭. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ৮/১১৯ পৃ. হা/৬৫৮০, পরিচ্ছেদ: بَابٌ فِي الحَوْضِ, সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮০০ পৃ. হা/২৩০৩, পরিচ্ছেদ: بَابُ إِثْبَاتِ حَوْضِ نَبِيِّنَا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاتِهِ}
আক্বিদা
আসমানের তারকার সংখ্যা কত তা কারো জানা নেই। কিন্তু আমাদের নবী (ﷺ)’র কাছে আসমানের তারকার সংখ্যা কত তার জ্ঞানও আছে। এজন্যই তিনি বলেছেন আসমানের তারকার সংখ্যা যত, হাউজে কাউসারের পাত্রের সংখ্যাও ততগুলো।
উম্মুল মু‘মিনীন হযরত আয়িশা (رضي الله عنه)’র বর্ণনা থেকেও এই হাক্বীকাতটি প্রকাশ হয়। যেখানে তিনি নবী করিম (ﷺ)’র কাছে জানতে চাইলেন যে,
يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ يَكُونُ لِأَحَدٍ مِنَ الْحَسَنَاتِ عَدَدُ نُجُومِ السَّمَاءِ؟ قَالَ: نَعَمْ عُمَرُ
আসমানের তারকারাজির সংখ্যা পরিমাণ কার নেক আমল রয়েছে? এর উত্তরে নবী করিম (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, তা হল হযরত উমর (رضي الله عنه)’র নেক।’’ ১১৮
{১১৮. খতিবে বাগদাদী, তারিখে বাগদাদ, ৭/১৪০ পৃ. ক্রমিক./৩৫৭৮, ইমাম খতিব তিবরিযি, মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩/১৭১১ পৃ. হা/৬০৬৮, পরিচ্ছেদ: بَابِ مَنَاقِبِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا, ইমাম ইবনে আছির, জামিউল উসূল, ৮/৬৩২ পৃ. হা/৬৪৬৬, মোল্লা আলী ক্বারী, মিরকাত, ৯/৩৯১৭ পৃ. হা/৬০৬৮ }
কেননা উম্মুল মু‘মিনীন (رضي الله عنه)’র প্রশ্নের উত্তর তিনিই দেবেন যিনি আসমানের তারকার সংখ্যা কত তা জানেন। আর যে ব্যক্তির নাম বলেছেন তাঁর নেকীর সংখ্যা কত তাও জানেন। সুতরাং বুঝা গেল আমাদের নবীজী (ﷺ)’র কাছে তারকার সংখ্যার ‘ইলম রয়েছে।
ঘোড়ার তেজকে ধীরগতি করণ
____________________
ঘোড়ার তেজকে ধীরগতি করণ-
সায়্যিদুনা হযরত আনাস (رضي الله عنه) বলেন, রাসূূল (ﷺ) ছিলেন সবচাইতে বেশি সুন্দর, সবচাইতে বেশি দানশীল এবং সবচেয়ে বেশি সাহসী। একরাতে মাদিনা বাসীরা ভীত সন্ত্রস্ত হল। সাহাবায়ে কিরাম এই বিকট শব্দের দিকে গেলেন, রাসূল (ﷺ) ঐ স্থানে পুনরায় এসে মিলিত হন। রাসূূূল (ﷺ) হযরত তালহা (رضي الله عنه)’র ঘোড়ার খালি পিটে আরোহী ছিলেন। রাসূূল (ﷺ)’র বরকতময় গর্দান মুবারকে তলোয়ার ছিল। রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমাদেরকে এটি ভীত সন্ত্রস্ত করেনি। তিনি বলেন-
وَجَدْنَاهُ بَحْرًا، أَوْ إِنَّهُ لَبَحْرٌ
আমি একে বহমান সমুদ্রের শব্দের মতো পেয়েছি অথবা এটি সমুদ্র ছিল।
হযরত আনাস (رضي الله عنه) বলেন,
وَكَانَ فَرَسًا يُبَطَّأُ
-‘‘এই ঘোড়াটি অতি ধীর গতিতে চলল।’’ ১১৯
{১১৯. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮০২ পৃষ্ঠা, হা/২৩০৭, রাসূল (দ.)’র বীরত্ব অধ্যায়, সহীহ বুখারী, ৪/৩৯ পৃ. হা/২৯০৮, ।}
আক্বিদা
নাবীয়ে পাক (ﷺ) যেরূপ বাহাদুর এবং সাহসী ছিলেন অন্য কেউ এরূপ ছিল না। তিনি যেরূপ দানশীল ছিলেন অন্য কেউ এরূপ ছিল না। তাঁর পবিত্র শরীর মোবারক ঘোড়ার সাথে স্পর্র্শ হওয়ার কারণে ওই তজস্বী ঘোড়া মন্থরগতি সম্পন্ন হয়েছে। নবী আকরাম (ﷺ)’র পবিত্র বারকত মন্ডিত শরীর মোবারক অনেক বরকতবান এবং উপকার দানকারী।
হাত মোবারক থেকে বরকত অর্জন করা
____________________
হাত মোবারক থেকে বরকত অর্জন করা-
সায়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনু মালিক (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, রাসূলে পাক (ﷺ) যখন ফজরের নামায শেষ করতেন, তখন মদিনা মুনাওয়ারার খাদেমগণ পানি ভর্তি পাত্র নিয়ে রাসূল (ﷺ)’র নিকট উপস্থিত হতেন। তখন রাসূল (ﷺ) প্রত্যেক পাত্রের মধ্যে নিজের হাত মোবারক ডুবাতেন। শীতকালীন কয়েকটি সকালে তিনি এরূপ করতেন।
فَيَغْمِسُ يَدَهُ فِيهَا
-‘রাসূল (ﷺ) নিজের হাত মুবারক তাতে ডুবাতেন।’ ১২০
{১২০. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮১২ পৃ, হা/২৩২৪, মিশকাত, ৩/১৬১৭ পৃ. হা/৫৬০৮, মুসনাদে বায্যার, ১৩/৩২৯ পৃ. হা/৬৯২৯, ইমাম বাগভী, শরহে সুন্নাহ, ১৩/২৪৪ পৃ. হা/৩৬৭৭}
আক্বিদা
মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা আবু মালেকী (رحمة الله) এই হাদিসে পাকের ব্যাখ্যায় লেখেন যে, সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) নবী করিম (ﷺ)’র হাত মুবারকের স্পর্শ থেকে বারকাত অর্জন করার জন্য পানির মধ্যে হাত লাগিয়েছেন। বুঝা গেল সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه)’র দৃষ্টিতেও রাসূল (ﷺ)’র হাত মোবারক বরকত এবং উপকার দানকারী। এটাও বুঝা গেল যে, বুজর্গগণের হাত মোবারক কোন বস্তুর সাথে স্পর্শ হলে তা বরকত মন্ডিত হয়।
চুল মুবারক এবং সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه)’র আক্বিদা
____________________
চুল মুবারক এবং সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه)’র আক্বিদা-
সায়্যিদুনা হযরত আনাস (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, আমি দেখেছি যে, নাপিত রাসূল (ﷺ)’র মাথা মুবারক মুন্ডাতেন, আর সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) তাঁর চারিদিকে ঘুরাফেরা করতেন।
فَمَا يُرِيدُونَ أَنْ تَقَعَ شَعْرَةٌ إِلَّا فِي يَدِ رَجُلٍ
-‘‘তাঁরা চাইতেন যে, অন্ততঃ একখানা চুল মুবারাক তাঁদের কারো হাতে পড়ন।’’ ১২১
{১২১. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮১২ পৃ, হা/২৩২৫, ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, ১৯/৩৬৩ পৃ. হা/১২৩৬৩, ইমাম বায়হাকী, আস-সুনানুল কোবরা, ৭/১০৮ পৃ. হা/১৩৪১১, ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ১১/২০৪ পৃ. হা/৮৮০৪}
আক্বিদা
সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) রাসূল (ﷺ)’র চুল মুবারক তাবাররুক হিসাবে উঠাতেন, এবং নিজেদের কাছে রাখতেন। আর এর দ্বারা ফায়দা হাসিল করতেন।
❏ আল্লামা বাদরুদ্দীন আইনী (رحمة الله) এবং অন্যান্য সিরাত লেগণ লিখেছেন যে,
أَلا تى أَنَّ خَالِدْ بْنِ الْوَلِيْدِ، رَضِي اللهُ عَنْهُ، جَعَلَ فِي قَلَنْسُوَتِهِ مِنْ شَعْرِ رَسُوْلِ اَللهِ، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَكَانَ يَدْخُلُ بِهَا فِي الْحَرْبِ وَيَسْتَنْصِرُ بِبَرْكَتِهِ
-‘‘হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (رضي الله عنه) তাঁর টুপির মধ্যে রাসূল কারিম (ﷺ)’র চুল মোবারক রাখতেন। আর তিনি এটা নিয়েই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন এবং এর বারকাতে সাহায্য প্রার্থনা করতো।’’ ১২২
{১২২. আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী, উমদাতুল কারী শরহে সহীহ বুখারী, ৩য় খণ্ড, ৩৭ পৃ., দারু ইহ্ইয়াউত তুরাসুল আরাবী, বয়রুত, লেবানন, ইমাম কাযি আয়ায, আশ-শিফা, ২য় খন্ড, ৫৬ পৃ:, শিহাবুদ্দীন খিফ্ফাযী, নাসিমুর রিয়াদ্ব, ৩ খণ্ড, পৃ: ৪৩৪}
❏ ইমাম কাযি আয়্যাদ (رحمة الله) ঘটনাটি এভাবে উল্লেখ করেন-
وَكَانَتْ فِي قَلَنْسُوَةِ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ شَعَرَاتٌ مِنْ شَعَرِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.. فَسَقَطَتْ قَلَنْسُوَتُهُ فِي بَعْضِ حُرُوبِهِ فَشَدَّ عَلَيْهَا شَدَّةً أَنْكَرَ عَلَيْهِ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَثْرَةَ مَنْ قُتِلَ فِيهَا
-‘‘হযরত খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (رضي الله عنه) তাঁর টুপির মধ্যে (যুদ্ধ ক্ষেত্রে) রাসূল (ﷺ)-এর চুল মোবারক রাখতেন।......এক যুদ্ধে তিনি সে চুল ওয়ালা টুপি নিতে পারেননি অনেক সাহাবী এতে তাকে হেয় পতিপন্ন করলেন কেননা (এ বারকাত শূণ্য হওয়ায়) এজন্য অনেক মুসলমান শহীদ হতে হয়।’’ ১২৩
{১২৩. ইমাম কাযি আয়্যাদ, শিফা শরীফ, ২/১২৭ পৃ.}
ইমাম আবু ই‘য়ালা (رحمة الله) এই হাদিসটি সনদসহ সহীহভাবে সংকলন করেন। ১২৪
{ ১২৪. ইমাম আবু ই‘য়ালা, আল-মুসনাদ, ১৩/১৩৮ পৃ. হা/৭১৮৩}
মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাকার ইমাম আবু ফযল কাযি আয়্যাদ মালেকী (رحمة الله) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন যে, সাহাবায়ে কেরাম (رضي الله عنه) রাসূলে পাক (رضي الله عنه)’র চুল মোবারক তাবাররুক হিসেবে রাখতেন এবং এটাকে তা’জিম ও সম্মান জানাতেন। ১২৫
{১২৫. ইমাম কাযি আয়াজ মালেকী, শরহে সহীহ মুসলিম, ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃ: ৪৭৪, (دار الوفاء للطباعة والنشر والتوزيع، مصر) মিশর হতে ১৪১৯ হিজরীতে প্রকাশিত।}
উম্মুল মু‘মিনীন সায়্যিদুনা উম্মু সালমা (رضي الله عنه)’র কাছে রৌপ্যের একটি ডিব্বা ছিল। এর মধ্যে তিনি নবী করিম (ﷺ)’র চুল মুবারক রাখতেন। তাঁর কাছে যখন কোন অসুস্থ ব্যক্তি আসত, তিনি ওই রৌপ্যের ডিব্বাটি পাত্রের মধ্যে নিয়ে নাড়াচড়া করতেন এবং এর মধ্যে পানি দিতেন, অসুস্থ ব্যক্তি পানিগুলো পান করলে সুস্থ হয়ে যেতেন। ১২৬
{১২৬. সহীহ বুখারী শরীফ, ৭ম খণ্ড, পৃৃ: ১৬০, হা/৫৮৯৬, খতিব তিবরিযি, মিশকাত পৃ. শরীফ, ২/১২৭০পৃ., হা/৪৪৮০।}
সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه)’র এই আমলগুলো ছিল, এর ব্যাপারে রাসূল (ﷺ)’র কোন বাণী পাওয়া যায় না, কিন্তু সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) রাসূল (ﷺ)’র সামনে এই আমলগুলো কেন করেছেন? শুধুমাত্র তাদের মহব্বত এবং আক্বীদা তাদেরকে বাধ্য করেছে।
বুঝা গেল কোন আমল মহব্বত বা আক্বীদার কারণে করা হলে তা বৈধ, যদিওবা এ ব্যাপারে রাসূূলে করিম (ﷺ)’র কোন বাণী পাওয়া না যায়।
আর এর জন্য দলিল চাওয়া যে, রাসূল (ﷺ) কী এর হুকুম দিয়েছেন বা এরূপ তিনি করেছেন? স্পষ্টত এটা ভুল।
কোন কোন দল এরূপ তালাশ করে। সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) এর আমল এবং রাসূূল (ﷺ) কর্তৃক নিষেধ না করার কারণে তাদের ধ্যান-ধারণা বদলানো উচিত। আর যারা আমল করে তাদের সমালোচনা না করা উচিত।
হযরত আনাস (رضي الله عنه)’র অসিয়ত
____________________
হযরত আনাস (رضي الله عنه)’র অসিয়ত-
বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইবনু হাজার আসকালানী (رحمة الله) বর্ণনা করেন যে,
وَرَوٰى اِبْنُ السَّكَنِ، مِنْ طَرِيْقِ صَفْوَاَنْ بْنِ هُبَيْرَةَ، عَنْ أَبِيْهِ، قَالَ: قَالَ لِي ثَابِتُ البَنَانِيّ: قَالَ لِي أَنَسْ بْنِ مَالِكْ: هَذِهِ شَعْرَةٌ مِنْ شَعْرِ رَسُوْلِ اللَّه صَلّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَضَعْهَا تَحْتَ لِسَانِيْ قَالَ: فَوَضَعْتُهَا تَحْتَ لِسَانِهِ، فَدُفِنَ وَهِيَ تَحْتَ لِسَانِهِ
-‘‘ইমাম ইবনে সাকান (رحمة الله) তিনি ছাফওয়ান ইবনে হুবাইরা (رحمة الله) এর সূত্রে তিনি তার পিতার সূত্রে তিনি বলেন, হযরত ছাবিত বেনানী (رحمة الله) বলেন, আমাকে সৈয়্যিদুনা হযরত আনাস (رضي الله عنه) {তাঁর নিকট থাকা রাসূল (ﷺ)’র চুল মোবারক ছিল সম্পর্কে) অসিয়ত করেছিলেন যে, এগুলো হলো রাসূল (ﷺ)-এর চুল মোবারক। আমার যখন ইন্তেকাল হবে এই চুল মোবারক আমার মুখের নিচে রাখবে, হযরত ছাবিত বুনানী (رضي الله عنه) বলেন-
فَضَعْهَا تَحْتَ لِسَانِيْ قَالَ: فَوَضَعْتُهَا تَحْتَ لِسَانِهِ، فَدُفِنَ وَهِيَ تَحْتَ لِسَانِهِ
-‘‘সুতরাং আমি ওই চুল মোবারক তাঁর মুখের নিচে রাখলাম এবং তাকে দাফন করা হল। ওই চুল মুবারক এখনো পর্যন্ত তাঁর মুখের নীচে রয়েছে।’’ ১২৭
{১২৭. ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী, ইসাবা ফি তামিজিল সাহাবা, ১ম খন্ড, পৃ: ২৭৬, দারুল কুতুব ইলমিয়্যা, বয়রুত, লেবানন, প্রকাশ. ১৪১৫ হি., আল্লামা আইনী, উমদাতুল কারী শরহে বোখারী, ২য় খন্ড, ২৩৭ পৃ:, মিশর থেকে প্রকাশিত।}
আক্বিদা:
সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه)’র আক্বীদা ছিল যে, নবী করিম (رضي الله عنه)’র চুল মুবারকের বরকত কবরেও কাজে আসবে। এজন্যই তো অসিয়ত করেছেন। আর এই অসিয়তের উপর হযরত ছাবেত বেনানী (رحمة الله) আমল করেছেন। হযরত ছাবিত বেনানী ওই মহান ব্যক্তিত্ব যাকে মর্তবাবান মুহাদ্দিসগণ দেখেছেন যে, দাফনের সময় তিনি কবরে নামায পড়তেছেন। যেটি বর্ণনা করেছেন, দেওবন্দী তাবলীগ জামাতের মৌলভি যাকারিয়া ছাহিব সাহরানপুরী। ১২৮
{১২৮. ফাযায়েলে নামায, ৩য় অধ্যায়ের খুশু-খুজু’র বর্ণনায়। এ বিষয়টি নিয়ে আমি আমার লিখিত ‘প্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানোর স্বরূপ উন্মোচন’ ২য় খণ্ডের ৩০০-৩০১ পৃষ্ঠায় এ বিষয়ে আলোকপাত করেছি।}
হযরত দাতা গঞ্জে বখ্শ আলী হাজওয়ারী (رضي الله عنه) আবুল আব্বাস মাহদী সায়ারী (رحمة الله)’র ব্যাপারেও এরূপ অসিয়তের কথা বর্ণনা করেছেন। তাঁর কাছে হুযূরে পাক (ﷺ)’র দুইটি চুল মোবারক ছিল। তিনি অসিয়ত করেন যে, এ দুটি চুল মোবারক আমার মুখের উপর রাখবে। সুতরাং এরূপ করা হয়েছে। হযরত দাতা গঞ্জে বখ্শ ‘আলী হাজওয়ারী (ﷺ) বলেন যে, তাঁর কবর মোবারক মরওয়ের মধ্যে লোকেরা এখানে নিজেদের হাজত নিয়ে আসে। আর নিজেদের প্রয়োজন ও হাজত তালাশ করে। তাদের হাজত পূর্ণও হয়। আর এটি পরীক্ষিত। ১২৯
{১২৯. কাশফুল মাহজুব, (ফার্সী), পৃ: ১৪৩।}
বুঝা গেল যে, আল্লাহর ওলীগণও এই আক্বীদা পোষণ করেন যে, প্রিয় নবী (ﷺ)’র চুল মোবারকের বরকতের কারণে হাজত ও মুশকিলের সমাধান হয়।
হাজত রওয়া রাসূল (ﷺ)
____________________
হাজত রওয়া রাসূল (ﷺ)-
❏ সায়্যিদুনা হযরত আনাস (رضي الله عنه) বলেন, এক মহিলার বিবেকে কিছু ত্র“টি ছিল, সে বলতে লাগল,
يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ لِي إِلَيْكَ حَاجَةً
-‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনার কাছে আমার কিছু হাজত আছে।’ তিনি বললেন, হে অমুকের মা, যে গলিতে ইচ্ছা অপেক্ষা কর, আমি তোমার হাজত পূর্ণ করব। অতঃপর রাসূূল (ﷺ) রাস্তায় তার সাথে কথা বললেন এবং তার হাজত পূর্ণ করেন। ১৩০
{১৩০. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮১২ পৃ, হা/২৩২৬, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৬১৮পৃ., হা/৫৮১০, ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল আওসাত, ৮/১২৫ পৃ. হা/৮১৬৭, সুনানি আবি দাউদ, হা/৪৮১৮}
আক্বিদা
নবীয়ে পাক (ﷺ)’র দরবারে সাহাবায়ে কিরামগণ হাজাত নিয়ে আসতেন, আর রাসূল (ﷺ) তাদের হাজাত পূর্ণ করতেন।
পবিত্র শরীর মোবারক থেকে সুগন্ধি
____________________
পবিত্র শরীর মোবারক থেকে সুগন্ধি-
❏ সায়্যিদুনা হযরত আনাস (رضي الله عنه) বলেন যে,
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَزْهَرَ اللَّوْنِ كَانَ عَرَقُهُ اللُّؤْلُؤُ إِذَا مَشٰى تَكَفَّأَ وَمَا مَسَسْتُ دِيْبَاجَةً وَلَا حَرِيرًا أَلْيَنَ مِنْ كَفِّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا شمَمتُ مِسْكاً وَلَا عَنْبَرَةً أَطْيَبَ مِنْ رَائِحَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
রাসূল (ﷺ)’র রং অতি পরিস্কার এবং উজ্জ্বল ছিল। তাঁর ঘাম মুবারক ছিল বাতির মতো। তিনি যখন চলতেন পূর্র্ণ শক্তি সহকারে চলতেন। রাসূল (ﷺ)’র হাত মুবারক থেকে অধিক কোমল কোন মোটা রেশমি বা পাতলা রেশমি আমি কখনো দেখিনি। এমন কোন মেশক আম্বর দেখিনি যার খুশবু রাসূল (ﷺ)’র (পবিত্র শরীর) মুবারক থেকে অধিক খুশবু। ১৩১
{১৩১. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮১৫ পৃ, হা/২৩৩০, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৬১১পৃ., হা/৫৭৮৭, সুনানে দারিমী, হা/৬২, ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, ২১/৮২ পৃ. হা/১৩৩৮১, সহীহ ইবনে হিব্বান, ১৪/২১৬ পৃ. হা/৬৩১০, মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ৭/৩৪ পৃ. হা/১৭৮১৬, ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ১১/২৩৩ পৃ. হা/৮৭৯১}
আক্বিদা
আল্লামা কাযি আয়্যায মুহাদ্দিস (رضي الله عنه) লেখেছেন যে, রাসূূলে মুর্কারম (ﷺ)’র পবিত্র শরীর মোবারক থেকে ঘাম মোবারাকের খুশবুু বের হয়। আর তার শরীর মোবারকের অতিরিক্ত বস্তু থেকে পবিত্র হওয়াটা তাঁর খুছুছিয়তের অন্যতম। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে এমন খুছুছিয়্যাত দ্বারা প্রতিপালন করেন যা অন্য কারো মধ্যে নেই। ১৩২
{১৩২. কাযি আয়াজ, শিফা শরীফ, ১ম খণ্ড, পৃ: ২৯।}
ঘাম মুবারক থেকে বরকত হাসিল
____________________
ঘাম মুবারক থেকে বরকত হাসিল-
সায়্যিদুনা হযরত আনাস বিন মালিক (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে,
নবী করিম (ﷺ) হযরত উম্মু সুলাইম (رضي الله عنه)’র ঘরে তাশরীফ নিলেন এবং তাঁর বিছানায় শুয়ে পড়লেন, তিনি (সুলাইম) যখন আসলেন তাকে বলা হল যে, তোমার ঘরে তোমার বিছানায় নবী করিম (ﷺ) শুয়ে আছেন।
তিনি এসে দেখলেন যে, নবী করিম (ﷺ)’র ঘাম মুবারক বের হচ্ছে এবং চামড়ার বিছানার সাথে নবী করিম (ﷺ)’র ঘাম মুবারক মিশে যাচ্ছে।
তখন হযরত উম্মু সুলাইম (رضي الله عنه) নিজের শিশিটি খুললেন এবং ঘাম মুবারক মুছে মুছে শিশিতে নিলেন। তখন রাসূূল (ﷺ) তাকে বললেন, হে উম্মে সুলাইম তুমি কী করছ? তিনি বললেন-
نَرْجُو بَرَكَتَهُ لِصِبْيَانِنَا
আমি এই ঘাম মোবারক বাচ্চাদের জন্য বরকতের আশা রাখি। তখন রাসূল (رضي الله عنه) বললেন, أَصَبْتَ “তোমার আশা সঠিক।” ১৩৩
{ ১৩৩. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮১৫ পৃ, হা/২৩৩১, পরিচ্ছেদ: بَابُ طِيبِ عَرَقِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالتَّبَرُّكِ بِهِ , খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৬১১পৃ., হা/৫৭৮৮, ইমাম কাযি আয়াজ মালেকী, শিফা শরীফ, ১/৬৩ পৃ.}
আক্বিদা
রাসূল (ﷺ)’র পবিত্র শরীর মুবারাকের সাথে স্পর্শকৃত বস্তু থেকে বরকত হাসিল করা সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) গণের আমল ছিল। আর রাসূূল (ﷺ) এর সত্যায়নও করেছেন। এ বিষয়ে ইমাম মুসলিম (رحمة الله) সংকলন করেন, উক্ত সাহাবী হযরত আনাস ইবনু মালিক (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন-
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: دَخَلَ عَلَيْنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ عِنْدَنَا، فَعَرِقَ، وَجَاءَتْ أُمِّي بِقَارُورَةٍ، فَجَعَلَتْ تَسْلِتُ الْعَرَقَ فِيهَا، فَاسْتَيْقَظَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا أُمَّ سُلَيْمٍ مَا هَذَا الَّذِي تَصْنَعِينَ؟ قَالَتْ: هَذَا عَرَقُكَ نَجْعَلُهُ فِي طِيبِنَا، وَهُوَ مِنْ أَطْيَبِ الطِّيبِ
-‘‘নাবী কারীম (ﷺ) আমাদের গৃহে আগমন করলেন এবং ‘কায়লুলা’ (দ্বিপ্রহরের নিদ্রা) করলেন। তাঁর শরীর থেকে ঘর্ম মুবারক প্রবাহিত হতে লাগল। আমার জননী শিশি নিয়ে এলেন এবং ঘর্ম মুছে তাতে ভরতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চোখ মুবারক খুলে গেল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: উম্মু সুলায়ম! তুমি কি করছো? তিনি বললেন, এ ঘর্ম সুগন্ধি রূপে আমরা ব্যবহার করি। কেননা, এটা অত্যন্ত উৎকৃষ্ট সুগন্ধি।’’ ১৩৪
{১৩৪. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮১৫ পৃ, হা/২৩৩১, পরিচ্ছেদ: بَابُ طِيبِ عَرَقِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالتَّبَرُّكِ بِهِ , খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৬১১পৃ., হা/৫৭৮৮ }
এ হাদিসের সাথে কিছুটা মিলসহ আরেকটি হাদিসে পাক রয়েছে। ইমাম মুসলিম (رحمة الله) সংকলন করেন-
عَنْ أَنَسٍ، عَنْ أُمِّ سُلَيْمٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْتِيهَا فَيَقِيلُ عِنْدَهَا فَتَبْسُطُ لَهُ نِطْعًا فَيَقِيلُ عَلَيْهِ، وَكَانَ كَثِيرَ الْعَرَقِ، فَكَانَتْ تَجْمَعُ عَرَقَهُ فَتَجْعَلُهُ فِي الطِّيبِ وَالْقَوَارِيرِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَا أُمَّ سُلَيْمٍ مَا هَذَا؟ قَالَتْ: عَرَقُكَ أَدُوفُ بِهِ طِيبِي
-‘‘নাবী কারীম (ﷺ) উম্মু সুলায়ম (رضي الله عنه) এর কাছে আসতেন এবং কায়লুলা করতেন। তিনি তাঁর জন্যে চামড়ার বিছানা বিছিয়ে দিতেন। রাসূল (ﷺ) তাতে কায়লুলা বা দুপুর কালিন বিশ্রাম করতেন। তাঁর খুব বেশি ঘাম নির্গত হত। উম্মু সুলায়ম (رضي الله عنه) এ ঘাম জমা করে আতরের সাথে মিশিয়ে নিতেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: উম্মে সুলায়ম, ঘাম দিয়ে তুমি কি কর? তিনি জাওয়াব দিলেন, আতরের সাথে মিশিয়ে নেই।’’ ১৩৫
{১৩৫. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮১৫ পৃ, হা/২৩৩২, পরিচ্ছেদ: بَابُ طِيبِ عَرَقِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالتَّبَرُّكِ بِهِ}
এটাও বুঝা গেল যে, মুহাব্বত এবং আক্বীদার কারণে এমন কোন কাজ করা যা দ্বারা ইসলাম এবং শারীয়াতের মর্যাদার কোন পার্থক্য হয় না, চায় তা নবী করিম (ﷺ) করার জন্য হুকুম দান না করুক। যেমন- তাঁর ঘাম মুবারাক শিশির মধ্যে নেয়া এবং তা হতে বারকাত লাভ করার জন্য তিনি বলেননি। কিন্তু উম্মু সুলাইম (رضي الله عنه) তা নিজের আক্বীদা ও মুহাব্বাতের কারণে করেছেন। রাসূল (ﷺ) তাকে নিষেধ করেননি, বরং তাঁর আক্বীদাকে সত্যায়ন করেছেন। এটিই হলো আহ্লে সুন্নাত ওয়াল জাম‘আতের মসলকের জন্য তায়িদ।
যেটি চাও জিজ্ঞাসা করো
____________________
যেটি চাও জিজ্ঞাসা করো-
সায়্যিদুনা হযরত আনাস (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, সূর্য ঢলে যাওয়ার পর রাসূল (ﷺ) তাশরীফ এনেছেন, আর নামায পড়ানোর পর সালাম ফিরিয়ে মিম্বারে বসে কিয়ামাতের বর্ণনা দিলেন। বললেন, এর (কিয়ামাত) পূর্বে বড় বড় বিষয় প্রকাশ পাবে। তারপর বললেন-
مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَسْأَلَنِي عَنْ شَيْءٍ فَلْيَسْأَلْنِي عَنْهُ، فَوَاللهِ لَا تَسْأَلُونَنِي عَنْ شَيْءٍ إِلَّا أَخْبَرْتُكُمْ بِهِ، مَا دُمْتُ فِي مَقَامِي هَذَا
-‘‘যে কোন ব্যক্তি যে কোন ব্যাপারে আমাকে জিজ্ঞাসা করতে চায়, সে যেন আমাকে জিজ্ঞাসা করে, আল্লাহর শপথ, আমি যতক্ষণ পর্যন্ত এই স্থানে থাকবো, তোমরা যে ব্যাপারেই আমাকে জিজ্ঞাসা করবে না কেন, আমি তার সংবাদ প্রদান করব।’’
হযরত আনাস (رضي الله عنه) বলেন, সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) গণ এটা শুনে কাঁদতে লাগলেন, আর রাসূূল (ﷺ) বারবার বলতে লাগলেন-আমাকে জিজ্ঞাসা করো, তখন হযরত ‘আব্দুল্লাহ বিন হুজাফা সাহমী (رضي الله عنه) দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন
-
مَنْ أَبِي؟ يَا رَسُولَ اللهِ
আমার পিতা কে? ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)!
অতঃপর রাসূল (ﷺ) বললেন-
أَبُوكَ حُذَافَةُ
-‘তোমার পিতা হুজাফা।’ ১৩৬
{১৩৬. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮৩২ পৃ, হা/২৩৫৯, পরিচ্ছেদ: بَابُ تَوْقِيرِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَتَرْكِ إِكْثَارِ سُؤَالِهِ عَمَّا لَا ضَرُورَةَ إِلَيْهِ، أَوْ لَا يَتَعَلَّقُ بِهِ تَكْلِيفٌ وَمَا لَا يَقَعُ، وَنَحْوِ ذَلِكَ , ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল আওসাত, ৩/১২৯ পৃ. হা/২৬৯৮, ইমাম হাকেম, আল-মুস্তাদরাক, ৩/৭৩১ পৃ. হা/৬৬৫১, মুসনাদে আহমদ, ১৯/১০২ পৃ. হা/১২০৪৪, মুসনাদে আবি ই‘য়ালা, হা/৩১৩৪, মুসনাদে বায্যার, হা/৩১৬৫, সহীহ বুখারী, ১/৩০ পৃ. হা/৯৩, সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/১০৬}
আক্বিদা
রাসূূলে মাকবুল (ﷺ)’র বারংবার ইরশাদ- سَلُونِي -আমাকে জিজ্ঞাসা কর। এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয় হাবীব (ﷺ) কে প্রত্যেক বস্তুর ইলম দান করেছেন।
অতঃপর হযরত হুজাফা (رضي الله عنه) কে লোকেরা অপর কোন ব্যক্তির দিকে সম্পর্ক করতো। তিনি বুঝতে পারলেন যে, রাসূূল (ﷺ)’র কাছে প্রশ্ন করলে এই আপত্তিটি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
এজন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন যে, তোমার পিতা হুজাফা (رضي الله عنه)। এর পূর্বেও তিনি এর দিকে সম্পর্কিত ছিলেন। লোকেরা যা বলত তা ছিল একটি আপত্তি।
সমস্ত নবীগণ জীবিত এবং রাসূল (ﷺ)’র ইলম
____________________
সমস্ত নবীগণ জীবিত এবং রাসূল (ﷺ)’র ইলম-
❏ হযরত সায়্যিদুনা আনাস (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, রাসূূল (ﷺ) ইরশাদ করেন,
وَفِي رِوَايَةِ هَدَّابٍ: مَرَرْتُ - عَلَى مُوسَى لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي عِنْدَ الْكَثِيبِ الْأَحْمَرِ، وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي قَبْرِهِ
-‘‘মি’রাজ রজনীতে লালটিলার পাশ দিয়ে আমি অতিক্রম করেছি, তখন হযরত মূসা (عليه السلام) তাঁর কবরে দাঁড়িয়ে নামায পড়ছিলেন।’’ ১৩৭
{১৩৭. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮৪৫ পৃ., হা/২৩৭৫, পরিচ্ছেদ: بَابُ مِنْ فَضَائِلِ مُوسَى صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ}
আক্বিদা
আল্লাহর নাবীগণ জীবিত এবং নিজেদের কাবর শরীফে নামায পড়েন। এটাও বুঝা গেল যে, নাবী পাক (ﷺ) কবরের ভিতরের অবস্থা জানেন, যার সম্পর্ক গায়বের সাথে। এ জন্যই তো তিনি বলেন-
هُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي قَبْرِهِ
-‘তিনি তাঁর কাবরে দাঁড়িয়ে নামায পড়ছেন।’ ১৩৮
{১৩৮. সমস্ত নবি ওফাতের পর তাঁদের নিজ নিজ সমাধিতে জীবিত এবং সেখানে তাঁরা নামাজ পড়েন, এটাই সাহাবায়ে কেরামদের সুপ্রসিদ্ধ আকিদা ছিল। ইমাম বায্যার (رحمة الله)সহ এক জামাত ইমামগণ সংকলন করেন-
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: الْأَنْبِيَاءُ أَحْيَاءٌ فِي قُبُورِهِمْ يُصَلُّونَ-
-‘‘হযরত আনাস বিন মালিক (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন : নিশ্চয় আম্বিয়ায়ে কিরাম () তাঁদের নিজ নিজ কবরে জীবিত এবং তারা সেখানে নামায আদায় করেন।’’ (ইমাম আবু ই‘য়ালা : আল-মুসনাদ : ৬/১৪৭ পৃ: হাদিস/৩৪২৫, ইমাম বায়হাকী : হায়াতুল আম্বিয়া : ৬৯-৭০পৃ., ইমাম নুরুদ্দীন হায়সামী : মাযমাউদ যাওয়াইদ : ৮/২১১পৃ. হাদিস/১৩৮১২, ইমাম আবু নুয়াইম ইস্পাহানী : তবকাতে ইস্পাহানী : ২/৪৪ পৃ:, ইমাম আদী : আল কামিল : ২/৭৩৯ পৃ:,ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ুতী: আল-জামেউস সগীর : ১/২৩০ পৃ: হাদিস- ৩০৮৯, ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ুতী: শরহুস সুদূর: পৃ. ২৩৭, আহলে হাদিস নাসিরুদ্দীন আলবানী: সিলসিলাতুস সহীহাহ: হাদিস/৬২২, আহলে হাদিস নাসিরুদ্দীন আলবানী : সাহীহুল জামে : হাদিস নং- ২৭৯০, দায়লামী, আল-ফিরদাউস, ১/১১৯পৃ. হাদিস/৪০৩) আল্লামা নুরুদ্দীন ইবনে হাজার হাইসামী (رحمة الله) বলেন-
رَوَاهُ أَبُو يَعْلَى وَالْبَزَّارُ، وَرِجَالُ أَبِي يَعْلَى ثِقَاتٌ.
-‘‘এ হাদিসের সকল রাবি সিকাহ বা বিশ্বস্ত।’’ (হাইসামী, মাযমাউয-যাওয়াইদ, ৮/২১১পৃ. হা/১৩৮১২) এজন্যই ইমাম জালাল উদ্দিন সুয়ূতি (رحمة الله) (ওফাত.৯১১হি.) তার সুপ্রসিদ্ধ কিতাব [أَنْبَاءُ الْأَذْكِيَاءِ بِحَيَاةِ الْأَنْبِيَاءِ] এর ৭ পৃষ্ঠায় মুসলিম উম্মাহর আক্বিদা লিখেছেন-
النَّظَرِ فِي أَعْمَالِ أُمَّتِهِ وَالِاسْتِغْفَارِ لَهُمْ مِنَ السَّيِّئَاتِ، وَالدُّعَاءِ بِكَشْفِ الْبَلَاءِ عَنْهُمْ، وَالتَّرَدُّدِ فِي أَقْطَارِ الْأَرْضِ لِحُلُولِ الْبَرَكَةِ فِيهَا، وَحُضُورِ جِنَازَةِ مَنْ مَاتَ مِنْ صَالِحِ أُمَّتِهِ، فَإِنَّ هَذِهِ الْأُمُورَ مِنْ جُمْلَةِ أَشْغَالِهِ فِي الْبَرْزَخِ كَمَا وَرَدَتْ بِذَلِكَ الْأَحَادِيثُ وَالْآثَارُ ـ
-‘‘‘উম্মতের বিবিধ কর্ম কাণ্ডের প্রতি দৃষ্টি রাখা, তাদের পাপরাশির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা, তাদের বালা মসিবত থেকে রক্ষা করার জন্য দুআ করা, পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে আনাগোনা করা ও বরকত দান করা এবং নিজ উম্মতের কোন নেক বান্দার ওফাত হলে তার জানাযাতে অংশগ্রহণ করা, এগুলোই হচ্ছে হুযুর (ﷺ) এর সখের কাজ। অন্যান্য হাদিস থেকেও এসব কথার সমর্থন পাওয়া যায়।’’ (ইমাম সুয়ূতি, আল-হাভী লিল ফাতওয়া, ২/১৮৪-১৮৫পৃ. দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন।) এ বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমার লিখিত ‘‘প্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানোর স্বরূপ উন্মোচন’’ এর ১ম খণ্ডের ৪০৭-৪১১ পৃষ্ঠা দেখুন। ইনশাআল্লাহ আপনাদের সঠিক বিষয়টি বুঝে আসবে।}
নবী পাক (ﷺ)’র দোয়ার বরকত
____________________
নবী পাক (ﷺ)’র দোয়ার বরকত-
সায়্যিদুনা আনাস (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, আমার মা আমাকে রাসূল (ﷺ)’র খিদমাতে নিয়ে উপস্থিত হলেন এবং আরয করলেন-
هَذَا أُنَس ابْنِي، أَتَيْتُكَ بِهِ يَخْدُمُكَ فَادْعُ اللهَ لَهُ
এটা আমার পুত্র আনাস, আপনার কাছে তাকে নিয়ে এসেছি আপনার খিদমাত করার জন্য। আল্লাহর দরবারে তার জন্য আপনি দো‘আ করুন। তখন রাসূল (ﷺ) প্রার্থনা করেন-
اللهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ
-‘হে আল্লাহ তাকে অধিক সম্পদ এবং আওলাদ দান করুন।’
❏ খাদেমুর রাসূল (ﷺ) হযরত আনাস (رضي الله عنه) বলেন-
فَوَاللهِ إِنَّ مَالِي لَكَثِيرٌ، وَإِنَّ وَلَدِي وَوَلَدَ وَلَدِي لَيتَعَادُّونَ عَلَى نَحْوِ الْمِائَةِ، الْيَوْمَ
-‘আল্লাহর শপথ, আমার সম্পদ অনেক এবং আমার সন্তান ও নাতি-নাতনির সংখ্যা শতের কাছাকাছি পৌঁছেছে।’ ১৩৯
{১৩৯. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৯২৯পৃৃ:, হা/২৪৮১, পরিচ্ছেদ: بَابُ مِنْ فَضَائِلِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ, হযরত আনাস (رضي الله عنه)’র ফজিলত অধ্যায়। মুসনাদে আহমদ, ২০/৩১৫ পৃ. হা/১৩০১৩, বায়হাকী, আস-সুনানুল কোবরা, ৩/৭৬ পৃ. হা/৪৯২৬, মুসনাদে আবি ই‘য়ালা, হা/৩২০০, মুসনাদে বায্যার, হা/৬৪২৩}
আক্বিদা
সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) নিজেদের সন্তানদেরকে রাসূল (ﷺ)’র দরবারে পেশ করে তাদের জন্য দো‘আ চাইতেন। হযরত আনাস (رضي الله عنه) শপথ করে বলেন যে, রাসূল (ﷺ)’র দোয়ার বারকাতে আমার অধিক সম্পদ আর অধিক আওলাদ হয়েছে। কবি বলেন-
اجابت نے جہك كر گلے سے لگايا
دلہن بن كے نكلى جب دعائ محمد
-‘‘কবুলিয়্যাত ঝুঁকে গলায় লাগলো,
হুযূর (ﷺ)-এর দো‘আ নব দুলহার ন্যায় কবুল করা হয়।’’
যে যাকে ভালবাসে সে তার সাথে থাকবে
____________________
যে যাকে ভালবাসে সে তার সাথে থাকবে-
❏ সায়্যিদুনা হযরত আনাস (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন- এক বেদুঈন রাসূল (ﷺ) কে আরজ করলেন-
مَتَى السَّاعَةُ؟
কিয়ামত কখন হবে? রাসূল (ﷺ) বললেন-
وَمَاذَا أَعْدَدْتَ لَهَا؟
তুমি কিয়ামতের জন্য কী প্রস্তুত করেছ? তিনি বললেন-
قَالَ: لاَ شَيْءَ، إِلَّا أَنِّي أُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আমার তেমন কোন কিছুই নেই, তবে আমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (ﷺ)-কে ভালবাসি। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন-
أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ
‘যাকে তুমি ভালবাস, তাঁর সাথেই তুমি থাকবে।’
সায়্যিদুনা আনাস (رضي الله عنه) বলেন যে, ইসলাম গ্রহণ করার পর রাসূল (ﷺ)’র এই মুবারক বাণী ছাড়া অন্য কোন কিছুতে এতটা আনন্দিত হয়নি, যতটা এটা শুনে হয়েছি।
أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ
তার সাথেই তুমি থাকবে, যাকে তুমি ভালবাস।
❏ সায়্যিদুনা হযরত আনাস (رضي الله عنه) বলেন-
فَأَنَا أُحِبُّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبَا بَكْرٍ، وَعُمَرَ، وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ مَعَهُمْ بِحُبِّى إِيَّاهُمْ، وَإِنْ لَمْ أَعْمَلْ بِمِثْلِ أَعْمَالِهِمْ
-‘‘সুতরাং আমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলে মকবুল (ﷺ), হযরত আবূ বকর (رضي الله عنه) এবং হযরত ওমর (رضي الله عنه) কে ভালবাসি। আর আমি আশা রাখি যে, তাদের সাথেই আমি থাকবো। যদিও আমি তাদের সমতুল্য আমল করতে পারিনি।’’ ১৪০
{১৪০ . সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/২০৩২ পৃ. হা/, ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ৫/১২ পৃ. হা/৩৬৮৮, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৩৯৫ পৃ. হা/৫০০৯, তাবরানী, মু‘জামুল আওসাত, হা/১৫২৭, মুসনাদে আহমদ, ১৯/১৩১ পৃ. হা/১২০৭৫, মুসনাদে আবি ই‘য়ালা, ৫/৩৭৩ পৃ. হা/৩০২৪, মুসনাদে বায্যার, হা/৬২৮৩, বুখারী, আদাবুল মুফরাদ, হা/৩৫১}
আক্বিদা
নবীয়ে পাক ছাহেবে লাওলাক (ﷺ)’র সাথে ভালবাসা, সাহাবায়ে কিরাম এবং আউলিয়ায়ে কেরাম সাথে ভালবাসা স্থাপনকারীগণ ক্ষতির মধ্যে থাকেন না। কিয়ামত দিবসে তাদের হাশর হবে নবী-রাসূল (ﷺ), সাহাবা এবং আউলিয়াদের সাথে।
তাদের সাথে ভালবাসা রাখার যখন এতো বেশি উপকার, সুতরাং তারা যখন সাথে থাকবেন তখন আরো বেশি বরকত মন্ডিত হবে।
অধিক ভালবাসা এটা তাঁদের পরলৌকিক জীবনের সাথে নির্দিষ্ট নয়। বুঝা গেল আউলিয়ায়ে কিরাম ইন্তেকালের পরও উপকার করতে পারেন।
রাসূল (ﷺ)-এর দৃষ্টি শক্তির পরিসীমা
____________________
রাসূল (ﷺ)-এর দৃষ্টি শক্তির পরিসীমা-
❏ মিশকাত শরীফের المُعْجِزَاتْ শীর্ষক অধ্যায়ে হযরত আনাস (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন-
نَعَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَيْدًا وَجَعْفَرًا وَابْنَ رَوَاحَةَ لِلنَّاسِ قَبْلَ أَن يَأْتِيهِ خَبَرُهُمْ فَقَالَ أَخْذَ الرَّايَةَ زِيدٌ فَأُصِيبَ ثُمَّ أَخَذَ جَعْفَرٌ فَأُصِيبَ ثُمَّ أَخَذَ ابْنُ رَوَاحَةَ فَأُصِيبَ وَعَيْنَاهُ تَذْرِفَانِ حَتَّى أَخَذَ الرَّايَةَ سَيْفٌ من سيوف الله حَتَّى فتح الله عَلَيْهِم. رَوَاهُ البُخَارِيّ
-‘‘হযরত যায়েদ, জা’ফর ও ইবন রাওয়াহা (রিদওয়ানুল্লাহে আলাইহিম আজমায়ীন) প্রমুখ সাহাবীগণের শাহাদত বরণের সংবাদ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আসার আগেই হুযুর (ﷺ) মদীনার লোকদেরকে উক্ত সাহাবীগণের শহীদ হওয়ার কথা জানিয়ে দেন। তিনি বলেন, পতাকা এখন হযরত যায়দ (رضي الله عنه)-এর হাতে, তিনি শহীদ হয়ে গেলেন। শেষ পর্যন্ত ‘আল্লাহর তলোয়ার’ উপাধিতে ভূষিত সাহাবী হযরত খালেদ বিন ওয়ালীদ (رضي الله عنه) ঝাণ্ডা হাতে নিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা তাঁকে জয় যুক্ত করলেন।’’ ১৪১
{১৪১. ইমাম খতিব তিবরিযী, মিশকাতঃ ৪/৩৮৪ পৃ. হা/৫৮৮৯, ইমাম বুখারীঃ আস-সহীহঃ ৭/৫১২ পৃ. হা/৪২৬২}
আক্বিদা
এতে বোঝা গেল, মদীনা থেকে অনেক দূরে অবস্থিত যুদ্ধ ক্ষেত্র ‘বেরে মউনা’য় যা কিছু হচ্ছিল, হুযুর (ﷺ) তা’ সুদূর মদীনা থেকে অবলোকন করছিলেন, কারণ মহান রব তাঁর চোখ মুবারকের কাছে সমগ্র দুনিয়া সংকুচিত করে দিয়েছেন। ১৪২
{১৪২ . সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
প্রত্যেক কবরে নবীজির উপস্থিতি
____________________
প্রত্যেক কবরে নবীজির উপস্থিতি-
❏ সুবিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ ‘মিশকাত’ শরীফের ‘ইছবাতু আযাবিল কবর’ শীর্ষক অধ্যায়ে হযরত আনাস বিন মালেক (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কবরে যখন মৃত ব্যক্তিকে শায়িত করা হবে তখন-
فَيَقُولَانِ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ لِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
মুনকার-নকীর ফিরিশতাদ্বয় কবরে শায়িত মৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করবেন, ওনার (মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ ) সম্পর্কে দুনিয়ায় তুমি কি ধারণা পোষণ করতে? ১৪৩
{১৪৩. খতিব তিবরিযীঃ মেশকাতঃ ১/৪৫ পৃ. হাদিসঃ ১২৬, মুসলিমঃ আস-সহীহঃ ৪/২২০০ হাদিসঃ ১৮৭০, বুখারীঃ আস-সহীহঃ ৩/২০৫, হাদিসঃ ১৩৩৮, মুসলিমঃ আস-সহীহঃ ১/৪৪২ হাদিসঃ ৭০, নাসায়ীঃ সুনানে কোবরাঃ ৪/৯৭ পৃ. হাদিসঃ ২০৫১, আবু দাউদঃ আস্-সুনানঃ ৫/১১৪ পৃ. হাদিসঃ ৪৭৫২}
আক্বিদা
❏ এ হাদিস প্রসঙ্গে ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি (رحمة الله) লিখেন-
قَالَ النَّوَوِيّ قيل يكْشف للْمَيت حَتَّى يرى النَّبِي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِي بشرى عَظِيمَة لِلْمُؤمنِ ان صَحَّ
-‘‘মুসলিম শরিফের ব্যাখ্যাকার ইমাম নববী (رحمة الله) বলেন, মৃত ব্যক্তির দৃষ্টি থেকে আবরণ উঠিয়ে নেয়া হয়, যার ফলে সে নবী করীম (ﷺ)কে সরাসরি দেখতে পায়। এটা তার জন্য বড়ই শুভ সংবাদ। যদি সে সঠিক পথে থাকে।’’ ১৪৪
{১৪৪. ইমাম সুয়ূতি, শরহে সুনানে ইবনে মাযাহ, ১/৩১৬পৃ. হাশীয়ায়ে মেশকাতঃ ২৪ পৃ. নূর মুহাম্মদ কুতুবখানা, করাচী, পাকিস্তান।}
তাই রাসূল (ﷺ) সর্ব অবস্থায়ই হাযির-নাযির আছেন। আমরা আমাদের পাপ রাশির কারণে দেখিনি।
❏ ইমাম কাস্তাল্লানী (رحمة الله) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় লিখেন-
فَقِيْلَ يُكْشَفُ لِلْمَيِّتِ حَتَّى يَرْىَ النَّبِىَّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ وَهِىَ بَشْرَى عَظِيْمَةُ لِلْمُؤْمِنِ اِنْ صَحَّ
-‘‘এও বলা হয়েছে যে, তখন মৃত ব্যক্তির দৃষ্টির আবরণ অপসারণ করা হয়, যার দরুণ সে নবী (ﷺ)কে দেখতে পায়। এটি মুসলমানদের জন্য বড় সুখের বিষয়, যদি সে সঠিক পথে থাকে।’’ ১৪৫
{১৪৫.ইমাম কাস্তাল্লানীঃ ইরশাদুস্-সারীঃ ২/৪৬৪পৃ.}
আহলে হাদিসদের ইমাম আযিমাবাদী এবং মোবারকপুরীও অনুরূপ তাদের হাদিসের ব্যাখ্যা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ১৪৬
{১৪৬.আযিমাবাদী, আওনুল মা‘বুদ, ১৩/৬২পৃ. মোবারকপুরী, তুহফাতুল আহওয়াজী, ৪/১৫৫পৃ.]
