উসীলা জায়েজ এবং আল্লাহর ওলীগণ ও অন্যান্য বান্দাগণের উসীলায় আমাদের দুঃখ দুর্দশা লাঘব হয়
বিষয়সমূহঃ
-শানে আউলিয়া
- প্রতি যুগেই আল্লাহরওলীগণ বিদ্যমান থাকবে।
- উসীলা জায়েজ
- আউলিয়া কিরামগণ ও অন্যান্য বান্দাগণের উসীলায় আমাদের দুঃখ দুর্দষা লাঘবে
হাদিস-০১
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা:) উদ্ধৃত করেন
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ ফরমান: “নিশ্চয়আল্লাহতা’লা কোনো প্রতিবেশী পুণ্যবানমুসলমানের জন্যে ১০০ জন প্রতিবেশীরদুঃখকষ্ট দূর করেন।”
রেফারেন্সঃ-
★ ইমাম তাবারানী কৃত ‘আল-মু’জামুল কবীর’;
★ ইমাম বাগাভী রচিত ‘মো’য়াল্লিম’
হাদিস নং-০২
হুযূর পূর নূর (ﷺ) এরশাদ করেন,
“সালাত (নামায) আদায়কারী আল্লাহর বান্দাগণ,
দুধ পানকারী শিশুরা এবং
তৃণভোজী চারপায়া
জন্তুরা না হলে
আল্লাহ পাক অবশ্যই তোমাদের শাস্তি দিতেন এবং এই শাস্তি খুবই কঠোর হতো।”
রেফারেন্সঃ-
[সুনানে বায়হাকী; তাবারানী]
হাদিস নং-০৩
হযরত সা’আদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা:)বর্ণনা করেন মহানবী (ﷺ) ইরশাদ ফরমান: “তোমাদের মরুব্বি বা গুরুজনেরকারণেই তোমরা সাহায্য ও রিযিকপেয়ে থাকো।”
রেফারেন্সঃ-
[আল-বোখারী]
হাদিস নং-০৪
হযরত উবায়দা (রা:) উদ্ধৃত করেন
নবী করীম (ﷺ)-এর বাণী:
“আমার উম্মতেরমধ্যে ৩০ জন ‘আবদাল’ রয়েছেন। তাঁদেরঅসিলাতেই পৃথিবী বহাল আছে। একমাত্রতাঁদের কারণেই তোমাদের জন্যে বৃষ্টিপাতহয় এবং তোমরা সাহায্য পেয়ে থাকো।”
রেফারেন্সঃ-
[ইমামতাবারানী কৃত ‘আল-কবীর’]
হাদিস নং-০৫
হযরত আলী (রাঃ) বর্ণনা করেন
সাইয়্যেদুল মোরসালীন (ﷺ)-এর কথা,যিনি বলেন: “শাম (সিরিয়া) দেশে ৪০ জন ‘আবদাল’আছেন। তাঁদের কেউ একজন বেসাল প্রাপ্ত হলে আল্লাহতা’লা অন্যজনকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেন। একমাত্র তাঁদের কারণেই বৃষ্টিপাত হয় এবং শত্রুপক্ষ পরাভূত হয়। সিরিয়াবাসীর শাস্তি ও মওকুফ হয় কেবল তাঁদেরই অসিলায়।”
রেফারেন্সঃ-
[ইমামআহমদ]
হাদিস নং-০৬
হযরত আউফ বিন মালেক (রা:) বর্ণনা করেনযে মহানবী (দ:) এরশাদ ফরমান: “আবদালবৃন্দসিরিয়ায় আছেন। তাঁদেরবরকতে মানূষেরা (খোদায়ী) সাহায্য পায়এবং একমাত্র তাঁদের কারণেই রিযক মঞ্জুরহয়।”
রেফারেন্সঃ-
[ইমাম তাবারানী প্রণীত ‘আল-কবীর’]
হাদিস নং-০৭
হযরত আনাস বিন মালেক (রা:) উদ্ধৃত করেনহুযূর পাক (ﷺ)-এর বাণী:
“হযরত ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ (আ:)-এর মতো (অাধ্যাত্মিকক্ষমতাধর) ৪০ জন আউলিয়া কেরামপৃথিবীতে সবসময় থাকবেন। তাঁদের কারণেইকেবল তোমরা বৃষ্টি এবং খোদায়ী মদদপাবে।”
রেফারেন্সঃ-
[ইমাম তাবারানী কৃত ‘আল-আওসাত’]
হাদিস নং-০৮
হযরত আবূ হোরায়রা (রা:) রেওয়ায়াত করেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদীস,
যিনি বলেন: “ত্রিশজন(আউলিয়া) হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালামেরমতো (আধ্যাত্মিক ক্ষমতাবান) হবেন এবং সবসময়পৃথিবীতে থাকবেন। একমাত্র তাঁদের ব-দৌলতেই তোমাদের আরযি কবুলহবে এবং তাঁদের বরকতেই বারিপাতহবে।”
