মৌলভী ইসমাঈল দেহলভীর লিখিত ‘তাকভীয়াতুল ঈমান’ কিতাবে যে সমস্ত বক্তব্য বাতিল এবং ওহাবী আক্বিদা হিসেবে প্রমাণিত তন্ম

মৌলভী ইসমাঈল দেহলভীর লিখিত ‘তাকভীয়াতুল ঈমান’ কিতাবে যে সমস্ত বক্তব্য বাতিল এবং ওহাবী আক্বিদা হিসেবে প্রমাণিত তন্ম
____________________
মৌলভী ইসমাঈল দেহলভীর লিখিত ‘তাকভীয়াতুল ঈমান’ কিতাবে যে সমস্ত বক্তব্য বাতিল এবং ওহাবী আক্বিদা হিসেবে প্রমাণিত তন্মধ্যে কতিপয় ভ্রান্ত আক্বিদা নিম্নে প্রদত্ত হলো
 ১. হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বড়ভাই সুতরাং তাঁকে বড়ভাইয়ের ন্যায় সম্মান করতে হবে। (নাউজুবিল্লাহ) (তাকভীয়াতুল ঈমান ৬০ পৃষ্ঠা)

 ২. বড় মাখলুক অর্থাৎ হাবীবে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর শানের সম্মুখে চামার হতেও নিকৃষ্ট। (নাউজুবিল্লাহ) (তাকভীয়াতুল ঈমান- ১৪ পৃষ্ঠা)

 ৩. আঁ হযরত বলেছেন, আমিও একদিন মরে মাটিতে মিশে যাব।’ (নাউজুবিল্লাহ) তাকভীয়াতুল ঈমান- ৬১)

 ৪. আল্লাহর রাসূলকে আল্লাহর বান্দা ও তাঁর সৃষ্টি বলে আক্বিদা রেখে যদি কেহ আল্লাহর হাবীবের কাছে সুপারিশ বা শায়ায়াত তলব করে সে আবু জেহেলের মতো মুশরিক হবে। (নাউজুবিল্লাহ) (তাকভীয়াতুল ঈমান- ৮)

 ৫. আল্লাহ তায়ালা যখন ইচ্ছা করেন, তখনই গায়েব সম্মন্ধে অবগত হয়ে যান, এটা আল্লাহ ছাহেবের শান বা পজিশন। (নাউজুবিল্লাহ) (তাকভীয়াতুল ঈমান-২০ পৃষ্ঠা)

 ৬. খোদা প্রদত্ত ক্ষমতা বলে নবীগণ, আউলিয়ায়ে কেরামগণ মানুষের বিপদ মুক্তি করতে পারেন, বিপদ মুক্তি করে থাকেন ইহা কুফুরি। (নাউজুবিল্লাহ) (তাকভীয়াতুল ঈমান- ১০ পৃষ্ঠা)

 ৭. হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন গায়েবই জানেন না। (নাউজুবিল্লাহ) তাকভীয়াতুল ঈমান- ৫৮ পৃষ্ঠা)

 ৮. গ্রামের জমিদার ও প্রত্যেক সম্প্রদায়ের চৌধুরীর যেই রূপ মর্যাদা রয়েছে ঠিক সেই অর্থেই প্রত্যেক পয়গাম্বর নিজ নিজ জাতির নিকট মর্যাদাবান (এর বেশি নয়) নাউজুবিল্লাহ (তাকভীয়াতুল ঈমান ৬৪ পৃষ্ঠা)

 ৯. দুনিয়াতে যত পয়গাম্বর এসেছেন, তারা আল্লাহর পক্ষ হতে এ হুকুমই নিয়ে এসেছিলেন যে, আল্লাহকে মানো (মান্য কর) আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে মানবে না। (মান্য করবে না) (তাকভীয়াতুল ঈমান ১৫ পৃষ্ঠা)

 নবীগণ, ফিরিশতাগণ, কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নাম সব কিছুই মানতে হবে অর্থাৎ আল্লাহকে ও যেমনিভাবে মানতে হবে (ঈমান আনতে হবে) ঠিক সেভাবে উপরে বর্ণিত সকল বস্তুর উপর ঈমান আনয়ন করা ঈমানের অঙ্গ।

 সুপারিশ তলব করার ব্যাপারে
 ১০. আউলিয়া, আম্বিয়া, জ্বিন, শয়তান, ভূত, পরীর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। (তাকভীয়াতুল ঈমান -৮ পৃষ্ঠা)
 কোন নবী, ওলী, জ্বিন, ফেরেশতা, পীর, শহীদ, ইমাম, ইমাম জাদা, ভূত ও পরীকে আল্লাহ সাহেব কোন ক্ষমতা দান করেন নাই।
 এখানে ভূত ও পরীকে আম্বিয়ায়ে কেরামদের সাথে তুলনা করা হয়েছে। 
 এই ব্যাপারে ছোট বড় সমস্ত বান্দাই (নবী, ওলী) অক্ষম, অক্ষমতায় সবাই এক সমান।

(ইজহারে হক্ব—মাওলানা শেখ মুহাম্মদ আব্দুল করিম সিরাজনগরী)

_________

Comments

Popular posts from this blog

বালাকোট আন্দোলনের হাকীকত

সৈয়দ আহমদ বেরলভীর জম্ম ও পরিচয়

মওদুদীর ভ্রান্ত আক্বিদা ও ইসলামী আক্বিদা