বুঝা গেল এটাই সঠিক আক্বিদা। ১৪৭
{১৪৭. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
প্রকাশ্যে গায়বী সংবাদ দেয়ার ঘোষণা
____________________
প্রকাশ্যে গায়বী সংবাদ দেয়ার ঘোষণা-
❏ বুখারী শরীফের كِتَابُ الْاِعْتِصَامِ بِالْكِتَاِب وَالسُّنَّةِ এ ও তাফসীরে খাযেনে لاَ تَسْئَلُوْا عَنِ الْاَشْيَاءِ اِنْه تُبْدَ لَكُمْ. আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লেখিত আছে,
قَامَ عَلَى المِنْبَرِ، فَذَكَرَ السَّاعَةَ، وَذَكَرَ أَنَّ بَيْنَ يَدَيْهَا أُمُورًا عِظَامًا، ثُمَّ قَالَ: مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَسْأَلَ عَنْ شَيْءٍ فَلْيَسْأَلْ عَنْهُ، فَوَاللَّهِ لاَ تَسْأَلُونِي عَنْ شَيْءٍ إِلَّا أَخْبَرْتُكُمْ بِهِ مَا دُمْتُ فِي مَقَامِي هَذَا، قَالَ أَنَسٌ: فَأَكْثَرَ النَّاسُ البُكَاءَ، وَأَكْثَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَقُولَ: سَلُونِي، فَقَالَ أَنَسٌ: فَقَامَ إِلَيْهِ رَجُلٌ فَقَالَ: أَيْنَ مَدْخَلِي يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: النَّارُ، فَقَامَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حُذَافَةَ فَقَالَ: مَنْ أَبِي يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: أَبُوكَ حُذَافَةُ، قَالَ: ثُمَّ أَكْثَرَ أَنْ يَقُولَ: سَلُونِي سَلُونِي
-‘‘একদিন হুযুর (ﷺ) মিম্বরের উপর দাঁড়ালেন। অতঃপর কিয়ামতের উল্লেখপূর্বক এর আগে যে সমস্ত ভয়ানক ঘটনাবলী ঘটবে, সে সম্পর্কে বর্ণনা দিলেন। এরপর তিনি (ﷺ) বললেন, ‘যার যা খুশী জিজ্ঞাসা করতে পার।’ খোদার শপথ, এ জায়গা অর্থাৎ এ মিম্বরে আমি যতক্ষণ দণ্ডায়মান আছি, ততক্ষণ তোমরা যা কিছু জিজ্ঞাসা কর না কেন, আমি অবশ্যই উত্তর দেব।’ হযরত আনাস (رضي الله عنه) বলেন, হুজুর (ﷺ)-এর এ জ্বালাময়ী অবস্থা দেখে অনেকে কাঁদতে শুরু করলেন। তিনি অসংখ্য বার বলতে লাগলেন, তোমরা আমাকে প্রশ্ন কর। হযরত আনাস (رضي الله عنه) বলেন, এ অবস্থা দেখে জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আরয করলেন, ‘পরকালে আমার ঠিকানা কোথায় হবে?’ ফরমালেন জাহান্নামের মধ্যে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা (رضي الله عنه) দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন হে আল্লাহর রাসূল! ‘আমার বাবা কে? ইরশাদ করেন, হুযাফা।’ এরপর রাসূল (ﷺ) জ্বালাময়ী অবস্থায় বার বার বলতে লাগলেন, জিজ্ঞাসা করো, জিজ্ঞাসা করো।’’ ১৪৮
{১৪৮. বুখারীঃ আস-সহীহঃ ৯/৯৫পৃ. হাদিসঃ ৭২৯৪, ইবনে হিব্বান, আস্-সহিহ, ১/৩০৯পৃ. হাদিসঃ ১০৬, বগভী, শরহে সুন্নাহ, ১৩/২৯৯পৃ. হাদিস, ৩৭২০, আব্দুর রায্যাক, জামেউ মা‘মার বিন রাশেদ, ১১/৩৭৯পৃ. হাদিস, ২০৭৯৬, মাকতুবাতুল ইসলামী, বয়রুত, প্রকাশ.১৪০৩হি., ইমাম খাযেন, তাফসীরে খাযেন, ২/৮২পৃ. দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন, প্রকাশ. ১৪১৫হি.}
আক্বিদা
এ হাদিস থেকে জানতে পারলাম রাসূল (ﷺ) সাহাবায়ে কেরামদেরকে প্রশ্ন করার জন্য কোন শর্ত বেধে দেননি, বরং বলেছেন তোমাদের যা ইচ্ছা জিজ্ঞেস কর, কেননা সাহাবায়ে কিরামের এ বিশ্বাস ছিল যে মহান রব রাসূল (ﷺ) কে প্রকাশ ও অপ্রকাশ্য সকল সংবাদ বলার ক্ষমতা দান করেছেন। আর এটি অবিশ্বাস করেছিল কতিপয় মুনাফিকরা। এ হাদিসে আরও কয়েকটি বিষয় সুস্পষ্ট প্রতিভাত হলো যেমন জান্নাতী জাহান্নামী হওয়া এবং কে হুযাফা (رضي الله عنه)-এর সত্যিকার বাবা এটি ইলমে গায়ব ছাড়া কখনই বলা সম্ভব নয়। ১৪৯
{১৪৯. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
খানার উপর দো‘আ চাওয়া এবং খানার মধ্যে বরকত
____________________
সায়্যিদুনা জাবির বিন আব্দুল্লাহ (رضي الله عنه)’র আক্বিদা
খানার উপর দো‘আ চাওয়া এবং খানার মধ্যে বরকত-
সায়্যিদুনা হযরত জাবির (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, যখন (খন্দক) গর্ত খনন করা হল তখন আমি রাসূল (ﷺ)’র মধ্যে অধিক ক্ষুদার প্রভাব দেখলাম।
আমি আমার পরিবারের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম যে, তোমার কাছে খাওয়ার কিছু আছে? কেননা, আমি রাসূল (ﷺ)’র মধ্যে অধিক ক্ষুধার প্রভাব দেখেছি।
তখন তিনি একটি থলে বের করলেন, যার মধ্যে চার কেজি যব ছিল, আর আমার কাছে একটি গৃহপালিত ছাগল ছিল। আমি বকরিটিকে জবেহ করলাম আর আমার বিবি আটা পিসতেছে। তিনিও আমার সাথে সাথে কাজ শেষ করলেন। আমি ছাগলের গোশত কেটে ডেকসির মধ্যে ঢেলে দিলাম।
অতঃপর আমি রাসূল (ﷺ)’র খিদমতে যাচ্ছিলাম, তখন আমার বিবি আমাকে বললেন, আমাকে রাসূল (ﷺ) এবং সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه)’র সামনে লজ্জিত করবেন না। আমি রাসূল (ﷺ)’র খেদমতে উপস্থিত হলাম এবং তাঁর কান মুবারকে চুপে চুপে বললাম, হে রাসূল (ﷺ)! আমরা একটি ছাগলের বাচা জবেহ করেছি এবং এক সা যব পিসেছি যেগুলো আমাদের কাছে ছিল। আপনি কয়েকজন সাহাবাকে নিয়ে আমাদের এখানে তাশরীফ নিবেন।
তখন রাসূল (ﷺ) উঁচু আওয়াজে বললেন-
يَا أَهْلَ الخَنْدَقِ إِنَّ جَابِرًا قَدْ صَنَعَ سُؤْرًا، فَحَيَّ هَلًا بِكُمْ
-‘‘হে খন্দকবাসী, জাবির তোমাদেরকে দাওয়াত দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা চলো।’’
রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করলেন-
لاَ تُنْزِلُنَّ بُرْمَتَكُمْ، وَلاَ تَخْبِزُنَّ عَجِينَكُمْ حَتَّى أَجِيءَ
-‘‘আমি না আসা পর্যন্ত ডেকসি আনবে না এবং রুটিও পাকাবে না।’’
অতঃপর আমি আসলাম এবং রাসূল (ﷺ)ও তাঁর সাহাবাদের নিয়ে আসলেন। আমি আমার পারিবারের কাছে গেলে, তিনি বললেন, তোমারই বদনাম ও অসম্মান হবে। আমি বললাম, তুমি যে রকম আমাকে বলেছ, আমি সে রকমই করেছি। অতঃপর পিসনকৃত আটা বের করলেন।
فَبَصَقَ فِيهِ وَبَارَكَ
-‘‘রাসূল (ﷺ) এর মধ্যে থুথু মোবারক দিলেন এবং বরকতের জন্য দোয়া করলেন।’’
অতঃপর ডেকসির মধ্যে থুথু মোবারক দিলেন এবং বরকতের জন্য দোয়া করলেন, তারপর বললেন, রুটি বানানোর জন্য। আরেকজনকে ডাক। আর তোমরা দুজনে মিলে রুটি বানাও। আর ডেকসির থেকে তরকারি পরিবেষণ কর কিন্তু ডেকসি চুলা থেকে নামাবে না।
وَهُمْ أَلْفٌ، فَأُقْسِمُ بِاللَّهِ لَقَدْ أَكَلُوا حَتَّى تَرَكُوهُ
সাহাবায়ে কিরাম ছিলেন এক হাজার, আল্লাহর শপথ, তাঁরা সবাই খেয়েও হুবহু অবশিষ্ট রেখেছিলেন। আর যে সময় তিনি পুনরায় আসলেন আমাদের ডেকসিটি উতরানো ছিল এবং আমাদের পিসনকৃত আটাগুলো প্রথমবার যেভাবে ছিল সেভাবেই রয়ে গেল (সুবহানাল্লাহ!)। ১৫০
{১৫০. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৩/১৬১০ পৃ. হা/২০৩৯, ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ৫/১০৮ পৃ: হা/৪১০২, ইমাম হাকেম, আল-মুস্তাদরাক, ৩/৩২ পৃ. হা/৪৩২৪, ইমাম ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ১১/৩৫৩ পৃ. হা/৮৯০৯, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৬৪৫ পৃ. হা/৫৮৭৭}
আক্বিদা
খাবার সামনে নিয়ে দো‘আ চাওয়া বৈধ। সামান্য জিনিসকে বেশি করা এটা প্রিয় নবী (ﷺ)’র মু’জিযা। অনুরূপ রাসূল (ﷺ)’র এই জ্ঞান হওয়া যে, হযরত জাবির (رضي الله عنه)’র ঘরের মধ্যে সমস্ত সাহাবাদের খাওয়ার জন্য ব্যবস্থা করা হয়নি, এরপরেও সকল সাহাবাদেরকে যাওয়ার জন্য আদেশ দেয়া এবং এটাও বলা যে, আমি না আসা পর্যন্ত ডেকসি আনবে না এবং আটা রুটিও আনবে না।
এটা স্পষ্টভাবে বুঝা গেল যে, রাসূল (ﷺ) জানতেন যে, এই গোশত এবং রুটিগুলো দ্বারা সমস্ত সাহাবাদের জন্য ভালভাবেই হয়ে যাবে। আর এটা এমন জ্ঞান যা ইলমে গায়বের সাথে সম্পর্ক রাখে। সুতরাং এভাবেই হয়েছে। হযরত জাবের (رضي الله عنه) বলেন, সৈন্য ছিল প্রায় এক হাজার মুজাহিদ।
উপকারি মনে করা এবং ফুঁ দেওয়া
____________________
উপকারি মনে করা এবং ফুঁ দেওয়া-
قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ: وَسَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ يَقُولُ: لَدَغَتْ رَجُلًا مِنَّا عَقْرَبٌ، وَنَحْنُ جُلُوسٌ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللهِ أَرْقِي؟ قَالَ: مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَنْفَعَ أَخَاهُ فَلْيَفْعَلْ
হযরত আবূ যুবায়ের (رضي الله عنه) বলেন, আমি সায়্যিদুনা হযরত জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (رضي الله عنه) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, একদিন রাসূল (ﷺ) এর সামনে আমাদের এক ব্যক্তিকে একটি বিচ্ছু দংশন করল। তখন এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি কি তার ঝাড়ফুঁক করব? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন,
مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَنْفَعَ أَخَاهُ فَلْيَفْعَلْ
-‘‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তার ভাইয়ের উপকার করতে সক্ষম হয়, সে যেন তা করে।’’ ১৫১
{১৫১. {ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, ৪/১৭৭৬ পৃ. হা/২১৯৯, ইমাম তাহাভী, শরহে মা‘আনীল আছার, ৪/৪৭৬ পৃ. হা/৬৬৮০, ই.ফা.বা, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৬৪৫ পৃ. হা/৫৮৭৭, ইমাম হাকেম, আল-মুসাস্তাদরাক, ৪/৪৬০ পৃ. হা/৮২৭৭, নাসাঈ, আস-সুনানুল কোবরা, ৭/৭৪ পৃ. হা/৭৪৯৮, মুসনাদে আবি ই‘য়ালা, হা/১৯১৪, সহীহ ইবনে হিব্বান, ২/২৯০ পৃ. হা/৫৩২, ১৭/৩৭ পৃ. হা/৭৪}
আক্বিদা
আল্লাহর সৃষ্টি থেকে উপকার লাভ করা জায়েয। এবং এটাকে আল্লাহর সৃষ্টি জেনে উপকারী জানাও জায়েয। ১৫২
কেননা রাসূল (ﷺ) নিজেই ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি তার আপন ভাইয়ের উপকার চায় সে উপকার দেয়ার জন্য দম করাও জায়িয। এবং এটা রাসূূল (ﷺ)’র সুন্নাত।
{১৫২. আল্লাহ রাসূল (ﷺ) আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়ে গেছেন যে, যখন কোন ব্যক্তি অসহায় অবস্থায় কোন স্থানে পড়ে যায় তার কোন সাহায্যকারী ব্যক্তি খুজেঁ না পায় তখন মহান অলীদের আহ্বান করার জন্য। তারা আল্লাহর বান্দাদের সাহায্যের জন্য গায়েবী ভাবে চলে আসেন।
এ বিষয়ে ইমাম তাবরানী (رحمة الله) একটি হাদীস সংকলন করেন-
حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْحَاقَ التُّسْتَرِيُّ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى الصُّوفِيُّ، ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عِيسَى، عَنْ زَيْدِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ عُتْبَةَ بْنِ غَزْوَانَ، عَنْ نَبِيِّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا أَضَلَّ أَحَدُكُمْ شَيْئًا أَوْ أَرَادَ أَحَدُكُمْ عَوْنًا وَهُوَ بِأَرْضٍ لَيْسَ بِهَا أَنِيسٌ، فَلْيَقُلْ: يَا عِبَادَ اللهِ أَغِيثُونِي، يَا عِبَادَ اللهِ أَغِيثُونِي، فَإِنَّ لِلَّهِ عِبَادًا لَا نَرَاهُمْ وَقَدْ جُرِّبَ ذَلِكَ
-“ইমাম তাবরানী যথাক্রমে..............আলে রাসূল (ﷺ) ইমাম জয়নাল আবেদীনের সন্তান যায়েদ বিন আলি (رحمة الله) হতে তিনি যাহাবী উতবাতা ইবনে গাযওয়ান (رضي الله عنه) হতে তিনি আল্লাহর নবী হতে তিনি বলেন, যখন কোন স্থানে তোমরা পথহারা হয়ে যাও অথবা কোন এমন অঞ্চলে অবস্থান হল যেখানে তোমাদের কোন সাহায্যকারী সাথী নেই। অতঃপর তোমরা বলবে: হে আল্লাহর মহান বান্দাগণ (ওলীরা) সাহায্য করুন! হে আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্ত বান্দাগণ সাহায্য করুন!......অতঃপর তোমার সমস্যা দূর হয়ে যাবে।” (তাবরানী, মু’জামুল কাবীর, ১৭/১১৭ পৃ. হা/ ২৯০, শায়খ ইউসুফ নাবহানী, ফতহুল কাবীর, ১/৭৮ পৃ. হা/ ৭৩৪, মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ৬/৭০৬ পৃ. হা/১৭৪৯৮, ইমাম হাইছামী, মাযমাউয যাওয়াইদ, ১০/১৩২ পৃ., মোল্লা আলী ক্বারী, মেরকাত, ৪/১৬৯৩ পৃ. হা/২৪৪১)
এই হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, যখন আমরা দুরাবস্থায় পড়বো তখন আল্লাহর নবী আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়ে গেছেন আল্লাহর মহান বন্ধু (অলীদের) আহবান করার জন্য। এই হাদিসের সনদ প্রসঙ্গে আহলে হাদিসদের ইমাম নওয়াব সিদ্দিক হাসান খাঁন ভূপালি লিখেন- رجاله ثقات -“এই হাদিসের সমস্ত রাবী সিকাহ।” (নাযলুল আবরার, ৩৩৫ পৃষ্ঠা)
অনেকে এই সনদের সমস্ত রাবীই সিকাহ অনেকে আলে রাসুল (ﷺ) যায়েদ বিন আলীকে প্রশ্ন বিদ্ধ করতে চান, ইমাম যাহাবী তার জবাব তার জীবনীতে উল্লেখ করেছেন। (যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/৩৮৯ পৃ. ক্রমিক নং ১৭৮, তারিখুল ইসলাম, ৩/৪১৫ পৃ. ক্রমিক নং ১১৫) আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) এই হাদিসের সনদ প্রসঙ্গে লিখেন-
قَالَ بَعْضُ الْعُلَمَاءِ الثِّقَاتِ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ يَحْتَاجُ إِلَيْهِ الْمُسَافِرُونَ
-‘‘বিশ্বস্ত উলামাগণ বলেছেন, এই হাদিসটি ‘হাসান’ এবং মুসাফিরদের জন্য দলিল।’’ (মোল্লা আলী ক্বারী, মেরকাত, ৪/১৬৯৩ পৃ. হা/২৪৪১)
ইমাম বাযযার (رحمة الله) সংকলন করেন যে, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত সূত্রে সেখানে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - قَالَ:....فَإِذَا أَصَابَ أَحَدَكُمْ عَرْجَةٌ بِأَرْضِ فَلَاةٍ فَلْيُنَادِ: أَعِينُوا عِبَادَ اللَّهِ
-“যখন ভূলে মসিবতে পড়ে যাবে, যখন কোন আল্লাহর বান্দা যমীনের কোন ভুল স্থানে চলে গেল এই দূরাবস্থায় সময় সে এ বলে আহবান করবে, হে আল্লাহর বান্দাহ (ওলীগণ) সাহায্য করুন।’’ (ইমাম বাযযার, আল-মুসনাদ, ১১/১৮১, হা/৪৯২২, ইমাম হাইছামি, মাযমাউত-যাওয়াহিদ, ১০/১৩২ পৃ. হা/১৭১০৪, ইমাম বায়হাকি, আদাব, ১/২৬৯ পৃ. হা/৬৫৭, এবং শুয়াবুল ঈমান, ১/৩২৫ পৃ. হা/১৬৫, ইমাম ইবনে আবি শায়বাহ, আল-মুসান্নাফ, ৬/৯১ পৃ. হা/২৯৭২১, ইমাম নুরুদ্দীন হাইছামি, কাশফুল আশতার, ৪/৩৪ পৃ. হা/৩১২৯) হাফেজুল হাদিস ইমাম নুরুদ্দিন ইবনে হাজার হাইছামী (رحمة الله) এই সনদ সম্পর্কে বলেন- رَوَاهُ الْبَزَّارُ، وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ. -“ইমাম বাযযার (رحمة الله) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন আর সনদের সমস্ত রাবী সিকাহ।” (ইমাম হাইছামী, মাযমাউদ-যাওয়াইদ, ১০/১৩২পৃ. হা/ ১৭১০৪) এজন্য আল্লামা ইমাম খাযেন আশ্শাফেয়ী (ওফাত.৭৪১হি.) আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বিদা প্রসঙ্গে এ স্থানে লিখেন-
فَإِنَّ اَلإِسْتِعَانَةُ بِالمَخْلُوْقِ فِي دَفْعِ الضَّرَرِ جَائِزة
-‘‘দুঃখ কষ্ট দূর করার জন্য আল্লাহর মাখলুকের কাছ থেকে সাহায্য চাওয়া বৈধ।’’ (খাযিন, লুবাবুত তাভিল ফি মা‘আনিত তানযিল, ২/৫৩০ পৃ.)}
উপমাহীন নবী (ﷺ)
____________________
উপমাহীন নবী (ﷺ)-
❏ সায়্যিদুনা হযরত জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, রাসূূল (ﷺ) ইরশাদ করেন-
مَنْ رَآنِي فِي النَّوْمِ فَقَدْ رَآنِي، إِنَّهُ لَا يَنْبَغِي لِلشَّيْطَانِ أَنْ يَتَمَثَّلَ فِي صُورَتِي
-‘যে ব্যক্তি স্বপ্নে আমাকে দেখেছে সে বাস্তবেই আমাকে দেখেছে। কেননা, শয়তান আমার রূপ ধারণ করতে পারে না।’ ১৫৩
{১৫৩. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৭৭৬পৃ. হা/২২৬৮, স্বপ্ন দেখা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: بَابُ قَوْلِ النَّبِيِّ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ مَنْ رَآنِي فِي الْمَنَامِ فَقَدْ رَآنِي ।}
আক্বিদা
হুযূর পুরনূূর (ﷺ)’র জাত মুবারাক উপমাহীন। শয়তান প্রত্যেকের রূপ ধারণ করতে পারে। কিন্তু প্রিয় নবী (ﷺ)’র রূপ ধারণ করতে পারে না।
আর যে সব ব্যক্তি রাসূল (ﷺ)’র উপমার ‘আক্বীদা রাখে। অন্য অর্থে সে নিজেকে শয়তান থেকে বড় মনে করে, কেননা সে (শয়তান) তো উপমা ধারণ করতে পারে না। কিন্তু এ ব্যক্তি উপমা ধারণ করে।
ঘি ভর্তি পাত্র
____________________
ঘি ভর্তি পাত্র-
সায়্যিদুনা হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, হযরত মালিক (رضي الله عنه)’র মা নবী করিম (ﷺ) কে একটি ঘি ভর্তি পাত্র হাদিয়া হিসেবে পাঠালেন। তাঁর ছেলে যখন তাঁর কাছে তরকারি চাইলেন, তখন তার কাছে যখন কিছুই ছিল না।
তখন যে পাত্র করে তিনি রাসূল (ﷺ)’র কাছে ঘি পাঠিয়েছেন তা হতে তিনি কিছু ঘি পেলেন। এই ঘির মাধ্যমে তাঁর ঘরে তরকারীর সমস্যা সমাধান হলো। একদিন তিনি এ ঘির পাত্রকে নড়াচড়া করলেন এবং রাসূূল (ﷺ)’র দরবারে উপস্থিত হলেন।
নাবি কারীম (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি পাত্রটি নেড়েছো? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তখন রাসূল (ﷺ) বললেন-
لَوْ تَرَكْتِيهَا مَا زَالَ قَائِمًا
-‘যদি তুমি পাত্রটি এভাবে রেখে দিতে তবে (অবিরাম) তা হতে ঘি পেতে।’ ১৫৪
{১৫৪. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৭৮৪পৃ:, হা/২২৮০, রাসূূল (দ.)’র মু’জেযা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: بَابٌ فِي مُعْجِزَاتِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ, ইমাম ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ১১/৩৬৩ পৃ. হা/৮৯১৫, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৬৫৮ পৃ. হা/৫৯০৭}
আক্বিদা
বুযুর্গ ব্যক্তিদেরকে হাদিয়া পাঠানো এবং গ্রহণ করা জায়িয। আর নবী করিম (ﷺ)’র সুন্নাত হল হাদিয়া গ্রহণকারীর দো‘আর মাধ্যমে বারকাত হয়।
এটাও বুঝা গেল যে, নবী করিম (ﷺ) কে আল্লাহ এমন মর্যাদা দান করেছেন যে, তিনি যদি চান তবে বরকত শেষ হবে না।
অসহায়ের আশ্রয়গার
____________________
অসহায়ের আশ্রয়গার-
হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি নবী করিম (ﷺ)’র খেদমতে এসে কিছু খাদ্য চাইল। রাসূল (ﷺ) তাকে অর্ধ ওসাক (একশ বিশ কিলোগ্রাম) যব দান করলেন।
ব্যক্তিটি তার পরিবার এবং মেহমানদেরকে নিয়ে যবগুলো খেতে রইলেন। অবশেষে একদিন ব্যক্তিটি যবগুুলো মেপে ফেলেন। তারপর সে নবী করিম (ﷺ)’র দরবারে উপস্থিত হলে, রাসূল (ﷺ) তাকে বললেন-
لَوْ لَمْ تَكِلْهُ لَأَكَلْتُمْ مِنْهُ، وَلَقَامَ لَكُمْ
-‘যদি তুমি যবগুলো ওজন না করতে, তবে তোমরা যবগুলো খেতেই থাকতে পারতে (অবিরত) এবং আজ পর্যন্ত যবগুুলো অবশিষ্ট থাকতো।’ ১৫৫
{১৫৫. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৭৮৪পৃ. হা/২২৮১, নবী করিম (ﷺ)’র মু‘জিযা অধ্যায়, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৬৭১ পৃ. হা/৫৯৪১, ইমাম ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ১১/৩৬৩ পৃ. হা/৮৯১৪, মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, হা/৩১৮১২}
আক্বিদা
সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) গণ প্রিয় নাবী (ﷺ) কে অসহায়ের আশ্রয় হিসেবে জানতেন এবং যদি কোন প্রয়োজন অথবা পেরেশানি ভোগ করতেন তবে রাসূলে কারিম (ﷺ)’র নিকট আরয করতেন। আর রাসূল (ﷺ) তাদের হাজাতপূর্ণ করতেন।
❏ কবি বলেন-
جو گدا ديكهو لئے جاتا ہے تودڑا نور كا
نور كى سركار سے كيا اس ميں توڑا نور كا
-‘নবীর দুয়ারে দেখ ভিখারী নূরের কিছু দান নিয়ে গেল,
একটু নিলেও শাহানশাহ থেকে কিবা-ই নিল!’
কাউকে ‘না’ না বলা
____________________
কাউকে ‘না’ না বলা-
❏ সায়্যিদুুনা হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন-
مَا سُئِلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا قَطُّ فَقَالَ لَا
-‘কখনো এরূপ হয়নি যে, নবী করিম (ﷺ)’র কাছে কোন কিছু চাওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি “না” বলেছেন।’ ১৫৬
{১৫৬. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮০৫ পৃ: হা/২৩১১, রাসূল (ﷺ)’র দানশীলতা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ:
بَابُ مَا سُئِلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا قَطُّ فَقَالَ لَا وَكَثْرَةُ عَطَائِهِ, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৬১৭ পৃ. হা/৫৮০৫, পরিচ্ছেদ: بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم, সুনানে দারেমী, ১/২১১ পৃ. হা/৭১, মুসনাদে আহমদ, ২২/১৯৮ পৃ. হা/১৪২৯৪, মুসনাদে আবি ই‘য়ালা, হা/২০০১, ইমাম আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৭/৮৯ পৃ., ইমাম বুখারী, আদাবুল মুফরাদ, হা/২৯৮, মুসনাদে আবি দাউদ তায়লসী, হা/১৮২৬, সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৩৭৭}
আক্বিদা
রাসূলে করিম (ﷺ)’র দরবার এমন এক মহান দরবার যার মধ্যে কোন কিছুর কমতি নেই এবং যে কোন ভিক্ষুক আসুক না কেন, তার থলে পূর্ণ করে নিয়ে যায়।
হুযূরে কারিম (ﷺ)’র দরবারের ভিক্ষুক হওয়া শিরিক নয়, বরং এটাই প্রকৃত ইসলাম। হযরত রাবিয়া (رضي الله عنه) এর উপর খুশে হয়ে রাসূলে আকরাম (ﷺ)’র পবিত্র ইরশাদ- سَلْ -চাও, এর পর তিনি (রাবিয়া) আরয করলেন-
أَسْأَلُكَ مُرَافَقَتَكَ فِي الْجَنَّةِ
-‘‘আমি আপনার কাছে চাই, যেন জান্নাতে আপনার সাথে থাকা।’’ ১৫৭
{১৫৭. ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, ১/৩৫৩ পৃ. হা/৪৮৯, খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ১/২৮১ পৃ. হা/৮৯৬, পরিচ্ছেদ: بَاب السُّجُود وفضله, ইমাম বায়হাকী, আস-সুনানুল কোবরা, ২/৬৮৩ পৃ. হা/৪২৪২, সুনানে নাসাঈ, হা/১১৩৮ এবং আস-সুনানুল কোবরা, ১/৩৬৪ পৃ. হা/৭২৮, আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/৩১ পৃ., সুনানে আবি দাউদ, ২/৩৫ পৃ. হা/১৩২০, তাবরানী, মু‘জামুল কাবীর, ৫/৫৬ পৃ. হা/৪৫৭০, বাগভী, শরহে সুন্নাহ, ৩/১৪৯ পৃ. হা/৬৫৫, ইমাম মুনযিরী, তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/১৫২ পৃ. হা/৫৬৪, মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ৭/৩০৬ পৃ. হা/১৯০০৬, ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ৯/৩৯৬ পৃ. হা/৭০৫২, বায়হাকী, দাওয়াতুল কাবীর, ১/৫৩৯ পৃ. হা/৪১৯}
❏এজন্যই আ‘লা হযরত ইমামে আহলে সুন্নাত শাহ আহমাদ রেযা খাঁ বেরলভী (رضي الله عنه) বলেন-
واه كيا جود و كرم ہے شاه بطحا تيرا
نہيں سنتا ہى نهيں ما نگنے والا تيرا
-‘তুমি কত বড় দানবীর ও দয়াশীল হে আরবের বাদশাহ্
তুমি শ্রবণকারী নও, নও তুমি যাচনাকারী।’
ছাগলের গোশত কথা বলা
____________________
ছাগলের গোশত কথা বলাঃ-
সায়্যিদুনা হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, খায়বার বাসিদের মধ্যে প্রথমে এক ইয়াহুদী রমনী ভুনাইকৃত ছাগলের মাংশের মধ্যে বিষ মিশ্রিত করে রাসূল (ﷺ)’র খিদমাতে হাদিয়া পেশ করল।
রাসূল (ﷺ) তা হতে খাওয়া শুরু করলেন এবং সাহাবাদের একটি জামা‘আতও খেতে শুরু করলেন। এরপর রাসূল (ﷺ) সাহাবাদের বললেন যে, খাওয়া থেকে বিরত থাক। আর ইয়াহুদী রমনীকে ডেকে বললেন-
سَمَمْتِ هَذِهِ الشَّاةَ؟
-‘তুমি এই ছাগলের মধ্যে বিষ মিশ্রিত করেছো? মহিলাটি বললঃ আপনাকে কে বলেছে? রাসূল (ﷺ) বললেন-
أَخْبَرَتْنِي هَذِه فِي يَدي للذِّراع
-‘এই ছাগলের বাহুটি যা আমার হাতে আছে, এটাই আমাকে বলেছে।’ তখন রমনীটি বললঃ আমি বললাম:
إِن كَانَ نَبيا فَلَنْ يضرّهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ نَبِيًّا اسْتَرَحْنَا مِنْهُ
যদি তিনি সত্য নাবী হন তবে এই বিষ তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি তিনি নাবী না হন তবে তাঁর থেকে আমরা মুক্তি লাভ করব।
রাসূল (ﷺ) তাকে ক্ষমা করে দিলেন, এবং কোন ধরনের শাস্তিও দিলেন না। ১৫৮
{১৫৮. খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ৩/১৬৬৭ পৃ. হা/৫৯৩১, পরিচ্ছেদ: بَاب فِي المعجزات, সুনানে আবি দাউদ শরীফ, ৪/১৭৩ পৃ. হা/৪৫১০, সুনানে দারেমী, ১/২০৮ পৃ. হা/৬৯, ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল কাবীর, ১৯/৭০ পৃ. হা/১৩৭, মুসন্নাফে আবদুর রায্যাক, ৬/৬৫ পৃ. হা/১০০১৯, ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ১১/৩২৭ পৃ. হা/৮৮৮৮, হাইসামী, মাযমাউয যাওয়াইদ, ৮/২৯৬ পৃ. হা/১৪০৯২}
আক্বিদা
জীবজন্তুও নাবীপাক (ﷺ)’র গোলাম এবং খাদিম। আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রিয় রাসূল ( কে এমন শক্তি দান করেছেন যে, জবাই করা ছাগলের পাকানো গোশতও তাঁর সাথে কথা বলে আর রাসূল (ﷺ) তার কথা শুনেন।
ইয়াহুদি নবী করিম (ﷺ)’র এই কামালিয়াত এবং মহান মর্যাদা দেখে ইসলাম গ্রহণ করেছে।
❏কবি বলেন-
جن و ملك ہي ان كے سپاہى
رب كى خدائى ميں ان كى شاہى
“জ্বিন ও ফেরেশতাও তাঁর সৈনিক,
আল্লাহর জগতের মধ্যেই তাঁর বাদশাহী।”
প্রবল ঝড় দেখে মুনাফিকের মৃত্যু সংবাদ প্রদান
____________________
প্রবল ঝড় দেখে মুনাফিকের মৃত্যু সংবাদ প্রদানঃ-
সায়্যিদুনা জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, একদিন নাবী কারিম (ﷺ) সফর থেকে পুনরায় ফিরে আসলেন। যখন মাদিনা মুনাওয়ারার নিকটবর্তী হলেন, প্রবল ঝড়ের উপক্রম হল। তিনি সাওয়ারগুলোকে দাঁড় করালেন, প্রবল এই ঝড় দেখে বললেন-
بُعِثَتْ هَذِهِ الرِّيحُ لِمَوْتِ مُنَافِقٍ . فَقَدِمَ الْمَدِينَةَ فَإِذَا عَظِيمٌ مِنَ الْمُنَافِقين قد مَاتَ
-‘‘এই প্রবল ঝড়টি এক বড় মুনাফিকের মৃত্যুর জন্য প্রবাহিত হচ্ছে, আমরা যখন মাদিনা মুনাওয়ারায় আসলাম, জানা গেল যে এক বড় মুনাফিক মারা গেল।’’ ১৫৯
{১৫৯. খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ৩/১৬৫৫ পৃ:, হা/৫৯০০, ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, ৪/২১৪৫ পৃ. হা/২৭৮২, মুসনাদে ইমাম আহমদ, । মুসনাদে আবি ই‘য়ালা, ৪/২০১ পৃ. হা/২৩০৭, ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ১১/৩২৭ পৃ. হা/৮৮৮৫, }
আক্বিদা
মুনাফিকের মৃত্যুর সংবাদ দেয়া এটা নাবী কারিম (ﷺ)’র ইলমে গায়ব সমূহের মধ্যে একটি। নাবী কারিম (ﷺ) যে রকম বলেছেন সে রকম হওয়াকে সাহাবায়ে কেরাম (رضي الله عنه) গণ সত্যায়ন করেছেন, যেটি ছিল তাঁদের আক্বিদা স্পষ্ট দলিল।
যেটা চাও জিজ্ঞাসা করো
____________________
সায়্যিদুনা আবূ মূসা আশ‘আরী (رضي الله عنه)’র আক্বিদা
যেটা চাও জিজ্ঞাসা করো ঃ-
সায়্যিদুনা হযরত আবূ মূসা আশ‘আরী (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, রাসূল (ﷺ)’র নিকট এমন কিছু বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যা ছিল অসহনীয়। যখন অধিক প্রশ্ন করা হল তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন-
سَلُونِي عَمَّا شِئْتُمْ
-‘তোমরা যে বিষয়েই চাও জিজ্ঞাসা কর।’’ তখন এক ব্যক্তি বললঃ
مَنْ أَبِي يَا رَسُولَ اللهِ؟
-‘হে রাসূল (ﷺ), আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ
أَبُوكَ حُذَافَةُ بْنُ قَيْسٍ
-‘তোমার পিতা হোযাফা।’ অপর ব্যক্তি বললেন,
مَنْ أَبِي يَا رَسُولَ اللَّهِ؟
-‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ
أَبُوكَ سَالِمٌ مَوْلَى شَيْبَةَ
-‘তোমার পিতা সালেম, শায়বার আযাদকৃত গোলাম।’ ১৬০
{১৬০. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ১/৩০ পৃ. হা/৯২, ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, ৪/১৮৩৪ পৃ. হা/২৩৬০}
আক্বিদা
নাবী কারিম (ﷺ) কে আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত বিষয়ের ইল্ম দান করেছেন। এজন্যই তো তিনি বলেছেনঃ
سَلُونِي عَمَّا شِئْتُمْ
-‘যা চাও জিজ্ঞাসা কর।’
❏আ‘লা হযরত আজিমুল বরকত ইমাম আহলে সুন্নাত মুজাদ্দিদে দ্বীন ও মিল্লাত শাহ আহমদ রেযা খাঁন বেরলভী (رحمة الله) এজন্যই বলেছেন-
سر عرس پر تيرى گذر دل فرش پر ہے تيرى نظر
ملكوت و ملك ميں كوئ شے نہيں جو كہ بتہ عياں نہيں
-‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আরশপরী আপনার ভ্রমন, এ মাটির পৃথিবীতে আমরা যারা আছি তাদের অন্তরে আপনার বিছানা,
পৃথিবীর রাজত্বে এবং উর্ধ্ব জগতে এমন কোন কিছু নেই যা আপনার কাছে সুস্পষ্ট নয়।’’
উম্মাতের শেষ পরিনতির ইলম
____________________
উম্মাতের শেষ পরিনতির ইলমঃ-
সায়্যিদুনা হযরত আবূ মূসা আশ‘আরী (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, একদিন নাবী করিম (ﷺ) মদিনা মুনাওয়ারার একটি বাগানে হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। এক ব্যক্তি লাকড়ি থেকে কাঁদা ঘষে ঘষে তুলতেছিল। এক ব্যক্তি দরজা খুলছিল এবং রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন-
افْتَحْ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ
-‘দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সু-সংবাদ দাও।’ হযরত আবূ মূসা আশ‘আরী (رضي الله عنه) বলেন, আগন্তুক ছিলেন হযরত আবু বাকর (رضي الله عنه)। আমি দরজা খুলে তাঁকে জান্নাতের সু-সংবাদ দিলাম। অতঃপর এক ব্যক্তি দরজা খুললেন, তিনি (ﷺ) বললেন-
افْتَحْ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ
-‘দরজা খুলে তাকে জান্নাতের সু-সংবাদ দাও।’ হযরত আবু মূসা আশ‘আরী (رضي الله عنه) বলেন, আমি গিয়ে দেখলাম তিনি হযরত উমর (رضي الله عنه) ছিলেন। আমি দরজা খুলে তাকে জান্নাতের সু-সংবাদ দিলাম। অতঃপর এক ব্যক্তি এসে দরজা খুলতেছেন। নাবী পাক (ﷺ) বসে ছিলেন এবং বললেন, দরজা খুলে দাও। বললেন-
وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ عَلَى بَلْوَى تَكُونُ
এবং তাকে মুসিবতগ্রস্তদের সাথে জান্নাতের সু-সংবাদ দাও।
আমি গিয়ে দরজা খুলে দেখলাম তিনি হযরত উসমান (رضي الله عنه) ছিলেন। আমি তাঁকে জান্নাতের সু-সংবাদ দিলাম এবং নাবী কারিম (ﷺ) যা বলেছেন আমি তাঁকে তা বললাম। হযরত উসমান (رضي الله عنه) এটা শুনে বললেন-
اللهُمَّ صَبْرًا، أَوِ اللهُ الْمُسْتَعَانُ
-‘হে আল্লাহ আমাকে ধৈর্র্য্য দান করুন অথবা আল্লাহ সাহায্যকারী।’ ১৬১
{১৬১. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮৬৭ পৃ. হা/২৪০৩, হযরত ওসমান (রা.)’র ফজিলত অধ্যায়, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৭১৭ পৃ. হা/৬০৮৪, ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ৮/৫৬২ পৃ. হা/৬৩৭২}
আক্বিদা
নাবী পাক (ﷺ) জানেন যে, দরজা করাঘাতকারী কে ছিলেন এবং তাদের ইন্তেকাল কি অবস্থায় হবে এবং কিয়ামাত দিবসে তাদের মকাম কী হবে। এজন্যই তো তিনি জান্নাতের সু-সংবাদ দিয়েছেন।
হযরত আবূ মূসা আশ‘আরী (رضي الله عنه)’র আক্বীদার সাথে সাথে হযরত আবু বকর (رضي الله عنه), হযরত উমার (رضي الله عنه) এবং হযরত উসমান (رضي الله عنه) ও ইল্ম হয়ে যায় যে, তাঁদের আক্বিদা ছিল যে, হুযুর (ﷺ) তাঁর উম্মাতের পরকালের খবর জানেন।
এটাও জানেন যে, জান্নাতি নাকি, জান্নাতি নয়। যদি এই আক্বীদা পোষণ না করতেন, তবে হযরত আবু মূসা আশ’আরী (رضي الله عنه)’র সু-সংবাদ দেয়ার পর যখন তিনি রাসূল (ﷺ)’র খিদমতে এসে বসতেন তখন তিনি রাসূল (ﷺ)’র কাছে জিজ্ঞাসা করতেন যে, আপনার কি জানা আছে, আমরা কি জান্নাতী? প্রশ্ন না করাটাই হচ্ছে এ বিষয়ে দলীল যে, নবী করিম (ﷺ) তাঁর উম্মাতের পরকালের খবর জানেন।
❏কবি বলেন-
تو دانا ئے ما كان و ما يكون
مگر بے خبر بے خبر دمكہتے ہيں
-“যা কিছু হয়েছে আর যা কিছু হবে সে বিষয়ে আপনি অবগত,
কিন্তু যারা অজ্ঞ তারা আপনাকে অনবগত হিসেবেই দেখেন।”
জানাযা পরেও দোয়া করা যায়
____________________
জানাযা পরেও দোয়া করা যায়ঃ-
❏ইমাম বায়হাকী (رحمة الله) হাদিস সংকলন করেন-
عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ خَيْثَمَةَ، أَنَّ أَبَا مُوسَى: صَلَّى عَلَى الْحَارِثِ بْنِ قَيْسٍ الْجُعْفِيِّ بَعْدَ مَا صُلِّيَ عَلَيْهِ
-‘‘হযরত আমর বিন র্মুরা (رحمة الله) তিনি তাবেয়ী হযরত খায়ছামা (رحمة الله) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, নিশ্চয় আবু মূসা আশ‘আরী (رضي الله عنه) হযরত হারেস ইবনে কায়েছ আল-জুফিয়ী (رضي الله عنه)-এর জানাযার নামায আদায় করলেন, পরে তাঁর জন্যে দোয়া করেন।’’ ১৬২
{১৬২. ইমাম বায়হাকী, আস-সুনানিল কোবরা, ৪/৭৪পৃ. হাদিস নং.৬৯৯৭।}
আক্বিদা
সাহাবায়ে কেরামদের একটি আদর্শ হলো যে তারা তাদের মু‘মিন ভাইদের জন্য জানাযার নামাযের পরও দোয়া করতেন। আর এটি করা তারা মৃত ব্যক্তির জন্য মঙ্গলময় মনে করতেন। ১৬৩
{১৬৩. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
কিয়ামত দিবসে উম্মতগণ কবর থেকে উঠার ধরণ
____________________
সায়্যিদুনা আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (رضي الله عنه)’র আক্বিদা
কিয়ামত দিবসে উম্মতগণ কবর থেকে উঠার ধরণ
সায়্যিদুনা হযরত ‘আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, একদিন নাবী পাক (ﷺ) বের হলেন এবং মাসজিদে তাশরিফ আনলেন, হযরত আবূ বকর (رضي الله عنه) এবং হযরত উমর (رضي الله عنه) দু’জন থেকে একজন ডান পাশে এবং অন্যজন বামপাশে ছিলেন। নাবী কারিম (ﷺ) এবং তারা দু’জন একটি কাপড়ের মধ্যে ছিলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ
هَكَذَا نُبْعَثُ يَوْمِ الْقِيَامَةِ
-‘‘কিয়ামাত দিবসে আমরা এভাবেই উঠব।’’ ১৬৪
{১৬৪. খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ৩/১৭০৯পৃ: হা/৬০৬৩, জামে তিরমিযী, ৬/৫৩ পৃ. হা/৩৬৬৯, ইমাম আসেম, আস-সুন্নাহ, হা/১৪১৮, মুসনাদে বায্যার, হা/৫৮৫২, ইমাম আহমদ, ফাদাইলুস সাহাবা, ১/১০৫ পৃ. হা/৭৭, ইমাম হাকেম তিরমিযি, নাওয়ারিদুল উসূল, ৩/১৪১ পৃ., ইবনে আছির, জামিউল উসূল, হা/৬৪৬০, মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ১৩/১৭ পৃ. হা/৩৬১৩০, ইমাম হাকেম নিশাপুরী, আল-মুস্তারাক, ৩/৭১ পৃ. হা/৪৪২৮, এবং হা/৭৭৪৬, তিনি বলেন-
هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ
-‘‘এ হাদিসটির সনদ সহীহ, যদিও বা শায়খাইন বর্ণনা করেননি।’’ তবে আমি বলবো এ সনদটি ‘হাসান’ পর্যায়ের; আর এ বিষয়ক হাদি সহীহ। কেননা এ বিষয়ে আরও অনেক সাহাবী হাদিস বর্ননা করেছেন। সুনানে তিরমিযির এ সনদে ‘সাঈদ বিন মাসলামা’ সম্পর্কে ইমাম তিরমিযি (رحمة الله) বলেছিলেন--‘‘তিনি শক্তিশালী রাবী নন।’’ এ ধরনের উক্তি অনেক ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণ ‘হাসান’ পর্যায়ের রাবীর ক্ষেত্রে বলে থাকেন। উক্ত রাবীর বিষয়ে আল্লামা যাহাবী (رحمة الله) উল্লেখ করেন-
وَقَالَ اِبْنِ عَدِيٍّ: أَرْجُوْ أَنَّهُ مِمَّنْ لَا يُتْرَكُ حَدِيْثُهُ.
-‘‘ইমাম ইবনে আদি (رحمة الله) বলেন, আমি রাশা রাখি, কেউ তার কোন হাদিস পরিত্যাগযোগ্য বলে গণ্য করেননি।’’ (যাহাবী, তারিখুল ইসলামী, ৫/৮১ পৃ. ক্রমিক. ১৫৯, মুগলতাঈ, ইকমালু তাহযিবুল কামাল, ৫/৩৫১ পৃ. ক্রমিক. ২০৩৯) আল্লামা মুগলতাঈ (رحمة الله) তার জীবনীতে উল্লেখ করেন- وقال الساجي: صدوق -‘‘ইমাম সাজী (رحمة الله) বলেন, তিনি সত্যবাদী।’’ (ইকমালু তাহযিবুল কামাল, ৫/৩৫১ পৃ. ক্রমিক. ২০৩৯) তিনি আরও উল্লেখ করেন-
وخرج الحاكم حديثه في المستدرك
-‘‘ইমাম হাকেম নিশাপুরী তার মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন গ্রন্থে (সহীহ হিসেবে) সংকলন করেন।’’(মুগলতাঈ, ইকমালু তাহযিবুল কামাল, ৫/৩৫১ পৃ. ক্রমিক. ২০৩৯) ইমাম দারাকুতনী (رحمة الله) বলেন- يعتبر به -‘‘তিনি নির্ভরযোগ্য।’’ (দ্বুআফা ওয়াল মাতরুকুন, ক্রমিক. ৬২৮) তাই হাদিসটি কমপক্ষে ‘হাসান’ এর মর্যাদা রাখে। অপরদিকে ইমাম তাবারানী (رحمة الله)সহ আরও অনেকে সংকলন করেন-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ أَبِي بَكْرٍ، وَعُمَرَ، فَقَالَ: هَكَذَا نُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
-‘‘হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) তাঁর হুজরা শরীফ থেকে বের হয়ে হযরত আবূ বকর এবং উমরের মধ্যেখানে এসে বসলেন, অতঃপর বললেন, কিয়ামাত দিবসে আমরা এভাবেই উঠব।’’ (ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল আওসাত, ৮/১৫৬ পৃ. হা/৮২৫৮, হাইসামী, মাযমাউয-যাওয়াইদ, ৯/৫৩ পৃ. হা/১৪৩৬২, তিনি বলেন সনদটিতে যঈফ রাবী খালেদ ইবনে ইয়াযিদ রয়েছেন। দেখুন-মাযমাউয-যাওয়াইদ, হা/১৭১৬৪) শুধু তাই নয় আল্লামা মুত্তাকী হিন্দী (رحمة الله) এ হাদিসটি সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত একটি সূত্র সংকলন করেন। (মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ১৩/১৭ পৃ. হা/৩৮৯১২) সব মিলিয়ে হাদিসটি ৩ জনেরও বেশী সাহাবী হতে বর্ণিত। তাই সবগুলো সূত্র যঈফ হলেও উসূলে হাদিসের নীতিমালা অনুসারে হাদিসটি ‘হাসান লি গাইরিহী’ হতে কোন অসুবিধা নেই। এ নীতিমালা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমার লিখিত ‘প্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানোর স্বরূপ উন্মোচন’ ১ম খণ্ড দেখুন।}
আক্বিদা
নাবী পাক (ﷺ) কিয়ামত দিবসে উম্মাত যে অবস্থায় কবর থেকে বের হবেন এটাও জানতেন, আর এজন্যই তিনি এই দৃশ্য এবং অবস্থার বর্র্ণনা করেছেন।
এজন্যই নাবী কারিম (ﷺ) সাহাবায়ে কিরামগণকে বলেছেন-
إِنِّي أَرَى مَا لَا تَرَوْنَ
-‘আমি ওইসব কিছু দেখি যা তোমরা দেখ না।’ ১৬৫
{১৬৫. ইমাম তিরমিযী, আস-সুনান, ৪/১৩৪ পৃ. হা/২৩১২, খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ৩/১৪৬৯ পৃ:, হা/৫৩৪৭, ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৩৫/৪০৫ পৃ. হা/২১৫১৬, ইমাম ইবনে মাযাহ, আস-সুনান, ৫/২৮৩ পৃ. হা/৪১৯০, হাদিসটি আবু যার গিফারী (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত।}
❏আ‘লা হযরত আজিমুল বারকত ইমাম শাহ আহমদ রেযা খাঁন বেরলভী (رحمة الله) বলেন-
عرس تا فرش ہےجس كے زيہ نگيں
اس كى قاہر رياست پہ لاكوں سلام
অনুরূপ সায়্যিদুনা হযরত আবু বকর (رضي الله عنه) এবং হযরত উমর (رضي الله عنه)’র কবর, কিয়ামত এবং জান্নাতের মধ্যে বিশেষ যে নৈকট্য লাভ করবেন তা আর কেউ পাবে না।’
নজদ থেকে শয়তানের দল বের হবে
____________________
নজদ থেকে শয়তানের দল বের হবেঃ-
❏সায়্যিদুনা আব্দুল্লাহ বিন ওমর (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, নাবী কারিম (ﷺ) দোয়া করেন-
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَامِنَا، اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي يَمَنِنَا
-‘হে আল্লাহ আমাদের শাম দেশে বারকাত দান করুণ। হে আল্লাহ আমাদের ইয়ামান দেশে বারকত দান করুণ। তখন লোকেরা দাঁড়িয়ে আরয করলেন, হে রাসূল (ﷺ) আমাদের নাজদের জন্য দোয়া করুণ।’
নবী কারিম (ﷺ) পুনরায় শাম এবং ইয়ামানের জন্য দোয়া করলেন, অতঃপর নজদবাসীরা আরয করল, আমাদের নজদের জন্য দোয়া করুণ।
রাবী বলেন, তৃতীয়বার যখন বলা হল হে রাসূল (ﷺ) আমাদের নজদের জন্য দোয়া করুণ। তখন নাবী কারিম (ﷺ) বললেন-
هُنَاكَ الزَّلاَزِلُ وَالفِتَنُ، وَبِهَا يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانِ
-‘‘সেখানে ভূমিকম্প এবং ফিতনা বের হবে এবং সেখান হতেই শয়তানের শিং বের হবে।’’ ১৬৬
{১৬৬. সহীহ বোখারী শরীফ, ৯/৫৪ পৃ. হা/৭০৯৪, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৭৬৬ পৃ. হা/৬২৭১, ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান, ৬/২২৭ পৃ. হা/৩৯৫৩, ৯/৪৫৮ পৃ. হা/৫৬৪২। }
আক্বিদা
নাবী পাক (ﷺ)’র কাছে পুরো নজদ থেকে যে ফিতনা এবং শয়তানের দল বের হবে সেটার ইলম ছিল। আর এই দলের প্রধান ছিল মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব নাজ্দী। বড় বড় মুহাদ্দিস এবং ব্যাখ্যাকার এই হাদিসের ব্যাখ্যা এটিই নির্ণয় করেছেন। ১৬৭
{১৬৭. এমনকি দেওবন্দীদের শায়খে কেরআন আল্লামা আব্দুল হাদী শাহ মানসুরী তার সুপ্রসিদ্ধ কিতাব ‘তাসহিুলুল বুখারী’ তে এ হাদিসের ব্যাখ্যায় লিখেন-
لعل المراد منه قَرْنُ محمد بن عبد الوهاب النجدى-
-‘‘সম্ভবত মহানবী (قَرْنُ) শব্দ দ্বারা মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব নাজদী কে বুঝিয়েছেন।’’ (তাসহিলুল বুখারী, ২১ পৃ., দারুল উলূম তালিমুল কোরআন, মারদান হতে প্রকাশিত।) মক্কা শরীফের অন্যতম মুফতি ও মুহাদ্দিস আল্লামা আহমদ ইবনে যাইনী দাহলান মক্কী (رحمة الله) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় লিখেন-
جاء رواية قرنا الشيطان بصغية التثنية قال بعض العلماء المراد من قرنى الشيطان مسيلمة الكذاب و ابن عبد الوهاب-
-‘‘এক হাদিসের বর্ণনায় এসেছে (قرنا الشيطان) উলামায়ে কেরাম এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, ভণ্ড নবী দাবীদ্বার মুসায়লামাতুল কায্যাব এবং ইবনে আব্দুল ওহ্হাব নজদী।’’ (ইবনে দাহলান, আদ্-র্দুরুস সানিয়্যাহ, ৫০ পৃ.)}
বিস্তারিত জানতে চাইলে আমার (গ্রন্থকারের) ‘ওহাবী মাযহাব’ নামক কিতাবটি অধ্যয়ন করুণ।
❏সায়্যিদুনা আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (رضي الله عنه) খারিজিদের ব্যাপারে যে দৃষ্টিভঙ্গি রাখতেন, সে ব্যাপারে ইমাম বুখারী (رضي الله عنه) তাঁর বুখারী শরীফে লিখেছেন,
وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ، يَرَاهُمْ شِرَارَ خَلْقِ اللَّهِ، وَقَالَ: إِنَّهُمُ انْطَلَقُوا إِلَى آيَاتٍ نَزَلَتْ فِي الكُفَّارِ، فَجَعَلُوهَا عَلَى المُؤْمِنِينَ
-‘হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (رضي الله عنه) খারেজীদেরকে আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচাইতে মন্দ জানতেন। তিনি বলতেন এইসব লোক কাফিরদের ব্যাপারে যে আয়াত নাযিল হয়েছে তা মু‘মিনদের উপর চাপিয়ে দিত।’ ১৬৮
{১৬৮. সহীহ বোখারী, ৯/১৬ পৃ. পরিচ্ছেদ: بَابُ قَتْلِ الخَوَارِجِ وَالمُلْحِدِينَ بَعْدَ إِقَامَةِ الحُجَّةِ عَلَيْهِمْ}
আক্বিদা
এমন কতেক লোক রয়েছে যারা কুরআন পড়ে আর কুরআনের যে সব আয়াত কাফেরদের ব্যাপারে নাজিল হয়েছে তা মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দেয়। এরা কারা?