রেফারেন্সঃ-
[ইবনে হিব্বান ফী তারিখ]
হাদিস নং-০৯
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) উদ্ধৃতকরেন রাসূলে খোদা (ﷺ)-কে, যিনি বলেন:“আমার উম্মতের মধ্যে সব সময়ই ৪০ জন বিরাজকরবেন, যাঁদের অন্তর হযরত ইব্রাহীমআলাইহিস সালামের মতো। তাঁদেরবরকতে মানুষের দুঃখকষ্ট আল্লাহতা’লা দূরকরবেন। তাঁদের খেতাব হবে ‘আবদাল’।“
রেফারেন্সঃ-
[আবূনুয়াইম ফী হিলইয়া]
হাদিস নং-১০
হযরত আনাস (রা:) বর্ণনা করেনমহানবী (ﷺ)-এর হাদীস: “আল্লাহ যখন তাঁরকোনো বান্দার ভালাই চান, তখন তিনি তাঁরমাধ্যমে মানুষের দুঃখকষ্ট দূর করেন।”
রেফারেন্সঃ-
[ইমামবায়হাকী কৃত ‘শুয়াব আল-ঈমান’]
হাদিস নং-১১
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা:) উদ্ধৃতকরেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদীস, যিনি এরশাদ ফরমান: “আল্লাহ পাক তাঁর এমন কিছুবান্দাকে বেছে নিয়েছেন যাঁদেরমাধ্যমে সৃষ্টিকুলের দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়।দুর্দশাগ্রস্ত মানুষেরা নিজেদের প্রয়োজনমেটাতে তাঁদের শরণাপন্ন হবে। এই সকলবান্দা আল্লাহর শাস্তি থেকে সুরক্ষিত।”
রেফারেন্সঃ-
[ইমামতাবারানী কৃত ‘আল-কবীর’]
হাদিস নং-১২
হযরত আনাস (রা:) বর্ণনা হুযূর পাক (ﷺ)-এর কথা, যিনি বলেন: “আল্লাহ যখন তাঁরকোনো বান্দার মঙ্গল চান, তখন সকলমানুষকে তাঁর কাছে প্রয়োজন পূরণেরজন্যে প্রেরণ করেন।”।
রেফারেন্সঃ-
[‘মুসনদ আল-ফেরদৌস’]
হাদিস নং-১৩
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (দ:) উদ্ধৃত করেন
মহানবী (ﷺ)-এর হাদীস, যিনি এরশাদফরমান:
“সৃষ্টিকুলে আল্লাহর ৩০০ জনআউলিয়া কেরাম আছেন, যাঁদের অন্তর হযরতআদম আলাইহিস সালামের মতো। চল্লিশজনআছেন যাঁদের অন্তর হযরত মূসা আলাইহিস্সালামের মতো। সাতজন আছেন যাঁদের অন্তরহযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালামের মতো।পাঁচজন আছেন যাঁদের অন্তর হযরত জিবরীলআমীন (আ:)-এর মতো।
তিনজন আছেনযাঁদের অন্তর হযরত মিকাঈল ফেরেশতারমতো; আর একজন আছেন যাঁর অন্তর হযরতইসরাফিল ফেরেশতার মতো।
যখন ওই একজন(ইসরাফিলের অন্তরের মতো অন্তরবিশিষ্টজন) বেসালপ্রাপ্ত হন, তখন মিকাইলেরমতো অন্তরবিশিষ্ট তিনজনের মধ্যথেকে একজন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। আর জিবরাইল আমীনের মতো অন্তরবিশিষ্ট পাঁচজনেরমধ্য থেকে একজন (পদোন্নতি লাভ করে) ওইতিনজনের স্তরে উন্নীত হন।
একইভাবে সাতজনের স্তর থেকে পাঁচজনেরস্তরে পদোন্নতি হয়, এবং চল্লিশজনের মধ্যথেকে কেউ একজন সাতজনেরস্তরে উন্নীত হন; আর তিন’শ জনেরথেকে কেউ একজন ৪০জনেরস্তরে উন্নীত হন।
অতঃপর সাধারণমুসলমানদের মধ্য হতে কাউকে ৩০০জনেরস্তরে উন্নীত করা হয়। এই ৩৫৬ জন আউলিয়ারজন্যেই সৃষ্টিকুলের হায়াত-মওত নির্ধারিত হয়,ধরণীতে বৃষ্টিপাত হয়, জমিতে ফসল জন্মায়এবং দুঃখকষ্ট দূর হয়।”
রেফারেন্সঃ-
★ আবূ নুয়াইম কৃত ‘হিলইয়া’
★ ইবনে আসাকির
Comments
Post a Comment