এখন লক্ষ্য করুণ, যে সব লোক নবীগণ ও ওলীগণের মান মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং তাদের দানের ক্ষমতাকে অস্বীকার করে এবং নিজেদের দলিলের স্বপক্ষে যেসব কুরআনের আয়াত পড়ে সব আয়াত যে ব্যাপারে নাযিল হয়েছে তা নবীগণ ও ওলীগনের উপর চাপিয়ে দেয়।
আর এরা হল ওই সব লোক যাদের চিহ্নিত করনে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (رضي الله عنه) বলেছেন যে, দুনিয়ার মধ্যে এরা সবচেয়ে মন্দ লোক।
❏কবি বলেন-
خدا محفوظ ركهے ہر بلا سے
خصوصا خارجيت كى دبا سے
-‘হে আল্লাহ, প্রত্যেক মুসিবত থেকে আমাদেরকে হিফাজত করুন,
বিশেষ করে খারিজিদের মহামারী থেকে আমাদেরকে হিফাজত করুন।’
বদ ‘আক্বিদা লোকের রোগের সেবা না করা এবং জানাযা না পড়া
____________________
বদ ‘আক্বিদা লোকের রোগের সেবা না করা এবং জানাযা না পড়াঃ-
❏সায়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (رضي الله عنه) বলেন, নাবীয়ে পাক (ﷺ) ইরশাদ করেন, তাকদীর অস্বীকার কারী (ক্বাদরিয়া) এই উম্মতের মাজুসী (যরোয়ে ষ্টীর ধর্মাবলম্বী)
إِنْ مَرِضُوا فَلَا تَعُودُوهُمْ، وَإِنْ مَاتُوا فَلَا تَشْهَدُوهُمْ
-‘যদি তারা অসুস্থ হয় তবে তাদের সেবা করবে না, এবং তারা যদি মরে যায় তবে তাদের জানাযায় যাবে না।’ ১৬৯
{১৬৯. সুনানু আবি দাউদ, ৪/২২২ পৃ. হা/৪৬৯১, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ১/৩৮ পৃ. হা/১০৭, ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৯/৪১৫ পৃ. হা/৫৫৮৪, হা/৬০৭৭, এই হাদিসটি হুবহু এই শব্দে হযরত জাবির বিন আব্দুল্লাহ (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত আছে। (সুনানু ইবনি মাযাহ, ১/৬৯পৃ. হা/৯২)}
আক্বিদা
বদ আক্বীদাধারী লোকদের সাথে কোন ধরনের মেলামেশার সম্পর্ক না রাখা চাই। দোয়ায়ে কুনুতের মধ্যে আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করা হয় যে,
وَنَخْلَعُ نَتْرُكُ مَنْ يَّقْجُرُك
-‘আর যারা আপনার হুকুমের নাফরমানী করে তাদের থেকে আমরা পৃথক থাকি এবং তাদের সাথে মেলামেশা বর্জন করি।’ ১৭০
{১৭০. ইমাম বায়হাকী, আল-মা‘রিফাতুল সুনানি ওয়াল আছার, ৩/১১০ পৃ. হা/৩৯০৮ এবং আস-সুনানুল কোবরা, ২/২৯৯ পৃ. হা/৩১৪৪, ইমাম তাহাভী, শরহে মা‘আনীল আছার, ১/২৪৯ পৃ. হা/১৪৭৫}
বিদআতীদের সালাম না দেয়া
____________________
বিদআতীদের সালাম না দেয়াঃ-
❏সায়্যিদুনা আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (رضي الله عنه) বলেন যে, একব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল-
إِنَّ فُلَانًا يَقْرَأُ عَلَيْكَ السَّلَامَ
-‘অমুক ব্যক্তি আপনাকে সালাম দিয়েছে।’ তখন
❏আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (رضي الله عنه) বললেন-
بَلَغَنِي أَنَّهُ قَدْ أَحْدَثَ، فَإِنْ كَانَ قَدْ أَحْدَثَ، فَلَا تَقْرَأْ عَلَيْهِ السَّلَامَ
-‘আমার কাছে খবর এসেছে যে, ব্যক্তিটি বিদআতি হয়ে গেছে, আর সে বাস্তবে যদি বিদ‘আতি হয়ে থাকে তবে তাকে আমার সালাম দিওনা।’ ১৭১
{১৭১. সুনানু দারিমী, ১/৩৮৮ পৃ. হা/৪০৭}
আক্বিদা
বিদআতি লোকদের সাথে মেলামেশা, চলাফেরা, তাদেরকে সালাম দেয়া এবং সালামের উত্তর না দেয়া চাই। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন-
يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ
-‘কিয়ামাতের মায়দানের কারো চেহেড়া হবে উজ্জল, আর কারো চেহেড়া হবে কালো।’
(সূরা আলি ইমরান, আয়াত নং-১০৬)
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (رضي الله عنه) বলেন-
عَنْ اِبْن عُمَرْ عَنْ النَّبِي ﷺ فِي قَوْلِهِ تَعَالٰى { يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ} قَالَ: تَبْيَضُّ وُجُوهٌ أَهْلِ السُّنَّةِ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ أَهْلِ الْبِدْعِ
-‘‘{ইমাম খাতিবে বাগদাদি (رحمة الله) তাঁর তারিখে বাগদাদে, ইমাম মালেক, ইমাম দায়লামি সংকলন করেন} হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। এ আয়াত ‘কিয়ামাতের মায়দানের কারো চেহেড়া হবে উজ্জল, আর কারো চেহেড়া হবে কালো।’
(সূরা আলে ইমরান, ১০৬ এর) ব্যাখ্যা স্বরূপ তিনি রাসূল (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন যাদের মুখ উজ্জ্বল হবে তারাই হলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত। আর আহলে বিদআতী বা দ্বীন থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মুখ হবে কালো হবে।’’ ১৭২
{১৭২. ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী, তাফসীরে দুররুল মানসূর, ২/২৯১পৃ. দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন, তাহের পাটনী, তাযকিরাতুল মাওদ্বুআত, ১/৮৪পৃ.}
আহলে সুন্নাতের অনুসারী আলিমদের চেহারা নূরানী ও উজ্জ্বল হবে। যে সব লোক নিজেদের বিদআতি হওয়ার উপর পর্দা দেয়ার লক্ষ্যে আহলে সুন্নাতের আলেমদেরকে বিদআতী বলে তাদের চেহারা দেখা হবে আর হযরত ইবনু আব্বাস (رضي الله عنه)’র তাফসিরের মধ্যে তাদের সনাক্ত করনের প্রমাণ দেখ। ১৭৩
{১৭৩. সকল দেওবন্দী ও আহলে হাদিসদের মান্যবড় আল্লামা ইবনে কাসির (رحمة الله) পবিত্র কোরআনের এ আয়াতের ব্যাখ্যায় সাহাবি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه)‘র উক্তি বর্ণনা করেছেন-
وَتَبْيَضُّ وُجُوهُ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ
-‘‘কিয়ামতের দিন যাদের মুখ উজ্জল হবে তারা হল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী।’’ (ইবনে কাসির, তাফসীরে ইবনে কাসীর, ২/৭৯পৃ. দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন, প্রকাশ. ১৪১৯হি.) এছাড়া আরও দেখুন-(ইমাম আবি হাতেম, আত্-তাফসীর, ৩/৭২৯পৃ. হাদিস, ৩৯৫০, ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী, তাফসীরে আদ্-দুররুল মানসূর, ২/২৯১পৃ. দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন, ইমাম আবি হাতেম, আত্-তাফসীর, ৩/৭২৯পৃ., শাওকানী, ফতহুল ক্বদীর, ১/৪২৫পৃ. দারু ইবনে কাসির, দামেস্ক, বয়রুত, প্রকাশ.১৪১৪হি.) এ আয়াতের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তাফসির জানতে আমার লিখিত ‘আকায়েদে আহলে সুন্নাহ’ গ্রন্থের শুরুতে দেখুন।
সমগ্র দুনিয়া হাতের তালুতে
____________________
সমগ্র দুনিয়া হাতের তালুতেঃ- ১৭৪
{১৭৪. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
❏হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন,
إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ رَفَعَ لِيَ الدُّنْيَا فَأَنَا أَنْظُرُ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا هُوَ كَائِنٌ فِيهَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ كَأَنَّمَا أَنْظُرُ إِلَى كَفِّي هَذِهِ.
-‘‘আল্লাহ তা’য়ালা আমার সামনে সারা দুনিয়াকে তুলে ধরেছেন। তখন আমি এ দুনিয়াকে এবং এতে কিয়ামত পর্যন্ত যা’ কিছু হবে এমনভাবে দেখতে পেয়েছি, যেভাবে আমি আমার নিজ হাতকে দেখতে পাচ্ছি।’’ ১৭৫
{১৭৫. ইমাম আবূ নাঈমঃ হিলইয়াতুল আউলিয়াঃ ৬/১০১ পৃ. ইমাম জালালুদ্দীন সূয়তীঃ খাসায়েসুল কোবরাঃ ২/১৮৫ পৃ., ইমাম তাবরানীঃ মু‘জামুল কাবীরঃ ১৩/৩১৮পৃ., হা/১৪১১২, মুত্তাকী হিন্দিীঃ কানযুল উম্মালঃ ১১/৪২০ হাদিসঃ ৩১৯৭১, ইমাম কাস্তাল্লানীঃ মাওয়াহেবে লাদুন্নীয়াঃ ৩/৯৫ পৃ., মুত্তাকী হিন্দীঃ কানযুল উম্মালঃ ১১/১৩৭৮ হাদিসঃ ৩১৮১০, ইমাম হায়সামীঃ মাযমাউয যাওয়াইদঃ ৮/২৮৭ পৃ., হা/১৪০৬৭, (এ হাদিসটির সনদের ব্যাপারে অনেক বাতিলপন্থী আপত্তি তুলেছেন। তাদের আপত্তির দাঁতভাঙা জবাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হাদিস শাস্ত্রের উপর গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘‘প্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানোর স্বরূপ উন্মোচন’’ ১ম খণ্ডের ৫০৭-৫০৮ পৃষ্ঠা দেখুন।)}
আক্বিদা
এ হাদিস থেকে বুঝা গেল সমগ্র দুনিয়া আমার দয়াল নবিজীর হাতের তালুতে, তিনি আমাদের সবার অবস্থা অবলোকন করেন।
❏ইমাম যুরকানী (رحمة الله) ‘শারহুল মাওয়াহিব’ গ্রন্থে লিখেন,
اَىْ اَظْهِرَ وَكُشِفَ لِىَ الدُّنْيَا بِحَيْثُ اَحَطْت بِجَمِيْعِ مَافِيْهَا فَاَنَا اَنْظُرُ اِلَيْهَا وَاِلَى مَاُهَو َكائِنَّ فِيْهَا اِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ كَاَنَّمَا اَنْظُرُ اِلَى كَفِّىْ هَذِهِ اِشَارَةٌُ اِلَى اَنَّهُ نَظَرَ حَقِيْقَةً دُفِعَ بِهِ اَنَّهُ اُرِيْدَ بِالنَّظَرِ الْعِلْمُ
-‘‘আমার সামনে দুনিয়াকে প্রতিভাত করা হয়েছে, উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে, যার ফলে আমার দৃষ্টি উহার সমস্ত বস্তুকে পরিবেষ্টন করেছে। সুতরাং, আমি পৃথিবীকে এবং যা কিছু কিয়ামত পর্যন্ত এ ধরাতে হবে, এমনভাবে দেখতে পেয়েছি, যেমনিভাবে আমার এ হাতকে দেখতে পাচ্ছি। এখানে এ কথারই ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে যে, হুযুর আলাইহিস সালাম বাস্তবরূপেই দেখেছেন। অতএব, একথা আর বলা চলবে না যে نظر (নযর) শব্দ বলতে জ্ঞানকে বোঝানো হয়েছে।’’ ১৭৬
{১৭৬. ইমাম জুরকানী, শারহুল মাওয়াহেব, ১০/১২৩পৃ. দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন, প্রকাশ.১৪১৭হি.}
জানাযা শেষ হতে দেখলে যা করণীয়
____________________
জানাযা শেষ হতে দেখলে যা করণীয়ঃ- ১৭৭
{১৭৭. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
❏ইমাম আব্দুর রাজ্জাক (رحمة الله) সংকলন করেন-
عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ قَالَ: كَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا انْتَهَى إِلَى جِنَازَةٍ وَقَدْ صُلِّيَ عَلَيْهَا دَعَا وَانْصَرَفَ وَلَمْ يُعِدِ الصَّلَاةَ
-‘‘বিশিষ্ট তা’বেয়ী না’ফে (رحمة الله) বর্ণনা করেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (رضي الله عنه) তিনি যদি কোনো জানাযায় উপস্থিত হয়ে দেখতেন যে, সালাতুল জানাযা আদায় করা হয়ে গেছে, তাহলে তিনি (আদায় কৃত জানাযার) পর দোয়া করে ফিরে আসতেন, পুনরায় সালাত (জানাযা) আদায় করতেন না।’’ ১৭৮
{১৭৮. ইমাম আব্দুর রায্যাক, আল-মুসান্নাফ : ৩/৫১৯ পৃ. হাদিস, ৬৫৪৫, মুফতি আমিমুল ইহসান, ফিকহুস-সুনানি ওয়াল আছার, ১/৪০০পৃ. হাদিসঃ ৩১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তিনি বলেন হাদিসটির সনদ সহীহ। }
আক্বিদা
সাহাবায়ে কেরামদের আক্বিদা ছিল যে জানাযা না পেলেও মৃত ব্যক্তিদের প্রতি আমাদের করণীয় রয়েছে, তাই জানাযার পর যেহেতু আর জানাযা হয় না তাই তারা দোয়া করতেন।
❏শামসুল আয়িম্মা ইমাম সারখসী (رحمة الله) {ওফাত.৪৮৩হি.} তাঁর বিখ্যাত ‘মবসুত শরীফে’ “মাইয়্যাতের গোসল” শীর্ষক অধ্যায়ে একটি হাদিস সংকলন করেন-
مَا رُوِيَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - وَابْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - أَنَّهُمَا فَاتَتْهُمَا الصَّلَاةُ عَلَى جِنَازَةٍ فَلَمَّا حَضَرَا مَا زَادَا عَلَى الِاسْتِغْفَارِ لَهُ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - فَاتَتْهُ الصَّلَاةُ عَلَى جِنَازَةِ عُمَرَ فَلَمَّا حَضَرَ قَالَ: إنْ سَبَقْتُمُونِي بِالصَّلَاةِ عَلَيْهِ فَلَا تَسْبِقُونِي بِالدُّعَاءِ لَهُ
-‘‘হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (رضي الله عنه) এবং হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত আছে উভয়ে এক জানাযায় গিয়ে জানাযার নামায না পেয়ে মায়্যিতের জন্য ইস্তাগফার পড়লেন বা দোয়া করলেন। একদা হযরত উমর (رضي الله عنه) এর জানাযা যখনই শেষ হয়ে গেল তখন হযরত আবদুল্লাহ বিন সালাম (رحمة الله) আসলেন তিনি বললেন হে আমার সাথীরা ! তোমরা আমাকে নামাজে মাসবুক করেছো তবে জানাযার পর দোয়াতে আমাকে মাসবুক (বাদ দিয়ে) করো না (এসো আমরা সবাই মিলে দোয়া করি)।’’ ১৭৯
{১৭৯. ইমাম সরখ্সী , আল-মবসুত, ২/৬৭পৃ.,আল্লামা আবু-বকর বিন মাসউদ কাসানী, বাদায়ে সানায়ে, ১/৩১১পৃ. দারুল কুতুব ইলমিয়াহ, বয়রুত, লেবানন।।}
রাসূল (ﷺ)-এর রওজা যিয়ারতকারীর ফযিলত
____________________
রাসূল (ﷺ)-এর রওজা যিয়ারতকারীর ফযিলতঃ- ১৮০
{১৮০. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
❏ইমাম দারাকুতনী, ইবনে খুজায়মা, বায়হাকী (رحمة الله)সহ এক জামা‘আত ইমামগণ সংকলন করেন-
عَنْ نَافِعٍ , عَنِ ابْنِ عُمَرَ , قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ زَارَ قَبْرِي وَجَبَتْ لَهُ شَفَاعَتِي
-“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, যে আমার রওযা মোবারক যিয়ারত করবে তার জন্য আমার শাফায়াত অনিবার্য।” ১৮১
{১৮১.ইমাম বায়হাকী : শুয়াবুল ঈমান : ৬/৫১.পৃষ্ঠা, হাদিস,৩৮৬২, কাজী আয়াজ আল-মালেকী, আশ্-শিফা শরীফ : ২/৮৩ পৃষ্ঠা, দারাকুতনী, আস-সুনান, ৩/৩৩৪পৃ., হাদিস,২৬৬৫, মুয়াস্সাতুল রিসালা, বয়রুত, লেবানন, বায্যার, আল মুসনাদ, ২/২৪৮ পৃষ্ঠা, হাকিম তিরমিযী, নাওয়ারিদুল উসূল ফি আহাদিসুর রুসুল, ২/৬৭ পৃষ্ঠা, ইস্পাহানী, তারগীব ওয়াত তারহীব, ২/২৭পৃ. হা/১০৮১,আদি, আল-কামিল, ৮/২৬৯ পৃষ্ঠা, ক্রমিক.১৮৩৪, ও ৪/১৯০-১৯১ পৃষ্ঠা, ইমাম সুয়ূতি, জামিউল আহাদিস, ২০/৩৪৮পৃষ্ঠা, হাদিস,২২৩০৪, সুয়ূতি, জামিউস-সগীর : ২/৬০৫ পৃষ্ঠা, হাদিসঃ ৮৭১৫, ইমাম হায়সামীঃ মাযমাউয যাওয়াইদঃ ৪/২ পৃষ্ঠা, হাদিসঃ ৫৮৪১, ও কাশফুল আতহার, ২/৫৭ পৃ. হাদিসঃ ১১৯৮, কাস্তালানী,মাওয়াহেবে লাদুন্নীয়াঃ ২/৫৭১, ইমাম তকি উদ্দিন সুবকীঃ শিফাউস সিকাম ফি যিয়ারাতিল খায়রি আনামঃ ১৫পৃষ্ঠা, মুফতী আমিমুল ইহসানঃ ফিকহুস সুনানি ওয়াল আছারঃ ১/৪১৩ পৃঃ হাদিসঃ ১১৭৯, ই.ফা.বা. হতে প্রকাশিত, মুত্তাকী হিন্দীঃ কানযুল উম্মালঃ ১৫/৬৫১ পৃ. হাদিসঃ ৪২৫৮৩}
❏আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) আরো বলেন-
رواه الدارقطني وغيره وصححه جماعة من أئمة الحديث
-‘ইমাম দারেকুতনীসহ অন্যান্য ইমামগণ উক্ত রেওয়ায়েতকে বর্ণনা করেছেন এবং এক জামাত ইমামগণ উক্ত হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।’’ ১৮২
{১৮২.আল্লামা মোল্লা ক্বারীঃ শরহে শিফাঃ ২/১৫০পৃ.}
আক্বিদা
এ হাদিসে নবীজি তাঁর রওযা যিয়ারতের জন্য সফর করার উৎসাহ দিয়েছেন।
❏আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় লিখেছেন-
)وَجَبَتْ لَهُ شفاعتي) أي حقت وثبتت
-‘‘(তার জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব) অর্থাৎ তার জন্য আমার হক এবং শাফায়াত দৃঢ় হয়ে গেল।’’ ১৮৩
{১৮৩.আল্লামা মোল্লা ক্বারীঃ শরহে শিফাঃ ২/১৫০পৃ.}
কিয়ামাত পর্যন্ত সময়ের অবস্থা জানা এবং দেখা
____________________
সায়্যিদুনা আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ রাদ্বিআল্লাহু আনহুর আক্বিদা
কিয়ামাত পর্যন্ত সময়ের অবস্থা জানা এবং দেখাঃ-
সায়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (رضي الله عنه) বলেন, কিয়ামাতের নিকটবর্তী সময়ে যখন হত্যা এবং লুন্ঠন বেড়ে যাবে, তখন আকস্মিক একটি আওয়ায আসবে যে, দাজ্জাল তাদের বাচ্চাদের কাছে পৌঁছেছে, তখন মানুষের হাতে যা থাকবে তা দাজ্জালের দিকে ছুঁড়ে মারবে। এবং তাদের দিকে মনোনিবেশ করবে, মুসলমানগণ তখন দাজ্জালের পরিচয় লাভের জন্য দশজন আরোহী পাঠাবে। রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন-
إِنِّي لَأَعْرِفُ أَسْمَاءَهُمْ وَأَسْمَاءَ آبَائِهِمْ، وَأَلْوَانَ خُيُولِهِمْ، هُمْ خَيْرُ فَوَارِسَ عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ يَوْمَئِذٍ
-‘আমি এই আরোহীদের নাম, তাদের বাপ-দাদাদের নাম এবং তাদের ঘোড়ার রঙও জানি, ওই সব মানুষ জমিনের উপর সেদিন সর্বোত্তম আরোহী হবে।’ ১৮৪
{১৮৪. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/২২২৩ পৃ. হা/২৮৯৯, পরিচ্ছেদ: بَابُ إِقْبَالِ الرُّومِ فِي كَثْرَةِ الْقَتْلِ عِنْدَ خُرُوجِ الدَّجَّالِ, খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ৩/১৪৯৩ পৃ: হা/৫৪২২।}
আক্বিদা
রাসূল (ﷺ)’র নুবুয়াতের দৃষ্টিসীমা কিয়ামাতের অবস্থাদি অবলোকন করে। যেসব ঘটনাবলী সংঘটিত হবে তা জানেন। উক্ত দশ আরোহীদের নাম, তাদের বাপ-দাদাদের নাম তো বটেই বরং সমস্ত সৃষ্টিজগতের নাম তাদের বাপ-দাদাদের নাম এবং তাদের চলাফেরাও জানেন। কেননা তিনি (ﷺ) সকলের সাক্ষী এবং পর্যবেক্ষক।
প্রত্যেক উম্মতের ভাল মন্দ দেখা
____________________
প্রত্যেক উম্মতের ভাল মন্দ দেখাঃ-
❏হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন-
حَيَاتِي خَيْرٌ لَكَمْ تُحْدِثُونَ وَيُحَدَثُ لَكَمْ، وَوَفَاتِي خَيْرٌ لَكَمْ تُعْرَضُ عَلَيَّ أَعْمَالُكُمْ، فَمَا رَأَيْتُ مِنْ خَيْرٍ حَمَدَتُ اللَّهَ عَلَيْهِ، وَمَا رَأَيْتُ مِنْ شَرٍّ اسْتَغْفَرْتُ اللَّهَ لَكَمْ
-‘‘আমার হায়াত তোমাদের জন্য উত্তম বা রহমত। কেননা আমি তোমাদের সাথে কথা বলি তোমরাও আমার সাথে কথা বলতে পারছ। এমনকি আমার ওফাতও তোমাদের জন্য উত্তম বা নেয়ামত। কেননা তোমাদের আমল আমার নিকট পেশ করা হবে এবং আমি তা দেখবো। যদি তোমাদের কোন ভালো আমল দেখি তাহলে আমি আল্লাহর নিকট প্রশংসা করবো, আর তোমাদের মন্দ কাজ দেখলে আল্লাহর কাছে তোমাদের জন্য (তোমাদের পক্ষ হতে) ক্ষমা প্রার্থনা করবো।’’ ১৮৫
{১৮৫. বায্যার, আল-মুসনাদঃ ৫/৩০৮পৃ. হাদিসঃ ১৯২৫, সুয়ূতি, জামিউস সগীরঃ ১/২৮২পৃ. হাদিসঃ ৩৭৭০-৭১, ইবনে কাছির, বেদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪/২৫৭পৃ. মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ১১/৪০৭পৃ. হা/৩১৯০৩, ইমাম ইবনে জাওযী, আল-ওফা বি আহওয়ালি মোস্তফা, ২/৮০৯-৮১০পৃ. আল্লামা ইবনে কাছির, সিরাতে নববিয়্যাহ, ৪/৪৫পৃ. উক্ত হাদিস প্রসঙ্গে ইমাম হাইসামী (رحمة الله) বলেন- رَوَاهُ الْبَزَّارُ، وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ. -‘‘উক্ত হাদিসের সমস্ত বর্ণনাকারী সিকাহ বা বিশ্বস্ত।’’ (ইমাম হাইছামী, মাযমাউয-যাওয়াইদ, ৯/২৪পৃ. হা/১৪২৫০) }
আক্বিদা
এ সহীহ হাদিস থেকে বুঝা যায় যে আল্লাহর নাবী (ﷺ)-এর ওফাত আমাদের জন্য দুঃখের বা শোকের নয় বরং খায়ের তথা ভাল। এ হাদিস থেকে আরও প্রমাণ হল রাসূল (ﷺ)-এর আমাদের ভাল মন্দ সব কর্ম অবলোকন করেন। ১৮৬
{১৮৬. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
একমাত্র আদম (عليه السلام) ব্যতিত কেহ মাটির সৃষ্টি নয়
____________________
একমাত্র আদম (عليه السلام) ব্যতিত কেহ মাটির সৃষ্টি নয়ঃ- ১৮৭
{১৮৭. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
❏হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘উদ (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে রাসূল (ﷺ) হাদিস বর্ণনা করেছেন-
إِنَّ خَلْقَ أَحَدِكُمْ يُجْمَعُ فِي بَطْنِ أُمِّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا نُطْفَةً، ثُمَّ يَكُونُ عَلَقَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَكُونُ مُضْغَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَبْعَثُ اللَّهُ إِلَيْهِ مَلَكًا بِأَرْبَعِ كَلِمَاتٍ: فَيَكْتُبُ عَمَلَهُ، وَأَجَلَهُ، وَرِزْقَهُ، وَشَقِيٌّ أَوْ سَعِيدٌ، ثُمَّ يَنْفُخُ فِيهِ الرُّوحَ
-‘‘তোমাদের সৃষ্টি (অর্থাৎ মূল উপাদান প্রথমে) চল্লিশ দিন তার মাতৃজঠরে নুতফা বা শুক্ররূপে অবস্থান করে। তারপর চল্লিশ দিন লাল জমাট রক্তপিণ্ডরূপে থাকে। তারপর ৪০ দিনে তা মাংসপিণ্ডে পরিনত হয়। তারপর আল্লাহ পাক চারটি বিষয় নিয়ে একজন ফিরিশতাকে তার নিকট প্রেরণ করেন। ফিরিশতা এসে লিখেন, ক. তার আমল, খ. তার মৃত্যু, গ. তার রিযিক, ঘ. সে নেককার হবে না বদকার হবে। অতঃপর তার মধ্যে রূহ প্রবিষ্ট করানো হয়।’’ ১৮৮
{১৮৮. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ৪/১১১ পৃ. হা/৩২০৮, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, হা/৮২, সুনানে ইবনে মাযাহ, হা/৭৬, সুনানে তিরমিযি, হা/২১৩৭, সুনানে আবি দাউদ, ৪/২২৮ পৃ. হা/৪৭০৮, ইমাম বাগভী, শরহে সুন্নাহ, হা/৭১}
আক্বিদা
এ হাদিস থেকে প্রমাণ হলো একমাত্র আদম (عليه السلام) ব্যতিত কেহই সরাসরি মাটির সৃষ্টি নন, বরং আমরা সকলেই (রাসূল, ঈসা আ., হাওয়া আ. ব্যতিত) নুতফার সৃষ্টি। আর এটাই কোরআন, সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণি এবং সাহাবায়ে কেরামের আক্বিদা। এ বিষয়ে কোরআনের মোট ১১টি স্থানে মহান রব ইরশাদ করেছেন। তাই এ বিষয়টিকে কেউ হেয় করে দেখলে সে কাফির হয়ে যাবেন। ১৮৯
{১৮৯. সূরা ফোরকান, আয়াত, ৫৪, সূরা ত্বারেক, আয়াত ৫, সূরা দাহর, আয়াত ২, সূরা মুরছালাত, আয়াত ২০-২১, সূরা সাজদা, আয়াত, ৭-৮, সূরা ইয়াছিন, আয়াত ৭৭, সূরা নাজাম, আয়াত ৪৫-৪৬, সূরা আবাসা, ১৮-১৯, সূরা আলাক্ব, আয়াত ২, সূরা নাহল, আয়াত ৪, সূরা কিয়ামা, আয়াত, ৩৬-৩৮, এ মোট ১১ স্থানে কোরআনে রয়েছে মানুষ নুতফার বা মা-বাবার বীর্যের তৈরী।}
লাশ দাফনের পরে দু‘হাত তুলে মোনাজাত
____________________
লাশ দাফনের পরে দু‘হাত তুলে মোনাজাতঃ-
❏ইমাম আবু নুয়াইম (رحمة الله) সংকলন করেন-
عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: وَاللهِ لَكَأَنِّي أَرَى رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ، وَهُوَ فِي قَبْرِ عَبْدِ اللهِ ذِي الْبِجَادَيْنِ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمْ، يَقُولُ: أَدْلِيَا مِنِّي أَخَاكُمَا، وَأَخَذَهُ مِنْ قِبَلِ الْقِبْلَةِ حَتَّى أَسْنَدَهُ فِي لَحْدِهِ، ثُمَّ خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَوَلَّاهُمَا الْعَمَلَ، فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ دَفْنِهِ اسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ رَافِعًا يَدَيْهِ يَقُولُ: اللهُمَّ إِنِّي أَمْسَيْتُ عَنْهُ رَاضِيًا فَارْضَ عَنْهُ، وَكَانَ ذَلِكَ لَيْلًا، فَوَاللهِ لَقَدْ رَأَيْتُنِي وَلَوَدِدْتُ أَنِّي مَكَانُهُ
-‘‘তাবেয়ী আ‘মাশ (رحمة الله) তিনি হযরত আবু ওয়ায়েল (رحمة الله) থেকে তিনি সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (رحمة الله) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি যেন এখনও তাবূক যুদ্ধে রাসূল (ﷺ) কে আব্দুল্লাহ যিল বিজাদাইন (যিনি নাজাদাইন)-এর কবরের মধ্যে দেখছি। আবু বকর ও উমর (رضي الله عنه)ও সেখানে রয়েছেন। অতঃপর তিনি তাকে ধরে কবরের লাহদে রাখলেন। তারপর তিনি বের হলেন এবং বাকী কাজ সমাপ্তির জন্য তাঁদের দুইজনকে বললেন। যখন তিনি দাফন সমাপ্ত করলেন, তখন ক্বিবলামুখী হয়ে দুই হাত তুলে বললেন, ‘হে আল্লাহ! আমি তার উপর সন্তুষ্ট হয়েই সকাল করেছি, সুতরাং আপনিও তার প্রতি সন্তুষ্ট হউন’। রাবী বলেন, এটা ছিল রাত্রের ঘটনা। আল্লাহর কসম! আমি নিজে নিজে ভাবছিলাম, যদি তার স্থানে আজ আমি হতাম!।’’ ১৯০
{১৯০. ইমাম আবু নুয়াইম ইস্পাহানী, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১/১২২পৃ. ইমাম বায্যার, আল-মুসনাদ, ৫/১২২পৃ. হা/১৭০৬)
আক্বিদা
এ হাদিসে পাক থেকে বুঝা গেল, রাসূল (ﷺ) ও খুলাফায়ে রাশেদীন এবং সাহাবায়ে কিরামদের আমল ছিল যে দাফনের পর দু‘হাত তুলে দু‘আ করা সুন্নাত এবং মৃত ব্যক্তির জন্য মঙ্গলময়। ১৯১
{১৯১. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
সমস্ত জাহান থেকে উত্তম ও মর্যাদাবান
____________________
সায়্যিদুনা আবূ যার গিফারী (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
সমস্ত জাহান থেকে উত্তম ও মর্যাদাবানঃ-
❏ইমাম দারিমী (رحمة الله)সহ আরও অনেকে সংকলন করেন-
عَنْ أَبِي ذَرٍّ الْغِفَارِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ عَلِمْتَ أَنَّكَ نَبِيٌّ حَتَّى اسْتَيْقَنْتَ؟ فَقَالَ: يَا أَبَا ذَرٍّ أَتَانِي مَلَكَانِ وَأَنَا بِبَعْضِ بَطْحَاءِ مَكَّةَ فَوَقَعَ أَحَدُهُمَا عَلَى الْأَرْضِ، وَكَانَ الْآخَرُ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: أَهُوَ هُوَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ زِنْهُ بِرَجُلٍ، فَوُزِنْتُ بِهِ فَرْجَتُتهُ، ثُمَّ قَالَ: فَزِنْهُ بِعَشَرَةٍ، فَوُزِنْتُ بِهِمْ فَرَجَحْتُهُمْ، ثُمَّ قَالَ: زِنْهُ بِمِائَةٍ، فَوُزِنْتُ بِهِمْ فَرَجَحْتُهُمْ ثُمَّ قَالَ: زِنْهُ بِأَلْفٍ، فَوُزِنْتُ بِهِمْ فَرَجَحْتُهُمْ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَنْتَثِرُونَ عَلَيَّ مِنْ خِفَّةِ الْمِيزَانِ، قَالَ: فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: لَوْ وَزَنْتَهُ بِأُمَّتِهِ لَرَجَحَهَا
সায়্যিদুনা আবু যার গিফারী (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, আমি রাসূল (ﷺ) কে আরয করলাম যে, আপনি কীভাবে এবং কখন দৃঢ়ভাবে অবগত হলেন যে, আপনি আল্লাহর নবী (ﷺ)? ১৯২
{১৯২. এ হাদিসের ব্যাখ্যায় হাদ্দিসগণ বলেছেন হাদিসের মমার্থ হলো যে কখন আপনার একিন হলো আপনি নবুয়ত প্রচারের সময় হচ্ছে বা আসছে। ভিন্ন অর্থ গ্রহণ করলে অনেক সহীহ হাদিসের মুখালেফ হবে। ইমাম তিরমিযি (رحمة الله) সংকলন করেন-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَتٰى وَجَبَتْ لَكَ النُّبُوَّةُ؟ قَالَ: وَآدَمُ بَيْنَ الرُّوحِ وَالجَسَدِ
-‘‘হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাহাবায়ে কিরাম বললেন, কখন আপনার উপর নাবুয়ত নির্ধারিত হয়? তিনি বলেন, আদম (عليه السلام) এর রুহ এক জায়গায় আর দেহ আরেক যায়গায় ছিল।’’ (ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান, ৫/৫৮৫ পৃ. হা/৩৬০৯, ইমাম তিরমিযি একে হাসান বলেছেন, আর আহলে হাদিস আলবানী একে সহীহ বলে তাহকীক করেছেন।)
ইমাম হাকিম নিশাপুরী (رحمة الله) সংকলন করেন-
عَنْ مَيْسَرَةَ الْفَخْرِ، قَالَ: قُلْتُ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَتَى كُنْتُ نَبِيًّا؟ قَالَ: وَآدَمُ بَيْنَ الرُّوحِ وَالْجَسَدِ
-‘‘হযরত মায়সারা আল-ফাজর (رضي الله عنه) বলেন, আমি রাসূল (ﷺ) এর কাছে জানতে চাইলেন যে, আপনি কখন নাবী হয়েছেন? তিনি বলেন, আদম (عليه السلام) যখন রুহ এবং দেহ আলাদা অবস্থানে ছিল।’’ (ইমাম হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, ২/৬৬৫ পৃ. হা/৪২০৯, ২০/৩৫৩ পৃ. হা/৮৩৪)}
তিনি (ﷺ) বললেন, হে আবু যার, আমি মক্কা মুকাররমার একটি উপত্যাকার মধ্যে ছিলাম। দুুজন ফেরেশতা আসলেন, একজন যমিনে অবতরণ করলেন আর অন্যজন আসমান ও জমীনের মাঝখানে ছিলেন। তাদের মধ্য হতে একজন বললেন, ওনিই তিনি? দ্বিতীয় জন বললেন, হ্যাঁ। এক ফেরেশতা বললেন, তাঁকে একজন মানুষের সাথে ওযন (পরিমাপ) করুন।
যখন আমাকে একজন মানুষের সাথে ওযন করা হল, আমার ওযন ভারী হল, ফেরেশতা বললেন, তাকে দশজনের সাথে ওযন করুন, তখন আমার ওযন ভারী হল। ফেরেশতা বললেন, তাকে একশত জনের সাথে ওযন করুন, তখনও আমার ওজন ভারী হল। ফেরেশতা পুনরায় বললেন, তাকে এক হাজার জনের সাথে ওযন করুন, তখনও আমার ওযন ভারী হল।
ফেরেশতা এই অবস্থা দেখে খুশি হলেন। এরপর উপরের ফেরেশতা বললেন, তাকে ওযন করা হতে বিরত থাক, কেননা, তাকে যদি তাঁর সমস্ত উম্মতের সাথেও পরিমাপ করো তবেও তিনি ভারী হবে। ১৯৩
{১৯৩. খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ৩/১৬০৮পৃ: হা/৫৭৭৪, সুনানে দারমী, ১ম খণ্ড, ১৬৪ পৃ. হা/১৪, ইমাম হাইসামী, মাজমামউয যাওয়ায়েদ, ৮/২৫৬ পৃ., হা/১৩৯৩১। এ হাদিসটির সনদ সহীহ। ইমাম হাইছামী (رحمة الله) বলেন-
رَوَاهُ الْبَزَّارُ، وَفِيهِ جَعْفَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ كَبِيرٍ، وَثَّقَهُ أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ وَابْنُ حِبَّانَ وَتَكَلَّمَ فِيهِ الْعُقَيْلِيُّ، وَبَقِيَّةُ رِجَالِهِ ثِقَاتٌ رِجَالُ الصَّحِيحِ.
-‘‘ইমাম বায্যার (رحمة الله) সনদটি সংকলন করেছেন আর সনদে ‘জাফার ইবনে আব্দুল্লাহ বিন উসমান বিন কাবীর’ রয়েছেন; আর তাকে ইমাম আবু হাতেম, ইমাম ইবনে হিব্বান সিকাহ বলেছেন। ইমাম উকাইলী (رحمة الله) তার বিষয়ে কথাবার্তা বলেছেন। এছাড়া সনদের বাকি রাবীগণ সহীহ বুখারীর রাবী।’’ তাই বলা যায় এই হাদিসের সনদ সহীহ।}
আক্বিদা
নাবী পাক (ﷺ) সমস্ত জাহান থেকে উত্তম ও মর্যাদাবান। তাঁর বরাবর কেউ নেই। যে সব মানুষ সাদৃশ্যের দাবি করে স্পষ্টত তারা বাতিল আক্বিদার উপর।
❏কবি বলেন-
وہر ميں سے تو بڑا تجہ سے بڑى خدا كى ذات
قائم ہے تيرى ذات سے سارا نظام كائنات
-‘আর সকলের মধ্যে তুমিই বড়, আর তোমার থেকে বড় হলেন আল্লাহর পবিত্র সত্ত¡া, গোটা দুনিয়ার সকল নিয়ম কানুন তোমার সত্তার বদৌলতেই বিদ্যমান।’
মিশর বিজয়ের সংবাদ
____________________
মিশর বিজয়ের সংবাদঃ-
❏হযরত আবু যার গিফারী (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন যে,
إِنَّكُمْ سَتَفْتَحُونَ مِصْرَ
‘তোমরা মিশর জয় করবে।’ আর মিশর এমন শহর যার মধ্যে ক্বিরাতের মুদ্রার প্রচলন রয়েছে। তোমরা মিশর জয় করবে এর বাদশাদের সাথে সুন্দর আচরণ করবে। ১৯৪
{১৯৪. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৯৭০পৃ: হা/২৫৪৩, পরিচ্ছেদ: بَابُ وَصِيَّةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَهْلِ مِصْرَ , খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ৩/১৬৬২ পৃ:, হা/৫৯১৬, ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, ৩৫/৪০৯ পৃ. হা/২১৫২০, ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ৬/৪৯১ পৃ. হা/৪৭০২, মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ১১/৩৬৮ পৃ. হা/৩১৭৬৭}
আক্বিদা
রাসূলে কারিম (ﷺ) তাঁর সাহাবাদেরকে অদূর ভবিষ্যতে নির্ধারিত সংঘটিতব্য ঘটনার বিবরণ ও অবস্থা সম্পর্র্কে সংবাদ দিয়েছেন।
কিন্তু সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) রাসূল (ﷺ)’র পবিত্র দরবারে এই প্রশ্ন করেননি যে, “আপনি কিভাবে ভবিষ্যতের সংবাদ দিচ্ছেন?” অথচ আল্লাহর বাণী হচ্ছে, “আগামীকাল কি সংঘঠিত হবে, তা আমি ছাড়া কেউ জানেন না।” সাহাবায়ে কিরামগণ তো পবিত্র কুরআন সম্পর্কে অধিক জানতেন।
সাহাবায়ে কিরামের আক্বিদা ছিল যে, আল্লাহ তা‘আলা যে জ্ঞানের কথা বলেছেন তা হল জাতি বা সত্তাগত ইল্ম যা, আমি ছাড়া আর কেউ জানেন না যে, আগামীকাল কি হবে।
আমরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আক্বিদাও সেটি যা সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه)’র আক্বিদা, যে নাবী কারিম (ﷺ)’র ইলম হল আতা‘ঈ বা দানকৃত জাতি বা সত্তাগত নয়।
উম্মতের আমল হুযূর (ﷺ)’র সামনে পেশ করা হয়
____________________
উম্মতের আমল হুযূর (ﷺ)’র সামনে পেশ করা হয়ঃ-
❏হযরত আবু যার গিফারী (رضي الله عنه)’র থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন-
عُرِضَتْ عَلَيَّ أَعْمَالُ أُمَّتِي حَسَنُهَا وَسَيِّئُهَا
-‘‘আমার নিকট আমার উম্মতের ভাল মন্দ আমল পেশ করা হয়।’’ ১৯৫
{১৯৫. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮৫৪ পৃ. হা/২৩৮২, পরিচ্ছেদ: بَابُ مِنْ فَضَائِلِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ৫/৫৭পৃ: হা/৩৯০৪, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৬৭৯ পৃ. হা/৫৯৫৭}
আক্বিদা
রাসূলে পাক (ﷺ)’র নিকট উম্মতের ভাল মন্দের আমল পেশ করা হয় আর তিনি তাদেরকে চেনেন।
কিয়ামত পর্যন্ত যা হবে সব বলে দেয়া
____________________
কিয়ামত পর্যন্ত যা হবে সব বলে দেয়াঃ-
হযরত আবু যর গিফারী (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) এক বিশাল খুতবাতে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে সব কিছু সে খুতবায় বললেন। তিনি আরও বলেন-
لَقَدْ تَرَكْنَا رَسُولَ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - وَمَا يُحَرِّكُ طَائِرٌ جَنَاحَيْهِ فِي السَّمَاءِ إِلَّا ذَكَّرَنَا مِنْهُ عِلْمًا
-‘‘হুযুর আলাইহিস সালাম আমাদেরকে এমনভাবে অবহিত করেছেন যে, একটা পাখীর পালক নাড়ার কথা পর্যন্ত তাঁর বর্ণনা থেকে বাদ পড়েনি।’’ ১৯৬
{১৯৬. ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, আল-মুসনাদঃ ৫/১৫৩ পৃ. হাদিস/২১৩৯৯, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, আল-মুসনাদঃ ৩৫/৩৪৬পৃ., হা/২১৪৩৯, ইমাম তাবরানী, মু’জামুল কাবীর, ২/১৫৫ হাদিস/১৬৪৭, ইমাম আবু ই’য়ালা, আল-মুসনাদ, ৯/৪৬ হাদিস/৫১০৯, ইমাম বায্যার, আল-মুসনাদ, ৯/৩৪১ পৃ., হাদিস/৩৮৯৭, ইমাম আবু দাউদ তায়লসী, আল-মুসনাদ, ১/৩৮৫পৃ., হা/৪৮১) শায়খ হুসাইন সালেম আসাদ মুসনাদে আবি ই‘য়ালার তাহকীক করতে গিয়ে এ হাদিসের তাহকীকে বলেন- إسناده صحيح -‘‘এ হাদিসের সনদটি সহীহ।’’ (দারুল মামুন লিলতুরাস, দামেস্ক, সিরিয়া হতে প্রকাশিত।)}
আক্বিদা
উক্ত সাহাবী হযরত আবূ যার গিফারী (রাদিআল্লাহু আনহু) বর্ণনা থেকে বুঝা গেল আল্লাহর নাবী (ﷺ) এক বক্তব্যে কিয়ামত পর্যন্ত যা হবে সব কিছু তিনি বলে দিয়েছেন, আর এটি দয়াল নবীজির বড় একটি মু‘জিযা। তাঁর জন্য মহান রব দীর্ঘ সময়কে সংকচিত করে দিয়েছেন এবং তাকে অধিক পরিমানে ইলমে গায়ব দান করেছেন। ১৯৭
{১৯৭. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
রাসূল (ﷺ) এমন কিছু দেখতেন, শুনতেন যা সাহাবায়ে কিরাম দেখেননি এবং শুনেনি
____________________
রাসূল (ﷺ) এমন কিছু দেখতেন, শুনতেন যা সাহাবায়ে কিরাম দেখেননি এবং শুনেনিঃ-
❏ইমাম তিরমিযি ও ইবনে মাযাহ (رحمة الله)সহ আরও অনেকে সংকলন করেন-
عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ: إِنِّي أَرَى مَا لَا تَرَوْنَ، وَأَسْمَعُ مَا لَا تَسْمَعُونَ،
-“হযরত আবু যার গিফারী (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলে পাক (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, আমি যা দেখি তোমরা তা দেখনা এবং আমি যা শুনি তোমরা তা শুননা।” ১৯৮
{১৯৮. মুসনাদে আহমদ, হা/২১৫১৬; সুনানে ইবনে মাজাহ, হা/৪১৯০; তিরমিজি শরীফ, হা/২৩১২; ইমাম হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, হা/৩৮৮৩; ইমাম আবু নুয়াইম: হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/২৩৬ পৃ:; ইমাম বায়হাক্বী, শুয়াইবুল ঈমান, হা/৭৬৪; ইমাম বাগভী: শরহে সুন্নাহ, হা/৪১৭২; মুসনাদে বায্যার, হাদিস নং ৩৯২৫; বায়হাক্বী, আস-সুনানুল কোবরা, হা/১৩৩৩৭; ইবনে আছির, জামেউল উছুল, হাদিস নং ১৯৮৫; ইমাম মিয্যী, তুহফাতুল আশরাফ, হা/১১৯৮৬; শায়খ ইউসুফ নাবহানী: ফাতহুল কাবীর, হা/৪৫১৭; জামেউল ফাওয়াইদ, হাদিস নং ৯৬৬০, ইমাম হাকিম নিশাপুরী (رحمة الله) হাদিসটিকে ‘সহীহ্’ বলেছেন। ইমাম তিরমিযি (رحمة الله) হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন। এমনকি স্বয়ং নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন (সহীহ্ জামেউস সগীর ওয়া যিয়াদা, হা/১১২৭)।}
❏ইমাম তিরমিজি (رحمة الله) বলেছেন-
وَفِي البَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَعَائِشَةَ، وَابْنِ عَبَّاسٍ، وَأَنَسٍ.
-“এ বিষয়ে হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنه), আয়েশা (رضي الله عنه), ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) এবং আনাস (رضي الله عنه) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।”
(সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ২৩১২)।
আক্বিদা
অতএব, সাহাবায়ে কিরাম এমন অনেক কিছু দেখেননা ও শুনেননা তা প্রিয় নবীজি (ﷺ) তা দেখতে পান এবং শুনতে পান। আল্লাহ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে, সৃষ্টি জগতের সকল কিছু রাসূল (ﷺ) দেখেন ও শুনেন। ১৯৯
{১৯৯. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
রাসূলে মুখতার (ﷺ)
____________________
সায়্যিদুনা আবূ সা‘ঈদ খুদরি (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
রাসূলে মুখতার (ﷺ)ঃ-
❏হযরত সায়্যিদুনা আবূ সা‘ঈদ খুদরি (رضي الله عنه) বলেন, রাসূল (ﷺ) মিম্বার আলোকিত করে তাশরিফ নিয়ে বলেন-
عَبْدٍ خَيَّرَهُ اللَّهُ بَيْنَ أَنْ يُؤْتِيَهُ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا، وَبَيْنَ مَا عِنْدَهُ
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর এক প্রিয় বান্দাকে এই স্বাধীনতা দিয়েছেন যে, তিনি দুনিয়ার সমস্ত নি‘আমাত নিয়ে নেবেন বা তা আল্লাহর কাছে থাকবে। আল্লাহর সে প্রিয় বান্দা আল্লাহর কাছে থাকাটাই পছন্দ করেছেন।
এটি শুনে সায়্যিদুনা সিদ্দিকে আকবর (رضي الله عنه) তীব্র বেগে কেঁদে বললেন যে, হে রাসূল (ﷺ)! আপনার কদমে আমার মা-বাপ কুরবান হোক। হযরত আবূ সাঈদ (رضي الله عنه) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর যে প্রিয় বান্দাকে ইখতিয়ার দিয়েছেন তিনি রাসূলে পাক (ﷺ)। আবূ সা‘ঈদ খুদরি (رضي الله عنه) আরো বলেন যে,
وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ هُوَ أَعْلَمَنَا بِهِ
-‘হযরত আবু বকর (رضي الله عنه) আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জ্ঞানী।’ ২০০
{২০০.সহীহ মুসলিম শরীফ, ১/৩৯০ পৃ., হা/৫৫৩, হযরত আবু বকর (রা.)’র ফযিলত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: باب البزاق في المسجد خطيئة, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ১/২২২ পৃ. হা/৭০৯, সুনানে তিরমিযি, ৬/৪৯ পৃ. হা/৩৬৬০, ইমাম বাগভী, শরহে সুন্নাহ, ১৪/৩৮ পৃ. হা/৩৮২১}
আক্বীদা
নাবী পাক (ﷺ) মুখতার নাবী। যে মহান স্বত্ত¡াকে হায়াত-মাউতের ইখতিয়ার দেয়া হয়েছে, তাঁর ইখতিয়ার থেকে কোন বস্তু বহির্ভূত? (কোন বস্তুই বহির্গত নয়)।
একশ ব্যক্তির হত্যাকারী এবং তাকে ক্ষমা করা
____________________
একশ ব্যক্তির হত্যাকারী এবং তাকে ক্ষমা করাঃ-
হযরত আবূ সা‘ঈদ খুদরি (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, রাসূূল (ﷺ) ইরশাদ করেন যে, তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি নিরান্নব্বই জনকে হত্যা করে। তারপর সে মানুষকে জিজ্ঞাসা করল, সবচেয়ে বড় আলিম কে? তারা একজন বড় রাহেবের সন্ধান দিল। লোকটি রাহেবের কাছে গিয়ে বলল, “আমি নিরন্নব্বই জন মানুষকে খুন করেছি, আমার তাওবা কি কবুল হবে? রাহেব বললেন, “না”। লোকটি তখন রাহেবকে হত্যা করে একশজন পূর্ণ করল।
অতঃপর লোকটি একজনকে জিজ্ঞাসা করল, এই পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় আলিম কে? তখন তাকে এক আলিমের সন্ধান দেয়া হল। লোকটি আলিমের কাছে গিয়ে বলল, আমি একশত জনকে হত্যা করেছি, আমার কী তাওবা কবুল হবে? আলিম বললেন, “হ্যাঁ”, তাওবা কবুলের মাঝে কোন বস্তুুটি বাঁধা আছে?
انْطَلِقْ إِلَى أَرْضِ كَذَا وَكَذَا، فَإِنَّ بِهَا أُنَاسًا يَعْبُدُونَ اللهَ فَاعْبُدِ اللهَ مَعَهُمْ، وَلَا تَرْجِعْ إِلَى أَرْضِكَ
আলিম আরো বললেন, যাও, অমুক স্থানে যাও, সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করতেছেন, তুমিও তাদের সাথে ইবাদত কর, আর পুনরায় তোমার ঘরের দিকে আসবে না। লোকটি রওনা হল। পথিমধ্যে তাকে মৃত্যু পেয়ে বসল। তার মৃত্যুর পর রাহমাত ও আযাবের ফেরেশতাদের মাঝে তার ব্যাপারে মতানৈক্য হল।
রাহমাতের ফেরেশতারা বললেন, এই লোকটি তাওবা করতেছে এবং তার অন্তর আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করে আছে। অন্যদিকে আযাবের ফেরেশতারা বলেন, লোকটি বিলকুল নেক আমল করেনি।
অতঃপর মানুষের ছদ্মভেসে একজন ফেরেশতা আসলেন, তারা তাকে নিজেদের মধ্যে বিচারক মনোনিত করলেন।
মনোনিত ফেরেশতা বললেন,
قِيسُوا مَا بَيْنَ الْأَرْضَيْنِ، فَإِلَى أَيَّتِهِمَا كَانَ أَدْنٰى فَهُوَ لَهُ، فَقَاسُوهُ فَوَجَدُوهُ أَدْنٰى إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي أَرَادَ
উভয় জমিনের মাঝে পরিমাপ কর। লোকটি যে জমীনের অধিক নিকটবর্তী হবেন, সে অনুযায়ী হুকুম হবে।
পরিমাপ করে দেখা গেল, তিনি ওই জমীনের নিকটবর্তী, যেখানে যাওয়ার জন্য তিনি ইচ্ছে করেছেন। তখন রাহমাতের ফেরেশতারা তাকে নিয়ে গেলেন। ২০১
{২০১. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/২১১৮পৃ., হা/২৭৬৬, ইমাম বায়হাকী, আস-সুনানুল কোবরা, ৮/৩১ পৃ. হা/১৫৮৩৬, সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬১১, ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ২/৫১৩ পৃ. হা/৯৮৭, মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ৪/২০২ পৃ. হা/১০১৫৭, ইমাম মুনযিরী, তারগীব ওয়াত তারহীব, ৪/৫০ পৃ. হা/৪৭৬৭}
আক্বিদা
আল্লাহর ওলীদের আস্তানার দিকে সফর করে আল্লাহর রাহমাত ও বারকাত লাভ করা যায়। তওবা করার জন্যও আল্লাহর ওলীদের আস্তানায় হাজিরা দেয়া প্রয়োজন। কেননা তা রাহমাত ও বারকাতের স্থান। তাদের বারকাতে মাগফিরাত পাওয়া যায়। হযরত আবূ সাঈদ খুদরি (رضي الله عنه)’র অপর রিওয়ায়েত-
فَكَانَ إِلَى الْقَرْيَةِ الصَّالِحَةِ أَقْرَبَ مِنْهَا بِشِبْرٍ، فَجُعِلَ مِنْ أَهْلِهَا
-‘তিনি (যিনি একশজন হত্যা করে তাওবার জন্য গিয়েছেন) কনিষ্টাঙ্গুলী পরিমিত স্থান বরাবর নেককার বান্দাদের বস্তির কাছাকাছি ছিলেন।’ ২০২
{২০২. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/২১১৯পৃ., হা/২৭৬৬, ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ২/৫১৩ পৃ. হা/৯৮৭}
গোস্তাখে রাসূূলের বংশধরের আলামত
____________________
গোস্তাখে রাসূূলের বংশধরের আলামতঃ-
সায়্যিদুনা হযরত আবূ সা‘ঈদ খুদরি (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, আমরা রাসূল (ﷺ)’র দরবারে উপস্থিত ছিলাম। রাসূল (ﷺ) কিছু সম্পদ বন্টন করতেছিলেন।
বানি তামিম গোত্রের যুলখুয়াইছারা নামক একব্যক্তি আসল। সে বলল, হে রাসূল ইনসাফ করুণ। তার এ অসৌজন্যমূলক আচরণ দেখে রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমার ধ্বংস হোক, আমি যদি ইনসাফ না করি, তবে কে ইনসাফ করবে?
হযরত ওমর (رضي الله عنه) বললেন, হে রাসূল (ﷺ) আমাকে অনুমতি দেন, আমি তার শিরচ্ছেদ করব। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন,
دَعْهُ، فَإِنَّ لَهُ أَصْحَابًا يَحْقِرُ أَحَدُكُمْ صَلاَتَهُ مَعَ صَلاَتِهِمْ، وَصِيَامَهُ مَعَ صِيَامِهِمْ، يَقْرَءُونَ القُرْآنَ لاَ يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ، يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ
-‘তাকে ছেড়ে দাও, তার সাথে কিছু সাথী হবে তাদের নামাযের সামনে তোমাদের নামায তুচ্ছ মনে হবে, তাদের রোযার সামনে তোমাদের রোযা ছোট মনে হবে। তারা কুরআন তিলাওয়াত করবে কিন্তু কুরআন তাদের কন্ঠনালীর নিচে যাবে না। তারা দ্বীন থেকে এভাবে বের হয়ে যাবে যেভাবে শিকারি থেকে তীর বের হয়ে যায়। এই তীরের নিচে বা বলমে কোন কিছু (রক্ত বা অন্যান্য কিছু) লাগবে না।’
হযরত আবূ সা‘ঈদ খুদরি (رضي الله عنه) বলেন-
فَأَشْهَدُ أَنِّي سَمِعْتُ هَذَا الحَدِيثَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَشْهَدُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ قَاتَلَهُمْ وَأَنَا مَعَهُ
-‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি এই হাদিস রাসূল (ﷺ) থেকে শুনেছি এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত আলী বিন আবি তালিব (رضي الله عنه) এসব লোকদের সাথে জিহাদ করেছেন। আমি তাঁর সাথে ছিলাম।’ ২০৩
{২০৩. খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ২/১০৫৪ পৃ: হা/৩৫৫৩, সহীহ বুখারী শরীফ, ৪/২০০ পৃ. হা/৩৬১০, ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান, ৪/২৪৪ পৃ. হা/৪৭৬৮।}
আক্বিদা
গোস্তাখে রাসূলের নামায, রোযা এবং অন্যান্য ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। রাসূলে কারিম (ﷺ) তাদের আলামত, আমাল এবং তাদের পরিণামও বলেছেন। এটাও বুঝা গেল যে, কোন নামাযি বা রোযাদার যদি বেআদব বা গোস্তাখে রাসূল হয়, তবে তারা ইসলামের সীমা থেকে বাইরে আছে। গোস্তাখি ও বেআদবি লেখা এবং কথাবার্তার মাধ্যমেই হয়ে থাকে আমালের মাধ্যমে নয়।
শপথ করে অদৃৃশ্যের সংবাদ দেয়া
____________________
শপথ করে অদৃৃশ্যের সংবাদ দেয়াঃ-
সায়্যিদুনা হযরত আবূ সা‘ঈদ খুদরি (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, আমরা রাসূল (ﷺ)’র সাথে বের হলাম। রাসূল (ﷺ) ওয়াদিয়ে আফ্ফান এর মধ্যে দাঁড়ালেন এবং কয়েক রাত সেখানে অপেক্ষা করলেন। তখন কোন কোন মানুষ বলতে শুরু করলেন, আমরা তো এখানে কিছুই করছি না। আমাদের ঘর খালি, আমাদের পরিবার একা। আমরা আমাদের ঘরকে নিরাপদ মনে করি না এ সংবাদ রাসূল (ﷺ)’র কাছে পৌঁছলে তিনি বলেন-
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا فِي الْمَدِينَةِ شِعْبٌ وَلَا نَقْبٌ إِلَّا عَلَيْهِ مَلَكَانِ يَحْرُسَانِهَا حَتَّى تَقْدَمُوا إِلَيْهَا
ঐ স্বত্ত¡ার শপথ! যার কুদরাতের হাতে আমার প্রাণ মাদিনা মুনাওয়ারার এই গিরিপথ এবং প্রত্যেক রাস্তার উপর দু’জন ফেরেশতাকে পাহারা দেয়ার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে। যতক্ষণ না তোমরা মাদিনায় পৌঁছবে তারা ততক্ষণ পাহারা দিবে। এরপর রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করলেন, মদিনা মুনাওয়ারার দিকে স্থানান্তরিত হও, আর আমরা যখন মদিনা মুনাওয়ারায় পৌঁছলাম, ঐ স্বত্ত¡ার শপথ, যার নামে শপথ করা হয়, এখনো আমরা যুদ্ধের সরাঞ্জম রাখিনি বানূ গাতফান হামলা শুরু করে দিল। ২০৪
{২০৪. ২০৪.খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ৩/১৬৫৫পৃ: হা/৫৯০১, সহীহ মুসলিম শরীফ, ২/১০০১, হা/১৩৭৪।}
আক্বিদা
সাহাবায়ে কিরাম রাসূল (ﷺ)-এর ইলমে গায়বের সংবাদ হলফ করে বর্ণনা করেছেন এবং হাকীকতে তাঁরা এটি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথেই হলফ বা শপথ করতেন। তাহলে আজ যারা রাসূল (ﷺ)-এর ইলমে গায়ব জানাকে শিরক বলছেন তাদের ফাতওয়ায় সাহাবায়ে কিরামের হলফ বা শপথের কি হবে? আল্লাহ তা‘আলা এ সমস্ত লোকদের থেকে মুসলমানদের ঈমানকে রক্ষা করুন। আমিন।
কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে তার সংবাদ পরিবেশন
____________________
কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে তার সংবাদ পরিবেশনঃ- ২০৫
{২০৫. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
❏ইমাম আহমদ (رحمة الله) সহ আরও অনেকে সংকলন করেন-
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقَامًا فَحَدَّثَنَا بِمَا هُوَ كَائِنٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
-“হজরত আবু সাঈদ খুদরী (رضي الله عنه) বলেন, রাসূল (ﷺ) আমাদের মাঝে একটি স্থানে দাঁড়ালেন, অতঃপর তিনি সেখান থেকে কিয়ামত পর্যন্ত এর মাঝে যা কিছু হবে তা সব কিছু বললেন।” ২০৬
{২০৬. মুসনাদে আহমদ, ১৭/২২৭ পৃ. হা/১১১৪৩; মুসনাদে জামে, হা/৪৫৯৯}
আক্বিদা
এ হাদিসে পাক থেকে জানা গেল রাসূল (ﷺ) কিয়ামত পর্যন্ত সব কর্মের বিষয়েই অবগত আছেন, আর এটি তার অন্যতম একটি মু‘জিযা। মহান রব তা‘য়ালা আরও ইরশাদ করেন-
اَلرَّ حْمَنُ. عَلَّمَ الْقُرْاَنَ. خَلَقَ الْاِنْسَانَ- عَلَّمَهُ الْبَيَانَ.
-‘‘ব্যাখ্যা বহুল অনুবাদঃ দয়াবান আল্লাহ তা’আলা স্বীয় মাহবুবকে কুরআন শিখিয়েছেন, মানবতার প্রাণতুল্য হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁকে সৃষ্টির পূর্বাপর সব কিছুর তাৎপর্য বাতলে দিয়েছেন।’’ ২০৭
{২০৭.সূরা রাহমান, আয়াতঃ ১-৪}
❏ইমাম বাগভী (رحمة الله) আয়াতের ব্যাখ্যা করা হয়েছে নিম্নরূপ,
خَلَقَ الْاِنْسَانَ اَىْ مُحَمَّدً عَلَيْهِ السَّلاَمُ عَلَمَّهُ الْبَيَانَ. يَعْنِىْ بَيَانَ مَاكَانَ وَمَا يَكُوْنَ
-‘‘আল্লাহ তা’য়ালা মানবজাতি তথা মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত বিষয়ের বর্ণনা শিক্ষা দিয়েছেন।’’ ২০৮
{২০৮.ইমাম বাগভী, মা‘লিমুত তানযিল, ৪/৩৩১পৃ.}
❏‘তাফসীরে খাযেনে’ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখা হয়েছে,
قِيْلَ اَرَادَ بِالْاِنْسَانِ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمْ عَلَّمَهُ الْبَيَانَ يَعْنِىْ بَيَانَ مَاكَانَ وَمَايَكُوْنَ لِانَّهُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ نَبِّى عَنَ خَبْرِ الْاُوَّلِيَنَ وَالْاَخِرِيْنَ وَعَنْ يَوْمِ الدِّيْنِ.
-‘‘বলা হয়েছে যে, (উক্ত আয়াতে) ‘ইনসান’ বলতে হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) কে বোঝানো হয়েছে। তাঁকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সব বিষয়ের বিবরণ শিক্ষা দেয়া হয়েছে। কেননা, তাঁকে পূর্ববতী ও পরবর্তীদের ও কিয়ামতের দিন সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।’’ ২০৯
{২০৯.ইমাম খাযিনঃ তাফসীরে খাযিনঃ ৪/২০৮ পৃ.}
ইমাম বাগভী (رحمة الله)ও উপরের অনুরূপ ব্যাখ্যা করেছেন। ২১০
{২১০.ইমাম বাগভী, মা‘লিমুত তানযিল, ৪/৩৩১পৃ.}
❏ইমাম ইবনে জাওযী (رحمة الله) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন-
أنه محمّد صلّى الله عليه وسلم، علّمه بيان كلّ شيء ما كان وما يكون، قاله ابن كيسان.
-‘‘ইমাম ইবনে কায়সান (رحمة الله) বলেন, এ আয়াতে ইনসান বলতে মুহাম্মদ (ﷺ) কে বুঝানো হয়েছে। বায়ান বা বর্ণনা বলতে সব কিছু অর্থাৎ যা হয়েছে এবং ভবিষৎতে যা হবে তা আল্লাহ নবীজিকে শিক্ষা দিয়েছেন।’’ ২১১
{২১১.ইমাম যওজী, যাদুল মাইসীর, ৪/২০৬পৃ.}
নামাযের পর উঁচু স্বরে যিকির করা
____________________
সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
নামাযের পর উঁচু স্বরে যিকির করাঃ-
❏সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে,
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَلَّمَ مِنْ صَلَاتِهِ يَقُولُ بِصَوْتِهِ الْأَعْلَى
‘রাসূল (ﷺ) যখন নামাযের সালাম ফিরাতেন তখন তিনি উচ্চ কণ্ঠে এই দো‘আ পড়তেন।’
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّه لَا إِلَه إِلَّا الله وَلَا نَعْبُدُ إِلَّا إِيَّاهُ لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدّين وَلَو كره الْكَافِرُونَ
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু লাহুল মুলক ওয়া লাহুল হামদ ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইইন ক্বাদীর। লা হাওলা ওয়ালা-কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়ালা-না‘বুদু ইল্লা ইয়্যাহু লাহুন নি‘মাত ওয়া লাহুল ফাদলু ওয়া লাহুল সানাউল হাসানু লা-ইলাহা ইল্লাহু মুখলিসীনা লাহুদ্দীনা ওয়া লাও কারিহাল কা-ফিরুন।’’ ২১২
{২১২. ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, ১/৪১৫ পৃ. হা/৫৯৪, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ১/৩০৪ পৃ. হা/৯৬৩, সুনানে আবি দাউদ, ২/৮২ পৃ. হা/১৫০৬}
আক্বিদা
নামাযান্তে উচ্চস্বরে যিক্র করা নাবী কারিম, নূরে মুজাস্সাম (ﷺ) হতে প্রমাণিত। আর সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) এর উপর আমল করতেন।
❏শায়খুল মুহাদ্দিসিন আল্লামা আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (رحمة الله) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন-
اس حديث صريح است درجهر بذكر كہ آنحضرت بآواز بلند خواند
-‘‘এই হাদিসটি স্পষ্ট যে, রাসূল (ﷺ) উচ্চস্বরে যিক্র করা পছন্দ করতেন।’’ ২১৩
{২১৩. আশ‘আতুল লুমআত, ফার্সী, ১ম খণ্ড, পৃ: ৪১৯।}
ফরজ নামাযের পর দো‘আয় মশগুল হওয়া
____________________
ফরজ নামাযের পর দো‘আয় মশগুল হওয়াঃ- ২১৪
{২১৪. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
❏ইমাম তাবরানী (رحمة الله)সহ আরও অনেকে সংকলন করেন-
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْحَسَنِ الْعَطَّارُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْفُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي يَحْيَى، قَالَ: رَأَيْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ الزُّبَيْرِ وَرَأَى رَجُلًا رَافِعًا يَدَيْهِ بِدَعَوَاتٍ قَبْلَ أَنْ يَفْرُغَ مِنْ صَلَاتِهِ، فَلَمَّا فَرَغَ مِنْهَا، قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُنْ يَرْفَعْ يَدَيْهِ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ صَلَاتِهِ
-“তাবেয়ী মুহাম্মদ ইবনে আবী ইয়াহইয়া (رحمة الله) বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (رضي الله عنه) কে দেখেছি যে, তিনি এক ব্যক্তির নামাজ থেকে বের হওয়ার পূর্বে হাত উঠিয়ে দোয়া করতে দেখেন। যখন ঐ লোক নামায থেকে বের হলেন তখন বললেন: নিশ্চয় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নামায থেকে বের হয়ে হাঁত তোলে দোয়া করতেন।” ২১৫
{২১৫.ইমাম তাবারানী, মু’জামুল কাবীর, ১৩/১২৯ পৃ. হাদিস/৩২৪ ও হা/১৪৯০৭; ইবনে কাসির, জামেউল মাসানিদ ওয়াস সুনান, হাদিস/৬৩৯৪; মোবারকপুরী, তুহফাতুল আহওয়াজী, ২/১০০ পৃ:; হাইছামী, মাযমাউয জাওয়াইদ, ১০/১৬৯ পৃ. হাদিস/১৭৩৪৫}
এই হাদিস সম্পর্কে ইমাম নুরুদ্দীন হাইছামী (رحمة الله) বলেন- وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ -“এর সকল বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।”
(ইমাম হাইসামী, মাজমাউয-যাওয়াইদ, ১০/১৬৯পৃ. হাদিস/১৭৩৪৫)।
আক্বিদা
এ হাদিস থেকে প্রমাণ হলো যে, রাসূল (ﷺ) ফরজ নামাযের পর দু‘হাত তুলে দোয়া করেছেন এটাই সাহাবায়ে কিরামের আক্বিদা, তাই বর্তমানে যারা এ আমলের বিরোধীতা করছেন তাদের আক্বিদা ও বিশ্বাস রাসূল ও সাহাবীদের বিরোধী। ফরজে নামাযের পর দু‘আ করলে তা কবুল হওয়ার গ্যারান্টি ১০০%।
❏হযরত আবু উমামা (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন-
قِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ: أَيُّ الدُّعَاءِ أَسْمَعُ؟ قَالَ: جَوْفَ اللَّيْلِ الآخِرِ، وَدُبُرَ الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ
-‘‘রাসূল (ﷺ)-এর কাছে জানতে চাওয়া হল, কোন সময়ের দু‘আ সবচেয়ে বেশি কবুল হয়? রাসূল (ﷺ) উত্তরে বলেন, রাতের শেষ অংশে (তাহাজ্জুদের সময়) এবং ফরয নামাযের পর।’’
(ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান, ৫/৫২৬ পৃ. হা/৩৪৯৯, ইমাম নাসাঈ, আস-সুনানুল কোবরা, ৯/৪৭ পৃ. হা/৯৮৫৬)
নামাযে তাশাহুদে শুধু একবারেই আঙুল ইশারা করা
____________________
নামাযে তাশাহুদে শুধু একবারেই আঙুল ইশারা করাঃ- ২১৬
{২১৬. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
❏ইমাম আবু দাউদ, ইমাম নাসাঈসহ আরও অনেকে সংকলন করেছেন-
عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُشِيرُ بِأُصْبُعِهِ إِذَا دَعَا، وَلَا يُحَرِّكُهَا
-‘‘হযরত আমের ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (رحمة الله) তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর (رضي الله عنه) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নিশ্চয় রাসূল (ﷺ) যখন (তাশাহহুদে) দোয়া করতেন তখন আঙ্গুল দ্বারা (একবার) ইশারা করতেন এবং কিন্তু তিনি আঙুল (বাড়বাড়) নাড়াতেন না।’’ ২১৭
{২১৭. ইমাম নাসাঈ, আস-সুনান, ৩/৩৭পৃ. হা/১২৭০ এবং আস-সুনানিল কোবরা, ২/৬৫পৃ. হা/১১৯৪, ইমাম বাগভী, শরহে সুন্নাহ, ৩/১৭৮পৃ. হা/৬৭৫}
❏আল্লামা সান‘আনী (১১৮২হি.) এই হাদিসের সনদ প্রসঙ্গে লিখেন- قال النووي: سنده صحيح. -‘‘ইমাম নববী (رحمة الله) বলেন, এই সনদটি সহীহ।’’ ২১৮
{২১৮. ইমাম নববী, খুলাছাতুল আহকাম, ১/৪২৭পৃ. হা/১৩৮৯, ইমাম সান‘আনী, তানভীর শরহুল জামেউস সগীর, ৮/৫৭৭পৃ. হা/৭০৩৮ }
আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله)ও এমনটি উল্লেখ করেছেন। ২১৯
{২১৯. ইমাম মোল্লা আলী ক্বারী, মেরকাত, ২/৭৩৫পৃ. হা/৯১২ }
আল্লামা মানাভী (رحمة الله)ও এমনটি উল্লেখ করেছেন। ২২০
{২২০. মানাভী, ফয়যুল কাদীর, ৫/২২১পৃ. হা/৭০৫৬}
আল্লামা ইবনুল মুলাক্কীন (رحمة الله) বলেন- هَذَا الحَدِيث صَحِيح -‘‘এই হাদিসটি সহীহ।’’ ২২১
{২২১. ইবনুল মুলাক্কীন, বাদরুল মুনীর, ৪/১১পৃ.}
❏আহলে হাদিস আব্দুর রহমান মোবারকপুরী এই হাদিস উল্লেখ করে লিখেছেন-
قَالَ النَّوَوِيُّ إِسْنَادُهُ صَحِيحٌ
-‘‘ইমাম নববী (رحمة الله) বলেন, সনদটি সহীহ।’’ ২২২
{২২২. মোবারকপুরী, তুহফাতুল আহওয়াজী, ২/১৬০পৃ. হা/২৯৫}
আক্বিদা
এ হাদিস থেকে বুঝা গেল সাহাবায়ে কেরামগণ রাসূল (ﷺ) থেকে তাশাহুদে দোয়া পাঠের সময় একবার ইশারা করাই শিখেছেন, আর এটাই ইমাম আযম আবু হানিফা (رحمة الله) এর গবেষণামূলক মত। ২২৩
{২২৩. আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) বলেন-
قَالَ ابْنُ الْمَلَكِ: يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ لَا يُحَرِّكُ الْأُصْبُعَ إِذَا رَفَعَهَا لِلْإِشَارَةِ، وَعَلَيْهِ أَبُو حَنِيفَةَ
-‘‘ইমাম ইবনে মালক (رحمة الله) বলেন, হানাফী মাযহাব এই হাদিস থেকেই দলিল নিয়েছেন যে তাশাহহুদে শুধু আঙ্গুল ইশারা করবে, কিন্তু আঙ্গুল নাড়াবে না।’’ (ইমাম মোল্লা আলী ক্বারী, মেরকাত, ২/৭৩৫পৃ. হা/৯১২)}
একটি কলিজা এবং একশ ত্রিশজন সাহাবী (رضي الله عنه)
____________________
সায়্যিদুনা আবদুর রহমান বিন আবু বকর সিদ্দিক
(رضي الله عنه)'র আক্বিদা
একটি কলিজা এবং একশ ত্রিশজন সাহাবী (رضي الله عنه)ঃ-
হযরত আবদুর রহমান বিন আবূ বাকর সিদ্দিক (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, রাসূল (ﷺ)’র সাথে আমরা একশ ত্রিশজন সাহাবী ছিলাম। রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মধ্যে কারো কাছে খাবার আছে কি?
আমাদের সাথে একলোক ছিল, যার কাছে এক সা (চার কি.গ্রা.) আটা আছে, আটাগুলো পিসা হল। অতঃপর এলোমেলো চুল ওয়ালা একজন লম্বা ব্যক্তি আসল, যে নিজের ছাগলগুলো চড়াচ্ছিল।
রাসূল (ﷺ) তাকে বললেন, এই বকরিগুলো বিক্রি করবে অথবা হাদিয়া দিবে? লোকটি বলল, “না” হাদিয়া দেব না বরং বিক্রি করবো।”
রাসূল (ﷺ) একটি বকরি ক্রয় করলেন। ছাগলটি জবেহ করে মাংশ তৈরী করা হল। নাবী কারিম (ﷺ) ছাগলের কলিজা ভুনা করার নির্দেশ দিলেন। হযরত আবদুর রাহমান (رضي الله عنه) বলেন-
وَايْمُ اللهِ، مَا مِنَ الثَّلَاثِينَ وَمِائَةٍ إِلَّا حَزَّ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُزَّةً حُزَّةً مِنْ سَوَادِ بَطْنِهَا، إِنْ كَانَ شَاهِدًا أَعْطَاهُ، وَإِنْ كَانَ غَائِبًا خَبَأَ لَهُ
-‘‘আল্লাহর শপথ! রাসূল (ﷺ) এই একশ ত্রিশজন সাহাবিদের প্রত্যেককে এই কলিজা থেকে এক টুকরা করে দিয়েছেন। যারা উপস্থিত ছিলেন তাদেরকে টুকরা দিয়েছেন। আর যারা অনুপস্থিত ছিলেন তাদের জন্য কলিজার টুকরা রেখে দিলেন।’’
রাসূল (ﷺ) গোশতগুলোকে দুটি পেয়ালার মধ্যে রাখলেন। আমরা সবাই সেখান হতে খেলাম এবং পরিতৃপ্ত হলাম। ওই বাটিগুলোর মধ্যে খাবার পুণরায় পূর্ণ হয়ে গেল, আমি (আবদুর রাহমান বিন আবি বকর রাদ্বিআল্লাহু তা‘আলা আনহু) বাটিগুলোকে উটের ওপর রাখলাম। ২২৪
{২২৪. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৩/১৬২৬ পৃ. হা/২০৫৬, ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ৭/৬৯ পৃ. হা/৫৩৮২, পরিচ্ছেদ: بَابُ مَنْ أَكَلَ حَتَّى شَبِعَ , মুসনাদে আহমদ, ৩/২৩১ পৃ. হা/১৭০৩, বায়হাকী, আস-সুনানুল কোবরা, ৯/৩৬১ পৃ. হা/১৮৭৮৯, মুসনাদে বায্যার, হা/২২৬৪, ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ১১/৩৬২ পৃ. হা/৮৯১২}
আক্বিদা
রাসূল (ﷺ)’র সত্তাই হল উপকার দানকারী। তাঁকে আল্লাহ তা‘আলা এমন সম্মান এবং শক্তি দান করেছেন যে, অল্প বস্তুকে তিনি অধিক করতে পারেন, এরূপ তাঁর কোটি কোটি মু‘জিযা রয়েছে।
খাবারে বরকত
____________________
খাবারে বরকতঃ-
সায়্যিদুনা আবদুর রাহমান বিন আবূ বকর (رضي الله عنه) বলেন, আসহাবে সুফ্ফার লোকেরা দারিদ্র্য ছিলেন, একদা রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, যার নিকট দুই জনের খাদ্য আছে, সে যেন এদের থেকে তৃতীয় জনকে নিয়ে যায়, আর যার কাছে চার জনের খাদ্য আছে, সে যেন এদের থেকে পঞ্চম জনকে নিয়ে যায় অথবা চতুর্র্র্থ জনকে নিয়ে যায়।
হযরত আবূ বকর (رضي الله عنه) তিনজনকে নিয়ে গেলেন, রাসূলে পাক (ﷺ) দশজনকে নিয়ে গেলেন। হযরত আবদুর রহমান বিন আবু বকর (رضي الله عنه) বলেন, ঘরে আমার পিতা, মাতা এবং একজন খাদিম ছিলেন।
হযরত আবু বকর ছিদ্দিক (رضي الله عنه) রাসূূল (ﷺ)’র সাথে শাম-এর খাবার গ্রহণ করছিলেন।
রাসূল (ﷺ)’র পাশে দণ্ডায়মান হলেন, শেষ পর্যন্ত ইশারের নামায পড়লেন, পুনরায় ফিরে এসে দণ্ডায়মান রইলেন, ইতোমধ্যে রাসূল (ﷺ)’র তন্দ্রা চলে আসল। অতঃপর আল্লাহর মর্জি মোতাবেক যখন রাতের একটা অংশ অতিক্রান্ত হলো, হযরত আবূ বকর (رضي الله عنه) ঘরে ফিরে আসলেন।
হযরত আবূ বকর (رضي الله عنه)’র বিবি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনার মেহমানদের ছেড়ে কোথায় গিয়েছেন”? হযরত আবু বকর বললেন, কেন, মেহমানদের তোমরা খাওয়াও নি?
বিবি বললেন, মেহমানরা আপনাকে ছাড়া খানা খেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাদের সামনে খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা তা গ্রহণ করেননি।
হযরত আবদুর রহমান (رضي الله عنه) বললেন, ভয়ে আমি এক জায়গায় লুকিয়ে রইলাম। হযরত আবু বকর (رضي الله عنه) বললেন, “ওহে মূর্খ! আল্লাহ তোমার নাক কর্তন করুণ।” আমার রাগ এসেছে, মেহমানদের বললেন, খাবার গ্রহণ করুন। আর তিনি আল্লাহর শপথ করে বললেন, এই খাবার আমি কখনো গ্রহণ করবো না। হযরত আবদুর রহমান (رضي الله عنه) বলেন-
وَايْمُ اللَّهِ، مَا كُنَّا نَأْخُذُ مِنْ لُقْمَةٍ إِلَّا رَبَا مِنْ أَسْفَلِهَا أَكْثَرُ مِنْهَا - قَالَ: يَعْنِي حَتَّى شَبِعُوا - وَصَارَتْ أَكْثَرَ مِمَّا كَانَتْ قَبْلَ ذَلِكَ
আল্লাহর শপথ! খাওয়ার জন্য লোকমা যখনই উঠতাম, লোকমার নিচ থেকে খানা বের হচ্ছে এবং খাবার প্রথম থেকে বেশি হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে আমরা পরিতৃপ্ত হলাম আর খাবার প্রথম থেকে বেশি হয়েছিল।
হযরত আবু বকর সিদ্দিক (رضي الله عنه) যখন দেখলেন যে, খাবার প্রথম থেকে আরো বেশি হয়েছে, তখন তিনি তাঁর বিবিকে লক্ষ্য করে বললেন- ওহে ফিরাছ গোত্রের বোন, এটা কী! তিনি বললেন, আমার চোখের শীতলতার শপথ! এই খাবারগুলো প্রথম থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে (সুবহানাল্লাহ!)। ২২৫
{২২৫. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৩/১৬২৭পৃ. হা/২০৫৭, ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ১/১২৪ পৃ. হা/৬০২, পরিচ্ছেদ: بَابُ السَّمَرِ مَعَ الضَّيْفِ وَالأَهْلِ}
আক্বিদা
প্রথম খালিফা আবূ বকর সিদ্দিক (رضي الله عنه)’র কারামতে খানা বৃদ্ধি পেয়েছে, এটা থেকে বুঝা গেল যে, ‘কারামত সত্য’। আর এটি হচ্ছে রাসূূল (ﷺ)’র ফায়েজ।
যেসব ব্যক্তি খিলাফত নিয়ে শোরগোল করে এবং সাধারণ মানুষের উপর এই বিশ্বাস ছড়ায় যে, আমরা খুলাফায়ে রাশিদীনের মান-মর্যাদার সংরক্ষণকারী তাদের এটা বুঝা উচিত।
সিদ্দিক আকবর (رضي الله عنه)’র সত্তা যদি জাতির জন্য উপকারী হতে পারে তবে রাসূূলে করিম (ﷺ)’র পবিত্র সত্তা তো আরো বেশি উপকারী হবে। সুতরাং এ কথা বলা ইসলামের সাথে কত বড় দুশমনি যে, নাবী (ﷺ) অপরের উপকার তো নয় বরং যারা মনে করে নাবী (ﷺ) নিজের উপকার করতে পারে তারা মুশরিক!
ঝর্নার পানি বাগিচাগুলোকে সিক্ত করবে
____________________
সায়্যিদুনা মুয়াজ ইবনু জাবাল (رضي الله عنه)র আক্বিদা
ঝর্নার পানি বাগিচাগুলোকে সিক্ত করবেঃ-
সায়্যিদুনা মু‘আজ বিন জাবাল (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, তাবুক যুদ্ধের বছর আমরা রাসূল (ﷺ)’র সাথে গিয়েছিলাম। রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করলেন, ইনশা‘আল্লাহ আগামীকাল তোমরা তাবুকের ঝর্ণার কাছে পৌঁছে যাবে। আর তোমরা দিন ছড়িয়ে পড়ার পূূর্বে পৌঁছবে না।
তোমাদের মধ্য হতে যেই ব্যক্তি ঐ ঝর্ণার কাছে যাবে, তবে আমি পৌঁছার পূর্বে সে যেন উক্ত ঝর্ণার পানিতে হাত না দেয়। ঝর্ণার কাছে আমাদের থেকে দুজন ব্যক্তি প্রথমে পৌঁছল। ঝর্ণার মধ্যে পানি অধিক থেকে অধিক হচ্ছিল আর তা আস্তে আস্তে প্রবাহিত হচ্ছিল। রাসূল (ﷺ) এ দু’ব্যক্তি থেকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কি ঝর্ণার পানি স্পর্শ করে অঞ্জলি ভরে পানি নিয়েছো?” তারা বললেন, “হ্যাঁ”, রাসূল (ﷺ) তাদের উপর রাগান্বিত হলেন।
উপস্থিত লোকেরা অল্প অল্প করে অঞ্জলি ভরে ঝর্ণার পানি নিয়ে একটি পাত্রে জমা করলেন। অতঃপর রাসূল (ﷺ) ওই পাত্র হাত দিলেন এবং চেহারা মুবারক ধৌত করলেন। আর অবশিষ্ট পানিগুলো ঝর্ণায় ঢেলে দিলেন। তারপর ঝর্ণার মধ্যে স্ফুটন (জোশ) চলে আসল। এমনকি উপস্থিত সকলে (নিজেদের সাথী জন্তুগুলো) পান করে নিলেন, এরপর রাসূল (ﷺ) হযরত মু’আয (رضي الله عنه) কে বললেন-
إِنْ طَالَتْ بِكَ حَيَاةٌ، أَنْ تَرٰى مَا هٰاهُنَا قَدْ مُلِئَ جِنَانًا
যদি তুমি দীর্ঘ হায়াত পাও তবে দেখতে পাবে এখানকার আশপাশ বাগ-বাগিচায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।’’ ২২৬
{২২৬. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৭৬৪ পৃ., হা/৭০৬, রাসূূল (দ.) মু’জেযা অধ্যায়।}
আক্বিদা
রাসূল (ﷺ)’র তাবাররুকের মাধ্যমে বারকত মন্ডিত হয়েছে। প্রিয় নাবী (ﷺ) অদৃশ্যের সংবাদ দানকারী। এজন্যই হযরত মু‘আয (رضي الله عنه) কে বলেছেন, ঝর্ণার পানি এতো বেশি হবে যে, তা বাগ-বাগিচাকে প্রবাহিত করে দেবে।
মুজতাহিদদের ইজতিহাদ মান্য করা
____________________
মুজতাহিদদের ইজতিহাদ মান্য করাঃ-
❏ইমাম আহমদ ও আবু দাউদ (رحمة الله) সংকলন করেন-
عَنْ مُعَاذٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ بَعَثَهُ إِلَى الْيَمَنِ، فَقَالَ: كَيْفَ تَصْنَعُ إِنْ عَرَضَ لَكَ قَضَاءٌ؟ قَالَ: أَقْضِي بِمَا فِي كِتَابِ اللَّهِ. قَالَ: فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي كِتَابِ اللَّهِ؟ قَالَ: فَبِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. قَالَ: فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: أَجْتَهِدُ رَأْيِي، لَا آلُو. قَالَ: فَضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدْرِي، ثُمَّ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَفَّقَ رَسُولَ رَسُولِ اللَّهِ لِمَا يُرْضِي رَسُولَ اللَّهِ
-‘‘হযরত মু‘আয বিন জাবাল (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) যখন মু‘আয ইবনে জাবাল (رضي الله عنه) কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘যখন তোমার কাছে বিচারের ভার ন্যস্ত করা হবে তখন তুমি কিভাবে ফয়সালা করবে’? অতঃপর তিনি বললেন, ‘আমি ফয়সালা করবো কিতাবুল্লাহর দ্বারা। রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘যদি কিতাবুল্লাহ এ না পাও’? তিনি বলেন, ‘তাহলে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর সুন্নাহ দ্বারা ফয়সালা করবো।’ রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘যদি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর সুন্নাহে না পাও’? তখন তিনি বললেন, ‘ইজতিহাদ তথা উদ্ভাবণ করার চেষ্টা করবো।’ তারপর রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘যাবতীয় প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি তাঁর প্রতিনিধিকে এমন পন্থা অবলম্বনের তাওফিক দান করেছেন যে ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সন্তুষ্ট আছেন।’’ ২২৭
{২২৭. আহমদ ইবনে হাম্বল: আল-মুসনাদ : মুআসসিসাতুর রিসালা, বয়রুত, লেবানন: ৩৬/৩৩৩পৃ. হাদিস: ২২০০৭, ইমাম আদ-দারিমী: আস-সুনান: ১/২৬৭পৃ. হাদিস: ১৭০, দারুল মুগনী, রিয়াদ, সুউদি আরব, ইমাম আবু-দাউদ : আস-সুনান :৩/৩০৩পৃ., হাদিস : ৩৫৯২, আল-মাকতাবাতুল আসরিয়া, বয়রুত, লেবানন, আত তিরমিযী : আল জামিউল কবির : ৩/৬০৮পৃ., হাদিস: ১৩২৭, মুস্তফা আল-বাবী অ্যান্ড সন্স পাবলিশিং অ্যান্ড প্রিন্টিং গ্রæপ হলব, মিসর, খতিব তিবরিযী : মেশকাত : কিতাবুল ইমারত : ৩য় খনড, ইমাম বগভী : শরহে সুন্নাহ : ৫/৩৫২পৃ. , ইমাম আবু হুমায়দী : আল-মুসনাদ : ১/৭২ পৃ. হাদীস : ১২৪ , ইমাম তাহাভী : আল-মুসনাদ : ৭/২৭৮পৃ. হাদীস: ৬৭৬০, ইমাম যাহাবী : সিয়ারু-আলামিন আন-নুবালা : ১/৪৪৮পৃ. }
আক্বিদা
এই হাদিসে লক্ষ করুন! রাসূল (ﷺ)-এর জাহেরী হায়াতে হযরত মু’আয (رضي الله عنه) বলেছেন যে, আমি কুরআন-সুন্নাহ এ না পেলে নিজ থেকে ইজতিহাদ করবো, আল্লাহর নবী (ﷺ) এর জন্য ‘আল-হামদুলিল্লাহ তথা শোকরিয়া আদায় এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট বলে ঘোষণা দিয়েছেন। একবারও আহলে হাদিসদের ন্যায় বলেননি কোরআন সুন্নাহের বাহিরে মু‘আয ইজতিহাদ করবে কেন? রাসূল (رضي الله عنه) এর ওফাতের পর সাহাবাদের যুগে যে সকল মুজতাহিদ ফকীহ সাহাবী ছিলেন তাদের মাযহাব আম (যাদের ইজতিহাদ করার যোগ্যতা ছিল না) সাহাবীদের অনুসরণীয় ছিল। এর মধ্যে অন্যতম একজন হলেন হযরত মু‘আয বিন জাবাল (رضي الله عنه)। ২২৮
{২২৮. ইমাম যাহাবী (رحمة الله) তার জীবনীতে লিখেন- وكان من نجباء الصحابة وفقائهم -‘‘তিনি একজন উঁচু মানের সাহাবী এবং (মুজতাহিদ তবকার) ফকিহ্ ছিলেন।’’ (ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফ্ফায, ১/১৯ পৃ. ক্রমিক.৮) }
❏ইমাম ইস্পাহানী (رحمة الله) উক্ত সাহাবীর জীবনীতে উল্লেখ করেন, হযরত উমর (رضي الله عنه) একদা খুতবা দেওয়া অবস্থায় মানুষদেরকে বলছিলেন-
وَمَنْ أَرَادَ أَنْ يَسْأَلَ عَنِ الْفِقْهِ، فَلْيَأْتِ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ.
-‘‘কেউ যদি ফিকহ সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকে যে যেন হযরত মু‘আয (رضي الله عنه)-এর নিকটে যায়।’’
(ইমাম ইস্পাহানী, সিরু সালফে ছালেহীন, ১/৬৪৭ পৃ.)
তিনি আরও উল্লেখ করেন-
وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَعْلَمُهُمْ بِالْحَلَالِ وَالْحَرَامِ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ
-‘‘হযরত আনাস ইবনে মালিক (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, কেউ যদি হালাল-হারাম সম্পর্কে জানতে চায় সে যেন মু‘আয ইবনে জাবালের কাছে যায়।’’
(ইমাম ইস্পাহানী, সিরু সালফে ছালেহীন, ১/৬৪৭ পৃ.)
এ হাদিস থেকে বুঝা গেল তখন ইয়ামেনের লোকদের উপর হযরত মু‘আযের মত তথা মাযহাব অনুসরণ যে আবশ্যক এটাও কিন্তু হাদিস দ্বারা স্পষ্ট। ২২৯
{২২৯. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
রাসূল (ﷺ)’র দোয়া
____________________
সায়্যিদুনা ‘ওসমান বিন হুনাইফ (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
রাসূল (ﷺ)’র দোয়া:-
সায়্যিদুনা ‘ওসমান বিন হুনাইফ (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, এক অন্ধ ব্যক্তি রাসূূল (ﷺ)’র খিদমাতে উপস্থিত হয়ে দোয়ার জন্য আরয করলেন, আল্লাহ তা‘আলা যেন আমাকে দৃষ্টিশক্তি দেন।
এটা শুনে রাসূল (ﷺ) বললেন, যাও, ভাল করে ওজু করে দু’রাকাত নামায পড় এবং এ দু‘আ করবে যে,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ وَأَتَوَجَّهُ إِلَيْكَ بِنَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ نَبِيِّ الرَّحْمَةِ إِنِّي تَوَجَّهْتُ بِكَ إِلَى رَبِّي لِيَقْضِيَ لِي فِي حَاجَتِي هَذِهِ اللهُمَّ فشفّعْه فيَّ
-‘‘হে আল্লাহ আমি তোমার দরবারে প্রার্থনা করছি, তোমার রহমত ওয়ালা নাবী মুহাম্মদ (ﷺ) এর ওসীলা নিয়ে, হে রাসূল (ﷺ) আমি আপনার ওসীলা নিয়ে আপনার দয়াল প্রভুর দিকে মনোনিবেশ করছি, আমার এই হাজাতের জন্য যাতে আমার হাজাত পূর্ণ হয়। হে আল্লাহ, আমার পক্ষে আপনার মাহ্বুব (ﷺ)’র সুপারিশ কাবুল করুন।’’ ২৩০
{২৩০. ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান, ৫/৪৬১ পৃ. হা/৩৫৭৮, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ২/৭৬৮ পৃ. হা/২৪৯৫, সুনানে ইবনে মাজাহ, পৃ: ৯৯, আত্ তারগীব ওয়াত তারহীব লিল মুনযারী, ১ম খণ্ড, পৃ: ৪৭৩, হা/১০১৮, মুসনদে ইমাম আহমদ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ: ১৩৮, হা/১৭২৪০, সহীহ ইবনে খুজাইমা, ২য় খণ্ড, পৃ: ২২৫, হা/১২১৯, আল-মুস্তাদরাক, ১ম খণ্ড, পৃ: ৫১৯। এই হাদিসটির সনদ সহীহ; কেননা ইমাম তিরমিযি (رحمة الله) বলেন- هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ -‘‘এই হাদিসটি হাসান, সাহীহ, গারীব।’’ ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল কাবীর, ৯/৩০ পৃ. হা/৮৩১০, ইমাম হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, ১/৪৫৮ পৃ. হা/১১৮০, ইমাম নাসাঈ, আস-সুনানুল কোবরা, ৯/২৪৪ পৃ. হা/১০৪২০, ইমাম বায়হাকী, দাওয়াতুল কাবীর, ১/৩২৫ পৃ. হা/২৩৫}
আক্বিদা
নবী পাক (ﷺ) কে يَا مُحَمَّدُ يَا رَسُوْلُ اَلله বলা এবং তাঁর ওসীলা নিয়ে দু‘আ করার শিক্ষা দিয়েছিলেন। ইমাম তাবরানী (رحمة الله) তার ‘মুজামুল কাবীর’ নামক গ্রন্থে লিখেছেন যে, হযরত ওসমান (رضي الله عنه)’র খিলাফতকালে এ সাহাবী হযরত ওসমান বিন হুনাইফ (رضي الله عنه) এক ব্যক্তিকে এই দো‘আ পড়ার ওজিফা দিয়েছেন, এই ওজিফা পড়ে তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়েছে। ২৩১
{২৩১. ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল কাবীর, ৯/৩০ পৃ. হা/৮৩১০, ইমাম হাইসামী (রহ.) বলেন- الْحَدِيثُ صَحِيحٌ -‘‘এ হাদিসটি সহীহ।’’ (হাইসামী, মাযমাউয-যাওয়াইদ, ২/২৭৯ পৃ. হা/৩৬৬৮)}
গায়র মুকালিদদের মুহাদ্দিস এবং মুফাস্সির মৌলভি ওহীদুয্যামান সাহিব তার “হাদিয়াতুল মাহদী” নামক কিতাবে এই হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।
সুনানু ইবনু মাজাহর তারজুুমা করার সময় তিনি এটাও লিখেছেন যে, ওই অন্ধ ব্যক্তিটি সুস্থ হয়ে গেছে। ২৩২
{২৩২. সুনানে ইবনে মাজাহ, ১ম খন্ড, পৃ: ৫৭১।}
পৃথিবীর মধ্যে সর্বোত্তম
____________________
সায়্যিদুনা ওয়াসিলাহ বিন আস্ক্বাহ (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
পৃথিবীর মধ্যে সর্বোত্তমঃ-
সায়্যিদুনা হযরত ওয়াসিলা বিন আস্ক্বাহ (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, আমি রাসূল (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, তিনি ইরশাদ করেন,
إِنَّ اللهَ اصْطَفٰى كِنَانَةَ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ، وَاصْطَفَى قُرَيْشًا مِنْ كِنَانَةَ، وَاصْطَفَى مِنْ قُرَيْشٍ بَنِي هَاشِمٍ، وَاصْطَفَانِي مِنْ بَنِي هَاشِمٍ
-‘‘আল্লাহ তা‘আলা হযরত ইসমাঈল (عليه السلام)’র সন্তান কিনানকে মর্যাদাবান করেছেন, কিনানার মধ্যে কুরাইশকে মর্যাদাবান করেছেন, কুরাইশের মধ্যে বনূ হাশিমকে মর্যাদাবান করেছেন এবং বনূ হাশিমের মধ্যে আমাকে মর্যাদাবান করেছেন।’’ ২৩৩
{২৩৩. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৭৮২পৃ. হা/২২৭৬, পরিচ্ছেদ: بَابُ فَضْلِ نَسَبِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَتَسْلِيمِ الْحَجَرِ عَلَيْهِ قَبْلَ النُّبُوَّةِ , ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান, ৬/৫ পৃ. হা/৩৬০৫-০৬, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৬০০ পৃ. হা/৫৭৪০}
আক্বীদা:
নাবি পাক (ﷺ) সমস্ত জাহানের মধ্যে অতি উত্তম ও মর্যাদাবান। ২৩৪
{২৩৪. এজন্যই ইমাম সুয়ূতি (رحمة الله) বর্ণনা করেন-
وَاَخْرَجَ الْبَيْهَقِيّ وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْاَوْسَطِ وَابْنُ عَسَاكِر عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُول الله ﷺ قَالَ لِيْ جِبْرَئِيْلُ قَلَبْتُ الْأَرْضَ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبهَا فَلَمْ أَجِدْ رَجُلًا أَفْضَلُ مِنْ مُحَمَّدٍ وَلَمْ اَجِدْ بَنِيْ أَب اَفْضَلُ مِنْ بَنِي هَاشِمْ
-‘‘ইমাম বায়হাকী, তাবরানী তার মু‘জামুল আওসাতে এবং ইবনে আসাকীর (رحمة الله) মা আয়িশা (رضي الله عنه) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, আমার কাছে জিবরাঈল (عليه السلام) এসে বললেন, আমি পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত পরিভ্রমন করে মুহাম্মদ (ﷺ) থেকে উত্তম কাউকে এবং বনী হাশেম থেকে উত্তম কোন গোত্র পাইনি।’’ (ইমাম সুয়ূতি, খাসায়েসুল কোবরা, ১/৬৬ পৃ.)}
যে সব লোক এটা লেখে যে, আম্বিয়া এবং আউলিয়াদের বাস্তবতা অনু পরিমাণ বস্তু থেকেও অধিক কম। ২৩৫
{২৩৫. তাকবিয়াতুল ঈমান, পৃ: ৫৬, দিলি থেকে প্রকাশিত।}
স্পষ্টতঃ তারা ভুলের মধ্যে রয়েছে, বরং এটা বলা কূফরি। যে সব লোক এরূপ বাক্য রচনাকারীদের ইমাম এবং পেশওয়া বানায়, তাদের উচিত এসব ব্যক্তিদের থেকে মুক্ত হয়ে কুরআন-হাদিস অনুযায়ী নিজেদের আক্বিদা ঠিক করা।
❏কবি বলেন-
سب سے اولىٰ وعلٰى ہمارا نبى
سب سے بلا و الا ہمارا نبى
“সবার থেকে উত্তম ও মর্যাদাবান আমাদের নবী
সবার থেকে উর্ধ্বে ও মহান আমাদের নবী।’
কোন বস্তুকে কোন ব্যক্তির দিকে সম্পর্ক করা
____________________
সায়্যিদুনা সা‘দ বিন উবাদাহ (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
কোন বস্তুকে কোন ব্যক্তির দিকে সম্পর্ক করা:
عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمَّ سَعْدٍ مَاتَتْ فَأَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: الْمَاءُ . فَحَفَرَ بِئْرًا وَقَالَ: هَذِهِ لأم سعد. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ
-‘‘হযরত সা‘দ বিন উবাদাহ (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, তিনি আরয করলেন, হে রাসূল (ﷺ), সা‘দের মা ইন্তিকাল করেছেন। তাঁর জন্য কোন বস্তুটি সাদ্কা করা উত্তম? রাসূল (ﷺ) বললেন, পানির একটি কূপ খনন কর এবং বললেন, এটা সা‘দের মায়ের জন্য (উৎসর্গকৃত)।’’ ২৩৬
{২৩৬. খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ১/৫৯৭ পৃ. হা/১৯১২, পরিচ্ছেদ: بَاب فضل الصَّدَقَة, সুনানে আবু দাউদ, ২/১৩০ পৃ. হা/১৬৮১, আলবানী এ হাদিসের তাহকীকে বলেন, এই হাদিসটি হাসান। তার আরেক কিতাবে লিখেন- قلت: حديث حسن -‘‘আমি বলি, এ হাদিসটি ‘হাসান।’’ (আলবানী, সহীহুল সুনানি আবি দাউদ, হা/১৪৭৬) শায়খ শুয়াইব আরনাউত সুনানে আবি দাউদের তাহকীকে বলেন- صحيح كسابقيه -‘‘এটি পূর্বের হাদিসের ন্যায় সহীহ্।’’ (শুয়াইব আরনাউত, (তাহকীক) সুনানে আবি দাউদ, ৩/১০৯ পৃ. হা/১৬৮১, দারুল রাসালা আলামিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন, প্রকাশ. ১৪৩০ হি.) এ হাদিসটির আরেকটি সূত্র রয়েছে যা হাসান বসরী ও সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের মাধ্যমে। (মোল্লা আলী ক্বারী, মেরকাত, ৪/১৩৪২ পৃ. হা/১৯১২) ইমাম ইবনে আছির, জামেউল উসূল, হা/৪৬৯০, ইবনে কাসির, জামেউল মাসানীদ ওয়াল সুনান, ৩/২৯৮ পৃ. হা/৩৭৮৯, তারা এটির কোন সমালোচনা করেননি।}
আক্বিদা
যার জন্য সাওয়াব পৌঁছানো উদ্দেশ্য সে বস্তুকে তাঁর নামের দিকে সম্পর্ক করা বৈধ। যেমন: এটা সা’দের মায়ের জন্য। একই ভাবে এটাও জায়িয যে, এই ছাগলটি শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী (رضي الله عنه) বা এটা সায়্যিদুনা ইমাম হুসাইন (رضي الله عنه)’র জন্য।
হাজত পূর্ণকারী এবং মুসিবত দূরকারী
____________________
সায়্যিদুনা সালিম (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
হাজত পূর্ণকারী এবং মুসিবত দূরকারীঃ-
সায়্যিদুনা সালিম (رضي الله عنه) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। তার উপর কেউ যেন জুলুম না করে, তাকে যেন ধ্বংস না করে।
مَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ كَانَ اللهُ فِي حَاجَتِهِ، وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً، فَرَّجَ اللهُ عَنْهُ بِهَا كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ
যে মুসলিম তাঁর অপর মুসলিম ভাইয়ের হাজত পূর্ণ করে, আল্লাহ তা‘আলা তার হাজাত পূর্ণ করবেন।
যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের মুসিবত দূর করে কিয়ামাত দিবসে আল্লাহ তাঁর মুসিবত দূর করবেন। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের (দোষ) ঢেকে রাখবে, কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তাঁর (দোষ) ঢেকে দিবেন। ২৩৭
{২৩৭. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৯৯৬পৃ. হা/২৫৮০, পরিচ্ছেদ: بَابُ تَحْرِيمِ الظُّلْمِ।}
আক্বিদা
আল্লাহর ওলীগণের কাছে হাজত পূর্ণ করণ এবং মুশকিল সমাধান করার প্রার্থনা করা এবং তাদেরকে হাজত পূর্ণকারী ও মুশকিল দূূরকারী মনে করা জায়িয।
কবরের আযাবের আওয়ায শ্রবণ করা
____________________
সায়্যিদুনা আবূ আইয়ুব আনসারী (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
কবরের আযাবের আওয়ায শ্রবণ করা:
সায়্যিদুনা আবূ আইয়ুব (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, সূর্য অস্তমিত হচ্ছিল, তখন রাসূল (ﷺ) বের হলেন এবং কিছু শব্দ শুনার পর ইরশাদ করলেন-
يَهُودُ تُعَذَّبُ فِي قُبُورِهَا
-‘‘ইয়াহুদিদের কবরে আযাব হচ্ছে।’’ ২৩৮
{২৩৮. সহীহ বুখারী, ২/৯৯ পৃ. হা/১৩৭৫, সহীহ মুসলিম, ৪/২২০০পৃ. হা/২৮৬৯, খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ৩/১৬৫৫ পৃ. হা/৫৮৯৯, পরিচ্ছেদ: بَاب فِي المعجزات}
আক্বিদা
কবরের মধ্যে আযাবের যে শব্দ হচ্ছে তা নাবী কারিম (ﷺ) শুনেছেন। বরং রাসূল (ﷺ)’র এই ক্ষমতাও রয়েছে যে, তিনি যদি চান তবে অপরকেও আওয়ায শুনাতে পারেন। এটাও জানেন যে, কবরের মধ্যে কি মুসলমান রয়েছে নাকি ইয়াহুদী।
সাহায্যকারী
____________________
সাহায্যকারীঃ-
সায়্যিদুনা আবূ আইয়ুব আনসারী (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন যে,
الْأَنْصَارُ، وَمُزَيْنَةُ، وَجُهَيْنَةُ، وَغِفَارُ، وَأَشْجَعُ، وَمَنْ كَانَ مِنْ بَنِي عَبْدِ اللهِ، مَوَالِي دُونَ النَّاسِ، وَاللهُ وَرَسُولُهُ مَوْلَاهُمْ
-‘‘আনসার, মুযায়না, জুহায়না, গাফফার, আশজা‘ এবং বনূ আব্দুল্লাহর মধ্যকার লোকজন অন্য কোন মানুষ ছাড়া আমার জন্য সাহায্যকারী, আর আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (ﷺ) তাদের সাহায্যকারী।’’ ২৩৯
{২৩৯. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৯৫৪পৃ. হা/২৫১৯, পরিচ্ছেদ: بَابُ مِنْ فَضَائِلِ غِفَارَ، وَأَسْلَمَ، وَجُهَيْنَةَ، وَأَشْجَعَ، وَمُزَيْنَةَ، وَتَمِيمٍ، وَدَوْسٍ، وَطَيِّئٍ।, ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, ৩৮/৫২৩ পৃ. হা/২৩৫৪৩, সুনানে তিরমিযি, ৬/২২১ পৃ. হা/৩৯৪০, আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৪/৩৭৪ পৃ., ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল কাবীর, ৪/১৪০ পৃ. হা/৩৯২৭, ইমাম আহমদ, ফাযায়েলুস সাহাবা, হা/১৬৭৭, ইবনে আবি শায়বাহ, আল-মুসনাদ, ১/২৮ পৃ. হা/৩, ইবনে আছির, জামেউল উসূল, হা/৬৭৯৮}
আক্বিদা
আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্টির মধ্যে এমন এমন সব বুযুর্গ রয়েছেন যাঁরা একে অপরের সাহায্যকারী হন। আর রাসূূল (ﷺ) নিজ গোলামদের সাহায্যকারী। আম্বিয়া কিরাম, আউলিয়াদেরকে আল্লাহর সৃষ্টি এবং আল্লাহর মাকবুল জেনে তাঁদেরকে নিজের সাহায্যকারী মনে করা শিরক নয়, বরং সঠিক ইসলাম এবং সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه)’র আক্বিদা।
সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
____________________
সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
মূর্খ ইমাম'-
হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা‘আলা বান্দাদের বক্ষ থেকে ইল্ম বের করবেন না, কিন্তু আলিমদেরকে উঠিয়ে নেয়ার মাধ্যমে ইল্ম উঠিয়ে নেবেন।
حَتَّى إِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالًا، فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ، فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا
-‘‘শেষ পর্যন্ত যখন কোন আলিম জীবিত থাকবে না, তখন মানুষ মূূর্খদেরকে নিজেদের সর্দার বানাবে। তাদের কাছে কোন কিছু জানতে চাইলে কোন কিছু না জেনে উত্তর দেবে, তারা নিজেরা ভ্রষ্ট হবে এবং মানুষদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে।’’ ২৪০
{২৪০. সহীহ বুখারী শরীফ, ১/৩১পৃ. হা/১০০, পরিচ্ছেদ: بَابٌ: كَيْفَ يُقْبَضُ العِلْمُ, ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, ৪/২০৫৮ পৃ. হা/২৬৭৩, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ১/৭২ পৃ. হা/২০৬, পরিচ্ছেদ: كتاب الْعلم}
আক্বিদা
নাবী পাক (ﷺ)’র শানদার ইরশাদ যে, আজ মাযহাবি এবং অর্থনৈতিক মতানৈতক্য হচ্ছে সেসব ব্যক্তিদের কারণে, যারা এসব ভ্রান্ত মূর্খদেরকে ইমাম এবং সর্দার বানিয়েছে। যাদের আক্বিদা এবং দৃষ্টিভঙ্গি ভ্রান্ত।
কিন্তু আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আক্বিদা ওই সব লোকের আক্বিদা অনুযায়ী যাদের উপর আল্লাহর অনুগ্রহ রয়েছে।
হাত এবং পায়ে চুম্বন দেয়া
____________________
সায়্যিদুনা সাফওয়ান বিন আচ্ছাল (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
হাত এবং পায়ে চুম্বন দেয়া ঃ-
সায়্যিদুনা সাফওয়ান বিন আচ্ছাল (رضي الله عنه) বলেন, দুজন ইয়াহুদী নাবী পাক (ﷺ)’র পবিত্র দরবারে উপস্থিত হয়ে প্রশ্ন করল। রাসূল (ﷺ) তাদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। ইয়াহুদীরা উত্তর শুনলো অতঃপর-
فَقَبَّلُوا يَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ
-‘‘তাঁর (ﷺ)’র হাত এবং পা মুবারাক চুম্বন করলো।’’ আর আরয করল,
نَشْهَدُ أَنَّكَ نَبِيٌّ
-“আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর নাবী।’’ ২৪১
{২৪১.ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান, ৪/৩৭৪ পৃ. হা/২৭৩৩, খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ১/২৪পৃ:, হা/৫৮, সুনানে আবি দাউদ, হা/৫২২৫, সুনানে নাসাঈ, ৭/১১১পৃ. হা/৪০৭৮, ইমাম তিরমিযি (رحمة الله) এটি সংকলন করে লিখেন- هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. -‘‘এই হাদিসটি হাসান, সহীহ।’’ ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (رحمة الله) লিখেন- رَوَاهُ أَصْحَابُ السُّنَنِ بِإِسْنَادٍ قَوِيٍّ. -‘‘এই হাদিসটি সুনানে আরবাআতে রয়েছে, আর সনদটি শক্তিশালী।’’ (ইবনে হাজার, তাখখিছুল হবীর, ৪/১৭৩ পৃ. হা/২১৮৬) তিনি তার এক বিখ্যাত গ্রন্থে লিখেন-
أَوْرَدَ فِيهِ أَحَادِيثَ كَثِيرَةً وَآثَارًا فَمِنْ جَيِّدِهَا حَدِيثُ الزَّارِعِ الْعَبْدِيِّ
-‘‘এ বিষয়ে অনেক হাদিসে পাক বর্ণিত হয়েছে এর মধ্যে শক্তিশালী সনদ হল হযরত জারেঈন (رضي الله عنه) এর হাদিস।’’ (ইবনে হাজার, ফতহুল বারী, ১১/৫৭ পৃ.) আল্লামা ইবনুল মুলাক্কীন (رحمة الله) বলেন-
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه بأسانيد صَحِيحَة.
-‘‘ইমাম তিরমিযি, নাসাঈ, ইবনে মাযাহ সনদটি সংকলন করেছেন। সনদটি সহীহ।’’ (বদরুল মুনীর, ৯/৪৮ পৃ.) ইমাম সুয়ূতি (رحمة الله) বলেন-
وَأَخْرَج التِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَة وَالْحَاكِم وَصَححهُ
-‘‘ইমাম তিরমিযি, নাসাঈ, ইবনে মাযাহ সনদটি সংকলন করেছেন। হাকেম হাদিসটি সহীহ সনদে সংকলন করেছেন।’’ (খাসায়েসুল কোবরা, ১/৩১৭ পৃ.) আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) লিখেন-
(رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ) وَقَالَ: حَسَنٌ صَحِيحٌ. (وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ) وَكَذَا الْحَاكِمُ وَقَالَ: صَحِيحٌ لَا يُعْرَفُ لَهُ عِلَّةٌ بِوَجْهٍ مِنَ الْوُجُوهِ وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ.
-‘‘(ইমাম তিরমিযি এটি বর্ণনা করেছেন) এবং বলেছেন এটির সনদ হাসান, সহীহ। (ইমাম আবু দাউদ ও নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন) ইমাম হাকিম (رحمة الله) বলেন, এ হাদিসটির সনদ সহীহ, এ হাদিসের সনদে কোন ক্রুটি আছে বলে আমি পরিচিত নই যদিওবা শাইখাইন এটি বর্ণনা করেননি।’’ (মিরকাত, ১/১৩০ পৃ. হা/৫৮) তাই হাদিসটি সহীহ বলে প্রমাণিত হল।}
আক্বিদা
হাত এবং পায়ে চুম্বন করা জায়িয যার বৈধতার উপর রাসূল (ﷺ)’র দৃঢ় প্রমাণ রয়েছে। ২৪২
{২৪২. এ বিষয়ে অনেক সাহাবায়ে কেরামের কর্ম রয়েছে।
عَنْ صُهَيْبٍ قَالَ: رَأَيْتُ عَلِيًّا يُقَبِّلُ يَدَ العَبَّاسْ وَرِجْلَيْهِ.
-‘‘সুহাইব (رحمة الله) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত মাওলা আলী (رضي الله عنه) কে দেখেছি হযরত আব্বাস (رضي الله عنه) আলী (رضي الله عنه) এর সম্মানিত চাচা এর হাতে ও পায়ে চুমু দিতে।’’ (ক. ইমাম বুখারী, আদাবুল মুফরাদাত : ২৩৮ পৃ. : হাদিস : ৯৭৬, ইমাম মুকরী : আর-রুখসাত : হাদিস : ১৫, ইবনে আসাকীর, তারীখে দামেস্ক, ২৬/৩৭২পৃ., ইবনে হাজার, ফতহুল বারী, ১১/৫৭ পৃ.) এ হাদিসের সনদ সম্পর্কে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমার লিখিত ‘প্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানোর স্বরূপ উন্মোচনা’ ১ম খণ্ড দেখুন।}
যারা এটাকে নাজায়িয এবং হারাম বলে স্পষ্টত তারা ভুলের মধ্যে রয়েছে এবং ইসলামি শিক্ষা থেকে তারা অনবিজ্ঞ।
নবুওয়াত প্রকাশের পূর্বে পাথরের সালাম করা
____________________
সায়্যিদুনা জাবের বিন সামুরা (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
নবুওয়াত প্রকাশের পূর্বে পাথরের সালাম করাঃ-
❏সায়্যিদুনা জাবির বিন সামুরা (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, রাসূলে পাক (ﷺ) ইরশাদ করেন-
إِنِّي لَأَعْرِفُ حَجَرًا بِمَكَّةَ كَانَ يُسَلِّمُ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ أُبْعَثَ إِنِّي لَأَعْرِفُهُ الْآنَ
-‘‘আমি মক্কায়ে মুর্কারামার ঐ পাথরকে চিনি যা নবুয়ত প্রকাশের পূর্বে আমাকে সালাম করতো। এ পাথরকে আমি এখনো চিনি।’’ ২৪৩
{২৪৩. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৭৮২পৃ. হা/২২৭৭, ফাযায়েল অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: بَابُ فَضْلِ نَسَبِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَتَسْلِيمِ الْحَجَرِ عَلَيْهِ قَبْلَ النُّبُوَّةِ। ইমাম খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৬২৯ পৃ. হা/৫৮৫৩, পরিচ্ছেদ: بَاب عَلَامَات النُّبُوَّة}
আক্বিদা
নুবুওয়াত প্রকাশের পূর্বে পাথর জানতো যে, তিনি (ﷺ) আল্লাহর রাসূল। এবং যে সব ব্যক্তি এই আক্বিদা পোষণ করে যে, “নাবী কারিম (ﷺ) চলিশ বছর পর অবগত হলেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল।” স্পষ্টত তারা ভ্রান্ত ও ভুলের মধ্যে রয়েছে।
এটাও বুঝা গেল যে, রাসূল (ﷺ) জড় বস্তুর আওয়ায শুনেন এবং নুবুওয়াত প্রকাশের পূর্বেই শুনেছেন। আর এটা ইরহাসাতের অন্তর্ভুক্ত। ব্যাখ্যাকারগণ বলেছেন, পাথরটি ছিল “হাজারে আসওয়াদ”।
❏কবি বলেন-
بهتر كريں سلام اور شجر كر يں
معلوم ان كا مرتبہ كيا ہم بشر كر يں
-“পাথর এবং গাছপালা তাঁকে সালাম করে
আমাদের (মানুষের) উচিত তাঁর মর্যাদা কত তা উপলব্ধি করা।’’
হাত মুবারক
____________________
হাত মুবারকঃ-
সায়্যিদুনা জাবির বিন সামুরা (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, একদা আমি রাসূল (ﷺ)’র পেছনে যুহরের নামায আদায় করলাম। অতঃপর তিনি হুজ্রা মুবারকে যাচ্ছিলেন, আমিও তাঁর সাথে গেলাম।
ইত্যবসরে আমাদের সামনে কিছু বাচ্চা আসল। রাসূল (ﷺ) তাদের মুখমন্ডলে হাত মুবারাক মালিশ করলেন। তারপর আমার মুখমন্ডলে তাঁর হাত মুবারাক মালিশ করলেন,
فَوَجَدْتُ لِيَدِهِ بَرْدًا أَوْ رِيحًا كَأَنَّمَا أَخْرَجَهَا مِنْ جُؤْنَةِ عَطَّارٍ
-‘অতঃপর আমি তাঁর (ﷺ)’র হাত মুবারাক থেকে এমন ঠান্ডা এবং সুগন্ধি অনুভব করলাম, যেন তাঁর হাত মুবারাক আতরের ডিবি থেকে বের করলেন।’ ২৪৪
{২৪৪.
ক. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮১৪ পৃ. হা/২৩২৯, পরিচ্ছেদ: بَابُ طِيبِ رَائِحَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلِينِ مَسِّهِ وَالتَّبَرُّكِ بِمَسْحِهِ
খ. খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ৩/১৬১২পৃ: হা/৫৭৮৯, পরিচ্ছেদ: بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته।}
আক্বিদা
নবী পাক (ﷺ)’র আপাদমস্তক মু‘জিযা ছিল। তাঁর শরীর মুবারাক ছিল উপমাহীন এবং দৃষ্টান্তহীন। তাঁর (ﷺ)’র পবিত্র শরীর মুবারক থেকে সুগন্ধি বের হত, এটা তাঁর স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য। ২৪৫
{২৪৫. শরহে মুসলিম নববী, ২য় খণ্ড, পৃ: ২৫৬।}
❏বুখারী শারিফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা কাস্তাল্লানী এবং আল্লামা মুহাম্মদ বিন আবদুল বাকী (رحمة الله) রাসূলে আকরাম (ﷺ)’র সম্মানিত আম্মাজান আমেনা (رضي الله عنه)’র ইরশাদ মুবারক নকল করেন এভাবে-
قَالَتْ ثُمَّ نَظَرْتُ إِلَيْهِ فَإِذَا بِهِ كَالْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ وَرِيْحُهُ يَسْطَعُ كَالْمِسْكِ الْإَذْفَرِ
-“হযরত আমেনা (رضي الله عنه) বলেন, যখন হুজুর (ﷺ)’র বেলাদত মুবারক হল, তখন আমি দেখেছি যে, তাঁর সৌন্দর্য এবং শোভা এমন ছিল যেন, চৌদ্দ তারিখের পূর্ণিমার চাঁদ। আর তাঁর শরীর মুবারক থেকে এমন সুগন্ধি বের হত, যেন অতি উত্তম কস্তুরীর থেকে বের হয়। ২৪৬
{২৪৬. মাওয়াহিবুল্লা দুন্নিয়া, ১ম খণ্ড, পৃ: ৭৭, ইমাম যুরকানী আ’লাল মাওয়াহিব, ১ম খণ্ড, পৃ: ২১৫।}
ত্রিশ দাজ্জাল
____________________
সায়্যিদুনা ছাওবান (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
ত্রিশ দাজ্জাল
সায়্যিদুনা ছাওবান (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমার উম্মাতের জন্য মুশরিক সম্প্রদায়ের সাথে সম্পৃক্ত হবে না যতক্ষণ না তারা ভুতের ইবাদত করবে, আর ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না। তিনি আরও বলেন-
سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي ثَلاَثُونَ كَذَّابُونَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ وَأَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ لاَ نَبِيَّ بَعْدِي
-‘অচিরেই আমার উম্মাতের মধ্যে ত্রিশজন মিথ্যুক হবে, যাদের প্রত্যেকে নুবুওয়াতের দাবী করবে। আমি শেষ নাবী, আমার পর কোন নাবী আসবে না।’ ২৪৭
{২৪৭. ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান, ৪/৬৯ পৃ. হা/২২১৯, পরিচ্ছেদ: بَابُ مَا جَاءَ لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَخْرُجَ كَذَّابُونَ, ইমাম তিরমিযি (رحمة الله) বলেন- هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ -‘‘এই হাদিসটি সহীহ।’’}
আক্বিদা
নবী পাক ছাহিবে লাওলাক হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) কে আল্লাহ তা‘আলা গায়বের ইল্ম দিয়েছেন। এজন্যই তো তিনি ইরশাদ করেছেন, আমার উম্মাত থেকে ত্রিশজন মিথ্যুক হবে। অতঃপর তারা যে দাবি করবে তার জ্ঞানও রয়েছে। এরূপ অদৃশ্যের সংবাদ যিনি দেন, তিনিই নাবী।
অতঃপর রাসূল (ﷺ)’র এ ইল্মও রয়েছে যে, আমার পরে আর কোন নাবী নেই। এর ঘোষণাও দিয়েছেন। এই হাদিসের উপর গভীর দৃষ্টি দিলে একথা প্রতিভাত হয়ে, খতমে নুবুওয়াতের উপর যে বিশ্বাস রাখে তারা রাসূল (ﷺ)’র ইলমে গায়বের উপর বিশ্বাস রাখা জরুরি। কেননা খতমে নুবুওয়াতের ব্যাপারে নাবী (ﷺ) এর যতগুলো বাণী রয়েছে, সবগুলোই হুযুর (ﷺ)’র ইলমে গায়ব প্রকাশের বিষয়টি দিবালোকের মত স্পষ্ট।
দুনিয়ার পূর্ব থেকে পশ্চিম সবই চোখের সামনে ২৪৮
{২৪৮. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
❏মিশকাত শরীফের ‘ফাযায়েলে সায়্যিদুল মুরসালীন’ শীর্ষক অধ্যায়ে ‘মুসলিম শরীফের’ বরাত দিয়ে হযরত ছাওবান (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করা হয়েছে-
إِنَّ اللهَ زَوَى لِي الْأَرْضَ، فَرَأَيْتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَهَا
-‘‘আল্লাহ তা‘য়ালা আমার সম্মুখে গোট পৃথিবীকে এমনভাবে সঙ্কুচিত করে দিয়েছেন যে, আমি পৃথিবীর পূর্বপ্রান্ত ও পশ্চিমপ্রান্ত সমূহ স্বচক্ষে অবলোকন করেছি।’’ ২৪৯
{২৪৯. মুসলিমঃ আস-সহিহঃ কিতাবুল ফিতানঃ ২/৩৯০পৃ. মুসলিমঃ আস-সহিহঃ ৪/২২১৬ হাদিসঃ ২৮৮৯, বায্যারঃ আল-মুসনাদঃ ৮/৪১৩-৪১৪ হাদিসঃ ৩৪৮৭, ইবনে মাজাহঃ আস-সুনানঃ হাদীসঃ ৩৯৫২, আবু দাউদঃ আস-সুনানঃ কিতাবুল ফিতানঃ ৪/৯৫ হাদিসঃ ৪২৫২, ইমাম আহমদঃ আল-মুসনাদঃ ৫/২৮৪ হাদিসঃ ২২৫০, আবু দাউদঃ আস-সুনানঃ ৪/৯৭ পৃ. হাদিসঃ ৪২৫২, মুসলিমঃ আল-সহীহঃ হাদিসঃ ২৮৮৯}
আক্বিদা
এ হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা মোল্লা আলী কারী (رحمة الله) তাঁর ‘মিরকাত শরহে মিশকাত এবং শরহে শিফা নামক কিতাবে লিখেন-
وَحَاصِلُهُ أَنَّهُ طَوَى لَهُ الْأَرْضَ وَجَعَلَهَا مَجْمُوعَةً كَهَيْئَةِ كَفٍّ فِي مِرْآةِ نَظَرِهِ، وَلِذَا قَالَ: فَرَأَيْتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَهَا أَيْ: جَمِيعَهَا وَطَوَاهَا بِتَقْرِيْبِ بَعِيْدِهَا اِلَى قُرِيْبِهَا حَتَّى اِطَّلَعْتُ عَلَى مَا فِيْهَا جميعها
-‘‘এ হাদিসের সারমর্ম হচ্ছে, হুযুর আলাইহিস সালামের জন্য পৃথিবীকে সঙ্কুচিত করে দেয়া হয় এবং এমনভাবে একত্রিত করে দেয়া হয়, যেন কেউ এক হাতে আয়না নিয়ে সম্পূর্ণ আয়নাকে দেখছেন। যমীনকে এমনভাবে একত্রিত করে দেয়া হয়, যাতে দূরবর্তী অংশ নিকটবর্তী অংশের একেবারে কাছাকাছি দৃষ্টিগোচর হয়। ফলে পৃথিবীতে যা’ কিছু আছে সবকিছুই রাসূল (ﷺ) দেখতে পেয়েছেন ।’’ ২৫০
{২৫০. আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী, মেরকাত শরহে মিশকাত, ৯/৩৬৭৭ পৃ. হা/৫৭৫০, ,দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন এবং শরহে শিফা, ১/৬৮৩ পৃ. দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন। ইমাম জুরকানীঃ শরহুল মাওয়াহেবঃ ১০/১২৩পৃ. দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন, প্রকাশ.১৪১৭হি.}
প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) বড় শানদার
____________________
সায়্যিদুনা জুবাইর বিন মুতঈম (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) বড় শানদারঃ-
সায়্যিদুনা জুবাইর বিন মুতঈম (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, আমার অনেকগুলো নাম রয়েছে, আমি মুহাম্মাদ (ﷺ), আমি আহমদ (ﷺ), আমি মাহি (ﷺ)। আমার কারণে আল্লাহ তা‘আলা কুফরী মিঠিয়ে দিয়েছেন। আমি হাযির (উপস্থিত), মানুষের হাশর আমার কদমের নিকটই হবে। আমি আক্বিব, আক্বিব তিনিই হন যার পর আর কোন নবী নেই।
وَقَدْ سَمَّاهُ اللهُ رَءُوفًا رَحِيمًا
-‘‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাম রেখেছেন রাউফুর রাহিম।’’ ২৫১
{২৫১. ২৫১.সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮২৮ পৃ. হা/২৩৫৪, পরিচ্ছেদ:بَابٌ فِي أَسْمَائِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , রাসূল (ﷺ) নাম মুবারক অধ্যায়, বায়হাকী, শুয়াবুল ঈমান, ২/৫২৩ পৃ. হা/১৩৩৪, সহীহ ইবনে হিব্বান, ১৪/২১৯ পৃ. হা/৬৩১৩, ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল কাবীর, ২/১২১ পৃ. হা/১৫২৫}
আক্বিদা
নবী পাক (ﷺ)’র প্রশংসা কখনো বন্ধ হবে না। কেননা, মুহাম্মদ মানে হলঃ
اَلَّذِى يُحْمَدُ حَمْدًا بَعْدَ حَمْدٍ
-‘‘(মুহাম্মাদ মানে) বারবার যাঁর প্রশংসা করা হয়।’’
(ইমাম কাস্তাল্লানী, মাওয়াহিবুল্লা দুন্নিয়্যাহ, ৬/২১পৃ.)
মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা আবু মালিকি (رحمة الله) বলেন, যার মধ্যে প্রশংসনীয় অভ্যাস পরিপূর্ণ, তাকেই মুহাম্মাদ বলা হয়।
মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) বলেন, مُحَمَّدٌ শব্দটি مبالغه এর সিগাহ। সাধারণত মুবালাগার চাহিদা হল যার বারবার অধিক হারে প্রশংসা করা হয়।
এটাও বুঝা গেল যে, কিয়ামাত দিবসে হুযূর পুর নূর (ﷺ)’র কদমে সবাই একত্রিত হবে। আর সবাই তাঁরই আশা রাখবে। তিনি খাতামুন্নাবী, তাঁর পরে আর কোন নবী আসবেন না।
বদ আক্বিদা পোষণকারীর সাথে মেলামেশা বর্জন করা
____________________
সায়্যিদুনা আব্দুল্লাহ বিন মুগাফ্ফাল (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
বদ আক্বিদা পোষণকারীর সাথে মেলামেশা বর্জন করাঃ-
হযরত ইবনু জুবাইর (رضي الله عنه) বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফ্ফাল (رضي الله عنه)’র কোন এক আত্মীয় কংকর নিক্ষেপ করলে তিনি তাকে একথা বলে নিষেধ করেন যে, রাসূল (ﷺ) কংকর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন। কংকর দ্বারা কোন জীবজন্তু শিকার বা কোন দুশমনকে ধ্বংস করবে না।
কিন্তু লোকটি দাঁত ভেঙ্গে ফেলল এবং চোখ ক্ষত করল। রাবি বলেন, লোকটি পুনরায় কংকর নিক্ষেপ করলে হযরত আবদুল্লাহ্ বিন মুগাফ্ফাল (رضي الله عنه) বলেন,
أُحَدِّثُكَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهٰى عَنْهُ، ثُمَّ تَخْذِفُ، لَا أُكَلِّمُكَ أَبَدًا
-“আমি তোমাকে রাসূল (ﷺ)’র হাদিসে পাক শুনিয়ে বলেছিলাম যে, তিনি কংকর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন। এরপরেও তুমি যখন কংকর নিক্ষেপ করলে, আমি তোমার সাথে আর কখনো কথা বলব না।’ ২৫২
{২৫২. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৩/১৫৪৮ পৃ:, হা/১৯৫৪, পরিচ্ছেদ: بَابُ إِبَاحَةِ مَا يُسْتَعَانُ بِهِ عَلَى الِاصْطِيَادِ وَالْعَدُوِّ، وَكَرَاهَةِ الْخَذْفِ , সুনানে দারেমী, ১/৪০৬ পৃ. হা/৪৫৩, হাকেম, আল-মুস্তাদরাক, ৪/৩১৫ পৃ. হা/৭৭৫৯, মুসনাদে আহমদ, ৩৪/১৭১ পৃ. হা/২০৫৫১, মুসনাদে হুমাইদী, ২/১৩৭ পৃ. হা/৯১১, মুসনাদে আবি ই‘য়ালা, ১ম খণ্ড, হা/১৭২, আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৪/৩০৮ পৃ. }
আক্বিদা
মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাকার ইমাম নববী (رحمة الله) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, এই হাদিসের মধ্যে এই দলিল বিদ্যমান যে, বিদ‘আতী, ফাসিক, ফাজির এবং সুন্নাত বর্জনকারীদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা জায়িয। ২৫৩
{২৫৩. ইমাম নববী, শরহে সহীহ মুসলিম, ১৩/১০৬ পৃ.
ইমাম ইবনে নাজ্জার (رحمة الله) হযরত আনাস বিন মালিক (رضي الله عنه) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বিদ‘আতীদের (বাতিলপন্থীদের) বিষয়ে বলেছেন-
فَلَا تُؤَاكُلُوْهُمْ وَلَا تُشَارِبُوْهُمْ وَلَا تُجَالِسُوْهُمْ وَلَا تُصَلُّوْا عَلَيْهِمْ وَلَا تُصَلُّوْا مَعَهُمْ.
-‘‘তোমরা তাদের সাথে খাবার গ্রহণ কর না, তাদের সাথে পানীয় প্রান কর না, তাদের কারো সাথে উঠা বসা কর না, তারা মারা গেলে তাদের জানাযায় অংশগ্রহণ করবে না এবং তাদের সাথে নামায আদায় কর না।’’ (মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ১১/৫৪০ পৃ. হা/৩২৫২৯, ইমাম যাহাবী, মিযানুল ই‘তিদাল, ১/৩২০ পৃ. ক্রমিক. ১২০৭, ইমাম ইবনে হাজার, লিসানুল মিযান, ২/২৯৯ পৃ. ক্রমিক.১৪৮৬) আল্লামা মুত্তাকী হিন্দী (رحمة الله) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (رضي الله عنه) হতে বর্ণনা করেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন-
فَإِنْ أَدْرَكْتُمُوْهُمْ فَلَا تُنَاكِحُوْهُمْ وَلَا تُؤَاكِلُوْهُمْ وَلَا تُشَارِبُوْهُمْ وَلَا تُصَلُّوْا مَعَهُمْ وَلَا تُصَلُّوْا عَلَيْهِمْ
-‘‘ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাত বা পরিচয় থাকলে তাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে না, তাদের সাথে খাবার গ্রহণ করবে না, তাদের সাথে সালাত আদায় করবে না, তারা মারা গেলে তাদের জানাযাতে যাবে না।’’ (মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ১১/৫৪০ পৃ. হা/৩২৫২৮) তবে ইমাম আবু বকর খাল্লাল (رحمة الله) সাহাবীদের সমালোচনাকারী বিদ‘আতীদের সম্পর্কে একটি হাদিস বর্ণনা করেন। হযরত আনাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন-
عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:......فَلَا تُجَالِسُوهُمْ، وَلَا تُؤَاكِلُوهُمْ، وَلَا تُشَارِبُوهُمْ، وَلَا تُنَاكِحُوهُمْ، وَلَا تُصَلُّوا مَعَهُمْ، وَلَا تُصَلُّوا عَلَيْهِمْ
-‘‘তাদের সাথে বসবে না, তাদের সাথে পানাহার করবে না, তাদের সাথে পান করবে না, তাদের সাথে আত্মীয়তা বন্ধনে আবদ্ধ হবে না, তাদের সাথে নামায পড়বে না, তারা মারা গেলে তাদের জানাযা পড়তে যাবে না।’’ (ইমাম আবু বকর খাল্লাল, আস-সুন্নাহ, ২/৪৮৩ পৃ. হা/৭৬৯, ইবনে হাজার আসকালানী, মুখাল্লিসিয়্যাত, ৩/৩৬৮ পৃ. হা/২৭৩২, খতিবে বাগদাদী, তালখিসুল মুতাশাবাহ ফির রসম, ১/৭০ পৃ. এবং তারিখে বাগদাদ, ক্রমিক. ৪৫৭১) বিদ‘আতীদের বিষয়ে আরও বর্ণিত আছে যে হযরত জাবির (رضي الله عنه) বলেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন-
وَإِنْ لَقِيتُمُوهُمْ فَلَا تُسَلِّمُوا عَلَيْهِم
-‘‘যখন তাদের সাথে সাক্ষাত লাভ করবে তখন তাদেরকে সালাম দিও না।’’ (ইমাম ইবনে মাযাহ, আস-সুনান, ১/৬৯ পৃ. হা/৯২)
এটাও প্রমাণিত যে, বদ আক্বিদাধারি আলিমদের মধ্যে যারা কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থি আক্বিদা এবং দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে তাদের সাথে মেলামেশা করা নাজায়িয। মেলামেশা করা যখন নাজায়িয, তখন তাদের পেছনে ইকতিদা করা কিভাবে জায়িয হবে? আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে পাকে ইরশাদ করেন যে,
وَلَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ وَمَا لَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ مِنْ أَوْلِيَاءَ ثُمَّ لَا تُنْصَرُونَ
-“এবং জালিমদের প্রতি, ঝুঁকে পড়ো না, পড়লে তোমাদেরকে আগুন স্পর্শ করবে এবং আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক নেই। অতঃপর তোমরা সাহায্য প্রাপ্ত হবে না।’’ ২৫৪
{২৫৪. সূরা হুদ, আয়াত: ১১৩}
আরও ইরশাদ হচ্ছে-
وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ وَإِمَّا يُنْسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَى مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
-“এবং হে শ্রোতা, তুমি তাদেরকে দেখবে, যারা আমার নিদর্শন সমূহের মধ্যে লেগে আছে, তখন তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, যে পর্যন্ত না তারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত হয় এবং যখনই তোমাকে শয়তান ভুলিয়ে দেবে, অতঃপর স্মরণে আসতেই যালিমদের নিকটে বসো না! ২৫৫
{২৫৫. সূরা আনআম: আয়াত: ৬৮}
কুরআনের পর রাসূল (ﷺ)’র হাদিসও পেশ করা হল- হযরত আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত রাসূলে আকরাম (ﷺ) ইরশাদ করেন,
يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ، يَأْتُونَكُمْ مِنَ الْأَحَادِيثِ بِمَا لَمْ تَسْمَعُوا أَنْتُمْ، وَلَا آبَاؤُكُمْ، فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ، لَا يُضِلُّونَكُمْ، وَلَا يَفْتِنُونَكُمْ
-‘‘শেষ যামানায় দাজ্জাল মিথ্যুকের প্রকাশ হবে। তারা তোমাদেরকে এমন হাদিস শুনাবে, যেগুলো তোমরা শুননি আর তোমাদের বাপ-দাদারাও শুনেনি।
তোমরা তাদের থেকে দূরে থাক, তারাও যেন তোমাদের থেকে দূরে থাকে, তারা তোমাদেরকে ভ্রষ্ট করতে পারবে না এবং ফিতনার মধ্যেও ফেলতে পারবে না।’’ ২৫৬
{২৫৬. সহীহ মুসলিম শরীফ, ১ম খণ্ড, পৃ: ১২, হা/৭}
খাবার সামনে রেখে তিলাওয়াত করা, প্রার্থনা করা এবং তার মধ্যে বরকত হওয়া
____________________
সায়্যিদুনা আনাস, সায়্যিদুনা আবূ তালহা, সায়্যিদুনা উম্মু সুলাইম (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
খাবার সামনে রেখে তিলাওয়াত করা, প্রার্থনা করা এবং তার মধ্যে বরকত হওয়াঃ-
সায়্যিদুনা আনাস (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, হযরত আবূ তালহা (رضي الله عنه) হযরত উম্মু সালিম (رضي الله عنه) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূল (ﷺ)’র কথার শব্দের মধ্যে শক্তিহীনতা অনুভব করলেন। এমন মনে হল যেন, তার ক্ষুধা পেয়েছে। তোমাদের কাছে কি কোন কিছু আছে? তারা বললেন, ‘হ্যাঁ’, আছে।
অতঃপর তারা যবের কিছু রুটি বের করে নিজেদের ওড়নার মধ্যে রাখলেন। আর এগুলোকে আমার কাপড়ের নিচে রেখে, কাপড়ের কিছু অংশ আমার উপর দিয়ে ডেকে রাখলাম। এরপর আমাকে রাসূল (ﷺ)’র দরবারে পাঠানো হল, হযরত আনাস (رضي الله عنه) বলেন, আমি যখন রুটিগুলো নিয়ে রাসূল (ﷺ)’র খেদমতে উপস্থিত হলাম, দেখলাম যে, রাসূল (ﷺ) মসজিদে তাশরিফ রেখেছেন।
আর সেখানে কিছু সাহাবায়ে কিরাম ছিলেন, আমি তাঁদের পাশে দাঁড়ালাম। রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাকে কি আবূ ত্বালহা পাঠিয়েছেন? আরয ফরমান, হ্যাঁ। পুনরায় তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কোন খাবারের জন্য? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন রাসূল (ﷺ) তাঁর সাথীদের বললেন, চলো।
হযরত আনাস (رضي الله عنه) বলেন, রাসূল (ﷺ) রওয়ানা হলেন, আর আমি তাদের আগে আগে চললাম। আমি গিয়ে হযরত আবূ ত্বালহা (رضي الله عنه) কে রাসূল (ﷺ)’র আগমনের সংবাদ দিলাম। আবূ ত্বালহা (رضي الله عنه) তখন বললেন-
قَدْ جَاءَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالنَّاسِ، وَلَيْسَ عِنْدَنَا مَا نُطْعِمُهُمْ
-“হে উম্মু সুলাইম, রাসূল (ﷺ) তাঁর অনেক সাহাবা নিয়ে এসেছেন, আর আমাদের কাছে তো এ পরিমাণ খাবার নেই যে, তাঁদেরকে খাওয়াতে পারবো।’ উম্মু সুলাইম (রা.) বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (ﷺ)’ই অধিক জানেন।
হযরত আনাস (رضي الله عنه) বলেন, হযরত আবূ ত্বালহা (رضي الله عنه) এগিয়ে গিয়ে রাসূলে পাক (ﷺ) কে অভ্যর্থনা জানালেন। রাসূল (ﷺ) তাঁদের সাথে তাশরিফ নিলেন। শেষ পর্যন্ত তারা দু’জন ঘরে প্রবেশ করলেন। রাসূল (ﷺ) বললেন, হে উম্মু সুলাইম! তোমাদের কাছে যা কিছু আছে নিয়ে এসো। তিনি গিয়ে রুটিগুলো আনলেন।
রাসূল (ﷺ) রুটিগুলোকে টুকরা করার হুকুম দিলেন। সুতরাং তা টুকরা টুকরা করা হল। হযরত উম্মু সুলাইম (রা.)’র কাছে ঘি-এর একটি ছোট্ট পাত্র ছিল। তিনি উক্ত ঘি রুটির উপর ছিটে দিলেন, তা তারকারির স্থলাভিষিক্ত হল।
ثُمَّ قَالَ فِيهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا شَاءَ اللهُ أَنْ يَقُولَ
-অতঃপর রাসূল (ﷺ) কিছু দু‘আ, কালাম পড়লেন এবং আল্লাহ যা চান তা পড়লেন। এরপর তিনি (ﷺ) বললেন, লোকদেরকে আসার অনুমতি দাও। সুতরাং তারা দশজনকে আসার অনুমতি দিলেন। তারা এসে তৃিপ্তসহকারে খেলেন এবং চলে গেলেন। অতঃপর বললেন, আরো দশজনকে আসার অনুমতি দাও। অবশেষে সবাই পরিতৃপ্তি সহকারে খেলেন। তাদের সংখ্যা সত্তর বা আশি জন হবে। ২৫৭
{২৫৭. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৩/১৬১২ পৃ. হা/২০৪০, পরিচ্ছেদ: بَابُ جَوَازِ اسْتِتْبَاعِهِ غَيْرَهُ إِلَى دَارِ مَنْ يَثِقُ بِرِضَاهُ بِذَلِكَ، وَبِتَحَقُّقِهِ تَحَقُّقًا تَامًّا، وَاسْتِحْبَابِ الِاجْتِمَاعِ عَلَى الطَّعَامِ
সহীহ বুখারী, ৪/১৯৩ পৃ. হা/৩৫৭৮, ৭/৭৯ পৃ. হা/৫৩৮১, সুনানে তিরমিযি, ৫/৫৯৫ পৃ. হা/৩৬৩০, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৭৫৮ পৃ. হা/৫৯০৮}
আক্বিদা
খাবার সামনে রেখে কিছু পড়া এবং বারকতের জন্য দু‘আ করা জায়িয। খাবারগুলোকে সবাই মিলে একত্রেও খাওয়া যায়।
অল্প খাবারকে অধিক মানুষের জন্য যথেষ্ট করা এটা রাসূল (ﷺ) কে আল্লাহ তা’য়ালা এই সম্মান দান করেছেন। এটা রাসূল (ﷺ)’র মু‘জিযা। তাঁর সকল সাহাবিদেরকে সাথে নিয়ে আসা এটা তাঁর ইলমে গায়বের দলিল। তিনি জানতেন যে, অল্প খাবার অধিক মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে।
কুলির পানির বরকত
____________________
সায়্যিদুনা বারা ইবনু আ‘যিব (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
কুলির পানির বরকতঃ-
أَنَّهُمْ كَانُوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الحُدَيْبِيَةِ أَلْفًا وَأَرْبَعَ مِائَةٍ أَوْ أَكْثَرَ، فَنَزَلُوا عَلَى بِئْرٍ فَنَزَحُوهَا، فَأَتَوْا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَتَى البِئْرَ وَقَعَدَ عَلَى شَفِيرِهَا، ثُمَّ قَالَ: ائْتُونِي بِدَلْوٍ مِنْ مَائِهَا، فَأُتِيَ بِهِ، فَبَصَقَ فَدَعَا، ثُمَّ قَالَ: دَعُوهَا سَاعَةً. فَأَرْوَوْا أَنْفُسَهُمْ وَرِكَابَهُمْ حَتَّى ارْتَحَلُوا
সায়্যিদুনা বারা বিন আযিব (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, আমরা রাসূল (ﷺ)’র সাথে হুদায়বিয়ায় পৌঁছলাম। আমরা ছিলাম চৌদ্দশত অথবা এর চেয়ে বেশি। আমরা হুদায়বিয়ার কূপের সব পানি বের করে নিলাম যে এক ফোটা পানিও আর বাকি রইল না।
এ সংবাদ রাসূল (ﷺ)’র নিকট পৌঁছলে তিনি কূপের পাড়ে এসে বসলেন। তারপর একটি পানির পাত্র চাওয়া হল। এরপর ওজু করে কুলির পানি রাখলেন এবং দোয়া করে পানিগুলো কূপে রাখলেন। এরপর বললেন, কিছুক্ষণ থাকতে দাও। এর কিছুক্ষণ পর আমরা এসে তথায় পানি পেতে লাগলাম, আমাদের ঘোড়া এবং উটগুলোকেও পানি পান করিয়েছি। ২৫৮
{২৫৮. সহীহ বুখারী শরীফ, ৫/১২২ পৃ. হা/৪১৫১, পরিচ্ছেদ: بَابُ غَزْوَةِ الحُدَيْبِيَةِ, খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ৩/১৬৪৭পৃ:, হা/৫৮৮৩, পরিচ্ছেদ: بَاب فِي المعجزات}
আক্বিদা
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয় হাবিব (ﷺ) কে প্রত্যেক কামালিয়্যাতের আধিক্য দ্বারা অনুগ্রহ করেছে। তিনি তাঁর গোলামকে যে কোন ধরনের মুসিবতে পতিত হোক না কেন, তিনি তা দূর করতেন। আর সাহাবাগণ (رضي الله عنه) নিজেদের যবানে তাঁর সাহায্য, মর্যাদা এবং মহানুভবতার কথা প্রকাশ করতেন।
❏আ‘লা হযরত (رحمة الله) বলেন-
نعمتيں بانٹتا جس سمت وه ذيشان گيا
ساتہ ہى منشئ رحمت كا قلم دان گيا
-‘নি‘মাতরাজি বেড়ে যায় এ শানদার সত্তা যে দিকেই যান, আর সাথে রহমতের স্রষ্টা আল্লাহ পাকের কলম তথা অদৃষ্টের জ্ঞানিও গিয়েছেন।’
মুখতার নবী (ﷺ)
____________________
সায়্যিদুনা বারা ইবনু আযিব এবং সায়্যিদুনা আবূ বুরদাহ বিন নায়্যার (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
মুখতার নবী (ﷺ):-
হযরত বারা ইবনু আযিব (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেন, আজকে (ঈদুল আদ্বহার দিন) আমি প্রথমে যে কাজটি করবো, তা হল নামাযের পর আমি কুরবানি করবো। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার অনুরূপ করবে সে আমার সুন্নাত পালন করল। আর যে ব্যক্তি প্রথমে কুরবানি করল, তার যবেহকৃত পশুর গোশত পরিবারের জন্য তৈরিকৃত গোশতের মত। কুরবানির সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই।
হযরত আবূ বুরদাহ বিন নায়্যার (رضي الله عنه) নামাযের পূর্বে কুরবানি করেছেন, সুতরাং তিনি আরয করলেন, আমার কাছে ছয় মাসের একটি ছাগলের বাচ্চা আছে যেটি এক বছরের ছাগলের চেয়েও উত্তম। রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করলেন,
اذْبَحْهَا وَلَنْ تَجْزِيَ عَنْ أَحَدٍ بَعْدَكَ
-‘‘এটা যবেহ করে দাও, আর তোমার পরে এরূপ করা কারো বৈধ নয়।’’ ২৫৯
{২৫৯. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৩/১৫৫৮ পৃ., হা/১৯৬১, ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল আওসাত, ২/৩৬ পৃ. হা/১১৫৮, সুনানে দারেমী, ২/১২৪৮ পৃ. হা/২০০৫, সুনানে নাসাঈ, হা/১২৬৩}
আক্বিদা
ইমামুল আম্বিয়া হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (ﷺ) মুখতার নাবী। এক বছরের কম ছাগলের বাচ্চা দিয়ে কুরবানী জায়িয নয়। কিন্তু নাবী করিম (ﷺ) হযরত আবু বুরদাহ (رضي الله عنه) কে ছয় মাস বয়সের ছাগলের বাচ্চা দিয়ে কুরবানি করার অনুমতি দিয়েছেন। আর বলেছেন, এটা শুধু তোমার জন্য। তোমার পরে এক বছরের কম বয়সের বাচ্চা দিয়ে কেউ যে কুরবানি না করে।
খায়বার কে বিজয় করবে?
____________________
সায়্যিদুনা সালমাহ বিন আকওয়া (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
খায়বার কে বিজয় করবে?
সায়্যিদুনা সালমাহ বিন আকওয়া‘ (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, খায়বার যুদ্ধে হযরত আলী (رضي الله عنه) রাসূল (ﷺ)’র পেছনে ছিলেন, তাঁর চোখ অসুস্থ ছিল। খায়বার বিজয়ের পূর্বরাতে রাসূল (ﷺ) বললেন,
لَأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ، أَوْ لَيَأْخُذَنَّ الرَّايَةَ، غَدًا رَجُلًا يُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ، أَوْ قَالَ: يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ، يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيْهِ
-“আগামীকাল এমন এক ব্যক্তির হাতে বিজয়ের পতাকা দেয়া হবে যে আল্লাহ এবং রাসূল (ﷺ) কে ভালবাসেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) তাকে ভালবাসেন। তাঁর হাতেই খায়বার বিজয় হবে।’’
হঠাৎ আমরা হযরত আলী (رضي الله عنه) কে দেখলাম আর আমাদের বিশ্বাস ছিল না যে, হযরত আলী (رضي الله عنه) বিজয় করবেন। সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) আরয করলেন তিনি হযরত আলী (رضي الله عنه)-ই হবেন।
فَأَعْطَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرَّايَةَ فَفَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ
-‘রাসূল (ﷺ) হযরত আলী (رضي الله عنه)’র হাতে বিজয়ী পতাকা দান করলেন আর বললেন, আল্লাহ তাকে বিজয় দান করবেন।’ ২৬০
{২৬০. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৫/১৮ পৃ. হা/৩৭০২, হযরত আলী (রা.)’র ফযিলত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: بَابُ مَنَاقِبِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ القُرَشِيِّ الهَاشِمِيِّ أَبِي الحَسَنِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ}
আক্বিদা
রাসূল (ﷺ)’র এই ইলম ছিল যে খায়বার বিজয়ী কে? এসব বস্তুর সম্পর্ক গায়বের সাথে আর সমস্ত সাহাবা যারা খায়বার যুদ্ধে ছিলেন তাঁদেরও এই বিশ্বাস ছিল যে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয় মাহ্বূব (ﷺ) কে ইলমে গায়ব দান করে মালামাল করেছেন।
কেননা রাসূল (ﷺ) যখন বললেন, আগামীকাল এমন ব্যক্তির হাতে পতাকা দেবো, যার হাতে খায়বার বিজয় হবে। তখন কোন সাহাবি এটা বলেননি যে, আগামীকাল কি হবে সেটা তো আল্লাহ জানেন, আপনি কিভাবে তা বলছেন? এই বিষয়ে কোন আপত্তি না করাই হলো এই ইলমে গায়ব সম্পর্কে প্রকৃষ্ট দলিল। তাঁদের বিশ্বাস ছিল নাবী কারীম (ﷺ) তা জানেন।
এটাও বুঝা গেল যে, হযরত আলী (رضي الله عنه) এমন ব্যক্তিত্ব যিনি আল্লাহর প্রিয়ভাজন এবং রাসূল (ﷺ)’র প্রিয়ভাজন হওয়া সম্পর্কে মহানবী (ﷺ) সত্যায়ন করেছেন।
পায়ের গোড়ালির মধ্যে ফুঁৎকার দেয়ার মাধ্যমে আরোগ্য লাভ
____________________
পায়ের গোড়ালির মধ্যে ফুঁৎকার দেয়ার মাধ্যমে আরোগ্য লাভঃ-
হযরত ইয়াজিদ বিন আবূ উবাইদ (رضي الله عنه) বলেন, আমি হযরত সালমাহ বিন আক্বওয়া‘ (رضي الله عنه)’র পায়ের গোড়ালির মধ্যে একটি আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেলাম, পেয়ে বিজ্ঞাসা করলাম, হে আবূ মুসলিম, এটি কিসের আঘাত? তিনি বললেন, এটি সেই আঘাত যা আমি খায়বার যুদ্ধের দিন প্রাপ্ত হয়েছিলাম। পাশের লোকেরা বলতে লাগল যে, সালমাহ বিন আক্বওয়া শহীদ হয়েছেন।
فَأَتَيْتُ الْنَبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَفَثَ فِيهِ ثَلَاثَ نَفَثَاتٍ فَمَا اشْتَكَيْتُهَا حَتَّى السَّاعَة
-‘‘তখন আমি রাসূল (ﷺ)’র খিদমাতে গেলাম, রাসূল (ﷺ) তিনবার দম করলেন। তখন থেকে অদ্যাবধি আর কোন দিন কষ্ট অনুভব করিনি।’’ ২৬১
{২৬১. খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ৩/১৬৪৮পৃ., হা/৫৮৮৬, পরিচ্ছেদ: بَاب فِي المعجزات, সহীহ বুখারী, ৫/১৩৩ পৃ. হা/৪২০৬}
আক্বিদা:
সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه)’র উপর যখন কোন মুসিবত পৌঁছলে তারা নাবীর দরবারে এসে তা পেশ করতেন। অতঃপর তাঁরা তাঁদের মাকসুদে কামিয়াব অর্জন করতেন। এটাও বুঝা গেল যে দম বা ফুঁৎকার করা সুন্নাত।
হাত ও পা চুম্বন করা
____________________
সায়্যিদুনা যারে‘ঈন (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
হাত ও পা চুম্বন করা
সায়্যিদুনা যারে‘ঈন ইবনু আমির ইবনু কায়স (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, তিনি আবদুল ক্বায়স গোত্রের প্রতিনিধি দলের মধ্যে ছিলেন। আমরা যখন মাদিনা মুনাওয়ারার মধ্যে পৌঁছলাম তখন বাহন থেকে নামার জন্য তাড়াহুড়া করেছি-
فَنُقَبِّلُ يَدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرِجْلَهُ
-‘‘অতঃপর (নেমে) আমরা রাসূল (ﷺ)’র হাত ও পা মুবারকে চুম্বন করলাম।’’ ২৬২
{২৬২.
ক. আবু দাউদ শরীফ, ৪/৩৫৭ পৃ. হা/৫২২৫, পরিচ্ছেদ: بَابٌ فِي قُبْلَةِ الرِّجْلِ
খ. খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ৩/১৩২৮ পৃ. হা/৪৬৮৮, পরিচ্ছেদ: بَاب المصافحة والمعانقة
গ. ইমাম নববী, কিতাবুল আযকার, পৃ. ২৩৪।
ঘ. ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী, ফতহুল বারী, ১১/৫৭ পৃ.। তিনি হাদিসটি উল্লেখ করে বলেন- وَسَنَدُهُ قَوِيٌّ-‘‘এই সনদটি শক্তিশালী।’’
ঙ. মোবারকপুরী, তুহফাতুল আহওয়াজী, ৭/৪৩৭ পৃ.
তিনি হাদিসটি উল্লেখ করে বলেন- جَيِّدِ-‘‘এই সনদটি শক্তিশালী।’’}
আক্বিদা
বুযুর্গদের হাত এবং পা চুম্বন করা সাহাবায়ে কিরামগণের সুন্নাত, আর এটি সম্পূর্ণ একটি বৈধ কাজ। ২৬৩
{২৬৩. অথচ আমাদের এক শ্রেণীর লোক দলিল বিহীন এ কাজকে ছোট শিরক, বিদ‘আত এবং হিন্দুয়ানী কর্ম বলে ফাতওয়া দিচ্ছেন। এ বিষয়ে আরও হাদিসে পাক জানতে আমার লিখিত ‘প্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানোর স্বরূপ উন্মোচন’ ১ম খণ্ড দেখুন।}
অদৃশ্যের সংবাদ দান
____________________
সায়্যিদুনা ইমরান বিন হুসাইন (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
অদৃশ্যের সংবাদ দান
সায়্যিদুনা ইমরান বিন হুসাইন (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, রাসূলে কারিম (ﷺ) ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি আমার বন্ধু। তারপর যারা এদের নিকটতম। এরপর ঐসব লোক যারা এদের নিকটতম, অতঃপর এমন ব্যক্তিবর্গ যারা তাদের নিকটতম।
❏হযরত ইমরান (رضي الله عنه) বলেন, রাসূল (ﷺ) দুই অথবা তিনবার বলার পর বলেন-
ثُمَّ يَكُونُ بَعْدَهُمْ قَوْمٌ يَشْهَدُونَ وَلاَ يُسْتَشْهَدُونَ، وَيَخُونُونَ وَلاَ يُؤْتَمَنُونَ، وَيَنْذُرُونَ وَلاَ يَفُونَ، وَيَظْهَرُ فِيهِمُ السِّمَنُ
-‘‘তারপর এদের পর এমন সব লোক আসবে যারা সাক্ষ্য দানের চাহিদা ছাড়াই সাক্ষ্য দেবে, খিয়ানত করবে, আমানতদার হবে না, তারা মান্নাত করবে তবে তা পূর্ণ করবে না।’’ ২৬৪
{২৬৪.
ক. সহীহ মুসলিম, ৪/১৯৬৪ পৃ. হা/২৫৩৫, بَابُ فَضْلِ الصَّحَابَةِ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ
খ. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ৮/৯১ পৃ. হা/৬৪২৮, পরিচ্ছেদ: بَابُ مَا يُحْذَرُ مِنْ زَهَرَةِ الدُّنْيَا وَالتَّنَافُسِ فِيهَا,
গ. ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান, ৪/২১৪ পৃ. হা/৪৬৫৭, পরিচ্ছেদ: بَابٌ فِي فَضْلِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ }
আক্বিদা
রাসূলে পাক (ﷺ) কে আল্লাহ তা‘আলা গায়বের ইল্ম দান করেছেন। এজন্যই তিনি দূরবর্তী ভবিষ্যতের অবস্থা বর্ণনা করেছেন। আর তিনি যেরূপ বলেছেন এমনটিই হচ্ছে।
আক্বিদার বিশুদ্ধতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ
____________________
সায়্যিদুনা ইবনু আ’য়িয (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
আক্বিদার বিশুদ্ধতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ
সায়্যিদুনা ইবনু আ’য়িয (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, রাসূলে পাক (ﷺ) একটি জানাযায় তাশরিফ নিলেন, জানাযা আরম্ভ হওয়ার পূর্বে হযরত ওমর (رضي الله عنه) আরয করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই ব্যক্তির জানাযা না পড়া চাই। রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন, কেন? আরয করলেন, লোকটি গুনাহগার এবং ফাজির। রাসূল (ﷺ) উপস্থিত সাহাবাদের দিকে মনোনিবেশ করে বললেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কি এই ব্যক্তিকে ইসলামের কোন আমল করতে দেখেছো? একজন বললেন, হ্যাঁ, দেখেছি ইয়া রাসূল (ﷺ), একদিন সে আল্লাহর রাস্তায় পাহারা দিয়েছিল। তখন রাসূলে কারিম (ﷺ) তার জানাযা পড়িয়ে তার কবরে গেলেন, তার কবরে মাটি দিয়ে বললেন-
أَصْحَابُكَ يَظُنُّونَ أَنَّكَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ وَأَنَا أَشْهَدُ أَنَّكَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ
-‘‘তোমার সাথীরা ধারণা করেছিল যে, তুমি জাহান্নামি। কিন্তু আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি জান্নাতি।’’ তারপর বললেন, হে ওমর,
إِنَّكَ لَا تُسْأَلُ عَنْ أَعْمَالِ النَّاسِ وَلَكِنْ تُسْأَلُ عَنِ الْفِطْرَةِ
-‘‘তোমার নিকট মানুষেরা আমল কর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে না; বরং মানুষের আক্বিদা (বিশ্বাস) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে।’’ ২৬৫
{২৬৫. খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ২/১১৩৩ পৃ. হা/৩৮৬০, পরিচ্ছেদ: كتاب الْجِهَاد, ইমাম বায়হাকী, শুয়াবুল ঈমান, ৬/১৪৬ পৃ. হা/৩৯৮৮, মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ৪/৪৫৫ পৃ. হা/১১৩৫৬}
আক্বিদা
মাহবূবে খোদা রাসূলে কারিম (ﷺ) জানতেন যে, মৃত ব্যক্তি জান্নাতি, এজন্যই তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন। এটাও বুঝা গেল যে, আমলের মধ্যে যদিও বা কোন কমতি থাকে তবে তেমন সমস্যা নেই। কিন্তু আক্বিদা শুদ্ধ হওয়া চায়। যার আক্বিদা শুদ্ধ নয়, তার আমল কোন উপকার দেবে না। ২৬৬
{২৬৬. আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী, মেরকাত, ৬/২৪৯৮ পৃ. হা/৩৮৬০}
অসহায়ের আশ্রয়স্থল
____________________
সায়্যিদুনা জারির (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
অসহায়ের আশ্রয়স্থল
সায়্যিদুনা জারির (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, আমি রাসূলে কারিম (ﷺ)’র কাছে গিয়ে অভিযোগ করলাম যে, আমি ঘোড়াতে স্বাচ্ছন্দে বসতে পারি না।
فَضَرَبَ بِيَدِهِ فِي صَدْرِي وَقَالَ: اللهُمَّ ثَبِّتْهُ وَاجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا
-‘‘রাসূল (ﷺ) আমার সিনার উপর তাঁর হাত মুবারক রেখে দো‘আ করলেন, হে আল্লাহ তাকে ঘোড়ার উপর স্থির রাখ এবং তাকে হাদি-মাহদি কর।’’ ২৬৭
{২৬৭.
ক. ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, ৮/২৪ পৃ. হা/৬০৯০, পরিচ্ছেদ: بَابُ التَّبَسُّمِ وَالضَّحِكِ,
খ. সহীহ মুসলিম, ৪/১৯২৫ পৃ. হা/২৪৭৫, পরিচ্ছেদ: بَابُ مِنْ فَضَائِلِ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ,
গ. ইমাম বায়হাকী, শুয়াবুল ঈমান, ১০/৩৯৫ পৃ. হা/৭৬৮৬}
আক্বিদা
সাহাবায়ে কিরামগণ (رضي الله عنه) যখন কোন পেরেশানি বা মুসিবত অনুভব করতেন, তখন প্রিয় নাবী (ﷺ)’র দরবারে উপস্থিত হয়ে আরয করতেন। তিনি তাদের জন্য দোয়া করলে তাদের বিপদ আর মুসিবত দূর হয়ে যেত। কলবের শক্তি মানুষের এমন এক বৈশিষ্ট্য যেটি কুদরাতিভাবে মানুষকে দান করা হয়। কিন্তু আল্লাহ তা তা‘আলা আমাদের নাবী (ﷺ) কে ক্ষমতা দিয়েছেন যে তিনি এ শক্তি তাঁর গোলামদেরকে দান করতেন।
হযরত আবূ হুরায়রা (رضي الله عنه) কে স্মরণ শক্তি দান করেছেন। আর হযরত জাবির (رضي الله عنه) কে অন্তরের শক্তি দান করেছেন। নাবী কারিম (ﷺ)’র দান এবং বদন্যতা কীরূপ চমৎকার! হযরত জারির (رضي الله عنه) অন্তরের শক্তি প্রার্থনা করেছেন কিন্তু নাবী কারীম (ﷺ) তাকে তিনটি নি‘মাত দান করেছেন। অন্তরের শক্তি, হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা এবং অন্যকে হিদায়তকারি। হযরত জাবের (رضي الله عنه) বলেন,
فَمَا وَقَعْتُ عَنْ فَرَسِي بَعْدُ
-‘তারপর থেকে ঘোড়া থেকে পড়েনি।’ ২৬৮
{২৬৮. ইমাম খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৬৫৫ পৃ. হা/৫৮৯৭, পরিচেছদ: بَاب فِي المعجزات}
❏ইমামে আহলে সুন্নাত শাহ্ আহমাদ রেজা খাঁন বেরলভী (رحمة الله) এজন্যই বলেছেন:
منگتے كا ہاتہ اٹہے ہى واتا كى دين تهى
دورى قبول وعرض صرف ہاتہ بهر كى ہے
-‘প্রার্থনাকারীর প্রয়োজনে হাত উঠানো হতে
তাঁর দো‘আ (নবিজির) কবুল হওয়ার দূরত্ব শুধু হাত উঠানো মাত্র।’’
রাসূল (ﷺ)’র দরবারে উটের প্রার্থনা
____________________
সায়্যিদুনা হযরত ইয়া‘লা বিন র্মুরাহ সাকাফি (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
রাসূল (ﷺ)’র দরবারে উটের প্রার্থনা
সায়্যিদুনা হযরত ইয়া‘লা ইবনু র্মুরাহ সাকাফি (رضي الله عنه) বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)’র তিনটি জিনিস দেখিছি একটি হল, একদা আমি রাসূল (ﷺ)’র সাথে যাচ্ছিলাম। একটি উটের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছি যার দ্বারা জমিতে চাষ দেয়া হচ্ছিল। উট যখন নাবী কারিম (ﷺ) কে দেখল সে চিৎকার করল এবং তার গর্দান নবী (ﷺ)’র সামনে ঝুঁকিয়ে দিল। রাসূল (ﷺ) তখন দাঁড়িয়ে বললেন:
أَيْنَ صَاحِبُ هَذَا الْبَعِيرِ
এই উটের মালিক কোথায়? উটের মালিক উপস্থিত হলে নাবী কারীম (ﷺ) বললেন, এই উটটি আমার কাছে বিক্রি করে দাও। মালিক বলল, হে রাসূল (ﷺ)! এটি আপনাকে হিবা করলাম। কিন্তু এটি এমন ঘরের উট যার কাছে এই উট ছাড়া জীবিকার আর কোন উপায় নেই। তিনি (ﷺ) বললেন:
فَإِنَّهُ شَكَا كَثْرَةَ الْعَمَلِ وَقِلَّةَ العَلَفِ فَأحْسِنُوا إِلَيْهِ
-‘তুমি যা বলেছ, তা ঠিক। কিন্তু এই উটটি তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে, তার থেকে অধিক কাজ নেয়া হয়, কিন্তু খাবার কম দেয়া হয়, সুতরাং তার সাথে ভালো আচরণ কর।’ ২৬৯
{২৬৯. ক. ইমাম খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ৩/১৬৬৪ পৃ. (ভারতীয়) ৫৪০ পৃ., হা/৫৯৫২, ইমাম ইবনে কাসির, আল বেদায়া ওয়ান নিহায়া, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৪৫-১৪৬, ইমাম বাগভী, শারহে সুন্নাহ, ১৩/২৯৫ পৃ. হা/৩৭১৮, ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, ২৯/১০৬ পৃ. হা/১৭৫৬৫, আহলে হাদিস আলবানী এটিকে সহীহ বিশ্-শাওয়াহেদ বলে মিশকাতে তাহকীক করেছেন। এ সনদে উক্ত সাহাবীর ছাত্র ‘আব্দুল্লাহ ইবনে হাফস’ নামক একজন তাবেয়ী রয়েছেন, যাকে কেউ মাজহুল বা অপরিচিত বলে হাদিসটি যঈফ বলতে চান। অথচ ইমাম মিয্যী (رحمة الله) উল্লেখ করেছেন-
وَذَكَرَهُ اِبْنُ حِبَّانٍ فِي كِتَابِ الثِّقَاتْ رَوٰى لَهُ النَّسَائِي.
-‘‘ইমাম ইবনে হিব্বান (رحمة الله) তাকে সিকাহ বা বিশ্বস্ত রাবীর তালিকায় স্থান দিয়েছেন। ইমাম নাসাঈ (رحمة الله) তার হাদিস বর্ণনা করেছেন।’’ (ইমাম মিয্যী, তাহজিবুল কামাল, ১৪/৪২৬ পৃ. ক্রমিক. ৩২৩০, ইমাম ইবনে হিব্বান, কিতাবুস সিকাত, ৫/৬০ পৃ. ক্রমিক.৩৮৫০, আল্লামা মুগলতাঈ, ইকমালু তাহযিবুল কামাল, ৭/৩০৯ পৃ. ক্রমিক. ২৮৮৭, ইবনে হাজার, তাহযিবুত তাহযিব, ৫/১৮৯ পৃ. ক্রমিক. ৩২৬) আল্লামা মুগলতাঈ (رحمة الله) নিজস্ব অভিমত হিসেবে বলেন- وكان ثقة. -‘‘তিনি সিকাহ বা বিশ্বস্ত।’’ (আল্লামা মুগলতাঈ, ইকমালু তাহযিবুল কামাল, ৭/৩০৯ পৃ. ক্রমিক. ২৮৮৭) ইমাম বুখারী (رحمة الله) তার জীবনী আলোচনা করে কোন সমালোচনা বা অপরিচত হওয়ার কোন ইঙ্গিত দেননি। (ইমাম বুখারী, তারিখুল কাবীর, ৫/৭৫ পৃ. ক্রমিক.১৯৯) তাই বুঝা গেল এই সনদটিই সহীহ।}
আক্বিদা
জীব-জন্তু নাবী কারীম (ﷺ) কে চিনে এবং তার নিজের সমস্যার কথা ব্যক্ত করে। রাসূল (ﷺ) তাদের ভাষা বুঝেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয় হাবীব (ﷺ) কে তাদের (জীব-জন্তুর) হাজত পূরণ এবং সমস্যা দূর করার ক্ষমতা ও শক্তি দান করেছেন।
❏কবি বলেন-
بے يارد مدد گار جنہيں كو تى نہ پو چهے
ان كا تمہں يارو مددگار بنايا
-‘‘অসহায় ও সাহায্য বঞ্চিত যাদের কেউ দৃষ্টিপাত করে না
মহান রব আপনাকে তাদের সহায়ক ও সাহায্যকারী বানিয়েছেন।’’
যে সব লোক রাসূল (ﷺ) কে আল্লাহর হুকুমে হাজতপূর্ণকারী এবং সমস্যা দূরীভূতকারী মানে না, তারা জীবজন্তু থেকে অধিক মন্দ।
রাতে ঘন অন্ধকার আসবে
____________________
সায়্যিদুনা আবূ হুমাইদ সা‘ঈদী (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
রাতে ঘন অন্ধকার আসবে
সায়্যিদুনা হযরত আবূ হুমাইদ সা‘ঈদী (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, আমরা রাসূল (ﷺ)’র সাথে তাবুক যুদ্ধে গিয়েছি। ওয়াদিল কুরা নামে এক মহিলার বাগানে পৌঁছেছি। রাসূল (ﷺ) বললেন, এই বাগানে ফল কত হবে তা অনুমান কর। রাসূল (ﷺ) এবং আমরা অনুমান করলাম যে দশ আওসাক (ষাট মন)। রাসূল (ﷺ) মহিলাটিকে বলেন, সংখ্যাটি স্মরণ রাখবে, আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা তোমার কাছে ফিরে আসা পর্যন্ত। অতঃপর আমরা তাবুকে পৌঁছলাম। রাসূল (ﷺ) বললেন,
سَتَهُبُّ عَلَيْكُمُ اللَّيْلَةَ رِيحٌ شَدِيدَةٌ، فَلَا يَقُمْ فِيهَا أَحَدٌ مِنْكُمْ فَمَنْ كَانَ لَهُ بَعِيرٌ فَلْيَشُدَّ عِقَالَهُ فَهَبَّتْ رِيحٌ شَدِيدَةٌ، فَقَامَ رَجُلٌ فَحَمَلَتْهُ الرِّيحُ حَتَّى أَلْقَتْهُ بِجَبَلَيْ طَيِّئٍ
-‘‘আজকে রাত্রে অধিক বাতাস আসবে। তোমাদের কেউ দাঁড়াবে না। যাদের কাছে উট আছে, উটগুলোকে রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখবে। তারপর ঘনময় অন্ধকার রাত আসলো। এক ব্যক্তি দাঁড়ালে তাঁকে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে ‘তাই’ নামক স্থানের দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করলো। অতঃপর আমরা ফিরে এসে ওয়াদিয়াতুল ক্বোরায় পৌঁছেছি।’’
فَسَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَرْأَةُ عَنْ حَدِيقَتِهَا كَمْ بَلَغَ ثَمَرهَا فَقَالَتْ عَشَرَةَ أَوْسُقٍ
-‘‘অতঃপর রাসূল (ﷺ) বাগানের মহিলা মালিককে জিজ্ঞাসা করলেন ফলের পরিমাণ কত? তিনি বললেন, দশ আওসাক (ষাট মন)।’’ ২৭০
{২৭০.
ক. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৭৮৫ পৃ. হা/১৩৯২, রাসূল (ﷺ) মু’জেযা অধ্যায়।
খ. খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ৩/১৬৬২ পৃ. হা/৫৯১৫
গ. ইমাম বায়হাকী, দালিলুন নুবুওয়াত, ২/৫২০পৃ.।}
আক্বিদা
রাসূল (ﷺ)’র কাছে গায়বের ইলম রয়েছে, এজন্যই তিনি পূর্বে বলেছেন,
سَتَهُبُّ عَلَيْكُمُ اللَّيْلَةَ رِيحٌ شَدِيدَةٌ
-‘‘আজকে রাতে তীব্র বাতাস বইবে।’’ সুতরাং এরূপই হয়েছিল। এটাও প্রমাণিত যে, যাওয়ার সময় বলেছিলেন, বাগানের ফল দশ আওসাক। পরিমাপ করার পর দেখা গেল দশ আওসাক হয়েছে। এর থেকে বুঝা গেল রাসূল (ﷺ)’র ইলমে গায়বের বিষয়টি দিবালোকের সূর্যের ন্যায় স্পষ্ট।
সুতরাং নাবী কারীম (ﷺ)’র ইলমে গায়বকে অস্বীকার করা বেদ্বীনী এবং কুরআন-সুন্নাহর বিরোধীতা বৈ কিছুই নয়। আল্লাহ হেফাজত করুন। আমীন।
জান্নাত দান করা
____________________
সায়্যিদুনা রাবি‘আহ বিন কা‘ব (رضي الله عنه)'র আক্বিদা
জান্নাত দান করা
সায়্যিদুনা রাবি‘আহ বিন কা‘ব (رضي الله عنه) বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)’র খিদমতে রাত্রে তাঁর সাথে ছিলাম। তাঁর ওযূর পানি এবং প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র এনে দিলাম। রাসূল (ﷺ) বললেন- سَلْ -‘‘তুমি আমার কাছে কিছু প্রার্থনা কর।’’ আমি প্রার্থনা করলাম যে,
أَسْأَلُكَ مُرَافَقَتَكَ فِي الْجَنَّةِ
-‘‘জান্নাতে আমি আপনার সাথে থাকতে চাই।’’
রাসূল (ﷺ) বললেন:
قَالَ: أَوْ غَيْرَ ذَلِكَ قُلْتُ: هُوَ ذَاكَ
-‘‘এছাড়া আরো কিছু চাও। তখন আমি বললাম, এতটুকুই যথেষ্ট।’’ ২৭১
{২৭১.
ক. সহীহ মুসলিম শরীফ, ১/৩৫৩ পৃ. হা/৪৮০, পরিচ্ছেদ: بَابُ فَضْلِ السُّجُودِ وَالْحَثِّ عَلَيْهِ
খ. খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ১/২৮১ পৃ. হা/৮৯৬, পরিচ্ছেদ: بَاب السُّجُود وفضله}
আক্বিদা
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয় বন্ধু রাসূলে কারীম (ﷺ) কে পুরো সৃষ্টিজগতের মালিক এবং মুখতার বানিয়েছেন। তিনি যাকে যেটি দিতে চান তা দান করেন। সাহাবায়ে কিরামগণ (رضي الله عنه) রাসূল (ﷺ)’র দরবারে গিয়ে ভিক্ষুক হয়ে নিজেদের প্রয়োজনের কথা ব্যক্ত করতেন, আর উদ্দেশ্য পূর্ণ হত।
❏আ’লা হযরত, আজিমুল বরকত, ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দিদে দ্বীন ও মিল্লাত শাহ আহমদ রেযা খাঁন বেরলভী (رحمة الله) এজন্যই বলেছেন:
يہ انعام ہے مصطفٰى پر خدا كا
كہ سب كپہ خدا كا ہوا مصطفٰى كا
-‘হযরত মুস্তফা (ﷺ)’র উপর আল্লাহর অনুগ্রহ যে, আল্লাহর সৃষ্টির সবকিছুই মুস্তফা (ﷺ)’র হয়ে গেল।’
মুখের থুথু মুবারক আরোগ্য দানকারি এবং তাঁর ইলমে গায়েবঃ-
____________________
সায়্যিদুনা সা‘দ বিন আবি ওয়াক্কাসরাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুর ‘আক্বিদা
মুখের থুথু মুবারক আরোগ্য দানকারি এবং তাঁর ইলমে গায়েবঃ-
হযরত সা‘দ বিন আবি ওয়াক্কাস (رضي الله عنه) বলেন: খায়বার বিজয়ের দিন রাসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি ইরশাদ করেন,
لَأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ رَجُلًا يُحِبُّ اللهَ وَرَسُولَهُ، وَيُحِبُّهُ اللهُ وَرَسُولُهُ
-‘‘আগামীকাল ঐ ব্যক্তির হাতে বিজয়ের পতাকা দেব যে আল্লাহ ও রাসূল (ﷺ) কে ভালোবাসে আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)ও তাকে ভালোবাসেন।’’ হযরত সা‘দ বিন আবি ওয়াক্কাস (رضي الله عنه) বলেন, আমরা সকলে ঐ ব্যক্তির অপেক্ষায় রইলাম, তখন রাসূল (ﷺ) বললেন,
ادْعُوا لِي عَلِيًّا فَأُتِيَ بِهِ أَرْمَدَ، فَبَصَقَ فِي عَيْنِهِ وَدَفَعَ الرَّايَةَ إِلَيْهِ، فَفَتَحَ اللهُ عَلَيْهِ
আলী (رضي الله عنه) কে আমার কাছে নিয়ে এসো। আলী (رضي الله عنه) কে আনা হলে দেখা গেল, তাঁর চোখ অসুস্থ। তাঁর চোখে রাসূল (ﷺ) নিজের থুথু মুবারক দিয়ে এবং তাঁর হাতে বিজয়ের পতাকা দিলেন। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা হযরত আলী (رضي الله عنه)’র উপর খায়বার বিজয় দান করলেন।’’ ২৭২
{২৭২. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮৭৮পৃ., হা/২৪০৪, হযরত আলী (رضي الله عنه)’র ফজিলত অধ্যায়, }
আক্বিদা
হযরত আলী (رضي الله عنه) ঐ মহান ব্যক্তিত্ব যার উপর আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসূল (ﷺ) মুহাব্বত রাখেন। তাঁর উপর আক্বিদা এবং মুহাব্বত রাখা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। এটাও বুঝা গেল যে, রাসূল (ﷺ) জানতেন যে, তাঁর থুথু শরীফ শিফা দানকারী, এ জন্যই হযরত আলী (رضي الله عنه)’র চোখে থুথু দিয়েছেন।
হযরত আলী (رضي الله عنه) বলেন, এর পর থেকে আমার চোখ কোন দিন অসুস্থ হয়নি। রাসূল (ﷺ) জানতেন যে, হযরত আলী (رضي الله عنه)’র হাতে খায়বার বিজয় হবে। এ জন্য রাসূল (ﷺ) তাঁর জন্য অপেক্ষা করেছেন এবং তাকে বিজয়ের পতাকা দিয়েছেন।
❏আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) বলেন,
وَعَنْ أَبِي رَافِعٍ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قال: .........ثُمَّ أَلْقَاهُ مِنْ يَدِهِ حِينَ فَرَغَ، فَلَقَدْ رَأَيْتُنِي فِي نَفَرٍ مَعَ سَبْعَةٍ أَنَا ثَامِنُهُمْ نَجْتَهِدُ عَلَى أَنْ نَقْلِبَ ذَلِكَ الْبَابَ فَمَا نَقْلِبُهُ . أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ فِي الْمَنَاقِبِ.
-‘‘রাসূল (ﷺ)’র গোলাম হযরত আবু রা‘ফি (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বারে হযরত আলী (رضي الله عنه) বিজয়ী হন।................তারপর তিনি যুদ্ধে শেষ করে দরজাটি নিয়ে আসেন। অতঃপর আমি দেখলাম সাতজনের ক্ষুদ্র একটি দল খায়বারের সে দরজাটি উত্তোলন করতে পারছে না, আমিও তাদের সাথে অষ্টম ব্যক্তি হিসেবে যোগ দিলাম, কিন্তু আমরা তা উঠাতে পারলাম না। ঘটনাটি ইমাম আহমদ (رحمة الله) তাঁর মানাকিব গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।’’ ২৭৩
{২৭৩. আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী, মেরকাতুল মাফাতিহ, ৯/৩৯৪৫ পৃ. হা/৬০৮৯ এর ব্যাখ্যায়।}
❏কবি বলেন:
الله الله ترى شوكت ترى صولت كا كيا كہنا
كہ خطبہ پٹہ رہا ہے آج تك خيبر كا ہر ذره
-‘আল্লাহ আল্লাহ {হে আলী (رضي الله عنه)}! আপনার মর্যাদার তীব্রতা সম্পর্কে কি বলবো?
খায়বারের প্রতিটি অণু-পরমাণু আজ পর্যন্ত খুত্বা (আপনার প্রশংসায়) পড়ছে।’
উম্মাতগণের কাছে ভবিষ্যতে যেসব ঘটনা আসবে তার সংবাদ দেয়া
____________________
সায়্যিদুনা যায়িদ বিন আরকাম, সায়্যিদুনা আনিসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা এর আক্বিদা
উম্মাতগণের কাছে ভবিষ্যতে যেসব ঘটনা আসবে তার সংবাদ দেয়াঃ-
হযরত আনিসা বিনতে যায়েদ বিন আরকাম (رضي الله عنه) তাঁর সম্মানিত পিতা হযরত যায়েদ বিন আরকাম (رضي الله عنه) হতে বর্ণনা করেন যে, হযরত যায়েদ (رضي الله عنه) অসুস্থবোধ করলে তাকে দেখার জন্য রাসূল (ﷺ) তাশরীফ নিলেন। ইরশাদ করলেন-
لَيْسَ عَلَيْكَ مِنْ مَرَضِكَ بَأْسٌ وَلَكِنْ كَيْفَ لَكَ إِذَا عُمِّرْتَ بَعْدِي فَعَمِيتَ؟
-‘এই রোগে তোমার কোন অসুবিধা হবে না। কিন্তু ঐ সময় কী হবে যখন আমার ওফাত হবে আর তোমার হায়াত লম্বা হবে এবং তুমি অন্ধত্ব বরণ করবে?’
তিনি উত্তরে বললেন, আমি সাওয়াবের উদ্দেশ্যে ধৈর্যধারণ করবো। রাসূল (ﷺ) বললেন,
إِذًا تَدْخُلِ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَاب
-‘‘তুমি বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’’
হযরত আনিসা (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন,
فَعَمِيَ بَعْدَ مَا مَاتَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم ثمَّ ردَّ اللَّهُ بَصَره ثمَّ مَاتَ
-‘‘রাসূল (ﷺ)’র ইন্তিকালের পর তিনি (হযরত যায়দ (رضي الله عنه)) অন্ধ হয়ে যান। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দৃষ্টি ফিরিয়ে দেন এবং এরপর তিনি ইন্তিকাল করেন।’’ ২৭৪
{২৭৪. খতিব তিবরিযি, মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩/১৬৭১ পৃ. হা/৫৯৩৯, (ভারতীয় পৃ. ৫৪৩), ইমাম বায়হাকী, দালাইলুন নবুয়ত, ৬/৪৭৯ পৃ., ইমাম ইবনে কাসির, মু‘জিযাতুন্নবী (দ.), ১/৩৩৫ পৃ., ইমাম মুকরীজী, ইমতাউল আসমা, ১২/২৪৮ পৃ. এবং ১৪/১৫৬ পৃ., দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন।}
আক্বিদা
রাসূল (ﷺ) অবগত যে, তাঁর উম্মাতের জীবনে কী কী ঘটনা আসবে। এটাও জানেন যে, কিয়ামত দিবসে তার সাথে কী রকম আচরণ করা হবে। নাবী (ﷺ) নিজের সাহাবীদের (رضي الله عنه) সামনে কী সংঘটিত হবে তার সম্পর্কে অবগত ছিলেন।
সৃষ্টি জগত থেকে উপকার অর্জন করা
____________________
সায়্যিদুনা আবূ বারযাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর আক্বিদা
সৃষ্টি জগত থেকে উপকার অর্জন করাঃ-
❏সায়্যিদুনা আবূ বারযাহ্ (رضي الله عنه) বলেন, আমি আরয করলাম-
يَا نَبِيَّ اللهِ عَلِّمْنِي شَيْئًا أَنْتَفِعُ بِهِ
-‘‘হে রাসূল (ﷺ), আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যা দ্বারা উপকার অর্জন করতে পারবো।’’ রাসূল (ﷺ) তাকে বললেন,
اعْزِلِ الْأَذَى، عَنْ طَرِيقِ الْمُسْلِمِينَ
-‘‘মুসলমানদের রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে নাও।’’ ২৭৫
{২৭৫. সহীহ মুসলিম, ৪/২০২১ পৃ. হা/২৬১৮, পরিচ্ছেদ: بَابُ فَضْلِ إِزَالَةِ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ১/৫৯৫ পৃ. হা/১৯০৬, ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, ৩৩/১৪ পৃ. হা/১৯৭৬৮, বায়হাকী, শুয়াবুল ঈমান, ১৩/৪৮৪ পৃ. হা/১০৬৫১, মুসনাদে বাযযার, হা/৩৮৪৩}
আক্বিদা
আল্লাহর সৃষ্টি থেকে উপকার নেয়া শিরক নয়, যদি শিরক হতো তবে রাসূল (ﷺ) তাকে নিষেধ করতেন এবং তাকে এ ব্যাপারে শিক্ষা দিতেন না।
রাসূল (ﷺ)’র পর্যবেক্ষণ নির্বাচিতকরণ এবং রাসূল (ﷺ)’র ইলম
____________________
সায়্যিদুনা উকবাহ বিন আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর আক্বিদা
রাসূল (ﷺ)’র পর্যবেক্ষণ নির্বাচিতকরণ এবং রাসূল (ﷺ)’র ইলমঃ-
সায়্যিদুনা উকবা ইবনু আমির (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, একদিন রাসূল (ﷺ) বাইরে তাশরিফ নিলেন এবং উহুদ বাসীদের জানাযার নামায পড়ানোর পর মিম্বর শরিফে আরোহন করলেন। ইরশাদ করেন,
إِنِّي فَرَطٌ لَكُمْ، وَأَنَا شَهِيدٌ عَلَيْكُمْ، وَإِنِّي وَاللهِ لَأَنْظُرُ إِلَى حَوْضِي الْآنَ، وَإِنِّي قَدْ أُعْطِيتُ مَفَاتِيحَ خَزَائِنِ الْأَرْضِ، أَوْ مَفَاتِيحَ الْأَرْضِ، وَإِنِّي، وَاللهِ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تُشْرِكُوا بَعْدِي، وَلَكِنْ أَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تَتَنَافَسُوا فِيهَا
-‘‘হাউজে কাউসারে আমি তোমাদের আগে থাকবো। আমি তোমাদের জন্য সাক্ষ্য দেব। আল্লাহর শপথ, আমি হাউজে কাউসার দেখতেছি। নিশ্চয়ই আমাকে জমিনের ধনভান্ডারের চাবিসমূহ দেয়া হয়েছে অথবা পুরো যমিনের চাবিকাঠি দেয়া হয়েছে। আল্লাহর শপথ! তোমাদের সম্পর্কে আমার কোন ভয় নেই যে, তোমরা আমার পর শিরক করবে। কিন্তু শংকা হচ্ছে যে, তোমরা দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়বে।’’ ২৭৬
{২৭৬. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৭৯৫ পৃ. হা/২২৯৬, আমাদের রাসূল (ﷺ)’র হাউজে কাউসারের প্রমাণ অধ্যায়, ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ২/৯১ পৃ., হা/১৩৪৪, পরিচ্ছেদ: بَابُ الصَّلاَةِ عَلَى الشَّهِيدِ}
আক্বিদা
নাবী কারীম (ﷺ) জমিনে তাশরীফ রেখে হাউজে কাউসারকে দেখেন। হাউজে কাউসার জান্নাতে। বুঝা গেল আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয় হাবিব (ﷺ) কে এমন ক্ষমতা দান করেছেন যে, তিনি জমিনে তাশরীফ রেখে জান্নাত প্রত্যক্ষ করেন, অনুরূপ আল্লাহর সে প্রিয় মাহবূব (ﷺ) রওজা পাকে আরাম করেও উম্মতের অবস্থা পরিদর্শন করেন। ২৭৭
{২৭৭. মিশকাত শরীফের ২য় খণ্ডের بَاب الكَرَامَاتْ অধ্যায়ের পর وَفَاةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ শীর্ষক অধ্যায়ে হযরত উকবা বিন আমের (رضي الله عنه) হতে উল্লেখিত আছেঃ
وَإِنَّ مَوْعِدَكُمُ الْحَوْضُ وَإِنِّي لَأَنْظُرُ إِلَيْهِ من مَقَامِي
-‘‘তোমাদের সঙ্গে আমার পুনরায় সাক্ষাতকারের জায়গা হল ‘হাউজে কাউছার’ যা আমি এখান থেকেই দেখতে পাচ্ছি।’’ (খতিব তিবরিযী, মিশকাত, ৪/৪০২ পৃ. হা/৫৯৫৮, ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ৭/৩৪৮ পৃ. হা/৪০৪২, ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, ৪/১৭৭৫ হা/২২৯৬, ইমাম নাসায়ীঃ আস-সুনানুল কোবরা, ৪/৬১ পৃ. হাদিসঃ ১৯৫৪, আহমদ ইবনে হাম্বলঃ আল-মুসনাদঃ ৪/১৪৮পৃ., ইমাম মুসলিমঃ আস্-সহীহ, প্রথম খণ্ডঃ হাদিসঃ ৩০)}
এটাও বুঝা গেল যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয় হাবীব (ﷺ) কে মালিক ও মুখ্তার বানিয়েছেন। তাকে জমিনের ধনভান্ডারের চাবিসমূহ দান করেছেন।
❏কবি বলেন-
ميں تو مالك ہى كہوں گا كہ ہو مالك كے حبيب
محبوب و محب ميں نہيں ميرا تيرا
-‘‘আমি তো মালিকই বলবো, কেননা মালিকের (আল্লাহর) হাবিব,
প্রমিক ও পেমাষ্পদের মধ্যে আমি তুমি নেই।’’
এ হাদিস শরীফ থেকে এটা বুঝা গেল, রাসূল পুরা দুনিয়ার সামনে দ্বীন ইসলামকে এমন সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন যে, প্রত্যেক কিছুর উপর কুফর, শিরক এবং ইসলামের মধ্যে প্রার্থক্যটি পরিষ্কার হয়েছে। এ জন্যই তিনি ইরশাদ করেছেন যে, তোমাদের সম্পর্কে আমি এ আশংকা করিনা যে, আমার পরে তোমরা শিরকে লিপ্ত হবে।
আজকাল যে সব হাযারাত শিরক শিরক করে আওয়ায করে তাদের উচিত রাসূলে পাক (ﷺ)’র শপথযুক্ত বর্ণনাটি বারবার অধ্যায়ন করা। প্রিয় রাসূল (ﷺ) যেটার চিন্তা করে না সে বিষয়ে তোমাদের এতো চিন্তা কেন?
বস্তুত, এসব হাযারাত রাসূল (ﷺ)’র তাজিম আউলিয়াদের তা’যিম এবং আল্লাহর শা‘ঈরকেও শিরক বলে অথচ আল্লাহ তা‘আলা এদেরকে তাযিম করার নির্দেশ দিয়েছে।
❏আ‘লা হযরত ইমামে আহলে সুন্নত মাওলানা শাহ আহমদ রেযা খাঁন বেরলভী (رحمة الله) এজন্যই বলেন-
شرك ٹهہر ے جس ميں تعظيم حبيب
اس برے مذہب پہ لعنت كيبئ
-‘যে মাযহাবে রাসূলের তা‘যিমকে শিরক সাব্যস্ত করে,
ঐ মন্দ (এ রকম অভিসপ্ত) মাযহাবের উপর লা‘নত বর্ষিত হোক।’
কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি ফিতনার সংবাদ
____________________
সায়্যিদুনা হযরত হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর আক্বিদা
কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি ফিতনার সংবাদঃ-
সায়্যিদুনা হুযায়ফা (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, আল্লাহর শপথ! প্রতিটি ফিতনা সম্পর্কে আমি সকল মানুষ থেকে অধিক জানি। যেগুলো আমার ও কিয়ামতের মাঝে সংঘটিত হবে।
إِلَّا أَنْ يَكُونَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسَرَّ إِلَيَّ فِي ذَلِكَ شَيْئًا، لَمْ يُحَدِّثْهُ غَيْرِي
-‘‘এটি এ জন্য, রাসূল (ﷺ) আমাকে গোপনে বলেছেন, যা আমি ব্যতীত আর কাউকে বলেন নি।’’ ২৭৮
{২৭৮. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/২২১৬ পৃ. হা/২৮৯১, পরিচ্ছেদ: بَابُ إِخْبَارِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا يَكُونُ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ ।, ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, ৩৮/৪৪৭ পৃ. হা/২৩৪৬০, নুয়াইম বিন হাম্মাদ মারুজী, আল-ফিতান, ১/২৮ পৃ. হা/৩, ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ১০/২৯ পৃ. হা/৭৪৮২}
আক্বিদা
কিয়ামাত পর্যন্ত যত ফিতনা হবে, সে সম্পর্কে রাসূল (ﷺ) জানেন। আর সাহাবায়ে কিরামগণের (رضي الله عنه) এটার উপর বিশ্বাস ছিল। এ জন্য হযরত হুযায়ফা (رضي الله عنه) শপথ করে বলেন-
وَاللهِ إِنِّي لَأَعْلَمُ النَّاسِ بِكُلِّ فِتْنَةٍ هِيَ كَائِنَةٌ، فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَ السَّاعَةِ
-‘আল্লাহর শপথ! আমার ও কিয়ামাতের মাঝে যে সব ফিতনা হবে, তা আমি জানি।’ খাদিমের শান এতটুকু হলে মালিকের শান কতটুকু হবে! ২৭৯
{২৭৯. উক্ত সাহাবী অনুরূপ আরেকটি বর্ণনা রয়েছে। মিশকাত শরীফের ‘বাবুল ফিতান’ নামক অধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে হযরত হুযাইফা (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত আছে,
مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ قَائِدِ فِتْنَةٍ، إِلَى أَنْ تَنْقَضِيَ الدُّنْيَا، يَبْلُغُ مَنْ مَعَهُ ثَلَاثَ مِائَةٍ فَصَاعِدًا، إِلَّا قَدْ سَمَّاهُ لَنَا بِاسْمِهِ، وَاسْمِ أَبِيهِ، وَاسْمِ قَبِيلَتِهِ -
-‘‘হুযুর আলাইহিস সালাম পৃথিবীর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য কোন ফিত্না পরিচালনাকারীর কথা বাদ দেন নি, যাদের সংখ্যা তিনশত কিংবা ততোধিক হবে; এমন কি তাদের নাম, তাদের বাপের নাম ও গোত্রের নামসহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।’’ (ইমাম আবু দাউদঃ আস-সুনানঃ ৪/৪৪৩ হাদিসঃ ৪২৪৩, খতিব তিবরিযীঃ মিশকাতঃ ৫/৪৬৩ হাদিসঃ ৫৩৯৩) তাই প্রমাণিত হল পৃথিবীতে কিয়ামত পর্যন্ত যত ফিতনাকারী আসবে সে সম্পর্কে নবীজীর জ্ঞান রয়েছে।}
কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনার সংবাদ
____________________
কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনার সংবাদঃ-
❏ইমাম মুসলিম (رحمة الله)সহ আরও অনেকে সংকলন করেন-
عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ: قَامَ فِينَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقَامًا، مَا تَرَكَ شَيْئًا يَكُونُ فِي مَقَامِهِ ذَلِكَ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ
-“হযরত হুজায়ফা (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের মাঝে (খুতবা দেয়ার উদ্দেশ্যে) দাঁড়ালেন। সে বয়ানে তখন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে সব কিছুই বলেছেন কোন কিছুই বাদ দেননি।” ২৮০
{২৮০. সহীহ্ বুখারী; সহীহ্ মুসলিম, হা/২৮৯১; মুসনাদে বায্যার, হা/২৮৬২; সুনানে আবু দাউদ; মুস্তাদরাকে হাকেম, ৪/৫৩৩ পৃ: হা/৮৪৫৬; তিরমিযি শরীফ; মুসনাদে আহমদ, ৩৮/৩০৭ পৃ. হা/২৩২৭৪ এবং ৩৮/৩৩৮ পৃ. ২৩৩০৯; মিশকাত শরীফ, (ভারতীয়) ৪৬১ পৃ:; মিরকাত শরহে মেসকাত, ১১তম খণ্ড, ৩ পৃ:; মু‘জামে ইবনু আসাকির, হা/৪৮}
আক্বিদা
এ হাদিস থেকে বুঝা গেল কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে সব কিছু আল্লাহর প্রিয় হাবিব জানেন, আর তিনি জানেন বলেই এ সংবাদ পরিবেশন করেছেন। ২৮১
{২৮১. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
ওযূর পানি সাহাবায়ে কিরামগণ (رضي الله عنه)-এর শরীরে মালিশ করা
____________________
সায়্যিদুনা আবূ হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর আক্বিদা
ওযূর পানি সাহাবায়ে কিরামগণ (رضي الله عنه)-এর শরীরে মালিশ করাঃ-
সায়্যিদুনা আবূ হুযায়ফা (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন মক্কা মুর্কারমায় নবী করীম (ﷺ)’র খিদমতে আমি উপস্থিত হলাম। রাসূল আবতাই নামক একটি স্থানে লাল চামড়ার একটি তাঁবুতে তাশরীফ নিলেন।
فَخَرَجَ بِلَالٌ بِوَضُوئِهِ، فَمِنْ نَائِلٍ وَنَاضِحٍ
অতঃপর রাসূল (ﷺ) এর ওযূর ব্যবহৃত পানি নিয়ে হযরত বিলাল (رضي الله عنه) বের হলে সাহাবায়ে কিরামগণ (رضي الله عنه) পানিগুলো নিয়ে কারো শরিরে মালিশ করলেন, আবার কারো গায়ে ছিটিয়ে দিলেন। ২৮২
{২৮২. সহীহ মুসলিম শরীফ, ১ম খন্ড, পৃ. ১৯৫, নামাযের সুতরা অধ্যায়, ইমাম বায়হাকী, আস-সুনানুল কোবরা, ৩/২২৩ পৃ. হা/৫৪৯৭, মুসনাদে আবি ই‘য়ালা, ২/১৮৮ পৃ. হা/৮৮৭, সহীহ ইবনে হিব্বান, ৬/১৫৩ পৃ. হা/২৩৯৪, ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ৫/২৯৪ পৃ. হা/৩৩৭৭}
আক্বিদা
রাসূল (ﷺ)’র প্রতি সাহাবায়ে কিরামগণের (رضي الله عنه) এতো বেশি ভালোবাসা এবং আক্বিদা ছিল যে, তাঁরা ওযূ মুবারকের অবশিষ্ট পানি কোন কোন সাহাবী (رضي الله عنه) নিজেদের শরীরে মালিশ করেছেন, আবার অপর কোন সাহাবী (رضي الله عنه) নিজের গায়ে ছিটিয়ে দিয়েছেন। অথচ সাহাবায়ে কিরামগণকে (رضي الله عنه) এমনটি করার জন্য রাসূল (ﷺ) আদেশ করেন নি।
এ থেকে বুঝা গেল প্রিয় নবী (ﷺ)’র উপর যাদের মহাব্বত আছে, তারা কোথায় লেখা আছে, কোথায় বলেছেন এসব প্রশ্ন এবং আপত্তি করেন না। তবে হ্যাঁ, যারা এই মূল্যবান সম্পদ থেকে বঞ্চিত তারাই এসব প্রশ্ন করেন এবং করবে।
অতুলনীয় হাত
____________________
অতুলনীয় হাতঃ-
সায়্যিদুনা হুযায়ফা (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (ﷺ) নামায সমাপ্ত করে তাশরিফ নিয়ে যাচ্ছেন সাহাবায়ে কিরাম তাঁর (ﷺ)’র হাত মুবারক নিজেদের মুখের উপর মালিশ করতে লাগলেন।
فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ فَوَضَعْتُهَا عَلَى وَجْهِي فَإِذَا هِيَ أَبْرَدُ مِنَ الثَّلْجِ وَأَطْيَبُ رَائِحَةً مِنَ المِسْكِ
-‘অতঃপর আমিও তাঁর হাত মুবারক আমার মুখে মালিশ করলাম। তাঁর হাত মুবারাক বরফ থেকেও অধিক ঠান্ডা এবং কস্তুরি থেকে অধিক সুগন্ধীযুক্ত ছিল।’ ২৮৩
{২৮৩. সহীহ বুখারী শরীফ, ৪/১৮৮ পৃ. হা/৩৫৫৩, পরিচ্ছেদ:, ইমাম ইবনে খুজায়মা, আস-সহীহ, ৩/৬৭ পৃ. হা/১৬৩৮, ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ৭/৭১ পৃ. হা/৫০৩৭, ইমাম মুনযিরী, তারগীব ওয়াত তারহীব, ৪/২৬ পৃ. হা/৫৪৭৩}
আক্বিদা
সরকারে দু’আলম (ﷺ) অতুলনীয়। রাসূল (ﷺ)’র হাত-পা মুবারককে যারা নিজেদের হাত পায়ের সাথে তুলনা করে তাদেরকে বর্জন করা দরকার।
❏আ‘লা হযরত (رحمة الله) বলেন-
بهينى بهينى مہك پر مہكتى درود
پيارى نفاست پہ لاكهوں سلام
-‘তাঁর সুগন্ধির উপর সুগন্ধিময় দরূদ,
তাঁর প্রিয় নিঃশ্বাসের উপর লাখো দরূদ।’
থুথু মুবারক
____________________
সায়্যিদুনা সাহল বিন সাদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর আক্বিদা
থুথু মুবারকঃ-
সায়্যিদুনা সাহল বিন সা’দ (رضي الله عنه) বলেন, খায়বার বিজয়ের দিন হযরত আলী (رضي الله عنه)’র চোখ অসুস্থ ছিল রাসূল (ﷺ) তাকে তালাশ করলেন।
فَأُتِيَ بِهِ فَبَصَقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي عَيْنَيْهِ وَدَعَا لَهُ، فَبَرَأَ حَتَّى كَأَنْ لَمْ يَكُنْ بِهِ وَجَعٌ
-‘‘রাসূল (ﷺ) তার নিকট এলেন এবং তাঁর থুথু মুবারক হযরত আলী (رضي الله عنه)’র চোখে দিলেন। তাঁর জন্য দু‘আ করলেন, তিনি এমন আরোগ্য লাভ করলেন যে, আর কোন দিন চোখ অসুস্থ হয়নি।’’ ২৮৪
{২৮৪. সহীহ বুখারী শরীফ, ৫/১৩৪ পৃ. হা/৪২১০, ইমাম খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৭১৯ পৃ. হা/৬০৮৯, পরিচ্ছেদ;, بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب, ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, ৪/১৮৭২ পৃ. হা/২৪০৬, }
আক্বিদা
নবী কারিম (ﷺ) নিজের থুথু মুবারককে শেফা জানতেন, এ জন্য তিনি হযরত আলী (رضي الله عنه)’র চোখে দিয়েছেন। আর সাহাবায়ে কিরামগণও (رضي الله عنه) থুথু মুবারাককে আরোগ্য জানতেন, এ জন্যই হযরত বলেছেন যে, তাঁর এমন আরোগ্য লাভ করেছে যে, কোন দিনই তাঁর চোখ অসুস্থ হয়নি।
নামায অবস্থায় সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه)’র মনে রাসূল (ﷺ)’র তা’যিম খেয়াল আসা
____________________
নামায অবস্থায় সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه)’র মনে রাসূল (ﷺ)’র তা’যিম খেয়াল আসাঃ-
হযরত সাহাল বিন সা’দ (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, রাসূলে পাক (ﷺ) বনূ ‘আমর বিন আউফের সাথে সন্ধি করার জন্য তাশরিফ নিলেন। নামাযের সময় হলে মুয়ায্যিন হযরত আবূ বকর (رضي الله عنه)’র কাছে এসে বললেন,
أَتُصَلِّي بِالنَّاسِ فَأُقِيمُ؟
-‘‘আপনি লোকদের নিয়ে নামায পড়ালে আমি ইকামত বলব।’’
হযরত সাহাল বিন সা‘দ (رضي الله عنه) বলেন, হযরত আবূ বাকর (رضي الله عنه) বললেন- হ্যাঁ, ঠিক আছে। এরপর তিনি জামাত শুরু করলেন।
فَجَاءَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسُ فِي الصَّلَاةِ فَتَخَلَّصَ حَتَّى وَقَفَ فِي الصَّفِّ
‘এরই মধ্যে রাসূলে পাক (ﷺ) তাশরীফ এনে প্রথম কাতারে গিয়ে দাঁড়ালেন।’ হযরত আবূ বকর (رضي الله عنه) যেহেতু নিমগ্ন হয়ে নামায পড়ছিলেন, এ জন্য তিনি বলতে পারেন না যে, নবী কারীম (ﷺ) তাশরীফ এনেছেন। আর তিনি তাঁর মতো করেই নামায পড়িয়ে যাচ্ছেন।
فَصَفَّقَ النَّاسُ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ لَا يَلْتَفِتُ فِي الصَّلَاةِ
সাহাবায়ে কেরাম যখন দেখলেন যে, রাসূল (ﷺ) এর আগমনের প্রতি আবু বকর (رضي الله عنه) এর মনোযোগ নেই, তখন সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) হাতের উপর হাত মেরে আওয়াজ তুললেন।
فَلَمَّا أَكْثَرَ النَّاسُ التَّصْفِيقَ الْتَفَتَ فَرَأَى رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
‘হাতের শব্দ ক্রমেই বেড়ে গেল হযরত আবু বকর (رضي الله عنه) পেছনে ফিরে দেখেন রাসূল কারীম (ﷺ) নামাযে তাশরীফ এনেছেন।’
فَأَشَارَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنِ امْكُثْ مَكَانَكَ
‘রাসূল (ﷺ) তাঁকে নামায চালিয়ে নিতে ইশারা করলেন।’
فَرَفَعَ أَبُو بَكْرٍ يَدَيْهِ فَحَمِدَ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى مَا أَمَرَهُ بِهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ ذَلِكَ
‘এরপর হযরত আবূ বকর (رضي الله عنه) তাঁর দুই হাত তুলে রাসূল (ﷺ) এর এই হুকুমের উপর আল্লাহর প্রশংসা করলেন।’
ثُمَّ اسْتَأْخَرَ أَبُو بَكْرٍ حَتَّى اسْتَوَى فِي الصَّفِّ، وَتَقَدَّمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَلَّى
-‘হযরত আবু বকর (رضي الله عنه) ইমামতি থেকে পেছনে চলে আসলেন আর রাসূলে কারিম (ﷺ) ইমামের স্থানে গিয়ে বাকি নামায সমাপ্ত করলেন।’
ثُمَّ انْصَرَفَ فَقَالَ: يَا أَبَا بَكْرٍ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَثْبُتَ إِذْ أَمَرْتُكَ
-‘সালাম ফিরানোর পর রাসূলে পাক (ﷺ) বললেন, আবু বকর (رضي الله عنه)! আমি আদেশ করার পরেও কোন বিষয়টি জামা‘আত চালিয়ে নিতে বাঁধা দিয়েছে?’
مَا كَانَ لِابْنِ أَبِي قُحَافَةَ أَنْ يُصَلِّيَ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
-‘হযরত আবূ বকর (رضي الله عنه) বললেন, ইবনে কোহাফা (আবু বকর (رضي الله عنه)) এর পক্ষে সম্ভব নয় যে, রাসূল (ﷺ) এর সামনে ইমামতি করবেন।’
فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا لِي رَأَيْتُكُمْ أَكْثَرْتُمُ التَّصْفِيقَ؟
এরপর রাসূল (ﷺ) সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) কে বললেন, তোমরা হাতের উপর হাত কেন মেরেছো?
مَنْ نَابَهُ شَيْءٌ فِي صَلَاتِهِ فَلْيُسَبِّحْ فَإِنَّهُ إِذَا سَبَّحَ الْتُفِتَ إِلَيْهِ وَإِنَّمَا التَّصْفِيحُ لِلنِّسَاءِ
-‘নামাযে যদি কোন কিছু সংঘঠিত হয়, তবে সুবহানাল্লাহ বলবে। সুবহানাল্লাহ বললে, ইমাম পেছনে ফিরবেন। তবে হ্যাঁ, মহিলারা হাতের উপর হাত মারবে।’ ২৮৫
{২৮৫. সহীহ মুসলিম, ১/৩১৬ পৃ. হা/৪২১, পরিচ্ছেদ: بَابُ تَقْدِيمِ الْجَمَاعَةِ مَنْ يُصَلِّي بِهِمْ إِذَا تَأَخَّرَ الْإِمَامُ وَلَمْ يَخَافُوا مَفْسَدَةً بِالتَّقْدِيمِ, ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান, ১/২৪৭ পৃ. হা/৯৪০, ইমাম খুজায়মা, আস-সহীহ, ৩/৫৮ পৃ. হা/১৬২৩}
আক্বিদা
সরকারে সায়্যিদুনা আবূ বকর সিদ্দিক (رضي الله عنه) এর ফযিলত সূর্যের মতো স্পষ্ট, অনুরূপভাবে সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) এর আক্বিদাও স্পষ্ট যে, তারা নামাযের মধ্যেও রাসূল (ﷺ) এর খেয়াল রাখতেন। জামা‘আতে নামায পড়া অবস্থায় একাধিকবার হাতের উপর হাত মারা শুধুমাত্র রাসূল (ﷺ) এর সম্মানের জন্যই। নামাযে নবীর (ﷺ) খেয়াল আসা শিরক, গরু গাধা এবং ব্যভিচার করার খেয়াল থেকেও মারাত্মক বলে ফতোয়া দেয়া, বেআদবি এবং কুফরি।
রাসূল (ﷺ) এর ইশারা হযরত সিদ্দিক আকবর (رضي الله عنه) নামায অবস্থায় দেখেছেন। আর ইশারা দেখেছেন পেছনে ফিরে। নামাযও পূর্ণ করেছেন। সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه)ও নামায অবস্থায় হাতের উপর হাত মারেন। সায়্যিদুনা সিদ্দিক আকবার (رضي الله عنه) মুসল্লা থেকে পেছনে চলে এসেছেন শুধুমাত্র রাসূল (ﷺ) এর তা’যিমের জন্য।
❏কবি বলেন-
شرك ٹهہر ےجس ميں تعظيم رسول
اس برے مذہب پہ لعنت كيبئ
-‘যে মাযহাবে রাসূলের তা‘যিমকে শিরক সাব্যস্ত করে,
ঐ মন্দ (এ রকম অভিসপ্ত) মাযহাবের উপর লা‘নত বর্ষিত হোক।’
রাসূল (ﷺ) শ্লেষ্মা মুবারক সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه)-এর মুখে ও শরীরে মালিশ করাঃ-
____________________
সায়্যিদুনা ‘ওরওয়াহ বিন মাস‘উদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর আক্বিদা
রাসূল (ﷺ) শ্লেষ্মা মুবারক সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه)-এর মুখে ও শরীরে মালিশ করাঃ-
হযরত ওরওয়া (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, হুদায়বিয়ার সন্ধির স্থলে রাসূল (ﷺ)-এর সাহাবাদের চিন্তিত দেখা গেল।
قَالَ: فَوَاللَّهِ مَا تَنَخَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نُخَامَةً إِلَّا وَقَعَتْ فِي كَفِّ رَجُلٍ مِنْهُمْ، فَدَلَكَ بِهَا وَجْهَهُ وَجِلْدَهُ، وَإِذَا أَمَرَهُمْ ابْتَدَرُوا أَمْرَهُ، وَإِذَا تَوَضَّأَ كَادُوا يَقْتَتِلُونَ عَلَى وَضُوئِهِ
-‘তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ, রাসূল (ﷺ) যখন থুথু বা শ্লেষ্মা মোবারক নিক্ষেপ করতেন তখন কোন না কোন সাহাবী তা নিয়ে নিজেদের চেহারা বা শরীরে মালিশ করতেন। রাসূল (ﷺ) যখন কোন আদেশ করতেন তা পালন করার জন্য সাহাবায়ে কিরাম প্রতিযোগিতা করতেন এবং রাসূল (ﷺ) যখন ওযূ মুবারক করতেন, ওযূ মুবারকের অবশিষ্ট পানি নেয়ার জন্য সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) এমনভাবে তাড়াহুড়া করতেন, মনে হত একজন তারা পরস্পরে লড়াই করবেন।’ ২৮৬
{২৮৬. সহীহ বুখারী শরীফ, ৩/১৯৩ পৃ. হা/২৭৩১, পরিচ্ছেদ: بَابُ الشُّرُوطِ فِي الجِهَادِ وَالمُصَالَحَةِ مَعَ أَهْلِ الحَرْبِ وَكِتَابَةِ الشُّرُوطِ , ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, ৩১/২৪৭ পৃ. হা/১৮৯২৮, সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৪৮৭২)
আক্বিদা
সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه)-এর মুহব্বাত এবং আক্বিদা সূর্য থেকেও অধিক পরিস্কার। তারা রাসূলে আকরাম (ﷺ)-এর শ্লেষ্মা মুবারককেও নিজেদের হাতে নিতেন, চেহারা এবং শরীরে মালিশ করতেন। সাধারণত শ্লেষ্মা মাকরূহ; কিন্তু সরওয়ারে কায়েনাত (ﷺ) অতুলনীয়। এ জন্য রাসূল (ﷺ)-এর শ্লেষ্মা মুবারকও সাধারণ মানুষ থেকে ভিন্ন।
এই শ্লেষ্মা মুবারকরে দুর্গন্ধ ছিল না। তা ছিল বরফ থেকেও অধিক ঠান্ডা, মধু থেকেও অধিক সুগন্ধময়। এখান থেকে এটাও বুঝা গেল যে, সাহাবায়ে কেরাম (رضي الله عنه) প্রিয় নবী (ﷺ) কে সাধারণ মানুষের মত মনে করতেন না বরং অতুলনীয় মনে করতেন।
❏আ’লা হযরত আজীমুল বরকত, ইমামে আহলে সুন্নত মুজাদ্দিদে দ্বীন ও মিল্লাত ইমাম শাহ আহমদ রেযা খাঁন বেরলভী (رحمة الله) কতই না সুন্দর বলেন:
تر ے خلق كو حق نے عظيم كہا ترى خلق كو حق نے جميل كہا
كوئى بتہ سا ہوا نہ ہوگا شہا تير خالق حسن وادا كى قسم
ترا مسند ناز ہے عرش بريں ترا محرم راز ہے روح الا ميں
تو ہى سرور ہر دوجہا ں شہا تيرا مثل نہيں ہے خدا كى قسم
-‘আল্লাহ পাক আপনার চরিত্রকে মহান বলেছেন আর আপনার আকৃতিকে করেছেন সুন্দর।
কিছুই আপনার সমতুল্য হতে পারিনি, এও পারবে না আপনার প্রভুর উত্তম ভাবে কার্য সম্পাদনের পথ।
আপনার গৌরবময় সিংহাসন আরশ থেকেও শ্রেয়, আপনার রাজকিয় হারমের মেহমান হলো সায়্যিদুনা জিব্রাইল (عليه السلام)।
আপনি উভয় জাহানের সরদার, আপনার কোন ধরনের উপমা নেই আল্লাহ কসম করে বলছি।’’
নামাযে রাসূল (ﷺ)-এর চেহারা মুবারকের দিকে তাকিয়ে থাকা
____________________
সায়্যিদুনা হযরত সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর আক্বিদা
নামাযে রাসূল (ﷺ)-এর চেহারা মুবারকের দিকে তাকিয়ে থাকাঃ-
❏সায়্যিদুনা সা’দ (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত,
كُنْتُ أَرَى رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ، وَعَنْ يَسَارِهِ، حَتَّى أَرَى بَيَاضَ خَدِّهِ
-‘রাসূল (ﷺ) ডানে বামে সালাম ফিরানোর সময় আমি দেখেছি এই পর্যন্ত যে তাঁর চেহারা মুবারকের শুভ্রতা দেখেছি।’ ২৮৭
{২৮৭. সহীহ মুসলিম শরীফ, ১/৪০৯ পৃ. হা/৫৮২, পরিচ্ছেদ: بَابُ السَّلَامِ لِلتَّحْلِيلِ مِنَ الصَّلَاةِ عِنْدَ فَرَاغِهَا وَكَيْفِيَّتِهِ, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ১/২৯৮ পৃ. হা/৯৪৩, পরিচ্ছেদ: بَاب الدُّعَاء فِي التَّشَهُّد}
আক্বিদা
সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) নামায পড়ার সময় রাসূল (ﷺ)-এর চেহারা মুবারকের দিকে দেখে তাকাতেন। এ জন্যই হযরত সা’দ (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, তাঁর (ﷺ)-এর চেহারা মুবারকের শুভ্রতা আমি দেখেছি। নামাযের মধ্যে মুসল্লির দৃষ্টি দাঁড়ানো অবস্থায় সিজদার দিকে, রুকুতে পায়ের দিকে, বসার সময় কোলের দিকে থাকে। কিন্তু সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) রাসূল (ﷺ)-এর পেছনে নামায পড়তেন, তখন তাঁদের দৃষ্টি রাসূল (ﷺ)-এর দিকে থাকত।
❏কবি বলেন:
انهيں كود مكيہتے رہنا نماز ہے ميرى
“তাঁর (নবিজির) দিকে দেখেটাই আমার নামায।’’
কেননা তাঁদের মতে নামাযের আদব আপন অবস্থায় রয়েছে, কিন্তু মাহবুবে খোদা (ﷺ)-এর চেহারা মুবারক দেখা এমন ইবাদত যা অন্য কোন ইবাদাতের সমমর্যাদায় হয় না।
নুরানি বগল মুবারক
____________________
সায়্যিদুনা ‘আব্দুল্লাহ বিন মালিক বিন বুহাইনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর আক্বিদা
নুরানি বগল মুবারকঃ-
❏সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন মালিক বিন বুহাইনা (رضي الله عنه) বলেন-
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا صَلَّى فَرَّجَ بَيْنَ يَدَيْهِ حَتَّى يَبْدُوَ بَيَاضُ إِبْطَيْهِ
রাসূল (ﷺ) যে কোন সময় পড়তেন, তখন তাঁর হাত মুবারক এমনভাবে প্রশস্ত করতেন যে, তাঁর মুবারক বগলের শুভ্রতা দৃষ্টিগোচর হত। ২৮৮
{২৮৮. সহীহ মুসলিম শরীফ, ১/৩৫৬ পৃ. হা/৪৯৫, ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ১/৮৭ হা/৩৯০ এবং ১/১৬১ পৃ. হা/৮০৭, ইমাম ইবনে খুজাইমা, আস-সহীহ, ১/৩২৬ পৃ., হা/৬৪৮}
আক্বিদা
বগল শুভ্র হয় না, কালো হয়; কিন্তু হুযূর পুর নূর (ﷺ)-এর বগল মুবারক কালো ছিল না বরং সাদা ছিল এ জন্যই শুভ্রতা পরিলক্ষিত হয়।
দূর থেকে সফর করে রওজা যিয়ারত
____________________
ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন বেলাল (رضي الله عنه)-এর আক্বিদা
দূর থেকে সফর করে রওজা যিয়ারতঃ-
ইমাম ইবনে আসাকির (رحمة الله) বিশুদ্ধ ‘হাসান’ সনদে হযরত আবু দারদা (رضي الله عنه) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, হযরত বেলাল (رضي الله عنه) শামে অবস্থান কালে-
ثُمَّ إِنَّ بِلاَلاً رَأَى النَّبِيَّ -صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- فِي مَنَامِهِ وَهُوَ يَقُوْلُ: مَا هَذِهِ الجَفْوَةُ يَا بِلاَلُ؟ أَمَا آنَ لَكَ أَنْ تَزُوْرَنِي؟
‘এক রাতে তিনি দেখলেন যে, রাসুল (ﷺ) তার উদ্দেশ্যে বলেন, বেলাল! তোমার এ নির্দয় আচরনের কারণ কী! আজও কী আমার জিয়ারতের সময় হয়নি?’ এরপর তিনি বিষন্ন মনে ও ভিতসন্ত্রস্ত্র অবস্থায় জেগে উঠলেন। তারপর তিনি বাহনে চড়ে মদিনার উদ্দেশ্যে সফরে রওয়ানা হলেন। রওজা শরীফে পৌঁছে তিনি রওজার পাশে কাঁদতে লাগলেন এবং তাঁর চেহাড়া রওজা শরীফের সাথে মললেন।’ ২৮৯
{২৮৯. আল্লামা ইবনে আসাকীর : তারীখে দামেস্ক : ৭/১৩৭পৃ., যাহাবী, তারীখুল ইসলাম : ৪/২৭৩পৃ, ইবনে হাজার আসকালানী : লিসানূল মিযান : ১/৪৫পৃ, ইমাম যাহাবী : সিয়ারু আ‘লামিন আন্-নুবালা : ১/৩৫৮পৃ, ক্রমিক. ৭৬, মুয়াস্সাতুর রিসালা, বয়রুত, লেবানন, মুফতি আমিমুল ইহসান : ফিকহুস সুনানি ওয়াল আছার : ১/৪১৪পৃ. হাদিস : ১১৭১, ইমাম তকি উদ্দিন সুবকী, শিফাউস সিকাম : ৩৯পৃ. ইবনে হাজর মক্কী, যাওয়াহিরুল মুনাজ্জাম : পৃ-২৭, শাওকানী, নায়লুল আওতার : ৫/১৮০পৃ. ইমাম জাযরী আশ্-শায়বানী: সাদ্দাল গাবাত ফি মা‘রিফাতুল সাহাবা : ১/৪১৫পৃ. দারূল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন, ইমাম ইফরিকী, মুখতাসিরে তারিখে দামেস্ক : ৪/১১৮পৃ. উক্ত হাদিস সর্ম্পকে মুফতি আমিমুল ইহসান (رحمة الله) বলেন, ‘‘ইবনে আসাকির গ্রহণযোগ্য সনদে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।’’ ইমাম সুবকী (رحمة الله) এবং আল্লামা ইবনে হাজার মাক্কী (رحمة الله) তাদের গ্রন্থে হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন।}
এই হাদিস সম্পর্কে ইমাম যাহাবী (رحمة الله) বলেন, إسناده جيّد ما فيه ضعيف -“ইহার সনদ অতি-উত্তম, যার মধ্যে দুর্বলতা নেই।” ২৯০
{২৯০. ইমাম যাহাবী: তারিখুল ইসলাম, ৫/৭৭৩ পৃ. রাবী ক্রমিক. ৩৭ এর আলোচনায়।}
❏এ সম্পর্কে আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে ইউছুফ সালেহী শামী (رحمة الله) {ওফাত ৯৪২ হিজরী} বলেন-
وروى ابن عساكر بسند جيد عن بلال
-“ইবনে আসাকির (رحمة الله) অতি-উত্তম সনদে হজরত বেলাল (رضي الله عنه) থেকে বর্ণনা করেন।” ২৯১
{২৯১. ইমাম ইবনে সালেহী: সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, ১২/৩৫৯ পৃ:}
❏লা-মাজহাবীদের কথিত ইমাম মাওলানা কাজী শাওকানী বলেন,
عِنْدَ ابْنِ عَسَاكِرَ بِسَنَدٍ جَيِّدٍ
-“ইহা ইবনে আসাকির (رحمة الله) এর নিকট جَيِّدٍ অতি-উত্তম সনদে রয়েছে।” ২৯২
{২৯২. কাজী শাওকানী, নাইলুল আওতার, ৫/১১৪ পৃ:}
আক্বিদা
এ হাদিস থেকে বুঝা যায় যে রাসূল (ﷺ) ওফাতের পরেও তাঁর প্রিয় সাথীগণের সকল অবস্থা সম্পর্কে অবগত, তাই হযরত বেলাল (رضي الله عنه) এ অবস্থা বুঝতে পেরে বহু দূরে থেকে সফর করে রাসূল (ﷺ)‘র রওজা যিয়ারত করতে চলে আসেন এবং রওজার নিকটে কাঁদতেন থাকেন। এ হাদিস থেকে সফরের উদ্দেশ্যে মাজার যিয়ারতের বৈধতার প্রমাণ পাওয়া গেল। ২৯৩
{২৯৩. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
সরাসরি কবরের আওয়াজের শব্দ শুনা
____________________
সরাসরি কবরের আওয়াজের শব্দ শুনাঃ-
❏হযরত আনাস (رضي الله عنه) বলেন, একবার হুযূর (ﷺ) হযরত বেলাল (رضي الله عنه) কে বললেন-
يَا بِلَالُ هَلْ تَسْمَعُ مَا أَسْمَعُ؟ قَالَ: لَا وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَسْمَعُهُ، قَالَ: أَلَا تَسْمَعُ أَهْلَ الْقُبُورِ يُعَذَّبُونَ
-‘‘হে বেলাল! তুমি কি শুনতে পাচ্ছ যা আমি শুনতে পাচ্ছি? তিনি বললেন, না। ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর শপথ করে বলছি আমি কিছুই শুনতে পাচ্ছি না। হুযূর (ﷺ) ইরশাদ করলেন, তুমি শুনতে পাচ্ছ না এই কবরবাসীদের (ইয়াহুদীদের) কে আযাব দেয়া হচ্ছে।’’ ২৯৪
{২৯৪. ইমাম হাকেম, আল-মুস্তাদরাক, ১/৯৮ পৃ. হা/১১৮, তিনি বলেন- هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ -‘‘এ হাদিসটি সহীহ বুখারী মুসলিমের শর্তানুসারে সহীহ।’’ ইমাম যাহাবীও তার সাথে একমত পোষণ করেছেন।}
আক্বিদা
এ হাদিস থেকে জানা গেল যে সাহাবায়ে কিরামগণের নিকট যেটি গায়ব ছিল কিন্তু রাসূল (ﷺ)‘র কাছে তা নয়। হযরত বেলাল (رضي الله عنه) কসম করে বলেছেন তিনি কিছুই শুনেননি; বুঝা গেল মাটির ভিতরে কবরের অবস্থা পঞ্চ ইন্দ্রের বাহিরে তাই এটি সুস্পষ্ট গায়ব। আর এটাই সাহাবায়ে কিরামদের আক্বিদা ছিল রাসূল (ﷺ) গায়বের খবর দাতা। ২৯৫
{২৯৫. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
দরূদ পাঠকারীর আওয়াজ সরাসরি শুনা
____________________
হযরত আবু দারদা (رضي الله عنه)-এর আক্বিদা
দরূদ পাঠকারীর আওয়াজ সরাসরি শুনাঃ-
❏হযরত আবু দারদা (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুযূর (ﷺ) ইরশাদ করেন-
لَيْسَ مِنْ عَبْدٍ يُصَلِّي عَليّ إِلَّا بَلَغَنِيْ صَوْتُه حَيْثُ كَانَ قُلْنَا وَبَعْدَ وَفَاتِكَ قَالَ وَبَعْدَ وَفَاتِي إِنَّ اَللهَ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ
-‘‘এমন ব্যক্তি নেই, যে আমার প্রতি দরূদ পাঠ করে যার আওয়াজ আমার কাছে পৌঁছে না (অর্থাৎ আমি তার আওয়াজ সরাসরি শুনি) সে যেখানে থাকুন না কেন। সাহাবীগণ আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার ওফাতের পরও (শুনবেন)? তিনি বললেন, আমার ওফাতের পরও। কেননা আল্লাহ তা‘আলা নবীদের শরীর খাওয়া যমীনের প্রতি হারাম করে দিয়েছেন।’’ ২৯৬
{২৯৬. আল্লামা ইবনুল কাইয়্যুম জাওযিয়্যাহ, জালাউল আফহাম, ১৮১ পৃ. হা/১৪৪, দারু ইবনে জাওযী, বয়রুত, লেবানন।}
আক্বিদা
এ হাদিস থেকে বুঝা গেল রাসূল (ﷺ)‘র সরাসরি তাঁর রওজা মুবারক হতে আমাদের সবার দরূদের আওয়াজ শুনেন, আর এটাই সাহাবায়ে কিরামের আক্বিদা। ২৯৭
{২৯৭. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
সমস্ত নবীরা তাদের নিজ নিজ মাজারে জীবিত এবং রিযিক প্রাপ্ত হন
____________________
সমস্ত নবীরা তাদের নিজ নিজ মাজারে জীবিত এবং রিযিক প্রাপ্ত হনঃ-
❏হযরত আবু দারদা (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুযূর (ﷺ) একজনের প্রশ্নের জবাবে ইরশাদ করেন-
إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ، فَنَبِيُّ اللَّهِ حَيٌّ يُرْزَقُ
-‘‘নিশ্চয় মহান রব তা‘আলা নবীদের শরীরকে যমীনের জন্য খাওয়া হারাম করে দিয়েছেন। ফলে নবীরা তাদের মাজারে জীবিত এবং সেখানে তাদের রিযিক দেয়া হয়।’’ ২৯৮
{২৯৮. ইমাম ইবনে মাযাহ, আস-সুনান, ১/৫২৪ পৃ. হা/১৬৩৭, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ১/৪৩১ পৃ. হা/১৩৬৬, আহলে হাদিস আলবানীও একে সহীহ বলেছেন।}
আক্বিদা
এ হাদিস থেকে সুস্পষ্ট বুঝা গেল যে, শুধু আমাদের নবীই নন বরং সমস্ত নবীরাই তাদের মাজারে জীবিত এবং সেখানে তাদের রিজিক দেয়া হয়। আর এ বিষয়ে সকলে একমত যে দেহ এবং রুহ একসাথে না হলে রিজিক গ্রহণ করার কথা বলে হাস্যকরের ন্যায় হত। ২৯৯
{২৯৯. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট মাজার যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর
____________________
উম্মুহাতুল মু‘মিনিন এবং মহিলা সাহাবিগণের আক্বিদা
জান্নাতের মহিলাদের সর্দারিণী ফাতেমা বিনতে রাসূলিল্লাহ (ﷺ)
নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট মাজার যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফরঃ-
❏ইমাম হাকিম নিশাপুরী ও বায়হাকী (رحمة الله) সংকলন করেন-
عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَتْ تَزُورُ قَبْرَ عَمِّهَا حَمْزَةَ كُلَّ جُمُعَةٍ فَتُصَلِّي وَتَبْكِي عِنْدَهُ
-“হযরত আলী ইবনে হুসাইন (যিনি ইমাম যয়নুল আবেদীন নামে পরিচিতি) তিনি তাঁর পিতা হযরত হুসাইন ইবনে আলী (رضي الله عنه) এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, নিশ্চয় প্রত্যেক জুম‘আর দিনে ফাতেমা বিনতে রাসূলিল্লাহ (ﷺ) নবীর চাচা আমীর হামজা (رضي الله عنه) এর মাজার যিয়ারত করতেন। তাঁর জন্য সালাত (দু‘আ) করতেন এবং তাঁর কাছে কান্নাকাটি করতেন।” ৩০০
{৩০০. ইমাম হাকিম, আল-মুস্তাদরাকে, ১/৫৩৩ পৃ. হা/১৩৯৬; ইমাম বায়হাক্বী: সুনানুল কোবরা, ৪/১৩১ পৃ. হা/৭২০৮, ইবনে হাজার আসকালানী, তালখিসুল হবীর, ২/৩১৪ পৃ.}
আক্বিদা:
এ হাদিস থেকে বুঝা গেল নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট মাজার যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা জান্নাতের সমস্ত মহিলাদের প্রধান মা ফাতেমা (رضي الله عنه)‘র সুন্নাত। তাই বলতে হয়, আজ যারা মাযার জিয়ারত এবং তা জিয়ারতের উদ্দেশ্যেকে সফর করাকে হারাম শিরক বলছেন তারা কোন কাতারের মুসলমান? ৩০১
{৩০১. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
আল্লাহর নামে যবেহ করার সময় যার সাওয়াব করা উদ্দেশ্য তার নাম নেয়ার বৈধতা
____________________
উম্মুল মু’মিনীন সায়্যিদাতুনা আয়িশা (رضي الله عنه)-এর আক্বিদা
আল্লাহর নামে যবেহ করার সময় যার সাওয়াব করা উদ্দেশ্য তার নাম নেয়ার বৈধতাঃ-
উম্মুল মু’মিনিন সায়্যিদাতুনা আয়িশা (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) একটি শিং ওয়ালা ভেড়ার আদেশ দিয়েছেন, যার হাত (সামনের দু’পা) পা এবং চোখ কালো। সুতরাং কুরবানীর জন্য এরূপ ভেড়া আনা হল। রাসূল (ﷺ) বললেন, হে আয়িশা, ছুরি নাও, এটাকে পাথরের সাথে ধার দাও। যবেহ করার সময় বললেন-
بِاسْمِ اللهِ، اللهُمَّ تَقَبَّلْ مِنْ مُحَمَّدٍ، وَآلِ مُحَمَّدٍ، وَمِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ، ثُمَّ ضَحَّى بِهِ
‘আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ, মুহাম্মাদ (ﷺ), আলে মুহাম্মাদ (ﷺ) এবং উম্মাতে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর পক্ষ হতে এটা কবুল করুন। তারপর এটা যবেহ করলেন।’ ৩০২
{৩০২.সহীহ মুসলিম শরীফ, ৩/১৫৫৭ পৃ. হা/১৯৬৭, পরিচ্ছেদ: بَابُ اسْتِحْبَابِ الضَّحِيَّةِ، وَذَبْحِهَا مُبَاشَرَةً بِلَا تَوْكِيلٍ، وَالتَّسْمِيَةِ وَالتَّكْبِيرِ, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ১/৪৫৭ পৃ. হা/১৪৫৪, ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান, ৩/৯৪ পৃ. হা/২৭৯২}
আক্বিদা
পশু যবেহের সময় যার সাওয়াব পৌঁছানো উদ্দেশ্য তার নাম নেয়া বৈধ। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত সায়্যিদুনা গাউসুল আযম (رضي الله عنه) যে গিয়ারভী শরীফ করেন, এর মধ্যে গাউসে পাক (رضي الله عنه) কে ঈসালে সাওয়াব করা হয়।
ইখতিয়ার সমূহ
____________________
ইখতিয়ার সমূহঃ-
উম্মুল মু’মিনিন সায়্যিদাতুনা আয়িশা (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, আমি রাসূলে কারীম (ﷺ) কে বলতে শুনেছি-
لَنْ يَمُوتَ نَبِيٌّ حَتَّى يُخَيَّرَ بَيْنَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
-‘কোন নাবী ওই পর্যন্ত ইন্তিকাল করেন না, যে পর্যন্ত না তাঁদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতের মাঝে ইখ্তিয়ার দেয়া হয় না।’ ৩০৩
{৩০৩. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮৯৩ পৃ. হা/২৪৪৪, হযরত আয়েশা (رضي الله عنه)-এর ফযিলত অধ্যায়, ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, ৪২/৪৬৯ পৃ. হা/২৫৪৩৩, বায়হাকী, আস-সুনানুল কোবরা, ৭/১১০ পৃ. হা/১৩৪১৭, নাসাঈ, আস-সুনানুল কোবরা, ৬/৩৯০ পৃ. হা/৭০৬৬, মুসনাদে আবি ই‘য়ালা, ৮/২৮ পৃ. হা/৪৫৩৪, সহীহ ইবনে হিব্বান, ১৪/৫৫৬ পৃ. হা/৬৫৯২, ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ১১/৬৭ পৃ. হা/৮৫৩১}
আক্বিদা
আম্বিয়ায়ে কিরাম (عليه السلام) কে আল্লাহু তা‘আলা মুখতার বানিয়েছেন। আমাদের নাবী (ﷺ) নাবীদের সর্দার তাঁর শান তাঁদের থেকে অনেক উঁচু মর্যাদার। সবার চেয়ে উত্তম এবং মর্যাদাবান আমাদের নাবী, সবার শীর্ষে এবং মহান আমাদের নাবী।
سب سے اولٰى و اعلٰى ہمارا نبى
سب سے بالا و والا ہمارا نبى
-‘সবার থেকে উত্তম ও সবার থেকে উঁচু আমাদের নবী,
সবার থেকে শেখরে ও উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত আমাদের নবী।’’
নবুয়তের দৃষ্টি
____________________
নবুয়তের দৃষ্টিঃ-
❏উম্মুল মু’মিনিন সায়্যিদাতুনা আয়িশা (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন,
وَهُوَ يَرَى مَا لَا أَرَى
-‘‘রাসূল (ﷺ) এমন বস্তু দেখেন যা আমি দেখি না।’’ ৩০৪
{৩০৪. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৮৯৬ পৃ. হা/২৪৪৭, পরিচ্ছেদ: بَابٌ فِي فَضْلِ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا , হযরত আয়িশা (رضي الله عنه)-এর ফযিলত।}
আক্বিদা
নুবুওয়াতের দৃষ্টিতে ওই সব বস্তু দেখেন যা অন্যদের দৃষ্টিগোচর হয় না।
উম্মাতের মৃত্যুর ইলম
____________________
উম্মাতের মৃত্যুর ইলমঃ-
উম্মুল মু’মিনীন সায়্যিদাতুনা আয়িশা (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে, রাসূল (ﷺ) তদীয় কন্যা হযরত ফাতিমা (رضي الله عنه) কে ডাকেন এবং কানে কানে কি যেন বললেন, ফাতিমা (رضي الله عنه) তখন কাঁদতে লাগলেন, পুনরায় কানে কানে কি যেন বললেন, তখন তিনি হাঁসতে লাগলেন।
হযরত আয়েশা (رضي الله عنه) বলেন, আমি হযরত ফাতিমা (رضي الله عنه) কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূল (ﷺ) আপনাকে এমন কি বলেছেন যে, আপনি প্রথমবার কাঁদলেন এবং দ্বিতীয়বার হেঁসেছেন? হযরত ফাতিমা (رضي الله عنه) বললেন,
سَارَّنِي فَأَخْبَرَنِي بِمَوْتِهِ، فَبَكَيْتُ، ثُمَّ سَارَّنِي، فَأَخْبَرَنِي أَنِّي أَوَّلُ مَنْ يَتْبَعُهُ مِنْ أَهْلِهِ فَضَحِكْتُ
-‘‘রাসূলে কারীম (ﷺ) প্রথমবার কানে কানে তাঁর ইন্তিকালের সংবাদ দিলে আমি কাঁদি। আর দ্বিতীয়বার কানে কানে যখন এ সংবাদ দিলেন যে, আহলে বায়াতের (পরিবারের) মধ্যে আমিই প্রথম তাঁর সাথে মিলিত হব। তখন আমি হাঁসতে লাগলাম।’’ ৩০৫
{৩০৫. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৯০৪ পৃ. হা/২৪৫০, হযরত ফাতিমা (رضي الله عنه)-এর ফযিলত অধ্যায়, মুসনাদে আবি ই‘য়ালা, ১২/১২২ পৃ. হা/৬৭৫৫, তাবরানী, মু‘জামুল কাবীর, ২২/৪২১ পৃ. হা/১০৩৭, ইমাম আহমদ, ফাযায়েলুস সাহাবা, ২/৭৫৪ পৃ. হা/১৩২২, বাগভী, শরহে সুন্নাহ, ১৪/১৬০ পৃ. হা/৩৯৫৯}
আক্বিদা
নবী কারীম (ﷺ) উম্মাতের ওফাত সম্পর্কে জানেন যে, তার ওফাত কখন হবে। এ জন্যই হযরত ফাতিমা (رضي الله عنه) কে বলেছেন, আহলে বায়াতের মধ্যে তুমিই আমার সাথে মিলিত হবে।
ওফাত এর ইলম
____________________
ওফাত এর ইলমঃ-
উম্মুল মু’মিনিন সায়্যিদাতুনা আয়িশা (رضي الله عنه) ইরশাদ করেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন,
أَسْرَعُكُنَّ لَحَاقًا بِي أَطْوَلُكُنَّ يَدًا
-‘তোমাদের মধ্যে অতিদ্রুত আমার সাথে মিলিত হবে ওই বিবি, তোমাদের মধ্যে যার হাত অধিক লম্বা।’’
হযরত আয়িশা (رضي الله عنه) বলেন, অতঃপর আমরা সকল বিবি পরস্পরের হাত মাপতে লাগলাম যে, কার হাত সবচেয়ে বেশি লম্বা। কিন্তু সবার চেয়ে লম্বা হাত ছিল হযরত যায়নাব (رضي الله عنه) এর। কেননা তিনি নিজ হাতে কাজকর্ম করতেন, দান খায়রাত করতেন। ৩০৬
{৩০৬. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৯০৭ পৃ. হা/২৪৫২ , হযরত যায়নাব (رضي الله عنه)-এর ফযিলত অধ্যায়, ইমাম হাকেম, আল-মুস্তাদরাক, ৪/২৬ পৃ. হা/৬৭৭৬, সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৬৬৫, ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ১১/৩২৯ পৃ. হা/৮৮৯০, মুত্তাকী হিন্দি, কানযুল উম্মাল, ৬/৩৪২ পৃ. হা/১৫৯৫২}
আক্বিদা
ইলমে গায়বের অধিকারি রাসূল (ﷺ) জানতেন যে, তার সম্মানিত বিবিগণের মধ্যে কে সর্বপ্রথম ইন্তিকাল করবেন।
গোস্তখানে রাসূলকে বর্জন করা
____________________
গোস্তখানে রাসূলকে বর্জন করাঃ-
উম্মুল মু’মিনিন সায়্যিদাতুনা হযরত আয়িশা (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, হযরত হাস্সান (رضي الله عنه) কে রাসূলে কারিম (ﷺ) এ কথা বলতে আমি শুনেছি-
إِنَّ رُوحَ الْقُدُسِ لَا يَزَالُ يُؤَيِّدُكَ، مَا نَافَحْتَ عَنِ اللهِ وَرَسُولِهِ
-‘যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে তুমি কুরাইশদের জবাব দিতে থাকবে, জিবরাঈল (عليه السلام) ততক্ষণ তোমাকে সাহায্য করতে থাকবেন।’
هَجَاهُمْ حَسَّانُ فَشَفٰى وَاشْتَفٰى
হযরত হাস্সান (رضي الله عنه) কুরাইশদেরকে হেয় করার মাধ্যমে মুসলমানদেরকে সুফা দেন, মানে মুসলমানদের অন্তরে আনন্দ আর কুরাইশদের অন্তরে যাতনা দিতে লাগলেন। ৩০৭
{৩০৭. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৯৩৫পৃ. হা/২৪৯০, হযরত হাসান (রা.)-এর ফযিলত অধ্যায়, বায়হাকী, আস-সুনানুল কোবরা, ১০/৪০৩ পৃ. হা/২১১০৬, সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৭১৪৭, তাবরানী, মু‘জামুল কাবীর, ৪/৩৮ পৃ. হা/৩৫৮২, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৩৫১ পৃ. হা/৪৭৯১}
আক্বিদা
গোস্তাখানে রাসূলদের সাথে মোকাবিলা করা এবং তাদেরকে বর্জন করার দ্বারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (ﷺ) খুশি হন। এমন লোকদের জিবরাঈল (عليه السلام)-এর সাহায্য নাসিব হয়। গোস্তাখানে রাসূলদের বর্জন করলে মুসলমানগণ খুশি হন, আর ইসলামের শত্রুরা নারাজ হয় এবং তাদের রাগ আসে।
তারকাসমূহের সংখ্যা বরাবর নেকি
____________________
তারকাসমূহের সংখ্যা বরাবর নেকিঃ-
সায়্যিদুতুনা আয়িশা (رضي الله عنه) বলেন, এক চাঁদনি রাতে রাসূলে আকরাম (ﷺ) আমার কোলে আরাম করছিলেন আমি আরয করলাম,
هَلْ يَكُونُ لِأَحَدٍ مِنَ الْحَسَنَاتِ عَدَدُ نُجُومِ السَّمَاءِ؟ قَالَ: نَعَمْ عُمَرُ . قُلْتُ: فَأَيْنَ حَسَنَاتُ أَبِي بَكْرٍ؟ قَالَ: إِنَّمَا جَمِيعُ حَسَنَاتِ عُمَرَ كَحَسَنَةٍ وَاحِدَةٍ مِنْ حَسَنَاتِ أَبِي بَكْرٍ
-‘আসমানের তারকাসমূহের সংখ্যা বরাবর কারো নেকি আছে? রাসূল (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, উমর (رضي الله عنه)-এর নেকী। পুনরায় আমি আরয করলাম, হযরত আবু বকর (رضي الله عنه)-এর নেকী কোথায়? রাসূল (ﷺ) বললেন, ওমর (رضي الله عنه)-এর সমস্ত নেকী হযরত আবূ বকর (رضي الله عنه)-এর নেকীসমূহের মধ্যে একটি নেকীর সমান।’ ৩০৮
{৩০৮. খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ৩/১৭১১ পৃ. হা/৬০৬৮, (ভারতীয় ছাপা, পৃ. ৫৬০) এ হাদিসের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমার লিখিত ‘প্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানোর স্বরূপ উন্মোচন’ তৃতীয় খণ্ড দেখুন।}
আক্বিদা
নাবী পাক (ﷺ) তাঁর প্রত্যেক উম্মতের নেকি সম্পর্কে জানেন এবং আসমানের তারকারাজির সংখ্যা সম্পর্কেও জানেন। কেননা হযরত আয়িশা (رضي الله عنه)-এর প্রশ্নের উত্তর দানের জন্য আবশ্যক যে আসমানের তারকারাজির সংখ্যা সম্পর্কে জানা এবং যাঁর নাম নেয়া হয়েছে তাঁর নেকি সম্পর্কেও জানা।
এ থেকে বুঝা গেল যে, রাসূল (ﷺ) এর নিকট কোন কিছুই গোপন নয় আর রাসূল (ﷺ)-এর ইরশাদ মুবারকও হচ্ছে-
فَتَجَلَّى لِي كُلُّ شَيْءٍ وَعَرَفْتُ
-‘আমার নিকট প্রত্যেক বস্তু প্রকাশিত হয়েছে এবং আমি সবকিছুকে চিনি।’ ৩০৯
{৩০৯.খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ১/২৩২ পৃ. হা/৭৪৮, ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, ৩৬/৪২৪ পৃ. হা/২২১০৯, ইমাম খুজায়মা, কিতাবুত-তাওহীদ, ২/৫৩৮ পৃ. হা/৫৭, ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল কাবীর, ২০/১০৯ পৃ. হা/২১৬ এবং কিতাবুদ দোয়া, ১/৪১৮ পৃ. হা/১৪১৪, ইমাম সুয়ূতি, তাফসীরে দুররে মানসুর, ৩য় খণ্ড, পৃ. ২৪, মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ১৫/৮৯৮ পৃ. হা/৪৩৫৪৫। ইমাম তিরমিযি (رحمة الله) সংকলন করে লিখেন-
هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. سَأَلْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ هَذَا الحَدِيثِ، فَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ
-‘‘এই হাদিসটি হাসান, সহীহ। আমি ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল (বুখারী) কে এই হাদিস বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এটি হাসান, সহীহ।’’ (ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান, ৫/২২১পৃ. হা/৩২৩৫)}
বারকতের জন্য নবজাতককে বুজুর্গদের নিকট নিয়ে যাওয়া
____________________
বারকতের জন্য নবজাতককে বুজুর্গদের নিকট নিয়ে যাওয়া:
❏সায়্যিদাতুনা আয়িশা (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন,
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُؤْتَى بِالصِّبْيَانِ فَيُبَرِّكُ
রাসূলে পাক (ﷺ)-এর খিদমতে লোকেরা নিজেদের নবজাতককে বরকতের জন্য নিয়ে আসতেন। রাসূলে পাক (ﷺ) তাদের জন্য দু‘আ করতেন এবং কোন কিছু চিবিয়ে তাদের মুখে দিতেন। ৩১০
{৩১০. সহীহ মুসলিম শরীফ, ১/২৩২, হা/২৮৬, ইমাম বায়হাকী, আস-সুনানুল কোবরা, ২/৫৮১ পৃ. হা/৪১৫৩, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বাহ, ৫/৩৭ পৃ. হা/২৩৪৮৪, ইমাম বাগভী, শরহে সুন্নাহ, ১১/২৭২ পৃ. হা/২৮২১, ইমাম সুয়ূতি, জামেউস সগীর, ৫/১৯২ পৃ. হা/৯০০৭, ইবনে আছির, জামেউল আহাদিস, ১/৩৮৩ পৃ. হা/১৭৫, মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ৭/১৫৪ পৃ. হা/১৮৪৮৯, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ২/১২০৭ পৃ. হা/৪১৫০}
আক্বিদা
নবজাতককে বুজুর্গদের কাছে বরকত অর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়া সাহাবাগণের (رضي الله عنه) সুন্নাত এবং নবজাতকের মুখে চর্বনকৃত কোন কিছু দেয়াও সুন্নাত।
নামাযে নবী (ﷺ)-এর খিয়াল এবং তা’যিম
উম্মুল মু’মিনিন হযরত সায়্যিদাতুনা আয়িশা (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, রাসূলে পাক (ﷺ) অসুস্থতা অনুভব করেন, হযরত বিলাল (رضي الله عنه) তাঁকে নামাযের জন্য ডাকতেন আসলে তিনি বললেন-
مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ
আবূ বকর (رضي الله عنه) কে বলুন, তিনি যেন সাহাবাদের নিয়ে নামায আদায় করেন। হযরত আয়িশা (رضي الله عنه) বলেন, আমি আরয করলাম,
إِنَّ أَبَا بَكْرٍ رَجُلٌ أَسِيفٌ
‘আবু বকর (رَجُلٌ أَسِيفٌ) কোমল হৃদয়ের অধিকারী, তিনি আপনার স্থানে যখন দাঁড়াবেন, লোকেরা কুরআনের আওয়ায শুনবে না। হযরত ওমর (رضي الله عنه) কে আদেশ দেন যেন তিনি ইমামতি করেন।’ রাসূল (ﷺ) বললেন:
مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ
-‘আবু বকর (رضي الله عنه) কে বল, তিনি যেন নামাযের ইমামতি করেন।’
হযরত আয়িশা (رضي الله عنه) বলেন, পুনরায় আমি হযরত হাফসা (رضي الله عنه)-এর কাছে গিয়ে বললাম, আপনি রাসূল (ﷺ) কে একটু বলুন, হযরত আবূ বকর (رضي الله عنه) কোমল হৃদয়ের অধিকারী। তিনি যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, লোকেরা শুনবেনা। হযরত উমর (رضي الله عنه) কে নামাযের ইমামতি করতে বলুন। রাসূলে পাক (ﷺ) বললেন, ‘তোমরা হযরত ইউসুফ (عليه السلام)-এর যামানার মেয়েদের মতো’। আবু বকর (رضي الله عنه) কে বল, তিনি যেন ইমামতি করেন। হযরত আয়িশা (رضي الله عنه) বলেন, লোকেরা তখন হযরত আবূ বকর (رضي الله عنه) কে ইমামতি করার জন্য বললেন।
রাসূল (ﷺ) যখন একটু স্বস্তি অনুভব করলে বাইরে তাশরীফ আনলেন। হযরত আবূ বকর (رضي الله عنه) তখন নামাযের ইমামতি শুরু করে দিলেন। হযরত আয়িশা (رضي الله عنه) বলেন-
فَلَمَّا دَخَلَ الْمَسْجِدَ سَمِعَ أَبُو بَكْرٍ حِسَّهُ، ذَهَبَ يَتَأَخَّرُ، فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قُمْ مَكَانَكَ
‘রাসূল (ﷺ) মসজিদে প্রবেশ করলে আবূ বকর (رضي الله عنه) তাঁর আগমন অনুভব করেন এবং পেছনে আসতে শুরু করেন। রাসূল (ﷺ) ইশারা করলেন, যেন তিনি তাঁর আপন স্থানে থাকেন। অতঃপর রাসূল (ﷺ) হযরত আবু বকর (رضي الله عنه)-এর বাম পাশে বসে গেলেন।’ হযরত আয়িশা (رضي الله عنه) বলেন-
فَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي بِالنَّاسِ جَالِسًا وَأَبُو بَكْرٍ قَائِمًا يَقْتَدِي أَبُو بَكْرٍ بِصَلَاةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَقْتَدِي النَّاسُ بِصَلَاةِ أَبِي بَكْرٍ
-‘‘রাসূল (ﷺ) বসে বসে জামা‘আত আদায় করতে লাগলেন, আর আবূ বকর (رضي الله عنه) দাঁড়িয়ে পেছনে এসে রাসূল (ﷺ)-এর ইকতিদা করলেন এবং লোকেরা হযরত আবূ বকর (رضي الله عنه)-এর অনুসরণে নামায আদায় করেন।’’ ৩১১
{৩১১. সহীহ মুসলিম শরীফ, ১/৩১৩ পৃ. হা/৪১৮, ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান, ৬/৫৪ পৃ. হা/৩৬৭২, ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, ১/১৩৩ পৃ. হা/৬৬৪}
আক্বিদা
সায়্যিদুনা আবু বকর সিদ্দিক (رضي الله عنه) নামাযের অবস্থায় রাসূলে পাক (ﷺ)-এর তাযিম ও সম্মান করে মুসল্লা থেকে পেছনে চলে আসেন। ইমামতি অবস্থায় হুযুর (ﷺ)-এর অনুসরণে নামায পড়েন। হুযুর (ﷺ) এটা বলেননি যে, আবূ বকর (رضي الله عنه)! ইবাদতের মধ্যে কেন আমার তাযিম করছো? নিষেধ না করাই হচ্ছে জায়িয হওয়ার দলিল।
যেসব লোক নামাযের মধ্যে নবির খেয়াল আসা, যেনা, গরু গাধার খিয়াল থেকেও অধিকতর মন্দ বলে, তাদের উচিত হযরত আবূ বকর (رضي الله عنه)-এর আক্বিদা ইখতিয়ার করা। নামাযের মধ্যে সিদ্দিকে আকবর (رضي الله عنه) নবীজীর (ﷺ) খেয়াল এনে মূলত নবির (ﷺ) তাযিম করেছেন।
রাসূল (ﷺ)-এর ইখতিয়ার
____________________
রাসূল (ﷺ)-এর ইখতিয়ারঃ-
উম্মুল মু’মিনীন সায়্যিদাতুনা আয়িশা (رضي الله عنه) বলেন, একরাতে ইশার নামাযের পূর্বে এতো দেরী করলেন যে, রাতের অর্ধেক অতিক্রান্ত হয়েছে, এদিকে মুসল্লিরা মসজিদে শুয়ে পড়লেন। অতঃপর রাসূল তাশরীফ এনে বললেন-
إِنَّهُ لَوَقْتُهَا لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي
-‘‘আমার উম্মাতের কষ্ট হবে এটা যদি আমি অনুভব করতাম তবে ইশার নামাযের ওয়াক্ত এই সময়ে হত।’’ ৩১২
{৩১২. সহীহ মুসলিম শরীফ, ১/৪৪২ পৃ. হা/৬৩৮, সুনানে দারেমী, ২/৭৭৬ পৃ. হা/১২৫০, সুনানে নাসাঈ, ১/২৬৭ পৃ. হা/৫৩৬}
আক্বিদা
হুযূর (ﷺ) মুখতার। আল্লাহ তা‘আলা তাকে শা‘রেঈ বানিয়ে প্রেরণ করেছেন। রাসূল (ﷺ)-এর মর্যাদা হল শরিয়ত নির্ধারণ করা, যেটা চান ফরয করেন আর যেটা চান হারাম করেন।
❏দেওবন্দী এবং গায়রে মুকাল্লেদদের ইমাম ইবনে তাইমিয়া ও তার কিতাব الصَّارِمُ المُسْلُوْل عَلٰى شَاتِمْ الرَّسُوْلِ এর ৪১ পৃষ্ঠায় স্পষ্ট ভাষায় লিখেন-
وَقَدْ أَقَامَهُ اَللهُ مَقَامَ نَفْسِهِ فِي أَمْرِهِ وَنَهْيِهِ وَإِخْبَارِهِ وَبَيَانِهِ
-“নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা‘আলা রাসূলে পাক (ﷺ) কে আদেশ, নিষেধ, আখবার ও বায়ানের ক্ষেত্রে নিজের স্থলাভিষিক্ত করে প্রেরণ করেন।”
শায়খুল মুহাদ্দিসীন আবদুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভি (رحمة الله) বলেন, আহকাম রাসূল (ﷺ)-এর উপর সোপর্দ, যা চান আদেশ দেন, যা চান নিষেধ করেন, যাকে যে হুকুমের সাথে চান নির্দিষ্ট করেন। ৩১৩
{৩১৩. শায়খ আব্দুল হাক মুহাদ্দিসে দেহলভী, আশয়াতুল লুম‘আত, ২য় খণ্ড, পৃ. ১২৩, ল²ৌ হতে প্রকাশিত।}
নবী ও ওলীরা তাদের মাযারে জীবিত
____________________
নবী ও ওলীরা তাদের মাযারে জীবিতঃ- ৩১৪
{৩১৪. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
❏ইমাম আহমদ ও ইমাম হাকিম নিশাপুরী (رحمة الله) সংকলন করেন-
حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ أُسَامَةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كُنْتُ أَدْخُلُ بَيْتِي الَّذِي فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ، وَإِنِّي وَاضِعٌ ثَوْبِي وَأَقُولُ: إِنَّمَا هُوَ زَوْجِي وَأَبِي، فَلَمَّا دُفِنَ عُمَرُ مَعَهُمْ فَوَاللَّهِ مَا دَخَلْتُ إِلَّا وَأَنَا مَشْدُودَةٌ عَلَيَّ ثِيَابِي حَيَاءً مِنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
-“হযরত আয়িশা (رضي الله عنه) বলেন, ইতোপূর্বে আমি রাসূল (ﷺ) এর ঘরে (রওজায়) প্রবেশ করতাম সাধারণ কাপড় পরিধান করে এবং বলতাম, ইনি আমার স্বামী ও ইনি আমার পিতা। আর যখন হযরত উমর (رضي الله عنه) কে সেখানে দাফন করা হল, আল্লাহর কসম! আমি আমার কাপড় অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিধান করে সেখানে প্রবেশ করতাম, যেমনটি হযরত উমর (رضي الله عنه) জীবিতকালে করতাম।” ৩১৫
{৩১৫. মুসনাদে আহমদ, হা/২৫৬৬০; ইমাম হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, হা/৪৪০২; ইমাম আবু বকর খিলাল, আস-সুন্নাহ, হা/৩৬৪; মিশকাত, হা/১৭৭১; ইমাম হায়সামী: মাযমাউয যাওয়াইদ, হা/১২৭০৪; জামেউল ফাওয়াইদ, হা/৭৮৬}
❏এই হাদিস সম্পর্কে ইমাম হাকিম নিশাপুরী (رحمة الله) বলেন-
هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ
-‘‘এই হাদিস বুখারী ও মুসলিম (رحمة الله) এর শর্ত অনুযায়ী সহীহ্।’’
(আল-মুস্তাদরাক, হা/৪৪০২)
❏ইমাম নুরুদ্দীন হায়সামী (رحمة الله) বলেন: رَوَاهُ أَحْمَدُ، وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ -“ইমাম আহমদ (رحمة الله) ইহা বর্ণনা করেছেন, সকল রাবীগণ বিশুদ্ধ।”
(ইমাম হায়সামী: মাযমাউয যাওয়াইদ, হা/১২৭০৪)
আক্বিদা
এই হাদিস দ্বারা দুটি বিষয় প্রমাণিত হয়। প্রথমত. উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা (رضي الله عنه) স্বয়ং রাসূল (ﷺ), হযরত আবু বকর সিদ্দিক (رضي الله عنه) এবং হযরত উমর (رضي الله عنه)‘র মাজারের কাছে যেতেন এবং যিয়ারত করতেন। তাই মহিলাদের যিয়ারত প্রমাণিত। দ্বিতীয়ত. যখন হযরত উমর (رضي الله عنه) কে আবু বকর (رضي الله عنه)‘র সাথে দাফন করা হলো তখন থেকে মা আয়িশা (رضي الله عنه) যিয়ারত করার সময় পর্দার দিকে খিয়াল বা সতর্কতা অবলম্বন করতেন; তিনি এটি এজন্যই করতেন তাঁর আক্বিদা ছিল যে তাঁরা সকলেই দুনিয়ার জীবনের ন্যায় তাকে দেখতেছেন এবং তাঁর আওয়াজ শুনতেছেন।
❏আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) লিখেন-
قَالَ الطِّيبِيُّ: فِيهِ أَنَّ احْتِرَامَ الْمَيِّتِ كَاحْتِرَامِهِ حَيًّا
-‘‘ইমাম তিব্বী (رحمة الله) বলেন, (এ হাদিস থেকে বুঝা গেল) ওফাত হওয়ার পরে তেমনই তা‘যিম করতে হবে যেমনটি জীবিত অবস্থায় (জাহিরী হায়াতে) করা হতে।’’
(মোল্লা আলী ক্বারী, মেরকাত, ৪/১২৬০ পৃ. হা/১৭৭১)
চুল মুবারকের বারকত
____________________
উম্মুল মু’মিনিন সায়্যিদাতুনা উম্মু সালমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার আক্বিদা
চুল মুবারকের বারকতঃ-
সায়্যিদুনা উসমান বিন আবদুল্লাহ (رضي الله عنه) বলেন, আমার পরিবার একটি পানি ভর্তি পাত্র নিয়ে আমাকে হযরত উম্মু সালমা (رضي الله عنه)-এর নিকট প্রেরণ করেছেন, কেননা তাঁর নিকট চান্দির ডিব্বা ছিল, যেটির মধ্যে রাসূল (ﷺ)-এর চুল মুবারক রক্ষিত ছিল।
وَكَانَ إِذَا أَصَابَ الْإِنْسَانَ عَيْنٌ أَوْ شَيْءٌ بَعَثَ إِلَيْهَا مِخْضَبَهُ فَأَخْرَجَتْ مِنْ شَعْرُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَتْ تُمْسِكُهُ فِي جُلْجُلٍ مِنْ فِضَّةٍ فَخَضْخَضَتْهُ لَهُ فَشَرِبَ مِنْهُ قَالَ: فَاطَّلَعْتُ فِي الْجُلْجُلِ فَرَأَيْت شَعرَات حَمْرَاء. رَوَاهُ البُخَارِيّ
-‘‘কেউ যখন কোন ধরনের অসুস্থতা অনুভব করতেন ওই ডিব্বাটি নেড়ে পাত্রের মধ্যে রাখতেন। অসুস্থ ব্যক্তি পাত্রের পানি পান করার সাথে সাথে অসুস্থতা থেকে আরোগ্য লাভ করতো।’’৩১৬
{৩১৬.
ক. সহীহ বুখারী শরীফ, ৭/১৬০ পৃ. হা/৫৮৯৬, পরিচ্ছেদ:بَابُ مَا يُذْكَرُ فِي الشَّيْبِ ;
খ.খতিব তিবরিযি, মিশকাতুল মাসাবীহ, ২/১২৮৭ পৃ. হা/৪৫৬৮ (ভারতীয় পৃ. ৩৯১)।}
আক্বিদা
সাহাবায়ে কিরামগণ (رضي الله عنه) তার্বারুক হিসেবে নাবী কারিম (ﷺ)-এর চুল মুবারক নিজেদের কাছে রাখতেন। এর মাধ্যমে তারা বিভিন্ন প্রকার উপকার অর্জন করতেন। এটাও বুঝা গেল যে, নাবী পাক (ﷺ)-এর চুল মুবারক রোগের আরোগ্য দানকারী। যারা নাবী কারিম (ﷺ) কে রোগের আরোগ্য দানকারী, মুসিবত দূরীভূতকারী হিসেবে জানে, তাদেরকে যারা মুশরিক বলে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মু সালমা (رضي الله عنه) এবং অপরাপর সাহাবাগণ (رضي الله عنه) সম্পর্কে তারা কি ফাত্ওয়া দেবে? (আল্লাহ তাদের হিদায়ত করুন।)
কারবালার অবস্থা অবলোকন এবং সেখানে উপস্থিত হওয়া
____________________
কারবালার অবস্থা অবলোকন এবং সেখানে উপস্থিত হওয়াঃ- ৩১৭
{৩১৭. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
❏হযরত সালমা (رضي الله عنه) বলেন-
دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ، وَهِيَ تَبْكِي فَقُلْتُ: مَا يُبْكِيكِ؟ قَالَتْ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَنَامِ يَبْكِي وَعَلَى رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ التُّرَابُ، فَقُلْتُ: مَا لَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: شَهِدْتُ قَتْلَ الْحُسَيْنِ آنِفًا
-‘‘আমি উম্মাহাতুল মু‘মিনীন মা উম্মে সালামা (رضي الله عنه)‘র হুজরা শরীফে প্রবেশ করলাম এবং দেখলাম যে তিনি কাঁদছেন। আমি বললাম, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, একটু আগে আমি রাসূল (ﷺ) কে স্বপ্নে দেখলাম যে তাঁর মাথা মুবারকে এবং দাঁড়ি মুবারকে ধুলা বালি লেগে আছে। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার এ অবস্থা কেন? তিনি বললেন, এই মাত্র আমি হুসাইনের শাহাদাতের স্থানে উপস্থিত ছিলাম।’’ ৩১৮
{৩১৮. ইমাম হাকেম নিশাপুরী, আল-মুস্তাদরাক, ৪/২০ পৃ. হা/৬৭৭৪, পরিচ্ছেদ: ذِكْرُ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أُمِّ سَلَمَةَ بِنْتِ أَبِي أُمَيَّةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا , তিনি একে সহীহ বলেছেন- سكت عنه الذهبي في التلخيص -‘‘ইমাম যাহাবী (رحمة الله) তার তালখীছ গ্রন্থে এ সনদের বিষয়ে নীরব ছিলেন।’’ ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান, ৬/১২০ পৃ. হা/৩৭৭১, পরিচ্ছেদ: بَابُ مَنَاقِبِ أَبِي مُحَمَّدٍ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَالْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا , ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল কাবীর, ২৩/৩৭৩ পৃ. হা/৮৮২, খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ৩/১৭৭৩ পৃ. হা/৬১৬৬, মোল্লা আলী ক্বারী, মেরকাত, ৯/৩৯৮০ পৃ. হা/৬১৬৬, তিনি বলেন- قَوِّي -‘‘এ হাদিসটি শক্তিশালী।’’ এবং ৯/৩৯৮৬ পৃ. হা/৬১৮০, ইমাম ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ৯/৩৫ পৃ. হা/৬৫৬৭}
আক্বিদা
এ হাদিস থেকে বুঝা গেল যে, কারবালায় কি ঘটছে তা আল্লাহর নবী (ﷺ) তাঁর আপন রওজা মোবারক থেকেই দেখতে পেয়েছেন, এজন্যই তিনি সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। এ হাদিসের (شَهِدْتُ) এর ব্যাখ্যায় আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) লিখেছেন- أَيْ: حَضَرْتُ -‘‘অর্থাৎ আমি উপস্থিত ছিলাম।’’ ৩১৯
{৩১৯. মোল্লা আলী ক্বারী, মেরকাত, ৯/৩৯৮০ পৃ. হা/৬১৬৬}
এ হাদিস থেকে বুঝা গেল প্রথিবীর যে কোন প্রান্তে রাসূল (ﷺ)‘র উপস্থিত হওয়া তাঁর ইখতিয়ারাধীন।
❏এ জন্যই ইমাম জালাল উদ্দিন সুয়ূতি (رحمة الله) (ওফাত.৯১১হি.) এর প্রসিদ্ধ কিতাব [أَنْبَاءُ الْأَذْكِيَاءِ بِحَيَاةِ الْأَنْبِيَاءِ] এর ৭ পৃষ্ঠায় লিখেন-
النَّظَرِ فِي أَعْمَالِ أُمَّتِهِ وَالِاسْتِغْفَارِ لَهُمْ مِنَ السَّيِّئَاتِ، وَالدُّعَاءِ بِكَشْفِ الْبَلَاءِ عَنْهُمْ، وَالتَّرَدُّدِ فِي أَقْطَارِ الْأَرْضِ لِحُلُولِ الْبَرَكَةِ فِيهَا، وَحُضُورِ جِنَازَةِ مَنْ مَاتَ مِنْ صَالِحِ أُمَّتِهِ، فَإِنَّ هَذِهِ الْأُمُورَ مِنْ جُمْلَةِ أَشْغَالِهِ فِي الْبَرْزَخِ كَمَا وَرَدَتْ بِذَلِكَ الْأَحَادِيثُ وَالْآثَارُ ـ
-‘‘‘উম্মতের বিবিধ কর্ম কাণ্ডের প্রতি দৃষ্টি রাখা, তাদের পাপরাশির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা, তাদের বালা মসিবত থেকে রক্ষা করার জন্য দুআ করা, পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে আনাগোনা করা ও বরকত দান করা এবং নিজ উম্মতের কোন নেক বান্দার ওফাত হলে তার জানাযাতে অংশগ্রহণ করা, এগুলোই হচ্ছে হুযুর (رحمة الله) এর সখের কাজ। অন্যান্য হাদিস থেকেও এসব কথার সমর্থন পাওয়া যায়।’’ ৩২০
{৩২০. ইমাম সুয়ূতি, আল-হাভী লিল ফাতওয়া, ২/১৮৪-১৮৫পৃ. দারুল ফিকহ ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন।}
নুরানি বগলের শুভ্রতা
____________________
উম্মুল মু’মিনীন সায়্যিদাতুনা মায়মূনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার আক্বিদা
নুরানি বগলের শুভ্রতাঃ-
❏উম্মুল মু’মিনিন সায়্যিদাতুনা মায়মূনা (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন,
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَجَدَ خَوَّى بِيَدَيْهِ - يَعْنِي جَنَّحَ - حَتَّى يُرَى وَضَحُ إِبْطَيْهِ مِنْ وَرَائِهِ. وَإِذَا قَعَدَ اطْمَأَنَّ عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى
-‘‘রাসূল (ﷺ) যখন সিজদায় যেতেন, তাঁর পিঠ মুবারকের বগলের শুভ্রতা দৃষ্টিগোচর হত। আর বসার সময় পায়ের উপরে বসতেন।’’৩২১
{৩২১. সহীহ মুসলিম শরীফ, ১/৩৫৭ পৃ. হা/৪৯৭, পরিচ্ছেদ: بَابُ مَا يَجْمَعُ صِفَةَ الصَّلَاةِ وَمَا يُفْتَتَحُ بِهِ وَيُخْتَمُ بِهِ............, সুনানে দারেমী, ২/৮৪১ পৃ. হা/১৩৭১, বায়হাকী, আস-সুনানুল কোবরা, ২/১৬৪ পৃ. হা/২৭০৬, সুনানে নাসাঈ, ২/২৩২ পৃ. হা/১১৪৭ এবং ১/৩৬৯ পৃ. হা/৭৩৭, ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল কাবীর, ২৪/২১ পৃ. হা/৪৭, মুসনাদে ইসহাক ইবনে রাহবিয়্যাহ, ৪/২০৯ পৃ. হা/২০১২, ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ৫/৩৭১ পৃ. হা/৩৫০২, হাইসামী, মাযমাউয-যাওয়াইদ, ২/১৩৯ পৃ. হা/২৮৪০}
আক্বিদা
নাবী কারিম (ﷺ)-এর সম্মানিত বিবি উম্মুল মু’মিনিন সায়্যিদাতুনা মায়মূনা (رضي الله عنه)ও প্রিয় নাবী (ﷺ)-এর অতুলনীয় বাশারিয়্যাতের বর্ণনা দিচ্ছেন। সাধারণত বগল নূরানি এবং শুভ্র হয় না। কিন্তু তিনি রাসূল (ﷺ)-এর বগল মুবারাকের নূরানিয়্যত এবং শুভ্রতা বর্ণনা করছেন।
দূরের অসহায় ব্যক্তির আওয়াজ শুনা এবং তাকে সাহায্য করা
____________________
দূরের অসহায় ব্যক্তির আওয়াজ শুনা এবং তাকে সাহায্য করাঃ-
উম্মুল মু‘মিনীন হযরত মায়মুনা (رضي الله عنه) বলেন, একরাতে হুযূর (ﷺ) আমার হুজরায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি যথারীতি ‘তাহাজ্জুদ’ নামাযের জন্য উঠলেন এবং ওযূ করার স্থানে গমন করলেন-
فَسَمِعَتْهُ يَقُولُ فِي مُتَوَضَّئِهِ: لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ ثَلَاثًا , نُصِرْتَ نُصِرْتَ، ثَلَاثًا , فَلَمَّا خَرَجَ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ , سَمِعْتُكَ تَقُولُ فِي مُتَوَضَّئِكَ: لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ ثَلَاثًا , نُصِرْتَ نُصِرْتَ، ثَلَاثًا , كَأَنَّكَ تُكَلِّمُ إِنْسَانًا , فَهَلْ كَانَ مَعَكَ أَحَدٌ؟ فَقَالَ: هَذَا رَاجِزُ بَنِي كَعْبٍ يَسْتَصْرِخُنِي
-‘‘অতঃপর আমি শুনতে পেলাম যে, তিনি ওযূখানায় তিনবার ‘লাব্বায়ক’ (আমি তোমার কাছে উপস্থিত) এবং তিনবার ‘নুসিরতা’ (তোমাকে সাহায্য করা হল) বললেন। যখন হুযূর (ﷺ) ওযূ করে বের হলেন, তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি শুনতে পেলাম- আপনি ওযূখানায় তিনবার ‘লাব্বায়ক’ এবং তিনবার ‘নুসিরতা’ বলেছেন। যেন আপনি কোন মানুষের সাথে কথা বলছিলেন। আপনার কাছে কেউ ছিল কি? তখন হুযূর (ﷺ) ইরশাদ করেন, ইতি রাজেয, আমার কাছে ফরিয়াদ করেছে।’’৩২২
{৩২২. ইমাম তাবরানী, মু‘জামুস সগীর, ২/১৬৭ পৃ. হা/৯৬৮, হাইসামী, মাযমাউয-যাওয়াইদ, ৬/১৬৩ পৃ. হা/১০২৩২, ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল কাবীর, ২৩/৪৩৩ পৃ. হা/১০২০, দিয়ার বকরী, তারিখুল খামিস, ২/৭৭ পৃ., ইমাম বুরহান উদ্দিন হালবী, সিরাতে হালবিয়্যাহ, ৩/১০৪ পৃ. ইমাম ইসমাঈল ইস্পাহানী, দালায়েলুন নবুয়ত, ১/৩৭ পৃ. হা/৫৯, জুরকানী, শারহুল মাওয়াহেব, ৩/৩৮১ পৃ.}
আক্বিদা
উল্লেখ্য যে, তখন তিনি ছিলেন মক্কায় এবং হুযূর (ﷺ) ছিলেন মদিনায়। কিন্তু হুযূর (ﷺ) তার ফরিয়াদ শুনেছেন এবং তাকে সাহায্য করেছেন। ঘটনা ছিল এই- হুদায়বিয়ার সন্ধিসূত্রে বনী বকর কুরাইশের পক্ষ অবলম্বন করেছিল এবং খোযাআ গোত্র হুযূর আকরাম (ﷺ)‘র পক্ষ অবলম্বন করেছিল। আর এ পক্ষাবলম্বন সেই চুক্তির ভিত্তিতে ছিল যে, আগামী দশ বছর পারস্পরিক কোন যুদ্ধ হবে না। কিন্তু কুরাইশরা সুন্ধি ও তার শর্তাবলী ভেঙ্গে ফেলল এবং বনী বকর ইত্যাদির সাথে মিলে মুসলিম নিধনের সংকল্প করেছিল।
(ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী, ইসাবা ফি তামিযিস সাহাবা, ২/৫৩৬ পৃ.)
সেই মুহূর্তে হযরত আমর ইবনে সালেম রাজেয (رضي الله عنه) মক্কা মুর্কারমা থেকে ফরিয়াদ করলেন এবং হুযূর (ﷺ)‘র কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলেন, যার উত্তরে নবী (ﷺ) তিনবার ‘লাব্বায়ক’ এবং তিনবার ‘নুসিরতা’ বলে তাকে সাহায্য করেছেন। বুঝা গেল রাসূল (ﷺ) দূরে কাছে সব কিছুই শুনেন এবং দেখেন। ৩২৩
{৩২৩. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
জুব্বা মুবারাক রোগদূরীভূতকারী
____________________
সায়্যিদাতুনা আসমা বিনতে আবি বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার আক্বিদা
জুব্বা মুবারাক রোগদূরীভূতকারীঃ-
❏সায়্যিদাতুনা আসমা বিনতে আবি বকর সিদ্দিক (رضي الله عنه) একটি লম্বা জুব্বা মুবারক বের করে বললেন,
وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَلْبَسُهَا، فَنَحْنُ نَغْسِلُهَا لِلْمَرْضَى يُسْتَشْفٰى بِهَا
-‘‘এটি এমন জুববা যেটি রাসূলে পাক (ﷺ) পরিধান করতেন আমরা এটি ধৌত করে এর পানি রোগীকে পান করাই আর অসুস্থ ব্যক্তি শেফা লাভ করে।’’ ৩২৪
{৩২৪. সহীহ মুসলিম শরীফ, ৩/১৬৪১ পৃ. হা/২০৬৯, পরিচ্ছেদ: بَابُ تَحْرِيمِ اسْتِعْمَالِ إِنَاءِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ عَلَى الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ، وَخَاتَمِ الذَّهَبِ وَالْحَرِيرِ عَلَى الرَّجُلِ، وَإِبَاحَتِهِ لِلنِّسَاءِ، وَإِبَاحَةِ الْعَلَمِ وَنَحْوِهِ لِلرَّجُلِ مَا لَمْ يَزِدْ عَلَى أَرْبَعِ أَصَابِعَ ; খতিব তিবরিযি, মিশকাত শরীফ, ২/১২৪২ পৃ. হা/৪৩২৫ (ভারতীয় পৃ. ৩৪৪), বায়হাকী, আস-সুনানুল কোবরা, ২/৫৯৪ পৃ. হা/৪২১০ এবং শুয়াবুল ঈমান, ৮/২০৭ পৃ. হা/৫৭০২, বাগভী, শরহে সুন্নাহ, ১২/৩৩ পৃ. হা/৩১০৩, ইবনে আছির, জামেউল উসূল, ১০/৬৮৮ পৃ. হা/৮৩৪৪}
আক্বিদা
সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) রাসূল (ﷺ)-এর শরীর মুবারক স্পর্শকারী বস্তুকে সাহাবায়ে কেরাম বারকাতওয়ালা এবং উপকার দানকারী হিসেবে জানতেন। এ জন্যই রাসূল (ﷺ)-এর জুব্বা মুবারক পানিতে ভিজিয়ে উক্ত পানি অসুস্থ ব্যক্তিকে পান করাতেন। প্রিয় নবী (ﷺ)-এর শরীর মুবারক স্পর্শকারী জুব্বা মুবারাক যদি রোগ দূরীভূতকারী হয়, তবে খুদ জাত মুবারককে মুসিবত দূরকারী এবং অসুস্থতাকে আরোগ্য দানকারী মানা কিভাবে শিরক হবে?
❏আ’লা হযরত ইমামে আহলে সুন্নাত শাহ্ আহমদ রেযা খাঁন বেরলভী (رحمة الله) বলেন, ‘আকিদাহ মুসিবত দূরকারী’।
রাসূল (ﷺ)-এর চোখ মোবারকের ক্ষমতা
____________________
রাসূল (ﷺ)-এর চোখ মোবারকের ক্ষমতাঃ-
❏ইমাম বুখারী মুসলিম (رحمة الله)সহ আরও অনেকে সংকলন করেন-
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهَا قَالَتْ: أَتَيْتُ عَائِشَةَ حِينَ خَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَإِذَا النَّاسُ قِيَامٌ يُصَلُّونَ،.... ثُمَّ قَالَ: مَا مِنْ شَيْءٍ كُنْتُ لَمْ أَرَهُ إِلَّا قَدْ رَأَيْتُهُ فِي مَقَامِي هَذَا حَتَّى الْجَنَّةَ وَالنَّارَ
-“হযরত আসমা বিনতে আবু বকর (رضي الله عنه) বলেন, আমি একদা হযরত আয়িশা (رضي الله عنه) এর কাছে গেলাম। তখন সূর্য গ্রহণ লেগেছিল। দেখলাম সব মানুষ দাঁড়িয়ে নামায পড়ছেন।..... অত:পর রাসূল (ﷺ) বললেন, যা কিছু হবে তন্মধ্যে এমন কোন বস্তু নেই যা আমি এই স্থান থেকে দেখিনি, এমনকি জান্নাত ও জাহান্নামও দেখেছি।” ৩২৫
{৩২৫. ৩২৫.মুয়াত্তা মালেক, হা/২০১; মুসনাদে আহমদ, হা/২৬৯২৫; ছহীহ্ বুখারী, হা/১৮৪ ও ৯২২; সহীহ্ মুসলিম, হা/৯০৫; সহীহ্ ইবনে হিব্বান, হা/৩১১৪; ইমাম তাবারানী: মু‘জামুল কাবীর, হা/৩১৩; ইমাম বাগভী: শরহে সুন্নাহ, হা/১১৩৭; ইমাম বায়হাক্বী, আস-সুনানুল কোবরা, হা/৬৩৬০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, হা/৩৭৫১০}
আক্বিদা
এই হাদিস দ্বারা বুঝা যায়, আল্লাহর নাবী (ﷺ) সকল কিছুই দেখেন, এমনকি জান্নাত ও জাহান্নাম পর্যন্ত দেখেন। প্রিয় নবীজি (ﷺ) এর দৃষ্টি শক্তি কত শক্তিশালী ছিল তা সাধারণ বিবেক দিয়ে বুঝা সম্ভব নয়। (সুবহানাল্লাহ)। ৩২৬
{৩২৬. সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত।}
হযরত আনাস (رضي الله عنه)-এর জন্য দোয়া
____________________
সায়্যিদাতুনা উম্মু সুলাইম রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহার আক্বিদা
হযরত আনাস (رضي الله عنه)-এর জন্য দোয়াঃ-
❏হযরত উম্মু সুলাইম (رضي الله عنه) নাবী কারীম (ﷺ)-এর দরবারে হাযির হয়ে আরয করলেন, হে রাসূল (ﷺ),
خَادِمُكَ أَنَسٌ، ادْعُ اللهَ لَهُ
-‘‘আনাস (رضي الله عنه) আপনার খাদিম, তার জন্য দো‘আ করুন।’’ রাসূল (ﷺ) দোয়া করে বললেন:
اللهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ، وَبَارِكْ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتَهُ
-“হে আল্লাহ, তাকে অধিক সম্পদ ও একাধিক সন্তান দান কর। তাকে যা কিছু দান করবেন, তাতে বারকাত দান করুন।” ৩২৭
{৩২৭.সহীহ মুসলিম শরীফ, ৪/১৯২৮ পৃ. হা/২৪৮০, হযরত আনাস (رضي الله عنه)-এর ফযিলত অধ্যায়, ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, ২০/৩১৫ পৃ. হা/১৩০১৩, ইমাম বায়হাক্বী, আস-সুনানুল কোবরা, ৩/৭৬ পৃ. হা/৪৯২৬, সুনানে তিরমিযি, ৬/১৬১ পৃ. হা/৩৮২৯, মুসনাদে আবি ই‘য়ালা, ৫/৪৬৯ পৃ. হা/৩২০০, ১৪/১৫ পৃ. হা/৭৪০৪, ইমাম বুখারী, আদাবুল মুফরাদ, হা/৮৮, সহীহ বুখারী, ৮/৭৩ পৃ. হা/৬৩৩৪, সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৭১৭৭, ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল কাবীর, ১/২৪৮ পৃ. হা/৭১০, ইমাম আহমদ, ফাযায়েলুস সাহাবা, ২/৮৪৭ পৃ. হা/১৫৬৪, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বাহ, ৭/১৭৬ পৃ. হা/৩৫১১১, ১৪/১৮৮ পৃ.}
আক্বিদা
সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) নিজেদের বাচ্চাদেরকে নাবী কারীম (ﷺ)-এর দরবারে নিয়ে যেতেন এবং দোয়া চাইতেন। রাসূল (ﷺ)-এর দোয়ার বারকতে হযরত আনাস (رضي الله عنه)-এর সন্তানের সংখ্যা একশ বিশ জন হয়েছিল। তাঁর বাগানের ফল গাছগুলো বছরে দুবার ফল দিত। বাগানের ফুল থেকে মিশকের সুগন্ধি বের হত।
❏কবি বলেন-
منگتے خالى ہاتہ نہ لوٹيں كتنى ملى خيرات نہ پو پهو
ان كا كرم بں ان كا كرم ہے ان كے كرم كى بات نہ پوحپہو
-‘প্রার্থনাকারী খালি হাতে ফিরে না, খয়রাত (দান) কতটুকু মিললো জানতে চেয়েও না,
তাঁর দয়া তো তাঁরই দয়া, তাঁর দয়া কতটুকু তা জানতে চেয়েও না।’
মূর্খ ও উম্মাদ শিশুর আরোগ্য লাভ
____________________
সায়্যিদাতুনা উম্মু জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার আক্বিদা
মূর্খ ও উম্মাদ শিশুর আরোগ্য লাভঃ-
হযরত উম্মু জুনদুব (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, আমি রাসূল (ﷺ) কে জামরায়ে আক্ববার এর নিকটে দেখলাম যে, তিনি কংকর নিক্ষেপ করছেন, সাহাবাগণ (رضي الله عنه)ও কংকর নিক্ষেপ করছে। হঠাৎ দেখলাম এক মহিলা তার বাচ্চাকে নিয়ে আসলেন, যে বাচ্চাটি মূর্খ এবং উম্মাদ ছিল। মহিলাটি আরয করলেন, হে রাসূল (ﷺ)!
إِن ابْني هَذَا بِهِ بلَاء لَا يتَكَلَّم
-‘‘আমার সন্তান বড় কষ্টের মধ্যে আছে, সে কথা বলতে পারে না।’’ তার কথা শুনে রাসূল (ﷺ) বললেন, এক পাত্র পানি নাও। মহিলাটি পাথরের একটি পাত্রে পানি নিয়ে আসলেন, রাসূল (ﷺ) উক্ত পাত্রে কুলি করে দু‘আ করলেন এবং চলে যেতে বললেন। আরো বললেন, পানিগুলো বাচ্চাটিকে পান করাবে এবং তা হতে গোসল করাবে। মহিলাটি চলে যাচ্ছে, আমি তার পিছু নিলাম, তাকে বললাম এ পানি থেকে আমাকে একটু তাবারক দিন। তিনি পানি দিলেন। পানি থেকে আমার পুত্র আব্দুল্লাহকে পান করালাম। ফলে সে ভালোভাবে জীবনযাপন করছে। অতঃপর মহিলাটির সাক্ষাৎ পেলাম, তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল,
بَرَأَ وَعَقَلَ عَقْلًا لَيْسَ كَعُقُوْلِ النَّاسِ
-‘‘আমার সন্তান পূর্ণ সুস্থ হয়েছে, এমন হল যে, তার মত ভাল ছেলে আর নেই এবং সে সবার চাইতে বিবেকবান।’’ ৩২৮
{৩২৮. ইবনে মাজাহ, আস-সুনান, ২/১১৬৮ পৃ. হা/৩৫৩৩, পরিচ্ছেদ: بَابُ النُّشْرَةِ, নাশরাহ অধ্যায়; ইমাম সুয়ূতি, খাসায়েসুল কোবরা, ২/৬৪পৃ. দারুল কিতাব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন; ইমাম তাবরানী, মু‘জামুল কাবীর, ২৫/১৬০ পৃ. হা/৩৮৭, শায়খ ইউসুফ নাবহানী, হুজ্জাতুল্লাহ আলাল আলামীন, পৃ. ৪২৮, ইমাম আসেম, আহাদ ওয়াল মাছানী, ৬/৮০ পৃ, হা/৩২৯৩, ইমাম ইবনে আবি শায়বাহ, আল-মুসান্নাফ, ৫/৪৮পৃ. হা/২৩৫৮৪, ইমাম আবু নুয়াইম ইসবাহানী, দালায়েলুন নবুয়ত, ৪৬৪ পৃ. হা/৩৯৩
আক্বিদা
সাহাবায়ে কিরাম (رضي الله عنه) কোন মুসিবত এবং পেরেশানি পেলে, নাবী (ﷺ)-এর দরবারে আসতেন, তা সমাধানের জন্য আরয করতেন, নাবী (ﷺ)-এর উসিলায় তাদের সমস্যা সমাধান হত।
❏কবি বলেন:
بے يارو مدو گار جسے كوئ نہ چہے
ايسوں كا تمہيں يارو مددگار بنايا
-‘‘অসহায় ও সাহায্য বঞ্চিত যাদের কেউ দৃষ্টিপাত করে না
মহান রব আপনাকে তাদের সহায়ক ও সাহায্যকারী বানিয়েছেন।’’
وَصَلَّى اللهُ تَعَالٰى عَلٰى حَبِيْبِه مُحَمَّدٍ وَاَلِهِ وَاَصْحَابِهِ وَبَارِكْ وَسَلِّمْ
প্রমাণপঞ্জী
____________________
প্রমাণপঞ্জী
১. আল কুরআনুল হাকীম;
হাদিস
২. বুখারী ঃ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল বুখারী (১৯৪হি-২৫৬হি.) : আস্-সহীহ, দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন, প্রকাশ.১৪২২ হি. (শামিলা)।
৩. বুখারী ঃ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল বুখারী : আত্-তারিখুল কাবীর, বয়রুত, লেবানন, দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ।
৪. বায্যার : আবু বকর আহমদ ইবনে ওমর ইবনে আবদুল খালেক বসরী (২১০-২৯২ হি. / ৮২৫-৯০৫ ইং) : আল মুসনাদ: বয়রুত, লেবানন, মুয়াস্সাসাতু উলূমিল কুরআন, ১৪০৯ হিজরী;
৫. বাগভী : আবু মুহাম্মদ হোসাইন ইবনে মাসউদ ইবনে মুহাম্মদ (৪৩৬-৫১৬ হি. / ১০৪৪-১১২২ ইং) : শরহে সুন্নাহ: বয়রুত, লেবানন, দারুল মা’আরিফ, ১৪০৭ হি / ১৯৮৭ ইং।
৬. বায়হাকী : আবু বকর আহমদ ইবনে হোসাইন ইবনে আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মূসা (৩৮৪-৪৫৮ হি. / ৯৯৪-১০৬৬ ইং) : দালায়িলুন নবুয়ত, বয়রুত, লেবানন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, ১৪০৫ হি. / ১৯৮৫ ইং।
৭. বায়হাকী : আবু বকর আহমাদ ইবনে হোসাইন ইবনে আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মূসা (৩৮৪-৪৫৮ হি. / ৯৯৪-১০৬৬ ইং) : আস-সুনানুল কুবরা, মক্কা, সৌদি আরব, মাকতাবা দারুল বায, ১৪১৪ হি. / ১৯৯৪ ইং।
৮. বায়হাকী : আবু বকর আহমাদ ইবনে হোসাইন ইবনে আলী ইবনে আবদুলাহ ইবনু মূসা (৩৮৪-৪৫৮ হি. / ৯৯৪-১০৬৬ ইং) : আল-মা‘রিফাতুল সুনানি ওয়াল আছার:
৯. তিরমিযী : আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সওরাহ ইবনে মূসা (২১০-২৭৯ হি. ৮২৫-৮৯২ ইং) : আল-জামেউস সহিহ, বয়রুত, লেবানন, দারুল গুরাবিল ইসলামী, ১৯৯৮ ইং।
১০. হাকিম : আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ (৩২১-৪০৫ হি. ৯৩৩-১০১৪ ইং) : আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, বয়রুত, লেবানন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, ১৪১১ হি. ১৯৯০ ইং।
১১. ইবনে হিব্বান : আবু হাতেম মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান ইবনে আহমাদ ইবনে হিব্বান (২৭০-৩৫৪ হি. ৮৮৪-৯৬৫ ইং) : আস্-সিকাত, বয়রুত, লেবানন, দারুল ফিক্র, ১৩৯৫ হি. / ১৯৭৫ ইং।
১২. ইবনে খুযায়মা : আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক (২২৩-৩১১ হি. / ৮৩৮-৯২৪ ইং) আস-সহীহ, বয়রুত, লেবানন, আল-মাকতাবুল ইসলামী, ১৩৯০ হি. / ১৯৭০ ইং।
১৩. খতিবে বাগদাদী : আবু বকর আহমাদ ইবনে আলী ইবনে সাবেত ইবনে আহমাদ ইবনে মাহদী ইবনে সাবিত (৩৯২-৪৬০ হি. / ১০০২-১০৭১ ইং) : তারিখে বাগদাদ, বয়রুত, লেবানন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া।
১৪. খাওয়ারযামী : আবদুল মু‘আয়্যিদ মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ (৫৯৩-৬৬৫ হি.) : জা‘মিউল মাসানিদ লি ইমাম আবী হানিফা, বয়রুত, লেবানন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া।
১৫. দারাকুতনি : আবুল হাসান আলী ইবনে ওমর ইবনে আহমদ ইবনে মাহাদী মাসউদ ইবনে নু’মান (৩০৬-৩৮৫ হি. / ৯১৮-৯৯৫ ইং) : আস সুনান, বয়রুত, লেবানন, দারুল মা’আরিফ, ১৩৮৬ হি. / ১৯৬৬ ইং।
১৬. দারিমি : আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান (১৮১-২৫৫ হি. / ৭৯৭-৮৬৯ ইং) : আস-সুনান, বয়রুত, লেবানন, দারুল কিতাবিল আরাবী, ১৪০৭ হি.।
১৭. আবু দাউদ : সুলাইমান ইবনে আসআছ সাজিসতানী (২০২-২৭৫ হি. / ৮১৭-৮৮৯ ইং) : আস-সুনান, বয়রুত, লেবানন, দারুল ফিকর, ১৪১৪ হি. / ১৯৯৪ ইং।
১৮. দায়লামি : আবু সূজা শেরওয়াই ইবনে শহরদার ইবনে শেরওয়াই হামদানী (৪৪৫-৫০৯ হি. / ১০৫৩-১১১৫ ইং) : আল-ফিরদাউস বি মা’সুরিল খিতাব, বয়রুত, লেবানন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, ১৯৮৬ ইং।
১৯. ইবনে সা’দ : আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ (১৬৮-২৩০ / হি. ৭৮৪-৮৪৫ ইং) : আত্ব ত্বাবক্বাতুল কুবরা, বয়রুত, লেবানন, দারে ছদীর।
২০. ইবনে আবী শায়বা : আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে উসমান কুফী (১৫৯-২৩৫ হি. / ৭৭৬-৮৪৯ ইং) : আল-মুসান্নাফ, রিয়াদ, সৌদি আরব, মাকতাবাতুর রাশাদ, প্রকাশ. ১৪০৯ হি.।
২১. তাবরানী : আবুল কাসেম সুলাইমান ইবনে আহমদ ইবনে আইয়ুব (২৬০-৩৬০ হি. / ৮৭৩-৯৭১ ইং) : আল-মু’জামুল আওসাত, রিয়াদ, সৌদি আরব, মাকতাবাতুল মা’রিফ, ১৪০৫ হি. / ১৯৮৫ ইং।
২২. তাবরানী : আবুল কাসেম সুলাইমান ইবনে আহমদ ইবনে আইয়ুব (২৬০-৩৬০ হি. / ৮৭৩-৯৭১ ইং) : আল-মু’জামুল কাবীর, মুসিল, ইরাক, মাতবাআতুল উলুম ওয়াল হিকম, ১৪০৪ হি. / ১৯৮৪ ইং।
২৩. তাবারী : আবু জা’ফর মুহাম্মদ ইবনে যারীর ইবনে ইয়াযীদ (২২৪-৩১০ হি./৮৩৯-৯২৩ ইং) : জা’মিউল বয়ান ফী তাফসীরিল কুরআন, বয়রুত, লেবানন, দারুল মা’আরিফ,১৪০০ হি./১৯৮০ ইং।
২৪. তাহাবী : আবু জাফর আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ ইবনু সালমা ইবনু আবদুল মালিক ইবনে সালমা (২২৯-৩২১ হি. / ৮৫৩-৯৩৩ ইং) শরহু মা’আনিল আসার, বয়রুত, লেবানন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, ১৩৯৯ ইং।
২৫. তায়ালসী : আবু দাউদ সুলায়মান ইবনু দাউদ জারুদ (১৩৩-২০৪ হি / ৭৫১-৮১৯ ইং), আল মুসনাদ, বয়রুত, লেবানন, দারুল মা’আরিফ।
২৬. ইবনে ‘আবদুল বার : আবু ওমর ইউসূফ ইবনে আবদুলাহ ইবনে মুহাম্মদ (৩৬৮-৪৬৩ হি. / ৯৭৯-১০৭১ ইং) : আল ইসতিয়াবু ফী মা’আরিফাতিল আসহাব, বয়রুত, লেবানন, দারুল জিল।
২৭. ইবনে ‘আবদুল বার : আবু ওমর ইউসূফ ইবনে আবদুলাহ ইবনে মুহাম্মদ (৩৬৮-৪৬৩ হি. / ৯৭৯-১০৭১ ইং) : জামি’উল বায়ানিল ইল্মি ওয়া ফাদ্বলি, বয়রুত, লেবানন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, ১৩৯৮ হি. / ১৯৭৮ ইং।
২৮. ‘আবদুর রায্যাক : আবূ বকর ইবনে হুম্মাম ইবনে নাফে’ সান‘আনী (১২৬-২১১ হি. / ৭৪৪-৮২৬ ইং) : আল-মুসান্নাফ, বয়রুত, লেবানন, আল মাকতুবাতুল ইসলামী, ১৪০৩ হি.।
২৯. ইবনে মাযাহ : আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ কাযভীনি (২০৯-২৭৩ হি. / ৮২৪-৮৮৭ ইং) : আস্-সুনান, বয়রুত, লেবানন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, ১৪১৯ হি. / ১৯৯৮ ইং।
৩০. মালেক : ইবনে আনাস ইবনু মালেক ইবনু আবী ‘আমর ইবনে হারেছ আসবাহী (৯৩-১৭৯ হি. / ৭১২-৭৯৫ ইং) : আল মুআত্তা, বয়রুত, লেবানন, দারুল ইহইয়াউত আত তুরাসুল আরবিয়্যাহ, ১৪০৬ হি. / ১৯৮৫ খ্রি:।
৩১. মুসলিম : মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ আল-কুশাইরি (২০৬-২৬১ হি. / ৭২১-৮৭৫ ইং) : আস-সহীহ, বয়রুত, লেবানন, দারু ইহয়ায়ি আত-তুরাসিল আরাবি।
৩২. মুনযিরী : আবু মুহাম্মদ আবদুল আযীম ইবনে আবদুল কাভী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সালামাহ ইবনে সা’দ (৫৮১-৬৫২ হি. / ১১৮৫-১২৫৮ ইং) আত তারগীব ওয়াত তারহীব মিনাল হাদীসিশ শরীফ, বয়রুত, লেবানন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, ১৪০৭ হি.।
৩৩. নাসাঈ : আহমদ ইবনে মাআ‘ইব (২১৫-৩০৩ হি. / ৮৩০-৯১৫ ইং) : আস-সুনান, হালব, শাম, মাকতুবুল মাতবু’আত, ১৪০৬ হি./১৯৮৬ ইং।
৩৪. আবূ নু‘আঈম : আহমাদ ইবনে ‘আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে ইসহাক ইবনে মূসা ইবনে মেহরান ইসবাহানী (৩৩৬-৪৩০ হি. / ৯৪৮-১০৩৮ ইং) : হিলয়াতুল আওলিয়া ওয়া তাবকাতুল আসফিয়া, বয়রুত, লেবানন, দারুল কিতাবিল আরাবি, ১৪০০ হি. / ১৯৮০ ইং;
৩৫. হিন্দি : হুসামুদ্দীন আলা উদ্দিন আলী মুত্তাকী হিন্দী (৯৭৫ হি.) : কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়ালি ওয়াল আফ’আল, বয়রুত, লেবানন, মুআস্সাসাতুর রিসালা, ১৩৯৯ হি. / ১৯৭৯ ইং।
৩৬. হাইসামি : আবুল হাসান নূরুদ্দিন আলী ইবনে আবু বকর ইবনে সুলাইমান (৭৩৫-৮০৭ হি. / ১৩৩৫-১৪০৫ ইং) : মাজমাউয যাওয়ায়িদ ওয়া মানবা’উল ফাওয়ায়িদ, কায়রো, মিসর, দারুর রায়আন লিত তুরাছ, বয়রুত, লেবানন, দারুল কিতাবিল আরবী, ১৪০৭ হি./১৯৮৭ ইং।
৩৭. আবু ই‘য়ালা : আহমাদ ইবনে আলী ইবনু মুসান্ন ইবনু ইয়াহইয়া ইবনে ‘ঈসা ইবনে হেলাল মুসিলী, তামিমী (২১০-৩০৭ হি. / ৮২৫-৯১৯ ইং) আল-মুসনাদ, দামিশক, সিরিয়া, দারুল মামুন লিত্ তুরাস, ১৪০৪ হি. / ১৯৮৪ ইং।
৩৮. আবূ ইউসূফ : ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম ইবনু আনসারী (১৮২ হি.) : কিতাবুল আসার, সানগালা হাল, শেখপুরা, পাকিস্তান, আল মাকতাবুল আসারিয়া/বয়রুত, লেবানন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ।
৩৯. শাফেয়ী : আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রীস ইবনু আব্বাস ইবনে ওসমান ইবনে শাফেয়ী কারশী (১৫০-২০৪ হি./৭৬৭-৮১৯ ইং) : আল-মুসনাদ, বয়রুত, লেবানন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ।
৪০. মুহাম্মদ ঃ ইমাম মুহাম্মদ হাসান শায়বানি ঃ কিতাবুল আসার ঃ দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন।
-ঃ শারহুল হাদিস গ্রন্থসমূহঃ-
৪১. বদরুদ্দীন আইনী : আবূ মুহাম্মদ মাহমুদ ইবনু আহমদ ইবনে মূসা ইবনু আহমদ ইবনে হুসাইন ইবনে ইউসূফ ইবনে মাহমুদ (৭৬২-৮৫৫ হি. / ১৩৬১-১৪৫১ ইং) : ‘উমদাতুল ক্বারী শরহু সহীহিল বুখারী, বয়রুত, লেবানন, দারুল ফিক্র, ১৩৯৯ হি. / ১৯৭৯ ইং।
৪২. যুরকানী : আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনু আবদুল বাকি ইবনে ইউসুফ ইবনে আহমাদ ইবনে আল-ওয়ান মিসরী, আযহারী মালেকী (১০৫৫-১১২২ হি. / ১৬৪৫-১৭১০ ইং) : শরহুল মু’আত্তা, বয়রুত, লেবানন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, ১৪১১ হি.।
৪৩. সুয়ূতি : জালালুদ্দিন আবুল ফজল আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে উসমান (৮৪৯-৯১১ হি. / ১৪৪৫-১৫০৫ ইং) : শরহুস সুনান ইবনে মাযাহ, করাচী, পাকিস্তান, ক্বদীমি কুতুবখানা।
৪৪. আসকালানী : আহমাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আহমাদ ইবনে কিনানী (৭৭৩-৮৫২ হি. / ১৩৭২-১৪৪৯ ইং) : ফাতহুল বারী বি শরহে সহীহুল বুখারী, বয়রুত, লেবানন, দারুল মা’আরিফ।
৪৫. কাস্তাল্লানী : আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে আবদুল মালিক ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হোসাইন ইবনে আলী (৮৫১-৯২৩ হি. / ১৪৪৮-১৫১৭ ইং) : ইরশাদুস্ সারী শরহু সহীহিল বুখারী, বয়রুত, লেবানন, দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, ১৩০৪ হি.।
৪৬. মুবারকপুরী : আবুল ’উলা মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবদুর রহীম (১২৭৩-১৩৫৩ হি.) : তুহফাতুল আহ্ওয়াযী বি শরহে জামে’উত তিরমিযী, বয়রুত, লেবানন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া।
৪৭. মোল্লা আলী ক্বারী : নুরুদ্দীন ইবনে সুলতান মুহাম্মদ হারভী হানাফী (১০১৪-১২০৬ ইং) : মিরকাতুল মাফাতিহ শরহে মিশকাতুল মাফাতিহ, দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন, প্রকাশ.
৪৮. মানাভী : আবদুর রউফ ইবনে তাজুল আরেফিন ইবনে আলী ইবনে যায়নুল আবেদীন (৯৫২-১০৩১ হি. / ১৫৪৫-১৬২১ ইং) : ফয়জুল কাদির শরহিল জামেউস সগীর, মিসর, মাকতাবা তিজারিয়া কুবরা, ১৩৫৬ হি.।
৪৯. নববী : আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শরফ ইবনে মুরী ইবনে হাসান ইবনে হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুম’আহ ইবনে হাযাম (৬৩১-৬৭৭ হি. / ১২৩৩-১২৭৮ ইং) : শরহুন নাওয়াভী আলা সহীহিল মুসলিম, বয়রুত, লেবানন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া।
-ঃ ফিক্হ ঃ-
৫০. শামী: ইমাম ইবনে আবেদীন শামী : রুদ্দুল মুখতার হাশীয়ায়ে ইবনে আবেদীন, দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত।
৫১. ইবনে হাজার মক্কী (ওফাত ৭৯৪ হি.) : ফাতোয়ায়ে হাদিসিয়্যাহ, মীর মোহাম্মদ কারখানা, করাচী, পাকিস্তান।
৫২. ইবনে তাইমিয়া (ওফাত ৭২৮ হি.) : মাজমাউল ফাতাওয়া : মাকতুবাতুল ইসলামী, বয়রুত, লেবানন, প্রকাশ. ।
-ঃ আসমাউর রিজাল ঃ-
৫৩. আহমদ্ ইবনে হাম্বল : আবু আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ (১৬৪-২৪১ হি. / ৭৮০-৮৫৫ ইং) : ফাদ্বায়িলুস সাহাবা, বয়রুত, লেবানন, মুয়াস্সাসাতুর রিসালাহ, ১৪০৩ হি. / ১৯৮৩ ইং।
৫৪. বুখারী : আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুগীরাহ (১৯৪-২৫৬ হি. / ৮১০-৮৭০ ইং) : আত্-তারিখুল কাবির, বয়রুত, লেবানন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া।
৫৫. ইবনে হিব্বান : আবু হাতেম মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান ইবনে আহমাদ ইবনে হিব্বান (২৭০-৩৫৪ হি. / ৮৮৪-৯৬৫ ইং) : আস্-সিকাত, বয়রুত, লেবানন, দারুল ফিক্র, ১৩৯৫ হি. / ১৯৭৫ ইং।
৫৬. খতীবে বাগদাদী : আবু বকর আহমাদ ইবনে আলী ইবনে সাবেত ইবনে আহমাদ ইবনে মাহদী ইবনে সাবেত (৩৯২-৪৬৩ হি. / ১০০২-১০৭১ ইং) : তারিখে বাগদাদ, বয়রুত, লেবানন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া।
৫৭. যাহাবী : শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ (৬৭৩-৭৪৮ হি.) : তাযকিরাতুল হুফফায, বয়রুত, লেবানন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া।
৫৮. যাহাবী : শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ (৬৭৩-৭৪৮ হি.) : সীয়ারু আ‘লামুন আন্-নুবালা, বয়রুত, লেবানন, মুয়াস্সাসাতুর রিসালা, ১৪১৩ হি.।
৫৯. সুবকী : তাজুদ্দীন ইবনে আলী ইবনে আবদুল কাফী (৭২৭-৭৭১ হি.) : ত্ববকাতুশ শাফিআতিল কুবরা, হাজর লিত্ তাবাআতি ওয়ান নাশার, ১৪১৩ হি.।
৬০. সুয়ূতি : জালালুদ্দিন আবুল ফজল আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে উসমান (৮৪৯-৯১১ হি. / ১৪৪৫-১৫০৫ ইং) : ত্ববকাতুল হুফ্ফায, বয়রুত, লেবানন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, ১৪০৩ হি.।
৬১. ইবনে ’আদী : আবদুল্লাহ ইবনে আদী ইবনে আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুবারক, আবু আহমদ জুরযানী (২৭৭-৩৬৫ হি.) আল কামিল ফী মাআরিফাতি দ্বো’ফায়িল মুহাদ্দিসীন, কায়রো, মিসর, মাকতুবাতু ইবনে তাইমিয়া, ১৯৯৩ ইং।
৬২. আসকালানী : আহমাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আহমাদ ইবনে কিনানী (৭৭৩-৮৫২ হি. / ১৩৭২-১৪৪৯ ইং) : তাকরীবুত তাহযীব, শাম, দারুর রশীদ, ১৪০৬ হি. / ১৯৮৬ ইং।
৬৩. আসকালানী : আহমাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আহমাদ ইবনে কিনানী (৭৭৩-৮৫২ হি. / ১৩৭২-১৪৪৯ ইং) : তাহযীবুত তাহযীব, বয়রুত, লেবানন, দারুল ফিকর আল-ইলমিয়্যাহ, ১৪০৪ হি. / ১৯৮৪ ইং।
৬৪. আসকালানী : আহমাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আহমাদ ইবনে কিনানী (৭৭৩-৮৫২ হি. / ১৩৭২-১৪৪৯ ইং) : লিসানুল মিযান, বয়রুত, লেবানন, মুয়াস্সাসাতুল আলামী, ১৪০৬ হি. / ১৯৮৬ ইং।
৬৫. মিয্যী : আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে যকি আবদুর রহমান ইবনে ইউসুফ ইবনে আবদুল মালিক ইবনে ইউসুফ ইবনে আলী (৬৫৪-৭৪২ হি. / ১২৫৬-১৩৪১ ইং) : তাহযিবুল কামাল, বয়রুত, লেবানন, মুয়াস্সাসাতুর রিসালা, ১৪০০ হি. / ১৯৮০ ইং।
৬৬. মুগলতাঈ: আবূ আবদুল্লাহ মুগলতাঈ ইবনু কুলাইজ মিসরী হানাফি (ওফাত. ৭৬২হি.) : ইকমালু তাহযিবিল কামাল, ফারিকুল হাদিসিয়্যাহ তবআতুল নশর, বয়রুত, লেবানন, প্রথম প্রকাশ. ১৪২২ হি.
-ঃ সিরাত গ্রন্থ ঃ-
৬৭. আহমদ্ ইবনে হাম্বাল : আবু আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ (১৬৪-২৪১ হি. / ৭৮০-৮৫৫ ইং) : ফাদ্বায়িলুস সাহাবা, বয়রুত, লেবানন, মুয়াস্সাসাতুর রিসালাহ, ১৪০৩ হি. / ১৯৮৩ ইং।
৬৮. বায়হাকী : আবু বকর আহমদ ইবনে হোসাইন ইবনে আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মূসা (৩৮৪-৪৫৮ হি. / ৯৯৪-১০৬৬ ইং) : দালায়িলুন নবুয়ত, বয়রুত, লেবানন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, ১৪০৫ হি. / ১৯৮৫ ইং।
৬৯. খতীবে বাগদাদী : আবু বকর আহমাদ ইবনে আলী ইবনে সাবেত ইবনে আহমাদ ইবনে মাহদী ইবনে সাবেত (৩৯২-৪৬৩ হি. / ১০০২-১০৭১ ইং) : তারিখে বাগদাদ, বয়রুত, লেবানন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া।
৭০. যাহাবী : শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ (৬৭৩-৭৪৮ হি.) : সীয়ারু আ‘লামুন নুবালা, বয়রুত, লেবানন, মুয়াস্সাসাতুর রিসালা, প্রকাশ. ১৪১৩ হি.;
৭১. ইবনে কাসীর : আবুল ফিদা ইসমাঈল ইবনে ওমর (৭০১-৭৭৪ হি. / ১৩০১-১৩৭৩ ইং) : আল-বেদায়া ওয়ান বেদায়া, বয়রুত, লেবানন, দারুল ফিকর, ১৪০১ হি.।
-ঃ তাফসীর ও উলূমুল কোরআন ঃ-
৭২. ইসমাঈল ইবনে কাসীর (ওফাত ৭৭৪ হি.) : তাফসীরে কুরআনুল আজীম : দারুল খায়ের, বয়রুত;
৭৩. আল্লামা মাহমুদ আলূসী (ওফাত ১২৭০ হি.) : রুহুল মা‘য়ানী, এমদাদিয়া, মুলতান, পাকিস্তান;
৭৪. ইমাম খাযেন (ওফাত : ৭৪১হি. ): তাফসীরে খাযেন, দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত।
৭৫. ইমাম কাযী নাসিরুদ্দীন বায়যাভী (ওফাত. ৬৮৫হি.) : তাফসীরে বায়যাভী, দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত।
৭৬. আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী : (ওফাত. ১১২৭ হি.) ঃ তাফসীরে রুহুল বায়ান : দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত;
৭৭. ইমাম ফখরুদ্দিন রাযি (ওফাত. ৬০৬ হি.) : তাফসিরে কাবির : দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন।
- সমাপ্ত -
----------------------------
Comments
Post a Comment